Saturday, 17 January 2026

জুলাই বিপ্লব থেকে উৎসারিত প্রশ্নসমূহ কি ?

রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা আনতে জুলাই বিপ্লব থেকে উৎসারিত প্রশ্নসমূহের মীমাংসা প্রয়োজন (To ensure stability, the issues arising from the July Revolution must be resolved) আসন্ন নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। বিএনপি ও জামায়াত— দুই দলই জয়ের জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে। নির্বাচনী প্রচারণায় রাজনীতির মাঠ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হচ্ছে। যেমন, একাত্তরে জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার কথা বিএনপি তুলে ধরছে; এর বিপরীতে বিএনপির শাসনামলে অসাফল্যতা ও বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কথা প্রচার করছে জামায়াত। দেখে মনে হচ্ছে, জুলাই বিপ্লব কোনো কিছুই বদলাতে পারেনি। আবারও ফিরে এসেছে পুরোনো দোষারোপের রাজনীতি। এত আত্মত্যাগ ও রক্তপাতের পর দেশের মানুষ এটা আশা করেনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা এখনো সেই পুরোনো অচলায়তন থেকে বেরোতে পারিনি। পারিনি গত ৫৪ বছরের ভঙ্গুর, বিশৃঙ্খল ও বুড়োদের গণতন্ত্রের বাইরে আলাদা, নতুন ও সতেজ তারুণ্যময় কিছু গড়ে তুলতে। বারবারই আমরা ব্যর্থ হচ্ছি! দেশবাসীর সম্মিলিত প্রত্যাশার বিপরীতে, রাজনীতিকদের কাছে পুরোনো বন্দোবস্তই বেশি স্বস্তিকর বলে দৃশ্যমান হচ্ছে। তাই এখন জাতির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাদের কাছে তোলা আমাদের জন্য ফরজ হয়ে উঠেছে। দুঃখজনকভাবে, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যম এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব এবং নতুন ক্ষমতা বিন্যাসের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতেই বেশি তৎপর। সাধারণ মানুষের জন্য গৌণ বিষয়গুলোই রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে মুখ্য হয়ে উঠছে, আর দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি চরম পর্যায়ের দিকে ছুটছে। মানুষকে পুরোনো রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর বা মিঠে কথার বাহুল্য-স্রোতে ভেসে যাওয়া থেকে বিরত রাখা চাই। সকলকে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো তুলতে হবে: ১. জুলাই বিপ্লব সম্পর্কে তাদের ধারণা কী, এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মহান ঘটনার স্থান তারা কোথায় দিতে চাইবেন? শহিদদের সম্মান জানাতে, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে, পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষদের পুনর্বাসন করতে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে তাদের কী কী পরিকল্পনা আছে? ২. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) নিয়ে তারা কী ধরনের অবস্থান নেবে? বর্তমান কার্যক্রম ও প্রক্রিয়াগুলো আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নেবে, নাকি গতি কমিয়ে দেবে, যাতে অপরাধীরা বিচার এড়িয়ে যেতে পারে? ৩. অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত বিভিন্ন কমিশন একাধিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। সেগুলো তারা কীভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন করবে? ৪. জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিচারব্যবস্থা এখন পুরোনো অসৎ ধারা, বিপুল সংখ্যক ঝুলে থাকা মামলা, অপর্যাপ্ত ডিজিটাল ব্যবস্থা, রাজনৈতিক নিপীড়ন, সম্পদের ঘাটতি, দীর্ঘসূত্রিতা ও গড়িমসি, দক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার দেওয়ার সীমিত সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক অশুভ প্রভাবের সমস্যায় আক্রান্ত। এসব সংকট সমাধানে দলগুলো কী কী পদক্ষেপ নেবে? ৫. বিচারব্যবস্থার মতোই, জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশ বাহিনীও ভেঙে পড়েছে। এর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি (ঘুষ, আঁতাত), রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়া, মানবাধিকার লঙ্ঘন (নৃশংসতা, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড), গুরুতর সম্পদ ও সরঞ্জামের ঘাটতি (দুর্বল অবকাঠামো, পুরোনো প্রযুক্তি, কম বেতন) এবং জনআস্থার অভাব। যার ফলে সুরক্ষার পরিবর্তে বাড়ছে হয়রানি। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও খারাপ কর্মপরিবেশে কর্মকর্তাদের মানসিক অবসাদও পরিস্থিতিকে আরও অধঃপতিত করছে। এসব সমস্যা সমাধানে দলগুলোর কী পরিকল্পনা আছে? ৬. জুলাই বিপ্লবের পর বেসামরিক প্রশাসনও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখানে প্রধান সমস্যাগুলো হলো সর্বব্যাপী দুর্নীতি, রাজনৈতিক ও দলীয় হস্তক্ষেপ, অদক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার অভাব, আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা (শাসকসুলভ আচরণ, পরিবর্তনে অনীহা), সেবা প্রদানে অনাগ্রহ্য, পদোন্নতি-সংকটসহ ভারী কাঠামো, প্রযুক্তি গ্রহণে অনাগ্রহ এবং কেন্দ্র-নির্ভর নীতিনির্ধারণ। এরূপ কারণে মানুষের আস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে এবং সুশাসন ও সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কী পরিকল্পনা আছে? ৭. ডিজিএফআই-এর বিরুদ্ধে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার, গুম ও নির্যাতনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এবং সামরিক ও বেসামরিক ভূমিকার সীমারেখা ঝাপসা হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থাকে পুনর্গঠন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর কী পরিকল্পনা আছে? ৮. র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। যেমন বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, গুম এবং সাজানো ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা, নিষেধাজ্ঞার আহ্বান (যেমন ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা) এবং ‘ডেথ স্কোয়াড’ হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। র‌্যাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কী পরিকল্পনা আছে? ৯. বাংলাদেশে সম্পদ বণ্টন অত্যন্ত অসম। দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে মোট সম্পদের অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৫৮ শতাংশ)। আর নিচের ৫০ শতাংশের হাতে রয়েছে ৫ শতাংশেরও কম। এতে সমাজে চরম বৈষম্য স্পষ্ট রূপ পরিগ্রহ করেছে। যদিও আয় বৈষম্যের মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থেকেছে, তবু প্রবৃদ্ধির সুফল মূলত ধনীদেরই উপকারে এসেছে। যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ উপেক্ষিত থেকেছে, ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট ২০২৬-এ যার উল্লেখ পাওয়া যায়। ধনী-গরিবের এই বিশাল ব্যবধান বা ধন বৈষম্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে রাজনৈতিক দলগুলোর কী পরিকল্পনা ও কর্মসূচি আছে? ১০. পার্বত্য চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতের আগুনে জ্বলছে। রোহিঙ্গা সংকট, কুকি-চিন সমস্যা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কী পরিকল্পনা আছে? ১১. আমাদের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য কী হবে এবং সেগুলো অর্জনের কৌশল কী? যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তারা কীভাবে মোকাবিলা করবে? ভারতের প্রতি অবস্থান কী হবে? ফ্যাসিস্ট শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ কী? করিডোর ইস্যু এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নিয়ে তাদের নীতি কী হবে? ১২. নানান বিরোধে বিভক্ত ও ভাঙা একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা কি রাজনৈতিক দলগুলোর আছে? থাকলে, তারা কীভাবে তা বাস্তবায়ন করবে? আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বাইরে রাখার ক্ষেত্রে ঐক্যের ভিত্তি কি হবে? ফ্যাসিবাদী এই রাজনৈতিক শক্তির বিষয়ে দলগুলোর অবস্থান কী? ১৩. বাংলাদেশের একটি সর্বসম্মত ইতিহাস গড়ে তোলার কোনো পরিকল্পনা কি তাদের আছে? জাতির পিতা ও স্বাধীনতার ঘোষক এমন সকল বিতর্কের অবসান ঘটবে কি করে এবং কোন পদ্ধতিতে? ১৪. লুটেরা ব্যবসায়ী ও অলিগার্কদের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি কী হবে? বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার জন্য তারা কী পদক্ষেপ নেবে? ব্যাপক লুটপাটে ভেঙে পড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা হবে? ১৫. ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতিতে বিভক্ত দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বিপদের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। তারা এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি উন্নতির ধারায় স্থাপন করবে? দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদি কর্মসূচির চেয়ে উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চলমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত কয়েক মাস ধরে তাদের ‘সংস্কার সার্কাস’ প্রদর্শন করে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে জনতার দৃষ্টি সফলভাবে সরিয়ে রাখতে পেরেছে। দেশ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যখন আমাদের সামনে এসব নিয়ে আলোচনা করার সময় এখন আর হাতে নেই। তবুও, জরুরি কিছু প্রশ্নের জবাব চাওয়ার দাবী দেরিতে হলেও তুলে ধরা ভালো। আসুন, হাতে থাকা সীমিত সময়টুকুর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করি॥ To ensure stability, the issues arising from the July Revolution must be resolved. The upcoming election is now only a matter of days away. In a frantic bid to secure power, both the BNP and Jamaat have intensified their efforts. The electoral atmosphere is steadily reaching a boiling point, dominated by a familiar cycle of accusations: the BNP attacks Jamaat for its anti-liberation history, while Jamaat retorts by criticizing the BNP’s governance during the 2001–2006 period. It appears as though the July Revolution has failed to spark any real change, as the nation is once again witness to the same old politics of mutual recrimination. Such a regression was unthinkable following the immense bloodshed the country has endured. Unfortunately, we seem unable to break free from this cycle and develop a fresh political path that departs from the fragile, chaotic, and gerontological democracy of the past 54 years. Contrary to what the public expected, our politicians appear most at home when using the old playbook. Consequently, it has become a necessity for us to confront them with fundamental and vital questions regarding the nation's current state. It is disheartening to see that the intelligentsia and the media have remained completely silent on these matters, seemingly more focused on adapting to a "new normal." In the meantime, trivial issues have moved to the forefront, and the vitriol between the two primary contenders has reached extreme levels. Citizens must be encouraged to resist the tide of old political rhetoric and instead challenge these parties with the following specific inquiries: 1. What is their genuine perception of the July Revolution, and how do they intend to memorialize this pivotal event in Bangladesh’s history? What specific programs do they have to honor the heroes, provide compensation to the families of the deceased, rehabilitate those who were maimed, and ensure that the perpetrators are brought to justice? 2. What is their intended approach toward the International Crimes Tribunal (ICT)? Do they plan to pursue the current proceedings more aggressively, or will they decelerate the process, effectively allowing the guilty to evade justice? 3. Various commissions established by the interim government have proposed a series of reforms. How do the parties plan to implement these suggestions, and within what specific timeframe? 4. The Bangladeshi judiciary has effectively collapsed in the wake of the July Revolution, and ad hoc attempts at restoration have only worsened the situation. The system is currently plagued by antiquated procedures, a staggering backlog of cases, a lack of digitization, and political victimization. Furthermore, it suffers from resource scarcity, procrastination, a limited capacity for transparent justice, and political interference. What concrete steps will the parties take to rectify these systemic failures? 5. Much like the judiciary, the Police Force has also broken down following the revolution. Its primary challenges include systemic corruption such as bribery and collusion, political interference that erodes independence, and human rights violations including brutality and extrajudicial actions. The force is also hampered by severe logistical deficits—such as poor infrastructure, outdated technology, and low wages—and a lack of public trust. This results in harassment instead of protection, worsened by officer burnout from heavy workloads and poor conditions. What are the parties' plans to solve these deep-seated problems? 6. The civil administration has similarly sustained extraordinary damage. The critical issues here include pervasive corruption, political meddling, inefficiency, and a lack of transparency and accountability. There is a persistent bureaucratic attitude characterized by ruler-like behavior and resistance to change, alongside poor service delivery and top-heavy structures plagued by promotion issues. Weak technology adoption and centralized policymaking continue to hinder effective governance and fuel public mistrust. What strategies have the parties devised to meet these administrative challenges? 7. The DGFI currently faces serious allegations regarding political misuse, human rights abuses—including enforced disappearances and torture—and a lack of accountability. There are also concerns regarding its involvement in economic sectors and the blurring of lines between military and civil roles. How do the political parties plan to reform and fix this organization? 8. The primary issues surrounding Bangladesh's Rapid Action Battalion (RAB) involve grave human rights violations, such as extrajudicial killings, torture, enforced disappearances, and the framing of incidents. These actions have led to international condemnation and calls for sanctions (such as those from the U.S. in 2021), with many accusing the unit of being a "death squad." This has undermined its legitimacy. What are the parties' specific plans for the future of RAB? 9. Wealth distribution in Bangladesh is severely unequal; according to the World Inequality Report 2026, the wealthiest 10% hold approximately 58% of the nation's wealth, while the bottom 50% possess less than 5%. While income inequality has remained somewhat stable, economic growth continues to benefit the elite while bypassing the majority. What plans and programs do the parties have to reduce this massive gap between the rich and the poor to a tolerable level? 10. For decades, the Chittagong Hill Tracts (CHT) has remained a flashpoint of conflict. What are the political parties’ plans to resolve the Rohingya crisis and the Kuki-Chin problem, and how will they ensure the full implementation of the CHT Peace Accord? 11. What will be the nation’s foreign policy objectives, and what strategies will be used to achieve them? How will the parties navigate the dyadic rivalry between the US and China? What will be the approach toward India, particularly regarding agreements signed during the previous fascist regime? What is their policy on the corridor issue and the ongoing separatist movements in Northeast India? 12. Do the political parties have a strategy to unify a fractured and deeply divided nation? If so, how will they execute it? Is such unity possible while keeping the Awami League excluded from Bangladeshi politics, and what is the parties' definitive stand on the Awami League issue? 13. Do they have a plan to establish a commonly agreed-upon history of Bangladesh? The public is exhausted by the endless debates regarding the "Father of the Nation" and the "Declarer of Independence." 14. What will be their policies toward business oligarchs? What specific steps will be taken to recover laundered money? How will the financial institutions that collapsed under the weight of massive theft be repaired, and how will economic activity be regenerated? 15. How will the parties guarantee the safety and religious freedom of all sects and minorities, ensuring that communal harmony is not just a slogan but a reality? Securing answers to these questions is far more relevant than the superficial programs, such as "family cards" or "farmer’s cards," that are currently being promoted. The present government has successfully diverted public attention from these critical matters by orchestrating a "Reform Circus" over the past few months, leaving us with almost no time for debate. Nevertheless, it is better late than never. We must make the most of the limited time remaining to us.

ইন্ডিয়া যদি বাংলাদেশকে আক্রমণ করে

ইন্ডিয়া যদি বাংলাদেশকে আক্রমণ করে তবে তা অবশ্যই তাদের ইস্টার্ন কমান্ড দিয়ে করবে। বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্ত হলো গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ। সমতল আবাদি জমি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় সেনাবাহিনীকে জুন-জুলাইয়ে আক্রমণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেনা প্রধান আক্রমণে অস্বীকৃতি জানায় বর্ষার কারণে। বর্ষায় প্লেন ভূমির বিলও নদী হয়ে যায়। এজন্য ইন্ডিয়া নভেম্বর প্রর্যন্ত অপেক্ষা করে। পানি নেমে যাবার পরে শীতের শুরুতে আক্রমণ করে। ইন্ডিয়ার এয়ার সুপিওরিটি থাকার কারণে কনভেনশনাল যুদ্ধ সম্ভব হবে না। আগামী ১০ বছরের মধ্যে ডিটারেন্স সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একইসাথে বাঁধ ধ্বংসকারী ট্রাইকিং সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

Friday, 9 January 2026

জামায়াত-শিবির ধর্মকে ব্যবহার করছে।

গ্রাম থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত জামায়াত-শিবির ধর্মকে ব্যবহার করছে। কখনো জান্নাতের নামে, কখনো হিজাবের নামে, কখনো নারায়ে তাকবির স্লোগানের নামে । তবে গ্রামের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মের প্রভাব বেশি । কারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ আইডেনটিটি ক্রাইসিসে ভোগে । তারা শহর, গ্রাম, মফস্বল যেখান থেকেই এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোক না কেন, তাদের রাজনৈতিক চিন্তা বা অধিকার বোধের তুলনায় ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি জানাশোনা, নিয়মিত চর্চা করাটা বেশি হয়। বিশেষত নারীদের ভেতর। তারা ধর্মকে নিজের বা সমাজের নিরাপত্তার আশ্রয় হিসেবে দেখে। তার বেড়ে ওঠার ভেতর এই জিনিসটা তৈরি হয়েছে যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান হলেও তার নিরাপত্তা বা ধর্ম পালনের পরিপূর্ণ অধিকার এ দেশে নাই । এই ধারণা তার ভেতর তীব্র করেছে শেখ হাসিনার শাসনামল। বিশেষত ২০১৩ সালে তারা চোখের সামনে এসব দেখেছে । আমরাও বলেছি যে ইসলামি ভাবধারা বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যে অনুপস্থিত। এখানে কলকাতার ভাষা-সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণ চলছে । এবং ব্রিটিশ আমলের মতো বাঙালি মুসলমানদের নিজের দেশেই খাটো করে রাখা হচ্ছে । “বাঙালি মুসলমান”, এই টার্মও ইউজ করা যেত না। দাড়ি-টুপি দেখলে হেয় করা হতো, ট‍্যাগ দেওয়া হতো । শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে অনেক ঘটনা আছে যেখানে আলেমদের হ** করা হয়েছে । গুম, মেরে ফেলা তো আছেই । এই সময়ে ইসলামপন্থীরা মব করে হামলার ঘটনা কমই ঘটাইছে বা ঘটায় নাই । বিবাড়িয়ায় ওস্তাদ আলাউদ্দি খাঁর বাড়ি-ঘর ভাঙার ঘটনা আছে। কিন্তু সেটা আসলে কারা করেছে পরিস্কার না। আওয়ামী লীগ মুসল্লিদের মেরে ফেলার পর নিজেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ আছে। . এমন পরিস্থিতির ভেতর আমরা আবার দেখেছি যে, প‍্যারাডক্সিকেল সাজিদ জনপ্রিয় হচ্ছে । কাসেম বিন আবু বাকার নামে এক মৃতপ্রায় লেখককে জীবিত করছে বিদেশি মিডিয়া । তাদের বই পড়া হচ্ছে গণহারে। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত । অনেক ঘটনা পাওয়া যাবে তখনকার এই প‍্যা. সাজিদ পড়া নিয়ে। শিক্ষার্থীরা এসব পড়েছে কারণ মেনস্ট্রিম মিডিয়ায় তারা অনুপস্থিত, নাটক-সিনেমায় তারা নাই। ওই সময় থেকে কলকাতার জি-বাংলার সিরিয়ালের বিপরীতে টার্কিশ নাটক পপুলার হতে থাকে। বইমেলায় ইসলাম পন্থী বই বিক্রি বেড়ে যায়। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত অনুবাদ বইয়ের চাহিদা বাড়ে । কোনো প্রকাশনা সংস্থা আলাদা করে ইসলামি কর্নার খোলে। . এই ভয়ে প‍্যারা. সাজিদ বই সেটাও আওয়ামী লীগ বা দিল্লি ইন্টেলিজেন্স পেনিট্রেট করেছে । তা না হলে যে স্ক্রুনিটির ভেতর দিয়ে দেশের প্রকাশক, লেখকদের যেতে হয়েছে, সেখানে এ বই কীভাবে এত প্রচার পেতে পারে। এই ইন্টেলিজেন্স চেয়েছিল যে এখানে ধর্মের নামে একটা গভীর সামাজিক বিভাজন তৈরি হোক। এমন একটা মনস্তত্ত্ব তৈরি হোক যাদের অবদমিত মন বলবে আমিই ইসলাম । এই মনস্তত্ত্ব যে বাংলাদেশে ছিল না তা না। তসলিমা নাসরিনের ফাঁসির দাবির সময়েই দেখা গেছে যে এই মানসিকতা এখানকার ইসলামপন্থীদের আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছিল না। আগে হুমায়ূন, সমরেশ, সুনীল পড়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসত, এখন আসছে প‍্যারা. সাজিদ পড়ে, টার্কিশ সিরিয়াল দেখে বা ইউটিউবে ইসলামি জজবার নাটক দেখে। এখানে একটা বিষয় হলো যে, এসব স্টুডেন্টরা যার যার লাইফস্টাইলে যেমন হোক রাজনীতির প্রশ্নে ইসলামকে রাখতে চায়। এটা তাদের পলিটিক্যাল ইসলাম। তাদের রাজনৈতিক জ্ঞান এটা যে, তারা এন্টি শাহবাগী। শাহবাগ যেহেতু ইসলামকে বা মুসলমানদের দমন করতে চেয়েছে। তাদের ইসলামপন্থা সে কারণে এন্টি শাহবাগ। এই গভীর বিভাজন আওয়ামী লীগের তৈরি করা। . আরেকটা বিষয় হলো, প‍্যারা সাজিদের যুক্তি করার ধরন আর শিবিরের যুক্তি করার ধরন সেম। এই যুক্তির ভিত্তি হলো প্রতিপক্ষ তৈরি করা যে কোনো উপায়ে। যে যাই বলুক, খাটুক বা না খাটুক অপরকে কনডেম করে তারা যুক্তির নামে জবরদস্তি চালায় । যুক্তির এ ধরন নিয়ে আরেকদিন কথা বলা যাবে। . এখানে মূল কথাটা আসলে বলতে চেয়ে ছিলাম, জুলাই অভ্যুত্থান কিন্তু ইসলামি পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য হয় নাই । তবে জুলাইয়ের পর এ জিনিসটাকে আবার জাগিয়ে তোলা হয়েছে। এই সময়ে মাজার ভাঙা থেকে শুরু করে কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো বা জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে । অথচ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এটা নিয়ে বিক্ষোভ করে নাই । কিন্তু তাদের অনেককে দেখা গেছে ছাত্ররাজনীতি, হিজাব, নারায়ে তাকবির স্লোগান-এসব ইস্যুতে বিক্ষোভ করতে । এতক্ষণ যে আলোচনাটা করলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যে সেন্টিমেন্ট সেটা শিবিরের কাজ করার একটা উর্বর ক্ষেত্র । অন‍্যরা জল ঘোলা করছে আর তারা সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে । বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এই যে সেন্টিমেন্ট সেটা গন্তব্যহীন বা অন্ধ । তারা দেখেছে যে ভারত তাদের দমিয়ে রেখেছে বছরের পর বছর। হাসিনাকে খেলানোর পর সেখান থেকে তারা মুক্ত। কিন্তু এরপর কি তারা জানে না। এই শূন্য অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে শিবির। তারা সবকিছুতে ধর্মকে প্রবিষ্ট করছে। ফলে এখানে ভারত বিরোধিতা মানে নারায়ে তাকবির স্লোগান । হিজাব পরতে আওয়ামী লীগ মানে ইন্ডিয়া বাধা দিত, এখন ছাত্রদল দিচ্ছে । সেই একই বৃত্ত। শিক্ষার্থীদের অনুভূতি নিয়ে এই খেলায় অবশ্য শিবির একজন খেলোয়াড় মাত্র । বিস্তৃত ইনফ্রাস্টাকচার আছে এর পেছনে। আওয়ামী লীগের তৈরি করা সামাজিক বিভাজনের যে মনস্তত্ত্ব, সেটাকে তারা কাজে লাগাচ্ছে । সহজে কাউকে ভারতের দালাল বলা, ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হলে মির্জা আব্বাসকে দায়ী করতে পারা-এই যে আওয়ামী সাইকি এখনো রয়ে গেছে মানুষের ভেতর সেটা আরো বাড়িয়ে বড় করতে চাইছে তারা। বিষয়টা সবার বুঝে উঠতে সময় লাগবে। . তবে এটাকে সফ্ট ডানপন্থার উত্থান হিসেবে দেখাটা ভুল হবে। এটা সফট ডানপন্থা না, এটা একটা তৈরি করা পরিস্থিতি । জোর করে দেখানো হচ্ছে ডানপন্থাকে। মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে ।

Monday, 5 January 2026

আমেরিকা যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে নয়, সুযোগ দিয়ে

রাশিয়ার সামরিক শক্তি আছে, কিন্তু রাজনৈতিক দুঃসাহস নেই—এই কারণেই জেলেনস্কিকে মাদুরোর মতো ধরে এনে নাটক শেষ করার ক্ষমতা তাদের হয়নি। চীনের অর্থনীতি বিশাল, কিন্তু ঝুঁকি নেওয়ার সাহস সীমিত—তাইওয়ান ইস্যুতে তারা হুংকার দেয়, যুদ্ধ শুরু করে না। কারণ আধুনিক যুগের যুদ্ধ আর ট্যাংক–বোমার যুদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্র ভাঙার যুদ্ধ, নেতৃত্ব অপসারণের যুদ্ধ, সমাজের ভেতরে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার যুদ্ধ। এই খেলাটা খেলতে পারে হাতে গোনা কয়েকটি রাষ্ট্র—আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকা যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে নয়, সুযোগ দিয়ে। তারা ডলার ছুড়ে দেয়, #নিষেধাজ্ঞা চাপায়, অভ্যন্তরীণ #বিভাজন উসকে দেয়, #বিশ্বাসঘাতকতা কিনে নেয়। সেখানে বীরত্বের দরকার হয় না; দরকার হয় ব্যাংক, ড্রোন, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আর নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া। এ কারণেই আজ পৃথিবীতে প্রকৃত মিলিটারি সুপারপাওয়ার একটাই—যুক্তরাষ্ট্র। বাকিরা বড়জোর আঞ্চলিক শক্তি, নয়তো উচ্চস্বরে চিৎকার করা দর্শক। চীন যদি পূর্ণ সক্ষমতায় এক বছর যুদ্ধ চালায়, তার তথাকথিত ‘অলৌকিক অর্থনীতি’ ভেঙে পড়বে। কারণ যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের হিসাব নয়—এটি জ্বালানি, খাদ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহনশীলতার হিসাব। যাদের পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, তারা দীর্ঘ যুদ্ধের খরচ বইতে পারে না। আর ইরান—পশ্চিমাদের আসল আতঙ্ক এখানেই। তারা জানে, ইরানকে যদি মাত্র এক বছর সব নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়, তাহলে এমন সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার মানচিত্র ছিঁড়ে টুকরো করে দেবে। কারণ ইরানের আছে নিজস্ব ইতিহাস, সভ্যতা, শিক্ষা, গবেষণা অবকাঠামো এবং ব্যবহারযোগ্য বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। ঠিক এই কারণেই ইরানকে দমবন্ধ করেই রাখা হচ্ছে—শক্তি হয়ে ওঠার আগেই শ্বাসরোধ। আজকের পৃথিবীতে আঞ্চলিক সামরিক জোট ছাড়া আমেরিকার সামনে কেউ নিরাপদ নয়। ভেনেজুয়েলার পাশে বাস্তবে কেউ নেই—আছে শুধু ভণ্ড বিবৃতি, ক্যামেরাবান্ধব উদ্বেগ আর ঠুনকো নৈতিকতার অভিনয়। লাতিন আমেরিকা যদি সত্যিকারের এক কণ্ঠে দাঁড়াত, তাহলে ওয়াশিংটনের জন্য এই আগ্রাসন এতটা সহজ হতো না। বিভক্ত জাতি মানেই সহজ শিকার—এটাই সাম্রাজ্যবাদের পরীক্ষিত সূত্র। আর এখানেই সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা লুকিয়ে আছে—বাংলাদেশের ওপর যদি বাস্তব চাপ আসে, ভাইয়ের মতো পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো শক্তি কি আছে? নেই। আছে কেবল কূটনৈতিক হাসি, ভারসাম্যের বুলি আর আত্মসমর্পণের পরামর্শ। এই বিশ্বে দুর্বলরা বন্ধু পায় না—পায় কেবল ব্যবহারকারীদের। শক্তি না থাকলে নৈতিকতা শুধু বক্তৃতা, আর সার্বভৌমত্ব থাকে কাগজে লেখা একটি শব্দ। 'আর বাকীসব #মায়াকান্না'

Wednesday, 31 December 2025

কেনো বাঙালি জাতি একটা অভিশপ্ত জাতি ?

