Saturday, 11 July 2026
CIVIQUE EXAM FRANCE
Civique Exameen এর গুরুত্বপূর্ণ ১৯০ টি প্রশ্ন & উত্তর বাংলা অনুবাদ সহ ( Carte PLURIANNUELLE এর জন্য)
আশা করি 40 টা প্রশ্ন কমন পড়বে 🙂
↓
Valeurs de la République française (১–৩৬)
ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ, প্রতীক ও ধর্মনিরপেক্ষতা
1. À quoi correspond la date du 14 juillet ?
বাংলা অনুবাদ: ১৪ জুলাই তারিখটি কীসের সঙ্গে সম্পর্কিত?
✅ উত্তর (French): C’est la fête nationale française.
বাংলা উত্তর: এটি ফ্রান্সের জাতীয় দিবস।
⸻
2. Quel est l’un des symboles de la République française ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক কী?
✅ উত্তর (French): Le drapeau tricolore, Marianne, la Marseillaise ou la devise.
বাংলা উত্তর: ত্রিবর্ণ পতাকা, মারিয়ান, জাতীয় সংগীত বা মূলমন্ত্র।
⸻
3. Le principe d’égalité signifie que :
বাংলা অনুবাদ: সমতার নীতির অর্থ কী?
✅ উত্তর (French): Tous les citoyens ont les mêmes droits et devoirs.
বাংলা উত্তর: সব নাগরিকের একই অধিকার ও কর্তব্য আছে।
⸻
4. “Liberté, égalité, fraternité”, c’est :
বাংলা অনুবাদ: “স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব”—এটি কী?
✅ উত্তর (French): La devise de la République française.
বাংলা উত্তর: এটি ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মূলমন্ত্র।
⸻
5. A-t-on le droit d’insulter publiquement quelqu’un parce qu’il est différent (handicap, apparence physique, sexe…) ?
বাংলা অনুবাদ: কেউ প্রতিবন্ধী, চেহারা বা লিঙ্গের কারণে ভিন্ন হলে তাকে কি প্রকাশ্যে অপমান করা যায়?
✅ উত্তর (French): Non, c’est interdit par la loi.
বাংলা উত্তর: না, এটি আইন দ্বারা নিষিদ্ধ।
⸻
6. Certains métiers peuvent-ils être réservés aux hommes ?
বাংলা অনুবাদ: কিছু পেশা কি শুধু পুরুষদের জন্য নির্ধারিত হতে পারে?
✅ উত্তর (French): Non, les femmes et les hommes ont les mêmes droits.
বাংলা উত্তর: না, নারী ও পুরুষের সমান অধিকার আছে।
⸻
7. De quand date la Constitution de la Ve République ?
বাংলা অনুবাদ: পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের সংবিধান কবে তৈরি হয়?
✅ উত্তর (French): 1958.
বাংলা উত্তর: ১৯৫৮ সালে।
⸻
8. Le régime de la France est :
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সের শাসনব্যবস্থা কী?
✅ উত্তর (French): Une République.
বাংলা উত্তর: একটি প্রজাতন্ত্র।
⸻
9. Lequel de ces symboles représente officiellement la République française ?
বাংলা অনুবাদ: কোন প্রতীক ফরাসি প্রজাতন্ত্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করে?
✅ উত্তর (French): Le drapeau tricolore.
বাংলা উত্তর: ত্রিবর্ণ পতাকা।
⸻
10. Où peut-on voir la devise de la République ?
বাংলা অনুবাদ: প্রজাতন্ত্রের মূলমন্ত্র কোথায় দেখা যায়?
✅ উত্তর (French): Sur les bâtiments publics, les écoles et les mairies.
বাংলা উত্তর: সরকারি ভবন, স্কুল ও পৌরসভায়।
⸻
11. Quels sont des symboles officiels de la République française ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি প্রজাতন্ত্রের সরকারি প্রতীকগুলো কী?
✅ উত্তর (French): Le drapeau tricolore, Marianne, la Marseillaise et la devise.
বাংলা উত্তর: ত্রিবর্ণ পতাকা, মারিয়ান, মার্সেইয়েজ ও মূলমন্ত্র।
⸻
12. Qu’est-ce que l’égalité ?
বাংলা অনুবাদ: সমতা কী?
✅ উত্তর (French): Avoir les mêmes droits et devoirs.
বাংলা উত্তর: একই অধিকার ও কর্তব্য থাকা।
⸻
13. Que signifie la liberté ?
বাংলা অনুবাদ: স্বাধীনতার অর্থ কী?
✅ উত্তর (French): Pouvoir faire ses choix dans le respect de la loi.
বাংলা উত্তর: আইনের প্রতি সম্মান রেখে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার।
⸻
14. Que signifie le mot “fraternité” dans la devise française ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি মূলমন্ত্রে “ভ্রাতৃত্ব” শব্দের অর্থ কী?
✅ উত্তর (French): La solidarité entre les personnes.
বাংলা উত্তর: মানুষের মধ্যে একতা ও সহযোগিতা।
⸻
15. Quel animal est un symbole de la France ?
বাংলা অনুবাদ: কোন প্রাণী ফ্রান্সের প্রতীক?
✅ উত্তর (French): Le coq gaulois.
বাংলা উত্তর: গলীয় মোরগ।
⸻
16. Quel est l’un des rôles des associations ?
বাংলা অনুবাদ: সংগঠন বা সমিতির একটি ভূমিকা কী?
✅ উত্তর (French): Rassembler des personnes autour d’un projet.
বাংলা উত্তর: একটি উদ্দেশ্যের জন্য মানুষকে একত্র করা।
⸻
17. Quel est le nom de l’hymne national ?
বাংলা অনুবাদ: জাতীয় সংগীতের নাম কী?
✅ উত্তর (French): La Marseillaise.
বাংলা উত্তর: লা মার্সেইয়েজ।
⸻
18. Quel symbole de la République française est tricolore ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি প্রজাতন্ত্রের কোন প্রতীকটি ত্রিবর্ণ?
✅ উত্তর (French): Le drapeau français.
বাংলা উত্তর: ফরাসি পতাকা।
⸻
19. Quelle est la date de la fête nationale française ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সের জাতীয় দিবসের তারিখ কী?
✅ উত্তর (French): Le 14 juillet.
বাংলা উত্তর: ১৪ জুলাই।
⸻
20. Quelle est la devise de la République française ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মূলমন্ত্র কী?
✅ উত্তর (French): Liberté, égalité, fraternité.
বাংলা উত্তর: স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব।
21. Quelle est la langue officielle de la République française ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি প্রজাতন্ত্রের সরকারি ভাষা কী?
✅ উত্তর (French): Le français.
বাংলা উত্তর: ফরাসি ভাষা।
⸻
22. Quelle est la place de la langue française dans la République ?
বাংলা অনুবাদ: প্রজাতন্ত্রে ফরাসি ভাষার স্থান কী?
✅ উত্তর (French): C’est la langue officielle de la République.
বাংলা উত্তর: এটি প্রজাতন্ত্রের সরকারি ভাষা।
⸻
23. Quelle liberté permet à chacun d’exprimer ses idées ?
বাংলা অনুবাদ: কোন স্বাধীনতা প্রত্যেককে নিজের ধারণা প্রকাশ করতে দেয়?
✅ উত্তর (French): La liberté d’expression.
বাংলা উত্তর: মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
⸻
24. La liberté d’expression :
বাংলা অনুবাদ: মত প্রকাশের স্বাধীনতা কী?
✅ উত্তর (French): Permet de donner son opinion dans le respect de la loi.
বাংলা উত্তর: আইন মেনে নিজের মতামত প্রকাশ করার অধিকার।
⸻
25. Quelles sont les couleurs du drapeau français ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি পতাকার রং কী কী?
✅ উত্তর (French): Bleu, blanc, rouge.
বাংলা উত্তর: নীল, সাদা, লাল।
⸻
26. Qu’est-ce que la Marseillaise ?
বাংলা অনুবাদ: লা মার্সেইয়েজ কী?
✅ উত্তর (French): L’hymne national français.
বাংলা উত্তর: ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত।
⸻
27. Qu’est-ce qui est traditionnellement organisé sur les Champs-Élysées le 14 juillet ?
বাংলা অনুবাদ: ১৪ জুলাই শঁজেলিজেতে ঐতিহ্যগতভাবে কী আয়োজন করা হয়?
✅ উত্তর (French): Un défilé militaire.
বাংলা উত্তর: সামরিক কুচকাওয়াজ।
⸻
28. Qui est Marianne ?
বাংলা অনুবাদ: মারিয়ান কে?
✅ উত্তর (French): Le symbole de la République française.
বাংলা উত্তর: ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক।
⸻
29. Une personne peut-elle changer librement de religion ?
বাংলা অনুবাদ: একজন ব্যক্তি কি স্বাধীনভাবে ধর্ম পরিবর্তন করতে পারেন?
✅ উত্তর (French): Oui.
বাংলা উত্তর: হ্যাঁ।
⸻
30. “La France est une République indivisible, …, démocratique et sociale”. Complétez cette phrase.
বাংলা অনুবাদ: “ফ্রান্স একটি অবিভাজ্য, …, গণতান্ত্রিক ও সামাজিক প্রজাতন্ত্র”—শূন্যস্থান পূরণ করুন।
✅ উত্তর (French): Laïque.
সম্পূর্ণ বাক্য: La France est une République indivisible, laïque, démocratique et sociale.
বাংলা উত্তর: ফ্রান্স একটি অবিভাজ্য, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সামাজিক প্রজাতন্ত্র।
⸻
31. En quelle année la loi de séparation des Églises et de l’État a-t-elle été votée ?
বাংলা অনুবাদ: গির্জা ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদের আইন কোন সালে পাস হয়?
✅ উত্তর (French): En 1905.
বাংলা উত্তর: ১৯০৫ সালে।
⸻
32. Que permet le principe de laïcité ?
বাংলা অনুবাদ: ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি কী অনুমতি দেয়?
✅ উত্তর (French): La liberté de croire ou de ne pas croire.
বাংলা উত্তর: বিশ্বাস করা বা না করার স্বাধীনতা।
⸻
33. Quel droit est garanti par la laïcité ?
বাংলা অনুবাদ: ধর্মনিরপেক্ষতা কোন অধিকার নিশ্চিত করে?
✅ উত্তর (French): La liberté de conscience.
বাংলা উত্তর: বিবেকের স্বাধীনতা।
⸻
34. Pourquoi le principe de laïcité doit-il être respecté à l’école ?
বাংলা অনুবাদ: স্কুলে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি কেন মানতে হয়?
✅ উত্তর (French): Pour respecter l’égalité et la liberté de tous les élèves.
বাংলা উত্তর: সকল শিক্ষার্থীর সমতা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য।
⸻
35. Qu’est-ce que la laïcité ?
বাংলা অনুবাদ: ধর্মনিরপেক্ষতা কী?
✅ উত্তর (French): La séparation de l’État et des religions.
বাংলা উত্তর: রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথকীকরণ।
⸻
36. Un enfant peut-il refuser d’aller à l’école pour une raison religieuse ?
বাংলা অনুবাদ: ধর্মীয় কারণে একটি শিশু কি স্কুলে যেতে অস্বীকার করতে পারে?
✅ উত্তর (French): Non, l’école est obligatoire.
বাংলা উত্তর: না, স্কুলে যাওয়া বাধ্যতামূলক।
Système institutionnel et politique
(৩৭–৮২)
ফ্রান্সের সরকার, রাষ্ট্রপতি, সংসদ, নির্বাচন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
37. Qui nomme le Premier ministre ?
বাংলা অনুবাদ: প্রধানমন্ত্রীকে কে নিয়োগ করেন?
✅ উত্তর (French): Le président de la République.
বাংলা উত্তর: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি।
⸻
38. Le Parlement est composé :
বাংলা অনুবাদ: সংসদ গঠিত হয় কী দিয়ে?
✅ উত্তর (French): De l’Assemblée nationale et du Sénat.
বাংলা উত্তর: জাতীয় পরিষদ (Assemblée nationale) ও সিনেট (Sénat) দিয়ে।
⸻
39. Qu’est-ce que le pouvoir exécutif ? Le pouvoir :
বাংলা অনুবাদ: নির্বাহী ক্ষমতা কী?
✅ উত্তর (French): Le pouvoir de gouverner et d’appliquer les lois.
বাংলা উত্তর: দেশ পরিচালনা ও আইন প্রয়োগের ক্ষমতা।
⸻
40. Les dirigeants sont élus par les citoyens dans :
বাংলা অনুবাদ: নাগরিকরা নেতাদের কোথায় নির্বাচন করেন?
✅ উত্তর (French): Les élections.
বাংলা উত্তর: নির্বাচনের মাধ্যমে।
⸻
41. A-t-on le droit de ne pas respecter une loi ?
বাংলা অনুবাদ: আইন না মানার অধিকার কি আছে?
✅ উত্তর (French): Non, il faut respecter la loi.
বাংলা উত্তর: না, আইন মানতে হবে।
⸻
42. Qui doit respecter la loi ?
বাংলা অনুবাদ: কাকে আইন মানতে হবে?
✅ উত্তর (French): Tout le monde.
বাংলা উত্তর: সবাইকে।
⸻
43. Quel est le rôle de l’autorité judiciaire ?
বাংলা অনুবাদ: বিচার বিভাগের ভূমিকা কী?
✅ উত্তর (French): Faire respecter la loi et rendre la justice.
বাংলা উত্তর: আইন প্রয়োগ করা ও বিচার প্রদান করা।
⸻
44. Quel pouvoir détient un juge ? Le pouvoir :
বাংলা অনুবাদ: একজন বিচারকের কোন ক্ষমতা থাকে?
✅ উত্তর (French): Le pouvoir judiciaire.
বাংলা উত্তর: বিচারিক ক্ষমতা।
⸻
45. L’autorité judiciaire est exercée par :
বাংলা অনুবাদ: বিচারিক ক্ষমতা কার দ্বারা পরিচালিত হয়?
✅ উত্তর (French): Les juges et les tribunaux.
বাংলা উত্তর: বিচারক ও আদালত।
⸻
46. Que se passe-t-il si un ministre ne respecte pas la loi ?
বাংলা অনুবাদ: কোনো মন্ত্রী আইন না মানলে কী হয়?
✅ উত্তর (French): Il peut être sanctionné par la justice.
বাংলা উত্তর: বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে শাস্তি পেতে পারেন।
⸻
47. Qui est élu lors des élections législatives ?
বাংলা অনুবাদ: আইনসভা নির্বাচনে কাকে নির্বাচিত করা হয়?
✅ উত্তর (French): Les députés.
বাংলা উত্তর: ডেপুটি/সাংসদ।
⸻
48. Combien de députés composent l’Assemblée nationale ?
বাংলা অনুবাদ: জাতীয় পরিষদে কতজন ডেপুটি আছেন?
✅ উত্তর (French): 577 députés.
বাংলা উত্তর: ৫৭৭ জন।
⸻
49. Quand sont élus les sénateurs ?
বাংলা অনুবাদ: সিনেটররা কখন নির্বাচিত হন?
✅ উত্তর (French): Tous les 3 ans, par moitié.
বাংলা উত্তর: প্রতি ৩ বছর পর, অর্ধেক করে।
⸻
50. Qui est élu lors des élections municipales ?
বাংলা অনুবাদ: পৌর নির্বাচনে কাকে নির্বাচিত করা হয়?
✅ উত্তর (French): Les conseillers municipaux.
বাংলা উত্তর: পৌর কাউন্সিলর।
51. Qui est élu lors des élections présidentielles ?
বাংলা অনুবাদ: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কাকে নির্বাচিত করা হয়?
✅ উত্তর (French): Le président de la République.
বাংলা উত্তর: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি।
⸻
52. À partir de quel âge a-t-on le droit de voter ?
বাংলা অনুবাদ: কত বছর বয়স থেকে ভোট দেওয়ার অধিকার হয়?
✅ উত্তর (French): À partir de 18 ans.
বাংলা উত্তর: ১৮ বছর থেকে।
⸻
53. Pour combien de temps est élu le président de la République française ?
বাংলা অনুবাদ: রাষ্ট্রপতি কত বছরের জন্য নির্বাচিত হন?
✅ উত্তর (French): 5 ans.
বাংলা উত্তর: ৫ বছর।
⸻
54. Pour combien de temps sont élus les députés ?
বাংলা অনুবাদ: ডেপুটিরা কত বছরের জন্য নির্বাচিত হন?
✅ উত্তর (French): 5 ans.
বাংলা উত্তর: ৫ বছর।
⸻
55. Pour combien de temps sont élus les sénateurs ?
বাংলা অনুবাদ: সিনেটররা কত বছরের জন্য নির্বাচিত হন?
✅ উত্তর (French): 6 ans.
বাংলা উত্তর: ৬ বছর।
⸻
56. Qui possède le pouvoir exécutif ?
বাংলা অনুবাদ: নির্বাহী ক্ষমতা কার কাছে থাকে?
✅ উত্তর (French): Le président de la République et le gouvernement.
বাংলা উত্তর: রাষ্ট্রপতি ও সরকার।
⸻
57. Quelle condition est nécessaire pour voter aux élections ?
বাংলা অনুবাদ: নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য কী শর্ত প্রয়োজন?
✅ উত্তর (French): Être majeur et inscrit sur les listes électorales.
বাংলা উত্তর: প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া এবং ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হওয়া।
⸻
58. Qui peut voter aux élections en France ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সে কে ভোট দিতে পারে?
✅ উত্তর (French): Les citoyens français majeurs.
বাংলা উত্তর: প্রাপ্তবয়স্ক ফরাসি নাগরিকরা।
⸻
59. Que signifie « suffrage universel » ?
বাংলা অনুবাদ: সর্বজনীন ভোটাধিকার বলতে কী বোঝায়?
✅ উত্তর (French): Le droit de vote pour tous les citoyens.
বাংলা উত্তর: সকল নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার।
⸻
60. Concernant les partis politiques, quelle proposition est correcte ?
বাংলা অনুবাদ: রাজনৈতিক দল সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
✅ উত্তর (French): Ils participent à la vie démocratique.
বাংলা উত্তর: তারা গণতান্ত্রিক জীবনে অংশগ্রহণ করে।
61. Quel est le rôle des députés ?
বাংলা অনুবাদ: ডেপুটিদের ভূমিকা কী?
✅ উত্তর (French): Ils votent les lois et contrôlent le gouvernement.
বাংলা উত্তর: তারা আইন ভোট দিয়ে অনুমোদন করেন এবং সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
⸻
62. La séparation des pouvoirs est un principe fondamental. Quels sont les trois pouvoirs concernés ?
বাংলা অনুবাদ: ক্ষমতার বিভাজন একটি মৌলিক নীতি। তিনটি ক্ষমতা কী কী?
✅ উত্তর (French): Le pouvoir exécutif, le pouvoir législatif et le pouvoir judiciaire.
বাংলা উত্তর: নির্বাহী ক্ষমতা, আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ও বিচারিক ক্ষমতা।
⸻
63. Qui possède le pouvoir législatif ?
বাংলা অনুবাদ: আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কার?
✅ উত্তর (French): Le Parlement.
বাংলা উত্তর: সংসদ।
⸻
64. Qui sanctionne l’auteur d’un vol ?
বাংলা অনুবাদ: চুরির অপরাধীকে কে শাস্তি দেয়?
