Khan Thoughts
Thursday, 27 August 2026
মক্কা প্যাক্ট, জিও-পলিটিকস এবং বাংলাদেশ ।
মক্কা প্যাক্টে যোগ দেয়ার জন্য জিও পলিটিক্যাল হিসাব নিকাশ দরকার। এই ব্যাপারে ন্যাশনাল ডায়লড দরকার।
সেনাবাহিনীর অবস্থান জানা দরকার, তাদের এইখানে মেজর স্টেক থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী ডিফেন্স প্যাক্টে যোগ দেয়া হবে এতো সহজ নয় ব্যাপারটা।
এছাড়া ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে ডিফেন্স প্যাক্টে যোগ দিলে, পানি চুক্তি, বর্ডার কিলিং, করিডোর, ট্রেড, জ্বালানী - বিদ্যুৎ এর চুক্তির উপর ইমপ্লিকেশন কি হবে সেগুলোর ব্যাপারে ডিপ রিসার্চ আর এ্যানালিস দরকার। এটা শুধু আজকের জন্য নয় ২০ বছর পর - ৩০ বছর পর কি হবে সেই ব্যাপারে গেম থিওরী মডেল বানানো দরকার।
এইখানে দেখার মতো ব্যাপার হচ্ছে মূল ইস্যুটা হচ্ছে একটা মুসলিম কোয়ালিশন তৈরি করা। ভারত যেমন সবচে বড়ো হিন্দু রাষ্ট্র আর পৃথিবীর ৯০% হিন্দু ভারতে থাকে তাদের পক্ষে হিন্দুদের অধিকার আদায় করা সহজ।
মুসলিমদের রাষ্ট্রের সংখ্যা ৫০+। এবং এই রাষ্ট্র গুলো আফ্রিকা থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৮০ কোটি মুসলিম এক রাষ্ট্রে থাকলে মুসলিমদের উপর অত্যাচার - অনাচার কমে যেতো।
এইখানে দেখার ব্যাপার হচ্ছে -> ইসলামিক ন্যাটো যে বলা হচ্ছে সেখানার সদস্য গুলো মুসলিমদের রক্ষার ব্যাপারে ভুমিকা কি?
প্যালেস্টাইনে মুসলিম নিধনের ব্যাপারে সৌদি আরবের কোন কার্যকর ভুমিকা নাই, পাকিস্তানের নাই, তুরস্কের নাই।
কাশ্মীরে মুসলিম উপর অত্যাচারের ব্যাপারে সৌদি আরবের কোন ভুমিকা নাই, তারা বরং ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রাখে। প্যালেস্টাইনে
ইসরায়েল আর আমেরিকা যৌথ ভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে। সৌদি আরব, আমেরিকার সবচে কাছে এ্যালাই গুলোর একটা।
সুতরাং মুসলিম দেশ হলেই এরা যে মুসলমানদের ব্যাপারে আগ্রহী এটা ভুল চিন্তা। এদের সেই মানসিকতা, শক্তি, সদিচ্ছা কোনটাই কখনো নাই, ছিলো না।
সুতরাং মক্কা প্যাক্ট হলেই মুসলিমদের সুবিধা হবে এটা ভাবা ভুল। বরং জিও পলিটিক্সের এঙ্গেল থেকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনা করা উচিত।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে দেখা হবে সবচে বড়ো ভুল। স্বার্থ বিবেচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আরো দেখার ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তান নিজেই বাংলাদেশের উপর একটা গণহত্যা চালিয়েছে। এদের বাংলাদেশের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চেঞ্জ হয়েছে এটা আশা করা উচিত হবে না।
হ্যা, ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে হয়তো পাকিস্তান হেল্প করবে। সেটা কতোটুকু সেটা এক্সপার্টরাই এস্টিমেট করতে পারবে।
___
ডিফেন্স প্যাক্টের সবচে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হচ্ছে ভারতের বিরুদ্ধে ডিটারেন্স। ভারত ৩-৪টা ইলেকশনে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। নিজেদের এজেন্ট বসিয়ে ভেসেল স্টেট তৈরি করতে চেয়েছে।
যারা এই প্যাক্টের বিরুদ্ধে তাদের এই পয়েন্টের বিরুদ্ধে কোন আলোচনা করতে দেখলাম না।
বাংলাদেশের এই প্যাক্টের যোগ দেয়ার সবচে বড়ো কারন ভারতের বিরুদ্ধে শক্তিমত্তা অর্জন।
___
বাংলাদেশ যদি ডিফেন্স প্যাক্টে না থেকে সৈন্য সাপ্লাই দিতে পারে, অস্ত্র, প্রযুক্তি সাপ্লাই দিতে পারে, প্রযুক্তি-অস্ত্র নিতে পারে।
সৌদির প্রতিরক্ষায়, তাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচারে শুধু শ্রমিক না পাঠিয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠি সাপ্লাই দিতে পারে সেটা হবে বাংলাদেশের জন্য উইন উইন সিচুয়েশন। ভারতকে যদি ডিটারেন্সের জন্য ভয়ে রাখা যায় সেটাও আরেক উইন উইন সিচুয়েশন হবে জয়েন না করেই।
অনেকে র্যান্ডমলি জিজ্ঞেস করছেন ফেসবুক এক্টিভিস্ট/নেটিজেনদের কাছে। যেন তাদের পজিটিভ অপিনিয়ন দিলে মক্কা প্যাক্টে ঢুকে যাওয়া নিশ্চিত।
তারপরো আলোচনা হচ্ছে এটা ভালো একটা দিক।
এই ব্যাপারে জিও পলিটিক্স এক্সপার্ট না, কিন্তু এ আই রচিত অনেক গুলো আর্টিকেল পড়লাম। সেখানে প্রোস এন্ড কনস দেয়া। এক্সপার্টদের অপিনিয়ন এইখানে মিসিং।
মক্কা প্যাক্টের ব্যাপারে অনেককেই বলতে শুনলাম, বাংলাদেশ ৫০ বছর স্বাধীন থেকে, সার্বভৌম ভাবে পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করেছে।
গেলো ১৭ বছর তো ভারতের পররাষ্ট্রনীতিই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ছিলো।
বাংলাদেশ কি আজকে আমেরিকার বিরুদ্ধে কোন পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করতে পারবে?
সেই অর্থে আমার বড়ো ডাউট আছে এই মন্তব্যের ব্যাপারে যে বাংলাদেশের কখনোই কারো অধিনে যাবে না।
ভুল।
বাংলাদেশে আগেও অধীনে ছিলো, যতোদিন অর্থনৈতিক যোগ্যতা অর্জন না করতে পারে বাংলাদেশে বড়ো বড়ো দেশ গুলোরই অধীনে আছে আর থাকবে।
আমাদের পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন নয়, আমরা স্বাধীনতার অভিনয় করতে পারি মাত্র।
বাংলাদেশীদের এতে দুঃখ পাবার কিছু নাই, তথাকথিত শক্তিশালী রাষ্ট্র পাকিস্তান সম্পূর্ন ভাবে আমেরিকার নিয়ন্ত্রনে, বিশেষ করে তাদের সেনাবাহিনী।
সৌদী আরবের পেট্রোডলার বেসিক্যালি আমেরিকার মানি প্রিন্টিং মেশিন। সৌদী আরবের মতো রাষ্ট্রও আমেরিকার অধীনে।
ইভেন মক্কা প্যাক্ট আসলে ব্যাকড বাই আমেরিকা। ট্রাম্প নিজেই এই প্যাক্টকে স্বাগত জানিয়েছে, প্রশংসা করেছে।
আমেরিকা যদি কোন রাষ্ট্রকে এ্যাটাক করে মক্কা প্যাক্টের রাষ্ট্র গুলো কি তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে?
