Khan Thoughts
Tuesday, 24 February 2026
ফিউচ্চারিস্টিক অনুমান
একটা ফিউচ্চারিস্টিক অনুমান শেয়ার করি -
১।
সারাদেশে ২৬ টি স্থানে লীগের অফিস খোলার খবর পেলাম বিভিন্ন মিডিয়ায়। 'জয়বাংলা' স্লোগানে হয়েছে ঝটিকা মিছিল (গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে)। দলীয় পতাকা উত্তোলন, মুজিব ও খু/নী হাসিনার ছবি টাঙানো এবং তা ক্রমবর্ধমান।
এইটা বিএনপির জন্যে অশনি সংকেত এবং জাশি /এনসিপির জন্যে লাইফ থ্রেট হিসেবে দেখছি।
কারণ এ নরমালাইজেশনের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচণে নানা ব্যানারে প্রার্থী হবে লীগের সি টিম, ডি টিম। কেউ কেউ জিতেও যাবে। প্রশাসনে একসেস নিবে। নেটওয়ার্ক রিঅ্যাকটিভ করবে। দুর্নীতি, চুরি চামারি, ফাঁসানো- ইত্যাদি চলবে আগের মতো। তুমুল গন্ডগোল বাঁধাবে।
সবগুলোর দায় বিএনপির কাঁধে চাপবে।
দলে মিশে যাওয়া লীগ গু/ন্ডাদের চাঁদাবাজি, খু/ন - খারাবির দায় তো থাকবেই।
নিজেদের ইস্যু প্লাস এই লীগ পুনঃপ্রবেশজনিত বিশৃঙ্খলা ডাবল ক্রাইসিস তৈরি করতে যাচ্ছে বিএনপির জন্যে।
এই ইনফিলট্রেশন ও ক্রিমিনাল লেবেল নতুন দলে ট্রান্সফারের ফলে, লীগের প্রাক্তন সফ্ট সাপোর্টারের মনে নয়া বয়ান হাজির হবে - "সবই তো এক, লীগ তাড়ায়ে কি লাভ হইলো"- মেইনলি যারা এবার ধানে ভোট দিয়েছে।
২।
দ্বিতীয় অশনি সংকেত চিফ প্রসিকিউটর দূর্দান্ত পেশাদার ও চরম সৎ তাজুল ইসলামকে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অপসারণ করাটা। তাজুল না থাকলে, যে বারো জন আর্মি অফিসার গ্রেফতার হইছিলো - তাও হইতো না - এতে আমি নিশ্চিত।
অর্থাৎ তাজুল থাকলে ডগিফাই পার পাবে না। তাকে অপসারণ করা লাগবেই। ফ্যাক্ট ইজ -তারেক চাইলেও এটা ফেরাতে পারবে না।
বিডিআর, ডগিফাই, আর্মিলীগের বিচার ঠেকানোর চুক্তিতে আপস করে, তারেক দেশে ফিরেছে আগেও লিখেছি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেই আপসের আরেকটা অংশ - এটা ক্লিয়ার হইলো।
বিচারের নামে আইওয়াশ দেখবেন সামনে। "বিচার কতদূর"- এ প্রশ্ন এখন আর তোলা যাবে না।
নতুন নিয়োগে, "নতুন করে কাজ শুরুর কারণে সময় লাগছে" অজুহাত দেখাবে। আমরা ভুলে যাব। একদিন তারাও লাপাত্তা। বিচারও লাপাত্তা।
অর্থাৎ 'আপস তত্ত্ব' আর কোনো কনস্পিরেসি হিশেবে থাকবে না। পলিটিক্যাল ফ্যাক্ট হিশেবে প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে।
৩।
মন্ত্রীসভায় কিছু লোকের মন্ত্রীত্ব পাওয়াকে তারেকের ম্যান্ডেট মনে হয় না। হিসাব মেলাতে পারিনি। বিভিন্ন আলাপে বিএনপির অনেকেকই কনফিউজড দেখলাম মন্ত্রীসভা নিয়ে।
'তারেক অরা' রেশের একটা চাপ আছে। সেই মনস্তাত্তিক চাপের ফলে আলাপ করতে কমফোর্ট ফিল করছে না। তবে সময়ের সাথে সাথে এই কনফিউজন প্রকাশ্যে দেখতে পাবেন।
আমার অনুমান - কয়েকজন আছে ডিপস্টেট্ সেটাপ।
কিছু করার নাই আশলে। আপসের বিনিময়ে ক্ষমতায় বসলে, সিদ্ধান্ত স্বাধীন রাখা যায় না।
তো ওইসব মন্ত্রী জুলাইয়ের বিপক্ষে বিতর্কিত আলাপ দিয়ে যাবে ক্রমাগত- যেটা সরকারের জন্যে পপুলারিটি ক্রাইসিস তৈরি করবে।
৪।
কারণ, এই জুলাই সফ্টলীগেরসহ সর্বস্তরের জনগণের ছিলো। কিছু ছাপড়ি আর দালাল ছাড়া, এটা বিএনপির অনেকেই ধারণ করে।
ক্ষমতাসীন হবার পর জুলাইয়ের বিরুদ্ধে বিএনপির স্ট্যান্স লাউড এন্ড ক্লিয়ার। এই বোল্ড স্ট্যান্স লীগকে যোগাবে সাহস। বিএনপির হাতের তলে থেকে লীগ জুলাই সক্রিয়দের অ্যাসাসিনেশন করবে। বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে সঙ্গে থাকবে বিএনপি নেতারা।