✅ উত্তর (French): La justice.
বাংলা উত্তর: বিচার ব্যবস্থা।
⸻
65. Qui élit les députés ?
বাংলা অনুবাদ: ডেপুটিদের কে নির্বাচন করেন?
✅ উত্তর (French): Les citoyens.
বাংলা উত্তর: নাগরিকরা।
⸻
66. Qui vote les lois ?
বাংলা অনুবাদ: আইন কে ভোট দিয়ে অনুমোদন করে?
✅ উত্তর (French): Le Parlement.
বাংলা উত্তর: সংসদ।
⸻
67. Qui réside au palais de l’Élysée ?
বাংলা অনুবাদ: এলিজে প্রাসাদে কে থাকেন?
✅ উত্তর (French): Le président de la République.
বাংলা উত্তর: ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি।
⸻
68. Combien y a-t-il de départements en France ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সে কতটি বিভাগ (département) আছে?
✅ উত্তর (French): 101 départements.
বাংলা উত্তর: ১০১টি বিভাগ।
⸻
69. Qui représente l’État dans un département ?
বাংলা অনুবাদ: একটি বিভাগে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব কে করেন?
✅ উত্তর (French): Le préfet.
বাংলা উত্তর: প্রেফে (রাষ্ট্রের প্রতিনিধি)।
⸻
70. Qui dirige la commune ?
বাংলা অনুবাদ: কমিউন (পৌর এলাকা) কে পরিচালনা করেন?
✅ উত্তর (French): Le maire.
বাংলা উত্তর: মেয়র।
⸻
71. Est-ce que le président de la République a tous les pouvoirs ?
বাংলা অনুবাদ: রাষ্ট্রপতির কি সব ক্ষমতা আছে?
✅ উত্তর (French): Non, les pouvoirs sont séparés.
বাংলা উত্তর: না, ক্ষমতা বিভক্ত।
⸻
72. Qui est le préfet ?
বাংলা অনুবাদ: প্রেফে কে?
✅ উত্তর (French): Le représentant de l’État dans un département ou une région.
বাংলা উত্তর: বিভাগ বা অঞ্চলে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি।
⸻
73. Quel est le rôle du Parlement ?
বাংলা অনুবাদ: সংসদের ভূমিকা কী?
✅ উত্তর (French): Il vote les lois et contrôle le gouvernement.
বাংলা উত্তর: সংসদ আইন পাস করে এবং সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে।
⸻
74. Quel est le régime politique de la France aujourd’hui ?
বাংলা অনুবাদ: বর্তমানে ফ্রান্সের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কী?
✅ উত্তর (French): Une République démocratique.
বাংলা উত্তর: একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।
⸻
75. Combien d’États font partie de l’Union européenne au 1er janvier 2025 ?
বাংলা অনুবাদ: ১ জানুয়ারি ২০২৫ অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নে কতটি দেশ আছে?
✅ উত্তর (French): 27 États.
বাংলা উত্তর: ২৭টি দেশ।
⸻
76. Quel État n’est pas membre de l’Union européenne ?
বাংলা অনুবাদ: কোন দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়?
✅ উত্তর (French): La Suisse (par exemple).
বাংলা উত্তর: সুইজারল্যান্ড (উদাহরণ)।
⸻
77. Quelle condition est nécessaire pour voter aux élections européennes ?
বাংলা অনুবাদ: ইউরোপীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার শর্ত কী?
✅ উত্তর (French): Être citoyen de l’Union européenne.
বাংলা উত্তর: ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হওয়া।
⸻
78. À quelle fréquence les élections européennes sont-elles organisées ?
বাংলা অনুবাদ: ইউরোপীয় নির্বাচন কত বছর পরপর হয়?
✅ উত্তর (French): Tous les 5 ans.
বাংলা উত্তর: প্রতি ৫ বছর।
⸻
79. Quel pays est un pays fondateur de l’Union européenne ?
বাংলা অনুবাদ: ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা দেশ কোনটি?
✅ উত্তর (French): La France.
বাংলা উত্তর: ফ্রান্স।
⸻
80. Quelle est la monnaie utilisée en France ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সে কোন মুদ্রা ব্যবহার করা হয়?
✅ উত্তর (French): L’euro.
বাংলা উত্তর: ইউরো।
⸻
81. Qui élit les députés européens ?
বাংলা অনুবাদ: ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের কে নির্বাচন করেন?
✅ উত্তর (French): Les citoyens européens.
বাংলা উত্তর: ইউরোপীয় নাগরিকরা।
⸻
82. Quand célèbre-t-on la journée de l’Europe ?
বাংলা অনুবাদ: ইউরোপ দিবস কবে পালন করা হয়?
✅ উত্তর (French): Le 9 mai.
বাংলা উত্তর: ৯ মে।
Droits et devoirs (৮৩–১১২)
অধিকার ও কর্তব্য
(সংবিধান, মানবাধিকার, আইন, বিচার, নাগরিকের দায়িত্ব)
83. Comment s’appelle la Constitution actuelle de la France ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সের বর্তমান সংবিধানের নাম কী?
✅ উত্তর (French): La Constitution de la Ve République (1958).
বাংলা উত্তর: পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের সংবিধান (১৯৫৮)।
⸻
84. Comment s’appelle le texte qui énonce les droits et devoirs des personnes résidant en France ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সে বসবাসকারী মানুষের অধিকার ও কর্তব্য কোন লেখায় উল্লেখ আছে?
✅ উত্তর (French): La Constitution et la Déclaration des droits de l’homme et du citoyen.
বাংলা উত্তর: সংবিধান এবং মানব ও নাগরিক অধিকারের ঘোষণা।
⸻
85. Concernant les droits individuels, quelle proposition est correcte ?
বাংলা অনুবাদ: ব্যক্তিগত অধিকার সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
✅ উত্তর (French): Les droits individuels sont protégés par la loi.
বাংলা উত্তর: ব্যক্তিগত অধিকার আইন দ্বারা সুরক্ষিত।
⸻
86. De quelle année date la Déclaration des droits de l’homme et du citoyen ?
বাংলা অনুবাদ: মানব ও নাগরিক অধিকারের ঘোষণা কোন সালের?
✅ উত্তর (French): 1789.
বাংলা উত্তর: ১৭৮৯ সাল।
⸻
87. Lequel de ces droits est un droit fondamental ?
বাংলা অনুবাদ: কোন অধিকারটি মৌলিক অধিকার?
✅ উত্তর (French): La liberté d’expression.
বাংলা উত্তর: মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
⸻
88. Parmi ces textes, lequel garantit les droits et libertés en France ?
বাংলা অনুবাদ: কোন দলিল ফ্রান্সে অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে?
✅ উত্তর (French): La Constitution.
বাংলা উত্তর: সংবিধান।
⸻
89. Qu’est-ce que la liberté d’expression ?
বাংলা অনুবাদ: মত প্রকাশের স্বাধীনতা কী?
✅ উত্তর (French): Le droit d’exprimer ses opinions dans le respect de la loi.
বাংলা উত্তর: আইন মেনে নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার।
⸻
90. Quel droit permet à une personne de se défendre devant la justice ?
বাংলা অনুবাদ: আদালতে নিজেকে রক্ষা করার কোন অধিকার আছে?
✅ উত্তর (French): Le droit à la défense.
বাংলা উত্তর: আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার।
⸻
91. Quel est le texte fondateur établissant en France les droits et les devoirs de chaque citoyen ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সে নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য প্রতিষ্ঠাকারী মূল দলিল কোনটি?
✅ উত্তর (French): La Déclaration des droits de l’homme et du citoyen de 1789.
বাংলা উত্তর: ১৭৮৯ সালের মানব ও নাগরিক অধিকারের ঘোষণা।
⸻
92. Quel texte a été adopté pendant la Révolution française ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি বিপ্লবের সময় কোন দলিল গৃহীত হয়েছিল?
✅ উত্তর (French): La Déclaration des droits de l’homme et du citoyen.
বাংলা উত্তর: মানব ও নাগরিক অধিকারের ঘোষণা।
⸻
93. Quelle liberté permet à une personne de ne pas avoir de religion ?
বাংলা অনুবাদ: কোন স্বাধীনতা একজন ব্যক্তিকে কোনো ধর্ম না মানার অধিকার দেয়?
✅ উত্তর (French): La liberté de conscience.
বাংলা উত্তর: বিবেকের স্বাধীনতা।
⸻
94. Une femme peut avorter :
বাংলা অনুবাদ: একজন নারী কি গর্ভপাত করতে পারেন?
✅ উত্তর (French): Oui, dans les conditions prévues par la loi.
বাংলা উত্তর: হ্যাঁ, আইনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী।
⸻
95. Est-il toujours possible de divorcer ?
বাংলা অনুবাদ: সব সময় কি বিবাহবিচ্ছেদ করা সম্ভব?
✅ উত্তর (French): Oui, selon la loi française.
বাংলা উত্তর: হ্যাঁ, ফরাসি আইন অনুযায়ী।
⸻
96. La peine de mort est :
বাংলা অনুবাদ: মৃত্যুদণ্ড কী?
✅ উত্তর (French): Interdite en France.
বাংলা উত্তর: ফ্রান্সে নিষিদ্ধ।
⸻
97. Concernant les limites aux libertés individuelles, quelle proposition est correcte ?
বাংলা অনুবাদ: ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সীমা সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
✅ উত্তর (French): Les libertés sont limitées par la loi et le respect des autres.
বাংলা উত্তর: আইন ও অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মানের মাধ্যমে স্বাধীনতার সীমা নির্ধারিত হয়।
⸻
98. En France, est-ce légal d’être marié à plusieurs personnes en même temps ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সে একই সময়ে একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ে করা কি বৈধ?
✅ উত্তর (French): Non, la polygamie est interdite.
বাংলা উত্তর: না, বহুবিবাহ নিষিদ্ধ।
⸻
99. Faut-il réduire ses déchets ?
বাংলা অনুবাদ: বর্জ্য কমানো কি প্রয়োজন?
✅ উত্তর (French): Oui, pour protéger l’environnement.
বাংলা উত্তর: হ্যাঁ, পরিবেশ রক্ষার জন্য।
⸻
100. Jeter une bouteille dans la rue est :
বাংলা অনুবাদ: রাস্তায় বোতল ফেলা কী?
✅ উত্তর (French): Interdit et sanctionné par la loi.
বাংলা উত্তর: নিষিদ্ধ এবং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।
101. Pourquoi les libertés individuelles peuvent-elles être limitées ?
বাংলা অনুবাদ: ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কেন সীমিত হতে পারে?
✅ উত্তর (French): Pour protéger l’ordre public et les droits des autres.
বাংলা উত্তর: জনশৃঙ্খলা ও অন্যের অধিকার রক্ষার জন্য।
⸻
102. Que doit faire une personne en cas d’accident ?
বাংলা অনুবাদ: দুর্ঘটনা ঘটলে একজন ব্যক্তির কী করা উচিত?
✅ উত্তর (French): Appeler les secours et aider si possible.
বাংলা উত্তর: জরুরি সাহায্য ডাকতে হবে এবং সম্ভব হলে সাহায্য করতে হবে।
⸻
103. Que permet la citoyenneté française ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি নাগরিকত্ব কী দেয়?
✅ উত্তর (French): Des droits et des devoirs, notamment le droit de vote.
বাংলা উত্তর: অধিকার ও কর্তব্য, বিশেষ করে ভোটের অধিকার।
⸻
104. Que risque une personne qui ne respecte pas la loi ?
বাংলা অনুবাদ: আইন না মানলে কী হতে পারে?
✅ উত্তর (French): Des sanctions ou une peine.
বাংলা উত্তর: শাস্তি বা জরিমানা হতে পারে।
⸻
105. Quel est le rôle de la gendarmerie ?
বাংলা অনুবাদ: জেনদারমেরির ভূমিকা কী?
✅ উত্তর (French): Assurer la sécurité et faire respecter la loi.
বাংলা উত্তর: নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আইন প্রয়োগ করা।
⸻
106. Quel est le rôle de la police ?
বাংলা অনুবাদ: পুলিশের ভূমিকা কী?
✅ উত্তর (French): Protéger les personnes et maintenir l’ordre public.
বাংলা উত্তর: মানুষকে রক্ষা করা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
⸻
107. Qu’est-ce qu’une infraction ?
বাংলা অনুবাদ: অপরাধ (infraction) কী?
✅ উত্তর (French): Une violation de la loi.
বাংলা উত্তর: আইন ভঙ্গ করা।
⸻
108. Comment peut-on réduire ses déchets ?
বাংলা অনুবাদ: কীভাবে বর্জ্য কমানো যায়?
✅ উত্তর (French): Recycler, réutiliser et éviter le gaspillage.
বাংলা উত্তর: পুনর্ব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন ও অপচয় কমানো।
⸻
109. Déposer une machine à laver cassée sur le trottoir est :
বাংলা অনুবাদ: ফুটপাথে নষ্ট ওয়াশিং মেশিন ফেলে রাখা কী?
✅ উত্তর (French): Un dépôt sauvage interdit.
বাংলা উত্তর: অবৈধভাবে আবর্জনা ফেলা, যা নিষিদ্ধ।
⸻
110. En quoi consiste la traite des êtres humains ?
বাংলা অনুবাদ: মানব পাচার কী?
✅ উত্তর (French): Exploiter des personnes par la force ou la contrainte.
বাংলা উত্তর: জোর বা বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে মানুষকে শোষণ করা।
⸻
111. Que doit faire une victime de violences ?
বাংলা অনুবাদ: সহিংসতার শিকার ব্যক্তির কী করা উচিত?
✅ উত্তর (French): Alerter la police ou la gendarmerie et demander de l’aide.
বাংলা উত্তর: পুলিশ/জেনদারমেরিকে জানানো এবং সাহায্য চাওয়া।
⸻
112. Quelle est l’infraction la plus grave ?
বাংলা অনুবাদ: সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ কোনটি?
✅ উত্তর (French): Le crime.
বাংলা উত্তর: গুরুতর অপরাধ (Crime)।
Histoire, géographie et culture (১১৩–১৫৯)
ফ্রান্সের ইতিহাস, ভূগোল ও সংস্কৃতি
113. En quelle année a débuté la Révolution française ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি বিপ্লব কোন সালে শুরু হয়?
✅ উত্তর (French): En 1789.
বাংলা উত্তর: ১৭৮৯ সালে।
⸻
114. Qui était Napoléon Ier ?
বাংলা অনুবাদ: নেপোলিয়ন প্রথম কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Un empereur français.
বাংলা উত্তর: একজন ফরাসি সম্রাট।
⸻
115. Lequel de ces personnages historiques est français ?
বাংলা অনুবাদ: নিচের কোন ঐতিহাসিক ব্যক্তি ফরাসি ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Napoléon Ier (par exemple).
বাংলা উত্তর: নেপোলিয়ন প্রথম (উদাহরণ)।
⸻
116. Dans quelle République est-on aujourd’hui ?
বাংলা অনুবাদ: বর্তমানে ফ্রান্স কোন প্রজাতন্ত্রে আছে?
✅ উত্তর (French): La Ve République.
বাংলা উত্তর: পঞ্চম প্রজাতন্ত্র।
⸻
117. Qu’est-ce que la Shoah ?
বাংলা অনুবাদ: শোয়া (Shoah) কী?
✅ উত্তর (French): Le génocide des Juifs par les nazis pendant la Seconde Guerre mondiale.
বাংলা উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের দ্বারা ইহুদিদের গণহত্যা।
⸻
118. Quel pays ou région du monde a été colonisé par la France ?
বাংলা অনুবাদ: কোন দেশ বা অঞ্চল ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল?
✅ উত্তর (French): L’Algérie (par exemple).
বাংলা উত্তর: আলজেরিয়া (উদাহরণ)।
⸻
119. Qui a rendu l’école gratuite, laïque et obligatoire ?
বাংলা অনুবাদ: কে স্কুলকে বিনামূল্যে, ধর্মনিরপেক্ষ ও বাধ্যতামূলক করেন?
✅ উত্তর (French): Jules Ferry.
বাংলা উত্তর: জুল ফেরি।
⸻
120. Quand a eu lieu la Seconde Guerre mondiale ?
বাংলা অনুবাদ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কবে হয়েছিল?
✅ উত্তর (French): De 1939 à 1945.
বাংলা উত্তর: ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত।
⸻
121. Quand a eu lieu la Première Guerre mondiale ?
বাংলা অনুবাদ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কবে হয়েছিল?
✅ উত্তর (French): De 1914 à 1918.
বাংলা উত্তর: ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত।
⸻
122. En quelle année a été créée la Communauté Économique Européenne (CEE) ?
বাংলা অনুবাদ: ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায় (CEE) কোন সালে তৈরি হয়?
✅ উত্তর (French): En 1957.
বাংলা উত্তর: ১৯৫৭ সালে।
⸻
123. Le 11 novembre est un jour férié. À quoi correspond cette date ?
বাংলা অনুবাদ: ১১ নভেম্বর ছুটির দিন। এই তারিখ কী স্মরণ করে?
✅ উত্তর (French): L’armistice de 1918.
বাংলা উত্তর: ১৯১৮ সালের যুদ্ধবিরতি।
⸻
124. Qui a été le premier Président élu sous la Ve République ?
বাংলা অনুবাদ: পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Charles de Gaulle.
বাংলা উত্তর: শার্ল দ্য গোল।
⸻
125. En quelle année l’esclavage a-t-il été aboli définitivement en France ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সে দাসপ্রথা স্থায়ীভাবে কোন সালে বিলুপ্ত হয়?
✅ উত্তর (French): En 1848.
বাংলা উত্তর: ১৮৪৮ সালে।
⸻
126. Depuis quelle année l’école publique est-elle gratuite ?
বাংলা অনুবাদ: সরকারি স্কুল কোন সাল থেকে বিনামূল্যে?
✅ উত্তর (French): Depuis 1881.
বাংলা উত্তর: ১৮৮১ সাল থেকে।
⸻
127. Combien y a-t-il eu de républiques en France ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সে কতটি প্রজাতন্ত্র হয়েছে?
✅ উত্তর (French): Cinq Républiques.
বাংলা উত্তর: পাঁচটি প্রজাতন্ত্র।
⸻
128. Qui était le roi de France au moment de la Révolution française ?
বাংলা অনুবাদ: ফরাসি বিপ্লবের সময় রাজা কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Louis XVI.
বাংলা উত্তর: লুই ষোড়শ।
⸻
129. Qui a fondé la Ve République ?
বাংলা অনুবাদ: পঞ্চম প্রজাতন্ত্র কে প্রতিষ্ঠা করেন?
✅ উত্তর (French): Charles de Gaulle.
বাংলা উত্তর: শার্ল দ্য গোল।
⸻
130. Que célèbre-t-on le 14 juillet ?
বাংলা অনুবাদ: ১৪ জুলাই কী উদযাপন করা হয়?
✅ উত্তর (French): La fête nationale française.
বাংলা উত্তর: ফ্রান্সের জাতীয় দিবস।
131. Quelle guerre a eu lieu entre 1914 et 1918 ?
বাংলা অনুবাদ: ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সালের মধ্যে কোন যুদ্ধ হয়েছিল?
✅ উত্তর (French): La Première Guerre mondiale.
বাংলা উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
⸻
132. Pourquoi l’année 1958 est importante pour la France ?
বাংলা অনুবাদ: ১৯৫৮ সাল ফ্রান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?