৫ই আগস্টের পর গত দেড় বছর ধরে আমি ফুলটাইম পলিটিকাল অ্যাক্টিভিজমে যুক্ত। খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম বাদে প্রায় পুরোটা সময় ই রাজনীতি নিয়ে পড়ে ছিলাম বলা চলে! আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে এই দেড় বছরে রাজনীতি নিয়ে পড়ে থেকে আমি কী কী জানলাম-বুঝলাম, আমি সবার ঊর্ধ্বে ২ টা জিনিসের কথা বলবো। ১) বাঙালি জাতি একটা অভিশপ্ত জাতি। এরা কোনো ভালো শাসক/নেতা ডিজার্ভ করে না। এই জাতি পপুলিজমের ভক্ত। নেগেটিভিটির ভক্ত। এই জাতি শোভন, মার্জিত কিছু পছন্দ করে না। এরা পছন্দ করে গালি, স্লাটশেমিং। এরা পছন্দ করে মিথ্যা। সত্য-মিথ্যার ফারাক বুঝার ক্ষমতা এই দেশের প্রায় সব মানুষের মধ্যেই নাই। এরা ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন, কাদা ছোড়াছুড়ি, গালাগালি, মিথ্যা ও গুজবের ভক্ত। কোনোকিছু দেখলে এরা সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে এক সেকেন্ডও ব্যয় করে না। এদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত শুধু আবেগ আর আবেগ। জ্ঞানের ছিটেফোঁটাও নাই। কারও নামে খারাপ কিছু শুনলে এদের আত্মা তৃপ্ত হয়। এরা মানুষকে গালি দিতে ভালোবাসে, অন্যের মুখে গালি শুনতে আরও বেশি ভালোবাসে। মা-বোন উল্লেখ করা গালি হলে তো কথাই নাই, সেটা তারা আরও বেশি করে ইঞ্জয় করে। এ কারণেই ইলিয়াস পিনাকি এই দেশের মানুষের মাঝে জনপ্রিয় সাংবাদিক। এ কারণেই ফাইয়াজ ইফতির মতো ছেলের ২ লাখ+ ফলোয়ার! ২) এই অভিশপ্ত জাতির মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাতের মানুষ হচ্ছে এই দেশের হুজুররা। হুজুর মানে হুজুর। কোনো জাশি-টাশি না। ওভার অল হুজুর শ্রেণিই এরকম। আল্লাহর কসম করে বলছি, গত দেড় বছরে আমি ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে যত মানুষের মুখে গালি দেখেছি তাদের ১০ জনের ৯ জনই ছিলো হুজুর। এদের চিন্তাচেতনা এত নিকৃষ্ট, এত নিকৃষ্ট, এত নিকৃষ্ট যে আপনি তা পরিমাপও করতে পারবেন না। এদের কথাবার্তা আর চিন্তাচেতনা দেখলে মনেহয় জীবনে এক অক্ষরও পড়ালেখা করে নাই। এদের মাঝে বিন্দুমাত্র বিচারবুদ্ধি নাই, কোনোকিছু নিয়ে জানাশোনা নাই। বিরোধী মতকে এরা সহ্যই করতে পারে না। জাস্ট ধ্বংস করে ফেলতে চায়। উপরে যে গুজব-মিথ্যা-গালির ভক্ত বাঙালির কথা বললাম, হুজুররা হচ্ছে তাদের মধ্যে টপ। আমি দেড় বছরে হাজার হাজার বার দেখেছি, বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত লোকেরা কী জঘন্য ভাষায় গালি দেয়। মুখে দাড়ি, মাথায় টুপি, কিন্তু তর্ক শুরুর আগেই অপর পাশে থাকা মানুষটাকে জঘন্য ভাষায় গালি দিচ্ছে। একদম মা-বোনের উপরে উঠে যাচ্ছে, এমন অবস্থা। কভার ফোটোতে মক্কা শরীফের ছবি, হজ্বও করে আসছে, কিন্তু শুধুমাত্র মতের অমিল হওয়ার কারণে মানুষকে বিশ্রী ভাষায় গালাগালি করতেসে। হাজারটা ট্যাগ দিচ্ছে। আপনি যত গুজব দেখবেন, যত নোংরা রাজনীতির খেলা দেখবেন, সব এই হুজুররা সর্বপ্রথম পিক করে। এসবে এরা খুব মজা পায়। এগুলো এদের প্রিয় খাবার। আর নারীদের নিয়ে এদের মনোভাবের কথা কী বলবো। একটা সময় ভাবতাম এদের সমস্যা নারীদের আস্ফালন নিয়ে। বিভিন্ন বিষয়ে বাড়াবাড়ি নিয়ে। কিন্তু বিশ্বাস করেন, এদের বেশিরভাগ অংশ নারীদের এক্সিস্টেন্সই সহ্য করতে পারে না। নারী দেখলেই এরা মনে করে চরিত্রহীন, খারাপ। নারী জিনিসটা যেনো এদের কাছে বিষের মতো। আমি জানি না কেনো, কিন্তু হাতেগোনা দুই-একজন বাদে এই দেশের সব হুজুর এরকম! গত দেড় বছরে এটা একদম কাছ থেকে দেখলাম। এটা বোঝার জন্য আপনার বাম-নাস্তিক-শাহবাগী কিছুই হওয়া লাগবে না, একটু নিবিড় পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝবেন! @Hasib Badsha Arko

Sunday, 28 December 2025

হাদীকে বাঁচতে দেওয়া হলো না ?

