Sunday, 26 April 2026
পিনাকী দা’ নয়টি প্রশ্ন বা পয়েন্টের মাধ্যমে যে আলোচনাটি সামনে নিয়ে এসেছেন, তার কেন্দ্রীয় নির্যাস হলো: বাংলাদেশে বর্তমানে এমন কোনো রাজনৈতিক শক্তির অস্তিত্ব নেই, যারা একইসাথে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা, মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিরোধ, দরিদ্রবান্ধব অর্থনীতি, মুসলিম সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, এলিট-বিরোধী রাজনীতি এবং রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার—এই সবগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রকল্পে রূপ দিতে সক্ষম।
পিনাকী দা’ এই আলাপের মাধ্যমে আসলে বাংলাদেশের বহু মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা রাজনৈতিক ক্ষুধার ভাষাকেই ফুটিয়ে তুলেছেন। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। দাদার এই পয়েন্টগুলো গভীর আলোচনার দাবি রাখে, কারণ এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে ইনসাফভিত্তিক সার্বভৌম বাংলাদেশ এবং এক নতুন রাজনৈতিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তা।
পিনাকী দা’র পয়েন্টগুলোকে যদি আমরা বাংলাদেশের চলমান political landscape এ দেখি:
১. ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রশ্নে রাজনৈতিক অবস্থান: এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভাজন অত্যন্ত স্পষ্ট। আওয়ামী লীগসহ কথিত বামপন্থী কিছু দল আছে যাদের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বিরাট অংশ ‘ভারতীয় এসেট’ (asset) হিসেবে পরিচিত। তারেক রহমানের বিএনপি’র অবস্থাও প্রায় একই রকম; যদিও তাদের তৃণমূলের বড় একটি অংশ চরমভাবে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী, কিন্তু দলীয় অবস্থান এবং আওয়ামী অনুপ্রবেশের কারণে এই কণ্ঠস্বর এতটাই ক্ষীণ যে তা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। ভারত প্রশ্নে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব ও তৃণমূলের অবস্থান এক হলেও অভিযোগ আছে যে, সরাসরি আলোচনায় নেতৃত্ব তৃণমূলের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ হয়েছে। এনসিপি’র তৃণমূল ও নেতৃত্বের একটি অংশও ভারত প্রশ্নে জামায়াতের সমান্তরাল, তবে তাদের ভেতরের বাম ঘরানার লোকদের নিয়ে দলের ভেতর-বাইরে এক ধরনের অবিশ্বাস রয়েছে। জামায়াত ও এনসিপি’র শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ কেউ ভারতের কূটনৈতিক শক্তিকে ‘ওভার এস্টিমেট’ করেন এবং সরাসরি আলোচনায় একটি অসম (asymmetric) অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।
২. মার্কিন আগ্রাসনবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান: হ্যাঁ, এখানে সব দলের অবস্থান প্রায় অভিন্ন। দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান যাই হোক না কেন, প্রকাশ্যে মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার হিম্মত কারও নেই। বাম দলগুলোর অবস্থান মূলত লোকদেখানো; তারা স্থানীয় দূতাবাস থেকে মিছিল করার অনুমতি নিয়ে এসে রাস্তায় নামে—এটি স্রেফ ভাওতাবাজি।
৩. দরিদ্রবান্ধব রাষ্ট্র ও লুটেরা অর্থনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো: কার্যত এখানেও সবার অবস্থা প্রায় এক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াতের শক্তিশালী নৈতিক অবস্থান অস্বীকার করার উপায় নেই, কিন্তু পুঁজিবাদী ও এলিট শ্রেণীর বিরুদ্ধে তাদের কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক অবস্থান নেই, যা তাদের নিজস্ব নৈতিক অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক।
৪. তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইন্ডাস্ট্রি’: এটি বর্তমানে গ্লোবাল পারসপেক্টিভে ‘হলোকাস্ট ইন্ডাস্ট্রিজে’র মতো অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের দলীয় অবস্থানের সুরাহা তারা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে কখনোই করতে পারেনি, যদিও সেই সুযোগ এসেছিল। পক্ষান্তরে, ভারতীয় মদদপুষ্ট মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা জামায়াতকে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা অভিযোগে ক্রমাগত ব্যাকফুটে রাখার নীতি চর্চা করছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মিথ ও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগ ও ভারত নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য এই ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করেছে, আর তারেক রহমানের বিএনপি এখন সেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে। যদিও ‘তুমি কে আমি—রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগান দিয়ে ২৪-এর জুলাই বিপ্লব হয়েছিল, কিন্তু কায়েমি স্বার্থে বিএনপি এখন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইন্ডাস্ট্রি’ ব্যবহার করে জুলাই বিপ্লব ও জামায়াতকে ব্যাকফুটে রাখতে পুরোপুরি ‘আওয়ামী প্লেবুক’ অনুসরণ করছে।
৫. মুসলিম কালচারের পক্ষে সরাসরি অবস্থান: আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দ্বৈরথে হিন্দু এবং সংখ্যালঘু ভোটগুলো বাংলাদেশে ‘কিং মেকার’ হিসেবে কাজ করে। উল্লেখ্য যে, বর্ণপ্রথা বিবেচনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই হিন্দুরা ‘নিচু বর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু ভারত আধিপত্য বিস্তারে তাদের ‘প্লেয়িং কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে, যার পূর্ণ ফায়দা নেয় আওয়ামী লীগ। ভারতীয় এসেট হিসেবে পরিচিত মিডিয়া ও বুদ্ধিবৃত্তিক গোষ্ঠী পশ্চিমা সমর্থনে বাংলাদেশের মুসলিম পরিচয়কে ‘ডিমোরালাইজ’ করার হীন কাজ করে যাচ্ছে।
৬. প্রো-ইন্ডিয়ান এলিট এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো: এটি জামায়াত ও এনসিপি’র চরম রাজনৈতিক দৈন্যতা। ‘কথিত প্রগতিশীল’ হওয়ার এক হীনম্মন্য প্রচেষ্টা এদের মধ্যে দৃশ্যমান। আওয়ামী লীগ ও তারেক রহমানের বিএনপি বরাবরই এই এলিটদের স্বার্থের সমান্তরাল অথবা তাদের দ্বারাই পরিচালিত। এনসিপি’র দুই-একজন বাদে সবারই এই এলিট ক্লাবে ঢোকার উগ্র বাসনা আছে। জামায়াত জানে এই এলিটরা তাদের জাত শত্রু, তবুও তাদের দাওয়াতে হাজির হতে জামায়াত নেতৃত্ব এক ধরনের পুলক অনুভব করে। ফলে মুক্তিযুদ্ধ ও এলিট এস্টাবলিশমেন্ট মোকাবিলায় জামায়াত বরাবরই ব্যাকফুটে।
৭. আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার অঙ্গীকার: এই অঙ্গীকার সবার খাতায় থাকলেও বাস্তবতা হলো ‘কিতাব আলীর গরু খাতায় থাকে, গোয়ালে নয়’। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াত বা এনসিপি একক ক্ষমতায় না যাওয়া পর্যন্ত তাদের নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন, তবে গত নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে জামায়াত যেভাবে সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছিল, সেই ক্রেডিট তারা পেতেই পারে।
৮. নাগরিক মর্যাদা ও বিশ্বমানের শিক্ষা: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অবস্থা এখানেও ‘কিতাব আলীর গরু’র মতোই। এনসিপি নতুন দল হিসেবে এখনো মন্তব্যের অবস্থানে নেই। তবে জামায়াত তাদের সাংগঠনিক কর্মপন্থায় গত কয়েক দশক ধরে এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করে আসছে।
৯. রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন: জামায়াত ও এনসিপি এটি সার্বিকভাবে চাইলেও আওয়ামী লীগ ও তারেক রহমানের বিএনপি এর ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।
ইনসাফভিত্তিক এবং এক নতুন রাজনৈতিক চুক্তির আলোকে যদি সার্বভৌম বাংলাদেশকে নির্মাণ করি তাহলে সেটা কেমন হতে পারে:
১. নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হবে নাগরিক মর্যাদা ও ইনসাফের। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ—ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ নির্বিশেষে—সমান মর্যাদার নাগরিক। অর্থাৎ, রাষ্ট্র জনগণের, কোনো শাসকের নয়।
২. সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি, কারো দালালি নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে স্পষ্টভাবে স্বাধীন ও দেশের স্বার্থনির্ভর। কোনো আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক শক্তির আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনসহ নিপীড়িত জনগণের পক্ষে অবস্থান এবং ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন—সবার সাথে সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু সেটা সমতার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, বন্ধুত্ব সবার সাথে, দাসত্ব কারো সাথে নয়।
