Khan Thoughts
Thursday, 7 May 2026
তারেক রহমানকে চোখ বেঁধে ঝুলিয়ে রেখে নির্যাতন
ব্রেকিং নিউজ।
-------------
মানবজমিন এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। হুবহু তুলে ধরা হয়েছে।
তারেক রহমান। বিএনপি’র চেয়ারম্যান। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বর্তমানে রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিলেতে ১৭ বছর কেমন ছিলেন? কীভাবে ছিলেন? কেনইবা তাকে বিলেতে যেতে হলো- তা নিয়ে অন্তহীন কৌতূহল। কখন, কীভাবে ও কারা তাকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল তা দীর্ঘ সময় ধরে অজানাই ছিল।
সামপ্রতিক এক অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১/১১-এর সময় ২০০৭ সনের ৭ই মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে। কারা গ্রেপ্তার করেছিলেন, কীভাবে করেছিলেন তার একটি বয়ান রয়েছে প্রাপ্ত অনুসন্ধানে।
এতে জানা যায়, ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে কর্নেল (অব.) ইমরান মইনুল রোডের বাসভবন থেকে তাকে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই গ্রেপ্তার করে ডিজিএফআই-এর জয়েন্ট
ইন্টারোগেশন সেলে নিয়ে যান। জেনারেল মইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিনের উপস্থিতিতে আর্মি হেড কোয়ার্টারে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মেজর ইমরানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, একজন রানার ও একজন ড্রাইভার নিয়ে তিনি মইনুল হোসেন রোডস্থ খালেদা জিয়ার বাসভবনে উপস্থিত হন। এ সময় বাসভবনের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া উপস্থিতি ছিল। মেজর ইমরান বাসভবনের মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করে বাড়ির ভেতরে নিজ গাড়িতেই অবস্থান নেন।
আনুমানিক তিন ঘণ্টা পর তারেক রহমান বাসভবন থেকে বের হলে মেজর ইমরান তাকে নিয়ে গাড়িতে উঠেন। নিয়ে যান নির্ধারিত গন্তব্যে। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর মেজর ইমরানের সঙ্গে থাকা রানার তারেক রহমানের মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন। এ সময় তারেক রহমান জানালা খোলার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মেজর ইমরান তা নাকচ করে দেন।
এরপর সিটিআইবি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তারেক রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। সিটিআইবি’র তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্নেল জিএস লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার নির্দেশেই অন্য কর্মকর্তারা বিশ্রী ভাষায় তারেক রহমানকে গালিগালাজ করেন। জেআইসিতেই তারেক রহমানকে তিন-চারদিন রাখা হয়। সেখানে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চোখ বেঁধে রাখা হয়। হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলিয়ে রেখে নির্যাতন করা হয়। দীর্ঘসময় একটানা তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। যা ছিল অমানবিক, বর্বরোচিত।
তারেক রহমানকে দুইবার জেআইসিতে আনা হয়। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে টানা কয়েকদিন জেআইসিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুর রব খান তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারের নির্দেশে তারেক রহমানের কাছ থেকে একটি জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। যে জবানবন্দিতে তারেক রহমান তার ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান বলে দাবি করা হয়।
এই সময় কারা কারা উপস্থিত ছিলেন সেই তথ্যও বেরিয়ে এসেছে সামপ্রতিক এক অনুসন্ধানে। চারজন পদস্থ সেনা কর্মকর্তা সারাক্ষণ উপস্থিত থেকে এই জবানবন্দি আদায় করেন। এর মধ্যে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জাহিদ হোসেন ও মেজর (অব.) মনির। নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানকে অনেকটা পঙ্গু করে ফেলা হয়।
স্বাভাবিকভাবেও তিনি হাঁটাচলা করতে পারতেন না। তার ওপর নির্যাতনের একটি কাহিনী অনুসন্ধানী রিপোর্টে সন্নিবেশিত রয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এ সম্পর্কে একটি জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে তারেক রহমানের নানি মারা যান। এ সময় তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। সে সময় জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রত্যক্ষ করেন, তারেক রহমান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। তখন তিনি জানার চেষ্টা করেন- কীভাবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
পারিবারিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পারেন ডিজিএফআই-এর অফিসাররা তার ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। এতে তিনি বিচলিত হয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের কাছে জানতে চান- কেন এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
জেনারেল মাসুদ তার জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে তার অনেক দূরত্ব তৈরি হয়। নির্যাতনের সময় তারেক রহমানকে কীভাবে রাখা হয়েছিল তার একটা বর্ণনা পাওয়া গেছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, জেনারেল (অব.) এটিএম আমিনের নির্দেশে এই নির্যাতন চালানো হয়। তার নির্দেশে তারেক রহমানকে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
ওয়ারেন্ট অফিসার ফজলু জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ব্রিগেডিয়ার আমিন তাদেরকে বলেছেন- পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঝুলন্তই থাকবে। এক পর্যায়ে সিলিং থেকে তিনি পড়ে যান এবং কোমরে প্রচণ্ড আঘাত পান। বছরের পর বছর তারেক রহমানকে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। এসব ঘটনায় সাত পদস্থ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে অনুসন্ধানে।
এই অফিসাররা হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন (তৎকালীন সিটিআইবি’র পরিচালক), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী (তৎকালীন সিটিআইবি’র পরিচালক), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্নেল জিএস সিটিআইবি), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছের চৌধুরী (তৎকালীন জেএসও-এক), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান (তৎকালীন জেআইসি অধিনায়ক সিটিআইবি), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. ফরিদ উদ্দিন (তৎকালীন জেএসও-১) এবং মেজর (অব.) মনির (তৎকালীন জেএসও-২, সিটিআইবি)।
জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেছেন, তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। জেনারেল মইন তাকে অন্যত্র পোস্টিং দিয়েছিলেন। পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারেক রহমান তার নিকটাত্মীয় বলে জেনারেল মইন তাকে দূরে রেখেছিলেন- এটাও দাবি করেছেন জেনারেল মাসুদ। তারেক রহমানের সঙ্গে জেনারেল মাসুদের কেন দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তারও বর্ণনা দিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদে। বলেছেন, অপারেশন ক্লিন হার্টকে কেন্দ্র করেই এই দূরত্ব তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর তারেক রহমানকে বলপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। এর আগে একটি অঙ্গীকারপত্র সই করিয়ে নেয়া হয়।
Sunday, 26 April 2026
পিনাকী দা’ নয়টি প্রশ্ন বা পয়েন্টের মাধ্যমে যে আলোচনাটি সামনে নিয়ে এসেছেন, তার কেন্দ্রীয় নির্যাস হলো: বাংলাদেশে বর্তমানে এমন কোনো রাজনৈতিক শক্তির অস্তিত্ব নেই, যারা একইসাথে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা, মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিরোধ, দরিদ্রবান্ধব অর্থনীতি, মুসলিম সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, এলিট-বিরোধী রাজনীতি এবং রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার—এই সবগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রকল্পে রূপ দিতে সক্ষম।
পিনাকী দা’ এই আলাপের মাধ্যমে আসলে বাংলাদেশের বহু মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা রাজনৈতিক ক্ষুধার ভাষাকেই ফুটিয়ে তুলেছেন। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। দাদার এই পয়েন্টগুলো গভীর আলোচনার দাবি রাখে, কারণ এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে ইনসাফভিত্তিক সার্বভৌম বাংলাদেশ এবং এক নতুন রাজনৈতিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তা।
পিনাকী দা’র পয়েন্টগুলোকে যদি আমরা বাংলাদেশের চলমান political landscape এ দেখি:
১. ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রশ্নে রাজনৈতিক অবস্থান: এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভাজন অত্যন্ত স্পষ্ট। আওয়ামী লীগসহ কথিত বামপন্থী কিছু দল আছে যাদের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বিরাট অংশ ‘ভারতীয় এসেট’ (asset) হিসেবে পরিচিত। তারেক রহমানের বিএনপি’র অবস্থাও প্রায় একই রকম; যদিও তাদের তৃণমূলের বড় একটি অংশ চরমভাবে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী, কিন্তু দলীয় অবস্থান এবং আওয়ামী অনুপ্রবেশের কারণে এই কণ্ঠস্বর এতটাই ক্ষীণ যে তা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। ভারত প্রশ্নে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব ও তৃণমূলের অবস্থান এক হলেও অভিযোগ আছে যে, সরাসরি আলোচনায় নেতৃত্ব তৃণমূলের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ হয়েছে। এনসিপি’র তৃণমূল ও নেতৃত্বের একটি অংশও ভারত প্রশ্নে জামায়াতের সমান্তরাল, তবে তাদের ভেতরের বাম ঘরানার লোকদের নিয়ে দলের ভেতর-বাইরে এক ধরনের অবিশ্বাস রয়েছে। জামায়াত ও এনসিপি’র শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ কেউ ভারতের কূটনৈতিক শক্তিকে ‘ওভার এস্টিমেট’ করেন এবং সরাসরি আলোচনায় একটি অসম (asymmetric) অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।
২. মার্কিন আগ্রাসনবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান: হ্যাঁ, এখানে সব দলের অবস্থান প্রায় অভিন্ন। দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান যাই হোক না কেন, প্রকাশ্যে মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার হিম্মত কারও নেই। বাম দলগুলোর অবস্থান মূলত লোকদেখানো; তারা স্থানীয় দূতাবাস থেকে মিছিল করার অনুমতি নিয়ে এসে রাস্তায় নামে—এটি স্রেফ ভাওতাবাজি।
৩. দরিদ্রবান্ধব রাষ্ট্র ও লুটেরা অর্থনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো: কার্যত এখানেও সবার অবস্থা প্রায় এক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াতের শক্তিশালী নৈতিক অবস্থান অস্বীকার করার উপায় নেই, কিন্তু পুঁজিবাদী ও এলিট শ্রেণীর বিরুদ্ধে তাদের কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক অবস্থান নেই, যা তাদের নিজস্ব নৈতিক অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক।
৪. তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইন্ডাস্ট্রি’: এটি বর্তমানে গ্লোবাল পারসপেক্টিভে ‘হলোকাস্ট ইন্ডাস্ট্রিজে’র মতো অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের দলীয় অবস্থানের সুরাহা তারা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে কখনোই করতে পারেনি, যদিও সেই সুযোগ এসেছিল। পক্ষান্তরে, ভারতীয় মদদপুষ্ট মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা জামায়াতকে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা অভিযোগে ক্রমাগত ব্যাকফুটে রাখার নীতি চর্চা করছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মিথ ও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগ ও ভারত নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য এই ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করেছে, আর তারেক রহমানের বিএনপি এখন সেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে। যদিও ‘তুমি কে আমি—রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগান দিয়ে ২৪-এর জুলাই বিপ্লব হয়েছিল, কিন্তু কায়েমি স্বার্থে বিএনপি এখন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ইন্ডাস্ট্রি’ ব্যবহার করে জুলাই বিপ্লব ও জামায়াতকে ব্যাকফুটে রাখতে পুরোপুরি ‘আওয়ামী প্লেবুক’ অনুসরণ করছে।
৫. মুসলিম কালচারের পক্ষে সরাসরি অবস্থান: আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দ্বৈরথে হিন্দু এবং সংখ্যালঘু ভোটগুলো বাংলাদেশে ‘কিং মেকার’ হিসেবে কাজ করে। উল্লেখ্য যে, বর্ণপ্রথা বিবেচনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই হিন্দুরা ‘নিচু বর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু ভারত আধিপত্য বিস্তারে তাদের ‘প্লেয়িং কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে, যার পূর্ণ ফায়দা নেয় আওয়ামী লীগ। ভারতীয় এসেট হিসেবে পরিচিত মিডিয়া ও বুদ্ধিবৃত্তিক গোষ্ঠী পশ্চিমা সমর্থনে বাংলাদেশের মুসলিম পরিচয়কে ‘ডিমোরালাইজ’ করার হীন কাজ করে যাচ্ছে।
৬. প্রো-ইন্ডিয়ান এলিট এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো: এটি জামায়াত ও এনসিপি’র চরম রাজনৈতিক দৈন্যতা। ‘কথিত প্রগতিশীল’ হওয়ার এক হীনম্মন্য প্রচেষ্টা এদের মধ্যে দৃশ্যমান। আওয়ামী লীগ ও তারেক রহমানের বিএনপি বরাবরই এই এলিটদের স্বার্থের সমান্তরাল অথবা তাদের দ্বারাই পরিচালিত। এনসিপি’র দুই-একজন বাদে সবারই এই এলিট ক্লাবে ঢোকার উগ্র বাসনা আছে। জামায়াত জানে এই এলিটরা তাদের জাত শত্রু, তবুও তাদের দাওয়াতে হাজির হতে জামায়াত নেতৃত্ব এক ধরনের পুলক অনুভব করে। ফলে মুক্তিযুদ্ধ ও এলিট এস্টাবলিশমেন্ট মোকাবিলায় জামায়াত বরাবরই ব্যাকফুটে।
৭. আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার অঙ্গীকার: এই অঙ্গীকার সবার খাতায় থাকলেও বাস্তবতা হলো ‘কিতাব আলীর গরু খাতায় থাকে, গোয়ালে নয়’। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াত বা এনসিপি একক ক্ষমতায় না যাওয়া পর্যন্ত তাদের নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন, তবে গত নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে জামায়াত যেভাবে সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছিল, সেই ক্রেডিট তারা পেতেই পারে।
৮. নাগরিক মর্যাদা ও বিশ্বমানের শিক্ষা: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অবস্থা এখানেও ‘কিতাব আলীর গরু’র মতোই। এনসিপি নতুন দল হিসেবে এখনো মন্তব্যের অবস্থানে নেই। তবে জামায়াত তাদের সাংগঠনিক কর্মপন্থায় গত কয়েক দশক ধরে এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করে আসছে।
৯. রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন: জামায়াত ও এনসিপি এটি সার্বিকভাবে চাইলেও আওয়ামী লীগ ও তারেক রহমানের বিএনপি এর ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।
ইনসাফভিত্তিক এবং এক নতুন রাজনৈতিক চুক্তির আলোকে যদি সার্বভৌম বাংলাদেশকে নির্মাণ করি তাহলে সেটা কেমন হতে পারে:
১. নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হবে নাগরিক মর্যাদা ও ইনসাফের। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ—ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ নির্বিশেষে—সমান মর্যাদার নাগরিক। অর্থাৎ, রাষ্ট্র জনগণের, কোনো শাসকের নয়।
২. সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি, কারো দালালি নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে স্পষ্টভাবে স্বাধীন ও দেশের স্বার্থনির্ভর। কোনো আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক শক্তির আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনসহ নিপীড়িত জনগণের পক্ষে অবস্থান এবং ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন—সবার সাথে সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু সেটা সমতার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, বন্ধুত্ব সবার সাথে, দাসত্ব কারো সাথে নয়।
৩. অর্থনীতিতে লুটপাটের অবসান, ন্যায্য বণ্টন। বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামো একটি এলিট-নির্ভর লুটপাট ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে—এটি ভাঙতে হবে। মূল লক্ষ্য হলো: দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের আয় বৃদ্ধি, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি। তাই যা করতে হবে সেটা হলো: ব্যাংক লুট ও খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ, সামাজিক নিরাপত্তা (পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা) সম্প্রসারণ। অর্থাৎ, অর্থনীতি মানুষের জন্য, কোনো এলিট গোষ্ঠীর জন্য নয়।
৪. সামাজিক ন্যায় ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন: রাষ্ট্র শুধু আইন রক্ষক না—মানুষের কল্যাণের দায়িত্বও বহন করবে। শিক্ষা হবে দক্ষতা, বিজ্ঞান ও নৈতিকতার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
৫. সাংস্কৃতিক অবস্থান হবে আত্মপরিচয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বাংলাদেশ একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ—এটি অস্বীকার নয়, বাস্তবতা। কিন্তু রাষ্ট্র হবে সকল নাগরিকের। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও শক্তিশালী পরিচয় থাকবে কিন্তু আধিপত্যবাদ নয়। অর্থাৎ, সংস্কৃতি আমাদের শক্তি, বিভাজনের হাতিয়ার নয়।
৬. গণতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কার: বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ—প্রতিষ্ঠানের পতন। তাই যা করতে হবে তা হলো—স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, সংসদের কার্যকর জবাবদিহিতা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের depoliticization. অর্থাৎ, ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে।