কখনোই না। তাহলে এটা কিসের বিরুদ্ধে কার বিরুদ্ধে ডিফেন্স প্যাক্ট? ইসরায়েল যদি টার্কি আক্রমন করে তাহলে আমেরিকা কি এই প্যাক্টের সদস্যের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গিয়ে সাপোর্ট দিবে?
প্রশ্ন আসে খুব সহজেই।
____________
আমি জিও পলেটীক্স বা ডিফেন্স এক্সপার্ট নই। আমার মতামতও গুরুত্ব সহকারে নেয়া উচিত হবে না। আমি শুধু কিছু পয়েন্ট টুকে রাখলাম।
Friday, 21 August 2026
বিএনপি কখনোই চিন্তা করেনি জুলাইয়ের মতো একটা বিপ্লব হবে।
বিএনপি আসলে কখনোই চিন্তা করেনি যে দেশে জুলাইয়ের মতো একটা বিপ্লব হবে। তারা নিজেরা এইটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। কারণ বিগত বছরগুলোতে তারা আন্দোলন দিয়েও রাস্তায় লোক পেতো না, তাই ফখরুল ঈদের পরের আন্দোলনের কথা বলে বলেই বছরের পর বছর পার করেছে।
তাদের আসলে সামনে কখনো দেশ চালানো লাগবে এইটা তারা ঘুনাক্ষরেও ভাবেনি। তাই সেরকম কোনো প্রস্তুতিও ছিল না। সেই ২০০০ সালের অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীর বাইরে আর কাউকে প্রডিউস করতে পারেনি তারা।
শুরুর দিকে বিএনপিও চেয়েছিলো ইন্টেরিমকে একটু টাইম দিয়ে নিজেরা গুছিয়ে নিতে। কিন্তু, ওরা যখন দেখলো যে ইউনূস সব গুছিয়ে নিচ্ছে, রিজার্ভ দ্বিগুণ করে ফেলেছে, ভেঙে পড়া অর্থনীতি সামাল দিতে ২-৩ বিলিয়ন বাজেট সহায়তাও এনেছিলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে স্টেবল রাখতে পেরেছিলেন ফাওজুল কবির খান।
এসব দেখে বিএনপি নিজেদের অযোগ্যতা ভুলে গিয়ে মরিয়া হয়ে উঠলো ক্ষমতার জন্য। নিজেরাই বিভিন্ন আন্দোলন উসকে দিয়ে ইন্টেরিমকে যথাসাধ্য অসহযোগিতা করলো। ভেবেছিলো ইউনূস পারলে আমরাও পারবো। ইউনূসের নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বানালো।
কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে বেসামাল অবস্থা। চীন সফর করেও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফও বাজেট সাপোর্ট দিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত তাই ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট বানানোর জন্য দৌড়-ঝাপ শুরু করলো। কিন্তু ইউনূস তো ওদের চিনে ফেলেছে, তাকে তাই কোনোভাবেই কনভেন্স করা যায়নি।
বিএনপি মাঠ গরম করে ২০২৬ এ নির্বাচন আদায় করাটা নিজেদের সেরা অর্জন ভেবেছিলো, কিন্তু এইটাই এখন ওদের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে প্রমাণিত হইলো।
দেশের চলমান সংকট ওরা দ্রুত কাটিয়ে উঠবে তারও কোনো সম্ভাবনা নাই, অলরেডি তাদের মন্ত্রী, উপদেষ্টারা বলতেছে এই সংকট অন্তত ২ বছর চলমান থাকবে। স্বঘোষিত প্রতারক বিএনপির ভবিষ্যৎ খুবই করুণ।
Monday, 17 August 2026
লো আইকিউর লোকেরাই মূলত আওয়ামী লীগ এবং শেখ মুজিব শেখ মুজিব করে।
লো আইকিউর লোকেরাই মূলত আওয়ামী লীগ এবং শেখ মুজিব শেখ মুজিব করে।
আমি একবার এক ছেলেকে ভিক্ষা দিয়েছিলাম। ঘটনাটা ঘটেছিল নীলক্ষেতে। পহেলা বৈশাখে। আমরা বৈশাখী র্যালি শেষ করে মল চত্বরে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে মিরপুর ফিরছিলাম। ছেলেটার বাম হাতে ছিল দগদগে ক্ষত। দেখে যে কারো মায়া হবে। ইচ্ছে হবে এক্ষুণি হাসপাতাল নিয়ে চিকিৎসা করাই।
কিন্তু ছেলেটা যাবে না। বলল, কয়টা টাকা দেন দুই দিন ধইরা কিচ্ছু খাই নাই। বাসায় যাবার তাড়া থাকায় আর কথা না বাড়িয়ে পঞ্চাশ টাকার একটা নোট দিয়ে চলে আসতে চাইলাম। কয়েক পা এগুতেই আমাকে এক ছেলে থামালো। বলল, আপনাকে দেখে তো সচেতন লোক মনে হয়। এইটা কি করলেন আপনি? বললাম, কি করেছি? বলল, এই ছেলেকে টাকা দিয়ে আপনি আরও কয়েক শ ছেলেকে ভিক্ষুক বানানোয় উৎসাহ দিয়েছেন। আসলেই সেদিন ব্যস্ত ছিলাম। ওই ছেলের কথা শোনার মত সময় ছিল না। ওকে বলেছিলাম, তাইলে তুমি ওর কাছ থেকে টাকা কাইড়া নেও। তোমার সাথে গ্যাজানোর মত সময় আমার নাই।
সেদিন চলে আসলেও কথাটা মনে দাগ কেটেছিল। পরে জেনেছি, ঢাকা শহরে ইন্ডিভিজুয়াল ভিক্ষুকের সংখ্যা একেবারে নগন্য। অধিকাংশ ভিক্ষুকই কোন না কোন ভিক্ষুক ব্যবসায়ীর প্রতিনিধি। ভিক্ষুক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে নিজ নিজ কেনা ভিক্ষুককে দিয়ে সেখানে ভিক্ষা করায়। ওই এলাকায় অন্য কোনও ব্যবসায়ীর ভিক্ষুক বা স্বাধীন কোনও ভিক্ষুক ভিক্ষা করতে চাইলে তারা বাধা দেয়। এজন্য এমনকি মারামারি পর্যন্ত করে।
ভিক্ষুক ব্যবসায়ীরা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে জেনেছে, মানুষের আবেগে হিট করতে না পারলে ভিক্ষা পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের ভিক্ষা ইন্ডাস্ট্রির মূল শক্তিই হল ইামোশনাল ম্যানেজমেন্ট বা আবেগ ব্যবস্থাপনা। কোনও ভিক্ষুক যদি মানুষের মনে দাগ কাটতে না পারে তাহলে সে ভিক্ষা পায় না। যেই ভিক্ষুক মানুষের মনে যত দাগ কাটতে পারে তার ভিক্ষা পাবার হার তত বেশি। ভিক্ষুক ব্যবসায়ীদের কাছেও তার দাম তত বেশি। ভিক্ষুক ব্যবসায়ীরা যখন নিজেদের মধ্যে ভিক্ষুক কেনা বেচা করে তখন এই ধরণের ভিক্ষুকের দাম অন্যদের তুলনায় বেশি নির্ধারণ করে।
সাধারণ একজন হাত-পা ওয়ালা সুস্থ পুরুষ ভিক্ষুককে মানুষ ভিক্ষা দিতে চায় না। ফলে তাদের দাম থাকে সবচেয়ে কম। তবে কারো যদি হাত বা পায়ে দগদগে ক্ষত থাকে তাইলে সেটা দেখায়া ভিক্ষা পাবার হার বাইড়া যায়। ফলে ভিক্ষুক ব্যবসায়ীদের নিকট তার দামও বাইড়া যায়।
ভিক্ষুক যদি নারী হয় তার ভিক্ষা পাবার হার পুরুষের চেয়ে বেশি থাকে। তার হাত পায়ে ঘা থাকলে তার ভিক্ষা পাবার সম্ভাবনা আরও বেশি থাকে। যদি নারীর কোলে বাচ্চা থাকে তাহলে তার ভিক্ষা পাবার সম্ভাবনা আরেকটু বেশি হয়। যদি সে প্রেগন্যান্ট হয় তাহলে তার ভিক্ষা পাবার সম্ভাবনা আরও বেশি থাকে। এই ভিক্ষুকদের দামও সেভাবে নির্ধারিত হয়।
