Khan Thoughts
Saturday, 24 October 2026
24 prénoms pour un seul magasin. Le 22 octobre 2026, CNews a lu à l'antenne la liste des personnes mises en cause dans le pillage du Darty de la place de la République, à Paris (75).
🚨 UN DOCUMENT DE POLICE SUR LA PLACE PUBLIQUE :
La chaîne dit avoir consulté un document de police confidentiel. Il concerne 24 personnes mises en cause dans le pillage du magasin, dans la nuit du 17 au 18 octobre. Seuls les prénoms ont été cités.
La liste lue à l'antenne compte 24 prénoms : Marc Junior, Ibrahima, Matisse, Boubacar, Sidy, Djibril, Sekhou, Diokira, Ken Itchi, Mahmoud, Francisco, Zachary, Johan, Adama, Doumacy, Ali, Mohamed, Yassine, Fousseyni, Vincent, Mesaoud, Meftah, Ryan et Saïd Brahim. Le compte Frontières en a repris une dizaine sur X le soir même.
Le lendemain des violences, l'AFP décrivait la vitrine éventrée du Darty, gardée par deux agents de sécurité et un chien muselé.
🔍 UNE NUIT RECORD À PARIS :
Selon la préfecture de police, 855 personnes ont été interpellées dans la capitale le 17 octobre, un chiffre record. Le parquet de Paris comptait 557 gardes à vue le lendemain matin, en grande majorité des majeurs.
Les pillages ont visé la gare Saint-Lazare, Châtelet-les-Halles, la place de la République et les Champs-Élysées, selon le parquet. Il recensait 33 magasins pillés dans la capitale.
Le 20 octobre, le ministère de la Justice décrivait des pilleurs presque tous masculins, majeurs à 70%, et souvent déjà connus de la police. Ils sont allés voler « à la Fnac ou chez Darty », a résumé sa porte-parole. Pas de révolutionnaires, des clients sans caisse.
📉 LA COLÈRE SOCIALE A BON DOS :
La journée du 17 octobre était annoncée comme une mobilisation « contre la vie chère ». Dans les salles de comparution immédiate, on juge des vols chez Louis Vuitton, chez JD Sports ou de 7 paires de lunettes, pas des revendications.
Un téléviseur volé ne remplit pas un frigo. Ceux qui paient la facture, ce sont les salariés du magasin, les assureurs et, au bout de la chaîne, tous les clients honnêtes.
Ces 24 personnes restent présumées innocentes tant qu'elles n'ont pas été jugées, et leur sort judiciaire n'a pas été rendu public. Mais le débat est lancé : ceux qui pillent doivent-ils rester des anonymes ?
Et la suite est déjà annoncée. Le samedi 24 octobre, la CGT manifeste de nouveau, et Solidaires appelle aussi à descendre dans la rue.
Faut-il publier l'identité de ceux qui pillent nos commerces ? La justice sera-t-elle enfin à la hauteur ?
💬
⚠️ Note aux commentateurs : On reste polis et on garde son calme pour échanger sur le fond de ces sujets. 🙏
Source : X (@Frontieresmedia), CNews, AFP, préfecture de police de Paris, parquet de Paris, ministère de la Justice
*Image d'illustration générée ou modifiée par IA.