ডগিফাই পরে সেই সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ করে বিএনপিকে ফেলবে বেকায়দায়।
লীগ, ডগিফাই, আর্মিলীগ বিচার থেকে নিস্তার পাইলে- এখন যে মিডিয়া বিএনপির তলা চাটছে - সবাই পল্টি মারবে। এইসব খু/ন - খারাবি নিয়ে বিএনপির ইমেইজ সংকট তৈরি করবে তুমুল প্রচারণায়। বিএনপি হয়ে পড়বে দূর্বল।
বিএনপিতে যে পরিমান গাদ্দার আছে- যারা লীগ সুবিধা নিয়ে টিকে ছিলো গত দশক এবং র নিয়ন্ত্রিত ডগিফইয়ের হাতে ব্ল্যাকমেইল -তাদের প্ররোচনায় জাশিকে ঠেকাতে লীগকে ফুল একসেস দেওয়ার আলাপ উঠলে বিএনপির মধ্যে বিভাজন দেখা দিবে। ওটাই হবে লিটমাস টেস্ট।
শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওই বিভাজনের ওপর নির্ভর করবে, দেশে আরেকটা জুলাই হবে কি হবে না।
তারেককে আমি এখনো বিশ্বাস করি। আপস করলেও, সেটা নেসেসিটি অব টাইম ছিলো। যদি দু বছরের মধ্যে গুপ্তচর আইডেন্টিফাই করে, ব্ল্যাকমেইল হওয়া নেতাদের সাইড করে, প্রশাসন ও দলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে - তবে সকলের জন্যে মঙ্গল।
অন্যথায়, সেকেন্ড জুলাই অনিবার্য।
৫।
শুধু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকলে এই অনিবার্য ধ্বংস ঠেকানো যাবে না- পপুলারিটি লাগবেই। পপুলার লেজিটিমেসি ছাড়া কন্ট্রোল টেকসই হয় না। সো, জনমত পাশে না থাকলে বিপদ।
শুধু ছাপড়ির সাপোর্ট ইনাফ না- এই আলাপ যত দ্রুত বুঝবে, ততই ভালো।
যদি বিচার থেমে যায়, ন্যারেটিভ হাতছাড়া হয়, আর অভ্যন্তরীণ বিভাজন বিস্ফোরিত হয়- তাইলে "সেকেন্ড জুলাই" ঠেকানো যাবে না।
ভারত ও ডগিফইয়ের নগ্ন সমর্থন, ট্রিকস , ফুল ব্যাকাপ, প্রশাসনিক সেটাপ থাকা সত্ত্বেও হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে - এইটা যেনো আমরা ভুলে না যাই।
-----==
তো, প্রেডিকশন হইলো -
২৪-৩০ মাসের কৌশলগত পলিটিক্যাল প্রাকটিস ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের সামনে আমরা দাড়ায়ে আছি।
যেটা নির্ধারণ করবে - 'পুনর্গঠন' নাকি 'পুনর্বিস্ফোরণ।'
ডিসি মাসুদ
ডিসি মাসুদ একজন আগাগোড়া চাটুকার, নির্লজ্জ, বেহায়া পুলিশ। দুইটা ঘটনা বলি শুনেন।
মির্জা আব্বাস নির্বাচনে এমপি হওয়ার পর সে ফুল নিয়ে তার কার্যালয়ে যায়। এরপর মির্জা আব্বাসের তোষামোদি করে আসে। কারণ ডিসি মাসুদ ভেবেছিলো মির্জা আব্বাস বড় কোনো মন্ত্রী হবে।
আর ডিসি মাসুদ ছিলো মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী এলাকার ডিসি৷ তাই নির্বাচনে ডিসি মাসুদের পক্ষপাতিত্ব মূলক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করাই যায়।
দ্বিতীয় ঘটনা আরো ভয়াবহ। তারেক রহমান নির্বাচনে জেতার পর নাহিদ ইসলামের বাসায় দেখা করতে যায়। নাহিদ ইসলামের বাসা যেহেতু ডিসি মাসুদের এলাকায় তাই ঐদিন সে আইনশৃংখলা বাহিনীর দায়িত্বে ছিলো।
নাহিদের সাথে তারেক রহমানের আলোচনা শেষ হলে ডিসি মাসুদ নিয়ম বর্হিভূতভাবে সেই রুমে প্রবেশ করে। তারপর তারেক রহমানকে একটা লম্বা সালাম দিয়ে বলে, "স্যার আমি মাসুদ। রমনা জোনের ডিসি। আমার বাড়ি বগুড়া।"
এই কথা শুনে তারেক রহমান ডিসি মাসুদের কাধে স্নেহের হাত বুলিয়ে দেন। এরপর থেকেই ডিসি মাসুদ বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারেক রহমানের স্নেহের পরশ পাওয়ার পর উনি আর কাউকে পরোয়া করছেন না।