ভিক্ষুক যদি হয় শিশু তাইলে তার ভিক্ষা পাবার হার প্রাপ্ত বয়স্কদের থেকে বেশি থাকে। আর যদি সেই শিশুর শরীরে থাকে দগদগে ক্ষত তাইলে তার ভিক্ষা পাবার হার আরও বেড়ে যায়। তার যদি একটা হাত বা পা কাটা থাকে কিংবা চোখ অন্ধ থাকে তাইলে তার ভিক্ষা পাবার হার আরও বেড়ে যায়। আর ভিক্ষুক ব্যবসায়ীরা যখন দেখে, ভিক্ষা ইন্ডাস্ট্রিতে এই রকম শিশুর চাহিদা বেশি তখন তারা একের পর এক শিশুদের ধরে এভাবে অঙ্গহানি ঘটিয়ে ভিক্ষা করতে বাধ্য করে। আপনাদের মনে থাকার কথা, বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ পুলিশ এই রকম কিছু শিশুকে উদ্ধার করেছিল।
তাইলে ব্যাপারটা কি ঘটছে খেয়াল করেন, আপনি আপনার আবেগের জায়গা থেকে একটা অঙ্গহীন শিশুকে ভিক্ষা দিলেন। তার ফলে ভিক্ষা ব্যবসায়ীরা উৎসাহী হয়ে আরও একশটা ছেলের অঙ্গহানি ঘটিয়ে ভিক্ষা করতে নামায়া দিল। এখন বলেন, এই যে নতুন নতুন শিশুর অঙ্গহানি ঘটিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হল, এই জন্য আপনি কি একটুও দায়ী নন? অথচ আপনি নিজেকে একজন মানবিক মানুষ মনে করেন আর যেই লোকটি ভিক্ষা ইন্ডাস্ট্রির এই নোংরামি জানে বলে আপনাকে ভিক্ষা দিতে নিষেধ করে তাকে মনে করেন নিষ্ঠুর মানুষ।
এর সাথে আওয়ামী লীগ কিংবা শেখ মুজিবের সম্পর্ক কি- তাই ভাবছেন?
বাংলাদেশে চেতনা ব্যবসা তথা আওয়ামী লীগ এবং শেখ মুজিবের ইমেজও এই ইমোশনাল ম্যানেজমেন্ট বা আবেগ ব্যবস্থাপনার উপর খাড়ায়া আছে।
আপনি যখন পনের আগস্টের হত্যার জাস্টিফিকেশন দেয়ার জন্য বলবেন, এই লোকটার কারণে দুর্ভিক্ষে এত লাখ লোক মারা গেছে। এই লোকটা এত হাজার বিরোধী দলীয় মানুষ হত্যা করেছে। এত হাজার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করেছে। তখন একদল আইসা বলবে, মানলাম শেখ মুজিব অপরাধ করেছে। কিন্তু শিশু রাসেল কি অপরাধ করেছে? অথবা বাড়ির নারীরা কি অপরাধ করেছে? কিংবা গর্ভবতী নারী কি অপরাধ করেছে?
এই কথা বইলা তারা শুধু শিশু রাসেল বা বাড়ির মেয়েদের হত্যাকে অপরাধ বলে না। মুজিবকে হত্যাও অপরাধ বলে। আজ পর্যন্ত একজন চেতনা ব্যবসায়ীকেও পাই নাই যে বলেছে, মুজিবকে হত্যা করা ঠিক ছিল। সেই জন্য আমি পঁচাত্তরের বিপ্লবীদের সাধুবাদ জানাই। তবে বাড়ির মেয়ে এবং শিশুদের হত্যা করার কারণে আমি তাদের ঘৃণা করি। তারা যুক্তি দেয়, শিশু রাসেল অপরাধ করেনি অতএব তাকে হত্যা করা ঠিক হয়নি। কিন্তু উপসংহার টানে, অতএব বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করাও ঠিক হয়নি।
এখন এইখানে কি ঘটছে খেয়াল করেন। শিশু রাসেলের কথা ভেবে আপনি আবেগে পঁচাত্তর বিপ্লবীদের খুনী ভাবছেন। নারীদের হত্যা করছে বইলা আপনার মুক্তিদূতদের খুনী ভাবছেন। গর্ভবতী নারী হত্যা করছে বইলা বীরদের ভিলেন ভাবছেন। আর এই আবেগের তলে হারায়া যায়, মুজিবের দুর্নীতির খতিয়ান। হারায়া যায় তার অবাধ লুটপাটের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু। হারায়া যায়, হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা হত্যার ঘটনা, হাজার হাজার বিরোধী দলীয় কর্মী হত্যার ঘটনা, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ভোট ডাকাতির ঘটনা, সংবাদ পত্রের কন্ঠরোধ করার ঘটনা, গণতন্ত্র হত্যা কইরা দেশের প্রথম ফ্যাসিস্ট শাসক হইয়া ওঠার ঘটনা।
আপনি বুঝতে পারেন না, শিশু রাসেল মূলত সেই ভিক্ষুক ছেলেটি যাকে দেখে আপনি আবেগের কারণে তারে ভিক্ষা দিচ্ছেন। আর সেই ভিক্ষা দেবার কারণে রাসেলের বাবার হাতে তৈরি দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার শিশু নিহতের কথা চাপা পড়ে যায়। আপনি বুঝতে পারেন না পনের আগস্ট রাতে নিহত নারীরা হল সেই ভিক্ষুক নারী যাদেরকে ভিক্ষা দেবার কারণে দুর্ভিক্ষে নিহত লাখ লাখ মা-বোনের কথা চাপা পড়ে যায়। ফলে আপনি নিজেকে খুব মানবিক ভাবেন। আর যারা শিশু রাসেলের আবেগ ব্যবহার করে আওয়ামীলীগের দানব হইয়া ওঠার কাহিনী বোঝে বইলা আপনাদেরকে এই আবেগে ভেসে যেতে নিষেধ করে তারা হইয়া যায় অমানবিক নিষ্ঠুর।
তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়ালো?
বিষয়টা দাঁড়ালো, চেতনা ব্যবসায়ী এবং ভিক্ষুক ব্যবসায়ীরা মূলত একই মডেলে মানুষের আবেগ নিয়ে ব্যবসা করে। আর লো আই কিউর লোকেরা একই মডেলে ভিক্ষুক ব্যবসায়ী এবং চেতনা ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়।
তবে এই দুই প্রতারণার মধ্যে পার্থক্য হল, ভিক্ষার ক্ষেত্রে আপনি একাই প্রতারিত হন। কিন্তু চেতনা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতারণার ফলে আপনার দেশে শাপলা গণহ*-ত্যা নাইমা আসে, পিলখানা ম্যা*সা*কার নাইমা আসে, শেয়ার বাজার-ব্যাংক লুটপাট হয়, হাজার হাজার মানুষ গু*ম-খু*নের শিকার হয়, ধ*র্ষণের শিকার হয়। সবশেষে আপনার চোখের সামনে আপনার সন্তানকে হ*ত্যা করা হয় এবং দেশে জুলাই নেমে আসে।
সুতরাং হে প্রিয় লো আইকিউর পাবলিকবৃন্দ! চেতনা ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পড়ার আগে সাবধান। খুব সাবধান। দিস ইজ ভেরি ডেঞ্জারাস। ভেরি রিস্কি গেম।
জুলাইয়ে আপনার সন্তান জীবন দিসে। আবারও চেতনা ব্যবসার ফাঁদে পড়লে এইবারের জীবনটা আপনাকেই দিতে হবে।
মুজিব হইল ভারতের বিলিয়ন ডলার প্রজেক্ট।
দুর্নীতি কইরা খাদ্য সংকট সৃষ্টি কইরা লাখ লাখ লোক মারার পরও বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধুই রইয়া যায়। কেউ তারে বঙ্গখুনী বলে না। না রাজনীতিবিদরা বলে। না সাহিত্যিকরা বলে।
কেন বলে না জানেন?
