Khan Thoughts
Friday, 13 February 2026
নির্বাচনের ফলাফলের ব্যাখ্যা নিয়ে বাজারে তিনটা থিওরি
নির্বাচনের ফলাফলের ব্যাখ্যা নিয়ে এ পর্যন্ত বাজারে তিনটা থিওরি পেলাম। বলে রাখি, একটাও আমার নিজস্ব থিওরি না। বা আমি কোনোটাকে এন্ডর্সও করছি না। জাস্ট বাজারে প্রচলিত থিওরি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
১। ডাম্ব থিওরি
দিনভর সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেনাবাহিনী সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, কিন্তু ভোটগ্রহণ শেষেই সেনাবাহিনী হঠাৎ পল্টি মেরেছে।
জামাত জোট প্রায় জিতেই যাচ্ছিল। কিন্তু এরপর ডিজিএফআই সব মিডিয়ায় ব্ল্যাক আউট দিয়ে সবাইকে আসল সংবাদ চেপে যেতে বাধ্য করেছে।
এরপর কয়েক ডজন কেন্দ্রের নির্বাচনী কর্মকর্তাদেরকে দিয়ে রেজাল্ট শিটে কাটাকাটি করিয়ে ফলাফল পাল্টে দিয়েছে এবং জামাত জোটকে হারিয়ে বিএনপি জোটকে জিতিয়ে দিয়েছে।
২। স্মার্ট থিওরি
পুরো নির্বাচনটাই ছিল ডীপস্টেটের একটা সাজানো নাটক। বাস্তবে সবকিছু আগেই সমঝোতার মাধ্যমে ঠিকঠাক করা ছিল।
তারেক রহমান দেশে ফেরার পরপরই তার সাথে শফিকুর রহমান, ড. ইউনুস এবং জেনারেল ওয়াকারের একটা সমঝোতা হয়ে যায়।
এই সমঝোতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়, বিএনপিকে ২১০-২২০ টা এবং জামাতকে ৮০-৯০ টা সিট ধরিয়ে দেওয়া হবে।
বিনিময়ে ভারত এবং লীগকে আউট করে দেওয়া হবে, জামাতকে কোনো ধরনের পার্সিকিউশন ছাড়া শান্তিতে বিরোধী দলীয় রাজনীতি করতে দেওয়া হবে এবং সবশেষে ড. ইউনুসকে প্রেসিডেন্ট বানানো হবে।
অতঃপর সবাই মিলে সুখেশান্তিতে দেশ চালাতে থাকবে।
৩। এপিক থিওরি
এই থিওরি অনুযায়ী প্রথমে কোনো সমঝোতাও হয়নি, কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংও হয়নি। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল।
কিন্তু সমস্যা বাধে যখন দেখা যায় ঢাকা ১৫ আসনে জামাতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান হেরে যাচ্ছেন। এটা দেখে শফিক ডাক্তার চিন্তায় পড়ে যান।
কারণ পরোয়ার সাহেব আগেই হেরে গেছেন, এখন শফিক ডাক্তারও যদি হেরে যান, তাহলে সিনিয়রিটি এবং সম্মানী ব্যক্তি হিসেবে বিরোধী দলীয় নেতা হয়ে যাবেন মাওলানা মামুনুল হক। সেক্ষেত্রে জামাতের রাজনীতিই নাই হয়ে যাবে।
শফিক ডাক্তার তখন বিএনপির সাথে সমঝোতায় যান এবং মামুনুল হক আর নাসির পাটোয়ারির জেতা আসন দুটোতে বিএনপিকে জিতিয়ে দিয়ে নিজে ঢাকা ১৫ আসনে জয়ী হওয়ার নাটক করেন।
এই কারণেই এই তিন আসনের ফলাফল ঘোষণা করতে দেরি হচ্ছিল।
===
এই তিন থিওরির মধ্যে আপনার ফেভারিট কোনটা, বা আপনার কাছে যদি অন্য কোনো থিওরি থেকে থাকে, তাহলে কমেন্টে জানাতে পারেন।
জামায়াত পরিবর্তন চাওয়া মানুষের পক্ষে দাঁড়াইছে।
এক,
জামায়াত জোট ৭৭ আসনে জয় পাইছে। এর বাইরে প্রায় আরও ৫৩ আসনে ভোটের ব্যবধান খুবই কম ছিল। ৭৭+৫৩ = ১৩০। অর্থাৎ, অল্প কিছুটা ভোট পাইলে আর ২০টার মত আসনে সুইং হইলেই জামায়াত এই নির্বাচন জিতে যাইত। জামায়াতের আরেকটা সুবিধা হইল, দেশের তরুণদের মধ্যে তারা ভোট বেশি পাইছে। কম ভোট পাইছে গ্রামীণ জনপদে। ফলে সামনের দিনের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের সাথে কাজ করার এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করার অনেক সুযোগ আছে।
দুই,