৭. এলিট আধিপত্যের অবসান: একটি ছোট এলিট গোষ্ঠী রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে—এটা ভাঙতে হবে। রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা, মিডিয়ার মালিকানা বৈচিত্র্য এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ (local government শক্তিশালী করা) করতে হবে। অর্থাৎ, ক্ষমতা তার উৎসে—জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
৮. জাতীয় মর্যাদা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: বাংলাদেশী নাগরিককে বিশ্বমানের করে তুলতে হবে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন (skills, প্রযুক্তি) এবং প্রবাসীদের সাথে জ্ঞান ও বিনিয়োগ সংযোগ স্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ, মানুষই দেশের আসল শক্তি।
৯. রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন—Reform, not chaos: ‘বিপ্লব’ মানে বিশৃঙ্খলা না—গভীর, পরিকল্পিত সংস্কার। সংবিধান পুনর্মূল্যায়ন করে checks & balances শক্তিশালী করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে আইনগত সুরক্ষা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ, পরিবর্তন হবে, কিন্তু দায়িত্বশীলভাবে।
সবশেষে, বাংলাদেশের সামনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—আমরা কেমন রাষ্ট্র চাই? এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি প্রাধান্য পায়, নাকি এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে নাগরিকের মর্যাদা, ইনসাফ ও সার্বভৌমত্ব কেন্দ্রস্থলে থাকে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলা।
আজ সময় এসেছে একটি নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরির—যেখানে দেশপ্রেম মানে অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানো; যেখানে সার্বভৌমত্ব মানে কেবল সীমানা রক্ষা নয়, বরং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা; এবং যেখানে রাষ্ট্রের শক্তি পরিমাপ করা হবে তার নাগরিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে।
এই নতুন পথ সহজ নয়। কিন্তু ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনই কঠিন ছিল। প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি সেই সাহস দেখাতে প্রস্তুত?
মইনুল হক
ডেট্রয়েট, মিশিগান।
Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য
Saturday, 18 April 2026
পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ
ইন্ডিয়ান বীর্য শুয়োরের শুক্রাণু দিয়া যাদের জন্ম হয়েছে তাদেরকে পড়ার অনুরোধ রইল। যাহারা দিনরাত ২৪ ঘন্টা শুধু রাজাকার স্বপ্নে দেখেন, মনে করেন পাঁচ লাখ মা-বোনেরা রাজাকার দ্বারা দর্শনের শিকার তারাও পরবেন।
ব্রিটিশ ২০০ বছর শাসন আমলে পূর্ব বাংলায় মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল "ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়। সেটিরও বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কলকাতার প্রভাবশালী মহল।
ব্রিটিশরা প্রায় ২০০ বছরে পূর্ব বাংলায় কোনো উন্নয়ন করেনি। যদি কিছু করার উদ্যোগও নেওয়া হতো, সেগুলোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত কলকাতার দাদা-বাবুরা। কলকাতাকে তারা ভারতের রাজধানী বানিয়েছিল।
বাংলাদেশের ইতিহাসে আমাদের শেখানো হয় যে পাকিস্তান ২৪ বছর আমাদের শোষণ করেছে। অথচ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন গুলো পাকিস্তান আমলেই হয়েছিল।
পাকিস্তান আমলে মোট ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
◾রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৩)
◾চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬)
◾জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০)
◾জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮)
◾পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ কৃষি বিঃ) (১৯৬১)
▶ পাকিস্তান আমলে মোট ৪ টি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
◾বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১৯৬২ সাল
◾রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ১৯৬৪ সাল
◾চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ১৯৬৮ সাল
◾খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১৯৬৯ সাল
উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে মোট ৫ টা, যার মধ্যে ৪ টাই পাকিস্তান আমলের। আর পরবর্তী ৫০ বছরে হয়েছে ১ টা।
▶পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার মোট ৮৭ টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে৷ যার মধ্যে রয়েছে
◾নটর ডেম কলেজ, ঢাকা (১৯৪৯)
◾সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ (১৯৪৯)
◾বাঙলা কলেজ (১৯৬২)
◾ভিকারুননিসা নুন স্কুল ও কলেজ
উল্লেখ্য বর্তমানে ঢাকা শহরে মোট ৩৯ টি কলেজ আছে, যার ভেতর ৮ টি তৈরি হয়েছে ইংরেজ আমলে, ২১ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান আমলে, আর মাত্র ১০ টি তৈরি হয়েছে স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে।
▶ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৮ টা সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে।
◾চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৫৭)
◾রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (১৯৫৮)
◾ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
◾সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
◾স্যার সলিমুলস্নাহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬৩)
◾স্নাতকোত্তর চিকিৎসা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বর্তমান নামঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) (১৯৬৬)
◾শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (১৯৬৮)
◾রংপুর মেডিকেল কলেজ (১৯৭০)
উল্লেখ্য ইংরেজ শাসন আমলের ২০০ বছরে মোট ১টি মেডিকেল তৈরি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ৷
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৯৪৭ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান আমলে এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।
▶পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ১৭ টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৯টি সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তান সরকার ২৪ বছরে করেছে ১৭ টি। আর বাংলাদেশ সরকার ৫০ বছরে করেছে ৩২টি৷
▶ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৪ টি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করে।
◾ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ(১৯৫৮)
◾মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ(১৯৬৩)
◾ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ( ১৯৬৩)
◾রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ (১৯৬৫)
উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ আছে ১২ টা এর ভেতর ৪ টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে।
▶ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমী, নৌ অফিসার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার গড়ে তোলার জন্য ১৯৬২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনী কর্তিক এই একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর নাম "বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (BMA)"
▶ এছাড়াও প্রতিষ্ঠা হয়েছে....
◾ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট’ (১৯৫০) যার বর্তমান নাম "বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)"।
◾ চট্টগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৯৬২ সালে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
◾এরকম আরো অনেক বিশেষায়িত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে। এছাড়া দেশ ব্যাপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কয়েক হাজার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাই স্কুল।
★অনেকেই অভিযোগ করেন পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে পুর্ব পাকিস্তান পিছিয়ে ছিলো, কারন পূর্ব পাকিস্তানে কম উন্নয়ন করা হয়েছে। লক্ষ করুন, ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মাত্র ১ টা, বিপরিতে পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১৮ টা। অর্থাৎ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির আগ থেকেই আমরা উচ্চ শিক্ষার দিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে ১৮ গুন পিছিয়ে ছিলাম আমরা!