Wednesday, 21 October 2026
লক্ষ লক্ষ মূর্তি উন্মুক্ত জলাশায়ে ফেলা হলো।
আজকে বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মূর্তি উন্মুক্ত জলাশায়ে ফেলা হলো।
মূর্তির রং, কেমিকেল মিশলো খাল, বিল, নদী, সমুদ্রের পানিতে।
কয়েকদিনের মধ্যে মূর্তি ভেতরের অংশ পানিতে পচে পানিতে বিষাক্ত গ্যাস তৈরী করবে,
আর সেই গ্যাসে মারা পড়বে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী।
বাংলাদেশের পরিবেশবাদীরা অনেক কিছু নিয়ে সোচ্চার।
পরিবেশের কথা বলে তারা মানুষের রুটি রুজি পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে।
কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয়, প্রতি বছর পূজার সময় লক্ষ লক্ষ মূর্তি
উন্মুক্ত জলাশয়ে ফেলা হলে যে ভয়ঙ্কর নদী দূষণ হয়,
সেটা নিয়ে তারা কখনো কথা বলে না।
আপনাদের মনে থাকার কথা,
কয়েক বছর আগে কোরবানীর ঈদে পশুর রক্ত বৃষ্টির পানিতে মিশে
লাল বর্ণ ধারণ করায় মিডিয়াতে বেশ লেখালেখি হয়েছিলো।
“গেলো গেলো পরিবেশ গেলো” বলে রব উঠেছিলো।
কিন্তু বাস্তবতা হলো- রক্ত পানিতে মিশলে পানি দূষিত হয় না, বরং মাছের খাবার হয়।
অপরদিকে মূর্তির রং কেমিকেল ও অভ্যন্তরীণ বস্তু পানিতে মিশে
সুস্পষ্ট পানি দূষণ করলেও সেটা নিয়ে কাউকে কথা বলতে দেখা যায় না।
হয়ত বলতে পারেন, হিন্দুরা সংখ্যালঘু বলে কী পানিতে ডুবানোর অধিকার পাবে না ?
আরে ভাই, ইউরোপ আমেরিকা কিংবা মিডলইস্টেও তো হিন্দুরা সংখ্যালঘু।
খবর নিয়ে দেখুন তো, সেখানে হিন্দুরা পূজার মূর্তি পানিতে ডুবাতে পারে কী না ?
কখনই পারে না।
বরং ইউটিউব ঘাটলে অনেক ভিডিও পাবেন, যেখানে ঐসব এলাকার হিন্দুদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়,
কিভাবে বালতির মধ্যে পানি নিয়ে সেই পানিতে মূর্তি ডুবানোর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।
শুধু তাই না, খোদ হিন্দুর দেশ ভারতের গঙ্গায় মূর্তি ডুবানোর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রায় হয়েছিলো।
এছাড়া সম্প্রতি তামিল নাড়ুতে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে উন্মুক্ত জলাশয়ে মূর্তি না ডুবাতে বলা হয়েছে।
তাহলে একই কাজ বাংলাদেশে করলে সমস্যা কোথায় ?
পরিবেশ রক্ষায় অবশ্যই বাংলাদেশে উন্মুক্ত জলাশায়ে পূজার মূর্তি ডুবানো নিষিদ্ধ করা উচিত।
Friday, 9 October 2026
নোয়াখালী/ফেনী শব্দ শেখা ।
সমস্যা -সময়ইস্যা
বেগুন -বাইয়ূন
খাবি/খাইবি ? -খাইবিনি ?
ছোট ছেলে -লেদা হোলা
কচি -ডেগা
আমাদের -আংগো
তোমাদের -তোগো
টাকা -টেয়া
পাচঁ টাকা -হাঁচ টেয়া
মসজিদ -মোসোঔদ
চেয়ার-চেঁর
ঝাডু-হিছা
সবাই -বেকগুন
এনেছে-আইনছে
টাওয়েল-টইলা
বদনা-বনদা
পায়খানা-পাইকানা
আসবো -আমু
যাবো-যামু
করবো -করুম
দেখবো-ছামু
পারবো-হারুম
বাতাস-হাবা
পানি-হানি
গোবর-গোপর
Wednesday, 23 September 2026
টাকা ব্যবসা শুরু করে না, টাকা ব্যবসার গতি বাড়ায়।
টাকা নাই বলে ব্যবসা করতে পারতেছি না এই কথাটা প্লিজ বাইরে আর কাউকে বলতে যাইয়েন না।
মানুষ মুখে সান্ত্বনা দিলেও পেছনে কিন্তু হাসে।
কারণ সবাই জানে সমস্যাটা আপনার পকেটে না, সমস্যা আপনার মাথায়।
একটু তিতা সত্য বলি?
কাল সকালে যদি আপনার একাউন্টে ৫ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়, আপনি কী করবেন জানেন?
সোজা গিয়ে একটা দোকান বা অফিস ভাড়া নেবেন।
দেড় লাখ টাকা ডেকোরেশনে উড়াবেন।
এসি লাগাবেন।
ভিজিটিং কার্ড ছাপাবেন।
আর বন্ধুদের বিরিয়ানি খাইয়ে উদ্বোধন করবেন।
এরপর?