হাদি বলেছিলেন
হাদি সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ্জা-মান" কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন:—
সাহস থাকলে ক্যু করে দেখান। জনগণ গিয়ে ইট খুলে আনবে ক্যান্টনমেন্ট থেকে।
এটা কোনো হুমকি ছিল না— এটা ছিল জনতার শক্তির ঘোষণা।
"হাদি প্রধান উপদেষ্টার" চোখে চোখ রেখে বলেছিলেন:—
আমি বিশ্বাস করি, আপনি পালাতে আসেননি। তাই ভয় পাবেন না। নামগুলো বলেন-
কারা আপনাকে কাজ করতে দিচ্ছে না। এই কথার ভেতর ছিল না ভদ্রতার মুখোশ, ছিল সত্য বলার চূড়ান্ত সাহস।
"ইন্টেরিমের উপদেষ্টাদের" উদ্দ্যেশে হাদি বলেছিলেন:—
একজন রিকশাওয়ালাও জানে- আপনাদের কেউ ভালো না। আপনারা জুলাইকে বেঁচে দিয়েছেন। এক পা বিদেশে, আরেক পা ক্ষমতার টেবিলে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে আপনারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
এই অভিযোগ কোনো গুজব না— এটা রাজপথের রায়।
"হাদি বিএনপি"-কে বলেছিলেন:—
শহীদ জিয়ার দলকে ভা'র'তের দাস বানাতে দেবো না।
কারণ স্বাধীনতার নামে দাসত্ব মানে শহীদদের অপমান।
"হাদি জামায়াতে ইসলামী"-কে বলেছিল:—
নিজামী, সাঈদীর জামাতকেও ভা'র'তে'র দাস হতে দেবো না।
কারণ আদর্শের কথা বলে পরাধীনতা মেনে নেওয়া সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি।
"হাদি এনসিপি"-কে সোজাসাপটা বলেছিলেন:—
তোমরা জুলাইকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়েছ।
মনে রেখো- জুলাই কোনো দলের না, জুলাই পুরো দেশের।
এই কথায় কেঁপে উঠেছিল অনেকের সাজানো বয়ান।
"হাদি এমনকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী-লীগের" ক্ষেত্রেও বলেছিলো:— যারা গণহ*/ত্যায় জড়িত না, তাদের সাথেও ইনসাফ করতে চাই।
কারণ হাদির রাজনীতি ছিল প্রতিশোধের না। ন্যায়ের, ইনসাফের।
ঢাকা–৮ আসনে হাদি নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাস আর হেলাল উদ্দীনকে
"ভাই" বলে দোয়া চেয়েছিলেন:—
কারণ সে শিখিয়েছিলো, রাজনীতি মানেই শত্রুতা না, রাজনীতি মানেই মানবতা, আদর্শ।
হাদি “হেভিওয়েট রাজনীতি”র মিথ ভাঙতে চেয়েছিলো:—
ক্ষমতা আর টাকার কাছে মাথা নত না করে সবার জন্য সমান মাঠ গড়তে চেয়েছিল।
হাদি প্রমাণ করতে চেয়েছিল:—
সততা, ভালোবাসা, ত্যাগ আর জনগণের ভাষা বুঝতে পারলে, কোটি টাকার প্রার্থীকেও হারানো যায়।
"হাদি চেয়েছিল" হিন্দুদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম:—
যাতে কোনো দল আর কোনো সময়
তাদের ভোটব্যাংক বানিয়ে ব্যবহার করতে না পারে।
হাদি স্বপ্ন দেখেছিলো:—
ভা'র'তীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই দেশের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করানোর।
হাদি কালচারাল ফ্যা'সি'জমের বিরুদ্ধে যোগ্য, দক্ষ সাহসী মানুষ তৈরি করতে চেয়েছিলো।
হাদী চেয়েছিলো:-
জুলাইয়ের শহীদদের খু*/নীদের বিচার।
"৫৭ বিডিআর" হ*/ত্যার বিচার।
৫ই মে শাপলা গণহ*/ত্যার বিচার।
সকল চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বিচার বহিঃভূত হ*/ত্যাকান্ডের বিচার।
Barrister Shariar Kabir
Monday, 23 February 2026
চুপ্পুনামা
যে ফ্যাসিস্ট হানিনা চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি করলেন। তো, সাংবিধানিক ভাবে হাসিনার মেয়াদও ২০২৮ পর্যন্ত নাকি?