✅ উত্তর (French): Parce que la Ve République a été créée.
বাংলা উত্তর: কারণ পঞ্চম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
⸻
133. Quel fleuve coule en France ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সের একটি নদীর নাম কী?
✅ উত্তর (French): La Seine (par exemple).
বাংলা উত্তর: সীন নদী (উদাহরণ)।
⸻
134. Quelle ville est française ?
বাংলা অনুবাদ: কোন শহরটি ফরাসি?
✅ উত্তর (French): Paris (par exemple).
বাংলা উত্তর: প্যারিস।
⸻
135. Quel océan borde la côte ouest française ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সের পশ্চিম উপকূলে কোন মহাসাগর আছে?
✅ উত্তর (French): L’océan Atlantique.
বাংলা উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগর।
⸻
136. Qu’est-ce que Paris ?
বাংলা অনুবাদ: প্যারিস কী?
✅ উত্তর (French): La capitale de la France.
বাংলা উত্তর: ফ্রান্সের রাজধানী।
⸻
137. Quelle est la capitale de la France ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্সের রাজধানী কী?
✅ উত্তর (French): Paris.
বাংলা উত্তর: প্যারিস।
⸻
138. Sur quel continent se situe la France métropolitaine ?
বাংলা অনুবাদ: মূল ফ্রান্স কোন মহাদেশে অবস্থিত?
✅ উত্তর (French): En Europe.
বাংলা উত্তর: ইউরোপে।
⸻
139. Quelle île est un département d’outre-mer français ?
বাংলা অনুবাদ: কোন দ্বীপ ফ্রান্সের বিদেশী বিভাগ?
✅ উত্তর (French): La Réunion.
বাংলা উত্তর: লা রেউনিয়ন।
⸻
140. Combien y a-t-il de régions en France métropolitaine ?
বাংলা অনুবাদ: মূল ফ্রান্সে কতটি অঞ্চল আছে?
✅ উত্তর (French): 13 régions.
বাংলা উত্তর: ১৩টি অঞ্চল।
⸻
141. Quelle ville est un grand port maritime ?
বাংলা অনুবাদ: কোন শহর একটি বড় সমুদ্র বন্দর?
✅ উত্তর (French): Marseille.
বাংলা উত্তর: মার্সেই।
⸻
142. Quelle est la mer au sud de la France métropolitaine ?
বাংলা অনুবাদ: মূল ফ্রান্সের দক্ষিণে কোন সাগর আছে?
✅ উত্তর (French): La mer Méditerranée.
বাংলা উত্তর: ভূমধ্যসাগর।
⸻
143. Quelle ville est située au bord de la mer Méditerranée ?
বাংলা অনুবাদ: কোন শহর ভূমধ্যসাগরের পাশে অবস্থিত?
✅ উত্তর (French): Marseille (par exemple).
বাংলা উত্তর: মার্সেই।
⸻
144. Où se situe la Corse ?
বাংলা অনুবাদ: কর্সিকা কোথায় অবস্থিত?
✅ উত্তর (French): Dans la mer Méditerranée.
বাংলা উত্তর: ভূমধ্যসাগরে।
⸻
145. Quelle chaîne de montagnes est située entre la France et l’Italie ?
বাংলা অনুবাদ: ফ্রান্স ও ইতালির মধ্যে কোন পর্বতমালা আছে?
✅ উত্তর (French): Les Alpes.
বাংলা উত্তর: আল্পস পর্বতমালা।
⸻
146. Qui était Molière ?
বাংলা অনুবাদ: মলিয়ের কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Un écrivain et dramaturge français.
বাংলা উত্তর: ফরাসি লেখক ও নাট্যকার।
⸻
147. Qui était Charles Baudelaire ?
বাংলা অনুবাদ: শার্ল বোদলেয়ার কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Un poète français.
বাংলা উত্তর: ফরাসি কবি।
⸻
148. Qui était George Sand ?
বাংলা অনুবাদ: জর্জ স্যান্ড কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Une écrivaine française.
বাংলা উত্তর: ফরাসি লেখিকা।
⸻
149. Qui était Simone de Beauvoir ?
বাংলা অনুবাদ: সিমোন দ্য বোভোয়ার কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Une écrivaine et philosophe française.
বাংলা উত্তর: ফরাসি লেখিকা ও দার্শনিক।
⸻
150. Qui était Albert Camus ?
বাংলা অনুবাদ: আলবেয়ার কামু কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Un écrivain et philosophe français.
বাংলা উত্তর: ফরাসি লেখক ও দার্শনিক।
⸻
151. Qui était Paul Cézanne ?
বাংলা অনুবাদ: পল সেজান কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Un peintre français.
বাংলা উত্তর: ফরাসি চিত্রশিল্পী।
⸻
152. Qui était Marc Chagall ?
বাংলা অনুবাদ: মার্ক শাগাল কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Un peintre français.
বাংলা উত্তর: ফরাসি চিত্রশিল্পী।
⸻
153. Qui était Joséphine Baker ?
বাংলা অনুবাদ: জোসেফিন বেকার কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Une chanteuse et artiste française.
বাংলা উত্তর: ফরাসি গায়িকা ও শিল্পী।
⸻
154. Qui était une chanteuse française célèbre ?
বাংলা অনুবাদ: একজন বিখ্যাত ফরাসি গায়িকা কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Édith Piaf.
বাংলা উত্তর: এডিথ পিয়াফ।
⸻
155. Qu’est-ce que le Louvre ?
বাংলা অনুবাদ: লুভর কী?
✅ উত্তর (French): Un musée à Paris.
বাংলা উত্তর: প্যারিসের একটি জাদুঘর।
⸻
156. Qui était Jean de La Fontaine ?
বাংলা অনুবাদ: জ্যাঁ দ্য লা ফঁতেন কে ছিলেন?
✅ উত্তর (French): Un écrivain français, auteur de fables.
বাংলা উত্তর: ফরাসি লেখক, উপকথার রচয়িতা।
⸻
157. Quel écrivain est français ?
বাংলা অনুবাদ: কোন লেখক ফরাসি?
✅ উত্তর (French): Victor Hugo (par exemple).
বাংলা উত্তর: ভিক্টর হুগো (উদাহরণ)।
⸻
158. Dans quelle ville se trouve la tour Eiffel ?
বাংলা অনুবাদ: আইফেল টাওয়ার কোন শহরে অবস্থিত?
✅ উত্তর (French): Paris.
বাংলা উত্তর: প্যারিস।
⸻
159. Quand célèbre-t-on Noël ?
বাংলা অনুবাদ: বড়দিন কবে পালন করা হয়?
✅ উত্তর (French): Le 25 décembre.
বাংলা উত্তর: ২৫ ডিসেম্বর।
Vivre dans la société française (১৬০–১৯০)
ফরাসি সমাজে বসবাস: কাজ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জরুরি পরিষেবা
160. Quel numéro d’urgence permet d’appeler le SAMU ?
বাংলা অনুবাদ: SAMU (জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা)-কে কল করার নম্বর কত?
✅ উত্তর (French): Le 15.
বাংলা উত্তর: ১৫।
⸻
161. Quel numéro d’urgence permet d’appeler les pompiers ?
বাংলা অনুবাদ: দমকল বাহিনীকে কল করার জরুরি নম্বর কত?
✅ উত্তর (French): Le 18.
বাংলা উত্তর: ১৮।
⸻
162. Après avoir obtenu le permis de conduire, que faut-il faire pour pouvoir conduire sa voiture ?
বাংলা অনুবাদ: ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পর গাড়ি চালাতে কী করতে হবে?
✅ উত্তর (French): Assurer son véhicule.
বাংলা উত্তর: গাড়ির বীমা (assurance) করতে হবে।
⸻
163. À quelles conditions un mariage est-il reconnu juridiquement ?
বাংলা অনুবাদ: কোন শর্তে বিয়ে আইনগতভাবে স্বীকৃত হয়?
✅ উত্তর (French): Il doit être célébré par un officier d’état civil à la mairie.
বাংলা উত্তর: পৌরসভায় রাষ্ট্রের কর্মকর্তা দ্বারা সম্পন্ন হতে হবে।
⸻
164. Quand faut-il déclarer son enfant au service d’état civil de la mairie ?
বাংলা অনুবাদ: শিশুর জন্ম কখন পৌরসভার সিভিল রেজিস্টারে ঘোষণা করতে হয়?
✅ উত্তর (French): Dans les 5 jours après la naissance.
বাংলা উত্তর: জন্মের ৫ দিনের মধ্যে।
⸻
165. Le travail non déclaré est :
বাংলা অনুবাদ: ঘোষণাবিহীন কাজ (কালো কাজ) কী?
✅ উত্তর (French): Interdit par la loi.
বাংলা উত্তর: আইন দ্বারা নিষিদ্ধ।
⸻
166. Que doit faire un employeur pour fixer un salaire ?
বাংলা অনুবাদ: বেতন নির্ধারণের জন্য একজন নিয়োগকর্তাকে কী করতে হবে?
✅ উত্তর (French): Respecter la loi et le salaire minimum.
বাংলা উত্তর: আইন ও ন্যূনতম বেতন মেনে চলতে হবে।
⸻
167. Qu’est-ce que le SMIC ?
বাংলা অনুবাদ: SMIC কী?
✅ উত্তর (French): Le salaire minimum légal en France.
বাংলা উত্তর: ফ্রান্সের আইনগত সর্বনিম্ন বেতন।
⸻
168. Quelle est la première démarche à réaliser pour chercher un emploi ?
বাংলা অনুবাদ: চাকরি খোঁজার প্রথম পদক্ষেপ কী?
✅ উত্তর (French): S’inscrire à France Travail.
বাংলা উত্তর: France Travail-এ নিবন্ধন করা।
⸻
169. Quelle est la durée légale du temps de travail par semaine ?
বাংলা অনুবাদ: সপ্তাহে আইনগত কাজের সময় কত?
✅ উত্তর (French): 35 heures.
বাংলা উত্তর: ৩৫ ঘণ্টা।
⸻
170. Qui est aidé par France Travail ?
বাংলা অনুবাদ: France Travail কাদের সাহায্য করে?
✅ উত্তর (French): Les personnes qui cherchent un emploi.
বাংলা উত্তর: যারা চাকরি খুঁজছেন।
171. Une personne étrangère en situation régulière peut créer son entreprise :
বাংলা অনুবাদ: বৈধ অবস্থায় থাকা বিদেশি ব্যক্তি কি ব্যবসা শুরু করতে পারেন?
✅ উত্তর (French): Oui, sous certaines conditions.
বাংলা উত্তর: হ্যাঁ, নির্দিষ্ট শর্তে।
⸻
172. Une femme peut-elle créer son entreprise ?
বাংলা অনুবাদ: একজন নারী কি নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন?
✅ উত্তর (French): Oui.
বাংলা উত্তর: হ্যাঁ।
⸻
173. À partir de quel âge un mineur peut-il travailler ?
বাংলা অনুবাদ: একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কত বছর থেকে কাজ করতে পারে?
✅ উত্তর (French): À partir de 16 ans (avec des exceptions).
বাংলা উত্তর: ১৬ বছর থেকে (কিছু ব্যতিক্রম আছে)।
⸻
174. Auprès de quel organisme faut-il demander le remboursement des frais de santé ?
বাংলা অনুবাদ: চিকিৎসা খরচ ফেরত পাওয়ার জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন করতে হয়?
✅ উত্তর (French): L’Assurance Maladie.
বাংলা উত্তর: স্বাস্থ্য বীমা সংস্থা (Assurance Maladie)।
⸻
175. Qu’est-ce qu’un numéro d’urgence ?
বাংলা অনুবাদ: জরুরি নম্বর কী?
✅ উত্তর (French): Un numéro pour appeler les secours en cas de danger.
বাংলা উত্তর: বিপদের সময় সাহায্যের জন্য কল করার নম্বর।
⸻
176. Concernant l’accès aux soins, quelle proposition est correcte ?
বাংলা অনুবাদ: চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়ে কোনটি সঠিক?
✅ উত্তর (French): Toute personne a droit aux soins.
বাংলা উত্তর: প্রত্যেক ব্যক্তির চিকিৎসার অধিকার আছে।
⸻
177. En cas de problème de santé non urgent, à qui faut-il s’adresser en premier ?
বাংলা অনুবাদ: জরুরি নয় এমন স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রথমে কার কাছে যেতে হবে?
✅ উত্তর (French): Au médecin traitant.
বাংলা উত্তর: নিজের নির্ধারিত চিকিৎসকের কাছে।
⸻
178. Quel est le rôle du médecin traitant ?
বাংলা অনুবাদ: পারিবারিক/নির্ধারিত চিকিৎসকের ভূমিকা কী?
✅ উত্তর (French): Suivre l’état de santé du patient et l’orienter.
বাংলা উত্তর: রোগীর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা ও প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো।
⸻
179. Dans quelles situations doit-on se rendre aux urgences de l’hôpital ?
বাংলা অনুবাদ: কখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হয়?
✅ উত্তর (French): En cas de situation grave ou urgente.
বাংলা উত্তর: গুরুতর বা জরুরি অবস্থায়।
⸻
180. Quel est l’objectif des vaccinations obligatoires ?
বাংলা অনুবাদ: বাধ্যতামূলক টিকার উদ্দেশ্য কী?
✅ উত্তর (French): Protéger la population contre certaines maladies.
বাংলা উত্তর: কিছু রোগ থেকে জনগণকে রক্ষা করা।
⸻
181. À quoi sert la carte Vitale ?
বাংলা অনুবাদ: Carte Vitale কী কাজে লাগে?
✅ উত্তর (French): À faciliter le remboursement des soins.
বাংলা উত্তর: চিকিৎসার খরচ ফেরত পাওয়া সহজ করতে।
⸻
182. À quoi sert une mutuelle santé ?
বাংলা অনুবাদ: স্বাস্থ্য মিউচুয়েল (Mutuelle) কী কাজে লাগে?
✅ উত্তর (French): À compléter les remboursements de l’Assurance Maladie.
বাংলা উত্তর: স্বাস্থ্য বীমার অতিরিক্ত খরচ পূরণ করতে।
⸻
183. Jusqu’à quel âge l’école est-elle obligatoire ?
বাংলা অনুবাদ: কত বছর বয়স পর্যন্ত স্কুলে যাওয়া বাধ্যতামূলক?
✅ উত্তর (French): Jusqu’à 16 ans.
বাংলা উত্তর: ১৬ বছর পর্যন্ত।
⸻
184. L’autorité parentale prévoit l’obligation :
বাংলা অনুবাদ: পিতামাতার কর্তৃত্বের মধ্যে কোন দায়িত্ব রয়েছে?
✅ উত্তর (French): De protéger et d’éduquer l’enfant.
বাংলা উত্তর: শিশুকে রক্ষা ও শিক্ষা দেওয়া।
⸻
185. Pour qui l’école est-elle obligatoire ?
বাংলা অনুবাদ: কার জন্য স্কুল বাধ্যতামূলক?
✅ উত্তর (French): Pour tous les enfants résidant en France de 3 à 16 ans.
বাংলা উত্তর: ফ্রান্সে বসবাসকারী ৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য।
⸻
186. Dans quels établissements scolaires vont les élèves après l’école élémentaire ?
বাংলা অনুবাদ: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর শিক্ষার্থীরা কোথায় যায়?
✅ উত্তর (French): Au collège puis au lycée.
বাংলা উত্তর: প্রথমে কলেজ (Collège), পরে লিসে (Lycée)।
⸻
187. Pour qui l’école est-elle obligatoire ?
বাংলা অনুবাদ: স্কুল কার জন্য বাধ্যতামূলক?
✅ উত্তর (French): Pour tous les enfants de 3 à 16 ans.
বাংলা উত্তর: ৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য।
⸻
188. Un enfant inscrit à l’école :
বাংলা অনুবাদ: স্কুলে ভর্তি একটি শিশু কী করবে?
✅ উত্তর (French): Doit être présent et respecter les règles de l’école.
বাংলা উত্তর: নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হবে এবং স্কুলের নিয়ম মানতে হবে।
⸻
189. Les enfants qui ne parlent pas français :
বাংলা অনুবাদ: যেসব শিশু ফরাসি বলতে পারে না তারা কী করবে?
✅ উত্তর (French): Peuvent bénéficier d’un accompagnement pour apprendre le français.
বাংলা উত্তর: ফরাসি শেখার জন্য বিশেষ সহায়তা পেতে পারে।
⸻
190. (Dernière question) — Révision générale :
বাংলা অনুবাদ: সাধারণ পুনরাবৃত্তি।
✅ উত্তর (French): Connaître ses droits, ses devoirs et respecter les valeurs de la République française.