তিন মাস কাস্টমারের অপেক্ষায় মাছি মারবেন।
আর চার মাসের মাথায় শাটার নামিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেবেন,
"মার্কেট বড় খারাপ ভাই, দেশে ব্যবসার পরিবেশ নাই!"
টাকা ব্যবসা শুরু করে না ভাই।
টাকা ব্যবসার গতি বাড়ায়।
যার কাছে সাইকেল চালানোর ব্যালেন্স নাই, তার হাতে সাড়ে তিন লাখ টাকার ইয়ামাহা R15 তুলে দিলে সে এক্সিডেন্টই করবে।
ব্যবসা কী জানেন?
একদম সোজা হিসাব কারো একটা জ্বলন্ত সমস্যা খুঁজে বের করে সেটার সমাধান দেওয়া।
ভোর ৪টায় কাওরান বাজারে দাঁড়িয়েছেন কখনো?
বহু পোলাপান আছে, পকেটে ৫০০ টাকাও নাই।
তারা শুধু আড়তদার আর পাইকারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক ট্রাক সবজি এদিক থেকে ওদিক হ্যান্ডওভার করিয়ে দিয়ে সকাল ৮টার মধ্যে ৩-৪ হাজার টাকা প্রফিট নিয়ে নাস্তা করতে বসে।
তাদের তো দোকান নাই।
গোডাউন নাই।
বাপের কোটি টাকাও নাই।
তাহলে তাদের কী আছে?
১. ভোর ৪টায় বিছানা ছাড়ার ডিসিপ্লিন।
২. পণ্যের কোয়ালিটি চেনার চোখ।
৩. আর মানুষের সাথে কথা বলে ডিল ফাইনাল করার সাহস।
আসলে আমাদের সমস্যা কী জানেন?
আমরা শুরুতেই 'মালিক' সাজতে চাই।
শুরুতেই টেবিলে পা তুলে এসি রুমে বসতে চাই।
আমরা লজ্জা পাই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কথা বলতে।
আমরা ভয় পাই কেউ 'না' করে দিলে সেই অপমান সহ্য করতে।
আর এই নিজের অলসতা আর অহংকার ঢাকার জন্য আমরা সবচেয়ে মিষ্টি একটা অজুহাত খুঁজে নিই
"আমার তো ভাই পুঁজিপাটা নাই!"
টাকা কোনো সমস্যা না।
বাজারে কোটি কোটি টাকা অলস পড়ে আছে।
সমস্যা হলো আপনার এমন কোনো স্কিল বা নেটওয়ার্ক নাই, যা দেখে কেউ আপনার ওপর আস্থা রাখবে।
বুকে হাত দিয়ে বলেন তো,
আপনার আসলেই টাকার অভাব?
নাকি মাঠে নেমে জুতা ক্ষয় করার সৎ সাহসের অভাব?
ভালো লাগলে আইডিটা ফলো দিয়ে পাশে থাকবেন,
আপনাদের সাথে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।
(লেখা ও ছবি: মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন হাসান। আইডি লিংক কমেন্টে। ভালো লেগেছে বলে আমি শেয়ার দিলাম। )
Monday, 21 September 2026
Refugee Status বা Protection Subsidiaire পেলে Minor সন্তানের কী হবে?
🇫🇷 ফ্রান্সে বাবা-মা Refugee Status বা Protection Subsidiaire পেলে Minor সন্তানের কী হবে?