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে পাবলিক পরিসরে জামায়াতের তেমন কোন অবস্থান ছিল না। এর আগের নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের বেস্ট পারফরম্যান্স ছিল ১২% ভোট আর ১৮ আসন। সেইখান থেকে জামায়াত এখন প্রায় ৩৫–৪০% ভোট পাওয়া দল, ৮০টার মত আসন পাওয়া দল। এই পজিশন থেকে ৫ বছরের একটা দায়িত্বশীল রাজনীতি জামায়াতকে সফলতার কাছে নিয়ে যাবে।
তিন,
জামায়াতের সবচেয়ে বড় সফলতা হইল, জামায়াত পরিবর্তন চাওয়া মানুষের পক্ষে দাঁড়াইছে। জুলাই সনদের পক্ষে দাঁড়াইছে। অনেক পলিসির ক্ষেত্রে উদার অবস্থান নিছে। জামায়াত এখন সুযোগ পাইল প্রমাণ করার যে, এইগুলো শুধু নির্বাচনে জেতার জন্য ছিল না। বরং জাতির প্রতি কমিটমেন্ট ছিল। সংখ্যালঘু, নারী, শরীয়া আইন—ইত্যাদি ইস্যুতে জামায়াত তার পজিশন এখন আরও ক্লিয়ার করার সুযোগ পাবে, যাতে সামনের নির্বাচনের আগে কেউ অস্পষ্টতার অভিযোগ আনতে না পারে।
চার,
দেশের জন্য বিরোধী দলের ভূমিকাও জরুরি। জামায়াতের সুযোগ আছে বিএনপিকে চেক-এ রাখার। বিএনপি ভাল করলে ডিস্টার্ব করা যাবে না, খারাপ করলে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
জামায়াতকে আজকে থেকে, এখন থেকেই আবার রাজনীতি শুরু করতে হবে। দেশের জন্য, মানুষের জন্য, পরিবর্তনের জন্য। জুলাইয়ের তরুনদের জন্য। একদিনও নষ্ট করা যাবে না। এই নির্বাচন পরাজয়ের নির্বাচন না, বরং জয়ের পথে যাওয়ার প্রথম ধাপ অতিক্রম করা। জুলাইয়ের সময় একটা স্লোগান ছিল, “দম ফুরায়ে গেছে?” পরিবর্তনের জন্য বিপ্লবীদের দম ফুরায়ে যায় না। বিপ্লবের শুরু মাত্র। কেউ ফ্যাসিস্ট হইতে চাইলে তার দমই ফুরায়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপির সহিংসতা ও হামলা
নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপির সহিংসতা ও হামলা
নির্বাচন শেষ হতে না হতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিহিংসার রাজনীতি। কুয়েট ভিসি থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থী, এমনকি রাজনৈতিক মিত্রদের ওপরও হামলার খবর আসছে।
১৩ ফেব্রয়ারি ২০২৬ তারিখে বিএনপির সহিংসতা ও হামলার একাংশ:
১. কুয়েট ভিসির ওপর ছাত্রদল কর্মীদের বর্বরোচিত হামলা।
২. দিনাজপুরে ছেলের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে (জামায়াতের পোলিং এজেন্ট) বাবাকে মারধর ও বাড়ি পোড়ানোর হুমকি।
৩. পঞ্চগড়ে বিএনপি কর্মীদের হাতে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর; অনেকে আহত। অভিযোগ এনসিপির সার্জিস আলমের।
৪. বাগেরহাট-৪ আসনে আল-আমিন নামের এক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
৫. ফেনীর ফুলগাজীতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে জামায়াত নেতার দোকানে হামলা। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাটে জামায়াত কর্মীদের ৪ টি দোকান ভাংচুর করেছে স্থানীয় যুবদল নেতারা। এই ঘটনায় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের পর গণমাধ্যমে কথা বলছেন, ফেনী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন।
৬. নোয়াখালীর সেনবাগে জামায়াত নেতার ওপর ছাত্রদল কর্মীদের অতর্কিত হামলা।
৭. উখিয়ার করম মুহুরীপাড়ায় বিএনপি ক্যাডারদের হামলায় বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি।