কারণ এই খু*নী লোকটারে নায়ক বানায়া হাজার হাজার সাহিত্য রচিত হইছে। গল্প, কবিতা, উপন্যাস রচিত হইছে। সিনেমা, নাটক, ডকুমেন্টারি হইছে। কিন্তু সে যাদের হ*ত্যা করেছে, তার দুর্নীতির বলি হয়ে যারা না খেয়ে মারা গেছে সেই শিশু, নারী, পুরুষদের নিয়ে কেউ দুই কলম লিখেনি। তারা বিস্মৃতির গর্ভে হারায়া গেছে।
আমরা শুধু দুর্ভিক্ষপিরীত এক বাসন্তির নাম জানি। এক বাসন্তিই মুজিবশাহীর ভিত কাঁপায়া দিছিল। সেই বাসন্তির ছবি যে তুলছিল তারে গত আওয়ামী জামানায়া নৃশংসভাবে খু*ন করা হয়।
কেন করা হয় জানেন?
কারণ মুজিব হইল পার্শ্ববর্তী দেশের বিলিয়ন ডলার প্রজেক্ট। এই লোক যতদিন স্বমহিমায় থাকবে ততদিন পার্শ্ববর্তী দেশের প্রভুত্ব থাকবে। সুতরাং মুজিবের মহিমায় যারাই কালিমা লেপন করবে তাদেরকে তারা সহ্য করবে না, নৃশংস ভাবে নিকেশ করবে।
আপনি তার হাতে খু*ন হওয়া এক ডেপুটি স্পিকার আর এক সিরাজ শিকদারের বাইরে আর কারো নাম জানেন না। তার ভিকটিম কাউরে নিয়া সাহিত্য রচিত হয় না। সিনেমা নাটক ডকুমেন্টারি তো আরও দূরের ব্যাপার।
আপনি গালি দিয়া সাহিত্যের মোকাবেলা করতে পারবেন না। মুর্তি ভাইঙ্গা প্রতিষ্ঠিত ইমেজ ইরেজ করতে পারবেন না। তার মিথ্যা ইমেজ প্রতিষ্ঠায় যেভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সাংস্কৃতিক বয়ান নির্মাণ করা হইছে সেভাবেই তার সত্য ইমেজ স্টাবলিস্ট করার জন্য কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।
এই কারণেই দেখেন মুজিবের কারণে দুর্ভিক্ষে মারা যাওয়া লাখ লাখ শিশু, নারী, পুরুষের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হইয়া ওঠে হারামের টাকায় ফুলেফেঁপে ওঠা একটা পরিবার। মুজিব পরিবারের এক রাসেলের শোকই এই লাখ লাখ লোকের মৃত্যুর শোক থিকা বড় হইয়া ওঠে।
আপনি দেখেন শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে ওরা কি পরিমাণ সাহিত্য নির্মাণ করছে। ইমতিয়ার শামীম তার বিরুদ্ধে উপন্যাস লেখছে। শাহাদুজ্জামান ক্রাচের কর্নেল লিখছে তারে ভিলেন বানানোর জন্য। তারেক জিয়ার আমলে একুশে পদক পাওয়া নব্য বিএনপি কবি মোহন রায়হান তার বিরুদ্ধে কবিতা লিখছে।
কারণ কি?
কারণ বাংলাদেশে মুজিবের ইমেজের চেয়ে বড় কোনও ইমেজ ওরা তৈরি হতে দিবে না।
বিপরীতে দেখেন লাখ লাখ লোক হ*ত্যা করা মুজিবের বিরুদ্ধে কোনও কবিতা নাই, গল্প নাই, উপন্যাস নাই, সাহিত্য নাই। আছে শুধু সাব অল্টার্ন মানুষের কয়েকটা গালি।
সুতরাং বাংলাদেশকে রাইট ট্রাকে ফেরাতে হলে মুজিবের মিথ্যা ইমেজ ভাঙতে হবে। এজন্য সাংস্কৃতিক বয়ান নির্মাণ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রকৃত হিরোদের নিয়ে সাহিত্য সংস্কৃতি নির্মাণ করতে হবে।
এছাড়া আপাতত মুক্তির আর কোনও পথ নাই।
Thursday, 13 August 2026
বিএনপি আসলে কোন রাজনৈতিক দল নয়
বিএনপি বিপদে মানে মহা বিপদে! আর দেশ পড়েছে ভয়ংকর বিপদে৷
বিএনপি আসলে কোন রাজনৈতিক দল নয়, এইটা আওয়ামিলীগের ভুলের কারনে বেঁচে থাকা কিছু মানুষের সম্মিলিত ভাবে গড়ে উঠা একটা ক্লাব বলা যেতে পারে৷ আওয়ামিলীগ, জামাত এই দল গুলোর আদর্শ আছে, সে আদর্শের আপনি পক্ষে বা বিপক্ষে থাকতে পারেন, তবে এই দুই দল গুলোর কর্মিরা একটা আদর্শকে ধারন করে দলে আসে, এখান থেকেই নেতা হয়। আর বিএনপি হল শুধুমাত্র আওয়ামী বিরোধীতাই তাদের বাঁচায় রাখছে, জনপ্রিয়তাও পেয়েছে আওয়ামী বিরোধী মানুষদের থেকে।
আদর্শিক নয় তাই এদের রাজনৈতিক কোন থিংক ট্যাংক বলে কিছু নাই, যদি থাকতো তবে তারা নির্বাচনের জন্যে এত উতালা হইতো না। বরং ইন্টারিম সরকারকে সহযোগিতা করতো, দেশকে স্টাবেলিটি দেয়ার জন্যে কাজ করতো। ইন্টারিম সরকারের প্রথম দিন থেকেই এই দলটা অসহযোগিতা করে গেছে এবং সারাদেশে যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি শুরু হয়েছিল এবং এখনো অব্যাহত তার সিংহভাগ দায়িত্ব এই দলটির তৃনমুলের নিয়ন্ত্রণহীনতা।
চট করে এসে আমারে কমেন্টে যা খুশি লিখে ফেলতে পারেন, তবে একটু নিজ নিজ এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখেন - আওয়ামিলীগ সরকার পতনের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলার অবনতি কারা করছে, নিজেরাই উত্তর পেয়ে যাবেন। সারাদেশে আওয়ামিলীগের তৃনমুল নেতা কর্মিদের উপর অমানবিক অত্যাচার, তাদের সব কিছু দখল, খুন এইসবের সাথে জড়িত ৯৯ ভাগ পাবেন বিএনপির স্থানীয় নেতা কর্মিদের। সারাদেশে যত ভুয়া মামলা খোঁজ নিয়ে দেখেন এর ৯৯ শতাংশ মামলা করেছে বিএনপি।
শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদল বলে যে সংগঠন, এইটা কি আদও কোন সংগঠন? একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে আদও যারা ছাত্রদল বলে তাদের ছাত্রত্ব বলে কিছু আছে। প্রতিটি ইউনিটে যারা ছাত্রদল বলে নিজেদের তাদের কারও বয়স ৩৫-৪০ এর কম হবে না। নাই ক্যাম্পাস ভিত্তিক কোন রাজনীতি। এই দল কিভাবে ক্যাম্পাস দখল করবে, কিভাবে ছাত্র সংসদগুলোর ভোটে জিতবে৷ আপনার ভালো লাগুক অথবা নাই লাগুক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছাত্রলীগ আর ছাত্রশিবিরের ধারে কাছেও ছাত্রদল হবে নাকি? ভোটে যদি ছাত্রলীগের ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হয় তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ভোটে কিন্তু ছাত্রদলের কোন পাত্তা পাবার কোন কারন নাই। ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের কাছে ছাত্রদল কোন ভাবেই পাত্তা পাবার মত সংগঠন না। আর এরাই এখন ক্যাম্পাসে শুরু করছে গায়ের জোর৷ যদিও দশ মিনিট টিকতে পারবে না এরা ছাত্রশিবিরের কাছে তবুও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অস্থিরতা শুরু করেছে৷ ছাত্রলীগ চাইলেও এখনও ক্যাম্পাসে যা করতে পারবে ছাত্রদল তাও পারবে না। এদের সেই যোগ্যতাও নাই।