আসসালামুয়ালাইকুম সবাইকে। আজকের বিষয়টি নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি আছে। আজ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চাই।OFPRA-এর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি মূলত পরিস্কার করতে চাই:
১. Asylum আবেদন করার সময় সন্তান যদি ফ্রান্সে বাবা-মায়ের সঙ্গে উপস্থিত থাকে:
বাবা-মায়ের asylum আবেদন minor সন্তানের জন্যও আবেদন হিসেবে গণ্য হয়। বাবা-মা protection পাওয়ার সময় সন্তানও OFPRA-এর protection-এর আওতায় আসে। বাবা-মায়ের একজন Refugee Status পেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সন্তানও refugee status পেতে পারে; আর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে protection subsidiaire দেওয়া হতে পারে। OFPRA-এর সিদ্ধান্তে minor সন্তানের সিদ্ধান্তও উল্লেখ থাকতে পারে।
২. বাবা-মায়ের asylum আবেদন রেজিস্টার করার পরে সন্তান ফ্রান্সে এসেছে বা ফ্রান্সে জন্মেছে:
এক্ষেত্রে সন্তানকে protection দেওয়ার জন্য সরাসরি OFPRA-তে চিঠি/ফাইল পাঠিয়ে নতুন asylum application শুরু করা যায় না। সন্তানের ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে asylum/protection প্রয়োজন হলে বাবা-মাকে প্রথমে Préfecture-এর মাধ্যমে সন্তানের নামে asylum application রেজিস্টার করতে হবে। এরপর OFPRA সেই আবেদন পরীক্ষা করবে।
২০২৬ সালের ১২ জুন থেকে এই ধরনের minor সন্তানের জন্যও নতুন formulaire unique de demande d’asile ব্যবহার করা হচ্ছে। Préfecture-এ রেজিস্ট্রেশনের সময় সংশ্লিষ্ট procedure নির্বাচন করে ফর্ম দেওয়া হয়।
৩. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: বাবা-মা protection পাওয়ার পরে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বা তাদের সঙ্গে পরে যোগ দেওয়া minor সন্তানের জন্য আলাদা asylum আবেদন করা বাধ্যতামূলক নয়। OFPRA বলছে, এমন সন্তান বাবা-মায়ের international protection-এর কারণে ফ্রান্সে থাকার অধিকার পায়। প্রয়োজন হলে Préfecture থেকে DCEM (Document de circulation pour étranger mineur) এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী TIV (Titre d’identité et de voyage)-এর আবেদনও করা যায়। সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে, যদি এর মধ্যে French nationality না পেয়ে থাকে, তবে তার residence permit-এর বিষয়টি তখন নিশ্চিত করা হয়।
সহজ কথায় বলতে গেলে:
👉 Asylum করার সময় বাচ্চা সঙ্গে থাকলে → সাধারণত বাবা-মায়ের asylum case-এর সঙ্গেই সন্তানের বিষয়টি বিবেচিত হয়।
👉 Asylum application-এর পরে বাচ্চা এসেছে/জন্মেছে → প্রয়োজন হলে সন্তানের আলাদা asylum application Préfecture দিয়ে শুরু করতে হবে, সরাসরি OFPRA দিয়ে নয়।
👉 বাবা-মা protection পাওয়ার পরে জন্মানো/যোগ দেওয়া minor সন্তানের শুধু ফ্রান্সে বৈধভাবে থাকার জন্য আলাদা asylum status নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
সরকারি তথ্য: OFPRA — Enfants de bénéficiaires d'une protection internationale
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমি যতটুকু সম্ভব সরকারি সূত্র দেখে তথ্যগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তারপরও আমার লেখায় বা তথ্যে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সঠিক তথ্য জানা থাকলে সংশোধন করে দেওয়ার অনুরোধ রইল। আইন ও প্রশাসনিক নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে, তাই নিজের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে OFPRA বা Préfecture-এর সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেবেন।
সবার জন্য অনেক দোয়া ও শুভকামনা রইলো। আল্লাহ তাআলা সবাইকে ভালো রাখুন, সুস্থ রাখুন।
🖋অ্যাডভোকেট শায়লা ইসলাম
#BangladeshiCommunityFrance #প্রবাসী #ফ্রান্সপ্রবাসী #ফ্রান্সে_আশ্রয় #রিফিউজি_স্ট্যাটাস #সাবসিডিয়ারি_প্রোটেকশন #OFPRA_তথ্য
Wednesday, 16 September 2026
ভারতপন্থী নাকি পাকিস্তানপন্থী? এই বাইনারীর আবর্তে পুরো দেশ।
আপনি ভারতপন্থী নাকি পাকিস্তানপন্থী?
