Monday, 16 March 2026

প্রবীণ নেতারা চান না তরুণরা রাজনীতিতে আসুক।

ঠিক এই কারণেই প্রবীণ নেতারা চান না তরুণরা রাজনীতিতে আসুক। রাজনীতির একটা সিস্টেম আছে। একটা ট্র্যাডিশন আছে। দশকের পর দশক ধরে যত্ন করে গড়া। রক্ত-ঘাম দিয়ে না… ঘুষ, কমিশন আর তদবির বাণিজ্য দিয়ে। পোলাপাইন আইলেই এইডা ভাইঙ্গা ফালাইবো! এখন কথা হইলো সিস্টেমটা কী? সিস্টেম সহজ, তুই চুরি করবি। ছোট চুরি না, বড় চুরি। এমন চুরি যেন পরের পাঁচ পুরুষ বইসা খাইতে পারে। প্রজেক্টে ৪০%, টেন্ডারে ৩০%, আর বাকিটা "পার্টি ফান্ড", মানে নিজের ফান্ড। টাকা কমাবি। উন্নয়নের বরাদ্দ আসবো ১০০ কোটি, খরচ হইবো ৪০ কোটি, বাকি ৬০ কোটি "প্রশাসনিক জটিলতায়" হাওয়া। কাগজে সব ঠিকঠাক। অডিটর? সেও সিস্টেমের অংশ। বাচ্চাকাচ্চারে বিদ্যাস পড়াইবি। দেশের স্কুলে না অবশ্যই। লন্ডনে, টরন্টোতে, সিডনিতে। দেশের স্কুল? সেইটা জনগণের বাচ্চাদের জন্য। তোর বাচ্চা কি জনগণ? বেগমপাড়ায় বাড়ি কিনবি। গুলশানে ফ্ল্যাট, বনানীতে অফিস, গ্রামে বাড়ি, আর বেগমপাড়ায়... সেইটা বলতে হইবো না। সবাই বোঝে। না বুঝলেও বোঝার দরকার নাই। ভোট কিনবি। ইলেকশনের আগে মহল্লায় মহল্লায় খাম যাইবো। ৫০০ টাকা, ১০০০ টাকা। মানুষ বলবো "নেতা গরিবের বন্ধু।" কেউ জিজ্ঞেস করবো না এই টাকা আসলো কই থেইকা। জিজ্ঞেস করার সাহস নাই, আর থাকলেও সুযোগ নাই। এইটাই সিস্টেম। এইটাই ট্র্যাডিশন। - জনগণ হইলো তোর গোলাম - তুই হইলি রাজা। রাজার একটা ভাব থাকে। রাজা হাঁটলে পিছনে লোক থাকে, রাজা কথা বললে মাইক লাগে, রাজা হাসলে ছবি উঠে, রাজা রাগ করলে মামলা হয়। এই ভাব বজায় রাখতে হইবো!! তাহলে তুই কেন জবাবদিহিতা করবি? রাজার কাছে জবাব চায় কে? কার ঘাড়ে কয়টা মাথা? আর সবচেয়ে বড় কথা, তোর মাথায় ব্রেন থাকবে কেন? মাথায় ব্রেন থাকলে প্রশ্ন করবি। প্রশ্ন করলে সিস্টেম নড়বে। সিস্টেম নড়লে অনেকের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। তোর মাথায় থাকবে গু 💩 আর তুই সারাদিন বইসা রেন্ডিয়ার দালালি করবি, নাইলে পাকিদের দালালি করবি। এই দুইটার মাঝখানে অপশন নাই। দেশের মানুষের কথা ভাবার সময় নাই, ওইটা তো "রাজনৈতিক দুর্বলতা"। যে নেতার বিদেশি প্রভু নাই, তার তো ফান্ডিং নাই। ফান্ডিং নাই মানে ইলেকশন নাই। ইলেকশন নাই মানে ক্ষমতা নাই। ক্ষমতা নাই মানে চুরির সুযোগ নাই। তাহলে এত কষ্ট করে রাজনীতিতে আসলি কেন? তাই প্রবীণ নেতারা চান তরুণরা ঘরে বসে থাকুক। ফেসবুকে রাজনীতি করুক। কমেন্টে বিপ্লব করুক। কিন্তু মাঠে নামুক না। কারণ মাঠে নামলে সিস্টেম টিকবে না। আর সিস্টেম না টিকলে বেগমপাড়ার বাড়ির কিস্তি যাবে কোথা থেকে? লন্ডনের টিউশন ফি আসবে কোথা থেকে? আর সবচেয়ে বড় কথা… এতদিন ধরে করা “ত্যাগ আর সংগ্রামের” হিসাবটা মিলবে কীভাবে?