এত বড় গণঅভ্যুত্থান গেলো, বিএনপির যদি নুন্যতম রাজনৈতিক দুরদর্শিতা থাকতো তবে ইন্টারিম সরকারকে সহযোগীতা করতো বিএনপি। অথচ করলো উলটো। আনসার, নার্স, ডাক্তার থেকে আটো রিক্সা মিলিয়ে প্রায় একশোর অধিক আন্দোলন এর সাথে সরাসরি বিএনপি জড়িত ছিল৷ এমনকি বাচ্চাদের হামের ভ্যাক্সিনেশনের যে সমস্যা সেটাতেও বিএনপি জড়িত ছিল। শুধুমাত্র ইন্টারিম সরকারকে বিপদে ফেলে নির্বাচন করার ধান্দায় এইসব করে গেছে৷ লাভের লাভ কি হইছে - ছয় মাস হয় ক্ষমতায় আসছে তাতেই হাটু কাপা শুরু করেছে।
বিএনপি কার সাথে বেইমানি করে নাই ইন্টারিম সরকারের আমলে? ১৮ মাস তারা প্রান্তিক অঞ্চলে আওয়ামিলীগের উপর অত্যাচার চালিয়েছে। আন্দোলনে এনসিপি, জামায়েত তাদের সহযোগী হলেও তাদের সাথে বেইমানি করেছে, ইন্টারিমের সাথেও বেইমানি করেছে৷ আর সাথে রাখছে কাদের ববি হাজ্জাজ, জুনায়েদ শাকি, নুরুল হক নুর, রাশেদ খানদের মত কতগুলো ক্লাউনকে৷
দেখেন বিএনপি যে কতটা অদক্ষতা দেখাচ্ছে তার প্রথম সিগনেচার স্টেপ ছিল - গভর্নর নিয়োগ। আপনাদের মনে আছে কিনা জানি না যেদিন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছিল সেদিনই বলেছিলাম - বিএনপি দেশের বিশাল ক্ষতি করে ফেললো। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভর্নর নিয়োগে এই ফালতু কাজের জন্যে দেশকে কতবছর ভুগতে হবে তা যতদিন গড়াবে তত স্পষ্ট হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু না, বিশ্বের যেকোন দেশের গভর্নর প্রফাইল চেক করুন - বাংলাদেশের বর্তমান গভর্নর প্রফাইল বিশ্বের সব থেকে লোয়ার প্রাফাইল গভর্নর বাংলাদেশের। আপনি নিজেই চেক করে দেখুন আমি সত্য লিখছি কিনা? একে নিয়োগের দিনই বলেছিলাম - বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টর ধসে যাবে।
আপনারা জানেন ইন্টারিম সরকারের আমলেও দেশের অর্থনীতি এত খারাপ অবস্থা ছিল না যা বিএনপি এই ছয় মাসে করে ফেলেছে৷ বাজেট যা দিয়েছে চীন থেকে টাকা না পেলে এই বাজেটের ডেভেলপমেন্ট পার্ট শুধু কাগজেই থেকে যাবে৷ দেখেন দেশের এত অস্থিরতার মধ্যেও ইন্টারিম সরকারের আমলে দ্রব্যমূল্যের অবস্থা কি ছিল আর এখন কোথায় নিয়ে গেছে মাত্র ছয়মাসে৷
যেকোন অভ্যুত্থানের প্রথম এক দুই বছর আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে, এইটা দূর্ভাগ্যজনকভাবে দ্রুব সত্য৷ সেখানে দেশে পুলিশ বলে কিছুই ছিল না, স্থানীয় প্রশাসন বলে কিছু ছিল না, তার উপর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিএনপির আওয়ামিলীগের সব দখল করার যে পাগলা ঘোড়ার রুপ নিয়েছিল, তাতেও আইনশৃঙ্খলা যত খারাপ হবে ভেবেছিলাম তত খারাপ ছিল না ইন্টারিমের সময়। আর এখন এই ছয়মাসে এমন একটা দিন যায় না যেখানে হত্যা থেকে ধর্ষন কিছুই বাদ যাচ্ছে না বরং কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে৷ বিএনপির এই বিষয়ে কোন নিয়ন্ত্রণ নাই৷
আর দুর্নীতি বিএনপি এই ছয়মাসে যা করেছে আওয়ামিলীগ একটার্ম ( পাঁচ বছর) ধরে হিসেব করলে বিএনপি আওয়ামিলীগকে ছাড়ায় গেছে। শুধু বদলি বানিজ্য, মামলা বানিজ্য আর দলীয়করনের নামে দুর্নীতির সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে এই ছয় মাসে। বিএনপির নৈতিকতা কোন নিম্নস্তরের বুঝেন যে, আওয়ামিলীগের আমলে সব খারাপ শুধু এস আলম, নাসা গ্রুপ ও বসুন্ধরা বাদে৷ মানে আওয়ামিলীগের দুর্নীতির যে তিরস্কার আমরা করি, সেই দুর্নীতির প্রধান তিনজনকেই বিএনপি কোলে তুলে নিয়ে বসে আছে৷
বিএনপি যদি আর দুই বছর ক্ষমতায় থাকে তবে দেশের বারোটা বাজায় ফেলবে নিশ্চিত থাকতে পারেন অন্তত এই গভর্নর, এস আলম, বসুন্ধরা, নাসা গ্রুপ মিলিয়ে।
প্রশাসনে কোন নিয়ন্ত্রণ নাই। যে যার ইচ্ছা মত যা ইচ্ছা করে যাচ্ছে কোন একাউন্টেবিলিটি নাই৷ সরকারের একজনের বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে মনে হয় না, আমলারা এদের দুই পয়সা দিয়ে গুনে৷
বিএনপি কোন লেভেলের দল একবার চিন্তা করেন - একজন আমিনুল যে নিজে নির্বাচনে হেরেছে তাকে ক্রিয়া প্রতিমন্ত্রী বানাইছে যে কিনা নিজে একজন সাবেক ফুটবলার। তার সব মনোযোগ ক্রিকেট বোর্ড দখল করা৷ আর কয়দিন আগে যত ফেডারেশন হইলো অন্য খেলা নিয়ে সব গুলোর পদ পদবী বেচাবিক্রি করছে। যে নিজে খেলোয়াড় অথচ খেলার এত বড় ক্ষতি করল মাত্র ছয় মাসে৷ বুঝেন অবস্থা দেশের ফুটবল বিদেশী কোচিং স্টাফ সোসাল মিডিয়াতে এসে অভিযোগ করতেছে - তারা বেতন পাচ্ছে না৷ অথচ এই মন্ত্রী নিজে একজন ফুটবলার। আর ক্রিকেট বোর্ডে এক তামিম ছাচড়াকে প্রধান করে বাকী সব নেতাদের আত্মিয়সজন দিয়ে বানাইছে বোর্ড৷
