Saturday, 7 February 2026
জুলকারনাইন সায়ের 🤭নামা
আলজাজিরার তথ্যচিত্রের অন্যতম চরিত্র আলোচিত সামি,
প্রতারণার অভিযোগে ২০০৬ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন সেই সামি
আলজাজিরার তথ্যচিত্রের অন্যতম চরিত্র আলোচিত সামির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজে অংশ নেওয়া, সেনানিবাসে নিষিদ্ধ হওয়াসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সামি কখনো তানভীর সাদাত, কখনো সায়ের জুলকারনাইন, কখনো বা জুলকারনাইন সায়ের খান নামে প্রতারণাসহ বহু অপরাধে জড়িত ছিলেন।
তাঁরা বলছেন, র্যাব কর্মকর্তা পরিচয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে ২০০৬ সালে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সামি। সর্বশেষ গুজব ও অপপ্রচারের অভিযোগে গত বছরের মে মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার অন্যতম আসামি তিনি।
জানা গেছে, সামির প্রকৃত নাম সামিউল আহমেদ খান। অল্প বয়সে মাকে হারানোর পর চুরিসহ প্রতারণামূলক অপরাধে জড়িয়ে যান। বদলে ফেলেন মায়ের রাখা নাম ‘তানভীর মোহাম্মদ সাদাত খান’। সব সেনানিবাস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার সময় তাঁর নাম ছিল ‘সামিউল আহমেদ খান’। মাদক ও অন্ধকার জগতে জড়িয়ে বেছে নেন নতুন নাম সায়ের জুলকারনাইন। কয়েক বছর ধরে জড়িয়ে পড়েন পাহাড়ি উগ্রবাদীদের সঙ্গে। এরই মধ্যে আলজাজিরা ইস্যুতে তাঁর সহপাঠী ও পরিচিতদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর মুখোশ উন্মোচন করছেন। তাঁদেরই একজন সামির ইস্পাহানি স্কুলের সহপাঠী সাইফ এম ইশতিয়াক হোসেন। ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে তিনি সামির পরিবার-স্কুল এবং পরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি বড় স্ট্যাটাস দেন। একই দিন বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে ওমর শরীফ আরেফিন নামের আরেকজন সামি সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে।
শিশুকালেই অপরাধের হাতেখড়ি : বাবা লে. কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাসেত খানের চার সন্তানের মধ্যে সামিউল আহমেদ খান সবার বড়। জন্ম ১৯৮৪ সালে হলেও স্কুলের কাগজপত্রে তাঁর জন্ম তারিখ ১৯৮৬ সালের ৮ অক্টোবর। ১৪ বছরে মাকে হারান। এর দুই বছর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তখন থেকেই অন্ধকার জগতে পা বাড়ান সামি। ক্যাডেট কলেজ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর ভর্তি হন কুমিল্লার ইস্পাহানি স্কুলে। ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে ড্রাগ নেওয়া, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাসহ নানা অপরাধে জড়ান।
কৈশোর থেকেই সেনানিবাসে নিষিদ্ধ : কিশোর বয়সেই চুরিতে হাত পাকান সামি। ২০০০ সালের ৩০ জানুয়ারি ইসিবিতে কর্মরত মেজর ওয়াদুদের বিদেশ থেকে আনা ট্র্যাকস্যুট চুরি করে ধরা পড়েন সামি। তখন তাঁর বয়স ১৭। ২০০০ সালের জুলাই মাসে টাইগার অফিসার্স মেস থেকে হাতির দাঁত চুরি করেন, পরে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটের অঙ্গনা জুয়েলার্সে বিক্রি করে ধরা পড়েন। বাবার চাকরির সুবাদে নিজেকে কখনো সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট, কখনো ক্যাপ্টেন হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ঢাকা সেনানিবাসে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বন্ধু উৎপলের কাছে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট প্রমাণের জন্য বেল্ট, বুট ও র্যাংক ইউনিফর্ম কেনেন। উৎপলের বাসা থেকেই সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে ট্যাক্সি ক্যাব নিয়ে সেনানিবাসসহ প্রথম আলো পত্রিকা অফিস, রাপা প্লাজা ও চিড়িয়াখানা ঘুরে জাহাঙ্গীর গেট দিয়ে সিএমএইচে প্রবেশের সময় দুপুর ২টায় মিলিটারি পুলিশের (এমপি) হাতে ধরা পড়েন সামি। দুই দিন পর ২ মে বাবার অঙ্গীকারনামায় আর্মি এমপি ডেস্ক থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