বাংলা উত্তর: নিজের অধিকার ও কর্তব্য জানা এবং ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধকে সম্মান করা।
ধন্যবাদ ।
Thursday, 2 July 2026
ড. ইউনূস ৬৬৬ কোটি টাকা কর মাফ করেছেন !! সত্য জানি ।
টকশোতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে। যেমন টকশোতে ডা. আবদুর নুর তুষার বললেন, ড. ইউনূস ক্ষমতায় বসে নিজের ৬৬৬ কোটি টাকা কর মাফ করেছেন। সহআলোচক ও সঞ্চালকও যেহেতু পত্রিকা পড়ে না, তাই এই ডাহা মিথ্যাটা ধরতেও পারেননিও খন্ডনও করতে পারেননি।
প্রথম কথা হল আলোচিত ৬৬৬ কোটি টাকা কর গ্রামীণ ব্যাংকের নয়। যেটা তুষার সাহেব দাবি করেছেন।
মূল ঘটনা খুবই সিম্পল। ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময়ই আইনে বলা হয়, অন্যান্য ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মত গ্রামীণ ব্যাংককে আয়কর দিতে হবে না। কারণ বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গরিবদের নিয়ে কাজ করে বলে কর দিতে হয়। দাতব্য, অলাভজনক সংস্থাগুলোকেও দিতে হয় না।
২০১৩ সালে শেখ হাসিনা সরকার যখন নতুন করে গ্রামীণ ব্যাংক আইন করে তখনও, প্রতিষ্ঠানটিকে কর অব্যহতি দেওয়া হয়। তবে ২০২১ সালে হুট করে কর বসিয়ে দেয়। কেনো বসিয়েছে, তা সবাই বোঝে। এর আগেও ইউনূস ও হাসিনা ক্যাচাল লাগার পর, ২০১১ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের কর মাফের সুবিধা বন্ধ করে এনবিআর। তখন গ্রামীণ ব্যাংক ১০ কোটি পরিশোধও করে।
পরে দেখা যায়, যে আইনে গ্রামীণ ব্যাংক চলছে তাতে কর নেওয়া সম্ভব না। সে কারণেই ২০১৩ সালে নতুন আইন করা হয়। এই আইনে গ্রামীণ ব্যাংককে নির্দিষ্ট সময় পর পর সরকারের কাছে আবেদন করতে হতো, কর অব্যহতির জন্য। যাই হোক আগে নেওয়া ১০ কোটি ফেরত দেয়নি এনবিআর। কারণ হিসেবে তারা বলে, কাজটা আইন মোতাবেক না হলেও কর ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।
যে ৬৬৬ কোটি টাকা কর মাফের কথা বলা হচ্ছে, তা গ্রামীণ ব্যাংকের নয়। ২০২১ সালে কর আরোপের পর, গ্রামীণ ব্যাংক তা তিন বছর পরিশোধ করে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউনূস সরকারে আমলে আবার গ্রামীণ ব্যাংককে পাঁচ বছরের জন্য কর মুক্ত সুবিধা দেওায় হয় অতীতের মত।
তাহলে এই ৬৬৬ কোটি টাকা কোথা থেকে এলো? এটা হলো গ্রামীণ কল্যাণ নামে ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত আরেকটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের। এই প্রতিষ্ঠানের কাছে এনবিআর ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবি করলে, ড. ইউনূস ২০১৭ সালে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। তাদের আর্গুমেন্ট ছিল, বাংলাদেশে মাস্তুল, দারুস সুন্নাহ, বিদ্যানন্দসহ কোনো অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে কর দিতে হয় না, তাহলে গ্রামীণ কল্যাণকে কেনো দিতে হবে? কিন্ত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়, গ্রামীণ কল্যাণকে কর দিতে হবে।
কিন্তু এর পরেই ফাঁস হয়, আসল প্রতারনার কাহিনী। জুনিয়র বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামান পূর্ণাঙ্গ রায় লিখতে গিয়ে দেখেন, তার সিনিয়র খুরশীদ আলম সরকার বিচারপতি হওয়ার আগে এই মামলাতেই ডেপুটি অ্যাটর্নি হিসেবে ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনজীবী ছিলেন।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো আইনজীবী কোনো মামলায় যদি বাদি বা বিবাদীর পক্ষে একবার কোর্টের দাঁড়ান, তাহলে বিচারপতি হওয়ার পর তিনি ওই মামলা আর বিচার করতে পারবেন না। কিন্তু শুনানির ছয় মাস ধরে খুরশীদ আলম সরকার এই সত্য গোপন করেন। বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের একসময়কার নেতা খুরশীদ আওয়ামী লীগের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বির জামাতা। এই জালিয়াতি এই ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালে খুরশীদকে বিচারপতি পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
জুনিয়র বিচারপতি মনিরুজ্জামান জালিয়াতিটি ধরার পর, হাইকোর্ট ২০২৪ সালের অক্টোবরে রায় প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ এটাই নিয়ম। তারপর এই মামলা আবার পাঠানো হয়, প্রধান বিচারপতির কাছে। তিনি নতুন বেঞ্চ দেওয়ার পর, এই মামলা এখনও চলছে। কর দিতে হবে কী, হবে না, তা আদালত বুঝুক। (গ্রামীণের আইনজীবী তখনই বলেছিল, ইউনূস এখন ক্ষমতায় থাকায় মনে হবে, রায়টি রিকল হয়েছে। অথচ আকামটা করেছে বিচারপতি)।
ফলে ইউনূস তার কর মাফ করিয়েছেন, এই দাবিটি ডাহা মিথ্যা। আমি যা লিখলাম, একটাও গোপন ব্রেকিং কোনো তথ্য না। সবগুলো দেশের পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কিন্তু টকশোতে যে বিজ্ঞ লোকেরা যান, এরা ফেসবুক ছাড়া কিছুই পড়েন না। টকশোতে মন মত মিথ্যা বলেন। কেউ ধরেও না। উন্নত গণতেন্ত্রর দেশ হলে মানহানীর মামলায় পড়ে জাঙ্গিয়া বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হতো।
Thursday, 7 May 2026
তারেক রহমানকে চোখ বেঁধে ঝুলিয়ে রেখে নির্যাতন
ব্রেকিং নিউজ।
-------------
মানবজমিন এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। হুবহু তুলে ধরা হয়েছে।
তারেক রহমান। বিএনপি’র চেয়ারম্যান। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বর্তমানে রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিলেতে ১৭ বছর কেমন ছিলেন? কীভাবে ছিলেন? কেনইবা তাকে বিলেতে যেতে হলো- তা নিয়ে অন্তহীন কৌতূহল। কখন, কীভাবে ও কারা তাকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল তা দীর্ঘ সময় ধরে অজানাই ছিল।
সামপ্রতিক এক অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১/১১-এর সময় ২০০৭ সনের ৭ই মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে। কারা গ্রেপ্তার করেছিলেন, কীভাবে করেছিলেন তার একটি বয়ান রয়েছে প্রাপ্ত অনুসন্ধানে।
এতে জানা যায়, ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে কর্নেল (অব.) ইমরান মইনুল রোডের বাসভবন থেকে তাকে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই গ্রেপ্তার করে ডিজিএফআই-এর জয়েন্ট
ইন্টারোগেশন সেলে নিয়ে যান। জেনারেল মইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিনের উপস্থিতিতে আর্মি হেড কোয়ার্টারে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মেজর ইমরানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, একজন রানার ও একজন ড্রাইভার নিয়ে তিনি মইনুল হোসেন রোডস্থ খালেদা জিয়ার বাসভবনে উপস্থিত হন। এ সময় বাসভবনের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া উপস্থিতি ছিল। মেজর ইমরান বাসভবনের মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করে বাড়ির ভেতরে নিজ গাড়িতেই অবস্থান নেন।
আনুমানিক তিন ঘণ্টা পর তারেক রহমান বাসভবন থেকে বের হলে মেজর ইমরান তাকে নিয়ে গাড়িতে উঠেন। নিয়ে যান নির্ধারিত গন্তব্যে। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর মেজর ইমরানের সঙ্গে থাকা রানার তারেক রহমানের মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন। এ সময় তারেক রহমান জানালা খোলার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মেজর ইমরান তা নাকচ করে দেন।
এরপর সিটিআইবি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তারেক রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। সিটিআইবি’র তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্নেল জিএস লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার নির্দেশেই অন্য কর্মকর্তারা বিশ্রী ভাষায় তারেক রহমানকে গালিগালাজ করেন। জেআইসিতেই তারেক রহমানকে তিন-চারদিন রাখা হয়। সেখানে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চোখ বেঁধে রাখা হয়। হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলিয়ে রেখে নির্যাতন করা হয়। দীর্ঘসময় একটানা তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। যা ছিল অমানবিক, বর্বরোচিত।
তারেক রহমানকে দুইবার জেআইসিতে আনা হয়। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে টানা কয়েকদিন জেআইসিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুর রব খান তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারের নির্দেশে তারেক রহমানের কাছ থেকে একটি জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। যে জবানবন্দিতে তারেক রহমান তার ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান বলে দাবি করা হয়।
এই সময় কারা কারা উপস্থিত ছিলেন সেই তথ্যও বেরিয়ে এসেছে সামপ্রতিক এক অনুসন্ধানে। চারজন পদস্থ সেনা কর্মকর্তা সারাক্ষণ উপস্থিত থেকে এই জবানবন্দি আদায় করেন। এর মধ্যে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জাহিদ হোসেন ও মেজর (অব.) মনির। নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানকে অনেকটা পঙ্গু করে ফেলা হয়।
স্বাভাবিকভাবেও তিনি হাঁটাচলা করতে পারতেন না। তার ওপর নির্যাতনের একটি কাহিনী অনুসন্ধানী রিপোর্টে সন্নিবেশিত রয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এ সম্পর্কে একটি জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে তারেক রহমানের নানি মারা যান। এ সময় তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। সে সময় জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রত্যক্ষ করেন, তারেক রহমান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। তখন তিনি জানার চেষ্টা করেন- কীভাবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
পারিবারিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পারেন ডিজিএফআই-এর অফিসাররা তার ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। এতে তিনি বিচলিত হয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের কাছে জানতে চান- কেন এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
জেনারেল মাসুদ তার জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে তার অনেক দূরত্ব তৈরি হয়। নির্যাতনের সময় তারেক রহমানকে কীভাবে রাখা হয়েছিল তার একটা বর্ণনা পাওয়া গেছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, জেনারেল (অব.) এটিএম আমিনের নির্দেশে এই নির্যাতন চালানো হয়। তার নির্দেশে তারেক রহমানকে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
ওয়ারেন্ট অফিসার ফজলু জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ব্রিগেডিয়ার আমিন তাদেরকে বলেছেন- পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঝুলন্তই থাকবে। এক পর্যায়ে সিলিং থেকে তিনি পড়ে যান এবং কোমরে প্রচণ্ড আঘাত পান। বছরের পর বছর তারেক রহমানকে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। এসব ঘটনায় সাত পদস্থ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে অনুসন্ধানে।
এই অফিসাররা হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন (তৎকালীন সিটিআইবি’র পরিচালক), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী (তৎকালীন সিটিআইবি’র পরিচালক), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্নেল জিএস সিটিআইবি), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছের চৌধুরী (তৎকালীন জেএসও-এক), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান (তৎকালীন জেআইসি অধিনায়ক সিটিআইবি), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. ফরিদ উদ্দিন (তৎকালীন জেএসও-১) এবং মেজর (অব.) মনির (তৎকালীন জেএসও-২, সিটিআইবি)।
জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেছেন, তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। জেনারেল মইন তাকে অন্যত্র পোস্টিং দিয়েছিলেন। পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারেক রহমান তার নিকটাত্মীয় বলে জেনারেল মইন তাকে দূরে রেখেছিলেন- এটাও দাবি করেছেন জেনারেল মাসুদ। তারেক রহমানের সঙ্গে জেনারেল মাসুদের কেন দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তারও বর্ণনা দিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদে। বলেছেন, অপারেশন ক্লিন হার্টকে কেন্দ্র করেই এই দূরত্ব তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর তারেক রহমানকে বলপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। এর আগে একটি অঙ্গীকারপত্র সই করিয়ে নেয়া হয়।
Sunday, 26 April 2026
পিনাকী দা’ নয়টি প্রশ্ন বা পয়েন্টের মাধ্যমে যে আলোচনাটি সামনে নিয়ে এসেছেন, তার কেন্দ্রীয় নির্যাস হলো: বাংলাদেশে বর্তমানে এমন কোনো রাজনৈতিক শক্তির অস্তিত্ব নেই, যারা একইসাথে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা, মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিরোধ, দরিদ্রবান্ধব অর্থনীতি, মুসলিম সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, এলিট-বিরোধী রাজনীতি এবং রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার—এই সবগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রকল্পে রূপ দিতে সক্ষম।
পিনাকী দা’ এই আলাপের মাধ্যমে আসলে বাংলাদেশের বহু মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা রাজনৈতিক ক্ষুধার ভাষাকেই ফুটিয়ে তুলেছেন। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। দাদার এই পয়েন্টগুলো গভীর আলোচনার দাবি রাখে, কারণ এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে ইনসাফভিত্তিক সার্বভৌম বাংলাদেশ এবং এক নতুন রাজনৈতিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তা।
পিনাকী দা’র পয়েন্টগুলোকে যদি আমরা বাংলাদেশের চলমান political landscape এ দেখি:
১. ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রশ্নে রাজনৈতিক অবস্থান: এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভাজন অত্যন্ত স্পষ্ট। আওয়ামী লীগসহ কথিত বামপন্থী কিছু দল আছে যাদের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বিরাট অংশ ‘ভারতীয় এসেট’ (asset) হিসেবে পরিচিত। তারেক রহমানের বিএনপি’র অবস্থাও প্রায় একই রকম; যদিও তাদের তৃণমূলের বড় একটি অংশ চরমভাবে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী, কিন্তু দলীয় অবস্থান এবং আওয়ামী অনুপ্রবেশের কারণে এই কণ্ঠস্বর এতটাই ক্ষীণ যে তা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। ভারত প্রশ্নে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব ও তৃণমূলের অবস্থান এক হলেও অভিযোগ আছে যে, সরাসরি আলোচনায় নেতৃত্ব তৃণমূলের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ হয়েছে। এনসিপি’র তৃণমূল ও নেতৃত্বের একটি অংশও ভারত প্রশ্নে জামায়াতের সমান্তরাল, তবে তাদের ভেতরের বাম ঘরানার লোকদের নিয়ে দলের ভেতর-বাইরে এক ধরনের অবিশ্বাস রয়েছে। জামায়াত ও এনসিপি’র শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ কেউ ভারতের কূটনৈতিক শক্তিকে ‘ওভার এস্টিমেট’ করেন এবং সরাসরি আলোচনায় একটি অসম (asymmetric) অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।
২. মার্কিন আগ্রাসনবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান: হ্যাঁ, এখানে সব দলের অবস্থান প্রায় অভিন্ন। দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান যাই হোক না কেন, প্রকাশ্যে মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার হিম্মত কারও নেই। বাম দলগুলোর অবস্থান মূলত লোকদেখানো; তারা স্থানীয় দূতাবাস থেকে মিছিল করার অনুমতি নিয়ে এসে রাস্তায় নামে—এটি স্রেফ ভাওতাবাজি।
৩. দরিদ্রবান্ধব রাষ্ট্র ও লুটেরা অর্থনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো: কার্যত এখানেও সবার অবস্থা প্রায় এক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াতের শক্তিশালী নৈতিক অবস্থান অস্বীকার করার উপায় নেই, কিন্তু পুঁজিবাদী ও এলিট শ্রেণীর বিরুদ্ধে তাদের কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক অবস্থান নেই, যা তাদের নিজস্ব নৈতিক অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক।
৪. তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইন্ডাস্ট্রি’: এটি বর্তমানে গ্লোবাল পারসপেক্টিভে ‘হলোকাস্ট ইন্ডাস্ট্রিজে’র মতো অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের দলীয় অবস্থানের সুরাহা তারা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে কখনোই করতে পারেনি, যদিও সেই সুযোগ এসেছিল। পক্ষান্তরে, ভারতীয় মদদপুষ্ট মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা জামায়াতকে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা অভিযোগে ক্রমাগত ব্যাকফুটে রাখার নীতি চর্চা করছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মিথ ও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগ ও ভারত নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য এই ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করেছে, আর তারেক রহমানের বিএনপি এখন সেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে। যদিও ‘তুমি কে আমি—রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগান দিয়ে ২৪-এর জুলাই বিপ্লব হয়েছিল, কিন্তু কায়েমি স্বার্থে বিএনপি এখন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইন্ডাস্ট্রি’ ব্যবহার করে জুলাই বিপ্লব ও জামায়াতকে ব্যাকফুটে রাখতে পুরোপুরি ‘আওয়ামী প্লেবুক’ অনুসরণ করছে।
৫. মুসলিম কালচারের পক্ষে সরাসরি অবস্থান: আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দ্বৈরথে হিন্দু এবং সংখ্যালঘু ভোটগুলো বাংলাদেশে ‘কিং মেকার’ হিসেবে কাজ করে। উল্লেখ্য যে, বর্ণপ্রথা বিবেচনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই হিন্দুরা ‘নিচু বর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু ভারত আধিপত্য বিস্তারে তাদের ‘প্লেয়িং কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে, যার পূর্ণ ফায়দা নেয় আওয়ামী লীগ। ভারতীয় এসেট হিসেবে পরিচিত মিডিয়া ও বুদ্ধিবৃত্তিক গোষ্ঠী পশ্চিমা সমর্থনে বাংলাদেশের মুসলিম পরিচয়কে ‘ডিমোরালাইজ’ করার হীন কাজ করে যাচ্ছে।
৬. প্রো-ইন্ডিয়ান এলিট এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো: এটি জামায়াত ও এনসিপি’র চরম রাজনৈতিক দৈন্যতা। ‘কথিত প্রগতিশীল’ হওয়ার এক হীনম্মন্য প্রচেষ্টা এদের মধ্যে দৃশ্যমান। আওয়ামী লীগ ও তারেক রহমানের বিএনপি বরাবরই এই এলিটদের স্বার্থের সমান্তরাল অথবা তাদের দ্বারাই পরিচালিত। এনসিপি’র দুই-একজন বাদে সবারই এই এলিট ক্লাবে ঢোকার উগ্র বাসনা আছে। জামায়াত জানে এই এলিটরা তাদের জাত শত্রু, তবুও তাদের দাওয়াতে হাজির হতে জামায়াত নেতৃত্ব এক ধরনের পুলক অনুভব করে। ফলে মুক্তিযুদ্ধ ও এলিট এস্টাবলিশমেন্ট মোকাবিলায় জামায়াত বরাবরই ব্যাকফুটে।
৭. আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার অঙ্গীকার: এই অঙ্গীকার সবার খাতায় থাকলেও বাস্তবতা হলো ‘কিতাব আলীর গরু খাতায় থাকে, গোয়ালে নয়’। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াত বা এনসিপি একক ক্ষমতায় না যাওয়া পর্যন্ত তাদের নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন, তবে গত নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে জামায়াত যেভাবে সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছিল, সেই ক্রেডিট তারা পেতেই পারে।
৮. নাগরিক মর্যাদা ও বিশ্বমানের শিক্ষা: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অবস্থা এখানেও ‘কিতাব আলীর গরু’র মতোই। এনসিপি নতুন দল হিসেবে এখনো মন্তব্যের অবস্থানে নেই। তবে জামায়াত তাদের সাংগঠনিক কর্মপন্থায় গত কয়েক দশক ধরে এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করে আসছে।
৯. রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন: জামায়াত ও এনসিপি এটি সার্বিকভাবে চাইলেও আওয়ামী লীগ ও তারেক রহমানের বিএনপি এর ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।
ইনসাফভিত্তিক এবং এক নতুন রাজনৈতিক চুক্তির আলোকে যদি সার্বভৌম বাংলাদেশকে নির্মাণ করি তাহলে সেটা কেমন হতে পারে:
১. নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হবে নাগরিক মর্যাদা ও ইনসাফের। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ—ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ নির্বিশেষে—সমান মর্যাদার নাগরিক। অর্থাৎ, রাষ্ট্র জনগণের, কোনো শাসকের নয়।
২. সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি, কারো দালালি নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে স্পষ্টভাবে স্বাধীন ও দেশের স্বার্থনির্ভর। কোনো আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক শক্তির আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনসহ নিপীড়িত জনগণের পক্ষে অবস্থান এবং ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন—সবার সাথে সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু সেটা সমতার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, বন্ধুত্ব সবার সাথে, দাসত্ব কারো সাথে নয়।
৩. অর্থনীতিতে লুটপাটের অবসান, ন্যায্য বণ্টন। বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামো একটি এলিট-নির্ভর লুটপাট ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে—এটি ভাঙতে হবে। মূল লক্ষ্য হলো: দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের আয় বৃদ্ধি, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি। তাই যা করতে হবে সেটা হলো: ব্যাংক লুট ও খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ, সামাজিক নিরাপত্তা (পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা) সম্প্রসারণ। অর্থাৎ, অর্থনীতি মানুষের জন্য, কোনো এলিট গোষ্ঠীর জন্য নয়।
৪. সামাজিক ন্যায় ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন: রাষ্ট্র শুধু আইন রক্ষক না—মানুষের কল্যাণের দায়িত্বও বহন করবে। শিক্ষা হবে দক্ষতা, বিজ্ঞান ও নৈতিকতার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
৫. সাংস্কৃতিক অবস্থান হবে আত্মপরিচয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বাংলাদেশ একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ—এটি অস্বীকার নয়, বাস্তবতা। কিন্তু রাষ্ট্র হবে সকল নাগরিকের। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও শক্তিশালী পরিচয় থাকবে কিন্তু আধিপত্যবাদ নয়। অর্থাৎ, সংস্কৃতি আমাদের শক্তি, বিভাজনের হাতিয়ার নয়।
৬. গণতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কার: বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ—প্রতিষ্ঠানের পতন। তাই যা করতে হবে তা হলো—স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, সংসদের কার্যকর জবাবদিহিতা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের depoliticization. অর্থাৎ, ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে।
৭. এলিট আধিপত্যের অবসান: একটি ছোট এলিট গোষ্ঠী রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে—এটা ভাঙতে হবে। রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা, মিডিয়ার মালিকানা বৈচিত্র্য এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ (local government শক্তিশালী করা) করতে হবে। অর্থাৎ, ক্ষমতা তার উৎসে—জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
৮. জাতীয় মর্যাদা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: বাংলাদেশী নাগরিককে বিশ্বমানের করে তুলতে হবে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন (skills, প্রযুক্তি) এবং প্রবাসীদের সাথে জ্ঞান ও বিনিয়োগ সংযোগ স্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ, মানুষই দেশের আসল শক্তি।
৯. রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন—Reform, not chaos: ‘বিপ্লব’ মানে বিশৃঙ্খলা না—গভীর, পরিকল্পিত সংস্কার। সংবিধান পুনর্মূল্যায়ন করে checks & balances শক্তিশালী করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে আইনগত সুরক্ষা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ, পরিবর্তন হবে, কিন্তু দায়িত্বশীলভাবে।
সবশেষে, বাংলাদেশের সামনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—আমরা কেমন রাষ্ট্র চাই? এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি প্রাধান্য পায়, নাকি এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে নাগরিকের মর্যাদা, ইনসাফ ও সার্বভৌমত্ব কেন্দ্রস্থলে থাকে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলা।
আজ সময় এসেছে একটি নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরির—যেখানে দেশপ্রেম মানে অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানো; যেখানে সার্বভৌমত্ব মানে কেবল সীমানা রক্ষা নয়, বরং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা; এবং যেখানে রাষ্ট্রের শক্তি পরিমাপ করা হবে তার নাগরিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে।
এই নতুন পথ সহজ নয়। কিন্তু ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনই কঠিন ছিল। প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি সেই সাহস দেখাতে প্রস্তুত?