সরকারের সব থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ক্রিয়া মন্ত্রণালয়ের কথা লিখলাম৷ বাকী সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের লিখলে তো বই লিখা যাবে ব্যার্থতা আর লুটপাটের এই ছয়মাসের৷ জানেন ইন্টারিমের সময়ে যত কলকারখানা বন্ধ হয় নাই তার থেকে বেশী এই ছয়মাসে হয়েছে। শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে, গ্যাস সংকট, জ্বালানি সংকট সব উল্টোপাল্টা হয়েগেছে, একদম নিয়ন্ত্রণের বাহীরে৷ এই গভর্নরের কোন যোগ্যতাই নাই এইসব সামাল দেয়ার জন্যে যে ডলার লাগবে তার সংস্থান করার।
আমাদের যে ডেভলপমেন্ট পার্টনার দেশ গুলো আছে আমেরিকা, চীন, ইউরোপ সব গুলো দেশের সাথে ভেজাল লাগায় ফেলেছে মাত্র ছয়মাসে৷ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে এত সমস্যা হইতো না যদি চীনকে ঠিক রাখতে পারতো। বুঝাই যাচ্ছে চীনের সাথে দুরত্ব বেড়ে গেছে, আর এখন যদি ভারতের কোলে উঠতে চায় চীন ছেড়ে তবে দিন গুনা শুরু করেন - দুর্ভিক্ষ দেশের কড়া নাড়া শুরু করবে। চীন ছাড়া দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে ওভার নাইট আর ভারতের সেই ক্যাপাসিটি নাই বাংলাদেশের অর্থনীতি বাঁচায় রাখার।
আওয়ামিলীগের বিপক্ষে যদি থাকতে চান তবে জামাত এনসিপির সাথে লাগার কি দরকার। আবার আওয়ামিলীগের থেকে ভোট নিয়ে সরকার গড়লেন, তার পরেরদিন থেকে শুরু করলেন আওয়ামিলীগ নিধন। বেইমানির বাকী কি রাখলেন? আগামীতে আপনাদের আওয়ামিলীগ, জামাত, এনসিপি সব গুলো এক সাথে বেড় দিয়ে ধরবে । সেই লোড নেয়ার ক্যাপাসিটি আছে নাকি বিএনপির? মাঝে দেশটা আবার রাজনৈতিক সংকটে পড়বে৷
বিএনপি সরকার এখন কোন মুখে সহযোগিতা আশা করবে? নিজেরা দেশের চরম সংকটে দেশের জন্যে সামান্য সহযোগিতা না করে, বরং দেশকে আরও অস্থির করে একটা নির্বাচন নিয়েছে আর এখন কে যে তাদের চলাচ্ছে, কে যে তাদের নেত্রীত্ব দিচ্ছে তা আল্লাহই জানেন ভালো। আওয়ামিলীগ, জামাত, এনসিপি সকলের সাথে বেইমানি করে চেয়ারে বসেছে, এখন দেশটার সাথেও বেইমানি শুরু করেছে এরা৷ আওয়ামিলীগ থেকে ভোট চাইলেন, ভোট নিলেন। সরকারে এসে গত ছয়মাসে সারাদেশে অন্তত একশোর অধিক আওয়ামিলীগের মানুষদের হত্য হয়েছে যার ৯৯ ভাগই বিএনপি জড়িত এমন সংবাদ সংবাদপত্রেই আছে।
(এই লিখায় চট করে একদল বেকুব আইসা কমেন্ট করবে - আমি ইউনুসের পক্ষে লিখেছি৷ আরে ছাগলের জাত এইটা ইউনুসের পক্ষের লিখা নয়৷ ৫ আগষ্ট দেশের গভর্নর থেকে খতিব সব পালায় গেছিলো। এই মুহুর্তে ইউনুস কেন জুলেখাও যদি ক্ষমতায় বসতো তবুও আমি বলতাম সকল রাজনৈতিক দলের উচিত ছিল দেশকে শান্ত করতে কাজ করা, সকলের উচিত ছিল জুলেখাকে অন্তত একটা বছর সহযোগিতা করতে। অন্তত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহয়াতা করতে৷ নির্বাচন ১৮ মাস পড়েই নিতো, ১৮ মাস পর নির্বাচন না দিলে আন্দোলনে যাইতো। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই কেন? ইউনুস বা জুলেখা বিষয় না, বিষয় ছিল দেশের স্টাবিলিটি। আরেক গান্ডুর দল ট্যাগিং করবে জামাতের পক্ষে লিখেছি৷ এখানে কোথাও লিখি নাই জামাতের পক্ষে একটা শব্দও )
Sunday, 9 August 2026
‘জুলাই ব্যর্থ হয়েছে’ বেশ আজগুবি একটা বয়ান।
১
একজন ইউটিউবার আমাকে অনুরোধ করেছিলেন ‘জুলাই’র ব্যর্থতাগুলো’ নিয়ে তার ইউটিউব চ্যানেলে কিছু কথা বলার জন্য । বলেছিলাম—'স্যরি ভাই, আমি নিজেও জানতে এবং শিখতে চাই। অন্য কাউকে আনুন। যিনি ব্যর্থতাগুলো ভাল ধরতে পারবেন। আমার সঙ্গে ভিডিও লিংকটি শেয়ার করবেন। আমার খুব বোঝার আগ্রহ!’
তিনি এখনো শেয়ার করেননি। ফলে আমার জ্ঞানার্জন এখনো বাকি।
তবে স্বল্প জ্ঞানে যেটুকু বুঝি—‘জুলাই ব্যর্থ হয়েছে’ বেশ আজগুবি একটা বয়ান। ঠিক আজগুবি নয়; মতলবি।
জুলাই ব্যর্থ হলে রাতে ভোট কেন হলো না? গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলো কীভাবে? নতুন সরকার দেশ চালাচ্ছে কীভাবে? শেখ হাসিনা দেশে নাই কেন? পালালো কেন? তার সীমাহীন ক্ষমতার প্রাসাদ ধ্বসে গেল কেন? পাইক-পেয়াদা-বরকন্দাজ, হেভিওয়েট নেতানেত্রী, যুব-ছাত্র-ওলামা-মুন্সি বিশাল সাঙ্গাতকূল গর্তে কেন?
কেউ কেউ দেখছি বয়ানটিকে যতোভাবে সম্ভব প্রতিষ্ঠিত করতে জানপ্রাণ বাজি রেখে নেমেছে। আমার ধারনা পেছনের উদ্দেশ্য বিশাল একটি জনগোষ্ঠী তৈরি করা—যে জনগোষ্ঠীটি থাকবে সন্দিগ্ধ, হতাশ ও বিভ্রান্ত। সবসময় ভাববে—‘আমরা বোধ হয় ২০২৪-এ আসলে ভুলই করেছিলাম’!
২
যারা আরেকটু চালাক চতুর, তারাই সম্ভবত আরেকটু কৌশলী বয়ান এস্টাব্লিশ করতে নেমেছে। তারা বলে—বলতে চাইছি জুলাই স্পিরিট বিচারে--প্রত্যাশা, চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদি মানদন্ডে ব্যর্থ হয়েছে।
চাওয়া-পাওয়ার মিসম্যাচ হলেই জুলাই ব্যর্থ?
প্রত্যাশা করেছিলাম দাওয়াতকারী কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়াবে। কিন্তু খাওয়াল মুরগি পোলাও। এখন ‘কিছুই খেতে দিল না’ বা ‘খাইনি’ বা ‘দাওয়াতটিই ব্যর্থ’ বলব? এ রকম ভাষ্য-বয়ান চাতুরি ছাড়িয়ে শঠতার পর্যায়ের নয় কি? না কি নেহাতই নাদানি, না বুঝে, না ভেবেচিন্তেই কনক্লুশনে জাম্প করা?