র্যাব পরিচয়ে প্রতারণা-গ্রেপ্তার : ২০০৬ সালের ২০ জুলাই র্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের এজে টেলিকমিউনিকেশন থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন কিনে একটি ভুয়া চেক দেন। একইভাবে প্রাইজ ক্লাব নামক একটি কম্পিউটার ফার্ম থেকে ১০টি ল্যাপটপ কেনার কথা বলে দুটি ল্যাপটপের গুণগত মান দেখার কথা বলে চেক দিয়ে দুটি ল্যাপটপ নিয়ে আসেন। চেক ডিস-অনার হলে অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-১ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর তাঁকে এনপিজি ঘোষণা করে সব সেনানিবাস ও দপ্তরে অবাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার পর সামিকে ত্যাজ্য করেছিলেন বাবা লে. কর্নেল (অব.) আবদুল বাসেত। ঠিক এর পরদিন ২০০৬ সালের ২৩ জুলাই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি।
একাধিক বিয়ে ও নারী কেলেঙ্কারি : সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়েই এক সেনা কর্মকর্তার মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন সামি। অ্যান্টেনা ভাঙা ভিএইচএফ (ওয়াকিটকি) নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়ার নামে কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল সামির বিরুদ্ধে। ব্যবসার কথা বলেও অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। শ্বশুরের অর্থে হাঙ্গেরিতে রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরু করার পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অনেকেই সামিকে খুঁজছেন।
গুজব ও অপপ্রচারের অভিযোগে মামলা : গত বছর সাইবার ক্রাইম ইউনিট অনলাইনে জাতির পিতা, শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কটূক্তি ও আপত্তিকর প্রচারণা এবং করোনাভাইরাস নিয়ে অপপ্রচারসহ বিভিন্ন গুজব রটিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাদের অন্যতম সামি। ‘উই আর বাংলাদেশি’ পেজ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে অভিযুক্তদের ল্যাপটপ ও মোবাইল অনুসন্ধান করে ১১ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পান গোয়েন্দারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাসনিম খলিল, সামিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের মে মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। এ মামলার প্রতিবাদে কলাম লিখেছিলেন আরেক অপপ্রচারকারী ডেভিড বার্গম্যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশকে টার্গেট করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেই কল্পিত তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণা ও মিথ্যাচারে সিদ্ধহস্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে আলজাজিরার এই তথ্যচিত্র তৈরির উদ্দেশ্য কারো বুঝতে আর বাকি নেই।
Thursday, 5 February 2026
দিল্লীর সাথে পিন্ডির নাম কেন নেয়া হয় জানেন?
পিন্ডিতে কেউ পালায় নাই বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে। দিল্লীতে তো চোখের সামনেই একটা পুরা দল পালিয়ে আছে। কিন্তু পিন্ডি কোনোভাবেই দিল্লীর সমপর্যায়ের তো নয়, ইভেন সেরকমভাবে প্রাসংগিকও না স্বাধীনতার পর থেকে আর।
যাদেরকে ইংগিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, সেই দলের নেতাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে ঝাঁকে ঝাঁকে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, অষ্ট্রেলিয়াতে আছে। কিন্তু পাকিস্তানে আসলে কেউই নাই।