মইনুল হক
ডেট্রয়েট, মিশিগান।
Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য
Saturday, 18 April 2026
পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ
ইন্ডিয়ান বীর্য শুয়োরের শুক্রাণু দিয়া যাদের জন্ম হয়েছে তাদেরকে পড়ার অনুরোধ রইল। যাহারা দিনরাত ২৪ ঘন্টা শুধু রাজাকার স্বপ্নে দেখেন, মনে করেন পাঁচ লাখ মা-বোনেরা রাজাকার দ্বারা দর্শনের শিকার তারাও পরবেন।
ব্রিটিশ ২০০ বছর শাসন আমলে পূর্ব বাংলায় মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল "ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়। সেটিরও বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কলকাতার প্রভাবশালী মহল।
ব্রিটিশরা প্রায় ২০০ বছরে পূর্ব বাংলায় কোনো উন্নয়ন করেনি। যদি কিছু করার উদ্যোগও নেওয়া হতো, সেগুলোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত কলকাতার দাদা-বাবুরা। কলকাতাকে তারা ভারতের রাজধানী বানিয়েছিল।
বাংলাদেশের ইতিহাসে আমাদের শেখানো হয় যে পাকিস্তান ২৪ বছর আমাদের শোষণ করেছে। অথচ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন গুলো পাকিস্তান আমলেই হয়েছিল।
পাকিস্তান আমলে মোট ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
◾রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৩)
◾চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬)
◾জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০)
◾জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮)
◾পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ কৃষি বিঃ) (১৯৬১)
▶ পাকিস্তান আমলে মোট ৪ টি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
◾বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১৯৬২ সাল
◾রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ১৯৬৪ সাল
◾চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ১৯৬৮ সাল
◾খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১৯৬৯ সাল
উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে মোট ৫ টা, যার মধ্যে ৪ টাই পাকিস্তান আমলের। আর পরবর্তী ৫০ বছরে হয়েছে ১ টা।
▶পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার মোট ৮৭ টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে৷ যার মধ্যে রয়েছে
◾নটর ডেম কলেজ, ঢাকা (১৯৪৯)
◾সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ (১৯৪৯)
◾বাঙলা কলেজ (১৯৬২)
◾ভিকারুননিসা নুন স্কুল ও কলেজ
উল্লেখ্য বর্তমানে ঢাকা শহরে মোট ৩৯ টি কলেজ আছে, যার ভেতর ৮ টি তৈরি হয়েছে ইংরেজ আমলে, ২১ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান আমলে, আর মাত্র ১০ টি তৈরি হয়েছে স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে।
▶ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৮ টা সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে।
◾চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৫৭)
◾রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (১৯৫৮)
◾ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
◾সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
◾স্যার সলিমুলস্নাহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬৩)
◾স্নাতকোত্তর চিকিৎসা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বর্তমান নামঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) (১৯৬৬)
◾শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (১৯৬৮)
◾রংপুর মেডিকেল কলেজ (১৯৭০)
উল্লেখ্য ইংরেজ শাসন আমলের ২০০ বছরে মোট ১টি মেডিকেল তৈরি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ৷
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৯৪৭ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান আমলে এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।
▶পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ১৭ টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৯টি সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তান সরকার ২৪ বছরে করেছে ১৭ টি। আর বাংলাদেশ সরকার ৫০ বছরে করেছে ৩২টি৷
▶ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৪ টি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করে।
◾ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ(১৯৫৮)
◾মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ(১৯৬৩)
◾ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ( ১৯৬৩)
◾রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ (১৯৬৫)
উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ আছে ১২ টা এর ভেতর ৪ টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে।
▶ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমী, নৌ অফিসার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার গড়ে তোলার জন্য ১৯৬২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনী কর্তিক এই একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর নাম "বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (BMA)"
▶ এছাড়াও প্রতিষ্ঠা হয়েছে....
◾ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট’ (১৯৫০) যার বর্তমান নাম "বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)"।
◾ চট্টগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৯৬২ সালে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
◾এরকম আরো অনেক বিশেষায়িত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে। এছাড়া দেশ ব্যাপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কয়েক হাজার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাই স্কুল।
★অনেকেই অভিযোগ করেন পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে পুর্ব পাকিস্তান পিছিয়ে ছিলো, কারন পূর্ব পাকিস্তানে কম উন্নয়ন করা হয়েছে। লক্ষ করুন, ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মাত্র ১ টা, বিপরিতে পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১৮ টা। অর্থাৎ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির আগ থেকেই আমরা উচ্চ শিক্ষার দিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে ১৮ গুন পিছিয়ে ছিলাম আমরা!
১৯৪৭ সালের পরবর্তী ১০ বছরে পুর্ব পাকিস্তানে যদি ১০ টা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হতো আর পশ্চিম পাকিস্তানে যদি একটাও তৈরি করা না হতো, তবুও তো আমরা পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়েই থাকতাম। আসলে ব্রিটিশ আমল থেকেই আমরা পাকিস্তানের তুলনায় এত বেশি পিছিয়ে ছিলাম, যার ফলে এই অঞ্চল কখনোই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে উন্নয়নের দৌড়ে খাপ খাওয়াতে পারেনি।
★ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে এই অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার ছিলো মাত্র ১২%। ১৯৬১ সালের আদমশুমারিতে স্বাক্ষরতার হার দাড়ায় ২৪.৭%। অর্থাৎ মাত্র ১৩ বছরে এই অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার দ্বীগুন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের আদমশুমারী না হওয়ায় পাকিস্তান আমলের প্রকৃত স্বাক্ষরতার হার জানা যায়নি।
▶শিল্প প্রতিষ্ঠান, মিল ও কল-কারখানা
◾ বাংলাদেশ সচিবালয় ( ১৯৭১ সালের পর এ সচিবালয়ের পুরাতন ৬ নং ভবনটি ভেঙ্গে ২০ তলা ভবন তৈরী করা হয়)
◾ পাকিস্তানের সেকেন্ড ক্যাপিটাল হিসাবে শেরেবাংলা নগর কে পরিকল্পিতভাবে তৈরী
◾ সংসদ ভবন
◾ বাইতুল মোকাররম মসজিদ
◾ বাংলা একাডেমি
◾ ইসলামিক একাডেমি (বর্তমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
◾ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, সিলেট বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
◾ কমলাপুর রেলস্টেশন (পূর্বতন রেলস্টেশন টি ছিলো গুলিস্তান-ফুলবারিয়ায়)
◾ মীরপুর চিড়িয়াখানা
◾ কুর্মিটোলা বিমানবন্দর (ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর)
◾ যমুনা সেতু (১৯৬৬ সনে সংসদে অনুমোদিত)
◾ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ( ১৯৬১ সালে এর পরিকল্পনা গ্রহন করে তখনকার পূর্বপাকিস্তানের অনেক কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষনে প্রেরণ করা হয়, যারা এখন ইরান ইরাকে কর্মরত। ১৯৭২ সালে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হয়)
◾ শাহজীবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
◾ আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
◾ কর্ণফুলী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
◾ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
◾ গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প
◾ রামপুরা টেলিভিশন ভবন
◾ ঢাকা স্টেডিয়াম
◾ ঢাকা যাদুঘর (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক ভবন)
◾ WAPDA এবং এর অধিনে শতশত বাধ ও সেচ প্রকল্প
◾ ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলশান, বনানী প্রভৃতি আবাসিক এলাকা গঠন ও নগরায়ন
◾ শত শত পাট ও কাপড়ের কল যা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।
◾ শিল্পায়নের জন্য গড়ে তোলা হয় East Pakistan Industrial Development Corporation (EPIDC)
◾ গাজীপুর সমরাস্ত্র কারখান
◾ গাজীপুর মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি
◾ মংলা সামুদ্রিক বন্দর ( চট্টগ্রাম বন্দরটি মুঘল আমলে তৈরী)
◾ঢাকার নিউমার্কেট সহ বিভাগীয় শহরে একটি করে নিউমার্কেট তৈরী
◾তেজগাঁও শিল্প এলাকা
◾হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প এলাকা
◾খালিশপুর শিল্প এলাকা।
◾আদমজী জুট মিলস (নারায়ণগঞ্জ): ১৯৫১
◾খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস: ১৯৫৯
◾চিটাগং ড্রাই ডক: ১৯৬০
◾ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৬৮
◾ঢাকা জুট মিলস লিমিটেড: ১৯৫০ এর দশক
◾ আমিন জুট মিলস লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৫৩
◾ খুলনা জুট মিলস: ১৯৫০ এর দশক
◾ ইস্পাহানী কটন মিলস: পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়।
◾ কাপ্তাই জল বিদ্যুত - ১৯৬২
◾ চন্দ্রঘোনা পেপার মিল - ১৯৫৩
◾ কর্ণফূলী রেয়ন মিল – ১৯৫৩
◾ প্রগতি ইন্ড্রাস্ট্রিজ – ১৯৫৩
◾বাংলাদেশে একটিমাত্র তেল শোধনাগার সেটিও পাকিস্তান করে দিয়েছে।
১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তান ঘাস খেয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেডসহ একটি পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে।
তাদের বিমান বাহিনীর আকাশ ছোঁয়া সাফল্যের কারণে দেশটি সৌদি আরবের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান বাহিনীর মধ্যে পাকিস্তান বিমান বাহিনী ১৪৩৪ টি যুদ্ধবিমান ও রনকৌশল নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে। যার মেরুদণ্ড হিসেবে আছে আমেরিকান এফ-১৬, জেএফ-১৭ থান্ডার এবং আধুনিক চীনা জে-১০সি।
তাদের কাছে আছে শাহীন-৩ (২,৭৫০ কিমি পর্যন্ত পাল্লার), গৌরী এবং গজনভীর মতো একাধিক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তাদের কাছে বাবর ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা পারমাণবিক এবং প্রচলিত উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং যা স্থল ও সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়।
তাদের সেনাবাহিনীর কাছে ২,৬০০টিরও বেশি প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্কের একটি বহর রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উন্নত খালিদ, ভিটি-৪ এবং টি-৮০ইউডি ট্যাঙ্ক।
দেশটি তার প্রতিরক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে গিয়েছে। চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগে নিজস্ব জঙ্গি বিমান বানিয়েছে। তাদের কাছে বুরাকের মতো উন্নত ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে এবং উইং লুং ড্রোনের জন্য চীনের সাথে সহযোগিতা করে।
তাদের কাছে আটটি সাবমেরিন রয়েছে, উপকূলরেখা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য নৌবহরে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট এবং দ্রুতগামী মিসাইল বোট রয়েছে।
এছাড়াও তাদের কাছে ৩,০০০টিরও বেশি কামান (টানা ও স্ব-চালিত উভয়ই) এবং একাধিক রকেট লঞ্চার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এমনকি পাকিস্তানের ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি পেয়েছে। শিক্ষার মানেও পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশটি বড় খেল দেখিয়েছে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে। তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি তে নিজেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে কূটনীতি ও সামরিক পার্সপেক্টিভে। যারা আমেরিকা এবং ইরানকে ও এক টেবিলে বসাতে পারছে।
আর ১৯৭১ সালে বিজয়ী বাংলাদেশের যুদ্ধ করে দাসত্বের সার্টিফিকেট নিয়েছে। তারা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দিয়ে পৃথিবীর প্রথম চেতনা বোমা বানিয়েছে। যা চীনের হাইড্রোজেন বোমার চেয়েও ভয়ংকর।
এই পর্যন্ত সংসদের মতো একটা স্থানে চেতনা বড় নাকি আধুনিকতা বড়! এই নিয়ে কয়েকশ অধিবেশন চলছে।আফসোস🙂
সংগৃহীত
#OMG #BreakingNews
Thursday, 16 April 2026
স্পিকার শিরিন শারমিনের 'সততা ও নির্লোভ' জীবন নানা গল্প
কয়েকদিন ধরে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিনের 'সততা ও নির্লোভ' জীবন নানা গল্প শুনছি। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ, তথা স্পিকার হওয়ার 'গল্প' তাহলে আজ বলি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও, শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ এবং রংপুর-৬ আসন থেকে ভোটে 'জেতেন'। তবে শিরিন শারমিন ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না। তিনি ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হয়ে প্রথমে প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে হয়ে যান স্পিকার।
২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদ শুরু হয়। এর পাঁচদিন আগে ২৪ জানুয়ারি নবম সংসদ বিলুপ্ত করা হয়। শিরিন শারমিন এর মাধ্যমে সাবেক এমপি হয়ে যান।
শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেন, শিরিন শারমিনকেই আবার স্পিকার বানাবেন। কিন্তু স্পিকার হতে গেলো তো এমপি হতেই হবে। এটাই সংবিধান। কিন্তু তিনি তো নির্বাচনই করেননি এমপি হবেন কী করে! আর সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হচ্ছে, সংসদের প্রথম দিনেই স্পিকার নির্বাচন হবে। তাই শিরিন শারমিনকে ২৯ জানুয়ারির আগেই এমপি হতেই হবে। যা অসম্ভব ছিল না। আর সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি হতে হলে আরও ৬০-৬৫ দিন অপেক্ষা করতে হতো। তাহলে আর স্পিকার হওয়া সম্ভব না।
কিন্তু শেখ হাসিনা 'যথারীতি' একটা নজিরবিহীন পথ বের করলেন। তিনি রংপুর-৬ আসন ছেড়ে দিলেন। আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হতে হবে। এবার যেমন তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হয়েছে গত ৯ তারিখ। গত ২০ ফেব্রুয়ারির তপশিল ঘোষণার ৪৪ দিন পর এই নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত তপশিল ঘোষণা থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪১ দিন সময় দেওয়া হয়।
কিন্তু 'ম্যাজিক' হয় শিরিন শারিমনের জন্য। ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি রংপুর-৬ আসনের উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হয়। (কমেন্টে লিঙ্ক) বলা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। ২৭ জানুয়ারির মধ্যে মনোয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মনোয়নপত্র দাখিলের জন্য সাধারণত ১২ থেকে ২১দিন সময় দেওয়ায় হয়। এবার যেমন ১৮ দিন সময় ছিল। কিন্তু শিরিন শারমিনকে এমপি বানাতে সময় দেওয়া হয় ৭ দিন।
তারপর রংপুর ডিসি অফিস এবং পীরগঞ্জ ইউএনও অফিসে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে পাহারা বসানো হয়, যাতে আর কেউ মনোনয়নপত্র কিনতে না পারে। নুর আলম নামে জাতীয় পার্টির এক নেতা গিয়েছিলেন মনোনয়নপত্র কিনতে। উনাকে ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত শিরিন শারমিন ছাড়া কেউ মনোনয়নপত্র কিনতে পারেননি। ২৮ জানুয়ারি, মানে মাত্র একদিন সময় ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের জন্য (হা হা হা হা)। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। সাধারণত বাছাইয়ে চার-পাঁচদিন সময় দেওয়া হয়।
কাউকে মনোনয়ন ফরম তুলতে দেওয়া না দেওয়ার কারণ হলো; পাগল ছাগল যাই হোক আরেকজন প্রার্থীও যদি থাকে, তাহলে ২০ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। তখন আর শিরিন শারমিন স্পিকার হতে পারবেন না। তিনি একমাত্র প্রার্থী হওয়ায়, ২৮ জানুয়ারি বাছাইয়ের দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেন। নিয়ম হচ্ছে, ফল ঘোষণার তিনদিনের মধ্যে গেজেট হবে। কিন্তু তড়িৎ গতিতে সেইদিন বিকেলেই শিরিন শারমিনকে এমপি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন! ফল ঘোষণার তিনদিনের মধ্যে শপথ হয়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলা এমপি হিসেবে শপথ নিয়ে দুপুরে স্পিকার পদে পুনঃনির্বাচিত হয়ে যান শিরিন শারমিন।
আর আজকাল উনারই সততার গল্প শুনতে শুনতে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি।
ম্যুরাল অব দ্যা স্টোরি হচ্ছে, অযোগ্য কাউকে খাতির করে নিয়মকানুন ভেঙে যে পদেই বসান না কেনো, প্রয়োজনের সময় কাজে আসবে না। প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করুন, এতে আপাতত ক্ষমতা কমলেও একদিন নিজেই এর সুফল পাবেনই।
১০ বছর ধরে তিলে তিলে অর্থ জমা দিয়ে পদ্মা লাইফ ইন্সুরেন্সে একটা ডিপিএস আর একটা পেনশন স্কিম খুলেছিলাম।
সম্ভবত ৯ম বছরে এসে এই ইন্সুরেন্স কোম্পানি এস আলমের কবলে পড়ে। সে বোর্ড অফ ডিরেক্টরস দখল করে পদ্মা লাইফের প্রায় ৪০০-৪৫০ কোটি টাকার ফান্ড লুটপাট করে বলে শুনেছি।
আমার স্কিম দুইটা ম্যাচিউরড হওয়ার এক বছর পরে দাবী আদায়ে অফিসে দেখা করলে বলা হয়, এক দেড় বছরের মধ্যে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেন নেই?