৮. কুড়িগ্রামে ভোট নিয়ে তর্কের জেরে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে বিএনপি কর্মীরা।
৯. খুলনায় ঢাবি শিক্ষার্থীর বাড়িতে আগুন; মা-বোনকে পিটিয়ে আহত এবং শিক্ষার্থীকে জ-বা করে প্রাণনাশের হুমকি।
১০. পাটগ্রামে বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে বাড়িতে ঢুকে মালামাল লুটতরাজ।
১১. বরিশালে বাবার রাজনৈতিক (জামায়াত) পরিচয়ের জেরে ছেলের গাড়িতে ছাত্রদল কর্মীদের হামলা।
১২. চট্টগ্রামে সাবেক শিবির নেতার বাড়িতে বিএনপি নেতাদের হামলা ও ভাঙচুর।
১৩. চকরিয়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে বিএনপি ক্যাডারদের দফায় দফায় হামলা।
১৪. কুষ্টিয়ায় এনসিপি নেতার বাসভবনে বিএনপি কর্মীদের হামলা।
১৫. ফেনীতে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের পর জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে ব্যাপক হামলা।
১৬. সিরাজগঞ্জে জামায়াত আমিরের বাড়িতে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে অগ্নিসংযোগ।
১৭. সন্দ্বীপে জামায়াত নেতাদের বাড়িতে বিএনপি নেতাদের হামলা।
১৮. দিরাই পৌরশহরে জামায়াত নেতার ওপর শারীরিক আক্রমণ।
১৯. বাগেরহাটে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় ২০ জন আহত।
২০. গোপালগঞ্জে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা।
২১. বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় শিবির কর্মী আহত।
বিএনপি’র শাসনামলে কয়েকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে।
বিএনপি’র শাসনামলে কয়েকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে।
১) যদি পতিত ফ্যাসিস্ট জনধিকৃত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আবারও রাজনীতি করার অনুমতি পায় তাহলে বুঝতে হবে বিএনপি ভারতের দাদাগিরি মেনে নিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতা ভোগ করছে।
২) যদি বিএনপি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস’কে দেশের প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করে, তাহলে বুঝতে হবে বিএনপি যথেষ্ঠ বুদ্ধিমত্তার সংগে ভারতের সংগে কুটনৈতিক বিষয়াবলি হ্যান্ডেল করতে পারবে এবং তারা ভারতের কাছে নতজানু থাকতে রাজী নয়।
৩) বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল হিসাবে ক্ষমতা গ্রহন করতে যাচ্ছে। ওদিকে গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হওয়াতে তাদের জন্য সংবিধান সংশোধন বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। তারা কিভাবে সংবিধান সংশোধন করে সেটাও তাদের পরিপক্কতার প্রমাণ দিবে।
৪) বিএনপি সরকার জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ঠিক কিভাবে ডিল করে - সেটাতেও বিএনপির রাজনীতি কোনদিকে যাবে তা ফুটে উঠবে।
৫) চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে প্রস্তাবিত সামরিক জোট গঠন, চায়না কর্তৃক প্রস্তাবিত তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে বিএনপি সরকার কি করে - তাতেও দলদির পরিপক্কতা এবং সার্বিক সফলতার অনেকাংশই বোঝা যাবে।
Wednesday, 11 February 2026
Subscribe to:
Comments (Atom)





























































































