Friday, 6 March 2026

৭ই মার্চের ভাষণ—উন্মুক্ত পাঠ নাকি দলীয় পাণ্ডুলিপি?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে যতগুলো রাজনৈতিক প্রতীক গড়ে তোলা হয়েছে, তার মধ্যে ৭ই মার্চের ভাষণ নিঃসন্দেহে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত একটি টেক্সট। এই ভাষণকে একদিকে “জাতির মুক্তির রূপরেখা” এবং “স্বাধীনতার কার্যকর ঘোষণা” হিসেবে মূর্ত করে দেখা হয়েছে, অন্যদিকে এটাকে পাকিস্তানের ভেতরে সমাধান খোঁজার শেষ প্রচেষ্টা, এমনকি কৌশলগত দ্বিধার নিদর্শন হিসেবেও পাঠ করা হয়েছে। এভাবে একই ভাষণকে বিপরীত রাজনৈতিক শিবির ভিন্ন ভিন্নভাবে মালিকানা নেওয়ার চেষ্টা করেছে—কেউ এটিকে নায়ক–পূজার কেন্দ্রে বসিয়ে, কেউ আবার এটিকে ইতিহাস মুছে ফেলার রিসেট বাটনের বিপরীত দিক থেকে ব্যবহার করে। ফলে ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনার প্রথম শর্তই হলো—এটাকে কেবল পবিত্র প্রতীক বা নিখুঁত দলিল হিসেবে নয়, বরং তার সময়, সীমাবদ্ধতা, কৌশল, পরবর্তী দলীয় ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় বিকৃতির পুরো প্রক্রিয়াসহ একটি রাজনৈতিক টেক্সট হিসেবে দেখা। এই প্রবন্ধ সেই জায়গা থেকেই ভাষণের মাহাত্ম্যকে অস্বীকার না করে, বরং এর চারপাশে নির্মিত ক্ষমতার রাজনীতি, আখ্যানের একচেটিয়াকরণ ও স্মৃতির উপর দখলদারিত্বের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবে। শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে সমালোচনামুখর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—ভাষণ নিজে যতটা ঐতিহাসিক, তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় ও দলীয় আখ্যান ঠিক ততটাই রাজনৈতিকভাবে নির্মিত এবং বিতর্ক–উদ্রেককারী। ১. ইতিহাস নয়, আখ্যান নির্মাণ: ভাষণের চারপাশে দেয়াল ৭ই মার্চের ভাষণ নিঃসন্দেহে এক উত্তাল ইতিহাসের কেন্দ্রীয় মুহূর্ত—অর্থনৈতিক বৈষম্য, ভাষাগত জাতীয়তাবাদ, কৃষি ও শ্রম-আন্দোলনের দীর্ঘ সঞ্চিত ক্ষোভের বিস্ফোরণকে সেখানে একটি রাজনৈতিক ভাষা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে এই ভাষণকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন সাতই মার্চ কেবল একক নেতার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফল, আর তার বাইরের বহুমাত্রিক সামাজিক শক্তিগুলো যেন ইতিহাসের প্রান্তিক ফুটনোট মাত্র। এই “ব্যক্তিকেন্দ্রিক” আখ্যান দুইভাবে সমস্যাজনক। - প্রথমত, এটি জনগণের সংগ্রামকে এক ব্যক্তির ক্যারিশমায় সংকুচিত করে, ইতিহাসকে জীবন্ত প্রক্রিয়া থেকে “নায়ক–কেন্দ্রিক কাহিনি”তে নামিয়ে আনে। - দ্বিতীয়ত, একই ইতিহাসকে ভিন্নভাবে পড়ার, সমালোচনা করার বা নতুন করে ব্যাখ্যার যেকোনো চেষ্টাকে “বঙ্গবন্ধু–বিরোধী” বা “মুক্তিযুদ্ধ–বিরোধী” বলে দমন করা সহজ হয়ে যায়। খুন যোগ্য করে তোলা হয়। একই ভাষণকে সামরিক শাসনামলে “সংযমের মুহূর্ত” হিসেবে, আর আওয়ামী লীগ আমলে “বিপ্লবের চূড়ান্ত ডাক” হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—এ থেকে বোঝা যায়, ইতিহাসের ঘটনাটি যেমন আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কে কীভাবে সেটি রাজনৈতিক ভাবে কাজে লাগাচ্ছে। ২. স্বাধীনতার ঘোষণা বনাম দ্বিধার রাজনীতি ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে সবচেয়ে বড় বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক: এটি কি স্বাধীনতার ঘোষণা, নাকি পাকিস্তানের ভেতর ক্ষমতা আদায়ের এক কৌশলী বক্তৃতা? একদিকে, আওয়ামী লীগ ঘরানা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীরা যুক্তি দেন—মুজিব আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিচ্ছিন্নতাবাদী ট্যাগ এড়াতে শব্দে “স্বাধীনতা” উচ্চারণ করেননি, কিন্তু বাস্তবে চার দফা দাবি, অসহযোগ, কর–বর্জন, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও “প্রতিটি ঘরে দুর্গ গড়ে তোল” আহ্বানের মাধ্যমে কার্যত স্বাধীনতারই ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের পাঠে, কৌশলগত অস্পষ্টতা ছিল আন্তর্জাতিক ও সামরিক বাস্তবতা বিচার করে নেওয়া এক দূরদর্শী অবস্থান; ছাত্রনেতাদের সরাসরি ঘোষণার দাবি তিনি ঠেকিয়ে দিয়েছেন গণহত্যা ঠেকানোর জন্য। অন্যদিকে, সমালোচক এবং কিছু বিকল্প