তার উপর জিওগ্রাফিক্যালি দেখলে পাকিস্তানের আসলে এদেশের উপর প্রাধান্য বিস্তারের কোনো সুযোগও নাই। তারা আমার দেশের অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে মরুভূমি বানাতে পারে না। ট্রানজিটের নামে ট্যাক্সবিহীন চলাচল আর করিডোর নিতে পারে না। আমাদের দেশে গ্রেফতার বা গুমকৃত লোকজন, যেমন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন সাহেব বা সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির মত কাউকে পাকিস্তানে পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে ভারতের কারাগারে। আমাদের দেশটাকে তাদের পণ্যের বাজার একতরফাভাবে বানিয়েছে ভারত, পাকিস্তান না। আমাদের সাথে হিউজ বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের, পাকিস্তানের না। আমাদের টেক্সটবুক চেইঞ্জ করতে চেয়েছে একতরফাভাবে ভারত, পাকিস্তান না। আমাদের দেশের নির্বাচনে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ করে, গুম খুনের উপর একজনকে স্বৈরাচার হওয়ার সাপোর্ট দিয়েছে ভারত, বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটাইছে ভারত। পাকিস্তান এরকম বা কাছাকাছি স্কেইলের কিছু করার সাধ্য রাখে? রাখে না, ইভেন গত ৩০ বছর এমন উদাহরণও নেই। এই কারনে পিন্ডি আমাদের স্বাধীনতার জন্য থ্রেট না।
উদাহরন শত শত দেয়া যাবে।
কিন্তু এরপরও দিল্লীর সাথে পিন্ডির নাম কেন নেয়া হয় জানেন? এইটার উদ্দেশ্য দিল্লীর হেজিমনিকে একটু সফট বাইনারিতে ফেলে ব্যালেন্স করে দেখানো। এতে শুধুমাত্র দিল্লীর পারপাসই সার্ভড হয় আর কিছু নয়। কারন, এদেশে অন্য কারো হেজিমনি প্রব্লেম না এই মূহুর্তে। ১০০% প্রব্লেম হচ্ছে ইন্ডিয়ান হেজিমনি। এদেশের জনগণের সত্যিকার স্বাধীনতার জন্য এই মূহুর্তের বাধা ভারত।
ভারত চায় না এদেশ তুর্কির সাহায্যে ড্রোন ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করুক, ভারত চায় না আমরা তুর্কিয়ের সাথে ৬০০ মিলিয়ন ডলার এর মিলিটারি ডিল করি, ভারত চায় না এদেশ JF17C থান্ডার জেট কিনে এয়ার ডিফেন্স স্ট্রং করুক। ভারত চায় না, আমাদের তিস্তা প্রজেক্ট চীন বাস্তবায়ন করুক, যাতে করে ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের দেশে আর বন্যা না হয়। ভারত চায় না পদ্মা ব্যারেজ হোক, ভারত চায় না, লালমনিরহাটে এয়ার ফিল্ড রেনোভেইটেড হোক। ভারতের চাওয়ার লিস্ট এরকম শত শত এবং সবগুলা এদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে।
সো, দিল্লীর হেজিমনিকে হাল্কা করে দেয়ার জন্য পিন্ডির নাম টেনে আনা শঠতা, চালাকি।
আমাদের শ্লোগান শহীদ হাদির শ্লোগান।
দিল্লী না ঢাকা?
ঢাকা ঢাকা।।
___________________________________________
𝐑𝐢𝐚𝐳 𝐇𝐚𝐬𝐚𝐧
𝐒𝐭𝐚𝐟𝐟 𝐞𝐧𝐠𝐢𝐧𝐞𝐞𝐫,
𝐚𝐬𝐬𝐞𝐦𝐛𝐥𝐲 𝐢𝐧𝐭𝐞𝐠𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐚𝐭 𝐈𝐧𝐭𝐞𝐥 𝐂𝐨𝐫𝐩𝐨𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧
Wednesday, 4 February 2026
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম সরকার।
আর মাত্র ৮দিন। এরপরেই বিদায় নিবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম সরকার।
হ্যা এটা অস্বীকার করছিনা যে এ সরকারের বিভিন্ন ভুল, সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা ছিলো। বিশেষ করে আইনি পরিস্থিতি উন্নয়নে। কিন্তু যে দেশের একটা পুলিশ বর্তমান সরকার কে দেখতে পারে না, একজন কনস্টেবল পর্যন্ত ঠিক মতো সহযোগীতা করে না সেই দেশের আইন ব্যবস্থার আপনি কীভাবে উন্নতি করবেন? এর বাইরে আরেকটা বড় ব্যর্থতা তারা বিচার নিশ্চিত করতে পারে নি। কিন্তু বিচার নিশ্চিত করা কী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ নাকি বিচারকের কাজ? এখানে হস্তক্ষেপ করলে ঠিকই বলতেন ইউনুস সরকার গণতন্ত্র পছন্দ করে না। পুলিশকে চাপ দিয়ে তাও কিছু লীগের দোসরকে জেলে ডুকানো যায় কিন্তু ২ দিন পর আবার বিচারকরা এদের জামিন দিয়ে দেয় এখন এখানে সরকারের অনৈতিক উপায়ে চাপ দেওয়া ছাড়া নৈতিক ভাবে কিছু করার ছিলো বা আছে?
এরপর আসি মানুষের এক্সপেকটেশনে। সত্যি কথা বলতে বেশিরভাগ মনে করছে হাসিনা পালানোর পর ইউনুস সাহেব এসে কোন যাদুর মাধ্যমে এক বছরে বাংলাদেশকে আমেরিকা বা ইউরোপ বানিয়ে দিবে। কিন্তু একবছরের মধ্যে একটা দেশর কতটুকু দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব? তবুও তাদের চেষ্টার কমতি ছিলো না। কিন্তু যতই তারা চেষ্টা করছে ততই আমরা বাঁধা দিয়েছি। বড় বড় আমলা থেকে ব্যবসায়ি এদের চাপ তো বিভিন্ন বিষয়ে সবসময় ছিলো সাথে জনগণের চাপ। পলিথিন বন্ধ করতে চাইলে আন্দোলন, সেন্ট মার্টিন দ্বিপ বাঁচাইতে চাইলো তাও ঝামেলা, বন্দরকে দূর্ণীতি মুক্ত করতে চাইলো তাও আন্দোলন। কার সহযোগিতা পাইছে এই সরকার? ভালোই হইতো যদি এই সরকার একচুয়াল উন্নয়ন না করে হাসিনার মতো দৃশ্যমান উন্নয়ন করতো এবং অর্থনীতির অবস্থা আরো বাজে করতো। কারণ বাংলাদেশের মানুষ একে তো অশিক্ষিত । এদের সামনে বিশাল শাইনি বাটপ্লাগ রাখলেই এরা খুশি কিন্তু একটু পর এই বিশাল শাইনি চকচকা বাটপ্লাগ যে তাদের বাটেই প্রবেশ করবে তা তারা ভুলে যায়।
কিন্তু যেসব যায়গায় একটু কম বাঁধা পেয়েছে সেখানে দেদারসে উন্নতি করেছে সরকার। আই মিন এক বছরে এই পরিমাণ পরিবর্তন সম্ভব তা আমার নিজের বিশ্বাস করাই কষ্টকর। এই যেমন ধরেন হাসিনা এবং তার গঙের লুট করা ৮ ব্যাংককে সরকার সেইফ করছে, আকাশে ভাসতে থাকা স্যাটালাইট থেকে এই প্রথম লাভ আনছে সরকার। বাংলাদেশ বিমান ইতিহাসের সর্বোচ্চ লাভ করছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও ইতিহাসের সর্বোচ্চ লাভ করছে। এর বাইরে বিদেশি বিনোয়গ থেকে শুরু করে কয়েকশ সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। বিভিন্ন বড় বড় প্রজেক্ট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সেইফ করছে। রিজার্ভ বাড়াইছে। এত কিছু কোন সরকার এক বছরে তো দূরে থাক পাঁচ বছরেও করে নাই এবং ভবিষ্যতেও করতে পারবেনা।
এরপরে তো মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট বিষয়। আমাদের মানসম্মান, ডিগনিটি ফিরিয়ে দিয়েছে এ সরকার। এ সরকারের আমলে বাংলাদেশ যেভাবে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে এবং ইন্ডিয়ার আদিপত্যের বিরুদ্ধে দাড়াইছে তা আর কার সময় দেখছেন? এন্ড মার্ক মাই ওয়ার্ড ফিউচারেও দেখবেন না।
এ সরকারের হাতে সময়, সুযোগ এবং দেশবাসী সহ সকলের সুযোগ থাকে আমরা হয়তো আরো অনেক কিছু দেখতে পারতাম। কিন্তু লেটস বি রিয়েল, একটা গণ-অভ্যুত্থানের পরে একটা দেশ যে পরিমাণ বাজে অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায় এবং যে পরিমাণ সাফার করে তার ১% ও আমরা করি নাই। এসবের জন্য এবং বাংলাদেশর ভবিষ্যত কে আরেকটু ব্যাটার করার জন্য যে পরিমাণ এফোর্ট এ সরকার দিছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ ইউনুস সাহেব এবং তার উপদেষ্টাদের প্রতি।
(এ সরকার এই এক বছরে হাজার হাজার কাজ করছে। যে পরিমাণ বড় বড় কাজ করছে তার ১% আমার পক্ষে একটা পোস্টে উল্লেখ করা সম্ভব না। কিন্তু আজ মিডিয়া ট্রায়াল আর অজ্ঞতার কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম সরকারের আমলে আমাকে শুনতে হয় হাসিনার আমলেই দেশ ঠিক ছিলো।
Sunday, 1 February 2026
নাসিরনামা
নাসিরনামা........