গুম-খুন কি হচ্ছে? ক্রসফায়ার? আয়নাঘর? কমনরুম কালচার, গেস্ট রুম অত্যাচার? সংসদে রাজবন্দনার গানবাজনা? ফেসবুকে তীর্যক কিছু লিখলেই ১৪টি মামলা? পুলিশ-ডিবি-র্যাবের আত্মীয়-স্বজন ভাইবোনদের বাড়িতে পৌঁছে যাওয়া? মিটমাটের জন্য থানায় এত্তেলা? নগদ নারায়নসহ যথাসময়ে যাবার আল্টিমেটাম। ইত্যাদি ইত্যাদি? (তালিকা দিতে গেলে হাজারটা দেওয়া যাবে!)
প্রত্যাশা তো কতো কী-ই থাকে! কার না থাকে? নিজের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব মেলাতে গেলেও দেখি টেনেটুনে দশ ভাগের কাছাকাছিও মেটেনি। বলব আমি এবং আমার জীবন ব্যর্থ? দশভাগ সাফল্য নিয়েও শোকর আলহামদুলিল্লাহ বলতে থাকার মত অনেক অনেক বিষয়ই কি আমার প্রাপ্তির ঝুলিতে নেই?
অনেকেরই বোধ হয় প্রত্যাশা ছিল জুলাই বাংলাদেশকে একটি ফেরেশতানগর-এ পরিণত করবে! অথচ, বাস্তবতা হচ্ছে, পৃথীবির যে কোনো দেশেই গণঅভ্যুত্থানের পর গড়ে কমপক্ষে দুইটি বছর থাকে চরম বিশৃংখলার। অন্তর্ঘাত-প্রতিবিপ্লব-গৃহযুদ্ধ, রক্তপাত ইত্যাদির উদাহরণও অনেক।
ফরাসি বিপ্লবে আস্ত রাজতন্ত্রের পতনের পরও গৃহযুদ্ধ ছিল দশ বছর।
স্পেনে ১৯৩১ সালে রাজতন্ত্রের পতনের পর স্পেনীয় দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৩৬ সালে জেনারেল ফ্রাঙ্কো অভ্যুত্থান ঘটায়। পরের তিন বছরের গৃহযুদ্ধে মারা পড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ।
মিশরে ২০১১র আরব বসন্তের পর ২০১৩ পর্যন্ত কী হয়েছে, এখনো কি চলছে?
সুদান ২০১৯এ ওমর আল-বশির-এর পতন হতে ২০২৩ পর্যন্ত চার বছর নরক হয়ে ছিল।
২০০১-এ কাবুলে তালেবানদের পতনের পর নরক হয়ে ছিল পরের কুড়ি বছর।
লিবিয়ায় ২০১১তে গাদ্দাফির পতনের পর পনের বছর চলছে। হাফতার বাহিনী চালাচ্ছে সমান্তরাল সরকার।
আর কত উদাহরণ লাগবে? ইয়েমেন ভুগেছে ২০১১ হতে ২০১৭ পর্যন্ত, নিকারাগুয়া ১৯৭৯ হতে ১৯৯০ পর্যন্ত, কম্বোডিয়ায় ১৯৭৯ হতে ১৯৯৮, মিয়ানমারে তো ২০২১ সালে অগণিত ছাত্রের প্রাণহানির পরও গণআন্দোলনটি সাফল্যই পেল না। গণঅভ্যুত্থানও হয়ে উঠতে পারল না।
৩
‘জুলাই ব্যর্থ’ বা ‘জুলাই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ’ বয়ানগুলো কি সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার টেকনিক নয়?
টেকনিকটির লক্ষ্য কি বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর মনোবল ভেঙ্গে দিয়ে শক্তিমত্তার দিকটি দূর্বল করে দেওয়া নয়? যাতে জুলাই-এর শত্রুপক্ষ জোরদার প্রত্যাঘাত দিয়ে ফেরার বা মাঠ দখলে নেবার চেষ্টাকালেও বিশাল একটি গোষ্ঠী নিষ্ক্রিয় থাকে? যাতে ভাবে—ধূর, আমার কী! আগে একবার ভুল করেছিলাম, আবারো ভুল করব?
এ রকম বিভাজিত একটি জনগোষ্ঠী তৈরি করার প্রকল্পটি পরাজিতদের সজ্ঞান ও সুপরিকল্পিত কৌশল নয় তো?
‘ব্যর্থ’ লেবেলটি ক্লাসিকাল ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’এর প্রো ভার্সন নয় তো? শেখ হাসিনা ষোলো বছর টিকে ছিল ‘বিভাজন’এর রাজনীতি দিয়েই।
নিস্পৃহ, নির্বিকার, হতাশ ও ঝিমুনিবাদী জনগোষ্ঠী তৈরির চলতি প্রজেক্টটি একই ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ ধরণের সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার-এর সময়োপযোগী মডিফাইড ভার্সন সন্দেহ করা কি ভুল হবে?
‘পলাশীর আম্রকাননে সিরাউদ্দৌলাহর বাহিনী যখন কচূকাটা হচ্ছিল, অদূরেই ক্ষেত-খামারে কৃষকেরা ছিল নির্বিকার ও নিরুৎসাহী। নিত্যদিনের মতই তারা নিড়ানী দিচ্ছিল, হালচাষ করছিল। ভাবছিল, ধুর আমার কী! এগুলো রাজা-উজিরের ব্যাপার। ওদের সাপোর্ট দিয়ে আগে অনেক ভূল করেছি’।
ফলাফল দুইশ’ বছরের গোলামি। ব্রিটিশরা না কি ‘বিভাজন’ টেকনিকটির সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছিল পলাশি তৈরির আগে আগেই! অন্যভাবে বলা যায়, এই টেকনিকেই ব্রিটিশরা পলাশি জেতে, ভারতবর্ষ দখলে নেয়!
৪
জুলাই-এর অব্যবহিত পরের অন্তর্বর্তি সরকার দেবরাজ জিউসের পারিষদ ছিল না। ভুলভাল তাদেরও ছিল। থাকা স্বাভাবিক। ভোটে নির্বাচিত চলতি গণতান্ত্রিক সরকারও নানা হাবিজাবি কাজকর্ম ও ভুলভাল করছে। লক্ষণ বলছে আরো অনেক ব্লান্ডারই করবে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সহজ নিয়ম--সরকার প্রতিবাদযোগ্য কাজ করলে প্রতিবাদ হবে, প্রতিরোধযোগ্য হলে প্রতিরোধ হবে। বাংলাদেশের চলতি সরকারও ফের শেখ হাসিনার শাসনের স্টাইল ধরলে পরিণতি হবে শেখ হাসিনার মতই। এ সবই ইতিহাসের পরম্পরা।
সরকারে থাকলে দায়িত্ব, বিবেচনাবোধ, সহনশীলতা, সহ্যক্ষমতা অনেক বেশি থাকা বাধ্যতামূলক। গন্ডারের চামড়াও হতে হয় সময় সময়। বিরোধীদের জন্য বিষয়টা অতোটা বাধ্যতামূলক নয়। বিরোধীপক্ষ বিরোধিতার খাতিরে, মাঠ গরম রাখার প্রয়োজনে, প্রাসঙ্গিক ও দৃশ্যমান থাকার প্রয়োজনে; শুধুই বিরোধিতার জন্য হলেও বিরোধিতা চালিয়ে যাবেই।
বিরোধীপক্ষের ভাগে যেহেতু পুলিশ-মিলিটারি, ক্ষমতা, আমলা, প্রশাসন, বিদেশভ্রমণ, অর্থকড়ির সুযোগ-সুবিধার কিছুই নেই—তারা এমনিতেই আশিভাগ ব্যাকফুটে থাকে। তাই তাদের ‘কম্পেন্সেটরি এলাউন্স’ হিসেবে সরকারকে অনেক ছাড় দিতে হয়, অনেক কিছু এলাউ করতে হয়। তারা ঘেউ করলেই সরকারপক্ষকে পালটা ঘেউ করতে হয় না। ‘ক্ষতিপূরণ’ ধরে নিয়ে এলাঊ করতে হয়। অর্থাৎ, দাঁত্-মুখ খিঁচে হলেও অনেক উৎপাত সহ্য করে যেতে হয়।
কিন্তু, সরকারি দলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে এই সামান্য সিভিক পলিটিক্যাল সেন্সটুকু তৈরির চেষ্টাটুকুই তো নেই সরকার মহলের। মাঠের এবং ফেসবুকের গরম দেখে মনে হচ্ছে—'যেমন বুনো ওল, তেমন বাঘা তেঁতুল' অবস্থা। সরকারি অবস্থান ‘যেমন কুকুর, তেমন মুগুর’! তো এই ব্যর্থতার দায় তো সরকারের!
