Khan Thoughts
Thursday, 26 February 2026
বিএনপি টিকতে পারবে কি? সামনের চ্যালেঞ্জগুলো কি কি!!
১৯৭৩ সালে আওয়ামিলীগ ২৯৩ আসন পাইছিলো!
দুই বছর যেতে না যেতেই শেখ মুজিব বাকশাল ঘোষণা করলো! মানে "একদলীয় শাসন ব্যবস্থা"!
কিন্তু ২ বছরের ভিতরেই চান্দুর পুরো পরিবারসহ নাই করে দিছে।
*১৯৮৬ সালে ১৫১ টা আসনে জয়ী হইছিলো জাতীয় পার্টি কিন্ত জাতীয় পার্টির এরশাদ কাকু টিকলো মাত্র ১৭ মাস।
কারণ তখন বিএনপি নির্বাচন বয়কট করছিলো!
*১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ২৭৮ আসনে জিতছে বিএনপি কিন্তু টিকতে পারছে মাত্র ১২ দিন।
কারণ আওয়ামিলীগ, জামাত নির্বাচন বয়কট করছিলো।
*২০২৪ সালে আওয়ামিলীগ ২২৩টি আসন পাইলো মাত্র ৮ মাস পর প্রজম্ম চুদলিং*পং করে দিলো।
এবার ২১২ টা আসনে বিএনপি জয়ী হইলো!
সরকার গঠন করলো!
প্রশ্ন হলো ,সামনে বিএনপি টিকতে পারবে কি? সামনের চ্যালেঞ্জগুলো কি কি!!
১,এবারের নির্বাচন পুরোপুরি লীগকে মাইনাস করে হইছে! আওয়ামী লীগের ভাষ্যমতে "গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণ করে নির্বাচন হয় নাই কারণ বড় একটা দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই।
সংবিধান অনুযায়ীও নির্বাচন হয়নি কারণ ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়ার কথা।
২,জামাত -এনসিপির অভিযোগ," ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং" হইছে! মেবি দেশকে শান্ত রাখতে সহজেই সবকিছু মেনে নিচ্ছে!
৩,সবচেয়ে বড় আপত্তির জায়গা হলো "গণভোট নিয়া নতুন নাটক" চলছে!
মানে শপথ না নিয়ে গণভোটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইছে বিএনপি!
তারমানে পুরো দেশের মানুষের মধ্যে অলরেডি ক্ষোভ তৈরি হয়ে গেছে।
৪,আজকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দিলো ,এমন একজন ব্যক্তিরে যে ব্যক্তি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ,শুনলাম ঋণখেলাপীর সাথেও নাকি জড়িত।
এখানেই শেষ না! আজকে বিএনপির বিক্ষোভের মুখে রানিং গভর্নরের অফিস ছাড়তে হইছে ,মানে উনার সাথে মব করা হইছে!
এমন একটা যোগ্য লোকের সাথে যিনি ১৭ মাস চেষ্টা করে লুট হওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগলে রাখছেন,দেশের রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন থেকে ৩২ বিলিয়নে নিয়েছেন।
লীগের ব্যাংক ডাকাত, লুটেরাজ একটারেও ছাড় দেয়নি! বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সেরা গভর্নর!
এই ঘটনা দেশের প্রত্যেকটা বিবেকবান সচেতন মানুষের মধ্যে দাগ কাটছে!
৫,কয়দিন আগে চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ভাইকে অপসারণ করে বিএনপির এক লোকেরে বসাইছে।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চিত হইছে, জুলাই হত্যাকান্ডের তদন্ত ও বিচার কাজ স্বাভাবিক চলবে কিনা জনমনে সন্দেহও তৈরি হইছে।
৬,কয়দিন আগে বিএনপির সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী বললো ,"সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা!"
মানে চাঁন্দাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করলো! পুরো দেশে একটা ক্যাচাল লেগে গেলো! অলরেডি জনরোষ তৈরি হইলো।
৭,মেবি ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি মন্ত্রী বললো,"আজকের জেন-জি যদি ইনকিলাব বলে, তবে আমার রক্তক্ষরণ হয়। বাংলাকে ধারণ করতে হলে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' চলবে না"।
তারপর পুরো তরুণ প্রজম্ম তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠলো।
কারণ এই স্লোগান দিয়েই হাসিনার পতন হইছে ,বিএনপির লোকেরা মুক্তি পাইছে,ভদ্রলোক এখন মন্ত্রী হইছে।
৮,দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামিলীগের লোকদের অফিস খোলে দেয়া হচ্ছে। ধরেন ১-২ বছরের ভিতরে তারা দেশে ফিরলো!
আপনার কি মনে হয় তারা বিএনপি সরকারকে মেনে নিবে? জীবনেও না!
বরং সরকার বিরোধী কোন আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা থাকবে লীগের কারণ তারা অলরেডি নির্বাচন বয়কট করছে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো ,জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার লাশের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসলো!
যারা দেশে পরিবর্তন চায়, যারা সংস্কার আর বিচার চায় তাদের প্রত্যাশাকে বাদ দিয়া বিএনপি আগামী ৫ বছর ক্ষমতায় টিকতে পারবে কি?
জামাত,এনসিপি আর লীগের চুপ থাকার মানে কিন্তু নীরবতা না! খুব সম্ভবত তারা বিএনপিকে তাদের ভুল শোধরানোর জন্য সময় দিতে চাইছে!
কারণ ঈদের পর কঠোর আন্দোলন এসব বুলি তারা দিবে না, মেবি ঝোপ বুঝে কোপ মারার ধান্দায় বিক্ষুব্ধ জনগনরে সাথে নিয়া বসে আছে।
তিক্ত হলেও সত্য, এই জেনারেশন দেশে পরিবর্তন চাই!
পুরোনো ধারার রাজনীতি, লীগ স্টাইলের রাজনীতি,স্বজনপ্রীতি ,দুর্নীতি, স্বৈরাচারী আচরণ, মামলা বানিজ্য ,বিচারহীনতার সংস্কৃতি, বাকস্বাধীনতা হরণ, জঙ্গি নাটক সাজানো, সন্ত্রাসী ,চান্দাবাজি ,ধর্ষণ ,বিদেশীদের গোলামী ,পুলিশ দিয়া নতুন নতুন স্ক্রিপ্ট সাজানো, প্রশাসন দিয়া ভয়ভীতি দেখানো,গুম -খুন ,নতুন আয়নাঘর ,ভিন্নমতকে ধমন পীড়ন ,জাতির সাথে বৈষম্য আর দেখতে চাই না!
বাস্তাপচা রাজনীতি কেউ দেখতে চাইছে না!
আমরা চাই, বিএনপি টিকে থাকুক। তারা জনগণের সমর্থন আর ভালোবাসা নিয়া টিকে থাকুক কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা আর ভাল্লাগে না!
আর হ্যাঁ প্রজম্মের প্রত্যাশাকে বাদ দিয়া বাংলাদেশে রাজনীতি করা প্রায় অসম্ভব কারণ এটা মিডিয়ার যুগ!
এ প্রজম্ম রাজনীতি নিয়া বহু সচেতন! তারা এতোটাই সচেতন, জীবন যৌবন ,ক্যারিয়ার,প্রেম,ভালোবাসা,নাটক,সিনেমা,কৌতুক ,জোকস ,ইনজয় সব ভুইলা গেছে। দেশপ্রেমের নেশায় মেক্সিমাম তরুণ হাবুডুবু খাচ্ছে!
প্রজম্ম এতোটাই সাহসী ,তারা দেশের স্বার্থে , জনগণের স্বার্থে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতে বিন্দুমাত্র পরোয়া করে না!
বুঝলে বুঝ পাতা ,না বুঝলে তেজ পাতা!!!#
আওয়ামীলীগ কখনও প্রতিশোধ নিতে ভুল করে না।
শুধু মনে রাখবেন, আওয়ামীলীগ কখনও প্রতিরোধ নিতে ভুল করে না।তারা হিসেব নেয় করায় গন্ডায়।
সয়ং বেগম খালেদা জিয়াকে ও জেল খাটতে হয়েছে।
আর মিথ্যা মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাঁ*সি দিয়েছে।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু দুজনেই আওয়ামীলীগের আমলে ফাঁ*সির অপেক্ষায় কারাগারে ছিলেন।
নাসিরুদ্দিন পিন্টু ভাইকে তো কারাগারেই হ*ত্যা করা হয়েছে।
আর বছরের পর বছর জেল খাটতে হয়েছে দলের মহাসচিব থেকে শুরু করে থার্ড লেয়ারের প্রত্যেক নেতাকে।
আরেকটু ইতিহাসের পেছনের পাতায় যাই...
শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের একজন কর্মী মৃত্যুর পর মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় বিএনপির ৪ জন নেতাকে মৃত্যুদন্ড আর ১ জন কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলো শেখ হাসিনার আদালত।
আর ২৫ বছর আগে পাবনায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার জন্য বিএনপির নয় নেতাকে ফাঁ*সি দিয়েছিলো আওয়ামীলীগ সরকার।
(বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলায় কয়জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত)
আরও ইতিহাস শুনেন....
জেলহাজতে সাত বছর আগে মারা যাওয়া বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মাহবুবকে তিন বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলো আদালত। আবার দুই বছর আগে মারা গেছেন এমন এক নেতাকেও পৃথক মামলায় দেওয়া হয়েছিলো চার বছরের কারাদণ্ড।
শুধু কি তাই......শুধু বেগম খালেদা সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু তথ্য মনে করিয়ে দেই...
বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছিলো।তারপর গুলশানের
বাসার পানির লাইন,বিদ্যুৎ লাইন,টেলিফোন লাইন আর বালুর ট্রাকের ইতিহাস তো সেই দিনের ঘটনা।
অসুস্থ অবস্থায়ও আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে।
আর তৃণমূল.....
কি বলবো ভাই, শীতের সময় ধান খেতে ঘুমাতে হয়েছে। মাথার নিচে ইট দিয়ে। ছেলে বিএনপি করে এই অপরাধে বাবাকে হ*ত্যা করার ঘটনা মনে আছে?
এগুলো কি ১৪০০ মানুষ *হত্যার পর গনঅভ্যুত্থানে বেগম খালেদা জিয়া বা বিএনপির পতনের পর বেগম জিয়ার মন্ত্রী সভার সব সদস্য পালিয়ে পাকিস্তান যাওয়ার পরের ঘটনা? না...
তত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে স্বাভাবিক, গনতান্তিক নির্বাচনের পর এমন সব দোজখ শুরু করেছিলো আওয়ামীলীগ সরকার।
আজ যারা আওয়ামীলীগের নেতা হ*ত্যা মামলার আসামী ইয়াবা বদি,আইভি রহমান,তালুকদার মোঃ ইউনুস,দবিরুল রহমান এমপিরা সহ,ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার জামিন দিয়ে মুক্ত করে দিয়েছেন।
লীগের, তাদের সকল নেতাকর্মীদের সব কিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, জেলগেট থেকে ফুল দিয়ে বরণ করছেন, হ*ত্যা মামলার আসামিকে খালাস পাইয়ে দিচ্ছেন।
আওয়ামীলীগ আবার ফিরলে হয়ত আতাতকারী,ইতিহাসের মীর জাফর আলী খান নামক সিনিয়র/ জুনিয়র কিছু নেতাদের তেমন ক্ষতি হবে না।
তবে তৃণমূলের নেতাদের উপর ভয়ানক দুর্যোগ যে নেমে আসবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।।
সেদিন ২০০৯-২০২৪ সালের অতীতের মত আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষে কেউ দাঁড়াবে না।
না কোন সুশীল সমাজ, না কোন ফেসবুক এ্যাক্টিভিষ্ট, না কোন মিডিয়া, না কোন সাহিত্যক, কিংবা প্রশাসনের কেউ।
তুষার আবদুল্লাহর মত কোন সফট দলীয় নেতাকেও পাব না।
সব কিছুর ভার বহন করতে হবে, শহীদ ছাত্রদল নেতা জনি,চট্টগ্রামের নুরুল আলম নুরুর মত আমাদের পরিবারকে।
Wednesday, 25 February 2026
বিএনপিকে আওয়ামী লীগ ও ইন্ডিয়া ভাল একটা ট্র্যাপে ফেলেছে।
বিএনপিকে আওয়ামী লীগ ও ইন্ডিয়া ভাল একটা ট্র্যাপে ফেলেছে।
এই ট্র্যাপটা বুঝতে হলে প্রথমে ভোট ব্যাংকের সমীকরণ কোন দিকে যাচ্ছে বুঝতে হবে।
জামায়াত দীর্ঘ সময় ধরে একটা ১০% দল ছিল। এবার জামায়াত-এনসিপির জোট ৪০% ভোট পেয়েছে। এই অতিরিক্ত ৩০% ভোট কোথা আসছে?
মূলত বিএনপির ভোট ব্যাংক থেকে। আওয়ামী লীগ থেকে কিছু আসছে, তবে সেটা শহরে বেশি, গ্রামে কম। ট্রেডিশনালি যেসব ফ্যামিলির মানুষেরা বিএনপিতে ভোট দেওয়ার কথা তাদের একটা বড় অংশ জামায়াত ও এনসিপিতে চলে গেছে। এই ৪০% এর কমপক্ষে অর্ধেক ভোটই আসলে বিএনপির ছিল।
এটা বিএনপির অনেক বড় লস।
এই মানুষগুলো বিভিন্ন কারণে বিএনপির ওপরে বিরক্ত হয়ে অন্য দলে চলে গেছে। তাদের কিছু মিনিমাম এক্সপেক্টেশন ছিল যেটা বিএনপি ফুলফিল করতে পারে নাই। এখন সরকারে আসার পর বিএনপি আরো বেশি ব্লান্ডার করছে এবং করবে। মিনিমাম এক্সপেক্টেশনের সাথে ব্যারিয়ার আরো বেশি বাড়বে। ফলে যে ভোট ব্যাংক ইতোমধ্যে বিএনপি ছেড়ে চলে গেছে তারা আর ফিরে আসবে না। বরং বিএনপি থেকে এই মাইগ্রেশন চলতেই থাকবে। বিএনপির কোর ভোট ব্যাংক সামনে আরো সংকুচিত হবে।
এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, বিএনপির বর্তমান ভোট ব্যাংক নির্বাচনে জেতার জন্য এখন আর এনাফ না। এবারের জাতীয় নির্বাচনে জেতার জন্য বিএনপিকে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের ওপরে নির্ভর করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোট না পেলে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া খুবই কঠিন হত।
আওয়ামী লীগের সব ভোট পাওয়ার জন্য বিএনপির হাইকমান্ড লীগের সাথে আঁতাত করেছে। বিএনপির এম্পি প্রার্থীরা স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই প্রতিশ্রুতি বিএনপিকে রাখতে হবে। এবং তারা রাখছে।
কারণ জাতীয় নির্বাচনই শেষ না। সামনে স্থানীয় নির্বাচন আছে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আছে। লীগের ভোট ব্যাংক ছাড়াও প্রশাসন ও মিডিয়াতে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামীদের সমর্থন লাগবে। বিএনপি যদি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তাহলে তারা ইমেডিয়েট ফল পাবে।
লীগ পুনর্বাসন এবং ইন্ডিয়ার সাথে হাত মেলানো ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোন উপায় নাই।
সমস্যা হচ্ছে যে, লীগ পুনর্বাসন ও ইন্ডিয়ার কাছে নতজানু হওয়াকে বিএনপির কোর ভোট ব্যাংক কখনই ভালভাবে নিবে না। এরা এটার ঘোর বিরোধী। তারা দেখবে যে, তারা যে রাজনীতিটা চায় সেটা তারা জামায়াত ও এনসিপি থেকে পাচ্ছে। এই ইস্যুটা যখন বড় হয়ে উঠবে, তখন বিএনপির ভোট ব্যাংক আরো অনেক বেশি হারে জামায়াত ও এনসিপির দিকে চলে যাবে।
বিএনপির এই লস যত হতে থাকবে, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা তত বেশি আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হতে থাকবে। তখন লীগের ভোট ধরে রাখতে হলে লীগের সাথে আঁতাত আরো বাড়াতে হবে, পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি আরো বেশি বেশি পূরণ করতে হবে। এগুলো দেখে বিএনপির ভোট ব্যাংক আরো কমবে। ফলে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের ওপর বিএনপির নির্ভরতা বাড়বে, আঁতাত ও পুনর্বাসন বাড়বে।
এইটা একটা সাইকেল।
একদিকে বিএনপি নিজে নিঃশেষ হতে থাকবে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ পরিপুষ্ট হতে থাকবে। বিএনপি এই দুষ্ট চক্রের ট্র্যাপে পড়ে গেছে।
বিএনপির ভুল রাজনীতির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ইন্ডিয়া প্ল্যান করে বিএনপিকে এই ট্র্যাপে ফেলছে। এখান থেকে কি বিএনপিকে উদ্ধার করা সম্ভব?
Tuesday, 24 February 2026
ফিউচ্চারিস্টিক অনুমান
একটা ফিউচ্চারিস্টিক অনুমান শেয়ার করি -
১।
সারাদেশে ২৬ টি স্থানে লীগের অফিস খোলার খবর পেলাম বিভিন্ন মিডিয়ায়। 'জয়বাংলা' স্লোগানে হয়েছে ঝটিকা মিছিল (গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে)। দলীয় পতাকা উত্তোলন, মুজিব ও খু/নী হাসিনার ছবি টাঙানো এবং তা ক্রমবর্ধমান।
এইটা বিএনপির জন্যে অশনি সংকেত এবং জাশি /এনসিপির জন্যে লাইফ থ্রেট হিসেবে দেখছি।
কারণ এ নরমালাইজেশনের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচণে নানা ব্যানারে প্রার্থী হবে লীগের সি টিম, ডি টিম। কেউ কেউ জিতেও যাবে। প্রশাসনে একসেস নিবে। নেটওয়ার্ক রিঅ্যাকটিভ করবে। দুর্নীতি, চুরি চামারি, ফাঁসানো- ইত্যাদি চলবে আগের মতো। তুমুল গন্ডগোল বাঁধাবে।
সবগুলোর দায় বিএনপির কাঁধে চাপবে।
দলে মিশে যাওয়া লীগ গু/ন্ডাদের চাঁদাবাজি, খু/ন - খারাবির দায় তো থাকবেই।
নিজেদের ইস্যু প্লাস এই লীগ পুনঃপ্রবেশজনিত বিশৃঙ্খলা ডাবল ক্রাইসিস তৈরি করতে যাচ্ছে বিএনপির জন্যে।
এই ইনফিলট্রেশন ও ক্রিমিনাল লেবেল নতুন দলে ট্রান্সফারের ফলে, লীগের প্রাক্তন সফ্ট সাপোর্টারের মনে নয়া বয়ান হাজির হবে - "সবই তো এক, লীগ তাড়ায়ে কি লাভ হইলো"- মেইনলি যারা এবার ধানে ভোট দিয়েছে।
২।
দ্বিতীয় অশনি সংকেত চিফ প্রসিকিউটর দূর্দান্ত পেশাদার ও চরম সৎ তাজুল ইসলামকে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অপসারণ করাটা। তাজুল না থাকলে, যে বারো জন আর্মি অফিসার গ্রেফতার হইছিলো - তাও হইতো না - এতে আমি নিশ্চিত।
অর্থাৎ তাজুল থাকলে ডগিফাই পার পাবে না। তাকে অপসারণ করা লাগবেই। ফ্যাক্ট ইজ -তারেক চাইলেও এটা ফেরাতে পারবে না।
বিডিআর, ডগিফাই, আর্মিলীগের বিচার ঠেকানোর চুক্তিতে আপস করে, তারেক দেশে ফিরেছে আগেও লিখেছি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেই আপসের আরেকটা অংশ - এটা ক্লিয়ার হইলো।
বিচারের নামে আইওয়াশ দেখবেন সামনে। "বিচার কতদূর"- এ প্রশ্ন এখন আর তোলা যাবে না।
নতুন নিয়োগে, "নতুন করে কাজ শুরুর কারণে সময় লাগছে" অজুহাত দেখাবে। আমরা ভুলে যাব। একদিন তারাও লাপাত্তা। বিচারও লাপাত্তা।
অর্থাৎ 'আপস তত্ত্ব' আর কোনো কনস্পিরেসি হিশেবে থাকবে না। পলিটিক্যাল ফ্যাক্ট হিশেবে প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে।
৩।
মন্ত্রীসভায় কিছু লোকের মন্ত্রীত্ব পাওয়াকে তারেকের ম্যান্ডেট মনে হয় না। হিসাব মেলাতে পারিনি। বিভিন্ন আলাপে বিএনপির অনেকেকই কনফিউজড দেখলাম মন্ত্রীসভা নিয়ে।
'তারেক অরা' রেশের একটা চাপ আছে। সেই মনস্তাত্তিক চাপের ফলে আলাপ করতে কমফোর্ট ফিল করছে না। তবে সময়ের সাথে সাথে এই কনফিউজন প্রকাশ্যে দেখতে পাবেন।
আমার অনুমান - কয়েকজন আছে ডিপস্টেট্ সেটাপ।
কিছু করার নাই আশলে। আপসের বিনিময়ে ক্ষমতায় বসলে, সিদ্ধান্ত স্বাধীন রাখা যায় না।
তো ওইসব মন্ত্রী জুলাইয়ের বিপক্ষে বিতর্কিত আলাপ দিয়ে যাবে ক্রমাগত- যেটা সরকারের জন্যে পপুলারিটি ক্রাইসিস তৈরি করবে।
৪।
কারণ, এই জুলাই সফ্টলীগেরসহ সর্বস্তরের জনগণের ছিলো। কিছু ছাপড়ি আর দালাল ছাড়া, এটা বিএনপির অনেকেই ধারণ করে।
ক্ষমতাসীন হবার পর জুলাইয়ের বিরুদ্ধে বিএনপির স্ট্যান্স লাউড এন্ড ক্লিয়ার। এই বোল্ড স্ট্যান্স লীগকে যোগাবে সাহস। বিএনপির হাতের তলে থেকে লীগ জুলাই সক্রিয়দের অ্যাসাসিনেশন করবে। বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে সঙ্গে থাকবে বিএনপি নেতারা।
ডগিফাই পরে সেই সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ করে বিএনপিকে ফেলবে বেকায়দায়।
লীগ, ডগিফাই, আর্মিলীগ বিচার থেকে নিস্তার পাইলে- এখন যে মিডিয়া বিএনপির তলা চাটছে - সবাই পল্টি মারবে। এইসব খু/ন - খারাবি নিয়ে বিএনপির ইমেইজ সংকট তৈরি করবে তুমুল প্রচারণায়। বিএনপি হয়ে পড়বে দূর্বল।
বিএনপিতে যে পরিমান গাদ্দার আছে- যারা লীগ সুবিধা নিয়ে টিকে ছিলো গত দশক এবং র নিয়ন্ত্রিত ডগিফইয়ের হাতে ব্ল্যাকমেইল -তাদের প্ররোচনায় জাশিকে ঠেকাতে লীগকে ফুল একসেস দেওয়ার আলাপ উঠলে বিএনপির মধ্যে বিভাজন দেখা দিবে। ওটাই হবে লিটমাস টেস্ট।
শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওই বিভাজনের ওপর নির্ভর করবে, দেশে আরেকটা জুলাই হবে কি হবে না।
তারেককে আমি এখনো বিশ্বাস করি। আপস করলেও, সেটা নেসেসিটি অব টাইম ছিলো। যদি দু বছরের মধ্যে গুপ্তচর আইডেন্টিফাই করে, ব্ল্যাকমেইল হওয়া নেতাদের সাইড করে, প্রশাসন ও দলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে - তবে সকলের জন্যে মঙ্গল।
অন্যথায়, সেকেন্ড জুলাই অনিবার্য।
৫।
শুধু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকলে এই অনিবার্য ধ্বংস ঠেকানো যাবে না- পপুলারিটি লাগবেই। পপুলার লেজিটিমেসি ছাড়া কন্ট্রোল টেকসই হয় না। সো, জনমত পাশে না থাকলে বিপদ।
শুধু ছাপড়ির সাপোর্ট ইনাফ না- এই আলাপ যত দ্রুত বুঝবে, ততই ভালো।
যদি বিচার থেমে যায়, ন্যারেটিভ হাতছাড়া হয়, আর অভ্যন্তরীণ বিভাজন বিস্ফোরিত হয়- তাইলে "সেকেন্ড জুলাই" ঠেকানো যাবে না।
ভারত ও ডগিফইয়ের নগ্ন সমর্থন, ট্রিকস , ফুল ব্যাকাপ, প্রশাসনিক সেটাপ থাকা সত্ত্বেও হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে - এইটা যেনো আমরা ভুলে না যাই।
-----==
তো, প্রেডিকশন হইলো -
২৪-৩০ মাসের কৌশলগত পলিটিক্যাল প্রাকটিস ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের সামনে আমরা দাড়ায়ে আছি।
যেটা নির্ধারণ করবে - 'পুনর্গঠন' নাকি 'পুনর্বিস্ফোরণ।'
ডিসি মাসুদ
ডিসি মাসুদ একজন আগাগোড়া চাটুকার, নির্লজ্জ, বেহায়া পুলিশ। দুইটা ঘটনা বলি শুনেন।
মির্জা আব্বাস নির্বাচনে এমপি হওয়ার পর সে ফুল নিয়ে তার কার্যালয়ে যায়। এরপর মির্জা আব্বাসের তোষামোদি করে আসে। কারণ ডিসি মাসুদ ভেবেছিলো মির্জা আব্বাস বড় কোনো মন্ত্রী হবে।
আর ডিসি মাসুদ ছিলো মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী এলাকার ডিসি৷ তাই নির্বাচনে ডিসি মাসুদের পক্ষপাতিত্ব মূলক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করাই যায়।
দ্বিতীয় ঘটনা আরো ভয়াবহ। তারেক রহমান নির্বাচনে জেতার পর নাহিদ ইসলামের বাসায় দেখা করতে যায়। নাহিদ ইসলামের বাসা যেহেতু ডিসি মাসুদের এলাকায় তাই ঐদিন সে আইনশৃংখলা বাহিনীর দায়িত্বে ছিলো।
নাহিদের সাথে তারেক রহমানের আলোচনা শেষ হলে ডিসি মাসুদ নিয়ম বর্হিভূতভাবে সেই রুমে প্রবেশ করে। তারপর তারেক রহমানকে একটা লম্বা সালাম দিয়ে বলে, "স্যার আমি মাসুদ। রমনা জোনের ডিসি। আমার বাড়ি বগুড়া।"
এই কথা শুনে তারেক রহমান ডিসি মাসুদের কাধে স্নেহের হাত বুলিয়ে দেন। এরপর থেকেই ডিসি মাসুদ বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারেক রহমানের স্নেহের পরশ পাওয়ার পর উনি আর কাউকে পরোয়া করছেন না।
হাদি বলেছিলেন
হাদি সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ্জা-মান" কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন:—
সাহস থাকলে ক্যু করে দেখান। জনগণ গিয়ে ইট খুলে আনবে ক্যান্টনমেন্ট থেকে।
এটা কোনো হুমকি ছিল না— এটা ছিল জনতার শক্তির ঘোষণা।
"হাদি প্রধান উপদেষ্টার" চোখে চোখ রেখে বলেছিলেন:—
আমি বিশ্বাস করি, আপনি পালাতে আসেননি। তাই ভয় পাবেন না। নামগুলো বলেন-
কারা আপনাকে কাজ করতে দিচ্ছে না। এই কথার ভেতর ছিল না ভদ্রতার মুখোশ, ছিল সত্য বলার চূড়ান্ত সাহস।
"ইন্টেরিমের উপদেষ্টাদের" উদ্দ্যেশে হাদি বলেছিলেন:—
একজন রিকশাওয়ালাও জানে- আপনাদের কেউ ভালো না। আপনারা জুলাইকে বেঁচে দিয়েছেন। এক পা বিদেশে, আরেক পা ক্ষমতার টেবিলে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে আপনারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
এই অভিযোগ কোনো গুজব না— এটা রাজপথের রায়।
"হাদি বিএনপি"-কে বলেছিলেন:—
শহীদ জিয়ার দলকে ভা'র'তের দাস বানাতে দেবো না।
কারণ স্বাধীনতার নামে দাসত্ব মানে শহীদদের অপমান।
"হাদি জামায়াতে ইসলামী"-কে বলেছিল:—
নিজামী, সাঈদীর জামাতকেও ভা'র'তে'র দাস হতে দেবো না।
কারণ আদর্শের কথা বলে পরাধীনতা মেনে নেওয়া সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি।
"হাদি এনসিপি"-কে সোজাসাপটা বলেছিলেন:—
তোমরা জুলাইকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়েছ।
মনে রেখো- জুলাই কোনো দলের না, জুলাই পুরো দেশের।
এই কথায় কেঁপে উঠেছিল অনেকের সাজানো বয়ান।
"হাদি এমনকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী-লীগের" ক্ষেত্রেও বলেছিলো:— যারা গণহ*/ত্যায় জড়িত না, তাদের সাথেও ইনসাফ করতে চাই।
কারণ হাদির রাজনীতি ছিল প্রতিশোধের না। ন্যায়ের, ইনসাফের।
ঢাকা–৮ আসনে হাদি নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাস আর হেলাল উদ্দীনকে
"ভাই" বলে দোয়া চেয়েছিলেন:—
কারণ সে শিখিয়েছিলো, রাজনীতি মানেই শত্রুতা না, রাজনীতি মানেই মানবতা, আদর্শ।
হাদি “হেভিওয়েট রাজনীতি”র মিথ ভাঙতে চেয়েছিলো:—
ক্ষমতা আর টাকার কাছে মাথা নত না করে সবার জন্য সমান মাঠ গড়তে চেয়েছিল।
হাদি প্রমাণ করতে চেয়েছিল:—
সততা, ভালোবাসা, ত্যাগ আর জনগণের ভাষা বুঝতে পারলে, কোটি টাকার প্রার্থীকেও হারানো যায়।
"হাদি চেয়েছিল" হিন্দুদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম:—
যাতে কোনো দল আর কোনো সময়
তাদের ভোটব্যাংক বানিয়ে ব্যবহার করতে না পারে।
হাদি স্বপ্ন দেখেছিলো:—
ভা'র'তীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই দেশের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করানোর।
হাদি কালচারাল ফ্যা'সি'জমের বিরুদ্ধে যোগ্য, দক্ষ সাহসী মানুষ তৈরি করতে চেয়েছিলো।
হাদী চেয়েছিলো:-
জুলাইয়ের শহীদদের খু*/নীদের বিচার।
"৫৭ বিডিআর" হ*/ত্যার বিচার।
৫ই মে শাপলা গণহ*/ত্যার বিচার।
সকল চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বিচার বহিঃভূত হ*/ত্যাকান্ডের বিচার।
Barrister Shariar Kabir
Monday, 23 February 2026
চুপ্পুনামা
যে ফ্যাসিস্ট হানিনা চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি করলেন। তো, সাংবিধানিক ভাবে হাসিনার মেয়াদও ২০২৮ পর্যন্ত নাকি?
সংবিধানের কোথায় ছিলো তত্বাবধায়ক সরকার? তিনি কিসের উপর তাদেরকে শপথ পাঠ করালেন?
বালেরকন্ঠ আর ডীপ সব একাকার।
সাংবাদিক Rajib Ahamod এর পোস্টটি আপনারা পড়ুন নিচে-
'চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি' শিরোনামে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাক্ষাতকার পড়ে চমকানোর মত কিছু পাইনি। সাক্ষাতকারটিতে কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্নের জবাবের নামে ইউনূস সরকারকে গালাগালির জন্য চুপ্পু প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হয়েছে সাক্ষাতকারে। যেখানেই চুপ্পু নিজেই সংবিধান লঙ্ঘনকারী।
১. চুপ্পুর দাবি করেছেন, তাঁকে সরাতে অসাংবিধানিক উপায়ে চেষ্টা হয়েছিল। তিনি দৃঢ় থেকে সংবিধানকে রক্ষা করেছেন।
তো এক্ষেত্রে প্রশ্ন করা উচিত ছিল, সেখানে ৭(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধানের কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা পরাহূত করা মৃত্যুদন্ড যোগ্য অপরাধ, সেখানে তিনি কীভাবে সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান না থাকা সত্ত্বেও ইউনূস সরকারকে শপথ পড়ালেন?
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের কারণে, রাষ্ট্রপতির বাপেরও ক্ষমতা নেই ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স চাওয়ার। মন্ত্রিসভার অনুমোদন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ বাধ্যতামূলক। তো শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার পর, কীভাবে ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের কাছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের রেফারেন্স চেয়েছিলেন?
শুধু এই দুটি নয়, সংবিধানের আরও চারটি লঙ্ঘন করেছিলেন এবং এখনও করছেন চুপ্পু। চব্বিশের ৬ আগস্ট তিনি, ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কীভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছিলেন? একই অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে সংসদ বিলুপ্ত করেছিলেন? কীভাবে খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করেছিলেন? ৪(ক) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘণ করে কীভাবে বঙ্গভবন থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়েছে?
এগুলোর সবগুলোর উত্তর হল, অভ্যুত্থানের দোচনের মুখে করেছিলেন। ৫৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ছাড়া সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির বাপেরও নাই। সংবিধান ক্লিয়ার, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও, রাষ্ট্রপতি তা শুরুতেই করতে পারবেন না। আগে তাকে দেখতে হবে, সংসদের অন্য কোনো এমপি সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির আস্থাভাজন কী না। এমন কাউকে না পাওয়া গেলে, তবেই সংসদ ভাঙবেন রাষ্ট্রপতি।
কিন্তু এগুলোর কোনোটি না করে সংসদ ভেঙে, অ্যাটর্নি নিয়োগ দিয়ে, রেফারেন্স চেয়ে এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে চুপ্পু বারবার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। বাকি আলাপ বাদ, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ছাড়া বাজেট হবে না, হবে না, হবে না। কিন্তু চুপ্পু এগুলো অনুমোদন করেছেন। তাহলে কে সংবিধান লঙ্ঘনকারী?
২. তবে আসল কথা হল, সংবিধান মেনে অভ্যুত্থান হয় না। অভ্যুত্থান সংবিধান মানেও না। অভ্যুত্থানে জনগণের জনগণের অভিপ্রায়ের যে পরম অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়, ওইটাই আসল এবং একমাত্র সংবিধান। সংসদ বিলুপ্তি, অ্যাটর্নি নিয়োগ, রেফারেন্স চাওয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ জনগণের অভিপ্রায়েই হয়েছে। সুতরাং সব বৈধ।
সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর আলাপ হল, তাঁকে সরানোর জন্য যে 'অসাংবিধানিক চেষ্টা' হয়েছিল সব বিএনপি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কারণে ব্যর্থ হয়েছে। পুরনো পত্রিকা ঘাঁটলে দেখবেন, চুপ্পুকে প্রথম দিকে সরকার ও ছাত্ররা মেনে নিয়েছিল। 'শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র পাননি'- এই রকম একটা বক্তব্যের কারণে ছাত্ররা ক্ষেপে উঠে। চুপ্পুর অপরাসারণের দাবিতে বঙ্গভবনের দিকে যায়।
তখন বিএনপি চুপ্পুর পক্ষ নেয়। এটা নিয়েছিল চুপ্পুর প্রতি প্রেমের কারণে না। কারণটা ছিল, অভ্যুত্থানের পরের দেড় মাসে পরিস্থিতি নরমালের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময়ে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিলে, দেশে আর কোনো পদক্রম, প্রজাতন্ত্র কোনোটাই থাকত না। প্রধান উপদেষ্টা যদি তাঁর সাংবিধানিক 'বস' রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিতে পারে আন্দোলনের জোরে, তাহলে প্রধান উপদেষ্টাকে তাঁর নীচের পদের কেউ সরিয়ে দিতে চেষ্টা করবে না- এই নিশ্চয়তা নেই। তাই বিএনপি এনার্কিতে যায়নি। আরেকটা কারণ হল, গণভোটের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের যে টেকনিক্যাল আইনী বৈধতা ছিল, তা ছিল রাষ্ট্রপতির সংসদ বিলুপ্ত করা, আদালতের রেফারেন্স নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ পড়ানোর কারণেই।
তো রাষ্ট্রপতি যে বলছেন, প্রধান উপদেষ্টা বিদেশ সফরের বিষয়ে তাকে না জানিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, এর আগে তার ভাবা উচিত- উনি কতবার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
৩. চুপ্পুর একজন স্টাফ আমাদের বন্ধু। চব্বিশের অক্টোবরে উনি আমাকে জানিয়েছিলেন, মহামান্য আজকাল জিয়াউর রহমানের জীবনী পাঠ করছেন। বিএনপিকে খুশি রাখার চেষ্টা করছেন। এখনও সেই চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। 'তারেক রহমান আপনার আব্বাকে একটু আব্বা ডাকি'- গান গাইছেন।
কিন্তু বিএনপি যে এতে গলছে না, তা ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরেই টের পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রাচার হলো, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিলে, প্রধানমন্ত্রী আগে যান। রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করেন। তারপর কর্মসূচি শেষে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় দেন।
কিন্তু একুশ ফেব্রুয়ারি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বেরিয়ে যাওয়ার পরের মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে প্রবেশ করেছেন। এটা তো কাকতালীয় নয়। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত এড়িয়েছেন। প্রটোকল মেনে চললে, রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করে একসঙ্গে ফুল দেওয়ার কথা।
৪. নির্বাচনের আগে সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন তিনি অপমাণিত বোধ করছেন। নির্বাচনের পর পদত্যাগ করবেন। এখন ডেকে নিয়ে সাক্ষাতকার দিয়ে, বিএনপি ও তারেক রহমানকে তেল দিয়ে চুপ্পু যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তা হচ্ছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পদে থাকার চেষ্টা।
কারণ, পদত্যাগ চুপ্পুর জন্য বিপজ্জনক। সংবিধানের কারণে সিটিং রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলে না। বিচার করা যায়। পদত্যাগের পর চুপ্পুকে এগুলো ফেইস করতে হবে। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম-নাগরিকত্ব, দু্বাইয়ে টাকা পাচারের মাধ্যমে প্রপার্টি কেনা, এস আলমের সঙ্গে ঘনিষ্টতার জোরে ইসলামী ব্যাংকে ঢুকে লুটপাট, দুদকে থাকার সময় খাম নেওয়া- অনেক কিছুর জন্য তাকে ধরা হবে।
তাই চেষ্টা করছে, বিএনপিকে তেল মালিশ এগুলো থেকে বাঁচা যায় কিনা। এই কারণেই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি। সরকার জানত, একবার বিদেশ গেলে আর ফিরবে না।
৫. আমি সাক্ষাতকার নিলে, যে প্রশ্নটা করতাম তাহলো, আপনি বলেছিলেন পদত্যাগ করবেন- তাহলে কবে যাচ্ছেন? এই বেসিক প্রশ্নটাই নেই। এর মানে এটা সাক্ষাতকার নয়। পেইড পিআর।
চুপ্পু বারাবার দুঃখ করে বলেছেন, তার ছবি বিদেশি মিশন থেকে সরিয়ে অপমাণ করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তো, রাষ্ট্রপতির অফিসে বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকার কথা। সেই ছবি কী আছে? নাই। চোদনের মুখে সরিয়ে ফেলেছে। তো যে চোদনের মুখে সংবিধান লঙ্ঘন করে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলে, সে কীভাবে আশা করে তার ছবি অন্যরা রাখবে?
সংবিধান এবং আইনানুযায়ী, সরকারি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন যেকোনো দপ্তরে, দূতাবাসে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু এবং সরকারপ্রধানের ছবি থাকবে। দূতবাসে থাকবে রাষ্ট্রপতির ছবি। কয়েকদিনের জন্য হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টারাও নিজেদের ছবি ঝুলিয়েছিলেন। ড. ইউনূস এই অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসেন। তারেক রহমান তা অব্যহত রেখেছেন। কোথাও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই।
যুক্তির কথা ধরতে গেলে, ড. ইউনূসের মত তারেক রহমানও সংবিধান সমুন্নত রাখার শপথ নিয়ে তা রক্ষা করছেন না। ৪(ক) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন কররছেন, বঙ্গবন্ধু ছবি না লাগিয়ে। পদ যাওয়ার এটুকুই যথেষ্ট।
৬. এ কারণেই সংবিধানে কী লেখা আছে, এটার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জনগণের অভিপ্রায়। নতুন সংসদ বসার পর ১০ মিনিটের মধ্যে স্পিকার নির্বাচিত হয়ে যাবে। এরপর আর সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কা থাকবে না।
চুপ্পু যতই বিএনপিকে তেল দিক বা পিআর ক্যাম্পেইন করুক, আমার ধারনা তাকে রাষ্ট্রপতি পদে রাখবে না সরকার। কারণ, দুদকে থাকাকালে নানা তত্ত্ব হাজির করে যেভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, তা 'হি ওয়াজ ভেরি কর্ডিয়াল' এই তেলে মুছবে না।
তবে পদত্যাগের আগে চুপ্পুকে অভিশংসন করা উচিত। তারপর যা আকাম অতীতে করেছে, এর ন্যায়বিচার করা উচিত। যাতে সাক্ষাতকার নিয়ে তাকে সাধু সাজানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
Subscribe to:
Comments (Atom)