সংবিধানের কোথায় ছিলো তত্বাবধায়ক সরকার? তিনি কিসের উপর তাদেরকে শপথ পাঠ করালেন?
বালেরকন্ঠ আর ডীপ সব একাকার।
সাংবাদিক Rajib Ahamod এর পোস্টটি আপনারা পড়ুন নিচে-
'চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি' শিরোনামে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাক্ষাতকার পড়ে চমকানোর মত কিছু পাইনি। সাক্ষাতকারটিতে কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্নের জবাবের নামে ইউনূস সরকারকে গালাগালির জন্য চুপ্পু প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হয়েছে সাক্ষাতকারে। যেখানেই চুপ্পু নিজেই সংবিধান লঙ্ঘনকারী।
১. চুপ্পুর দাবি করেছেন, তাঁকে সরাতে অসাংবিধানিক উপায়ে চেষ্টা হয়েছিল। তিনি দৃঢ় থেকে সংবিধানকে রক্ষা করেছেন।
তো এক্ষেত্রে প্রশ্ন করা উচিত ছিল, সেখানে ৭(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধানের কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা পরাহূত করা মৃত্যুদন্ড যোগ্য অপরাধ, সেখানে তিনি কীভাবে সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান না থাকা সত্ত্বেও ইউনূস সরকারকে শপথ পড়ালেন?
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের কারণে, রাষ্ট্রপতির বাপেরও ক্ষমতা নেই ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স চাওয়ার। মন্ত্রিসভার অনুমোদন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ বাধ্যতামূলক। তো শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার পর, কীভাবে ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের কাছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের রেফারেন্স চেয়েছিলেন?
শুধু এই দুটি নয়, সংবিধানের আরও চারটি লঙ্ঘন করেছিলেন এবং এখনও করছেন চুপ্পু। চব্বিশের ৬ আগস্ট তিনি, ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কীভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছিলেন? একই অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে সংসদ বিলুপ্ত করেছিলেন? কীভাবে খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করেছিলেন? ৪(ক) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘণ করে কীভাবে বঙ্গভবন থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়েছে?
এগুলোর সবগুলোর উত্তর হল, অভ্যুত্থানের দোচনের মুখে করেছিলেন। ৫৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ছাড়া সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির বাপেরও নাই। সংবিধান ক্লিয়ার, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও, রাষ্ট্রপতি তা শুরুতেই করতে পারবেন না। আগে তাকে দেখতে হবে, সংসদের অন্য কোনো এমপি সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির আস্থাভাজন কী না। এমন কাউকে না পাওয়া গেলে, তবেই সংসদ ভাঙবেন রাষ্ট্রপতি।
কিন্তু এগুলোর কোনোটি না করে সংসদ ভেঙে, অ্যাটর্নি নিয়োগ দিয়ে, রেফারেন্স চেয়ে এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে চুপ্পু বারবার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। বাকি আলাপ বাদ, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ছাড়া বাজেট হবে না, হবে না, হবে না। কিন্তু চুপ্পু এগুলো অনুমোদন করেছেন। তাহলে কে সংবিধান লঙ্ঘনকারী?