এই বাইনারীর আবর্তে পুরো দেশ। মানে ভারতপন্থী চোখে দেখা যায়, শোনা যায়, পড়া যায়। কিন্তু ভারতপন্থী আছে বলে একটা প্রান্তিক অবস্থান কি আপনার নিতেই হবে পাকিস্তানপন্থী বলে?
এটা অনেকটা এমন যে ছেলেবেলায় পাড়ার মাস্তান বাচ্চাদের মাইর খেয়ে আসতাম। কেঁদে কেঁদে মার কাছে আসলে মা বলতো, "ভাল হইছে। সাধু হইলে তোরে মারছে কেন?"
মেরুকরণ।
জোড়া।
পাকিস্তানপন্থী কি ভাই?
পাকিস্তান কি আপনার নদীতে বাঁধ দিয়েছে?
পাকিস্তান কি আদানীর মতে আপনার বিদ্যুতের সুইচ নিয়ে বসে আছে?
পাকিস্তান কি আপনার সীমান্তে মানুষ হত্যা করে?
পাকিস্তানে কি বাংলাদেশী বলে ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে মবের মত মব হয়?
পাকিস্তানে কি গরু বা শুকর খাওয়ার অপরাধে মানুষ হত্যা হয়?
পাকিস্তানে কি আপনার ধর্ম ও দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ করবে?
পাকিস্তানের সাথে কি আপনার বানিজ্য ঘাটতি ভারতের মত?
ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বলতে গেলে পাকিস্তানপন্থী ম্যাৎকার কেন করেন?
হাসিনা ভারত পালাইছে। সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীসহ হুট করে ঢুকে যাওয়ার হুমকী দিচ্ছে। পনর বছর হাসিনার অত্যাচারে কোন বিএনপি জামাতের নেতা কি পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছে?
পাকিস্তান কি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হুমকী দিছে?
নির্বাচনের সময় বিনা সিক্রির মতো কেউ এসে কি রাজনৈতিক নাক গলিয়েছে?
ভারত ডেভিল আছে বলেই প্যারালাল একটা ডেভিল সৃষ্টি করতে হবে কেন?
আধিপত্যবাদের নিন্দা করতে আপনার এত অজুহাত কেন ভাই?
মুঘল, বৃটিশ যেমন গন কেইস, তেমনি পাকিস্তানও গন কেইস।
ভারত এক্সিস্টিং কেইস।
এক্সিস্টিং কেইস বুঝলে দেশের সার্বভৌমত্ব বুঝতে পারবেন। নচেৎ নয়।
জিন্নাহকে “বাংলাদেশের শত্রু” বলা একপ্রকার কালানুক্রমিক ভুল।
জিন্নাহকে “বাংলাদেশের শত্রু” বলা একপ্রকার কালানুক্রমিক ভুল। তিনি ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব তখন কেবল অস্তিত্বহীনই নয়—সেই নামে কোনো রাজনৈতিক প্রকল্পও তার জীবদ্দশায় গঠিত হয়নি।
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হিসেবে মাত্র ১৩ মাস বেঁচেছিলেন। পূর্ববঙ্গ তখন পাকিস্তানের পূর্ব অংশ; জনসংখ্যায় তা পশ্চিম অংশের চেয়ে বড়। বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র, মুক্তিযুদ্ধ, অপারেশন সার্চলাইট, বা এমনকি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির রক্তপাত—এসব তার মৃত্যুর পরের ঘটনা।
পূর্ববঙ্গের মুসলমান রাজনীতি পাকিস্তান আন্দোলনের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ ছিল। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক। ১৯৪৫-৪৬ সালের নির্বাচনে বঙ্গীয় মুসলিম লীগ তীব্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। অর্থাৎ যে রাজনৈতিক স্রোত পূর্ববঙ্গকে পাকিস্তানের অংশে পরিণত করে, তার ভিত্তি বাঙালি মুসলমান নেতৃত্ব ও ভোটারদের সমর্থনেই গড়া। জিন্নাহ সেই স্রোতের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ছিলেন, স্থানীয় উদ্যোক্তা নন।
আরও একটি তথ্য প্রকাশ্য আলোচনায় আসে না। ১৯৪৭ সালের এপ্রিল-মেতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শরৎচন্দ্র বসু যুক্ত ও সার্বভৌম বঙ্গের প্রস্তাব তোলেন। জিন্নাহ সেই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছিলেন। মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেছিলেন, কলকাতা ছাড়া বঙ্গের অর্থ কী—তারা একত্র ও স্বাধীন থাকলেই ভালো; পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে। প্রস্তাবটি কংগ্রেস হাইকমান্ড ও হিন্দু মহাসভার বিরোধিতায় ভেঙে যায়, এবং বঙ্গ বিভক্ত হয়। অর্থাৎ জিন্নাহ “বাঙালি রাষ্ট্র” ধারণার বিরুদ্ধে ছিলেন না; তিনি একসময় তাকে পাকিস্তানের বাইরেও কল্পনা করতে পেরেছিলেন। 
যে মানুষ বাংলাদেশ দেখেননি, তাকে বাংলাদেশের বিপক্ষে দাঁড় করানো তাই ইতিহাসের পূর্বাপর বিচার নয়—পরবর্তী রাজনীতির প্রয়োজনে তৈরি করা দায়িত্বারোপ।
জিন্নাহর বিরুদ্ধে অভিযোগের কেন্দ্র হচ্ছে ওনার ১৯৪৮ সালের মার্চের ঢাকা সফরের এক বক্তৃতা। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেন। যেখানে উনি ইংরেজিতেই বলেছিলেন, “Let me make it very clear to you that the State Language of Pakistan is going to be Urdu and no other language. Anyone who tries to mislead you is really the enemy of Pakistan.” ছাত্ররা ওনার বক্তব্যের এই অংশের বিরোধিতা করে।
কিন্তু একই ভাষণে তিনি আরও বলেন, প্রদেশের দাপ্তরিক ভাষা কী হবে তা প্রদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই স্থির করবেন; বাংলা ভাষায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন স্পর্শ করা হবে না। সমাবর্তন ভাষণে তিনি আবার বলেন, প্রাদেশিক দাপ্তরিক ব্যবহারের জন্য প্রদেশের মানুষ যে ভাষা চান তাই বেছে নিতে পারেন; তবে প্রদেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ভাষা—lingua franca—একটিই হতে পারে, তা উর্দু। একই ভাষণের এই অংশটুকু মানুষ ইচ্ছা করেই রাজনৈতিক কারণে তুলে ধরে না।
জিন্নাহ উর্দুকে উপমহাদেশের কোটি কোটি মুসলমানের লালিত ভাষা এবং ইসলামি সংস্কৃতির নিকটবর্তী মাধ্যম হিসেবে দেখছিলেন, ঐক্যের প্রতীক হিসেবে। একইসঙ্গে ভাষা আন্দোলনকে তিনি প্রাদেশিকতা, পঞ্চম বাহিনী ও ভারতীয় ষড়যন্ত্রের খাতে ফেলেছিলেন। এই ফ্রেমিং ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল।
জিন্নাহ কিন্তু বাংলা নিষিদ্ধ করেননি; বাংলাকে প্রাদেশিক মর্যাদা দিয়েছিলেন। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠের মাতৃভাষাকে কেবল প্রাদেশিক মর্যাদায় রাখা কেন্দ্রীয় অভিজাতদের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের লক্ষণহিসাবে বাঙালিরা দেখে তার বিরোধিতা করে। বর্তমান পাকিস্তানে উর্দু জাতীয় lingua franca মানে যোগাযোগের ভাষা; পাঞ্জাবি, সিন্ধি, পশতু, সরাইকি, বেলুচি প্রাদেশিক ভাষা। ভারতে হিন্দি ইউনিয়নের দাপ্তরিক ভাষা, ইংরেজি অনির্দিষ্টকালের সহযোগী দাপ্তরিক ভাষা , এবং রাজ্যগুলোর নিজস্ব ভাষা আছে। একটি যোগাযোগ-ভাষা রেখে প্রাদেশিক ভাষা চালু রাখা বহুভাষী রাষ্ট্রে অস্বাভাবিক নয়।