ধারার গবেষকরা অভিযোগ করেন, ৭ই মার্চ পর্যন্ত শেখ মুজিবের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের কাঠামোর ভেতর থেকেই ক্ষমতা নেওয়া—চার দফা ছিল আসলে সামরিক জান্তা ও ভুট্টোর উপর চাপ তৈরি করার হাতিয়ার। বিবিসি বাংলা–তে উদ্ধৃত এক গবেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, মুজিব ২৪ মার্চ পর্যন্তও পাকিস্তানের ভেতরে ক্ষমতা হস্তান্তরের সমাধানের পথ খোলা রাখতে চেয়েছিলেন; তাই ভাষণটি “চূড়ান্ত বিচ্ছেদের দলিল” হিসেবে পড়া এক ধরনের রেট্রো–অ্যাকটিভ নায়ক বানানোর চেষ্টা। এই দ্বন্দ্বের রাজনৈতিক ফল স্পষ্ট: - আওয়ামী লীগ লাইন: “ঘোষক একটাই—মুজিব; ৭ই মার্চই স্বাধীনতার কার্যকর ঘোষণা।” - প্রতিপক্ষ ন্যারেটিভ: “৭ই মার্চ ছিল অর্ধেক পথ; ২৫–২৬ মার্চের সামরিক আক্রমণ ও ২৭ মার্চের চট্টগ্রাম ঘোষণার মাধ্যমে যুদ্ধ বাস্তবে শুরু।” ফলে ভাষণটি একদিকে বিপ্লবী অনুপ্রেরণার পাঠ্য, অন্যদিকে স্বাধীনতার “অথেনটিক ঘোষক” নিয়ে অন্তহীন রাজনৈতিক টানাটানির ইন্ধন। ৩. রাষ্ট্রীয় দিবস, পরিবার–কেন্দ্রিকীকরণ এবং প্রতিক্রিয়ার রাজনীতি ৭ই মার্চকে দীর্ঘদিন কোনো রাষ্ট্রীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়নি; হটাৎ করে ২০২০ সালে হাইকোর্টের নির্দেশের পর তা জাতীয় দিবসের তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঢোকে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারকালীন সময় থেকে ৭ই মার্চ ঘিরে ব্যাপক মঞ্চ, শো, বিজ্ঞাপন, সরকারি প্রচার শুরু হয়—যা দিনটিকে শুধু ঐতিহাসিক স্মরণ নয়, বরং ক্ষমতাসীন দলের ব্র্যান্ড–ব্যবস্থাপনার অংশে পরিণত করে। সমালোচনা এসেছে দুইদিকে থেকে: - এক, “এক পরিবারকে ঘিরে অতিরিক্ত সংখ্যক দিবস”—১০ই জানুয়ারি, ১৫ আগস্ট, ৭ই মার্চ, জন্মদিন, মুজিববর্ষ ইত্যাদি—রাষ্ট্রীয় অর্থে পালন করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে একধরনের পারিবারিক পুজো–ব্যবস্থায় নামিয়ে আনা হচ্ছে। - দুই, দিবসের সংখ্যা বাড়ানো এবং অতিরিক্ত আড়ম্বর সাধারণ মানুষের মধ্যে “উৎসব ক্লান্তি” এবং বিরক্তি তৈরি করেছে; ঐতিহাসিক স্মরণ আর রাজনৈতিক প্রচারের সীমারেখা মুছে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪–২৫ সালে ৭ই মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত এলো একেবারে বিপরীত মেরুতে—এবার অনেকে এটাকে “ইতিহাসের রিসেট বাটন” বলে ব্যাখ্যা করলেন, যেখানে পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন দলের প্রতীকগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এখানে সমালোচনা উভয় দিকে: আওয়ামী লীগ আমলে অতিরিক্ত পার্টি–সেন্ট্রিকীকরণ যেমন সমস্যা ছিল, তেমনি নতুন সরকার এটিকে সহনশীল সমালোচনার বদলে প্রতিক্রিয়াশীল মুছে–ফেলার মাধ্যমে এক ধরনের “উল্টো রিভিশনিজম”-এ যাচ্ছিল। ৪. সংবিধানে ভাষণের বিকৃত পাঠ: স্মৃতির ওপর অবহেলার ছাপ যে ভাষণকে ইউনেসকো “মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড” নিবন্ধনে স্থান দিয়েছে, সেই একই ভাষণের পাঠ যখন দেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন দেখা যায় সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে শতাধিক ভুল, বাদ–বাকী আর বিকৃতি রয়ে গেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটি সংবিধানে থাকা পাঠে প্রায় ১৩০টি ভুল বা অমিল শনাক্ত করে—কোথাও বাক্যাংশ বাদ গেছে, কোথাও শব্দ বদলে গেছে, কোথাও পুরো লাইন নেই। দুই দশক ধরে রাজনৈতিকভাবে “৭ই মার্চ, বঙ্গবন্ধু” নিয়ে অভূতপূর্ব প্রচারণা চললেও ভাষণের সবচেয়ে মৌলিক কাজ—এর নির্ভুল টেক্সট দায়িত্ব নিয়ে সংরক্ষণ—রাষ্ট্র এবং দল দুপক্ষই করেনি; এটা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, স্মৃতির প্রতি গভীর অবহেলার লক্ষণ। সমালোচকেরা এখানে তির্যক প্রশ্ন তুলেছেন: যে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত এই ভাষণের নাম নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের “ইতিহাস–বিরোধী” বলে, তারা নিজেরাই যদি সংবিধানে বিকৃত ভাষণ রেখে দেয়, তাহলে প্রকৃত ইতিহাসবিরোধী কে? ৫. ইউনেসকো, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অভ্যন্তরীণ বন্ধ–দরজা ৭ই মার্চের ভাষণ ২০১৭ সালে ইউনেসকোর “মেমরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচারণায় এটাকে প্রায় একধরনের আন্তর্জাতিক সীলমোহর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—“বিশ্ব স্বীকৃত ঐতিহ্য” এখন সমালোচনার উর্দ্ধে। কিন্তু সমালোচকেরা মনে করিয়ে দেন, কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা কোনো দলিলকে “ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান” বললে তা সমালোচনাহীন বা সর্বসম্মত হয়ে যায় না; বরং সেই স্বীকৃতি গবেষণা, বিতর্ক ও নতুন পাঠকে উৎসাহিত করার কথা, থামিয়ে দেওয়ার নয়। যখনই কেউ ৭ই মার্চের ভাষণে মুজিবের কৌশলগত দ্বিধা, পাকিস্তানের ভেতরে সমাধান খোঁজার চেষ্টা বা সহিংসতার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, তাকে দ্রুত “ইউনেসকো স্বীকৃত ইতিহাস অস্বীকারকারী” বলে ট্যাগ করা হয়। ফলে ইউনেসকোর মতো আন্তর্জাতিক ফোরামের স্বীকৃতি একধরনের “বন্ধ–দরজা” যুক্তি হিসেবে ব্যবহার হয়—যেখানে গবেষণা বা বিকল্প পাঠ আর নিরাপদ থাকে না। ৬. স্মৃতি মুছে ফেলা বনাম একচেটিয়া স্মৃতি: দু’পাশের একই রোগ ডেইলি স্টার–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৭ই মার্চের তাৎপর্য কখনো সরাসরি মুছে ফেলা হয়েছে (সামরিক শাসন, ২১ বছরের নিষেধাজ্ঞা), কখনো আবার একক আখ্যানের মধ্যে বন্দী করে রাখা হয়েছে (আওয়ামী লীগ আমলের রাষ্ট্র অনুমোদিত বয়ান)। এক ক্ষেত্রে ভাষণ নেই, অন্য ক্ষেত্রে ভাষণ আছে কিন্তু ভিন্ন পাঠের অবকাশ নেই—দু’ক্ষেত্রেই সমস্যাটা একই: ক্ষমতাসীন পক্ষ ইতিহাসকে বহুবচন থেকে একবচনে নামিয়ে আনে। আজকের বিতর্ক—৭ই মার্চ জাতীয় দিবস বাতিল, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা, “রিসেট বাটন”–এর ভাষ্য—দেখায়, নতুন ক্ষমতাসীন পক্ষও একই খেলাটা উল্টো দিক থেকে খেলছে।[7][8][1] এবার প্রশ্ন কেবল “মুজিব বনাম অন্য কেউ” নয়; প্রশ্ন দাঁড়ায়—রাষ্ট্র কি কোনো ঐতিহাসিক স্মৃতিকে বহুত্ববাদীভাবে ধারণ করবে, নাকি প্রতি সরকার নিজের সুবিধামতো অধ্যায় কেটে দেবে আর নতুন অধ্যায় লিখবে? ৭. উপসংহার:
৭ই মার্চের ভাষণকে সমালোচনামূলক চোখে দেখলে তিনটি স্তর আলাদা করে দেখা জরুরি— - ভাষণটি ছিল এক বাস্তব রাজনৈতিক সঙ্কটের মুহূর্তে, কৌশলগত অস্পষ্টতা ও বিপ্লবী আহ্বানের এক জটিল মিশ্রণ; এতে যেমন সাহসের ভাষা ছিল, তেমনই ছিল আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বিবেচনায় কম–বেশি দ্বিধা। - ভাষণ–পরবর্তী রাষ্ট্রীয় এবং দলীয় ব্যবহারে এটিকে ব্যক্তিপূজার কেন্দ্রে বসানো হয়েছে, যা জনগণের সংগ্রামকে ছাপিয়ে গেছে এবং সমালোচনাকে অপরাধসমতুল্য করে তুলেছে। - নতুন সরকার এই একচেটিয়া স্মৃতির প্রতিক্রিয়ায় সরাসরি দিবস বাতিল, গুরুত্ব কমানো ইত্যাদির মাধ্যমে ঠিক একই ধরনের ক্ষমতাকেন্দ্রিক ইতিহাস–রাজনীতি করছে, কেবল নায়ক বদলে। সব তর্ক–বিতর্ক ছেঁকে দেখলে স্পষ্ট হয়, ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে দ্বন্দ্ব মূলত ভাষণের ভেতর কিংবা ঐতিহাসিক মুহূর্তের জটিলতায় যতটা, তার চেয়েও বেশি এই ভাষণকে ঘিরে পরবর্তী ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক ব্যবহার ও অপব্যবহারে। একদিকে যখন এই ভাষণকে ব্যক্তিপূজা ও দলীয় ব্র্যান্ডিংয়ের প্রতীকে রূপান্তর করা হয়েছে, তখন অন্যদিকে প্রতিক্রিয়াশীলভাবে দিবস বাতিল, মর্যাদা কমানো বা বিকল্প নায়ক বানানোর প্রতিযোগিতা একই ইতিহাসকে আবারো ক্ষমতার দাঁড়িপাল্লায় ঝুলিয়ে দিয়েছে। প্রকৃত সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তাই একযোগে দু’টি কাজ দাবি করে: প্রথমত, শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণকে তার সময়ের ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক কৌশলের ভেতরে রেখে পড়া; দ্বিতীয়ত, এই ভাষণকে দলীয় পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধার করে একটি উন্মুক্ত ঐতিহাসিক সম্পদে পরিণত করা, যেখানে ভক্তি যেমন বৈধ, তেমনি বৈধ প্রশ্ন, বিরোধিতা এবং বিকল্প ব্যাখ্যাও। যতক্ষণ না রাষ্ট্র এবং রাজনীতি এই বহুত্ববাদী পাঠের সুযোগ তৈরি করছে, ততক্ষণ ৭ই মার্চের ভাষণ ইতিহাসের দলিলের চেয়ে বেশি হবে—এটি থাকবে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে, এবং তার চারপাশের বিতর্কও থামবে না, বরং আরও নতুন আকারে ফিরে আসবে।