২. তবে আসল কথা হল, সংবিধান মেনে অভ্যুত্থান হয় না। অভ্যুত্থান সংবিধান মানেও না। অভ্যুত্থানে জনগণের জনগণের অভিপ্রায়ের যে পরম অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়, ওইটাই আসল এবং একমাত্র সংবিধান। সংসদ বিলুপ্তি, অ্যাটর্নি নিয়োগ, রেফারেন্স চাওয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ জনগণের অভিপ্রায়েই হয়েছে। সুতরাং সব বৈধ।
সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর আলাপ হল, তাঁকে সরানোর জন্য যে 'অসাংবিধানিক চেষ্টা' হয়েছিল সব বিএনপি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কারণে ব্যর্থ হয়েছে। পুরনো পত্রিকা ঘাঁটলে দেখবেন, চুপ্পুকে প্রথম দিকে সরকার ও ছাত্ররা মেনে নিয়েছিল। 'শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র পাননি'- এই রকম একটা বক্তব্যের কারণে ছাত্ররা ক্ষেপে উঠে। চুপ্পুর অপরাসারণের দাবিতে বঙ্গভবনের দিকে যায়।
তখন বিএনপি চুপ্পুর পক্ষ নেয়। এটা নিয়েছিল চুপ্পুর প্রতি প্রেমের কারণে না। কারণটা ছিল, অভ্যুত্থানের পরের দেড় মাসে পরিস্থিতি নরমালের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময়ে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিলে, দেশে আর কোনো পদক্রম, প্রজাতন্ত্র কোনোটাই থাকত না। প্রধান উপদেষ্টা যদি তাঁর সাংবিধানিক 'বস' রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিতে পারে আন্দোলনের জোরে, তাহলে প্রধান উপদেষ্টাকে তাঁর নীচের পদের কেউ সরিয়ে দিতে চেষ্টা করবে না- এই নিশ্চয়তা নেই। তাই বিএনপি এনার্কিতে যায়নি। আরেকটা কারণ হল, গণভোটের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের যে টেকনিক্যাল আইনী বৈধতা ছিল, তা ছিল রাষ্ট্রপতির সংসদ বিলুপ্ত করা, আদালতের রেফারেন্স নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ পড়ানোর কারণেই।
তো রাষ্ট্রপতি যে বলছেন, প্রধান উপদেষ্টা বিদেশ সফরের বিষয়ে তাকে না জানিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, এর আগে তার ভাবা উচিত- উনি কতবার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
৩. চুপ্পুর একজন স্টাফ আমাদের বন্ধু। চব্বিশের অক্টোবরে উনি আমাকে জানিয়েছিলেন, মহামান্য আজকাল জিয়াউর রহমানের জীবনী পাঠ করছেন। বিএনপিকে খুশি রাখার চেষ্টা করছেন। এখনও সেই চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। 'তারেক রহমান আপনার আব্বাকে একটু আব্বা ডাকি'- গান গাইছেন।
কিন্তু বিএনপি যে এতে গলছে না, তা ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরেই টের পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রাচার হলো, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিলে, প্রধানমন্ত্রী আগে যান। রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করেন। তারপর কর্মসূচি শেষে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় দেন।
কিন্তু একুশ ফেব্রুয়ারি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বেরিয়ে যাওয়ার পরের মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে প্রবেশ করেছেন। এটা তো কাকতালীয় নয়। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত এড়িয়েছেন। প্রটোকল মেনে চললে, রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করে একসঙ্গে ফুল দেওয়ার কথা।
৪. নির্বাচনের আগে সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন তিনি অপমাণিত বোধ করছেন। নির্বাচনের পর পদত্যাগ করবেন। এখন ডেকে নিয়ে সাক্ষাতকার দিয়ে, বিএনপি ও তারেক রহমানকে তেল দিয়ে চুপ্পু যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তা হচ্ছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পদে থাকার চেষ্টা।
কারণ, পদত্যাগ চুপ্পুর জন্য বিপজ্জনক। সংবিধানের কারণে সিটিং রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলে না। বিচার করা যায়। পদত্যাগের পর চুপ্পুকে এগুলো ফেইস করতে হবে। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম-নাগরিকত্ব, দু্বাইয়ে টাকা পাচারের মাধ্যমে প্রপার্টি কেনা, এস আলমের সঙ্গে ঘনিষ্টতার জোরে ইসলামী ব্যাংকে ঢুকে লুটপাট, দুদকে থাকার সময় খাম নেওয়া- অনেক কিছুর জন্য তাকে ধরা হবে।
তাই চেষ্টা করছে, বিএনপিকে তেল মালিশ এগুলো থেকে বাঁচা যায় কিনা। এই কারণেই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি। সরকার জানত, একবার বিদেশ গেলে আর ফিরবে না।
৫. আমি সাক্ষাতকার নিলে, যে প্রশ্নটা করতাম তাহলো, আপনি বলেছিলেন পদত্যাগ করবেন- তাহলে কবে যাচ্ছেন? এই বেসিক প্রশ্নটাই নেই। এর মানে এটা সাক্ষাতকার নয়। পেইড পিআর।
চুপ্পু বারাবার দুঃখ করে বলেছেন, তার ছবি বিদেশি মিশন থেকে সরিয়ে অপমাণ করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তো, রাষ্ট্রপতির অফিসে বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকার কথা। সেই ছবি কী আছে? নাই। চোদনের মুখে সরিয়ে ফেলেছে। তো যে চোদনের মুখে সংবিধান লঙ্ঘন করে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলে, সে কীভাবে আশা করে তার ছবি অন্যরা রাখবে?