৫
জুলাইযোদ্ধারা সবাই কি ফেরেশতা? এটা কি কখনো সম্ভব? তাদের অনেকেই জুলাই বেচেছে, নানারকম ধান্দাবাজির চেষ্টা করছে, অপরাধ-অপকর্মে নেমেছে, বাড়াবাড়ি আচরণ করেছে, অপরিপক্ক ও অপরিণত আচরণ দেখিয়েছে, আবার সবকিছুতে অ্যামনেস্টি চাওয়ার মানসিকতাও দেখিয়েছে।
তাতে কি জুলাই ব্যর্থ হয়ে যায়? না কি জুলাইশক্তির সকলকেই পাইকারি হারে দায়ী করা যায়?
শুধু পাটোয়ারিই নয়, আরো অনেক রাজনীতিকেরই মাঠের ভাষা-ব্যবহার করার পাঠ নিতে হবে। এনসিপি সমর্থকদের কাউকে কাউকে বলতে শুনেছি--পাটোয়ারি তার নিজস্ব ভাষাশৈলি, ম্যানারিজম ও প্রকাশভঙ্গি দিয়ে একটা স্বতন্ত্র পার্সোনা তৈরি করতে পেরেছে, অনেকেই এই স্টাইল পছন্দও করে। আমার সোজাসাপ্টা কথা—এই ধরণের হাটুরে চিন্তার জগদ্দল হতে বেরিয়ে আসতে হবে।
বের হয়ে আসতে হবে কারণ, এই সময়ে এসে রাজনীতিবিদের ভিশন লাগবে ‘স্টেটসম্যান’-এর। বিনোদনদাতা বা বানর নাচ দেখানো ক্যানভাসারদের মত আকর্ষণীয় না হয়ে যাবার।
একবিংশ শতকের এই সময়ে এসে কেউ যদি আঞ্চলিক রাজনীতি বা স্থানীয় রাজনীতিই করে যাব ভেবে থাকে, সে এমপি-মন্ত্রি হলেও মানে-জ্ঞানে হবে বড়জোর ইয়াবা বদি বা মমতাজ, বড়জোর জয়নাল হাজারি গোছের।
তাদের ভাবনায় যদি না থাকে পৃথীবির যে কোনো ফোরামে ও আসরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিকদের টেবিলে-পোডিয়ামে সমান দর্শনদারী ও গুণবিচারি হিসেবে উপস্থিত হতে হবে, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের বা জুলাইয়ের সফলতা-ব্যর্থতা—সকল আলোচনাই বৃথা!
৬
লাস্ট বাট নট লিস্ট, আমার কাছে বছরের সেরা অবিশ্বাস্য ঘটনা মনে হয়েছে রাশেদ খান ও নূর-এর পদায়ন।
প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাবোধের পারমূটেশন-কম্বিনেশন-কম্প্রিহেনশন তো আর আমি বুঝব না। হয়ত তিনি সজ্ঞানেই কাজটি করেছেন ভেবে তাদের পারফরমেন্সের কিছু নমূনা (এই যেমন টিভি উপস্থিতি ইত্যাদি) দেখলাম।
দেখেটেখে আমার আশ্চর্য হওয়া না কমে আরো বাড়ল। উল্টো নতুন ভাবনা বাড়ল—এইরকম ভাই-বেরাদার পন্থার পরিণামে গিয়াস মামুন বিষয়ক তাঁর মহাভোগান্তির ঘটনাটিও কি তিনি বিস্মৃত হয়ে পড়েছেন?
Tuesday, 21 July 2026
ডরে তারেক রহমানের ভয় কাঁপতেছে।
হা হা হা
মনে হইতেছে ডরে তারেক রহমানের ভয় কাঁপতেছে।
মূল ব্যাপার হল, বাংলাদেশ থেকে বছরে ফেসবুক ও ইউটিউব ১০০ থেকে ১১০ কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন পায়। প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর আবার ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দেয়। যা থেকে ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশে টিভি, পত্রিকা, অনলাইন আছে শত শত। এর সঙ্গে আছে শত শত নিউজের পেইজ। সারাদিন প্রচুর কনটেন্ট দেয় (নিউজ/ভুয়া নিউজ) দেয়। এরপর আছে লাখে লাখে কনটেন্ট ক্রিয়েটর। বাংলাদেশি, ভারতীয় বাজার ধরতে জাপানি, আমেরিকান, ইউরোপীয়, আফ্রিকান কনটেন্ট ক্রিয়েটররা পর্যন্ত বাংলা হিন্দি গানে নাচে। কারণ, রিলস শটস এই অঞ্চলে জনপ্রিয়। মানে এক বাটি ক্ষীর, ১২ জন পীর- এই অবস্থা।
এই তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে যে যারা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলে বা লিখে তাদের জন্য ডলার কামানো আরও মুশকিল। কারণ ব্যাপারটা ফানি না ভাইরাল ভিডিওর মত না যে, মানুষ দেখবেই। তাই ভিউয়ের চাপে এই 'বিশ্লেষকরা' যা নয় তা বলেন। যত আজগুবি সেনসেশন তৈরি করা যাবে, তত ভিউ। আর টার্গেট হল, অনলাইনে যখন যে ধরনের দর্শক বেশি, তখন তাকে এপিজ করা। এ কারণে দেখবেন, আগে বিএনপি বা জামায়াতকে তেল মারা 'বিশ্লেষক' এখন আওয়ামী লীগকে এপিজ করছে। আগে ভারতকে গালাগালি করা বিশ্লেষক এখন পাকিস্তান, আসেরিকা হামলা করছে।
এটার কারণ হল, ৫ আগস্টের পর বিএনপি, জামায়াতের লোকজন অনলাইন ছেড়ে রিয়েল লাইফে চলে গেছে। 'শিগগির হাসিনার পতন হবে যে ৫ কারণে', 'হাসিনা ভয়ে কাঁপছে', 'আমেরিকা দিল আওয়ামী লীগকে বাম্বু'- এই জাতীয় ভিডিও খেয়ে আশাবাদী হওয়ার টাইম তাদের নাই। এখন এই জাতীয় ভিডিও শুনে শেখ হাসিনার সমর্থকরা। এই আপা ফিরল, তারেক রহমান ভাগল- এই জাতীয় আলাপ তাদেরকে ভরসা না দিলেও মনে ক্ষনিকের সুখ দেয়। জামাত, এনসিপি, ইউনুসকে গালাগালি শুনলে ভালো লাগে।
কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট হিসেবে নবনীতা এগুলো বোঝেন। ফলে এসব বলে ডলার কামাচ্ছেন।
ডলারের লোভে মাঝেমাঝে মনে হয়, আমিও এগুলা বলা শুরু করি। করব নাকি?
Subscribe to:
Posts (Atom)