তবু এখানে থেমে গেলে ভুল হবে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালায় পূর্ববঙ্গেরই বাঙালি প্রশাসন—মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন, বাঙালি ম্যাজিস্ট্রেট, বাঙালি পুলিশ।
১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ও উর্দু উভয়কেই রাষ্ট্রভাষা করা হয়। অর্থনৈতিক বৈষম্য, কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় পশ্চিম পাকিস্তানিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সামরিক শাসন, ১৯৭০-এর নির্বাচনের ফল অস্বীকার এবং ১৯৭১-এর সেনা অভিযান—এসব জিন্নাহর মৃত্যুর পরের রাষ্ট্রযন্ত্রের কাজ। লিয়াকত আলী খান, গোলাম মুহাম্মদ, ইস্কান্দার মির্জা, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান—এই ধারাকে ১৯৪৮ সালের এক নেতার ঘাড়ে চাপানো ঐতিহাসিক ভাবে ভুল।
আমাদের পাঠ্যপুস্তক আর আলোচনা থেকে উধাও করে দেয়া হয়েছে যে ঐতিহাসিকভাবে বাঙালি মুসলমানরাই পাকিস্তান আন্দোলনকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। খাজা নাজিমুদ্দিনসহ পূর্ববঙ্গের অনেক নেতাই উর্দুর পক্ষে সক্রিয় ছিলেন; জিন্নাহকে ঢাকায় ডেকেছিলেন তাঁরাই। লাহোর প্রস্তাবের মূল পাঠে ছিল “independent states”—বহুবচন; পরে তা একক পাকিস্তানে সংকুচিত হয়। যুক্তবঙ্গের সম্ভাবনা জিন্নাহ একবার সমর্থনও করেছিলেন। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ পাকিস্তানের পক্ষেই দাঁড়িয়েছিলেন।
ওদিকে আমাদের তথা বাংলাদেশিদের জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠা-আখ্যানে ভাষা আন্দোলনকে দেখানো হয় বাঙালিদের প্রথম প্রতিরোধ হিসাবে; এরপর আসে ছয় দফা স্বায়ত্তশাসনের সনদ, ৭ই মার্চ ঘোষণা এবং ১৯৭১ যা বাঙালিদের স্বাধিকারের চূড়ান্ত রূপ। এই শৃঙ্খলার “আদি পাপ” হিসেবে এখনও তার জিন্নাহর উর্দু-ঘোষণাকে গণ্য করে।
বাংলাদেশের জন্ম পাকিস্তানি রাষ্ট্রের দীর্ঘ ব্যর্থতার ফল— এবং পরিশেষে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যর্থতা। সেই ব্যর্থতার পুরো দায় ১৯৪৮ সালের এক অসুস্থ, তাড়াহুড়োয় থাকা প্রতিষ্ঠাতার ঘাড়ে চাপানো প্রকৃত ইতিহাসকে দরিদ্র করে তোলে।
জিন্নাহকে ভালোবাসা বা ঘৃণা করা রাজনৈতিক পছন্দ হতে পারে। কিন্তু তাঁকে “বাংলাদেশের বিপক্ষে” দাঁড় করানো তথ্যগতভাবে অসম্ভব। যা সম্ভব, তা হলো তাঁর সিদ্ধান্তের পরিণতি বিচার করা—কোনো পক্ষের ন্যারেটিভের খাতিরে নয, বরং ইতিহাসের খাতিরে। যদিও পাকিস্তান আমলেই সেই সিদ্ধান্ত বদলে, বাংলা এবং উর্দু দুই ভাষাকেই রাষ্ট্রভাষা করা হয়।
২০২৬ সালে যে জাতীয়তাবাদ কেবল শত্রু চিহ্নিত করে আনন্দ পায়, সেই জাতীয়তাবাদ ইতিহাস চর্চা করে না; সেখানে তাদের অজ্ঞতাই মূল কারণ।
Photo: Quaid-i-Azam with Sir Fredrik, the governor of East Bengal, Miss Fatima Jinnah, and Dr Hasan, vice chancellor of Dacca University. The picture was taken in front of Curzon Hall in Dacca in 1948.
Subscribe to:
Posts (Atom)