১৯৪৭ সালের পরবর্তী ১০ বছরে পুর্ব পাকিস্তানে যদি ১০ টা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হতো আর পশ্চিম পাকিস্তানে যদি একটাও তৈরি করা না হতো, তবুও তো আমরা পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়েই থাকতাম। আসলে ব্রিটিশ আমল থেকেই আমরা পাকিস্তানের তুলনায় এত বেশি পিছিয়ে ছিলাম, যার ফলে এই অঞ্চল কখনোই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে উন্নয়নের দৌড়ে খাপ খাওয়াতে পারেনি।
★ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির আগে এই অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার ছিলো মাত্র ১২%। ১৯৬১ সালের আদমশুমারিতে স্বাক্ষরতার হার দাড়ায় ২৪.৭%। অর্থাৎ মাত্র ১৩ বছরে এই অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার দ্বীগুন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের আদমশুমারী না হওয়ায় পাকিস্তান আমলের প্রকৃত স্বাক্ষরতার হার জানা যায়নি।
▶শিল্প প্রতিষ্ঠান, মিল ও কল-কারখানা
◾ বাংলাদেশ সচিবালয় ( ১৯৭১ সালের পর এ সচিবালয়ের পুরাতন ৬ নং ভবনটি ভেঙ্গে ২০ তলা ভবন তৈরী করা হয়)
◾ পাকিস্তানের সেকেন্ড ক্যাপিটাল হিসাবে শেরেবাংলা নগর কে পরিকল্পিতভাবে তৈরী
◾ সংসদ ভবন
◾ বাইতুল মোকাররম মসজিদ
◾ বাংলা একাডেমি
◾ ইসলামিক একাডেমি (বর্তমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
◾ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, সিলেট বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
◾ কমলাপুর রেলস্টেশন (পূর্বতন রেলস্টেশন টি ছিলো গুলিস্তান-ফুলবারিয়ায়)
◾ মীরপুর চিড়িয়াখানা
◾ কুর্মিটোলা বিমানবন্দর (ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর)
◾ যমুনা সেতু (১৯৬৬ সনে সংসদে অনুমোদিত)
◾ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ( ১৯৬১ সালে এর পরিকল্পনা গ্রহন করে তখনকার পূর্বপাকিস্তানের অনেক কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষনে প্রেরণ করা হয়, যারা এখন ইরান ইরাকে কর্মরত। ১৯৭২ সালে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হয়)
◾ শাহজীবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
◾ আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
◾ কর্ণফুলী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
◾ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
◾ গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প
◾ রামপুরা টেলিভিশন ভবন
◾ ঢাকা স্টেডিয়াম
◾ ঢাকা যাদুঘর (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক ভবন)
◾ WAPDA এবং এর অধিনে শতশত বাধ ও সেচ প্রকল্প
◾ ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলশান, বনানী প্রভৃতি আবাসিক এলাকা গঠন ও নগরায়ন
◾ শত শত পাট ও কাপড়ের কল যা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।
◾ শিল্পায়নের জন্য গড়ে তোলা হয় East Pakistan Industrial Development Corporation (EPIDC)
◾ গাজীপুর সমরাস্ত্র কারখান
◾ গাজীপুর মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি
◾ মংলা সামুদ্রিক বন্দর ( চট্টগ্রাম বন্দরটি মুঘল আমলে তৈরী)
◾ঢাকার নিউমার্কেট সহ বিভাগীয় শহরে একটি করে নিউমার্কেট তৈরী
◾তেজগাঁও শিল্প এলাকা
◾হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প এলাকা
◾খালিশপুর শিল্প এলাকা।
◾আদমজী জুট মিলস (নারায়ণগঞ্জ): ১৯৫১
◾খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস: ১৯৫৯
◾চিটাগং ড্রাই ডক: ১৯৬০
◾ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৬৮
◾ঢাকা জুট মিলস লিমিটেড: ১৯৫০ এর দশক
◾ আমিন জুট মিলস লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৫৩
◾ খুলনা জুট মিলস: ১৯৫০ এর দশক
◾ ইস্পাহানী কটন মিলস: পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়।
◾ কাপ্তাই জল বিদ্যুত - ১৯৬২
◾ চন্দ্রঘোনা পেপার মিল - ১৯৫৩
◾ কর্ণফূলী রেয়ন মিল – ১৯৫৩
◾ প্রগতি ইন্ড্রাস্ট্রিজ – ১৯৫৩
◾বাংলাদেশে একটিমাত্র তেল শোধনাগার সেটিও পাকিস্তান করে দিয়েছে।
১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তান ঘাস খেয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেডসহ একটি পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে।
তাদের বিমান বাহিনীর আকাশ ছোঁয়া সাফল্যের কারণে দেশটি সৌদি আরবের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান বাহিনীর মধ্যে পাকিস্তান বিমান বাহিনী ১৪৩৪ টি যুদ্ধবিমান ও রনকৌশল নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে। যার মেরুদণ্ড হিসেবে আছে আমেরিকান এফ-১৬, জেএফ-১৭ থান্ডার এবং আধুনিক চীনা জে-১০সি।
তাদের কাছে আছে শাহীন-৩ (২,৭৫০ কিমি পর্যন্ত পাল্লার), গৌরী এবং গজনভীর মতো একাধিক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তাদের কাছে বাবর ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা পারমাণবিক এবং প্রচলিত উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং যা স্থল ও সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়।
তাদের সেনাবাহিনীর কাছে ২,৬০০টিরও বেশি প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্কের একটি বহর রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উন্নত খালিদ, ভিটি-৪ এবং টি-৮০ইউডি ট্যাঙ্ক।
দেশটি তার প্রতিরক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে গিয়েছে। চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগে নিজস্ব জঙ্গি বিমান বানিয়েছে। তাদের কাছে বুরাকের মতো উন্নত ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে এবং উইং লুং ড্রোনের জন্য চীনের সাথে সহযোগিতা করে।
তাদের কাছে আটটি সাবমেরিন রয়েছে, উপকূলরেখা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য নৌবহরে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট এবং দ্রুতগামী মিসাইল বোট রয়েছে।
এছাড়াও তাদের কাছে ৩,০০০টিরও বেশি কামান (টানা ও স্ব-চালিত উভয়ই) এবং একাধিক রকেট লঞ্চার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এমনকি পাকিস্তানের ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি পেয়েছে। শিক্ষার মানেও পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশটি বড় খেল দেখিয়েছে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে। তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি তে নিজেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে কূটনীতি ও সামরিক পার্সপেক্টিভে। যারা আমেরিকা এবং ইরানকে ও এক টেবিলে বসাতে পারছে।
আর ১৯৭১ সালে বিজয়ী বাংলাদেশের যুদ্ধ করে দাসত্বের সার্টিফিকেট নিয়েছে। তারা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দিয়ে পৃথিবীর প্রথম চেতনা বোমা বানিয়েছে। যা চীনের হাইড্রোজেন বোমার চেয়েও ভয়ংকর।
এই পর্যন্ত সংসদের মতো একটা স্থানে চেতনা বড় নাকি আধুনিকতা বড়! এই নিয়ে কয়েকশ অধিবেশন চলছে।আফসোস🙂
সংগৃহীত
#OMG #BreakingNews
Thursday, 16 April 2026
স্পিকার শিরিন শারমিনের 'সততা ও নির্লোভ' জীবন নানা গল্প