সংবিধান এবং আইনানুযায়ী, সরকারি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন যেকোনো দপ্তরে, দূতাবাসে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু এবং সরকারপ্রধানের ছবি থাকবে। দূতবাসে থাকবে রাষ্ট্রপতির ছবি। কয়েকদিনের জন্য হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টারাও নিজেদের ছবি ঝুলিয়েছিলেন। ড. ইউনূস এই অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসেন। তারেক রহমান তা অব্যহত রেখেছেন। কোথাও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই।
যুক্তির কথা ধরতে গেলে, ড. ইউনূসের মত তারেক রহমানও সংবিধান সমুন্নত রাখার শপথ নিয়ে তা রক্ষা করছেন না। ৪(ক) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন কররছেন, বঙ্গবন্ধু ছবি না লাগিয়ে। পদ যাওয়ার এটুকুই যথেষ্ট।
৬. এ কারণেই সংবিধানে কী লেখা আছে, এটার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জনগণের অভিপ্রায়। নতুন সংসদ বসার পর ১০ মিনিটের মধ্যে স্পিকার নির্বাচিত হয়ে যাবে। এরপর আর সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কা থাকবে না।
চুপ্পু যতই বিএনপিকে তেল দিক বা পিআর ক্যাম্পেইন করুক, আমার ধারনা তাকে রাষ্ট্রপতি পদে রাখবে না সরকার। কারণ, দুদকে থাকাকালে নানা তত্ত্ব হাজির করে যেভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, তা 'হি ওয়াজ ভেরি কর্ডিয়াল' এই তেলে মুছবে না।
তবে পদত্যাগের আগে চুপ্পুকে অভিশংসন করা উচিত। তারপর যা আকাম অতীতে করেছে, এর ন্যায়বিচার করা উচিত। যাতে সাক্ষাতকার নিয়ে তাকে সাধু সাজানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
Sunday, 22 February 2026
ইউনূস সাহেব আমাদের সাথে বেঈমানি করেন নাই।
চুপ্পু বলেছে,
শুধু বিদেশ না, বরং দেশের কোন অনুষ্ঠানেও আমাকে ইউনূস যেতে দেয় নাই।
অভিনন্দন, প্রফেসর।
চুপ্পুই প্রমাণ করে দিল, আপনি জুলাইকে কতটা ধারণ করতেন।
চুপ্পুর প্রতিটা কথায় প্রফেসর ইউনূসের প্রতি রাগ, ক্ষোভ উপচায় পড়তেসিল।
এতেই প্রমাণ হয়, ইউনূস সাহেব আমাদের কতটা কাছের মানুষ ছিলেন।
ইতিহাসে বন্ধুর চেয়ে শত্রুর কথার গুরুত্ব বেশি।
রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে কারা শান্তির পরশ দিয়ে টিকায় রাখছিল, আর কারা তাকে শান্তিতে থাকতে দেয় নাই, সেই ইতিহাস আজ লেখা হলো।
এখন অনেকেই অনেক কথাই বলবে।
কিন্তু আজ থেকে ৫০ বছর পরে, ইনসাফের আয়নায় লেখা জুলাইয়ের ইতিহাসে স্পষ্ট লেখা থাকবে, ইউনূস সাহেব আমাদের সাথে বেঈমানি করেন নাই।
হয়তো সরাতে পারেন নাই।
বাট একমুহূর্তও তিনি উনাকে শান্তিতে থাকতে দেন নাই।
জুলাই আর ইনকিলাবের পক্ষে ইউনূসের এই অবদান আমরা স্বর্ণের হরফে লিখে রাখব, ইনশাআল্লাহ।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ, প্রফেসর!!