ও সুন্নীদের মধ্যে কেনো মতপার্থক্য ?

ইসলাম ধর্মে গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় সৃষ্টি হয় নবীজীর দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর। শিয়া এবং সুন্নীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য দেখা দেয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতিষ্ঠিত মুসলমান সমাজের কে হবেন পরবর্তী নেতা তা নিয়ে। গোড়ার দিকে ইসলামে কিভাবে গোষ্ঠী সৃষ্টি হলো তা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আলোচনা করলে আজকের আধুনিক মুসলিম সমাজকে বুঝতে সুবিধা হবে। এই বিভক্তি ১৩শ’বছর ধরে মুসলমানদের কাছ থেকে মুসলমানদেরকে পৃথক করে রেখেছে। রাসুলুল্লাহ(সঃ)-এর দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর মুসলমানদের যারা শাসন করেছেন তাদের খলিফা বলা হয়। শিয়ারা বিশ্বাস করে যে প্রথম খলিফা ছিলেন হজরত আলী। আলী ছিলেন রাসুল (সঃ)-এর চাচাতো ভাই এবং নবীজির কন্যা ফাতিমাকে বিয়ে করেছিলেন। হজরত আলী হলেন রাসুলের দৌহিত্রদের পিতা। কিন্তু সুন্নীরা আবু বকরকেই প্রথম খলিফা বলে মনে করে। শিয়া এবং সুন্নীরা হলো ইসলামের সবচেয়ে বড় দুটি গোষ্ঠী। তাদের ধর্মীয় মতবাদ এবং ইতিহাস জানা ও বোঝা জরুরি। শিয়া ও সুন্নীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য দেখা দেয় নবী মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠিত মুসলমান সমাজের কে হবেন পরবর্তী নেতা তা নিয়ে। শিয়ারা দাবি করে, নবী মুহাম্মদ শেষবার হিজরতকালে পথিমধ্যে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং তার সহযাত্রীদের সম্মুখে ঘোষণা করেন হজরত আলী হবেন পরবর্তী উত্তরাধিকারী। কিন্তু সুন্নীরা বিশ্বাস করে, দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় নবী তার আরেক স্ত্রীর পিতা আবু বকরকে উত্তরাধিকার নির্বাচন করেন। শিয়াদের বক্তব্য হলো, আলী যখন নবীকে কবর দিতে ব্যস্ত তখন হজরত উমর (পরবর্তীতে ২য় খলিফা নির্বাচিত হন) সাহাবাদেরকে ডাকেন এবং আবু বকরকে নেতা নির্বাচিত করেন। সুন্নী মুসলমানরা বলে, আবু বকরের নির্বাচনই সঠিক। শিয়ারা বলে প্রকৃতপক্ষে আলী প্রথম খলিফা এবং ইমাম। আবু বকরের পর উমর এবং উসমান খলিফা নির্বাচিত হন। উসমানের হত্যাকাণ্ডের পর আলী চতুর্থ খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন এবং সকলেই তা মেনে নেন, শুধু বর্তমান সিরিয়ার তখনকার বাসিন্দারা ব্যতীত। ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে উসমানের হত্যার পর আলী ক্ষমতায় আসেন, কিন্তু তার শাসনকাল ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অবশেষে আলী ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে আততায়ীর হাতে নিহত হন এবং তার পুত্র ও নবীর দৌহিত্র হোসেন ক্ষমতারোহন করেন। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের নেতা হয়ে উঠা মোয়াবিয়া তাকে অস্বীকার করেন। মোয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তার পুত্র ইয়াজিদ ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেন। তৎকালীন ইরাকিরা আলীর দ্বিতীয় পুত্র হুসেনকে সমর্থন করেন। হুসেন ইরাকের নগরী কুফায় গমন করেন এবং খিলাফতের দাবিতে রাজধানী দামাস্কাস অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। পথে কারবালা নামক স্থানে তিনি ইয়াজিদ বাহিনীর হামলার শিকার হন। ইয়াজিদ বাহিনী হুসেনের পরিবারসহ শিশুদের খাবার পানি সরবরাহ করতে অস্বীকার করেন এবং তাদেরকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। নবী মোহাম্মদের দৌহিত্র হুসেনের শিরচ্ছেদ করা হয় এবং তার বোন জয়নাবকে ইয়াজিদের দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। শিয়ারা এই ঘটনাকে তাদের ইতিহাসের উৎস মনে করে। তারা আলী, হুসেন এবং নবী পরিবারের যারা নিহত হয়েছেন তাদেরকে জীবন্ত প্রতীক হিসেবে স্মরণ করে। এখান থেকেই তারা একটি গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়। তাদের চিন্তায় থেকে যায় অত্যাচার, করুণ ঘটনা এবং শহীদ হওয়ার কাহিনী। সুন্নী ইসলামে আইন বিষয়ক চারটি তরিকা রয়েছে — হানাফি, সাফি, মালিকি এবং হানবালি। অন্য একটি উঠে আসা গোষ্ঠী হলো ওয়াহাবি গোষ্ঠী। এই ওয়াহাবিরাই আজকের সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাশীল। ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা অষ্টাদশ শতাব্দীর দার্শনিক ও ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ আবদ আল ওয়াহাব (১৭০৩–১৭৯২)। তিনি মূলত হানবালি মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন। ওয়াহাব আরব প্রধান ইবনে সৌদের সঙ্গে হাত মেলান এবং তারা দু’জনে মিলে আরব উপদ্বীপ দখল করেন। পরে সৌদের পরিবার আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা করেন এবং রাজ্যের ইসলাম চর্চা শুরু হয় ওয়াহাবি মতবাদ অনুসারে। তারা জামাতে উপস্থিত হওয়াকে বাধ্যতামূলক করে। ওয়াহাবিরা শিয়াদের সহ্য করতে পারেনি। ১৮০২ সালে আধুনিক ইরাকের কারবালা তারা ধ্বংস করে এবং যত শিয়া পুরুষ, নারী ও শিশু পাওয়া যায় তাদের হত্যা করে। শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে কারবালা একটি পবিত্র শহর। ওয়াহাবি মতবাদের অনুসারীরা একটি কট্টর ও উগ্র সম্প্রদায়। তারা মুসলমানদের কিছু সম্প্রদায়কে স্বধর্মত্যাগী মনে করে এবং শিয়াদের হত্যা করা তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মনে করে। এই কারণে ইসলামের প্রাণকেন্দ্র রক্তাক্ত হয়েছে এবং গৃহযুদ্ধ বেঁধেছে বারবার। অধিকাংশ সুন্নী মনে করে, বিরোধীতার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ওয়াহাবিদের চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের সহিংসতা, যা পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