কয়েকদিন ধরে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিনের 'সততা ও নির্লোভ' জীবন নানা গল্প শুনছি। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ, তথা স্পিকার হওয়ার 'গল্প' তাহলে আজ বলি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও, শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ এবং রংপুর-৬ আসন থেকে ভোটে 'জেতেন'। তবে শিরিন শারমিন ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না। তিনি ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হয়ে প্রথমে প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে হয়ে যান স্পিকার।
২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদ শুরু হয়। এর পাঁচদিন আগে ২৪ জানুয়ারি নবম সংসদ বিলুপ্ত করা হয়। শিরিন শারমিন এর মাধ্যমে সাবেক এমপি হয়ে যান।
শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেন, শিরিন শারমিনকেই আবার স্পিকার বানাবেন। কিন্তু স্পিকার হতে গেলো তো এমপি হতেই হবে। এটাই সংবিধান। কিন্তু তিনি তো নির্বাচনই করেননি এমপি হবেন কী করে! আর সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হচ্ছে, সংসদের প্রথম দিনেই স্পিকার নির্বাচন হবে। তাই শিরিন শারমিনকে ২৯ জানুয়ারির আগেই এমপি হতেই হবে। যা অসম্ভব ছিল না। আর সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি হতে হলে আরও ৬০-৬৫ দিন অপেক্ষা করতে হতো। তাহলে আর স্পিকার হওয়া সম্ভব না।
কিন্তু শেখ হাসিনা 'যথারীতি' একটা নজিরবিহীন পথ বের করলেন। তিনি রংপুর-৬ আসন ছেড়ে দিলেন। আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হতে হবে। এবার যেমন তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হয়েছে গত ৯ তারিখ। গত ২০ ফেব্রুয়ারির তপশিল ঘোষণার ৪৪ দিন পর এই নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত তপশিল ঘোষণা থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪১ দিন সময় দেওয়া হয়।
কিন্তু 'ম্যাজিক' হয় শিরিন শারিমনের জন্য। ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি রংপুর-৬ আসনের উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হয়। (কমেন্টে লিঙ্ক) বলা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। ২৭ জানুয়ারির মধ্যে মনোয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মনোয়নপত্র দাখিলের জন্য সাধারণত ১২ থেকে ২১দিন সময় দেওয়ায় হয়। এবার যেমন ১৮ দিন সময় ছিল। কিন্তু শিরিন শারমিনকে এমপি বানাতে সময় দেওয়া হয় ৭ দিন।
তারপর রংপুর ডিসি অফিস এবং পীরগঞ্জ ইউএনও অফিসে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে পাহারা বসানো হয়, যাতে আর কেউ মনোনয়নপত্র কিনতে না পারে। নুর আলম নামে জাতীয় পার্টির এক নেতা গিয়েছিলেন মনোনয়নপত্র কিনতে। উনাকে ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত শিরিন শারমিন ছাড়া কেউ মনোনয়নপত্র কিনতে পারেননি। ২৮ জানুয়ারি, মানে মাত্র একদিন সময় ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের জন্য (হা হা হা হা)। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। সাধারণত বাছাইয়ে চার-পাঁচদিন সময় দেওয়া হয়।
কাউকে মনোনয়ন ফরম তুলতে দেওয়া না দেওয়ার কারণ হলো; পাগল ছাগল যাই হোক আরেকজন প্রার্থীও যদি থাকে, তাহলে ২০ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। তখন আর শিরিন শারমিন স্পিকার হতে পারবেন না। তিনি একমাত্র প্রার্থী হওয়ায়, ২৮ জানুয়ারি বাছাইয়ের দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেন। নিয়ম হচ্ছে, ফল ঘোষণার তিনদিনের মধ্যে গেজেট হবে। কিন্তু তড়িৎ গতিতে সেইদিন বিকেলেই শিরিন শারমিনকে এমপি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন! ফল ঘোষণার তিনদিনের মধ্যে শপথ হয়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলা এমপি হিসেবে শপথ নিয়ে দুপুরে স্পিকার পদে পুনঃনির্বাচিত হয়ে যান শিরিন শারমিন।
আর আজকাল উনারই সততার গল্প শুনতে শুনতে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি।
ম্যুরাল অব দ্যা স্টোরি হচ্ছে, অযোগ্য কাউকে খাতির করে নিয়মকানুন ভেঙে যে পদেই বসান না কেনো, প্রয়োজনের সময় কাজে আসবে না। প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করুন, এতে আপাতত ক্ষমতা কমলেও একদিন নিজেই এর সুফল পাবেনই।
১০ বছর ধরে তিলে তিলে অর্থ জমা দিয়ে পদ্মা লাইফ ইন্সুরেন্সে একটা ডিপিএস আর একটা পেনশন স্কিম খুলেছিলাম।
সম্ভবত ৯ম বছরে এসে এই ইন্সুরেন্স কোম্পানি এস আলমের কবলে পড়ে। সে বোর্ড অফ ডিরেক্টরস দখল করে পদ্মা লাইফের প্রায় ৪০০-৪৫০ কোটি টাকার ফান্ড লুটপাট করে বলে শুনেছি।
আমার স্কিম দুইটা ম্যাচিউরড হওয়ার এক বছর পরে দাবী আদায়ে অফিসে দেখা করলে বলা হয়, এক দেড় বছরের মধ্যে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেন নেই?
সরকারী রেজিস্ট্রেশন পাওয়া, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত একটা কোম্পানিতে ১০ বছর ধরে বিনিয়োগ করার পর সেটা রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় কোন এক মাফিয়া ব্যাংক লুটেরা এসে পুরোটা ডাকাতি করে নিয়ে যাবে, এ কেমন সভ্য দেশ? সেই ডাকাতের কোন বিচার হবে না৷ বরং তাকে পুরষ্কৃত করার জন্য নতুন সরকার এসে নতুন কালো আইন তৈরি করবে, এ কেমন রাষ্ট্র!!
তখন এস আলমের মালিকানাধীন সব তলা বিহীন কোম্পানিতে তার এলাকার অযোগ্য কিছু লোকজনকে মাসিক বেতনে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল৷ তারা বসে বসে অন্যদের উপরে মোড়লগিরি ফলানোর জন্য মাসিক চুক্তিতে ভাড়া খাটত। আর কোন অফিস কর্মচারী এস আলমের বিরুদ্ধে কিছু বললে তার চাকুরি যেত নইলে তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হত।
যেমন ইসলামী ব্যাংকে হাজার হাজার অযোগ্য, কম শিক্ষিত আর কম অভিজ্ঞ লোকজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই চাকুরি দেয়ার বিনিময়ে নেয়া হয়েছিল বিশাল অংকের ঋণ। সেই ঋণ কিন্তু শোধ করার সামর্থ্য এদের নেই। এদের একটা বড় অংশকে যখন জনাব ওমর ফারুক চাকুরিচ্যুত করেন, তখন এই অর্ধশিক্ষিতরা হইচই শুরু করে।
৫টা লুটপাট হয়ে যাওয়া ব্যাংককে একত্রীকরণ করে তৈরি করা হয়েছে "সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক"।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এস আলমের মত লুটেরা আর ব্যাংক মালিকদের ফিরে আসার পথ রুদ্ধ করে তৈরি করেছিলেন ব্যাংক আইন অধ্যাদেশ।
সেই আইন পাশ করার পূর্ব মুহূর্তে কোন বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এতে একটা চরম বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা যুক্ত করে, যাতে এস আলমের মত পূর্বের ডাকাত আর লুটেরা ব্যাংক মালিকরা মাত্র ৭.৫% অর্থ পরিশোধ করে, মালিকানায় ফিরে আসতে পারে। কমিটির অধিকাংশ সদস্য আর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন।
বলা হচ্ছে, আগের সরকারের কোন দায়ের জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করা যাবে না। তারা আগের সরকারের ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য না৷ তারা এস আলমদের লুট করা টাকা ফেরত আনতে পারবে না।
তাহলে প্রশ্ন হল, তারা এস আলমদের ফিরে আসার দরজা কেন খুলে দিচ্ছে?
একজন চোর বা ডাকাত হঠাৎ ভাল হয়ে যাবে, এরকম মিরাকল দুনিয়ায় ঘটে না৷ উলটা তারা আরো ফন্দিফিকির করবে কিভাবে বাকিটা লুট করা যায়।
আমার দুইজন আত্মীয়ের ২৫ লাখ করে এফডিআর আছে এক্সিম ব্যাংক আর ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে।
বিনিময়ে তারা দেয় মাসে ১০-১৬ হাজার টাকা। দুই বছর ধরে এফডিআর ভাঙ্গার কোন সুযোগ নেই।
এখন বিএনপি যদি সোজা ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষণা করে তাহলে লাখ লাখ আমানতকারী কই যাবে? তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করেছিল, বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশ্বাস করেছিল, নির্দিষ্ট একটা ব্যাংককে বিশ্বাস করেছিল। তারা তো বিনিয়োগ করেনি। তারা মূলত টাকা নিরাপদ রাখার জন্যই ব্যাংকে রাখত।
রাষ্ট্র একটা সিস্টেম৷, এই সিস্টেমের দায় এর পরিচালকদের। পূর্ববর্তী পরিচালকদের ভুলত্রুটি মেটানোর দায় পরবর্তীতে যারা সেধে পরিচালক হবে তাদের৷ বিদেশী ঋণ কি তারা শোধ করে না? তাহলে দেশী ঋণ পরিশোধে তাদের গড়িমসি কেন?
Atique UA Khan
Monday, 13 April 2026
ইউনুস থেকে তারেকে ক্ষমতার হাতবদলের এক অনিবার্য পরিণতি
গুম বিরোধী অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হবে না এবং সেটাকে বাতিল করা হবে—এটা ইউনুস থেকে তারেকে ক্ষমতার হাতবদলের এক অনিবার্য পরিণতি ছিলো। যারা আজকে খুব ‘শকড’ হয়েছেন, তাদের অবস্থা দেখে করুণা করবো নাকি আমিও ‘শকড’ হবো—ঠিক বুঝতে পারছি না। এ তো কেবল শুরু; সামনে আরো কী কী আসছে, সেটার আগাম বার্তাও বটে—যারা চোখ খোলা রেখে দেখেননি, তাদের জন্যে এই ‘শকড’ হওয়াটাই বরং এক ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা।
গুমের সাথে যুক্ত সেনা অফিসারদের ক্যান্টনমেন্টের কথিত সাব-জেলে রাখা—এটা কি ইউনুস সরকার থামাতে পেরেছিলো? সরকার ও জন-আকাঙ্খাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওয়াকার এন্ড গং গুমের অভিযোগে অভিযুক্ত সেনা অফিসারদের সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করেনি। কাউকে কিছু না জানিয়েই তড়িগড়ি করে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ক্যান্টনমেন্টে অফিসারদের বিলাসবহুল ভবনকে সাব-জেল ঘোষণা করেছিলো। সেখানে শুধু ইন্টারনেট, টেলিফোন ও বাহারি খাবারের আয়োজনই ছিলো না—বৌদের নিয়ে থাকার ব্যবস্থাও ছিলো। চমৎকার জেল, তাই না? বিশ্বের অন্য কোথাও এ রকম ‘মানবিক’ জেল আছে কিনা আমার জানা নেই—যেখানে অভিযুক্তরা শাস্তি ভোগ করে না, বরং আরাম-আয়েশের জীবন কাটায়।
শুধু তাই নয়—জাতির সাথে তামাশা করার জন্যে বিলাসবহুল এয়ার কন্ডিশন্ড বাসে করে খুনি সেনা অফিসারদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিলো। আশা করি সবুজ রঙের সেই বহুল আলোচিত প্রিজন বাসটিকে এতো তাড়াতাড়ি ভুলে যাননি। বিচার প্রক্রিয়াকে এভাবে সার্কাসে পরিণত করার নজির খুব কমই আছে—যেখানে অপরাধী যেন অভিযুক্ত নয়, বরং ভিআইপি অতিথি।
এসব কেন সম্ভব হয়েছিলো? কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো? কোন সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিলো?—এসব প্রশ্ন যারা করেননি, গুম বিরোধী অধ্যাদেশ বাতিলের কারণে তারাই আজকে ‘শকড’ হয়েছেন। প্রশ্ন না করা, হিসাব না চাওয়া, ক্ষমতার এই নোংরা আপসকে মেনে নেয়া—এসবেরই যৌক্তিক পরিণতি হচ্ছে আজকের এই বাস্তবতা।
জুলাই বিপ্লবের পর ওয়াকার ও চুপ্পুকে কেন সরানো হয়নি? সরল উত্তর—বিএনপি সেটা চায়নি। এটা কোনো অনুমান কিংবা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়; নির্মম বাস্তবতা। আপনার আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। ‘বুকে পাথর চাপা দিয়ে’ ড. ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মেনে নেয়া ওয়াকার কি একদিনের জন্যেও জুলাইয়ের রক্তস্নাত বিপ্লবের পর জন-আকাঙ্খা ও অনুরোধের কারণে প্রধান উপদেষ্টা হতে রাজি হওয়া ড. ইউনুসের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে? রাওয়া ক্লাবে যখন আঙ্গুল তুলে নাম ধরে ড. ইউনুসকে সম্বোধন করেছিলো—তখন সেই ঔদ্ধত্য শুধুই কি ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে ছিলো, নাকি আপামর জনগণের বিরুদ্ধে ছিলো? সেই প্রশ্ন কি কখনো করেছেন? প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী—সে ওয়াকার হোক বা অন্য কেউ—দায়িত্বরত কোনো প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী কিংবা সমমানের কাউকে পদবী ছাড়া নাম ধরে সম্বোধন করা নিছক ধৃষ্টতা নয়, এটা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।
প্রধান উপদেষ্টার অনুমতি না নিয়ে দেশের অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে বৈরী রাষ্ট্র ভারতের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধির সাথে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ মিটিং করেছিলো ওয়াকার। সরকারকে পাশ কাটিয়ে সেনাপ্রধান বৈরী রাষ্ট্রের প্রতিনিধির সাথে ‘রুদ্ধদ্বার বৈঠক’ কোন ক্ষমতা বলে ওয়াকার করেছিলো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে যে বাস্তবতা সামনে আসে, তা অনেকের জন্যই অস্বস্তিকর—কারণ সেখানে রাষ্ট্র নয়, সমঝোতাই নিয়ন্ত্রক শক্তি।
শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া চাকর-বাকর ও ফ্যাসিবাদের দোসর সরকারি আমলা ও সচিবরা প্রধান উপদেষ্টার কথা শুনছিলো না—সে কথা তো প্রকাশ্য সাক্ষাৎকারে ড. ইউনুস নিজেই বলেছিলেন। অর্থাৎ, ক্ষমতার চেয়ারে বসা মানেই ক্ষমতা হাতে থাকা নয়—এই নির্মম সত্যটি তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।
হাসিনার রেখে যাওয়া সামরিক ও বেসামরিক আমলা—যাদের ‘টিকি দিল্লিতে বাঁধা’—তারাই দিল্লীর মধ্যস্থতায় তারেককে ক্ষমতায় বসিয়েছে; তাদের ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ নিয়েই লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছিলো তারেক। খালেদা জিয়া ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ হওয়া সত্ত্বেও এই ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ না থাকার কারণে ঢাকায় আসতে পারেনি তারেক—অর্থাৎ, আসতে দেয়া হয়নি। কে আসবে, কে আসবে না—এই সিদ্ধান্ত যদি অন্য কোথাও নেয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বড় বড় বক্তৃতা নিছক প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।
দিল্লীর হয়ে এসবের সকল মধ্যস্থতার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো এই শিলং উদ্দিন। শিলং উদ্দিনের দাপটে বিএনপি’র ত্যাগী শীর্ষনেতারা কপোকাত। শুধু কি তাই—প্রধানমন্ত্রীকে বসিয়ে রেখে তার সামনেই সংসদে প্রধানমন্ত্রীর হয়ে বক্তব্য দেয় শিলং উদ্দিন। তারেকের মা খালেদা যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন তিনি তো সংসদীয় কায়দায় ঠিকমতো কথাই বলতে পারতেন না; জাতিসংঘের এক অনুষ্ঠানে কোনো রকমে, তড়িগড়ি করে ‘রিডিং’ পড়ে বক্তব্য শেষ করেছিলেন—এসব ভিডিও এখনো ইউটিউবে পাওয়া যায়। কিন্তু তারপরও তিনি নিজের হয়ে অন্য কাউকে দাঁড় করিয়ে বক্তৃতা দেননি।
অর্ধশিক্ষিত এই মহিলা তো কখনো সংসদে বা বিদেশে নিজে বসে থেকে তার পক্ষ থেকে কাউকে দিয়ে বক্তৃতা দিতে দেননি। এইটুকু আত্মসম্মানবোধ খালেদারও ছিলো। তারেকের সমস্যাটা কি শুধুই আত্মসম্মানহীনতা, নাকি হাত-পা শিকলে বাঁধা? নাকি শুধুই পুতুল প্রধানমন্ত্রী হয়ে চেয়ার তা’ দেয়াকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন ও গৌরব বলে মনে করছেন? এই প্রশ্নগুলো এখন আর ব্যক্তিগত নয়—এগুলো রাষ্ট্রীয় প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
তারেকের আত্মসম্মানহীনতা কিংবা অথর্বপনা এখন আর নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে। তার এই আত্মসম্মানহীনতা ও অথর্বপনা বাংলাদেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে ইতিমধ্যেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে—এটা শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্রীয় বিপদের আলামত।
জুলাই বিপ্লব ও জন-আকাঙ্খার কবর রচনা করার জন্যে যা যা করা দরকার, তার সবকিছু করার বিনিময়েই তারেককে লন্ডন থেকে ঢাকায় এনে অতঃপর পাপেট হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয়েছে। ক্ষমতার এই লেনদেনের ভেতরে গণতন্ত্রের কোনো স্থান ছিলো না—ছিলো শুধু নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি।
‘বিশ্ববাটপার’ আসিফ নজরুল, শিলং উদ্দিন ও ওয়াকার—এই ত্রিভূজের মধ্যে তারেককে বন্দি করে খেলা চালিয়ে ছিলো ভারত। আগে হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ওপর সওয়ার ছিলো, এখন ‘নতুন গাধা’ তারেক ও মূর্খ বিএনপি’র ওপর সওয়ার হয়ে জাতির কুলাঙ্গার সামরিক ও বেসামরিক আমলাদের মাধ্যমে (যাদেরকে অনেকে ‘ডীপ-স্টেইট’ বলে রাজনীতিক প্রজ্ঞা জাহির করে) বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে বাফার স্টেইট বানিয়ে রেখেছে ভারত। খেলোয়াড় বদলায়, খেলা বদলায় না—এই বাস্তবতাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।
আর ভারতকে এসব করার সুযোগ করে দেয় ‘দলদাস’, ‘আত্ম-সম্মানহীন’ ও ‘অথর্ব’ লোকগুলো—যারা ব্যক্তি ও যোগ্যতা দেখে না, দেখে মার্কা। যাদের কাছে রাজনীতি হলো বর্বর চর দখলের লড়াই; যে লড়াইয়ে বিজয়ীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে তারা আদিম অসভ্য সুখ অনুভব করে। কিংবা সেই সব লোকগুলো—যাদের কেউ ভোটের বাজারে হাঁস-মুরগির দামে বিক্রি হয়, কেউবা ‘বুদ্ধি-বেশ্যা’ বৃত্তিতে লিপ্ত, আর কেউবা ‘স্তনমৈথনের মতো করে বিবেক বিলিয়ে’ দিয়ে দুই পয়সা কামিয়ে নেয়। এই প্রজাতির ইতরগুলোর কাছে দেশপ্রেম কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়—সামান্য স্বার্থের জন্যে তারা সব করতে পারে, এবং করছে।
মইনুল হক
ডেট্রয়েট, মিশিগান।
Friday, 10 April 2026
বুদ্ধিজীবীর মূল্য তার বাকশক্তিতে নয়, তার নৈতিক সাহসে
শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের একক মালিক দেখিয়ে ফ্যাসিবাদ ইস্টাবলিশ করেছিল শেখ হাসিনা। ৭ মার্চের ভাষণ, ৭১ ও মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুই মুজিববাদ হয়ে একবার বাকশাল, অন্য বার ফ্যাসিবাদ কায়েমের প্রধানতম টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শিল্প সংস্কৃতির মহীরুহদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। কবিতা, সংগীত, সাহিত্য, সিনেমা যেগুলো মানুষের মুক্ত আত্মার ভাষা, সব কিছু ক্ষমতার কাঠামোর অংশ বানানোর চেষ্টা হয়েছে। যা কিছু বাঙালী ও বাংলা ভাষার সাথে সম্পৃক্ত, সবকিছুই স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের এনাবলিং টুলে রূপান্তর করা হয়েছে। প্রকট সত্য হচ্ছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথকেও আওয়ামী ও তার কালচারাল ফ্যাসিস্টরা ফ্যাসিবাদী শাসনের এলিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছে। আজ স্পষ্ট, এই মেগা প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বুদ্ধিজীবী সমাজের অধিকাংশের লাইফ টাইমেই তাদের নেতা শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়েছে। ভাবা যায়! একটি গোটা বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠীর নৈতিকভাবে পরাজিত। তারা দেখেছে নিজেদের শহরে, নিজেদের চোখের সামনে, তার ডিজাইন করা রাষ্ট্র যুদ্ধের অস্ত্র নিয়ে মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। দুই হাজারের মতো মানুষ খুন করেছে, ২০ হাজারের বেশি আহত ও পঙ্গু। তবুও তারা নীরব থেকেছে। তাদের বিবেক ঘরের পাশের রাজধানীর রাজপথের যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে, সম্মিলিতভাবে ট্রেঞ্চে লুকিয়েছে, আজও তারা গর্ত বাসী।
২৪ এর পুরো সময় চুপ থেকে, আজকে সিরাজুল ইসলামের মতো বুদ্ধিজীবী, কিছু টক শো এক্টিভিস্ট সরব হবার চেষ্টা করছে। এরা আরেকবার ব্যর্থ হবার শপথ নিয়েছে!
যারা বড় বড় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনি, তাদের ট্র্যাজেডি এখানেই যে তারা জীবিত থেকেও ইতিহাসের কাছে মৃত হয়ে গেছে। একজন বুদ্ধিজীবীর মূল্য তার বাকশক্তিতে নয়, তার নৈতিক সাহসে। বাংলাদেশের চিন্তা সমাজে এদের জীবনের কোনও মূল্য অবশিষ্ট নাই। ক্ষমতাসীন দলের নিকৃষ্টতম অন্যায়েও চুপ থাকা বুদ্ধিজীবীর নিয়তি হচ্ছে, তার জীবদ্দশাতেই তার ডক্ট্রিনের পরাজিত হওয়াকে স্বচক্ষে দেখা, গলধকরণ করা। এবং নৈতিকতার কাছে পরাজিত বিকেবের আর্তনাদ লিখতে না পারার মর্মবেদনা এদের কুরেকুরে খাচ্ছে, এটা আত্মহত্যার চেয়ে কম কিছু নয়। আওয়ামী লেখক সাহিত্যিক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের নীরবতার মধ্যে যে আত্মসমর্পণ, তা তো জীবনের চেয়েও বড়ো এক পরাজয়।
আবদুল্লাহ আবু সাঈদ সম্পর্কে একবার বলেছিলাম, উনার জীবদ্দশাতেই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো স্বৈরশাসক, ফ্যাসিস্ট ও খুনির শাসন বেড়ে উঠেছে, এবং উনি ১৬ বছর সময়ে পেয়েও তার বিরুদ্ধে সরাসরি দুই কলম লিখতে ও বলতে পারলেন না। ফলে উনি বিরাট বাগ্মী হতে পারেন, বুদ্ধিজীবী নন।
বুদ্ধিজীবী সে-ই, যে বর্তমানের ভেতর ভবিষ্যতের রেখাচিত্র দেখতে পায়, এবং সময় থাকতে শাসককে সতর্ক করেন। তা না পারা লোক, কেবল শব্দের কারিগর, চিন্তার নয়।
সে হিসেবে সিরাজুল ইসলাম থেকে আনিসুল হক সহ বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিককুল এরা সবাই পতিত, ফ্যাসিবাদের উত্থানের কালে ইনারা গোকুলে বেড়েছে। তাদের মোরাল মরে গেছে। এই বাস্তবতা আমাদের একটা শিক্ষা দিয়েছে যে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, কিংবা কোনো মহান ব্যক্তিত্ব, এগুলোকে আর দ্বিতীয়বার ফ্যাসিবাদের হাতিয়ার বানানো সহজ হবে না। আমাদের কালেক্টিভ লিভিং হিস্ট্রি ও অভিজ্ঞতায় এই সতর্ক করে যাই যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, কিংবা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে একই বাড়াবাড়ি চেষ্টা কেউ করলে তারাও ব্যর্থ হবে।
মিশেল ফুকো'র একটা উক্তি আছে, Power is everywhere; not because it embraces everything, but because it comes from everywhere. ক্ষমতা যেমন ছড়িয়ে থাকে, তেমনি প্রতিরোধও জন্ম নেয় সর্বত্র। আমরা এটা ভুলে যাই। বাংলাদেশে ৬৯, ৭১, ৯০, ২৪ হয়েছে।
তাই পতিত ফ্যাসিবাদকে, তার বুদ্ধিজীবী, লেখক সাহিত্যিক কিংবা এক্টিভিস্টদেরকে নতুন করে ভয় পাবার কিছু নেই। ভয় পেয়ে কোনও আওয়ামী লেখক, বুদ্ধিজীবী, এক্টিভিস্টকে অযথা জেলে ভরারও দরকার দেখি না। জেল হবে অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত। সহিংসতার সাথে সম্পর্কহীন জেল-জুলুম সরকার ও রাষ্ট্র উভয়কে দুর্বল করবে। স্পীচ অফেন্সের ক্ষেত্রেও সহিংসতার সম্পর্ক দেখতে হবে।
আজকে, পতিত ছাত্রলীগ কিংবা ইমি'রা (ইমি ছাত্রলীগ নয়, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে উনার সক্রিয়তা ছিল) যদি ৭ মার্চকে ফিরিয়ে আনতেও চায়, তাতেও ভয়ের কিছু নাই। ইমিদের জেল মুক্তি দিয়ে দিন।
কোনও রাজনৈতিক ধারণার বিরুদ্ধে কারাগার কখনও স্থায়ী সমাধান নয়। বরং আমরা চব্বিশের বাক্ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ধারণ করি। যে মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমরা লড়াই করেছি, সেটা দলমত নির্বিশেষে সবাই মুক্তভাবে ভোগ করুক। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের শত শত আন্দোলনকে আমি সবসময়ই ১৭ বছরে না বলতে পারার, দাবি উপস্থাপন না করতে পারার চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেছি, হ্যাঁ, তাতে মুহাম্মদ ইউনূসকে বিব্রত, বিরক্ত ও ব্যর্থ করার রঙ ছিল।
ফ্যাসিবাদের পতনে ভাষা ও শব্দের স্বাধীনতা ছিল এক অনিবার্য শক্তি। যে কণ্ঠ একসময় ভয়ে স্তব্ধ ছিল, সেই কণ্ঠ যখন উচ্চারণের সাহস পায়- সেই উচ্চারণেই শুরু হয় মুক্তির যাত্রা। সেটাই হয়েছে। এরশাদ বা হাসিনার বিরুদ্ধে গালি দেওয়ার আস্পর্ধা কেবল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল না; তা ছিল ভয়ের প্রাচীর ভাঙার প্রথম আঘাত। শাসকের প্রতি ভীতিহীন ভাষাই জনগণকে নিজের শক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ভয়ের সংস্কৃতি ভাঙার লড়াই ফ্যাসিবাদ পতন করেছে। ফলে ভয় দেখিয়ে জয় করার দরকার নাই। ২৪ আমাদের যেসব বুদ্ধিবৃত্তিক বুঝাপড়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, তা ভুলে না যাই।
গত ১১ মার্চ লিখেছিলাম ''বিএনপি নির্বাচনি রাজনীতিতে আওয়ামীলীগকে স্পেইস দিয়েছে কথাটা ভুল, দিয়েছে আওয়ামীপন্থী ভোটারদের সেটা ভোটের মাঠের কৌশল ছিল মাত্র। ভোট শেষ, বিএনপি তার নিজের রাজনীতিতে ফিরবে, সে রাজনীতিতে আওয়ামী লিগ থাকবে না.........আর এই বিএনপিকে, আওয়ামী ১৭ বছর মর্মান্তিক নির্যাতন করেছে, সব জুলুম মনে রাখা আছে, ডিজিটাল ডায়েরি কিংবা কাগজে লেখা আছে। মাফিয়া-মিডিয়ার বুদ্ধিজীবী গং'টা আওয়ামীলীগকে ফিরাতে পারবে না, বরং তাদের পুরা জেনারেশন মারা খাবে। কারণ আওয়ামী রাজনীতির শূন্যস্থান আর ফাঁকা নাই, সেটা অকুপাই হয়ে গেছে অনেকাংশে।" আজকে জাতির পিতার পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়ার আইন রহিত হয়েছে, আওয়ামী নিষিদ্ধের বিল পাশ হয়েছে নির্বাচিত সংসদে।
বরং বিএনপি ঘরনার বুদ্ধিজীবীদের ক্ষমতার বধ্যভূমিতে যাবার লোভাতুর নবযাত্রাকে ভয় করি। ক্ষমতার খুব কাছে যেতে বুদ্ধিবৃত্তির যে আত্মবিনাশী আকর্ষণ, সেটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, ক্ষমতার সান্নিধ্যই চিন্তক বুদ্ধিজীবীর জন্য সবচেয়ে বড়ো ফাঁদ। ক্ষমতার স্পর্শই তাদের নীরব মৃত্যুর সূচনা। আমি অতীতের পরাজিতদের ভয় পাই না, পাই নতুন করে জন্ম নেওয়া সেই আকাঙ্ক্ষাকে, যেখানে চিন্তা আবার ক্ষমতার দাসে পরিণত হতে চায়। শেষ পর্যন্ত বুদ্ধিজীবীর বধ্যভূমি কোনো কারাগার নয়, তার বধ্যভূমি হচ্ছে ক্ষমতার অতি নিকটতা, ক্ষমতার নিকটে আসার তীব্র আকাঙ্ক্ষাজনিত আত্মহনন।
আজকে বিএনপি বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ ক্ষমতার কাছাকাছি যাবার তীব্র নেশায় আচ্ছন্ন, তারা কি আত্মহননের স্বাদ নিতে চান? আপনাদের জবান যেন আপনাদেরকে বধ্যভূমিতে নিয়ে না যায়। ক্ষমতাকে তোয়াজ না করে, বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাসকে নার্চার করুণ।
Subscribe to:
Posts (Atom)