সরকারী রেজিস্ট্রেশন পাওয়া, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত একটা কোম্পানিতে ১০ বছর ধরে বিনিয়োগ করার পর সেটা রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় কোন এক মাফিয়া ব্যাংক লুটেরা এসে পুরোটা ডাকাতি করে নিয়ে যাবে, এ কেমন সভ্য দেশ? সেই ডাকাতের কোন বিচার হবে না৷ বরং তাকে পুরষ্কৃত করার জন্য নতুন সরকার এসে নতুন কালো আইন তৈরি করবে, এ কেমন রাষ্ট্র!!
তখন এস আলমের মালিকানাধীন সব তলা বিহীন কোম্পানিতে তার এলাকার অযোগ্য কিছু লোকজনকে মাসিক বেতনে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল৷ তারা বসে বসে অন্যদের উপরে মোড়লগিরি ফলানোর জন্য মাসিক চুক্তিতে ভাড়া খাটত। আর কোন অফিস কর্মচারী এস আলমের বিরুদ্ধে কিছু বললে তার চাকুরি যেত নইলে তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হত।
যেমন ইসলামী ব্যাংকে হাজার হাজার অযোগ্য, কম শিক্ষিত আর কম অভিজ্ঞ লোকজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই চাকুরি দেয়ার বিনিময়ে নেয়া হয়েছিল বিশাল অংকের ঋণ। সেই ঋণ কিন্তু শোধ করার সামর্থ্য এদের নেই। এদের একটা বড় অংশকে যখন জনাব ওমর ফারুক চাকুরিচ্যুত করেন, তখন এই অর্ধশিক্ষিতরা হইচই শুরু করে।
৫টা লুটপাট হয়ে যাওয়া ব্যাংককে একত্রীকরণ করে তৈরি করা হয়েছে "সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক"।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এস আলমের মত লুটেরা আর ব্যাংক মালিকদের ফিরে আসার পথ রুদ্ধ করে তৈরি করেছিলেন ব্যাংক আইন অধ্যাদেশ।
সেই আইন পাশ করার পূর্ব মুহূর্তে কোন বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এতে একটা চরম বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা যুক্ত করে, যাতে এস আলমের মত পূর্বের ডাকাত আর লুটেরা ব্যাংক মালিকরা মাত্র ৭.৫% অর্থ পরিশোধ করে, মালিকানায় ফিরে আসতে পারে। কমিটির অধিকাংশ সদস্য আর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন।
বলা হচ্ছে, আগের সরকারের কোন দায়ের জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করা যাবে না। তারা আগের সরকারের ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য না৷ তারা এস আলমদের লুট করা টাকা ফেরত আনতে পারবে না।
তাহলে প্রশ্ন হল, তারা এস আলমদের ফিরে আসার দরজা কেন খুলে দিচ্ছে?
একজন চোর বা ডাকাত হঠাৎ ভাল হয়ে যাবে, এরকম মিরাকল দুনিয়ায় ঘটে না৷ উলটা তারা আরো ফন্দিফিকির করবে কিভাবে বাকিটা লুট করা যায়।
আমার দুইজন আত্মীয়ের ২৫ লাখ করে এফডিআর আছে এক্সিম ব্যাংক আর ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে।
বিনিময়ে তারা দেয় মাসে ১০-১৬ হাজার টাকা। দুই বছর ধরে এফডিআর ভাঙ্গার কোন সুযোগ নেই।
এখন বিএনপি যদি সোজা ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষণা করে তাহলে লাখ লাখ আমানতকারী কই যাবে? তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করেছিল, বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশ্বাস করেছিল, নির্দিষ্ট একটা ব্যাংককে বিশ্বাস করেছিল। তারা তো বিনিয়োগ করেনি। তারা মূলত টাকা নিরাপদ রাখার জন্যই ব্যাংকে রাখত।
রাষ্ট্র একটা সিস্টেম৷, এই সিস্টেমের দায় এর পরিচালকদের। পূর্ববর্তী পরিচালকদের ভুলত্রুটি মেটানোর দায় পরবর্তীতে যারা সেধে পরিচালক হবে তাদের৷ বিদেশী ঋণ কি তারা শোধ করে না? তাহলে দেশী ঋণ পরিশোধে তাদের গড়িমসি কেন?
Atique UA Khan
Monday, 13 April 2026
ইউনুস থেকে তারেকে ক্ষমতার হাতবদলের এক অনিবার্য পরিণতি
গুম বিরোধী অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হবে না এবং সেটাকে বাতিল করা হবে—এটা ইউনুস থেকে তারেকে ক্ষমতার হাতবদলের এক অনিবার্য পরিণতি ছিলো। যারা আজকে খুব ‘শকড’ হয়েছেন, তাদের অবস্থা দেখে করুণা করবো নাকি আমিও ‘শকড’ হবো—ঠিক বুঝতে পারছি না। এ তো কেবল শুরু; সামনে আরো কী কী আসছে, সেটার আগাম বার্তাও বটে—যারা চোখ খোলা রেখে দেখেননি, তাদের জন্যে এই ‘শকড’ হওয়াটাই বরং এক ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা।
গুমের সাথে যুক্ত সেনা অফিসারদের ক্যান্টনমেন্টের কথিত সাব-জেলে রাখা—এটা কি ইউনুস সরকার থামাতে পেরেছিলো? সরকার ও জন-আকাঙ্খাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওয়াকার এন্ড গং গুমের অভিযোগে অভিযুক্ত সেনা অফিসারদের সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করেনি। কাউকে কিছু না জানিয়েই তড়িগড়ি করে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ক্যান্টনমেন্টে অফিসারদের বিলাসবহুল ভবনকে সাব-জেল ঘোষণা করেছিলো। সেখানে শুধু ইন্টারনেট, টেলিফোন ও বাহারি খাবারের আয়োজনই ছিলো না—বৌদের নিয়ে থাকার ব্যবস্থাও ছিলো। চমৎকার জেল, তাই না? বিশ্বের অন্য কোথাও এ রকম ‘মানবিক’ জেল আছে কিনা আমার জানা নেই—যেখানে অভিযুক্তরা শাস্তি ভোগ করে না, বরং আরাম-আয়েশের জীবন কাটায়।
শুধু তাই নয়—জাতির সাথে তামাশা করার জন্যে বিলাসবহুল এয়ার কন্ডিশন্ড বাসে করে খুনি সেনা অফিসারদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিলো। আশা করি সবুজ রঙের সেই বহুল আলোচিত প্রিজন বাসটিকে এতো তাড়াতাড়ি ভুলে যাননি। বিচার প্রক্রিয়াকে এভাবে সার্কাসে পরিণত করার নজির খুব কমই আছে—যেখানে অপরাধী যেন অভিযুক্ত নয়, বরং ভিআইপি অতিথি।
এসব কেন সম্ভব হয়েছিলো? কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো? কোন সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিলো?—এসব প্রশ্ন যারা করেননি, গুম বিরোধী অধ্যাদেশ বাতিলের কারণে তারাই আজকে ‘শকড’ হয়েছেন। প্রশ্ন না করা, হিসাব না চাওয়া, ক্ষমতার এই নোংরা আপসকে মেনে নেয়া—এসবেরই যৌক্তিক পরিণতি হচ্ছে আজকের এই বাস্তবতা।
জুলাই বিপ্লবের পর ওয়াকার ও চুপ্পুকে কেন সরানো হয়নি? সরল উত্তর—বিএনপি সেটা চায়নি। এটা কোনো অনুমান কিংবা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়; নির্মম বাস্তবতা। আপনার আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। ‘বুকে পাথর চাপা দিয়ে’ ড. ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মেনে নেয়া ওয়াকার কি একদিনের জন্যেও জুলাইয়ের রক্তস্নাত বিপ্লবের পর জন-আকাঙ্খা ও অনুরোধের কারণে প্রধান উপদেষ্টা হতে রাজি হওয়া ড. ইউনুসের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে? রাওয়া ক্লাবে যখন আঙ্গুল তুলে নাম ধরে ড. ইউনুসকে সম্বোধন করেছিলো—তখন সেই ঔদ্ধত্য শুধুই কি ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে ছিলো, নাকি আপামর জনগণের বিরুদ্ধে ছিলো? সেই প্রশ্ন কি কখনো করেছেন? প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী—সে ওয়াকার হোক বা অন্য কেউ—দায়িত্বরত কোনো প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী কিংবা সমমানের কাউকে পদবী ছাড়া নাম ধরে সম্বোধন করা নিছক ধৃষ্টতা নয়, এটা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।
প্রধান উপদেষ্টার অনুমতি না নিয়ে দেশের অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে বৈরী রাষ্ট্র ভারতের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধির সাথে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ মিটিং করেছিলো ওয়াকার। সরকারকে পাশ কাটিয়ে সেনাপ্রধান বৈরী রাষ্ট্রের প্রতিনিধির সাথে ‘রুদ্ধদ্বার বৈঠক’ কোন ক্ষমতা বলে ওয়াকার করেছিলো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে যে বাস্তবতা সামনে আসে, তা অনেকের জন্যই অস্বস্তিকর—কারণ সেখানে রাষ্ট্র নয়, সমঝোতাই নিয়ন্ত্রক শক্তি।
শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া চাকর-বাকর ও ফ্যাসিবাদের দোসর সরকারি আমলা ও সচিবরা প্রধান উপদেষ্টার কথা শুনছিলো না—সে কথা তো প্রকাশ্য সাক্ষাৎকারে ড. ইউনুস নিজেই বলেছিলেন। অর্থাৎ, ক্ষমতার চেয়ারে বসা মানেই ক্ষমতা হাতে থাকা নয়—এই নির্মম সত্যটি তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।
হাসিনার রেখে যাওয়া সামরিক ও বেসামরিক আমলা—যাদের ‘টিকি দিল্লিতে বাঁধা’—তারাই দিল্লীর মধ্যস্থতায় তারেককে ক্ষমতায় বসিয়েছে; তাদের ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ নিয়েই লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছিলো তারেক। খালেদা জিয়া ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ হওয়া সত্ত্বেও এই ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ না থাকার কারণে ঢাকায় আসতে পারেনি তারেক—অর্থাৎ, আসতে দেয়া হয়নি। কে আসবে, কে আসবে না—এই সিদ্ধান্ত যদি অন্য কোথাও নেয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বড় বড় বক্তৃতা নিছক প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।
দিল্লীর হয়ে এসবের সকল মধ্যস্থতার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো এই শিলং উদ্দিন। শিলং উদ্দিনের দাপটে বিএনপি’র ত্যাগী শীর্ষনেতারা কপোকাত। শুধু কি তাই—প্রধানমন্ত্রীকে বসিয়ে রেখে তার সামনেই সংসদে প্রধানমন্ত্রীর হয়ে বক্তব্য দেয় শিলং উদ্দিন। তারেকের মা খালেদা যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন তিনি তো সংসদীয় কায়দায় ঠিকমতো কথাই বলতে পারতেন না; জাতিসংঘের এক অনুষ্ঠানে কোনো রকমে, তড়িগড়ি করে ‘রিডিং’ পড়ে বক্তব্য শেষ করেছিলেন—এসব ভিডিও এখনো ইউটিউবে পাওয়া যায়। কিন্তু তারপরও তিনি নিজের হয়ে অন্য কাউকে দাঁড় করিয়ে বক্তৃতা দেননি।
অর্ধশিক্ষিত এই মহিলা তো কখনো সংসদে বা বিদেশে নিজে বসে থেকে তার পক্ষ থেকে কাউকে দিয়ে বক্তৃতা দিতে দেননি। এইটুকু আত্মসম্মানবোধ খালেদারও ছিলো। তারেকের সমস্যাটা কি শুধুই আত্মসম্মানহীনতা, নাকি হাত-পা শিকলে বাঁধা? নাকি শুধুই পুতুল প্রধানমন্ত্রী হয়ে চেয়ার তা’ দেয়াকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন ও গৌরব বলে মনে করছেন? এই প্রশ্নগুলো এখন আর ব্যক্তিগত নয়—এগুলো রাষ্ট্রীয় প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
তারেকের আত্মসম্মানহীনতা কিংবা অথর্বপনা এখন আর নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে। তার এই আত্মসম্মানহীনতা ও অথর্বপনা বাংলাদেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে ইতিমধ্যেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে—এটা শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্রীয় বিপদের আলামত।
জুলাই বিপ্লব ও জন-আকাঙ্খার কবর রচনা করার জন্যে যা যা করা দরকার, তার সবকিছু করার বিনিময়েই তারেককে লন্ডন থেকে ঢাকায় এনে অতঃপর পাপেট হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয়েছে। ক্ষমতার এই লেনদেনের ভেতরে গণতন্ত্রের কোনো স্থান ছিলো না—ছিলো শুধু নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি।
‘বিশ্ববাটপার’ আসিফ নজরুল, শিলং উদ্দিন ও ওয়াকার—এই ত্রিভূজের মধ্যে তারেককে বন্দি করে খেলা চালিয়ে ছিলো ভারত। আগে হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ওপর সওয়ার ছিলো, এখন ‘নতুন গাধা’ তারেক ও মূর্খ বিএনপি’র ওপর সওয়ার হয়ে জাতির কুলাঙ্গার সামরিক ও বেসামরিক আমলাদের মাধ্যমে (যাদেরকে অনেকে ‘ডীপ-স্টেইট’ বলে রাজনীতিক প্রজ্ঞা জাহির করে) বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে বাফার স্টেইট বানিয়ে রেখেছে ভারত। খেলোয়াড় বদলায়, খেলা বদলায় না—এই বাস্তবতাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।
আর ভারতকে এসব করার সুযোগ করে দেয় ‘দলদাস’, ‘আত্ম-সম্মানহীন’ ও ‘অথর্ব’ লোকগুলো—যারা ব্যক্তি ও যোগ্যতা দেখে না, দেখে মার্কা। যাদের কাছে রাজনীতি হলো বর্বর চর দখলের লড়াই; যে লড়াইয়ে বিজয়ীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে তারা আদিম অসভ্য সুখ অনুভব করে। কিংবা সেই সব লোকগুলো—যাদের কেউ ভোটের বাজারে হাঁস-মুরগির দামে বিক্রি হয়, কেউবা ‘বুদ্ধি-বেশ্যা’ বৃত্তিতে লিপ্ত, আর কেউবা ‘স্তনমৈথনের মতো করে বিবেক বিলিয়ে’ দিয়ে দুই পয়সা কামিয়ে নেয়। এই প্রজাতির ইতরগুলোর কাছে দেশপ্রেম কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়—সামান্য স্বার্থের জন্যে তারা সব করতে পারে, এবং করছে।
মইনুল হক
ডেট্রয়েট, মিশিগান।
Friday, 10 April 2026
বুদ্ধিজীবীর মূল্য তার বাকশক্তিতে নয়, তার নৈতিক সাহসে
শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের একক মালিক দেখিয়ে ফ্যাসিবাদ ইস্টাবলিশ করেছিল শেখ হাসিনা। ৭ মার্চের ভাষণ, ৭১ ও মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুই মুজিববাদ হয়ে একবার বাকশাল, অন্য বার ফ্যাসিবাদ কায়েমের প্রধানতম টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শিল্প সংস্কৃতির মহীরুহদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। কবিতা, সংগীত, সাহিত্য, সিনেমা যেগুলো মানুষের মুক্ত আত্মার ভাষা, সব কিছু ক্ষমতার কাঠামোর অংশ বানানোর চেষ্টা হয়েছে। যা কিছু বাঙালী ও বাংলা ভাষার সাথে সম্পৃক্ত, সবকিছুই স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের এনাবলিং টুলে রূপান্তর করা হয়েছে। প্রকট সত্য হচ্ছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথকেও আওয়ামী ও তার কালচারাল ফ্যাসিস্টরা ফ্যাসিবাদী শাসনের এলিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছে। আজ স্পষ্ট, এই মেগা প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বুদ্ধিজীবী সমাজের অধিকাংশের লাইফ টাইমেই তাদের নেতা শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়েছে। ভাবা যায়! একটি গোটা বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠীর নৈতিকভাবে পরাজিত। তারা দেখেছে নিজেদের শহরে, নিজেদের চোখের সামনে, তার ডিজাইন করা রাষ্ট্র যুদ্ধের অস্ত্র নিয়ে মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। দুই হাজারের মতো মানুষ খুন করেছে, ২০ হাজারের বেশি আহত ও পঙ্গু। তবুও তারা নীরব থেকেছে। তাদের বিবেক ঘরের পাশের রাজধানীর রাজপথের যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে, সম্মিলিতভাবে ট্রেঞ্চে লুকিয়েছে, আজও তারা গর্ত বাসী।
২৪ এর পুরো সময় চুপ থেকে, আজকে সিরাজুল ইসলামের মতো বুদ্ধিজীবী, কিছু টক শো এক্টিভিস্ট সরব হবার চেষ্টা করছে। এরা আরেকবার ব্যর্থ হবার শপথ নিয়েছে!