Wednesday, 4 March 2026

পারমাণবিক বোমা অর্জনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভাগ্য এত বেশী সহায়ক ছিল যা অন্যকোন দেশের ক্ষেত্রে ন্যুনতম ছিল না। পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার স্বপ্ন বুনন শুরু হয় ১৯৭০ এর দশকে: জুলফিকার আলী ভুট্টোর উদ্যোগে এবং এই প্রোগ্রামের ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি, ভুট্টো মুলতানে একটা গোপন মিটিংয়ে পাকিস্তানের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের ডেকে নেন এবং নিউক্লিয়ার ওয়েপনস প্রোগ্রাম শুরু করার নির্দেশ দেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিন্তা করছিলেন যে নিউক্লিয়ার শক্তি অর্জনের। ভুট্টোর বিখ্যাত ডায়লগ"আমরা ঘাস খাবো, এমনকি ক্ষুধার্ত থাকবো, কিন্তু নিজেদের নিউক্লিয়ার বোমা বানাবো। আমাদের অন্য কোনো চয়েস নেই।" এই মিটিংয়ে ভুট্টো পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন (PAEC) চেয়ারম্যান মুনির আহমেদ খানকে দায়িত্ব দেন, ১৯৭৬ সালের মধ্যে সম্ভাব্য সকল এস্যাইনমেন্ট শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করেন । ড. আব্দুল কাদির খান যাকে বলা হয় "ফাদার অফ পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বোম"। ১৯৭০এর দশকে নেদারল্যান্ডসের ইউরোনকো কোম্পানিতে কাজ করতে গিয়ে খান গোপনে সেন্ট্রিফিউজ টেকনোলজি আয়ত্ত্ব করেন, যা ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্টের মূল চাবিকাঠি। এই টেকনোলজি নিয়ে ফিরে এসে খান ১৯৭৬ সালে কাহুটা রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ (KRL) স্থাপন করেন যা রাওয়ালপিন্ডির কাছে একটা দুর্গম জায়গা, ভারতের সীমান্তের খুব কাছে। এখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হতো, যা বোম তৈরির মূল উপাদান। কিন্তু এই লোকেশনটা ছিল ভয়ংকর রিস্কি কারণ ভারতীয় এয়ারফোর্সের নাগালের মধ্যে!কাহুটা ছিল পাকিস্তানের অ্যাকিলিস হিল। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW কীভাবে এই গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কথা জানতে পারলো? ১৯৭০ এর শেষভাগে, বিশেষ করে ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে, RAW পাকিস্তানের পশ্চিম ইউরোপ থেকে গোপন নিউক্লিয়ার ইকুইপমেন্ট কেনা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করে যেমন প্লুটোনিয়াম টেকনোলজির জন্য ১১ মিলিয়ন ডলার খরচ। AQ খানের নেদারল্যান্ডস থেকে সেন্ট্রিফিউজ ডিজাইন হাতানোর খবর ১৯৭৯ সালে জার্মান ব্রডকাস্টার ZDFএর ডকুমেন্টারিতে প্রকাশ হয়, যা RAW কে আরও সতর্ক করে। এছাড়া,১৯৭৮ সালে ফরাসি কূটনীতিকরা কাহুটার কনস্ট্রাকশন সাইটের ফটো তুলে ইউএস এবং ভার*তীয় গোয়েন্দাদের সাথে শেয়ার করেন, যা সন্দেহ কে নিশ্চিত করে। RAW গোপনে ঢুকে পড়ে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয় যেমন কাহুটা, ইসলামাবাদ এবং সিহালাকে "সেন্ট্রিফিউজ ট্রায়াঙ্গল" হিসেবে চিহ্নিত করে। আরেকটি কাহিনি আছে। RAW পাকিস্তানের টপ সাইন্টিস্টদের দীর্ঘদিন ধরে নজরে রাখা শুরু করে। কাহুটার বিষয় নজরে আসলে তারা এখানে জোর নজরদারি চালায়। নিউক্লিয়ার সাইন্টিস্টরা যেখানে চুল কাটাতে যেতো সেখানকার সেলুন থেকে তাদের চুল সংগ্রহ করে। পরে ল্যাবে তাদের চুলে অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তা দেখে তাদের এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে পাকিস্তান পারমাণবিক বোমা অর্জনের চেষ্টা করছে। ভার*ত মিলিটারি অ্যাটাকের প্ল্যান তৈরি করে । কিন্তু এখানে আসে প্রথম বড় টুইস্ট ভা*রতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই! ১৯৭৯ সালে দেশাই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হককে ফোন করে RAW এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানিয়ে দেন। পাকিস্তানী সেনারা তড়িঘড়ি অভিযান চালিয়ে RAW এজেন্টদের ধরে ফেলে। দেশাইয়ের এই "বিশ্বাসঘাতকতা" (কেউ বলে শান্তির জন্য, কেউ বলে ব্যক্তিগত কারণে) পাকিস্তানের প্রোগ্রামকে বাঁচিয়ে দেয়। এরপর দেশাই ইস*রায়েলে*র ১৯৭৭ সালের একটা প্রপোজালও রিজেক্ট করেন, যেখানে ইস*রায়েল কাহুটা অ্যাটাকের জন্য ভা*রতের সাথে জয়েন্ট অপারেশন চায়।বলা হয়ে থাকে মোররাজি দক্ষিণ এশিয়ায় উদারপন্থার কারণে সামরিক সংঘাত থেকে এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নেন। ভুট্টোর লিডারশিপে এই প্রোজেক্ট ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চলে, পরে জিয়াউল হকের মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফ*গানি*স্তান আক্রমণ করে। এটা পাকিস্তানের জন্য গোল্ডেন অপরচুনিটি! আমেরিকা সোভিয়েতকে হারাতে চায়, আর পাকিস্তানী আর্মি হয়ে ওঠে তাদের প্রধান পার্টনার। বিনিময়ে? ৪০টা F-16 ফাইটার জেট! এই জেটগুলো কাহুটাকে প্রটেক্ট করার জন্য পারফেক্ট। ভার*তের যেকোনো অ্যাটাক রুখে দিতে পারে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক বলেছিলেন, "আমরা ঘাস খেয়ে থাকব, কিন্তু বোম বানাবো!" এই F-16 প্যাকেজটা ছিল তাদের শিল্ড। আমেরিকা জানতো পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম, কিন্তু আফ*গান যুদ্ধের জন্য চোখ বুজে রাখে। পরবর্তীতে, ১৯৯০ সালে প্রেসলার অ্যামেন্ডমেন্ট দিয়ে আমেরিকা পাকিস্তানকে সামরিক সাহায্য বন্ধ করে, কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ভাগ্যের খেলা, তাই না? ইস*রায়ে*লের প্রধানমন্ত্রী মেনাচেম বেগিন ১৯৭৯ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে লেটার লেখেন, পাকিস্তানের "এটম বম" কে "মর্টাল ডেঞ্জার" বলে সতর্ক করেন। বেগিন ফ্রান্স এবং ওয়েস্ট জার্মানির লিডারদেরও একই লেটার পাঠান। কিন্তু ডিপ্লোম্যাসি না চলায় ই*সরা*য়েল অ্যাকশন নেয়। ১৯৭৯-১৯৮১ সালে মো*সাদ AQ খানের ইউরোপীয় সাপ্লায়ারদের উপর বোম অ্যাটাকস চালায়, যেমন ফ্রান্সে একটা কোম্পানির অফিস ধ্বংস। এমনকি AQ খানকে অ্যাসাসিনেট করার চেষ্টা করে বিষ দিয়ে বা বোম দিয়ে, কিন্তু খান বেঁচে যান!১৯৮১ সালে ইস*রায়েলী এয়ারফোর্স ইরাকের ওসিরাক নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরে অ্যাটাক করে, পুরোটা ধ্বংস করে দেয় কোনো লস বা বাধা ছাড়াই! এটা থেকে অনুপ্রাণিত হয় ভার*ত। কেন? কারণ ইস*রায়েলে*র ভয় ছিল "ইসলামি দেশের হাতে এটম বোম" এবং তা যদি যদি লিবিয়া বা অন্য আরব দেশগুলোর হাতে পড়ে, তাহলে ইস*রায়ে*লের অস্তিত্ব বিপন্ন। ১৯৭৯-১৯৮৩ সালে ইস*রা*য়েল আর ভা*রত জয়েন্ট প্ল্যান করে: ইস*রা*য়েলী F-16 এবং F-15 জেটগুলো ভা*রতের জামনগর এয়ারবেস থেকে উড়বে, উধমপুরে রিফুয়েল করবে, আর কাহুটায় বোমা ফেলবে। ভার*তীয় জাগুয়ার জেটগুলো সাপোর্ট দেবে। ভা*রতের মিলিটারি অফিসাররা ইস*রা*য়েল গিয়ে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইকুইপমেন্ট কেনে। ইন্দিরা গান্ধী দুবার অ্যাপ্রুভ করেন কিন্তু আমেরিকার চাপে ব্যাক আউট করেন! আমেরিকা বলে, "যদি অ্যাটাক করো, আমরা পাকিস্তানের সাইড নেবো।" CIA পাকিস্তানকে টিপ অফ দেয়, আর প্ল্যান ফেল হয়। ইন্দিরা বলেছিলেন, "আমরা চাই না যুদ্ধ, কিন্তু প্রস্তুত আছি।" কিন্তু শেষমেশ পিছু হটেন। পরবর্তীতে, ১৯৮৭ সালে ভার*তের আর্মি চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল কৃষ্ণাস্বামী সুন্দরজি "অপারেশন ব্রাসট্যাকস" দিয়ে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করেন, যাতে কাহুটা অ্যাটাক করা যায় কিন্তু আবার আমেরিকার চাপে থেমে যায়। ১৯৯৮ এর বিজয় এবং লং-টার্ম ইফেক্টসইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর (১৯৮৪) ভার*তের অন্য সরকারগুলো আর এই পথে যায়নি। রাজীব গান্ধীর সময়েও চেষ্টা হয়, কিন্তু আমেরিকা আর পাকিস্তানের F-16-এর ভয়ে থেমে যায়। অবশেষে, ১৯৯৮ সালে পাকিস্তান নিউক্লিয়ার টেস্ট করে চাগাই-১! বিশ্ব অবাক, কিন্তু পাকিস্তানের স্বপ্ন পূরণ হয়। এরপর ১৯৯১ সালে ভা*রত-পাকিস্তান নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটিস অ্যাটাক না করার অ্যাগ্রিমেন্ট সাইন করে। এটা শুধু টেকনোলজির জয় নয়, ডিপ্লোম্যাসি, স্পাই গেম, অ্যাসাসিনেশন অ্যাটেম্পটস আর ভাগ্যের খেলা।রাহাত হাকিমি।

আওয়ামী ঘরানার কিছু মিডিয়া যে পরিমাণ দুর্নীতির গল্প বানিয়েছে

গত এক মাস ধরে তিনজন মানুষকে টার্গেট করে আওয়ামী ঘরানার কিছু মিডিয়া যে পরিমাণ দুর্নীতির গল্প বানিয়েছে, সেগুলো পড়লে রাগের চেয়ে বরং হাসিই বেশি পায়। “ড. মুহাম্মদ ইউনূস”আহসান এইচ মনসুর"আসিফ মাহমুদ বসুন্ধরা গ্রুপ–ঘনিষ্ঠ একটি মিডিয়ায় বলা হলো, আসিফ মাহমুদ নাকি ১৬ মাসে ১০ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতি করেছে। একটু হিসাব করলেই বোঝা যায়—এই দাবি মানতে হলে দিনে প্রায় ২০ লাখ ডলার করে দুর্নীতি করতে হয়। বাস্তবতা বাদ দিলাম, গল্প হিসেবেও কি এটা সম্ভব? একইভাবে বলা হলো, ড. ইউনূস নাকি ১১ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন। যে মানুষ বেতন নেন না, প্রতিষ্ঠানের লাভ নিজের পকেটে তোলেন না, ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, অথচ ৩০ মিনিটের বক্তৃতায় লাখ ডলার আয় করতে পারেন—তাঁকে নাকি দুর্নীতি করতে হবে! এই পর্যায়ের গল্প লিখেও কেউ যদি সাংবাদিকতা দাবি করে, সেটাই আসল ট্র্যাজেডি। এবার আসল কাহিনীটা। ৫ আগস্টের পর আসিফ মাহমুদের বাসায় বড় বড় কোম্পানির “বোয়াল মাছ” হাজির হয়েছিল—সব ক্লিয়ার করে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে। অর্থাৎ রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা। ছাত্র উপদেষ্টাদের তখন সরকারের ভেতরে বাস্তব প্রভাব ছিল। কিন্তু ওই সব টাকার প্রস্তাব আটকানো হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে ড. ইউনূস ও আহসান এইচ মনসুরের সমর্থনও ছিল—এ কথা অজানা নয়। খেয়াল করলে দেখবেন, পুরো ইন্টেরিম সময়জুড়ে দেশে বড় কোনো ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। বরং কোটি কোটি টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। অনেক লোভ, বড় অঙ্কের অফার দিয়েও যখন এই তিনজনকে কেনা যায়নি, তখনই শুরু হয়েছে পরিকল্পিত গল্প লেখা। সমস্যা হলো—এই ধরনের মিডিয়া নাটক মানুষ আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে।তাই এসব কেউ খায়নি। আজ তো আসিফ মাহমুদ নিজে এবং পুরো পরিবারের ব্যাংক স্টেটমেন্ট সামনে এনেছেন। এখন প্রশ্ন একটাই—এই মিডিয়াগুলো কি ক্ষমা চাইবে? সম্ভবত না। অভিনন্দন ড. ইউনূস। অভিনন্দন আহসান এইচ মনসুর। অভিনন্দন আসিফ মাহমুদ। আপনারা কতটুকু করতে পেরেছেন—সে হিসাব ইতিহাস করবে।কিন্তু এক মাস ধরে যেভাবে মাফিয়ারা আপনাদের নাম ধরে কান্নাকাটি করছে, সেটাই প্রমাণ করে—আপনারা মাথা নত করেননি। এটাই প্রমাণ করে, গত ১৬ মাসে কারা সত্যিকারের পেইনে ছিল। #Shahriar #BDMediaMafia #dryounus Sharier

Friday, 27 February 2026

বিএনপি কেন বিচার করতে চাচ্ছে?

বিএনপি ৭৫ অভ্যুত্থানের বেনিফিট নিয়েছে কিন্তু বিপ্লবীদের দেশছাড়া করেছিল। সেই সিলসিলার ধারাবাহিকতায় এখন তারা ২৪শের গণঅভ্যুথানকারীদের বিচার করতে চায়। যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুথানের বেনিফিট ইতোমধ্যে তারা ঘরে তুলেছে। একটা কথা বলে রাখি- জুলাই গণঅভ্যুথানে পুলিশ ছিল খুনি লীগের পক্ষে। সুতরাং তারা ছাত্র-জনতা কে যেখানে যেভাবে সম্ভব খুন করতেছিল। একটা বিপ্লব বা অভ্যুথানকালে শত্রুপক্ষের কোন সোলজার খুন হলে বিচার হয় না। সেটাই আন্তর্জাতিক প্রাকটিস। তাহলে বিএনপি কেন বিচার করতে চাচ্ছে? কারণ BNP ভয় পাচ্ছে যদি জুলাই বিপ্লবীরা আবার রাস্তায় নামে। যেহেতু BNP চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী করতেই থাকবে আগামী পাঁচ বছর। অতএব, জুলাই যোদ্ধাদের বিচারের ভয় দেখিয়ে বা কয়েকটা টা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়ে, বাকিদের কন্ট্রোলে রাখা। যাতে ছাত্র-জনতা আগামীতে মাঠে না নামে। মনে হয় না খুব একটা কাজ হবে। তবে গাদ্দারির ১০০% ফল পাবে। খুব দ্রুতই পাবে । ইনশা আল্লাহ।

Thursday, 26 February 2026

বিএনপি টিকতে পারবে কি? সামনের চ্যালেঞ্জগুলো কি কি!!

১৯৭৩ সালে আওয়ামিলীগ ২৯৩ আসন পাইছিলো! দুই বছর যেতে না যেতেই শেখ মুজিব বাকশাল ঘোষণা করলো! মানে "একদলীয় শাসন ব্যবস্থা"! কিন্তু ২ বছরের ভিতরেই চান্দুর পুরো পরিবারসহ নাই করে দিছে। *১৯৮৬ সালে ১৫১ টা আসনে জয়ী হইছিলো জাতীয় পার্টি কিন্ত জাতীয় পার্টির এরশাদ কাকু টিকলো মাত্র ১৭ মাস। কারণ তখন বিএনপি নির্বাচন বয়কট করছিলো! *১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ২৭৮ আসনে জিতছে বিএনপি কিন্তু টিকতে পারছে মাত্র ১২ দিন। কারণ আওয়ামিলীগ, জামাত নির্বাচন বয়কট করছিলো। *২০২৪ সালে আওয়ামিলীগ ২২৩টি আসন পাইলো মাত্র ৮ মাস পর প্রজম্ম চুদলিং*পং করে দিলো। এবার ২১২ টা আসনে বিএনপি জয়ী হইলো! সরকার গঠন করলো! প্রশ্ন হলো ,সামনে বিএনপি টিকতে পারবে কি? সামনের চ্যালেঞ্জগুলো কি কি!! ১,এবারের নির্বাচন পুরোপুরি লীগকে মাইনাস করে হইছে! আওয়ামী লীগের ভাষ্যমতে "গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণ করে নির্বাচন হয় নাই কারণ বড় একটা দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই। সংবিধান অনুযায়ীও নির্বাচন হয়নি কারণ ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়ার কথা। ২,জামাত -এনসিপির অভিযোগ," ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং" হইছে! মেবি দেশকে শান্ত রাখতে সহজেই সবকিছু মেনে নিচ্ছে! ৩,সবচেয়ে বড় আপত্তির জায়গা হলো "গণভোট নিয়া নতুন নাটক" চলছে! মানে শপথ না নিয়ে গণভোটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইছে বিএনপি! তারমানে পুরো দেশের মানুষের মধ্যে অলরেডি ক্ষোভ তৈরি হয়ে গেছে। ৪,আজকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দিলো ,এমন একজন ব্যক্তিরে যে ব্যক্তি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ,শুনলাম ঋণখেলাপীর সাথেও নাকি জড়িত। এখানেই শেষ না! আজকে বিএনপির বিক্ষোভের মুখে রানিং গভর্নরের অফিস ছাড়তে হইছে ,মানে উনার সাথে মব করা হইছে! এমন একটা যোগ্য লোকের সাথে যিনি ১৭ মাস চেষ্টা করে লুট হওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগলে রাখছেন,দেশের রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন থেকে ৩২ বিলিয়নে নিয়েছেন। লীগের ব্যাংক ডাকাত, লুটেরাজ একটারেও ছাড় দেয়নি! বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সেরা গভর্নর! এই ঘটনা দেশের প্রত্যেকটা বিবেকবান সচেতন মানুষের মধ্যে দাগ কাটছে! ৫,কয়দিন আগে চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ভাইকে অপসারণ করে বিএনপির এক লোকেরে বসাইছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চিত হইছে, জুলাই হত্যাকান্ডের তদন্ত ও বিচার কাজ স্বাভাবিক চলবে কিনা জনমনে সন্দেহও তৈরি হইছে। ৬,কয়দিন আগে বিএনপির সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী বললো ,"সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা!" মানে চাঁন্দাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করলো! পুরো দেশে একটা ক্যাচাল লেগে গেলো! অলরেডি জনরোষ তৈরি হইলো। ৭,মেবি ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি মন্ত্রী বললো,"আজকের জেন-জি যদি ইনকিলাব বলে, তবে আমার রক্তক্ষরণ হয়। বাংলাকে ধারণ করতে হলে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' চলবে না"। তারপর পুরো তরুণ প্রজম্ম তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠলো। কারণ এই স্লোগান দিয়েই হাসিনার পতন হইছে ,বিএনপির লোকেরা মুক্তি পাইছে,ভদ্রলোক এখন মন্ত্রী হইছে। ৮,দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামিলীগের লোকদের অফিস খোলে দেয়া হচ্ছে। ধরেন ১-২ বছরের ভিতরে তারা দেশে ফিরলো! আপনার কি মনে হয় তারা বিএনপি সরকারকে মেনে নিবে? জীবনেও না! বরং সরকার বিরোধী কোন আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা থাকবে লীগের কারণ তারা অলরেডি নির্বাচন বয়কট করছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো ,জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার লাশের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসলো! যারা দেশে পরিবর্তন চায়, যারা সংস্কার আর বিচার চায় তাদের প্রত্যাশাকে বাদ দিয়া বিএনপি আগামী ৫ বছর ক্ষমতায় টিকতে পারবে কি? জামাত,এনসিপি আর লীগের চুপ থাকার মানে কিন্তু নীরবতা না! খুব সম্ভবত তারা বিএনপিকে তাদের ভুল শোধরানোর জন্য সময় দিতে চাইছে! কারণ ঈদের পর কঠোর আন্দোলন এসব বুলি তারা দিবে না, মেবি ঝোপ বুঝে কোপ মারার ধান্দায় বিক্ষুব্ধ জনগনরে সাথে নিয়া বসে আছে। তিক্ত হলেও সত্য, এই জেনারেশন দেশে পরিবর্তন চাই! পুরোনো ধারার রাজনীতি, লীগ স্টাইলের রাজনীতি,স্বজনপ্রীতি ,দুর্নীতি, স্বৈরাচারী আচরণ, মামলা বানিজ্য ,বিচারহীনতার সংস্কৃতি, বাকস্বাধীনতা হরণ, জঙ্গি নাটক সাজানো, সন্ত্রাসী ,চান্দাবাজি ,ধর্ষণ ,বিদেশীদের গোলামী ,পুলিশ দিয়া নতুন নতুন স্ক্রিপ্ট সাজানো, প্রশাসন দিয়া ভয়ভীতি দেখানো,গুম -খুন ,নতুন আয়নাঘর ,ভিন্নমতকে ধমন পীড়ন ,জাতির সাথে বৈষম্য আর দেখতে চাই না! বাস্তাপচা রাজনীতি কেউ দেখতে চাইছে না! আমরা চাই, বিএনপি টিকে থাকুক। তারা জনগণের সমর্থন আর ভালোবাসা নিয়া টিকে থাকুক কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা আর ভাল্লাগে না! আর হ্যাঁ প্রজম্মের প্রত্যাশাকে বাদ দিয়া বাংলাদেশে রাজনীতি করা প্রায় অসম্ভব কারণ এটা মিডিয়ার যুগ! এ প্রজম্ম রাজনীতি নিয়া বহু সচেতন! তারা এতোটাই সচেতন, জীবন যৌবন ,ক্যারিয়ার,প্রেম,ভালোবাসা,নাটক,সিনেমা,কৌতুক ,জোকস ,ইনজয় সব ভুইলা গেছে। দেশপ্রেমের নেশায় মেক্সিমাম তরুণ হাবুডুবু খাচ্ছে! প্রজম্ম এতোটাই সাহসী ,তারা দেশের স্বার্থে , জনগণের স্বার্থে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতে বিন্দুমাত্র পরোয়া করে না! বুঝলে বুঝ পাতা ,না বুঝলে তেজ পাতা!!!#

আওয়ামীলীগ কখনও প্রতিশোধ নিতে ভুল করে না।

শুধু মনে রাখবেন, আওয়ামীলীগ কখনও প্রতিরোধ নিতে ভুল করে না।তারা হিসেব নেয় করায় গন্ডায়। সয়ং বেগম খালেদা জিয়াকে ও জেল খাটতে হয়েছে। আর মিথ্যা মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাঁ*সি দিয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু দুজনেই আওয়ামীলীগের আমলে ফাঁ*সির অপেক্ষায় কারাগারে ছিলেন। নাসিরুদ্দিন পিন্টু ভাইকে তো কারাগারেই হ*ত্যা করা হয়েছে। আর বছরের পর বছর জেল খাটতে হয়েছে দলের মহাসচিব থেকে শুরু করে থার্ড লেয়ারের প্রত্যেক নেতাকে। আরেকটু ইতিহাসের পেছনের পাতায় যাই... শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের একজন কর্মী মৃত্যুর পর মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় বিএনপির ৪ জন নেতাকে মৃত্যুদন্ড আর ১ জন কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলো শেখ হাসিনার আদালত। আর ২৫ বছর আগে পাবনায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার জন্য বিএনপির নয় নেতাকে ফাঁ*সি দিয়েছিলো আওয়ামীলীগ সরকার। (বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলায় কয়জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত) আরও ইতিহাস শুনেন.... জেলহাজতে সাত বছর আগে মারা যাওয়া বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মাহবুবকে তিন বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলো আদালত। আবার দুই বছর আগে মারা গেছেন এমন এক নেতাকেও পৃথক মামলায় দেওয়া হয়েছিলো চার বছরের কারাদণ্ড। শুধু কি তাই......শুধু বেগম খালেদা সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু তথ্য মনে করিয়ে দেই... বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছিলো।তারপর গুলশানের বাসার পানির লাইন,বিদ্যুৎ লাইন,টেলিফোন লাইন আর বালুর ট্রাকের ইতিহাস তো সেই দিনের ঘটনা। অসুস্থ অবস্থায়ও আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। আর তৃণমূল..... কি বলবো ভাই, শীতের সময় ধান খেতে ঘুমাতে হয়েছে। মাথার নিচে ইট দিয়ে। ছেলে বিএনপি করে এই অপরাধে বাবাকে হ*ত্যা করার ঘটনা মনে আছে? এগুলো কি ১৪০০ মানুষ *হত্যার পর গনঅভ্যুত্থানে বেগম খালেদা জিয়া বা বিএনপির পতনের পর বেগম জিয়ার মন্ত্রী সভার সব সদস্য পালিয়ে পাকিস্তান যাওয়ার পরের ঘটনা? না... তত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে স্বাভাবিক, গনতান্তিক নির্বাচনের পর এমন সব দোজখ শুরু করেছিলো আওয়ামীলীগ সরকার। আজ যারা আওয়ামীলীগের নেতা হ*ত্যা মামলার আসামী ইয়াবা বদি,আইভি রহমান,তালুকদার মোঃ ইউনুস,দবিরুল রহমান এমপিরা সহ,ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার জামিন দিয়ে মুক্ত করে দিয়েছেন। লীগের, তাদের সকল নেতাকর্মীদের সব কিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, জেলগেট থেকে ফুল দিয়ে বরণ করছেন, হ*ত্যা মামলার আসামিকে খালাস পাইয়ে দিচ্ছেন। আওয়ামীলীগ আবার ফিরলে হয়ত আতাতকারী,ইতিহাসের মীর জাফর আলী খান নামক সিনিয়র/ জুনিয়র কিছু নেতাদের তেমন ক্ষতি হবে না। তবে তৃণমূলের নেতাদের উপর ভয়ানক দুর্যোগ যে নেমে আসবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।। সেদিন ২০০৯-২০২৪ সালের অতীতের মত আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষে কেউ দাঁড়াবে না। না কোন সুশীল সমাজ, না কোন ফেসবুক এ্যাক্টিভিষ্ট, না কোন মিডিয়া, না কোন সাহিত্যক, কিংবা প্রশাসনের কেউ। তুষার আবদুল্লাহর মত কোন সফট দলীয় নেতাকেও পাব না। সব কিছুর ভার বহন করতে হবে, শহীদ ছাত্রদল নেতা জনি,চট্টগ্রামের নুরুল আলম নুরুর মত আমাদের পরিবারকে।