৩. অর্থনীতিতে লুটপাটের অবসান, ন্যায্য বণ্টন। বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামো একটি এলিট-নির্ভর লুটপাট ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে—এটি ভাঙতে হবে। মূল লক্ষ্য হলো: দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের আয় বৃদ্ধি, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি। তাই যা করতে হবে সেটা হলো: ব্যাংক লুট ও খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ, সামাজিক নিরাপত্তা (পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা) সম্প্রসারণ। অর্থাৎ, অর্থনীতি মানুষের জন্য, কোনো এলিট গোষ্ঠীর জন্য নয়।
৪. সামাজিক ন্যায় ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন: রাষ্ট্র শুধু আইন রক্ষক না—মানুষের কল্যাণের দায়িত্বও বহন করবে। শিক্ষা হবে দক্ষতা, বিজ্ঞান ও নৈতিকতার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
৫. সাংস্কৃতিক অবস্থান হবে আত্মপরিচয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বাংলাদেশ একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ—এটি অস্বীকার নয়, বাস্তবতা। কিন্তু রাষ্ট্র হবে সকল নাগরিকের। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও শক্তিশালী পরিচয় থাকবে কিন্তু আধিপত্যবাদ নয়। অর্থাৎ, সংস্কৃতি আমাদের শক্তি, বিভাজনের হাতিয়ার নয়।
৬. গণতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কার: বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ—প্রতিষ্ঠানের পতন। তাই যা করতে হবে তা হলো—স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, সংসদের কার্যকর জবাবদিহিতা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের depoliticization. অর্থাৎ, ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে।
৭. এলিট আধিপত্যের অবসান: একটি ছোট এলিট গোষ্ঠী রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে—এটা ভাঙতে হবে। রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা, মিডিয়ার মালিকানা বৈচিত্র্য এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ (local government শক্তিশালী করা) করতে হবে। অর্থাৎ, ক্ষমতা তার উৎসে—জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
৮. জাতীয় মর্যাদা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: বাংলাদেশী নাগরিককে বিশ্বমানের করে তুলতে হবে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন (skills, প্রযুক্তি) এবং প্রবাসীদের সাথে জ্ঞান ও বিনিয়োগ সংযোগ স্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ, মানুষই দেশের আসল শক্তি।
৯. রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন—Reform, not chaos: ‘বিপ্লব’ মানে বিশৃঙ্খলা না—গভীর, পরিকল্পিত সংস্কার। সংবিধান পুনর্মূল্যায়ন করে checks & balances শক্তিশালী করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে আইনগত সুরক্ষা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ, পরিবর্তন হবে, কিন্তু দায়িত্বশীলভাবে।
সবশেষে, বাংলাদেশের সামনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—আমরা কেমন রাষ্ট্র চাই? এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি প্রাধান্য পায়, নাকি এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে নাগরিকের মর্যাদা, ইনসাফ ও সার্বভৌমত্ব কেন্দ্রস্থলে থাকে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলা।
আজ সময় এসেছে একটি নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরির—যেখানে দেশপ্রেম মানে অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানো; যেখানে সার্বভৌমত্ব মানে কেবল সীমানা রক্ষা নয়, বরং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা; এবং যেখানে রাষ্ট্রের শক্তি পরিমাপ করা হবে তার নাগরিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে।
এই নতুন পথ সহজ নয়। কিন্তু ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনই কঠিন ছিল। প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি সেই সাহস দেখাতে প্রস্তুত?
মইনুল হক
ডেট্রয়েট, মিশিগান।
Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment