Thursday, 5 February 2026

দিল্লীর সাথে পিন্ডির নাম কেন নেয়া হয় জানেন?

পিন্ডিতে কেউ পালায় নাই বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে। দিল্লীতে তো চোখের সামনেই একটা পুরা দল পালিয়ে আছে। কিন্তু পিন্ডি কোনোভাবেই দিল্লীর সমপর্যায়ের তো নয়, ইভেন সেরকমভাবে প্রাসংগিকও না স্বাধীনতার পর থেকে আর। যাদেরকে ইংগিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, সেই দলের নেতাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে ঝাঁকে ঝাঁকে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, অষ্ট্রেলিয়াতে আছে। কিন্তু পাকিস্তানে আসলে কেউই নাই। তার উপর জিওগ্রাফিক্যালি দেখলে পাকিস্তানের আসলে এদেশের উপর প্রাধান্য বিস্তারের কোনো সুযোগও নাই। তারা আমার দেশের অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে মরুভূমি বানাতে পারে না। ট্রানজিটের নামে ট্যাক্সবিহীন চলাচল আর করিডোর নিতে পারে না। আমাদের দেশে গ্রেফতার বা গুমকৃত লোকজন, যেমন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন সাহেব বা সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির মত কাউকে পাকিস্তানে পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে ভারতের কারাগারে। আমাদের দেশটাকে তাদের পণ্যের বাজার একতরফাভাবে বানিয়েছে ভারত, পাকিস্তান না। আমাদের সাথে হিউজ বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের, পাকিস্তানের না। আমাদের টেক্সটবুক চেইঞ্জ করতে চেয়েছে একতরফাভাবে ভারত, পাকিস্তান না। আমাদের দেশের নির্বাচনে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ করে, গুম খুনের উপর একজনকে স্বৈরাচার হওয়ার সাপোর্ট দিয়েছে ভারত, বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটাইছে ভারত। পাকিস্তান এরকম বা কাছাকাছি স্কেইলের কিছু করার সাধ্য রাখে? রাখে না, ইভেন গত ৩০ বছর এমন উদাহরণও নেই। এই কারনে পিন্ডি আমাদের স্বাধীনতার জন্য থ্রেট না। উদাহরন শত শত দেয়া যাবে। কিন্তু এরপরও দিল্লীর সাথে পিন্ডির নাম কেন নেয়া হয় জানেন? এইটার উদ্দেশ্য দিল্লীর হেজিমনিকে একটু সফট বাইনারিতে ফেলে ব্যালেন্স করে দেখানো। এতে শুধুমাত্র দিল্লীর পারপাসই সার্ভড হয় আর কিছু নয়। কারন, এদেশে অন্য কারো হেজিমনি প্রব্লেম না এই মূহুর্তে। ১০০% প্রব্লেম হচ্ছে ইন্ডিয়ান হেজিমনি। এদেশের জনগণের সত্যিকার স্বাধীনতার জন্য এই মূহুর্তের বাধা ভারত। ভারত চায় না এদেশ তুর্কির সাহায্যে ড্রোন ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করুক, ভারত চায় না আমরা তুর্কিয়ের সাথে ৬০০ মিলিয়ন ডলার এর মিলিটারি ডিল করি, ভারত চায় না এদেশ JF17C থান্ডার জেট কিনে এয়ার ডিফেন্স স্ট্রং করুক। ভারত চায় না, আমাদের তিস্তা প্রজেক্ট চীন বাস্তবায়ন করুক, যাতে করে ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের দেশে আর বন্যা না হয়। ভারত চায় না পদ্মা ব্যারেজ হোক, ভারত চায় না, লালমনিরহাটে এয়ার ফিল্ড রেনোভেইটেড হোক। ভারতের চাওয়ার লিস্ট এরকম শত শত এবং সবগুলা এদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। সো, দিল্লীর হেজিমনিকে হাল্কা করে দেয়ার জন্য পিন্ডির নাম টেনে আনা শঠতা, চালাকি। আমাদের শ্লোগান শহীদ হাদির শ্লোগান। দিল্লী না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা।। ___________________________________________ 𝐑𝐢𝐚𝐳 𝐇𝐚𝐬𝐚𝐧 𝐒𝐭𝐚𝐟𝐟 𝐞𝐧𝐠𝐢𝐧𝐞𝐞𝐫, 𝐚𝐬𝐬𝐞𝐦𝐛𝐥𝐲 𝐢𝐧𝐭𝐞𝐠𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐚𝐭 𝐈𝐧𝐭𝐞𝐥 𝐂𝐨𝐫𝐩𝐨𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧

Wednesday, 4 February 2026

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম সরকার।

আর মাত্র ৮দিন। এরপরেই বিদায় নিবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম সরকার। হ্যা এটা অস্বীকার করছিনা যে এ সরকারের বিভিন্ন ভুল, সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা ছিলো। বিশেষ করে আইনি পরিস্থিতি উন্নয়নে। কিন্তু যে দেশের একটা পুলিশ বর্তমান সরকার কে দেখতে পারে না, একজন কনস্টেবল পর্যন্ত ঠিক মতো সহযোগীতা করে না সেই দেশের আইন ব্যবস্থার আপনি কীভাবে উন্নতি করবেন? এর বাইরে আরেকটা বড় ব্যর্থতা তারা বিচার নিশ্চিত করতে পারে নি। কিন্তু বিচার নিশ্চিত করা কী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ নাকি বিচারকের কাজ? এখানে হস্তক্ষেপ করলে ঠিকই বলতেন ইউনুস সরকার গণতন্ত্র পছন্দ করে না। পুলিশকে চাপ দিয়ে তাও কিছু লীগের দোসরকে জেলে ডুকানো যায় কিন্তু ২ দিন পর আবার বিচারকরা এদের জামিন দিয়ে দেয় এখন এখানে সরকারের অনৈতিক উপায়ে চাপ দেওয়া ছাড়া নৈতিক ভাবে কিছু করার ছিলো বা আছে? এরপর আসি মানুষের এক্সপেকটেশনে। সত্যি কথা বলতে বেশিরভাগ মনে করছে হাসিনা পালানোর পর ইউনুস সাহেব এসে কোন যাদুর মাধ্যমে এক বছরে বাংলাদেশকে আমেরিকা বা ইউরোপ বানিয়ে দিবে। কিন্তু একবছরের মধ্যে একটা দেশর কতটুকু দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব? তবুও তাদের চেষ্টার কমতি ছিলো না। কিন্তু যতই তারা চেষ্টা করছে ততই আমরা বাঁধা দিয়েছি। বড় বড় আমলা থেকে ব্যবসায়ি এদের চাপ তো বিভিন্ন বিষয়ে সবসময় ছিলো সাথে জনগণের চাপ। পলিথিন বন্ধ করতে চাইলে আন্দোলন, সেন্ট মার্টিন দ্বিপ বাঁচাইতে চাইলো তাও ঝামেলা, বন্দরকে দূর্ণীতি মুক্ত করতে চাইলো তাও আন্দোলন। কার সহযোগিতা পাইছে এই সরকার? ভালোই হইতো যদি এই সরকার একচুয়াল উন্নয়ন না করে হাসিনার মতো দৃশ্যমান উন্নয়ন করতো এবং অর্থনীতির অবস্থা আরো বাজে করতো। কারণ বাংলাদেশের মানুষ একে তো অশিক্ষিত । এদের সামনে বিশাল শাইনি বাটপ্লাগ রাখলেই এরা খুশি কিন্তু একটু পর এই বিশাল শাইনি চকচকা বাটপ্লাগ যে তাদের বাটেই প্রবেশ করবে তা তারা ভুলে যায়। কিন্তু যেসব যায়গায় একটু কম বাঁধা পেয়েছে সেখানে দেদারসে উন্নতি করেছে সরকার। আই মিন এক বছরে এই পরিমাণ পরিবর্তন সম্ভব তা আমার নিজের বিশ্বাস করাই কষ্টকর। এই যেমন ধরেন হাসিনা এবং তার গঙের লুট করা ৮ ব্যাংককে সরকার সেইফ করছে, আকাশে ভাসতে থাকা স্যাটালাইট থেকে এই প্রথম লাভ আনছে সরকার। বাংলাদেশ বিমান ইতিহাসের সর্বোচ্চ লাভ করছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও ইতিহাসের সর্বোচ্চ লাভ করছে। এর বাইরে বিদেশি বিনোয়গ থেকে শুরু করে কয়েকশ সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। বিভিন্ন বড় বড় প্রজেক্ট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সেইফ করছে। রিজার্ভ বাড়াইছে। এত কিছু কোন সরকার এক বছরে তো দূরে থাক পাঁচ বছরেও করে নাই এবং ভবিষ্যতেও করতে পারবেনা। এরপরে তো মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট বিষয়। আমাদের মানসম্মান, ডিগনিটি ফিরিয়ে দিয়েছে এ সরকার। এ সরকারের আমলে বাংলাদেশ যেভাবে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে এবং ইন্ডিয়ার আদিপত্যের বিরুদ্ধে দাড়াইছে তা আর কার সময় দেখছেন? এন্ড মার্ক মাই ওয়ার্ড ফিউচারেও দেখবেন না। এ সরকারের হাতে সময়, সুযোগ এবং দেশবাসী সহ সকলের সুযোগ থাকে আমরা হয়তো আরো অনেক কিছু দেখতে পারতাম। কিন্তু লেটস বি রিয়েল, একটা গণ-অভ্যুত্থানের পরে একটা দেশ যে পরিমাণ বাজে অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায় এবং যে পরিমাণ সাফার করে তার ১% ও আমরা করি নাই। এসবের জন্য এবং বাংলাদেশর ভবিষ্যত কে আরেকটু ব্যাটার করার জন্য যে পরিমাণ এফোর্ট এ সরকার দিছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ ইউনুস সাহেব এবং তার উপদেষ্টাদের প্রতি। (এ সরকার এই এক বছরে হাজার হাজার কাজ করছে। যে পরিমাণ বড় বড় কাজ করছে তার ১% আমার পক্ষে একটা পোস্টে উল্লেখ করা সম্ভব না। কিন্তু আজ মিডিয়া ট্রায়াল আর অজ্ঞতার কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম সরকারের আমলে আমাকে শুনতে হয় হাসিনার আমলেই দেশ ঠিক ছিলো।

Sunday, 1 February 2026

নাসিরনামা

নাসিরনামা
........ ২০১৩ সাল। মাদ্রাসা থেকে সদ্য আলীম পাশ করা কিশোর নাসীর উদ্দীন পাটওয়ারী প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার। দিন-রাত পড়াশোনা, লক্ষ্য একটাই। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে হবে। ঢাকার ফার্মগেটে একটা মেস বাসায় উঠলো নির্বিঘ্নে পড়ার জন্য। হাসিনার পুলিশের তখন কোটা ছিলো। প্রতিটি থানায় বিশেষ অভিযানে কতো আটক হবে তা নির্ধারিত। আর পুলিশ সেইটা পুরন করতে মেস বাসা ও হকারদের টার্গেট করতো। নিরীহ ছেলেদের ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হতো। ওই সময়টায় আমিও পিকেটিং করতে গিয়ে ধরা খেয়ে জেলে। একদিন রাতে নাসিরের মেস বাসায় হানা দিলো স্বৈরাচারের পুলিশ। নাসিরসহ অনেক ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা আটক হলেন। স্থান হইলো তেজগাঁও থানায়। এরপর চললো অমানবিক নির্যাতন। পরেরদিন আদালতে রিমান্ড চায়। ওই সময়ে আদালত চলতো পুলিশের কথায়। রিমান্ড চাহিবা মাত্র মঞ্জুর। নাসিরদের ভাগ্যেও তাই হইলো। দ্বিতীয় দফায় আবার নির্যাতন। এরপরে কোর্টে চালান। গণমাধ্যমগুলো চলতো প্রেসক্রিপশনে। পুলিশ যেমন বলতো তেমনই নিউজ হইতো। ভুক্তভোগীর কথার কোনো দাম ছিলো না। নিরপরাধ ছেলেদের মেরে ফেললেও সেটাকে কেবল পুলিশের গুলি হিসেবে চালিয়ে দিতো। আমি জেলে এমন ছেলেদেরও দেখেছি, যারা আনারি ছিলো কিন্তু পুলিশ কেবল আনন্দ করতে পায়ে বা হাতে গুলি করে কোর্টে চালান করে দিতো। গণমাধ্যম বলতো, পিকেটিংয়ের সময় গুলিবিদ্ধ। আমরা যারা রাজনৈতিক কর্মী ছিলাম তারা ৪-৫ মাসে জামিন পাইতাম। কিন্তু নাসিরদের ক্ষেত্রে এই সময়টা দীর্ঘ হতো। ভর্তি পরীক্ষার্থী নাসিরের থাকতে হইলো ৮ মাস। জেলে বসেই তার প্রস্তুতি। এরপর বের হলেন। ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাইলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন হাসিনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে। ফেসিস্টকে বিদায় করবে। সেই যে শুরু, তার প্রাথমিক সমাপ্তি হইলো হাসিনার পালায়নের মাধ্যমে। কিন্তু নাসির যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়ন হয়নি। যুক্ত হইলো নাগরিক কমিটি ও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে। এখনো চলছে নাসিরের লড়াই। হাসিনার আমলে মাঝে প্রায় ৫৪ দিন রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে। গোয়েন্দা সংস্থা, লীগ ও সন্ত্রাসীদের হয়রানি হুমকি ও হামলাকে উপেক্ষা করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে গিয়েছিলো "বেয়াদব" নাসির। জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় সবগুলো সংগ্রামে আমরা নাসিরকে পেয়েছি। মোদি বিরোধী আন্দোলন, কোটা আন্দোলন, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, ডাকসুর দাবিতে আন্দোলন, সবখানে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলো আমাদের নাসির। ও যতগুলো আন্দোলন করেছে, আমি নিজেও ততোগুলোয় ছিলাম না। তার এই লড়াই এখনো চলমান।

Monday, 26 January 2026

রিফিউজি অথবা সাবসিডিয়ারী ষ্ট্যাটাসদারিদের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে যাওয়া প্রসঙ্গ

রিফিউজি অথবা সাবসিডিয়ারী ষ্ট্যাটাসদারিদের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে যাওয়া প্রসঙ্গ : অনেকে সফ-কঁন্দুই'পদ্ধতিতে অনুমতি নিয়ে দেশে যাওয়ার জানতে চেয়ে মেসেজ দেন। এবার সফ-কঁন্দুই সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। Sauf-conduit এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে 'সরকারি রক্ষাপত্র', যার অর্থ অনেকটা দাড়ায় ফ্রান্স সরকার আপনার নিরাপত্তার প্রদান করবে। আপনি যখন এই দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পান তখন থেকে আপনার সর্বক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব ফ্রান্স সরকারের, রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় আপনি যখন ন Sauf-conduit নিয়ে স্বদেশে যাবেন, তখনও আপনার বাংলাদেশে কোন প্রকার ক্ষতি হলে ফ্রান্স সরকার দায়ী থাকবে। কারণ আপনি ফ্রান্সের সুরক্ষার অধীনে আছেন। বিশেষ প্রয়োজনে অনেকেই Sauf-conduit আবেদন করতে চান। আবেদন করার সময় যে সকল ডকুমেন্টস লাগবে তার একটা ধারণা দিচ্ছি। এক নজরে দেখে নিন: (১৮বছর উদ্ধ এডাল্টদের ক্ষেত্রে ) 1. Lettre de motivation précisant les raisons de la demande et le voyage envisagé avec copie de tous les documents justifiant du motif humanitaire invoqué (acte de décès d’un proche, bulletins d’hospitalisation, ...), de vos billets d’avion (ou réservations durant votre séjour), les précisions sur les pays de transit 2. Votre carte de séjour en cours de validité 3. Votre titre de voyage pour réfugié 4. Justificatif de domicile (quittance EDF ou téléphone)** 5. Attestation sur l’honneur que la préfecture vous a informé(e) qu’il vous appartient d’apprécier les risques encourus en cas de retour dans votre pays d’origine 6. 3 photographies d’identité (de face et tête nue) 7. Timbresfiscaux:15€+6€ *১৮বছরের নিচে মাইনরদের ক্ষেত্রে: 1. Lettre de motivation précisant les raisons de la demande et le voyage envisagé avec copie de tous les documents justifiant du motif humanitaire invoqué (acte de décès d’un proche, bulletins d’hospitalisation, ...), de vos billets d’avion (ou réservations durant votre séjour), les précisions sur les pays de transit 2. Carte de séjour des deux parents 3. Titre de voyage pour réfugié de l’enfant 4. Titre d’identité républicain (TIR) ou Document de circulation (DCEM) de l’enfant s’il en possède un 5. Justificatif de domicile (quittance EDF ou téléphone)** 6. Attestation sur l’honneur que la préfecture vous a informé(e) qu’il appartient aux tuteurs légaux d’apprécier les risques encourus en cas de retour de l’enfant dans son pays d’origine 7. Acte de naissance intégral récent 8. Certificat administratif de l’OFPRA 9. 3 photographies d’identité (de face et tête nue) 10. Timbres fiscaux : 15 € + 6 € LISTE DES PIECES A FOURNIR POUR OBTENIR LE SAUF CONDUIT Délai minimum d’instruction à réception du dossier complet : 1 mois Présentez vous personnellement (le mineurs doit être accompagné de ses deux parents) à la préfecture – pré- accueil n° 1 – la semaine avant votre départ, pour y échanger vos carte de séjour, TIR/DCEM et titre de voyage contre le sauf conduit. * কোথায় আবেদন করবেন : আপনি যে প্রিফেকচুরের অধীনে বসবাস করেন সেখানে। Préfecture অফরার সাথে যোগাযোগ করবে। * আবেদন করার পরে প্রিফেকচুর সিদ্বান্ত নিবে আপনাকে Sauf-conduit দেয়া হবে নাকি হবে না। দেয়ার সংখ্যা অনেক কম। নিকট আত্মীয়ের সিরিয়াস অসুস্থতা বা মৃত্যুতে অনেক সময় দেয়া হয়ে থাকে। *এটি নিয়ে সর্বোচ্চ ৩ মাস আপনি অবস্থান করতে পারবেন। দেশে থাকা অবস্থায় যদি আপনার নিরাপত্তাজনিত ক্ষতি হয় তার দায়দায়িত্ব একান্ত আপনার। * Sauf-conduit দেয়ার সাথে সাথে অনেক সময় সিজুর এবং রিফুজি পাসপোর্ট তারা জমা রেখে দিবে। আপনি ফিরে আসার পরে আবার দিয়ে দিবে।( A votre retour en France : il vous appartiendra de vous représenter en Préfecture avec une copie de votre sauf conduit pour récupérer vos documents) আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা জমা নাও রাখতে পারেন। * Sauf-conduit যাবার সময় সাধারণত কোনো প্রব্লেম হয়না কিন্তু আসার সময় কিছু কিছু এয়ারলাইন্স প্রব্লেম সৃষ্টি করে। বোডিং পাস দিতে চায়না। কিছু কিছু অসাধু লোক এই দুর্বলতার সুযোগে বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে অর্থ দাবি করতে পারে। *Sauf-conduit নিয়ে আসার সময় ফ্রেঞ্চ এয়ারপোর্টে কোনো ঝামেলা করে না কিন্তু আসার সময় বাংলাদেশে করতে পারে আবার নাও করতে পারে। *উপসংহার : একান্ত বাধ্য না হলে Sauf-uconduit নিয়ে না যাওয়ায় ভালো। বিশেষ নোট : স্থান কাল ভেদে নিয়মের ভিন্নতা ও থাকতে পারে

Friday, 23 January 2026

দিল্লীর হেজিমনিকে হাল্কা করে দেয়ার জন্য পিন্ডির নাম টেনে আনা শঠতা, চালাকি।

পিন্ডিতে কেউ পালায় নাই বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে। দিল্লীতে তো চোখের সামনেই একটা পুরা দল পালিয়ে আছে। কিন্তু পিন্ডি কোনোভাবেই দিল্লীর সমপর্যায়ের তো নয়, ইভেন সেরকমভাবে প্রাসংগিকও না স্বাধীনতার পর থেকে আর। যাদেরকে ইংগিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, সেই দলের নেতাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে ঝাঁকে ঝাঁকে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, অষ্ট্রেলিয়াতে আছে। কিন্তু পাকিস্তানে আসলে কেউই নাই। তার উপর জিওগ্রাফিক্যালি দেখলে পাকিস্তানের আসলে এদেশের উপর প্রাধান্য বিস্তারের কোনো সুযোগও নাই। তারা আমার দেশের অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে মরুভূমি বানাতে পারে না। ট্রানজিটের নামে ট্যাক্সবিহীন চলাচল আর করিডোর নিতে পারে না। আমাদের দেশে গ্রেফতার বা গুমকৃত লোকজন, যেমন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন সাহেব বা সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির মত কাউকে পাকিস্তানে পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে ভারতের কারাগারে। আমাদের দেশটাকে তাদের পণ্যের বাজার একতরফাভাবে বানিয়েছে ভারত, পাকিস্তান না। আমাদের সাথে হিউজ বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের, পাকিস্তানের না। আমাদের টেক্সটবুক চেইঞ্জ করতে চেয়েছে একতরফাভাবে ভারত, পাকিস্তান না। আমাদের দেশের নির্বাচনে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ করে, গুম খুনের উপর একজনকে স্বৈরাচার হওয়ার সাপোর্ট দিয়েছে ভারত, বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটাইছে ভারত। পাকিস্তান এরকম বা কাছাকাছি স্কেইলের কিছু করার সাধ্য রাখে? রাখে না, ইভেন গত ৩০ বছর এমন উদাহরণও নেই। এই কারনে পিন্ডি আমাদের স্বাধীনতার জন্য থ্রেট না। উদাহরন শত শত দেয়া যাবে। কিন্তু এরপরও দিল্লীর সাথে পিন্ডির নাম কেন নেয়া হয় জানেন? এইটার উদ্দেশ্য দিল্লীর হেজিমনিকে একটু সফট বাইনারিতে ফেলে ব্যালেন্স করে দেখানো। এতে শুধুমাত্র দিল্লীর পারপাসই সার্ভড হয় আর কিছু নয়। কারন, এদেশে অন্য কারো হেজিমনি প্রব্লেম না এই মূহুর্তে। ১০০% প্রব্লেম হচ্ছে ইন্ডিয়ান হেজিমনি। এদেশের জনগণের সত্যিকার স্বাধীনতার জন্য এই মূহুর্তের বাধা ভারত। ভারত চায় না এদেশ তুর্কির সাহায্যে ড্রোন ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করুক, ভারত চায় না আমরা তুর্কিয়ের সাথে ৬০০ মিলিয়ন ডলার এর মিলিটারি ডিল করি, ভারত চায় না এদেশ JF17C থান্ডার জেট কিনে এয়ার ডিফেন্স স্ট্রং করুক। ভারত চায় না, আমাদের তিস্তা প্রজেক্ট চীন বাস্তবায়ন করুক, যাতে করে ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের দেশে আর বন্যা না হয়। ভারত চায় না পদ্মা ব্যারেজ হোক, ভারত চায় না, লালমনিরহাটে এয়ার ফিল্ড রেনোভেইটেড হোক। ভারতের চাওয়ার লিস্ট এরকম শত শত এবং সবগুলা এদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। সো, দিল্লীর হেজিমনিকে হাল্কা করে দেয়ার জন্য পিন্ডির নাম টেনে আনা শঠতা, চালাকি। আমাদের শ্লোগান শহীদ হাদির শ্লোগান। দিল্লী না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা।। ___________________________________________ 𝐑𝐢𝐚𝐳 𝐇𝐚𝐬𝐚𝐧 𝐒𝐭𝐚𝐟𝐟 𝐞𝐧𝐠𝐢𝐧𝐞𝐞𝐫, 𝐚𝐬𝐬𝐞𝐦𝐛𝐥𝐲 𝐢𝐧𝐭𝐞𝐠𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐚𝐭 𝐈𝐧𝐭𝐞𝐥 𝐂𝐨𝐫𝐩𝐨𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧

Sunday, 18 January 2026

গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিবেন নাকি না ভোট?

গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিবেন নাকি না ভোট? হ্যাঁ/না ভোটের ব্যালটে ক,খ,গ,ঘ মোট ৪টি পয়েন্ট দেয়া আছে।আপনি যদি ৪টা পয়েন্টের বাস্তবায়ন চান তাহলে 'হ্যাঁ' ভোট দিন,আর বাস্তবায়ন না চাইলে 'না' ভোট দিন। প্রশ্ন হল কেউ যদি ২ টি পয়েন্টের বাস্তবায়ন চান বাকি দুটি পয়েন্টের বাস্তবায়ন না চান উনি কি করবেন? এটা একটা সমস্যা। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে শুধু একটা পয়েন্ট দেয়া যেত- 'আপনি কি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে?' উত্তরে হ্যাঁ অথবা না। যাক,এসব রাজ-রাজড়াদের ব্যাপার, আমরা দেখি জুলাই সনদে কি আছে? জুলাই সনদে মোট ৮৪টা ধারা আছে। ৪৭টা সংবিধান সংশোধন বিষয়ক, বাকি ৩৭টা আইন/অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন বিষয়ক। হ্যাঁ জিতলে আগামী সংসদ বা সরকারে যারা আসবে তারা এই ৮৪টা ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে, না জিতলে জুলাই সনদ বাদ! ৮৪টা ধারার প্রধান কয়েকটি ধারা দেখি- ১। ৭২ এর সংবিধানের মূলনীতি চারটা: বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এসব থাকবেনা। তার জায়গায় বসবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি! ২। ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা যোগ করা হবে। বাংলাদেশ যে এখনো অন্তত কাগজেকলমে হলেও সেক্যুলার কান্ট্রি সেটা রদ হয়ে বাংলাদেশ হবে অনেকটা ধর্মিয় রাষ্ট্র। ৩/ সংবিধানে এখন ২২টা মৌলিক অধিকারের কথা বলা আছে। এর সাথে আরও কিছু যোগ হবে। যেমন ধরেন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট চালু রাখা... ৫/সংসদে দুইটা আলাদা কক্ষ থাকবে। উচ্চকক্ষে ১০০ আসন ও নিম্ন কক্ষে ৩০০ আসন থাকবে। সংসদ নির্বাচনে যে যত ভাগ ভোট পাবে তারা ততভাগ আসন পাবে উচ্চকক্ষে। ধরেন কেউ ৫০ ভাগ ভোট পেলে ৫০ সিট তাদের। ৬/ হ্যাঁ পাশ হলে সংবিধান থেকে বাঙালি পরিচয় এর বদলে নাগরিক হিসেবে ’বাংলাদেশি নাগরিক' লেখা হবে। ৭/ এখন এক ব্যক্তি যতবার ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। হ্যাঁ পাশ হলে সেটা সর্বোচ্চ ১০ বছরে নেমে আসবে। ৭/এখন প্রধানমন্ত্রী একইসাথে তার নিজ দলের প্রধানও থাকতে পারেন। হ্যাঁ জিতলে দুটোর একটা ছেড়ে দিতে হবে। ৮/তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান সংবিধানে যুক্ত হবে। এটা নিয়ে অনেকগুলো ধারা আছে ও বিস্তারিত বলা আছে যে কিভাবে গঠন হবে, কারা সদস্য হবে এসব! ৯/সংসদে নারী সদস্য সংখ্যা ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করা হবে। আগামী ইলেকশনে দলগুলো কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিবে, পরের ইলেকশনে ১০%...এভাবে ৩৩% পর্যন্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে। ১০/রাস্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে অনেকগুলো ধারা আছে। এখনকার মত রাস্ট্রপতি নিজে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারবেন না, ওটা আপিল বিভাগ থেকে হবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য রাস্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারবে, এখন প্রকাশ্য ভোটে রাস্ট্রপতি নির্বাচিত হয়, তখন গোপন ভোটে নির্বাচিত হবে। ১১/বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে অসংখ্য ধারা আছে সনদে। এসব ধারায় সরকারের পরিবর্তে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টকে ক্ষমতায়িত করা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন, হাইকোর্টের নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে প্রধান বিচারপতি করবেন। ১২/পিএসসির লোকবল এখন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। হ্যাঁ পাশ হলে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, বিরোধী দলের চিফ হুইপ, এরকম ৭ জনের টিম এই কাজ করবেন। ১৩/এখন দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেয় প্রধানমন্ত্রী। হ্যাঁ পাশ হলে সংসদ সদস্য, আপিল বিভাগের প্রতিনিধি, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধি এরকম লোকবলের সমন্বয়ে এই নিয়োগে হবে। ১৪/এখন সব সরকারি কর্মচারি সরকারের অধীনে থাকে, তখন স্থানীয় সরকারে থাকা সরকারি লোকজনও এমপিদের অধীনে থাকবে! ওখানকার সব প্রকল্প থাকবে জনপ্রতিনিধির অধীনে! তার মানে যেখানে যে দলের এমপি সেখানে জেলা উপজেলা ইউনিয়ন চলবে তার মত করে। (আমার কাছে এটা বাস্তবতা বিবর্জিত প্রস্তাব বলে মনে হয়েছে। দুর্নীতি বাড়বে।) ১৫/সরকারি কর্মচারির বিরুদ্ধে মামলা করতে দুদককে সরকারের অনুমতি নিতে হবেনা। আইনজীবিরা রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হতে পারবেনা। (দুটোই ভাল প্রস্তাব!) ১৬/এখন কেউ কোনো অপরাধে সাজা পেলে ৫ বছর পর ইলেকশন করতে পারে, হ্যাঁ জিতলে একবার সাজা হলে সে আর নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেনা! ১৭/হ্যাঁ জিতলে কালো টাকা সাদা করার আইন করা হবে। ১৮/এখন বিভাগ ৮টা আছে, তখন ১০টা হবে। কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ। পরিশেষে - ভোট আপনার সিদ্ধান্ত আপনার। আপনার ভোট আপনি দিবেন যাকে খুশি তাকে দিবেন। [সংগৃহীত/সম্পাদিত]

ভারত আমাদের সাহায্য না করলে আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করতে পারতাম না।

মুক্তিযুদ্ধ: বিজয় ছিনতাই অনেক কাল যাবত জেনে এসেছি, মুক্তিযুদ্ধ: বিজয় ছিনতাই অনেক কাল যাবত জেনে এসেছি, ভারত আমাদের সাহায্য না করলে আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করতে পারতাম না। কথাটি সত্যি। তবে এখন মনে হয় কথাটির উত্তর সরাসরি ‘সত্য-মিথ্যায়’ সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭১ সালে ভারতীয় সাহায্যকে আমরা মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করতে পারি: মানবিক সাহায্য ও সামরিক সহযোগিতা। মানবিক সাহয্যের বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তবে সামরিক সহযোগিতাকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক বিষয়গুলি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্যে সাংগঠনিক সহযোগিতা। অস্ত্র ও রসদ দিয়ে লজিস্টিক সহযোগিতা। সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ। এখন মনে হয় সামরিক সাহায্যের শেষ ধাপটি অর্থাৎ ভারতীয় সেনাবাহিনী সরাসরি অংশ না নিলেও আমরা জয়লাভ করতাম। তার জন্যে সময় বেশি লাগতো। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্যে আমাদের কারো সহযোগিতার দরকার হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করার জন্যে আমাদের উজ্জীবন মন্ত্র ছিল দুটি: ১। আত্মরক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা ২। যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার সাহস। প্রাথমিক সাফল্য সংহত করা, সম্প্রসারিত করা এবং জনতার জানমাল বাঁচানোর জন্যে আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। ভারত সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই সে দেশের জনগণ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ত্রিপুরার মানুষ তাদের জনসংখ্যার সমান সংখ্যক আর্ত বাঙালিকে আশ্রয় দেওয়া শুরু করেছিল সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা, বাসস্থান সংকট উপেক্ষা করে আমাদের ঠাঁই দিয়েছিল। কিন্তু সে সময় যুদ্ধ টিকিয়ে রাখার মতো সামরিক সাহায্য আমরা পাইনি। আমাদের রাজনীতিবিদদের অনেকে যখন ভাবছেন ভারত আমাদের যুদ্ধ করে জিতিয়ে দেবে, আমাদের জনতা তখন দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্যে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিদ্রোহী সেনা অধিনায়করা সেই মুহূর্তে বৃহত্তর সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় যুদ্ধ এগিয়ে নিয়ে যাবার উপায় খুঁজতে সম্মেলন করছেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্যে সারাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আকুতি নিয়ে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধবিদ্যা রপ্ত করেছেন, তবে এরকম প্রাণ উৎসর্গ করার জন্যে উদ্বেল মানুষ দেখেননি। জনতার এই নিঃশঙ্ক মনোভাবকে পাথেয় করে তারা যুদ্ধ জয়ে দৃঢ় সংকল্প হয়েছেন। তাদের সাথে জনতার সম্মিলনে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়েছে। এই মুক্তিবাহিনীর কোনো কোনো দলকে শুধু গ্রেনেড নিয়ে অপারেশনে যেতে হয়েছে। কোথাও ভরসা ছিল তিনজনের একটি অস্ত্র। আগস্ট মাস পর্যন্ত এর চেয়ে বেশি সমরাস্ত্র সাহায্য করার সামর্থ তাদের ছিল না। এই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধনীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তা হলো- ১। গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে ব্যতিব্যস্ত করে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থানের সম্প্রসারণ করা। যেন পাকিস্তানি বাহিনীর জনবলসহ সমরসজ্জা বিভাজিত হতে হতে অবস্থানগুলি দুর্বলতর হয়ে পড়ে। ২। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথাগত যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। ৩। ভারতীয় বাহিনী এই যুদ্ধে সহায়ক বাহিনী হিসাবে থাকবে; প্রয়োজনে তাদের সাহায্য নেওয়া। মুক্তিবাহিনীর এই পরিকল্পনা যুদ্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে ফলপ্রসূ হতে শুরু করে। ৭ জুলাই প্রথাগত যুদ্ধের প্রথম ব্রিগেড জেড ফোর্স গঠিত হয়। সেপ্টেম্বরে কে ফোর্স এবং অক্টোবরের ১ তারিখে এস ফোর্স গঠিত হয়। এদিকে মুক্তিবাহিনীর ছোট ছোট হামলায় নাজেহাল পাকিস্তানি বাহিনী আরও বেশি অঞ্চল তাদের আওতায় আনার জন্যে সেনাবাহিনী সম্প্রসারণের নামে তিনটি ডিভিশনকে ভেঙে সেই একই জনবল ও সরঞ্জাম থেকে আরও দুটি অ্যাডহক ব্রিগেড গঠন করে। এতে তাদের এলাকা সম্প্রসারিত হলেও প্রতিটি অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। ৩১ জুলাই ভোররাতে মুক্তিবাহিনীর প্রথম প্রথাগত আক্রমণ শুরু হয়। সহায়ক বাহিনীর অপ্রতুল ফায়ার সাপোর্ট এবং সমরসজ্জার সীমাবদ্ধতার কারণে মুক্তিবাহিনী সে যুদ্ধে জয়ী না হলেও পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক সক্ষমতায় বিস্মিত হয়। সেই থেকে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে। ৯ আগস্ট রুশ-ভারত সহযোগিতা চুক্তি সম্পন্ন হবার পর ভারতীয় সামরিক সহযোগিতা যেমন বৃদ্ধি পায়, মুক্তিবাহিনীর সাফল্যও সেভাবে বাড়ে। আগস্ট মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে রৌমারিতে জেড ফোর্সের উদ্যোগে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে থানা, পোস্ট অফিস এমনকি শুল্ক বিভাগ পর্যন্ত প্রবাসী সরকারের অধীনে কাজ করা শুরু করে। ১৫ নভেম্বর কে ফোর্সের সাথে লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে বৃহত্তর কুমিল্লার সালদা নদী থেকে পাকিস্তানি বাহিনী বিদায় নেয়। এরপর বেলুনিয়া থেকে পাকিস্তান বাহিনী বিতাড়িত হয়। এরকম সাফল্যের মধ্যেই সহায়ক বাহিনীর স্থলে ভারতীয় বাহিনীকে নিয়ে যৌথবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এবং ২২ নভেম্বর চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশি ফর্মেশনের (ব্রিগেড) অধীনস্থ সেক্টরগুলিকে ভারতীয় বাহিনীর অধীনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩ ডিসেম্বর যৌথবাহিনী যখন যুদ্ধ ঘোষণা করে তার আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থা ঘুণে খাওয়া আসবাবের মতো হয়ে যায়। ভারতীয় বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। যদি তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াই আমাদের যুদ্ধনীতিতে অটুট থাকতাম, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান বাহিনীকে আমরা যেমন দুর্বলতর করে তুলতে পারতাম, একইভাবে আমাদের নিয়মিত ব্রিগেডের সংখ্যাও বাড়াতে পারতাম। যুদ্ধ হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তান থেকে শত্রু আসা বন্ধ হয়েছিল। পশ্চিম ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তানের দিকে নজর দেওয়ার সময়, সুযোগ আরও কমে যেত। এদেশে মুক্তিবীহিনীর হামলায় তাদের সাপ্লাই লাইন পর্যুদস্ত হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ আমরা তাদের ভাতে মারা শুরু করেছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা আমরা তখন রক্ত দেওয়া শিখে গেছি। মুক্তি আমাদের ঠেকিয়ে রাখা যেত না। আরও কিছুদিন যুদ্ধ করলে পাকিস্তানি বাহিনীকে আমাদের কাছেই আত্মসমর্পণ করতে হতো। ভারতীয় বাহিনী শেষ মুহূর্তে যোগ দেওয়ায় আমাদের বিজয়টা ছিনতাই হয়ে গেছে। পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের দলিলে সই করার সুযোগ হয়নি। কথাটি সত্যি। তবে এখন মনে হয় কথাটির উত্তর সরাসরি ‘সত্য-মিথ্যায়’ সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭১ সালে ভারতীয় সাহায্যকে আমরা মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করতে পারি: মানবিক সাহায্য ও সামরিক সহযোগিতা। মানবিক সাহয্যের বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তবে সামরিক সহযোগিতাকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক বিষয়গুলি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্যে সাংগঠনিক সহযোগিতা। অস্ত্র ও রসদ দিয়ে লজিস্টিক সহযোগিতা। সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ। এখন মনে হয় সামরিক সাহায্যের শেষ ধাপটি অর্থাৎ ভারতীয় সেনাবাহিনী সরাসরি অংশ না নিলেও আমরা জয়লাভ করতাম। তার জন্যে সময় বেশি লাগতো। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্যে আমাদের কারো সহযোগিতার দরকার হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করার জন্যে আমাদের উজ্জীবন মন্ত্র ছিল দুটি: ১। আত্মরক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা ২। যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার সাহস। প্রাথমিক সাফল্য সংহত করা, সম্প্রসারিত করা এবং জনতার জানমাল বাঁচানোর জন্যে আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। ভারত সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই সে দেশের জনগণ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ত্রিপুরার মানুষ তাদের জনসংখ্যার সমান সংখ্যক আর্ত বাঙালিকে আশ্রয় দেওয়া শুরু করেছিল সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা, বাসস্থান সংকট উপেক্ষা করে আমাদের ঠাঁই দিয়েছিল। কিন্তু সে সময় যুদ্ধ টিকিয়ে রাখার মতো সামরিক সাহায্য আমরা পাইনি। আমাদের রাজনীতিবিদদের অনেকে যখন ভাবছেন ভারত আমাদের যুদ্ধ করে জিতিয়ে দেবে, আমাদের জনতা তখন দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্যে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিদ্রোহী সেনা অধিনায়করা সেই মুহূর্তে বৃহত্তর সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় যুদ্ধ এগিয়ে নিয়ে যাবার উপায় খুঁজতে সম্মেলন করছেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্যে সারাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আকুতি নিয়ে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধবিদ্যা রপ্ত করেছেন, তবে এরকম প্রাণ উৎসর্গ করার জন্যে উদ্বেল মানুষ দেখেননি। জনতার এই নিঃশঙ্ক মনোভাবকে পাথেয় করে তারা যুদ্ধ জয়ে দৃঢ় সংকল্প হয়েছেন। তাদের সাথে জনতার সম্মিলনে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়েছে। এই মুক্তিবাহিনীর কোনো কোনো দলকে শুধু গ্রেনেড নিয়ে অপারেশনে যেতে হয়েছে। কোথাও ভরসা ছিল তিনজনের একটি অস্ত্র। আগস্ট মাস পর্যন্ত এর চেয়ে বেশি সমরাস্ত্র সাহায্য করার সামর্থ তাদের ছিল না। এই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধনীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তা হলো- ১। গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে ব্যতিব্যস্ত করে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থানের সম্প্রসারণ করা। যেন পাকিস্তানি বাহিনীর জনবলসহ সমরসজ্জা বিভাজিত হতে হতে অবস্থানগুলি দুর্বলতর হয়ে পড়ে। ২। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথাগত যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। ৩। ভারতীয় বাহিনী এই যুদ্ধে সহায়ক বাহিনী হিসাবে থাকবে; প্রয়োজনে তাদের সাহায্য নেওয়া। মুক্তিবাহিনীর এই পরিকল্পনা যুদ্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে ফলপ্রসূ হতে শুরু করে। ৭ জুলাই প্রথাগত যুদ্ধের প্রথম ব্রিগেড জেড ফোর্স গঠিত হয়। সেপ্টেম্বরে কে ফোর্স এবং অক্টোবরের ১ তারিখে এস ফোর্স গঠিত হয়। এদিকে মুক্তিবাহিনীর ছোট ছোট হামলায় নাজেহাল পাকিস্তানি বাহিনী আরও বেশি অঞ্চল তাদের আওতায় আনার জন্যে সেনাবাহিনী সম্প্রসারণের নামে তিনটি ডিভিশনকে ভেঙে সেই একই জনবল ও সরঞ্জাম থেকে আরও দুটি অ্যাডহক ব্রিগেড গঠন করে। এতে তাদের এলাকা সম্প্রসারিত হলেও প্রতিটি অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। ৩১ জুলাই ভোররাতে মুক্তিবাহিনীর প্রথম প্রথাগত আক্রমণ শুরু হয়। সহায়ক বাহিনীর অপ্রতুল ফায়ার সাপোর্ট এবং সমরসজ্জার সীমাবদ্ধতার কারণে মুক্তিবাহিনী সে যুদ্ধে জয়ী না হলেও পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক সক্ষমতায় বিস্মিত হয়। সেই থেকে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে। ৯ আগস্ট রুশ-ভারত সহযোগিতা চুক্তি সম্পন্ন হবার পর ভারতীয় সামরিক সহযোগিতা যেমন বৃদ্ধি পায়, মুক্তিবাহিনীর সাফল্যও সেভাবে বাড়ে। আগস্ট মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে রৌমারিতে জেড ফোর্সের উদ্যোগে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে থানা, পোস্ট অফিস এমনকি শুল্ক বিভাগ পর্যন্ত প্রবাসী সরকারের অধীনে কাজ করা শুরু করে। ১৫ নভেম্বর কে ফোর্সের সাথে লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে বৃহত্তর কুমিল্লার সালদা নদী থেকে পাকিস্তানি বাহিনী বিদায় নেয়। এরপর বেলুনিয়া থেকে পাকিস্তান বাহিনী বিতাড়িত হয়। এরকম সাফল্যের মধ্যেই সহায়ক বাহিনীর স্থলে ভারতীয় বাহিনীকে নিয়ে যৌথবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এবং ২২ নভেম্বর চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশি ফর্মেশনের (ব্রিগেড) অধীনস্থ সেক্টরগুলিকে ভারতীয় বাহিনীর অধীনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩ ডিসেম্বর যৌথবাহিনী যখন যুদ্ধ ঘোষণা করে তার আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থা ঘুণে খাওয়া আসবাবের মতো হয়ে যায়। ভারতীয় বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। যদি তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াই আমাদের যুদ্ধনীতিতে অটুট থাকতাম, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান বাহিনীকে আমরা যেমন দুর্বলতর করে তুলতে পারতাম, একইভাবে আমাদের নিয়মিত ব্রিগেডের সংখ্যাও বাড়াতে পারতাম। যুদ্ধ হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তান থেকে শত্রু আসা বন্ধ হয়েছিল। পশ্চিম ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তানের দিকে নজর দেওয়ার সময়, সুযোগ আরও কমে যেত। এদেশে মুক্তিবীহিনীর হামলায় তাদের সাপ্লাই লাইন পর্যুদস্ত হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ আমরা তাদের ভাতে মারা শুরু করেছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা আমরা তখন রক্ত দেওয়া শিখে গেছি। মুক্তি আমাদের ঠেকিয়ে রাখা যেত না। আরও কিছুদিন যুদ্ধ করলে পাকিস্তানি বাহিনীকে আমাদের কাছেই আত্মসমর্পণ করতে হতো। ভারতীয় বাহিনী শেষ মুহূর্তে যোগ দেওয়ায় আমাদের বিজয়টা ছিনতাই হয়ে গেছে। পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের দলিলে সই করার সুযোগ হয়নি।