যারা বড় বড় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনি, তাদের ট্র্যাজেডি এখানেই যে তারা জীবিত থেকেও ইতিহাসের কাছে মৃত হয়ে গেছে। একজন বুদ্ধিজীবীর মূল্য তার বাকশক্তিতে নয়, তার নৈতিক সাহসে। বাংলাদেশের চিন্তা সমাজে এদের জীবনের কোনও মূল্য অবশিষ্ট নাই। ক্ষমতাসীন দলের নিকৃষ্টতম অন্যায়েও চুপ থাকা বুদ্ধিজীবীর নিয়তি হচ্ছে, তার জীবদ্দশাতেই তার ডক্ট্রিনের পরাজিত হওয়াকে স্বচক্ষে দেখা, গলধকরণ করা। এবং নৈতিকতার কাছে পরাজিত বিকেবের আর্তনাদ লিখতে না পারার মর্মবেদনা এদের কুরেকুরে খাচ্ছে, এটা আত্মহত্যার চেয়ে কম কিছু নয়। আওয়ামী লেখক সাহিত্যিক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের নীরবতার মধ্যে যে আত্মসমর্পণ, তা তো জীবনের চেয়েও বড়ো এক পরাজয়।
আবদুল্লাহ আবু সাঈদ সম্পর্কে একবার বলেছিলাম, উনার জীবদ্দশাতেই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো স্বৈরশাসক, ফ্যাসিস্ট ও খুনির শাসন বেড়ে উঠেছে, এবং উনি ১৬ বছর সময়ে পেয়েও তার বিরুদ্ধে সরাসরি দুই কলম লিখতে ও বলতে পারলেন না। ফলে উনি বিরাট বাগ্মী হতে পারেন, বুদ্ধিজীবী নন।
বুদ্ধিজীবী সে-ই, যে বর্তমানের ভেতর ভবিষ্যতের রেখাচিত্র দেখতে পায়, এবং সময় থাকতে শাসককে সতর্ক করেন। তা না পারা লোক, কেবল শব্দের কারিগর, চিন্তার নয়।
সে হিসেবে সিরাজুল ইসলাম থেকে আনিসুল হক সহ বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিককুল এরা সবাই পতিত, ফ্যাসিবাদের উত্থানের কালে ইনারা গোকুলে বেড়েছে। তাদের মোরাল মরে গেছে। এই বাস্তবতা আমাদের একটা শিক্ষা দিয়েছে যে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, কিংবা কোনো মহান ব্যক্তিত্ব, এগুলোকে আর দ্বিতীয়বার ফ্যাসিবাদের হাতিয়ার বানানো সহজ হবে না। আমাদের কালেক্টিভ লিভিং হিস্ট্রি ও অভিজ্ঞতায় এই সতর্ক করে যাই যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, কিংবা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে একই বাড়াবাড়ি চেষ্টা কেউ করলে তারাও ব্যর্থ হবে।
মিশেল ফুকো'র একটা উক্তি আছে, Power is everywhere; not because it embraces everything, but because it comes from everywhere. ক্ষমতা যেমন ছড়িয়ে থাকে, তেমনি প্রতিরোধও জন্ম নেয় সর্বত্র। আমরা এটা ভুলে যাই। বাংলাদেশে ৬৯, ৭১, ৯০, ২৪ হয়েছে।
তাই পতিত ফ্যাসিবাদকে, তার বুদ্ধিজীবী, লেখক সাহিত্যিক কিংবা এক্টিভিস্টদেরকে নতুন করে ভয় পাবার কিছু নেই। ভয় পেয়ে কোনও আওয়ামী লেখক, বুদ্ধিজীবী, এক্টিভিস্টকে অযথা জেলে ভরারও দরকার দেখি না। জেল হবে অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত। সহিংসতার সাথে সম্পর্কহীন জেল-জুলুম সরকার ও রাষ্ট্র উভয়কে দুর্বল করবে। স্পীচ অফেন্সের ক্ষেত্রেও সহিংসতার সম্পর্ক দেখতে হবে।
আজকে, পতিত ছাত্রলীগ কিংবা ইমি'রা (ইমি ছাত্রলীগ নয়, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে উনার সক্রিয়তা ছিল) যদি ৭ মার্চকে ফিরিয়ে আনতেও চায়, তাতেও ভয়ের কিছু নাই। ইমিদের জেল মুক্তি দিয়ে দিন।
কোনও রাজনৈতিক ধারণার বিরুদ্ধে কারাগার কখনও স্থায়ী সমাধান নয়। বরং আমরা চব্বিশের বাক্ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ধারণ করি। যে মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমরা লড়াই করেছি, সেটা দলমত নির্বিশেষে সবাই মুক্তভাবে ভোগ করুক। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের শত শত আন্দোলনকে আমি সবসময়ই ১৭ বছরে না বলতে পারার, দাবি উপস্থাপন না করতে পারার চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেছি, হ্যাঁ, তাতে মুহাম্মদ ইউনূসকে বিব্রত, বিরক্ত ও ব্যর্থ করার রঙ ছিল।
ফ্যাসিবাদের পতনে ভাষা ও শব্দের স্বাধীনতা ছিল এক অনিবার্য শক্তি। যে কণ্ঠ একসময় ভয়ে স্তব্ধ ছিল, সেই কণ্ঠ যখন উচ্চারণের সাহস পায়- সেই উচ্চারণেই শুরু হয় মুক্তির যাত্রা। সেটাই হয়েছে। এরশাদ বা হাসিনার বিরুদ্ধে গালি দেওয়ার আস্পর্ধা কেবল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল না; তা ছিল ভয়ের প্রাচীর ভাঙার প্রথম আঘাত। শাসকের প্রতি ভীতিহীন ভাষাই জনগণকে নিজের শক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ভয়ের সংস্কৃতি ভাঙার লড়াই ফ্যাসিবাদ পতন করেছে। ফলে ভয় দেখিয়ে জয় করার দরকার নাই। ২৪ আমাদের যেসব বুদ্ধিবৃত্তিক বুঝাপড়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, তা ভুলে না যাই।
গত ১১ মার্চ লিখেছিলাম ''বিএনপি নির্বাচনি রাজনীতিতে আওয়ামীলীগকে স্পেইস দিয়েছে কথাটা ভুল, দিয়েছে আওয়ামীপন্থী ভোটারদের সেটা ভোটের মাঠের কৌশল ছিল মাত্র। ভোট শেষ, বিএনপি তার নিজের রাজনীতিতে ফিরবে, সে রাজনীতিতে আওয়ামী লিগ থাকবে না.........আর এই বিএনপিকে, আওয়ামী ১৭ বছর মর্মান্তিক নির্যাতন করেছে, সব জুলুম মনে রাখা আছে, ডিজিটাল ডায়েরি কিংবা কাগজে লেখা আছে। মাফিয়া-মিডিয়ার বুদ্ধিজীবী গং'টা আওয়ামীলীগকে ফিরাতে পারবে না, বরং তাদের পুরা জেনারেশন মারা খাবে। কারণ আওয়ামী রাজনীতির শূন্যস্থান আর ফাঁকা নাই, সেটা অকুপাই হয়ে গেছে অনেকাংশে।" আজকে জাতির পিতার পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়ার আইন রহিত হয়েছে, আওয়ামী নিষিদ্ধের বিল পাশ হয়েছে নির্বাচিত সংসদে।
বরং বিএনপি ঘরনার বুদ্ধিজীবীদের ক্ষমতার বধ্যভূমিতে যাবার লোভাতুর নবযাত্রাকে ভয় করি। ক্ষমতার খুব কাছে যেতে বুদ্ধিবৃত্তির যে আত্মবিনাশী আকর্ষণ, সেটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, ক্ষমতার সান্নিধ্যই চিন্তক বুদ্ধিজীবীর জন্য সবচেয়ে বড়ো ফাঁদ। ক্ষমতার স্পর্শই তাদের নীরব মৃত্যুর সূচনা। আমি অতীতের পরাজিতদের ভয় পাই না, পাই নতুন করে জন্ম নেওয়া সেই আকাঙ্ক্ষাকে, যেখানে চিন্তা আবার ক্ষমতার দাসে পরিণত হতে চায়। শেষ পর্যন্ত বুদ্ধিজীবীর বধ্যভূমি কোনো কারাগার নয়, তার বধ্যভূমি হচ্ছে ক্ষমতার অতি নিকটতা, ক্ষমতার নিকটে আসার তীব্র আকাঙ্ক্ষাজনিত আত্মহনন।
আজকে বিএনপি বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ ক্ষমতার কাছাকাছি যাবার তীব্র নেশায় আচ্ছন্ন, তারা কি আত্মহননের স্বাদ নিতে চান? আপনাদের জবান যেন আপনাদেরকে বধ্যভূমিতে নিয়ে না যায়। ক্ষমতাকে তোয়াজ না করে, বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাসকে নার্চার করুণ।
গোল্ডফিশ আওয়ামীভক্ত সমীপে— (পর্ব ০১)
গোল্ডফিশ আওয়ামীভক্ত সমীপে— (পর্ব ০১)
(এতকিছু পড়ার টাইম না থাকলে আমার কথাকেই ঈশ্বরের আদেশ হিসেবে মেনে নেন। আমি আপনার হয়ে এই সবকিছুই মাথায় রেখেই কথা বলি। আপনি ভুলে গেলে আমি যা বলি চুপচাপ মেনে নেন আরকি)
২০০৯ সালে ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রগতিশীলতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এক সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরবর্তী দেড় দশকে কীভাবে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য কাঠামোগতভাবে উগ্র ডানপন্থী এবং ইসলামপন্থী মতাদর্শকে রাষ্ট্রযন্ত্রে একীভূত করেছিল, তা যেহেতু গোল্ডফিশ মেমরির আওয়ামীভক্তরা ভুলে গেছেন, এ নিয়ে আমি ফ্যাক্টবেজড এই লেখাটি রাখছি। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে যে দলটি নিজেদের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ত্রাতা হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, তারাই সময়ের পরিক্রমায় একটি “ধর্মনিরপেক্ষ” পরিচয়ের আড়ালে নিজেদের গণতান্ত্রিক ঘাটতি পূরণের জন্য ধর্মীয় তোষণ নীতিকে রাজনৈতিক টিকে থাকার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রক্রিয়ায় সরকার ক্রমান্বয়ে ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়েছে। [১]
এখানে শেখ হাসিনা আমলের (২০০৯-২০২৪) রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামীকরণ, মুক্তচিন্তকদের ওপর আক্রমণ, ধর্মীয় অনুভূতির নামে আইনি কাঠামোর চরম অপপ্রয়োগ এবং এর বিপরীতে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের “মব ভায়োলেন্স” বা গণ-উচ্ছৃঙ্খলতার একটি বিস্তারিত ও তুলনামূলক চিত্র দেখানো যাক। ফ্যাক্টবেজড এই আলোচনায় এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আওয়ামী লীগ আমলের ইসলামীকরণ ছিল সম্পূর্ণভাবে “রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত” এবং প্রাতিষ্ঠানিক। সে সময়ে জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন, একনেক (ECNEC) থেকে মেগা প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম বোর্ডের মাধ্যমে সিলেবাস পরিবর্তনের মতো রাষ্ট্রীয় ম্যান্ডেট ব্যবহার করে উগ্রবাদকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। [১-৩]
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাময়িক শূন্যতা এবং পুলিশ বাহিনীর ভেঙে পড়ার সুযোগ নিয়ে যে সহিংসতাগুলো ঘটেছে, তা মূলত “অসংগঠিত মব ভায়োলেন্স” বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার দ্বারা সংঘটিত অপরাধ, যার পেছনে কোনো রাষ্ট্রীয় ম্যান্ডেট বা কাঠামোগত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নেই। [৪-৫] এই রিপোর্টটি তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক বক্তব্য, আইনি পরিসংখ্যান এবং কালানুক্রমিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই দুই ভিন্নধর্মী প্রেক্ষাপটের একটি বস্তনিষ্ঠ ও একাডেমিক ব্যবচ্ছেদ করবে।
Competitive Islamization
ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকার ২০১৩ সালের পর থেকে হেফাজতে ইসলাম এবং অন্যান্য কট্টরপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর সাথে একটি অঘোষিত কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর কৌশলগত আঁতাত গড়ে তোলে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা এবং সামাজিক কাঠামোতে ব্যাপক আদর্শিক পরিবর্তন সাধিত হয়। একটি ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ তাদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর “ধর্মীয় কার্ড” অকার্যকর করার জন্য প্রতিযোগিতামূলক ইসলামীকরণের (Competitive Islamization) পথ বেছে নেয়।
২.১ কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি এবং 'কওমি জননী' উপাধি
২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির আন্দোলনের পর সরকার প্রাথমিকভাবে কঠোর অবস্থান নিলেও, পরবর্তীতে রাজনৈতিক মেরুকরণের স্বার্থে তাদের সাথে ব্যাপক আপসের পথ বেছে নেয়। [৬] ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই তোষণ নীতি চরম আকার ধারণ করে, যখন সরকার কওমি মাদ্রাসার সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষার দুটি প্রধান ধারা রয়েছে: রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত 'আলিয়া মাদ্রাসা' এবং সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বেসরকারিভাবে পরিচালিত 'কওমি মাদ্রাসা'। [৭] কওমি মাদ্রাসাগুলো যুগ যুগ ধরে রাষ্ট্রীয় পাঠ্যক্রমের বাইরে নিজেদের তৈরি করা ধর্মীয় সিলেবাস অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সরকার মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সাথে কোনো কাঠামোগত সমন্বয় বা আধুনিক পাঠ্যক্রম (যেমন- বিজ্ঞান, গণিত বা প্রযুক্তি) অন্তর্ভুক্ত করার শর্তারোপ ছাড়াই তাদের সর্বোচ্চ ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়ার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়। ১৩ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর 'দাওরায়ে হাদিস' (তাকমিল)-কে ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান প্রদান করে [৮]। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে জাতীয় সংসদে “কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন, ২০১৮” সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় [৮]।
এই আইনের মাধ্যমে দেশের প্রায় ১৪ হাজার কওমি মাদ্রাসার প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থীকে রাতারাতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয় [৭]। এর ফলে কওমি মাদ্রাসার গ্র্যাজুয়েটরা কোনো আধুনিক বিজ্ঞান বা ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার সংস্পর্শ ছাড়াই রাষ্ট্রীয় চাকরিতে (যেমন- সরকারি স্কুল, কলেজ বা অন্যান্য দপ্তরে) প্রবেশের সুযোগ লাভ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের আমলাতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে গভীর আদর্শিক প্রভাব ফেলার পথ সুগম করে [৭]।
এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতির কৃতজ্ঞতা স্বরূপ, ৪ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে 'আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ'-এর উদ্যোগে একটি বিশাল 'শোকরানা মাহফিল' বা সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয় [১০]। হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন আমির ও কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় 8। এই অনুষ্ঠানে লাখ লাখ কওমি ছাত্র ও আলেমের সামনে মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে “কওমি জননী” (Mother of Qawmi) উপাধিতে ভূষিত করেন [১০]।
মুফতি রুহুল আমিন তার বক্তব্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি 'কওমি জননী'। আপনি যদি না থাকতেন, তবে সাহাবাদের শত্রু, আলেম-উলামাদের শত্রু এবং জামায়াতে ইসলামী ও আবুল আলা মওদুদীর অনুসারীরা এটি হতে দিত না” [১০]। এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ রাজনৈতিক সংবর্ধনা ছিল না; বরং এটি ছিল একটি ধর্মনিরপেক্ষ দাবিদার সরকারের শীর্ষ নেত্রীর দ্বারা কট্টরপন্থী ইসলামি গোষ্ঠীর আদর্শিক বৈধতা গ্রহণের একটি ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত দলিল।
২.২ 'মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র' প্রকল্প: রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আদর্শিক আধিপত্য বিস্তার
আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের ইসলামপন্থী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ধর্মীয় আবেদনকে ম্লান করে দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় খরচে ব্যাপক ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণের এক নজিরবিহীন উদ্যোগ গ্রহণ করে। আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সাধারণত রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের উপাসনালয় নির্মাণে সরাসরি বিপুল অর্থায়ন করে না, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এই প্রথা ভেঙে দেয়।
১৫ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (ECNEC) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি “মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র” নির্মাণের মেগা প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। [২] এই প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট নির্ধারণ করা হয় ৯,০৬২ কোটি টাকা (যা প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য), যার মধ্যে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। [২] পরবর্তীতে সৌদি আরব প্রতিশ্রুত ৮,১৬৯ কোটি টাকা প্রদানে অসম্মতি জানালে, সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা জাতীয় রাজস্ব থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। [১৩]
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুনিম হাসানের মতে, বিশ্বে এমন কোনো রাষ্ট্রপ্রধান নেই যিনি সরকারিভাবে এবং সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থায়নে এত বিপুল সংখ্যক মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। [২] বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মানুষ মুসলিম এবং ঐতিহ্যগতভাবে স্থানীয় জনগণের নিজস্ব অর্থায়নেই মসজিদ নির্মিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই প্রথম রাষ্ট্র সরাসরি ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণে হস্তক্ষেপ করে। [২] এটি ছিল রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র থেকে সরে এসে সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণে রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি কাঠামোগত পদক্ষেপ।
এই ৫৬০টি মডেল মসজিদে একত্রে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪৪০ জন পুরুষ এবং ৩১ হাজার ৪০০ জন নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়। এর পাশাপাশি এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে প্রতি বছর ১৪,০০০ শিক্ষার্থীকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি বছর ১৭,০০০ শিশুকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এই কেন্দ্রগুলোতে রাখা হয়। [২]
সরকারের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ধর্মীয় বয়ান, খুতবা, হজ প্রশিক্ষণ এবং ইসলামিক সংস্কৃতির ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সুকৌশল প্রক্রিয়া ছিল। [২] এটি গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী সমন্বয়বাদী বা সিনক্রেটিক (syncretic) ধর্মীয় চর্চাকে কোণঠাসা করে রাষ্ট্র-অনুমোদিত একটি নির্দিষ্ট ও রক্ষণশীল ইসলামি আদর্শকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
২.৩ স্কুল পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন: হেফাজতে ইসলামের দাবির কাছে কাঠামোগত আত্মসমর্পণ
২০১৭ সালের শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে যে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়, তা ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়ে কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কাছে রাষ্ট্রীয় আত্মসমর্পণের সবচেয়ে নগ্ন ও সমালোচিত উদাহরণ। [৩] হেফাজতে ইসলাম এবং কওমি ওলামা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে স্কুল পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রগতিশীল, সেকুলার এবং হিন্দু লেখকদের লেখা বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। তারা অভিযোগ করেছিল যে, পাঠ্যবইয়ে “নাস্তিক্যবাদী” এবং “হিন্দুত্ববাদী” ধারণা ছড়ানো হচ্ছে। [১৬] সরকার ভোটব্যাংকের কথা মাথায় রেখে তাদের প্রায় সব দাবি মেনে নেয়।
প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ে 'ও' অক্ষর চেনাতে যুগ যুগ ধরে 'ও-তে ওল' (এক প্রকার কচু) ব্যবহার করা হতো। ২০১৭ সালের নতুন সংস্করণে তা পরিবর্তন করে 'ও-তে ওড়না' করা হয়। একটি ছোট্ট মেয়ে শিশুর ছবিতে ওড়না পরিয়ে এই শিক্ষা দেওয়া হয়, যা শিশু-শিক্ষার্থীদের মনে শৈশব থেকেই লিঙ্গ বৈষম্য এবং রক্ষণশীল ধর্মীয় পোশাকের ধারণা প্রবেশ করানোর একটি সচেতন রাষ্ট্রীয় চেষ্টা হিসেবে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। [১৬]
হেফাজতে ইসলামের সরাসরি দাবির প্রেক্ষিতে হিন্দু ও ধর্মনিরপেক্ষ লেখকদের রচিত ১৭টি কবিতা ও গল্প পাঠ্যপুস্তক থেকে কোনো প্রকার শিক্ষাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ছাড়াই সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলা হয়। [৩] এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল প্রখ্যাত প্রগতিশীল ও যুক্তিবাদী লেখক হুমায়ুন আজাদের লেখা কবিতা “বই”, যা পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হয়, কারণ হেফাজতের দাবি ছিল এটি পবিত্র কোরআনের অবমাননা করে। [১৮] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বিশ্বকবির নাম এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী চরিত্রগুলোর নাম বিভিন্ন গল্প থেকে সুকৌশলে বাদ বা পরিবর্তন করা হয়। [১৬]
পাঠ্যবইয়ের চিত্রায়নে ব্যাপক রক্ষণশীল পরিবর্তন আনা হয়। ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে স্বাভাবিক কথোপকথনের চিত্রগুলো মুছে ফেলা হয় এবং মেয়েদের ছবিতে বাধ্যতামূলকভাবে ওড়না বা হিজাব যুক্ত করা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছিল, বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের বই থেকে মেয়েদের ঋতুস্রাব (period) সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিভাষা এবং বয়ঃসন্ধিকালীন বৈজ্ঞানিক আলোচনা সরিয়ে ফেলা হয়, যা জনস্বাস্থ্য শিক্ষার পরিপন্থী। [১৬]
শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং প্রগতিশীল গোষ্ঠীগুলো (যেমন- উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ) এই পরিবর্তনের তীব্র প্রতিবাদ জানালেও সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। সমালোচনার মুখে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) এই গভীর আদর্শিক পরিবর্তনগুলোকে শুধুমাত্র “ব্যাকরণগত সংশোধন” বা “পঠনযোগ্যতা বৃদ্ধি” বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। [৩] পরবর্তীতে জনরোষ প্রশমিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এনসিটিবি'র প্রধান সম্পাদক প্রীতিশ কুমার সরকার এবং সিনিয়র বিশেষজ্ঞ লানা হুমায়রা খানকে ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করে বলির পাঁঠা বানায়, যদিও কাঠামোগত সিদ্ধান্তগুলো সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেই এসেছিল। [১৮] মূলত, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় ভোটব্যাংক নিশ্চিত করতেই রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে এভাবে সাম্প্রদায়িকীকরণ করা হয়েছিল। [১৭]
৩. মুক্তচিন্তা দমন ও ব্লগার হত্যাকাণ্ড: রাষ্ট্রীয় নিষ্ক্রিয়তা এবং ভিকটিম ব্লেমিং (আওয়ামী লীগ আমল)
২০১৩ সালের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগ আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সেকুলার ব্লগার, বিজ্ঞান লেখক, প্রকাশক এবং প্রগতিশীল অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর এক ভয়াবহ ও পদ্ধতিগত আক্রমণ শুরু হয়। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (ABT), আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS) এবং ইসলামিক স্টেট (IS)-এর মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এই হত্যাকাণ্ডগুলোর দায় স্বীকার করে ২১। এই সময়ে রাষ্ট্র ও সরকারের ভূমিকা ছিল চরম হতাশাজনক; তারা নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত ছিল।
৩.১ নিহত সেকুলার ব্লগার, লেখক ও প্রকাশকদের কালানুক্রমিক তালিকা (২০১৩-২০১৬)
২০১৩ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ৮৪ জন সেকুলার ব্লগারের একটি “হিট লিস্ট” বা হত্যা-তালিকা প্রকাশ করে ২২। সরকার এই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। নিচে চরমপন্থীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত প্রগতিশীল এবং ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের একটি কাঠামোগত কালানুক্রমিক চিত্র তুলে ধরা হলো [২২]:
হত্যার তারিখ নিহতের নাম পরিচয়, প্রেক্ষাপট ও হত্যার ধরন
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ আহমেদ রাজীব হায়দার স্থপতি, সেকুলার ব্লগার এবং শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক। ঢাকার মিরপুরে নিজ বাড়ির সামনে তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
১৫ নভেম্বর ২০১৪ শফিউল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বাউল মতাদর্শের অনুসারী। কট্টরপন্থীদের হাতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ অভিজিৎ রায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞান লেখক, মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা। একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
৩০ মার্চ ২০১৫ ওয়াশিকুর রহমান (বাবু) ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ও লেখক। ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় দিনের বেলায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
১২ মে ২০১৫ অনন্ত বিজয় দাশ বিজ্ঞান লেখক, মুক্তমনা ব্লগের লেখক এবং বিজ্ঞানমনস্ক কর্মী। সিলেটের সুবিদবাজারে নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর চারজন মুখোশধারী তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
৭ আগস্ট ২০১৫ নিলয় চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল) সেকুলার ব্লগার। ঢাকার গোড়ানে নিজ বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
৩১ অক্টোবর ২০১৫ ফয়সাল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী (যিনি অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করেছিলেন)। শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ কার্যালয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
৬ এপ্রিল ২০১৬ নাজিমুদ্দিন সামাদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ এক্টিভিস্ট। সূত্রাপুরে তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
২৫ এপ্রিল ২০১৬ জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় জুলহাজ ছিলেন ইউএসএআইডি-র প্রাক্তন কর্মী, সমকামী অধিকার কর্মী এবং 'রূপবান' ম্যাগাজিনের সম্পাদক। কলাবাগানের বাসায় কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী পরিচয়ে ঢুকে জুলহাজ ও তার বন্ধু তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
৩.২ হত্যাকাণ্ডের প্রতি সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং ভিকটিম ব্লেমিং (Victim Blaming)
এই ধারাবাহিক ও বীভৎস হত্যাকাণ্ডের সময় সরকার এবং প্রশাসনের ভূমিকা মুক্তচিন্তার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। খুনিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা উল্টো ভিকটিমদেরই (নিহত ব্লগারদের) দায়ী করতে শুরু করেন। তাদের মূল কৌশল ছিল রাজনৈতিকভাবে “ধর্মবিরোধী” বা “নাস্তিকদের রক্ষক” তকমা থেকে নিজেদের দূরে রাখা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও প্রশাসনিক শাস্তির হুমকি: ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যখন একের পর এক ব্লগার খুন হচ্ছেন, তখন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “আমরা এটি বরদাস্ত করব না যদি কেউ অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসে আক্রমণ করে” (We will not tolerate it if you attack other's religious belief) ২৬। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, ধর্মের সমালোচনা করা বাকস্বাধীনতার অংশ নয় এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য “প্রশাসনিক শাস্তি” (administrative punishment) ভোগ করতে হবে [২৬]। এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান মূলত খুনিদের একটি প্রচ্ছন্ন মনস্তাত্ত্বিক বৈধতা দিয়েছিলেন এবং মুক্তচিন্তকদের ওপর রাষ্ট্রীয় খড়্গ নেমে আসার পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন [২৫]।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রতিক্রিয়া: ৬ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডের পরপরই বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল খুনিদের বিচারের সুস্পষ্ট আশ্বাস দেওয়ার আগে বলেন, সরকার তদন্ত করে দেখবে যে সামাদ তার ব্লগে কোনো “আপত্তিকর” বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো কিছু লিখেছিলেন কি না [২৯]। এটি ছিল ক্লাসিক ভিকটিম ব্লেমিং (Victim Blaming), যেখানে হত্যার শিকার ব্যক্তির লেখাকেই হত্যার যৌক্তিকতা বা কারণ হিসেবে আগে যাচাই করা হচ্ছিল।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের রয়টার্স সাক্ষাৎকার: নভেম্বর ২০১৫ সালে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সরকারের রাজনৈতিক অসহায়ত্ব ও কৌশলগত আপসের বিষয়টি খোলাখুলি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা এখানে একটি সূক্ষ্ম সুতোর ওপর হাঁটছি (walking a fine line)... আমরা নাস্তিক হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমাদের বিরোধী দল প্রতিনিয়ত আমাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় কার্ড ব্যবহার করে, তাই আমরা জোরালোভাবে তার (অভিজিৎ রায়ের) পক্ষে অবস্থান নিতে পারি না। এটি বাস্তবতার চেয়েও পারসেপশনের (উপলব্ধি) বিষয়” [৩০]।
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই বক্তব্যগুলো থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আওয়ামী লীগ তার ঐতিহাসিক সেকুলার ইমেজ বিসর্জন দিয়ে উগ্রপন্থীদের খুশি রাখতে এবং নিজেদের ভোটব্যাংক সুরক্ষিত করতে মুক্তচিন্তকদের বলির পাঁঠা বানিয়েছিল। রাষ্ট্রের এই নীতির ফলে ধর্মনিরপেক্ষ লেখক ও অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে চরম ভীতি এবং সেলফ-সেন্সরশিপ (Self-censorship) তৈরি হয়, এবং অনেকেই দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন [২১]।
৪. ধর্মীয় অনুভূতির দোহাই দিয়ে আইনের অপপ্রয়োগ এবং কাঠামোগত নিপীড়ন (আওয়ামী লীগ আমল)
আওয়ামী লীগ সরকার ভিন্নমত দমনের জন্য ধারাবাহিকভাবে নিবর্তনমূলক সাইবার আইন প্রণয়ন করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA) ২০১৮ এবং পরবর্তীতে সাইবার নিরাপত্তা আইন (CSA) ২০২৩-এর মাধ্যমে “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত”-এর মতো অস্পষ্ট ও বিস্তৃত দোহাই দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে হয়রানি, বিনা বিচারে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে [৩১]।
৪.১ আইসিটি অ্যাক্ট (ধারা ৫৭), DSA এবং CSA-এর পরিসংখ্যান ও প্রেক্ষাপট
ব্রিটিশ আমলের প্যানেল কোড ১৮৬০-এ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়টি অপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও, আওয়ামী লীগ সরকার সাইবার আইনগুলোর মাধ্যমে এর শাস্তি এবং অপপ্রয়োগের মাত্রাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় [৩১]।
আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা: ২০০৬ সালে প্রণীত এই আইনের ৫৭ ধারাটিকে সরকার ২০১৩ সালে সংশোধন করে আরও ভয়ংকর রূপ দেয়। এটিকে আমলযোগ্য (cognizable) ও অজামিনযোগ্য (non-bailable) করা হয় এবং সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয় [৩৩]। এই ধারায় বলা হয়েছিল, কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এমন কিছু প্রকাশ করা যা “ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত বা মে কজ হার্ট টু রিলিজিয়াস বিলিফ” করতে পারে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত শুধুমাত্র সাইবার ট্রাইব্যুনালে ৫৭ ধারার অধীনে ১,২৭১টি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। [৩১] সাইবার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. নজরুল ইসলাম শামীম ২০১৭ সালে স্বীকার করেন যে, এই মামলাগুলোর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই আদালতে প্রমাণ করা যায়নি, অর্থাৎ এগুলো মূলত মানুষকে হয়রানি করার জন্য “বানোয়াট” মামলা ছিল। [৩৩]
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA) ২০১৮: দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে সরকার ৫৭ ধারা বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ২০১৮ সালে সরকার আরও কঠোর ও ড্রাকোনিয়ান 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA)' প্রণয়ন করে [৩৩]। এই আইনের ২৮ ধারায় “ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধের ওপর আঘাত” হানার শাস্তি হিসেবে অত্যন্ত কড়া বিধান রাখা হয়, যা মূলত বাকস্বাধীনতা হরণের একটি হাতিয়ারে পরিণত হয় [৩১]। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই কালো আইনে ৭,০০০-এর বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় [৩১]। পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে ২০২৩ সালে সরকার নাম পরিবর্তন করে 'সাইবার নিরাপত্তা আইন (CSA)' আনলেও, দমনমূলক ধারাগুলো প্রায় অপরিবর্তিত থাকে [৩১]।
[দ্বিতীয় পর্বে সমাপ্য]
তথ্যসূত্র তালিকা
[১] বিটিআই (BTI), ২০২৬ বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপোর্ট: বিটিআই ২০২৬, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://bti-project.org/en/reports/country-report/BGD
[২] মডেল মসজিদ - সিরামিক বাংলাদেশ ম্যাগাজিন, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://ceramicbangladesh.com/wp-content/uploads/2024/09/6th-Issue.pdf
[৩] সংশোধন, কিন্তু স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে কোনো পরিবর্তন নেই - ঢাকা ট্রিবিউন, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.dhakatribune.com/bangladesh/education/37092/corrections-but-no-changes-in-school-textbooks
[৪] আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন (USCIRF), ২০২৫ ফ্যাক্টশিট: বাংলাদেশ, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.uscirf.gov/sites/default/files/2025-07/2025%20Factsheet%20Bangladesh.pdf
[৫] বাংলাদেশ পদত্যাগ-পরবর্তী সহিংসতা (২০২৪–২০২৬) - উইকিপিডিয়া, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh_post-resignation_violence_(2024%E2%80%932026
[৬] বিশ্লেষণ | হেফাজতে ইসলাম, বাংলাদেশে মোদি-বিরোধী বিক্ষোভের নেপথ্যে থাকা গোষ্ঠী - দ্য হিন্দু, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.thehindu.com/news/international/analysis-hefazat-e-islam-the-group-behind-anti-modi-protests-in-bangladesh/article34199332.ece
[৭] বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে শ্বেতপত্র, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://bdplatform4sdgs.net/wp-content/uploads/2025/02/Final-Draft_Unedited_0911-hrs_Compiled-Report-without-Front-and-Back-Cover.pdf
[৮] কওমি ডিগ্রির স্বীকৃতি: প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনার পরিকল্পনা করছেন হেফাজত নেতা শফি - বাংলা ট্রিবিউন, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://en.banglatribune.com/others/news/14845/Qawmi-degree-recognition-Hifazat%E2%80%99s-Shafi-plans
[৯] বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন - উইকিপিডিয়া, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh_Qawmi_Madrasa_Education_Commission
[১০] শুকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীকে 'কওমি জননী' উপাধি প্রদান, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://en.banglanews24.com/national/news/bd/71993.details
[১১] কন্টেন্ট সূচি, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-bard/2024/12/eb31a98ba85745f6b7b954a4bf826821.pdf
[১২] রাষ্ট্র, কওমি মাদ্রাসা এবং বাংলাদেশের শিশু: একটি সামাজিক সুরক্ষা দৃষ্টিভঙ্গি, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.academia.edu/95131313/State_Qawmi_Madrasas_and_Children_in_Bangladesh_From_a_Social_Protection_Perspective
[১৩] একনেক প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করেছে, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.albd.org/articles/news/28894/ECNEC-okays-project-to-build-model-mosques-and-Islamic-Cultural-Centres-in-every-upazila
[১৪] মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণে বাংলাদেশ সরকার ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে: ডেপুটি হাই কমিশনার, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.brecorder.com/news/40238332
[১৫] পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধ: "ধর্মনিরপেক্ষতা" নাকি "অ-ধর্মনিরপেক্ষতা"? বাংলাদেশের একটি জটিল মামলা, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.tandfonline.com/doi/full/[১০].[১০]80/23311886.2021.1928979
[১৬] আপনি স্কুলে কী শিখেছেন? 'B' তে কি ব্যানানা (কলা)? নাকি বোরকা? - ওয়ার্ল্ড এডুকেশন ব্লগ, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://world-education-blog.org/2017/02/08/what-did-you-learn-in-school-is-b-for-banana-or-burka/
[১৭] বাংলাদেশ: ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে খুশি করতে পাঠ্যপুস্তক কি পরিবর্তন করা হচ্ছে? - প্রতিবেদন ও মন্তব্য, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.sacw.net/article13130.html
[১৮] ২০১৭ বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক সমালোচনা - উইকিপিডিয়া, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://en.wikipedia.org/wiki/2017_Bangladesh_textbooks_criticism
[১৯] রিসার্চ রিপোর্ট ৮ - হেফাজতে ইসলাম এবং বাংলাদেশে ইসলামি চ্যালেঞ্জ - SADF, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.sadf.online/research-report-8-the-hefazat-e-islam-and-the-islamist-challenge-in-bangladesh/
[২০] হেফাজতে ইসলাম এবং বাংলাদেশের ইসলামি রাজনীতি - MP-IDSA, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://idsa.in/publisher/issuebrief/hefajat-e-islami-and-the-politics-of-islamism-in-bangladesh
[২১] বাংলাদেশে ব্লগার, অ্যাক্টিভিস্ট এবং অধ্যাপকদের হত্যার নেপথ্যে কী? | পিবিএস নিউজ (PBS News), সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.pbs.org/newshour/world/whats-behind-the-killings-of-bloggers-activists-and-professors-in-bangladesh
[২২] বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থীদের হামলা - উইকিপিডিয়া, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://en.wikipedia.org/wiki/Attacks_by_Islamic_extremists_in_Bangladesh
[২৩] বাংলাদেশে ব্লগিং করার কারণে আপনি প্রাণ হারাতে পারেন - অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.amnesty.org/en/latest/campaigns/2015/11/in-bangladesh-blogging-can-get-you-killed/
[২৪] বাংলাদেশ: ব্লগার হত্যাকাণ্ড বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত | হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.hrw.org/news/2015/05/12/bangladesh-killing-blogger-blow-free-speech
[২৫] বাংলাদেশের ব্লগাররা রাষ্ট্রীয় হুমকির আশঙ্কায় রয়েছেন - ভিওএ (VOA), সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.voanews.com/a/bangladesh-bloggers-fear-threat-from-the-state/2960088.html
[২৬] ২০২৪ মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক কান্ট্রি রিপোর্ট: বাংলাদেশ - মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.state.gov/reports/2024-country-reports-on-human-rights-practices/bangladesh
[২৭] ২০১৪ মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক কান্ট্রি রিপোর্ট - বাংলাদেশ, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.refworld.org/reference/annualreport/usdos/2015/[১০]5881
[২৮] মানবাধিকার রিপোর্ট: কাস্টম রিপোর্ট সারাংশ - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্ট, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.state.gov/report/custom/22dab0e95a
[২৯] স্থিতিস্থাপকতার পথ: দক্ষিণ এশিয়ায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ২০১৫-১৬, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://unesdoc.unesco.org/ark:/48223/pf0000244731
[৩০] এশিয়ান স্ট্র্যাটেজিক রিভিউ ২০১৬ - IDSA, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://idsa.in/system/files/book/book_ASR2016.pdf
[৩১] দমন-পীড়নের নতুন মোড়ক: সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং চলমান... - অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.amnesty.org/en/wp-content/uploads/2024/08/ASA1383322024ENGLISH.pdf
[৩২] দমন-পীড়নের নতুন মোড়ক: সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং বাংলাদেশে ভিন্নমতের বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াই - রিলিফওয়েব, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://reliefweb.int/report/bangladesh/repackaging-repression-cyber-security-act-and-continuing-lawfare-against-dissent-bangladesh
[৩৩] সমালোচনার কোনো জায়গা নেই: বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়া মন্তব্যের ওপর দমন-পীড়ন... - হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.hrw.org/report/2018/05/[১০]/no-place-criticism/bangladesh-crackdown-social-media-commentary
[৩৪] ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন: বাংলাদেশের জম্বি সাইবার সিকিউরিটি আইন - ক্লুনি ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিস, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://cfj.org/wp-content/uploads/2024/11/Bangladesh-ICT-Act-Report_November-2024-1.pdf
[৩৫] বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে | আল জাজিরা মিডিয়া ইনস্টিটিউট, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://institute.aljazeera.net/en/ajr/article/1872
[৩৬] বাংলাদেশ - ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.frontlinedefenders.org/sites/default/files/dsa_report.pdf
[৩৭] ডিএসএ (DSA) বাতিল হলেও ভুক্তভোগীরা অনিশ্চয়তায় - নেত্র নিউজ, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://netra.news/2025/dsa-repealed-but-victims-suffer/
[৩৮] কান্ট্রি পলিসি এবং ইনফরমেশন নোট: ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং নাস্তিক, বাংলাদেশ, জুন ২০২৫ - GOV.UK, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.gov.uk/government/publications/bangladesh-country-policy-and-information-notes/country-policy-and-information-note-religious-minorities-and-atheists-bangladesh-june-2025
[৩৯] বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে - ভিওএ (VOA), সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.voanews.com/a/in-bangladesh-religious-minorities-targeted-during-political-unrest/7750077.html
[৪০] ২০২৪ বাংলাদেশ হিন্দু-বিরোধী সহিংসতা - উইকিপিডিয়া, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://en.wikipedia.org/wiki/2024_Bangladesh_anti-Hindu_violence
[৪১] বাংলাদেশ: হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে - অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.amnesty.org/en/latest/news/2024/08/bangladesh-interim-government-must-take-immediate-actions-to-protect-hindu-and-other-minority-communities/
[৪২] 'আমাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই': হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে হামলার মুখে হিন্দুরা - আল জাজিরা, সংগৃহীত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, https://www.aljazeera.com/features/2024/12/12/our-lives-dont-matter-in-post-hasina-bangladesh-hindus-fear-future
Subscribe to:
Posts (Atom)