ইউ উইল বি রিমেম্বার্ড!!
মব জাস্টিস করে বিএনপি। দায় চাপায় প্রতিপক্ষের ঘাড়ে!
১।
ইন্টারিমের সময়ে , প্রশাসনে মেজরিটি ছিলো বিএনপি সমর্থিত। যেমন অ্যাটর্নি আসাদুজ্জামান, আদিলুর, হাসান আরিফ, সালাউদ্দিন আহমেদ, খলিলসহ প্রমুখ। পাশাপাশি ব্যাকাপ পেয়েছে ছুপ্পু ও ওয়াকার থেকে। জুলাইয়ের বিরুদ্ধে সবচে বেশি প্রভাব এ দুজনের। সঙ্গে ছিলো আসিফ নজরুল।
এবং প্রশাসনলীগ ছিলো বিএনপির পক্ষে। যেহেতু চোরে চোরে মাসতুতো ভাই এবং বিএনপি সম্ভাব্য ক্ষমতাসীন। অনুগত্যের খাতিরেই তাদের নির্দেশ মানতে হয়েছে।
অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, আইন, মানবাধিকার বা নীতিনির্ধারণী পদে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ বা ঐতিহাসিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাধান্য ছিলো বেশি।
রাজনৈতিক কভার স্টোরিতে 'কিংস পার্টি' বা 'স্টুডেন্ট কন্ট্রোল' তত্ত্ব প্রচার করে দায় চাপিয়ে গেছে জাশি ও এনসিপিকে।
ন্যারেটিভ ছড়াইছে- 'সবাই বিএনপিকে ঠেকাতে চায়!'
ইন্টারেস্টিংলি, বিএনপি একটা ক্লাসিক প্ল্যাসিবল ডেনিয়াবিলিটি কৌশল নিয়েছে খলিলকে নিয়ে। মানে প্রকাশ্যে বিরোধীতা। গুপ্ত ভাবে স্বাগতম।
নিজের দুর্ভিসন্ধি গোপন রেখে, অন্যকে দোষী করার এই মোনাফেকির ফল পাবে স্থানীয় নির্বাচণে।
২।
লীগের মব বাদ দিলে, সবচে বেশি মব করেছে বিএনপি। লীগের অফিস, বাসবাড়ি, থানা সারাদেশে বিশৃঙ্খলা- তাদেরই বেশি।
যেমন -
- ইসলামী ব্যাংক এর মতিঝিল শাখা সিজ করার মব।
- বাঘেরহাট প্রেস ক্লাবে মব করে ভাঙচুর।
- একই উপজেলা অফিস লন্ডভণ্ড করা।
- ফেনী, নোয়াখালী, বগুড়া নানা জায়গায় লুটপাট জ্বালাও পোড়াও- তাণ্ডব করে গেছে পুরো সময়।
- ৯১% মবের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে।
- মববাজিতে আড়াই শ মানুষ খু?ন।
মববাজ স্বীকৃতি পেতে আর কিছু লাগে না তো।
এখন তো লাগতেছে -
নির্বাচন দেরীর আলাপ দেখে ডগিফাই ও বিএনপির সম্মিলিত পরিকল্পিত মব ছিলো ওগুলো। ইন্টারীমকে অস্থিতিশীল রেখে, মাঠে শক্তি প্রদর্শন করে আলোচনার টেবিলে সুবিধা নিয়েছে।
দোষ দিয়েছে জাশি ও এনসিপিকে-"ওরা নির্বাচন চায় না বলে মব করে।"
৩।
এমনকি, কালো-স্টারের হামলাও প্রিপ্ল্যানড। এটা হইতে দিছে ইচ্ছাকৃত। বিক্ষুব্ধ জনতাকে উস্কে দিয়ে, নিজেদের লোক ঢুকিয়ে, হামলা চালিয়ে ভিকটিম কার্ড দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ন্যারেটিভ কন্ট্রোল করেছে সকল বিএনপি ও দেশবিরোধী মিডিয়া। মানে পুরো পৃথিবীতে আলোড়ন তুলে ফেলেছে!
ঘটনায় বিএনপির ভাতার ডগিফাই জড়িত বলে মনে করি এবং এই "আগা নাই হোঁদের গুড়গুড়ি বেশি " দেখে বুঝা যায় ওইটা বিরোধী মতকে শোয়ায়ে দেওয়ার নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ছিলো।
৪।
সাস্ট নির্বাচন স্থগিতের নামে, নির্বাচন কমিশনের বিল্ডিং ঘেরাও করে, টানা দুইদিন মব করেছে ছাত্রদল। ছাত্রসংসদ নির্বাচন মেইন ইস্যু ছিলো না। ছিলো ঋণ খেলাপীদের নমিনেশ টিকায়া রাখতে চাপ তৈরি।
ভণ্ডামি এখানেও!
৫।
নির্বাচনের সপ্তাহ আগে থেকে মবটব-চাঁদাবজি সব উধাও। সেইকি শৃঙ্খলা! তারমানে এতদিন ধরে সব বিশৃঙ্খলা ওদের কারসাজি ছিলো নির্বাচন আদায়ের এবং ডগিফইয়ের বিচার বানচালের।
কিন্তু বিএনপি মববাজির দায় চাপায় প্রতিপক্ষকে। যাতে তাদের আকাম ধরা না খায়।
নির্বাচনের পরও এরা মব করে জাতীয় পার্টি ও রুমিনকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেয়নি।
মানে সারাদেশে মব জাস্টিস করে বিএনপি। দায় চাপায় প্রতিপক্ষের ঘাড়ে!
ইন ফ্যাক্ট, বিএনপির মব শাহাবাগের মবের চাইতে ভয়ংকর ও সর্বগ্রাসী। কারণ, শাহাবাগের উদ্দেশ্য ক্লিয়ার ছিলো। মোনাফেকি ছিলো না। কিন্তু বিএনপি প্রতিটা মবের পিছনে নোংরা উদ্দেশ্য সাধনে লিপ্ত ছিলো।
মব করেও ক্ষান্ত হয়নি। অনলাইনে তাদের বুদ্ধিজীবী দ্বারা, ন্যারেটিভ তৈরি করে গেছে - বিএনপি মানে স্টেবিলাইজেশন!!
মোনাফেকির ক্লাসিক উদাহরণ তৈরি করেছে দলটা।
৬।
নির্বাচনের আগে বিএনসিসিকে নির্বাচনী ভলেন্টিয়ার হিশেবে বাতিল করেছে অনভিজ্ঞতার অজুহাতে। আশলে অনভিজ্ঞতা ইস্যু না। ওরা থাকলে, লীগের ভোটচুরির অভিজ্ঞ প্রিসাইডিং অফিসার দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করতে না পারার ভয় থেকেই বাতিল করা।
উপরে এক অজুহাত দিয়ে তলে তলে আরেক উদ্দেশ্য সাধনের নামই তো মোনাফেকি! অথচ অন্যদের দেয় সেই তকমা!
মানে -জাজর বলে সূচকে - তোর পাছায় ফুটা।
৭।
গণভোটের মোনাফেকি তো সুস্পষ্ট। প্রথমে টালবাহানা, পরে চাপে পড়ে, প্রবাসী ভোট শেষ হবার পরে মিনিমিনে সমর্থন। কিন্তু তলে তলে 'না' ক্যাম্পেইন। আর ক্ষমতায় গিয়েই পল্টি!
কিরে ভাই! চক্ষু লজ্জাটুকুও বুঝি থাকবে না?
দেখতাম -লীগের তুলনায়, বিএনপির রাজনীতি করে ভদ্রলোকেরা।
আজ -
মোনাফেকির অসভ্য রাজনীতিতে ভদ্রলোকের জন্যে বিএনপি করাটা কঠিন হয়ে গেছে।
সামনে যদি দেখেন, বিএনপি কোনো ইস্যু নিয়ে ব্যাপক সরব। মিডিয়া উত্তপ্ত। মাঠে উশৃঙ্খল। ওদেরকে সন্দেহ করুন। বুঝতেই পারছেন এতদিনে - ঘটনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ গল্পটা কে লিখছে, কেনো লিখেছে - তা জানা।
সুতরাং দৃশ্যমান ঘটনা এড়িয়ে, বিহাইন্ড দ্যা সিন দেখার চেষ্টা করুন।
মোনাফেকদের বিশ্বাস করাও মোনাফেকি।
Writer- আহমেদ সাহাব
Subscribe to:
Comments (Atom)