২০১৩ সাল। মাদ্রাসা থেকে সদ্য আলীম পাশ করা কিশোর নাসীর উদ্দীন পাটওয়ারী প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার। দিন-রাত পড়াশোনা, লক্ষ্য একটাই। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে হবে। ঢাকার ফার্মগেটে একটা মেস বাসায় উঠলো নির্বিঘ্নে পড়ার জন্য।
হাসিনার পুলিশের তখন কোটা ছিলো। প্রতিটি থানায় বিশেষ অভিযানে কতো আটক হবে তা নির্ধারিত। আর পুলিশ সেইটা পুরন করতে মেস বাসা ও হকারদের টার্গেট করতো। নিরীহ ছেলেদের ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হতো। ওই সময়টায় আমিও পিকেটিং করতে গিয়ে ধরা খেয়ে জেলে।
একদিন রাতে নাসিরের মেস বাসায় হানা দিলো স্বৈরাচারের পুলিশ। নাসিরসহ অনেক ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা আটক হলেন। স্থান হইলো তেজগাঁও থানায়। এরপর চললো অমানবিক নির্যাতন। পরেরদিন আদালতে রিমান্ড চায়। ওই সময়ে আদালত চলতো পুলিশের কথায়। রিমান্ড চাহিবা মাত্র মঞ্জুর। নাসিরদের ভাগ্যেও তাই হইলো। দ্বিতীয় দফায় আবার নির্যাতন। এরপরে কোর্টে চালান।
গণমাধ্যমগুলো চলতো প্রেসক্রিপশনে। পুলিশ যেমন বলতো তেমনই নিউজ হইতো। ভুক্তভোগীর কথার কোনো দাম ছিলো না। নিরপরাধ ছেলেদের মেরে ফেললেও সেটাকে কেবল পুলিশের গুলি হিসেবে চালিয়ে দিতো। আমি জেলে এমন ছেলেদেরও দেখেছি, যারা আনারি ছিলো কিন্তু পুলিশ কেবল আনন্দ করতে পায়ে বা হাতে গুলি করে কোর্টে চালান করে দিতো। গণমাধ্যম বলতো, পিকেটিংয়ের সময় গুলিবিদ্ধ।
আমরা যারা রাজনৈতিক কর্মী ছিলাম তারা ৪-৫ মাসে জামিন পাইতাম। কিন্তু নাসিরদের ক্ষেত্রে এই সময়টা দীর্ঘ হতো। ভর্তি পরীক্ষার্থী নাসিরের থাকতে হইলো ৮ মাস। জেলে বসেই তার প্রস্তুতি। এরপর বের হলেন। ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাইলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন হাসিনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে। ফেসিস্টকে বিদায় করবে।
সেই যে শুরু, তার প্রাথমিক সমাপ্তি হইলো হাসিনার পালায়নের মাধ্যমে। কিন্তু নাসির যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়ন হয়নি। যুক্ত হইলো নাগরিক কমিটি ও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে। এখনো চলছে নাসিরের লড়াই। হাসিনার আমলে মাঝে প্রায় ৫৪ দিন রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে। গোয়েন্দা সংস্থা, লীগ ও সন্ত্রাসীদের হয়রানি হুমকি ও হামলাকে উপেক্ষা করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে গিয়েছিলো "বেয়াদব" নাসির।
জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় সবগুলো সংগ্রামে আমরা নাসিরকে পেয়েছি। মোদি বিরোধী আন্দোলন, কোটা আন্দোলন, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, ডাকসুর দাবিতে আন্দোলন, সবখানে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলো আমাদের নাসির। ও যতগুলো আন্দোলন করেছে, আমি নিজেও ততোগুলোয় ছিলাম না। তার এই লড়াই এখনো চলমান।
Subscribe to:
Comments (Atom)