"হাদী সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ্জা-মান" কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিল:— সাহস থাকলে কু করে দেখান। জনগণ গিয়ে ইট খুলে আনবে ক্যান্টনমেন্ট থেকে। এটা কোনো হুমকি ছিল না—এটা ছিল জনতার শক্তির ঘোষণা। "হাদী প্রধান উপদেষ্টার"চোখে চোখ রেখে বলেছিল:— আমি বিশ্বাস করি, আপনি পালাতে আসেননি। তাই ভয় পাবেন না। নামগুলো বলেন— কারা আপনাকে কাজ করতে দিচ্ছে না। এই কথার ভেতর ছিল না ভদ্রতার মুখোশ, ছিল সত্য বলার সাহস। "ইন্টেরিমের উপদেষ্টাদের" উদ্দেশে হাদী বলেছিল:— একজন রিকশাওয়ালাও জানে—আপনাদের কেউ ভালো না। আপনারা জুলাইকে বেচে দিয়েছেন। এক পা বিদেশে, আরেক পা ক্ষমতার টেবিলে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে আপনারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এই অভিযোগ কোনো গুজব না—এটা রাজপথের রায়। "হাদী বিএনপি"-কে বলেছিল:— শহীদ জিয়ার দলকে ভারতের দাস বানাতে দেবো না। কারণ স্বাধীনতার নামে দাসত্ব মানে শহীদদের অপমান। "হাদী জামায়াতে ইসলামী"-কে বলেছিল:— নিজামী, সাঈদীর জামাতকেও ভারতের দাস হতে দেবো না। কারণ আদর্শের কথা বলে পরাধীনতা মেনে নেওয়া সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি। "হাদী এনসিপি"-কে সোজাসাপটা বলেছিল:— তোমরা জুলাইকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়েছ। মনে রেখো—জুলাই কোনো দলের না, জুলাই পুরো দেশের। এই কথায় কেঁপে উঠেছিল অনেকের সাজানো বয়ান। "হাদী এমনকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী-লীগের" ক্ষেত্রেও বলেছিল:— যারা গণহত্যায় জড়িত না, তাদের সাথেও ইনসাফ করতে চাই। কারণ হাদীর রাজনীতি ছিল প্রতিশোধের না। ন্যায়ের। ঢাকা–৮ আসনে হাদী নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাস আর হেলাল উদ্দীনকে "ভাই" বলে দোয়া চেয়েছিল:— কারণ সে শিখিয়েছিল, রাজনীতি মানেই শত্রুতা না, রাজনীতি মানেই মানবতা। হাদী “হেভিওয়েট রাজনীতি”র মিথ ভাঙতে চেয়েছিল:— ক্ষমতা আর টাকার কাছে মাথা নত না করে সবার জন্য সমান মাঠ গড়তে চেয়েছিল। হাদী প্রমাণ করতে চেয়েছিল— সততা, ভালোবাসা, ত্যাগ আর জনগণের ভাষা বুঝতে পারলে, কোটি টাকার প্রার্থীকেও হারানো যায়। "হাদী চেয়েছিল" হিন্দুদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম:— যাতে কোনো দল আর কোনো সময় তাদের ভোটব্যাংক বানিয়ে ব্যবহার করতে না পারে। হাদী স্বপ্ন দেখেছিল:— ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই দেশের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করানোর। হাদী কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে যোগ্য, দক্ষ সাহসী মানুষ তৈরি করতে চেয়েছিল। হাদী চেয়েছিল:— জুলাইয়ের শহীদদের খু/নীদের বিচার। "৫৭ বিডিআর" হ/ত্যার বিচার। শাপলা গণহত্যার বিচার। গুম–খুনে জড়িত ডিজিএফআইয়ের নরপশুদের বিচার। হাদী দেখাতে চেয়েছিল:— বিক্রি না হয়েও রাজনীতি করা যায়। মুড়ি আর বাতাসা দিয়েও জনসংযোগ হয়। কোটি টাকা ছাড়াও নির্বাচন করা যায়— যদি জনগণ পাশে থাকে। আমি একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে ইন্টেরিম সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের কাছে জানতে চাই ? এই চাওয়াগুলো কি এতটাই অপরাধ ছিল? তাই কি হাদীকে বাঁচতে দেওয়া হলো না? তাহলে আজ প্রশ্ন একটাই—? *এই দেশে কি সততা নিয়ে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ? *ইনসাফের কথা বললেই কি মৃত্যু অনিবার্য? *জনগণের পক্ষে দাঁড়ালেই কি গুলি বরাদ্দ? যদি, হাদীর স্বপ্ন অপরাধ হয়:- তাহলে এই রাষ্ট্র নিজেই অপরাধী। আর যদি হাদীর চাওয়াগুলো সত্য হয়:— তাহলে হাদী মরেনি, হাদী আজও প্রশ্ন হয়ে এই জাতির বুকের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে যাচ্ছে।

জামায়াত'কে এখন আর রাজাকার বলার কোনো সুযোগ আছে কী ??

বর্তমান জামায়াত'কে এখন আর রাজাকার বলার কোনো সুযোগ রইলো কী বা আছে কী ..??? "৭১- এবং "২৪ এর জামায়াত কিন্তু এক নয়-; জামায়াত'কে নিয়ে কিছু কথা....পড়ুন, আশা করছি ভালো লাগবে- তবে, তেতো সত্য কথন। প্রথমত বলতে চাই, জামায়াত তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে (যারা তাদের রাজাকার বলে, তাদের সবার গায়ে কালি লাগানোর কাজ)। আমরা ১৯৭১ এর কারণ থেকে জেনে আসতেছি জামায়াত খুব খারাপ দল- মনে করেন, জামায়াত খুব খারাপ- মানে বেইশ্যা। এই বেইশ্যার সাথে যারা রাত কাটায়- তাদের কী বলা উচিত- বলেন-!? ঝড়ের রাতে সেই বেইশ্যার ঘরে আশ্রয় নিয়ে- ঝড় থামার পর বের হয়ে যদি বলেন- ঝড়ের সময় বেইশ্যার ঘরে ছিলাম। একবার ভাবুন তো, এখানে কে সবচেয়ে বেশি খারাপ- বেইশ্যা নাকি- সেই আশ্রয়গ্রহনকারী- বলেন- কে-!? স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের মুরব্বিদের নেওয়া সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো না... ঈমানদার কখনও জালেম হতে পারে না--- উনারা যেটা করতে পারতেন- ১। পশ্চিম পাকিস্তান সরকারকে উনারা বোঝাতে পারতেন যুদ্ধ না জড়িয়ে- আপোষ মীমাংসা করার জন্য। কারণ, দুই ভাই যখন বিবাদে জড়ায়- তখন দুই ভাইয়ের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীর ঈমানদারী কাজ হলো- দু-পক্ষ'কে বুঝিয়ে আপোষ মীমাংসা করে দেওয়া। ২। দুই ভাইয়ের বিবাদে তৈল ঢেলে- কোনো একপক্ষের জন্য কাজ করে অন্যজনকে ধ্বংস করে দেওয়া। দূর্ভাগ্যক্রমে জামায়াতের তখনকার নেতৃত্ব ২য় কাজটি করে- বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। যা-ই হোক, স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তারাও সেই ক্ষমা পাবার শর্তগুলো মেনে করে এইদেশে স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করতেছিলো। শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর, খন্দকার মোশতাক, সায়েম এবং জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর- জিয়াউর রহমান, শেখ মুজিবের নিষিদ্ধ করা রাজনীতি উন্মোচিত করে- সকল দল ও মত'কে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দেন। জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী নেতা এবং প্রশাসক। তিনি চিন্তা করলেন- যত বেশি মত- ততো বেশি পথ, সুতরাং, যারাই ক্ষমতায় থাকবে ভয়ে থাকবে, সতর্ক থাকবে- ভুল করলে- ধরার লোকের অভাব তো নেই। তার মানে, শাসক দল সবসময় সঠিক কাজটাই করার চেষ্টা করবে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। জিয়াউর রহমানের এই চিন্তা-চেতনার কারণে, আবার বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে এবং সেই সুযোগে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামি লিগ এবং পাকিস্তান জামায়াতও- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে আবার রাজনীতির ময়দানে ফিরে আসে। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর, এরশাদ ক্ষমতায় আসে এবং স্বৈরাচার হয়ে... পতন হয় ১৯৯০ সালে। সেই স্বৈরাচার এর পক্ষ নিয়ে- প্রথম সুযোগেই বেইমানি করে দেখায়- বহুদলীয় গণতন্ত্রের কারণে রাজনীতি করার সুযোগ পাওয়া আওয়ামি লিগ এবং জামায়াত। ১৯৮৬ সালে এই দুই দল আওয়ামি লিগ এবং জামায়াত আবারও এইদেশের মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এরশাদের সাজানো সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়- তার মানে এরশাদের হাতকে শক্তিশালী করে তোলে। শুনেছি সেই নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা- কোরান ছুঁয়ে বলেছিলেন- যারা (১৯৮৬) এই নির্বাচনে অংশ নিবে- তারা হবে এদেশের জাতীয় বেঈমান। পরে সে নিজেই জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলো। তাহলে, কী বোঝা গেলো- জামায়াত এবং আওয়ামি লিগ ১৯৭১ সালে মারামারি করলেও- আসলে তারা আপন মায়ের পেটের দুই ভাই...!! এই দুই দলের জন্মও হয়েছিলো বাংলাদেশ জন্ম হওয়ার আগে- পাকিস্তানে। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতন হওয়ার পর, ১৯৯১ সালে ইতিহাসের প্রথম স্বচ্ছ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০ আসন লাভ করে- বাকী ১০ আসনের জন্য এই জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় যায় বিএনপি। জামায়াত পেয়েছিলো ১৮ সিট। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে সেই জামায়াত এবার আওয়ামি লিগের সাথে জোট করে তুমুল আন্দোলন করে আওয়ামি লিগকে ক্ষমতায় বসতে সাহায্য করে। আওয়ামি লিগ ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টিকে সুবিধা দিলেও, জামায়াত ৩টি সিট ছাড়া কিছুই পায় নাই। আবার ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জামায়াত বিএনপি এর সাথে জোট করে- ২টা মন্ত্রীর পদ সহ ক্ষমতার স্বাদ পায়। এই নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করলেও- আন্দোলনের সঙ্গী হিসেবে জামায়াতকে নিরাশ করে নাই। সারমর্ম হলো, এরই মধ্যে জামায়াত- জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং আওয়ামি লিগ'কে খাওয়া শেষ-!!! ২০০৬ এর পরের ইতিহাস তো আপনারা সকলেই জানেন। এতো কিছু জানার পর, এখন আমার প্রশ্ন হলো- একে একে সবাই তো জামায়াত'কে নিয়ে রাজনীতি করেছে- একসাথে খেয়েছে, ঘুমিয়েছে এবং ভোগ করেছে- তখন তো কারোর মুখে রাজাকার বলে বমি আসে নাই- এইটা একদম চরম সত্য কথা। জামায়াত নিজের ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক, সকল দলের কাজে লেগেছে- সবার সাথে গেছে। সকল দল তাদের বিপদের সময় জামায়াতকে পেয়েছে বা ব্যবহার করেছে। বিপদ কেটে গেলে ছিটকে ফেলেও দিয়েছে। জামায়াতের একটা দূর্বলতা, কেউ যখন তাদের কানের কাছে গিয়ে জোর গলায় রাজাকার বলে ডাক দেয়- তখন তারা সঠিক উত্তরটা দিতে পারে না। জামায়াতের সবচেয়ে বড়ো বোকামি হলো- তারা মনে করে তারা বেশি বুঝে- অথচ, এটা বুঝে না সবাই তাদেরকে ব্যবহার করেই আজ এতো শক্তিশালী হয়েছে। দেশের কঠিন সময়ে জামায়াত সবসময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে- এবং সেটা লোভ করতে গিয়ে। জামায়াতের মধ্যে এই মুহূর্তে চিহ্নিত কোনো যুদ্ধাপরাধী নেতা নেই। সুতরাং, জামায়াতকে এখন আর রাজাকারের দলও বলা যাচ্ছে না। এনসিপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিস এবং চরমোনাই (সারাজীবন জামায়াতকে মোনাফেক ফতুয়া দিতো)। সবাই তো জামায়াতের সঙ্গে জোট করতেছে- কতেক মুক্তিযোদ্ধাও জামায়াতে যোগ দিয়েছে এবং দিবেও... তারমানে জামায়াত এখন আর রাজাকারের দল নয়-!? ২০টা বছর এইদেশে সঠিক নির্বাচন হয় নাই। দীর্ঘ এই সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে কে কতোটুকু শক্তিশালী, সেই হিসেবটা করার জন্য হলেও- উচিত ছিলো সামনের নির্বাচনটা সবাই এককভাবে করা। তাহলে, সকলেই সকলের শক্তিমত্তা সম্পর্কে বুঝতে পারতো এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা হতো। এভাবে, হুজুগে জোট করার কোনো মূল্য নেই- এতে দেশের জনগণের কোনো উপকার হবে না- উন্নয়ন হবে জোটের- অন্যায় করলেও জোটের বাহিরে কেউ কথা বলবার সুযোগ পাবে না। পরিশেষে: একটা কথাই শক্ত করে বলে রাখি- জামায়াত সাকসেস- তবে কিভাবে-!? শুনেন তাহলে- জামায়াতকে আপনারা যারা রাজাকার বা পায়খানা মনে করেন- জামায়াত সেই পায়খানা সবার গায়ে লাগিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এই লেখার পরে আর কখনও জামায়াতকে নিয়ে কিছু বলার আছে কিনা- তা ভবিষ্যৎ বলে দিবে। ভবিষ্যৎ জামায়াতের জন্য শুভকামনা কামনা রইলো। তবে, করজোড়ে জামায়াতের নিকট অনুরোধ করছি- দেশে আর প্যাচ লাগাইয়েন না- যেখানে সেখানে গিয়ে আগুনে ঘী ঢালিয়েন না। আপনারা সঠিক পথে থাকলে দেখবেন মানুষই ছুটে যাবে- কাউকে ডাকতে হবে না। কেবল ভারত বিরোধিতায় আমি জামায়াতের সাথে একমত- ভবিষ্যতে এরকম আরও কিছু মিলে যেতে পারে। শুধু দ্বিচারিতার দোকানটা বন্ধ রাখবেন। পিআর, স্থানীয় নির্বাচন, গণভোট- জামায়াত কতো পাগলামী করলো- কী লাভটা হলো- আপনাদের কর্মীরা কয়দিন লাফালাফি করলো- এখন তাদের জবান বন্ধ হয়ে গেছে লজ্জায়। প্রত্যেকটি মবের সাথে জামাতের ইন্ধন রয়েছে বা করিয়েছে। এসব করে মাঝখান দিয়ে অন্য দলগুলোর সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দেশের এই বিশেষ সময়ে এসব পাগলামি না করলেও হতো। জামায়াত এসব কাজ করেছে, তার একটাই কারণ, তাদের মধ্যে দূরদর্শী নেতার অভাব। সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে একসাথে থাকুন। অপশক্তি যেন আর কোনোদিন ভারত থেকে এদেশে আসতে না পারে, সেই কাজটায় সবসময় একমত থাকতে হবে। জামায়াত এখন রাজাকার মুক্ত। মুক্তিযুদ্ধ এবং রাজাকার- শব্দ ব্যবহার করে রাজনীতি করা- দেশের জনগণকে দুইভাগ করে- রাজনীতি করার কৌশল চিরোদিনের জন্য এদেশ থেকে কবর দিয়ে দিতে হবে। নেতৃত্বের গুণাবলি-ই হলো একতা।