Sunday, 22 February 2026

মব জাস্টিস করে বিএনপি। দায় চাপায় প্রতিপক্ষের ঘাড়ে!

১। ইন্টারিমের সময়ে , প্রশাসনে মেজরিটি ছিলো বিএনপি সমর্থিত। যেমন অ্যাটর্নি আসাদুজ্জামান, আদিলুর, হাসান আরিফ, সালাউদ্দিন আহমেদ, খলিলসহ প্রমুখ। পাশাপাশি ব্যাকাপ পেয়েছে ছুপ্পু ও ওয়াকার থেকে। জুলাইয়ের বিরুদ্ধে সবচে বেশি প্রভাব এ দুজনের। সঙ্গে ছিলো আসিফ নজরুল। এবং প্রশাসনলীগ ছিলো বিএনপির পক্ষে। যেহেতু চোরে চোরে মাসতুতো ভাই এবং বিএনপি সম্ভাব্য ক্ষমতাসীন। অনুগত্যের খাতিরেই তাদের নির্দেশ মানতে হয়েছে। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, আইন, মানবাধিকার বা নীতিনির্ধারণী পদে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ বা ঐতিহাসিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাধান্য ছিলো বেশি। রাজনৈতিক কভার স্টোরিতে 'কিংস পার্টি' বা 'স্টুডেন্ট কন্ট্রোল' তত্ত্ব প্রচার করে দায় চাপিয়ে গেছে জাশি ও এনসিপিকে। ন্যারেটিভ ছড়াইছে- 'সবাই বিএনপিকে ঠেকাতে চায়!' ইন্টারেস্টিংলি, বিএনপি একটা ক্লাসিক প্ল্যাসিবল ডেনিয়াবিলিটি কৌশল নিয়েছে খলিলকে নিয়ে। মানে প্রকাশ্যে বিরোধীতা। গুপ্ত ভাবে স্বাগতম। নিজের দুর্ভিসন্ধি গোপন রেখে, অন্যকে দোষী করার এই মোনাফেকির ফল পাবে স্থানীয় নির্বাচণে। ২। লীগের মব বাদ দিলে, সবচে বেশি মব করেছে বিএনপি। লীগের অফিস, বাসবাড়ি, থানা সারাদেশে বিশৃঙ্খলা- তাদেরই বেশি। যেমন - - ইসলামী ব্যাংক এর মতিঝিল শাখা সিজ করার মব। - বাঘেরহাট প্রেস ক্লাবে মব করে ভাঙচুর। - একই উপজেলা অফিস লন্ডভণ্ড করা। - ফেনী, নোয়াখালী, বগুড়া নানা জায়গায় লুটপাট জ্বালাও পোড়াও- তাণ্ডব করে গেছে পুরো সময়। - ৯১% মবের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে। - মববাজিতে আড়াই শ মানুষ খু?ন। মববাজ স্বীকৃতি পেতে আর কিছু লাগে না তো। এখন তো লাগতেছে - নির্বাচন দেরীর আলাপ দেখে ডগিফাই ও বিএনপির সম্মিলিত পরিকল্পিত মব ছিলো ওগুলো। ইন্টারীমকে অস্থিতিশীল রেখে, মাঠে শক্তি প্রদর্শন করে আলোচনার টেবিলে সুবিধা নিয়েছে। দোষ দিয়েছে জাশি ও এনসিপিকে-"ওরা নির্বাচন চায় না বলে মব করে।" ৩। এমনকি, কালো-স্টারের হামলাও প্রিপ্ল্যানড। এটা হইতে দিছে ইচ্ছাকৃত। বিক্ষুব্ধ জনতাকে উস্কে দিয়ে, নিজেদের লোক ঢুকিয়ে, হামলা চালিয়ে ভিকটিম কার্ড দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ন্যারেটিভ কন্ট্রোল করেছে সকল বিএনপি ও দেশবিরোধী মিডিয়া। মানে পুরো পৃথিবীতে আলোড়ন তুলে ফেলেছে! ঘটনায় বিএনপির ভাতার ডগিফাই জড়িত বলে মনে করি এবং এই "আগা নাই হোঁদের গুড়গুড়ি বেশি " দেখে বুঝা যায় ওইটা বিরোধী মতকে শোয়ায়ে দেওয়ার নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ছিলো। ৪। সাস্ট নির্বাচন স্থগিতের নামে, নির্বাচন কমিশনের বিল্ডিং ঘেরাও করে, টানা দুইদিন মব করেছে ছাত্রদল। ছাত্রসংসদ নির্বাচন মেইন ইস্যু ছিলো না। ছিলো ঋণ খেলাপীদের নমিনেশ টিকায়া রাখতে চাপ তৈরি। ভণ্ডামি এখানেও! ৫। নির্বাচনের সপ্তাহ আগে থেকে মবটব-চাঁদাবজি সব উধাও। সেইকি শৃঙ্খলা! তারমানে এতদিন ধরে সব বিশৃঙ্খলা ওদের কারসাজি ছিলো নির্বাচন আদায়ের এবং ডগিফইয়ের বিচার বানচালের। কিন্তু বিএনপি মববাজির দায় চাপায় প্রতিপক্ষকে। যাতে তাদের আকাম ধরা না খায়। নির্বাচনের পরও এরা মব করে জাতীয় পার্টি ও রুমিনকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেয়নি। মানে সারাদেশে মব জাস্টিস করে বিএনপি। দায় চাপায় প্রতিপক্ষের ঘাড়ে! ইন ফ্যাক্ট, বিএনপির মব শাহাবাগের মবের চাইতে ভয়ংকর ও সর্বগ্রাসী। কারণ, শাহাবাগের উদ্দেশ্য ক্লিয়ার ছিলো। মোনাফেকি ছিলো না। কিন্তু বিএনপি প্রতিটা মবের পিছনে নোংরা উদ্দেশ্য সাধনে লিপ্ত ছিলো। মব করেও ক্ষান্ত হয়নি। অনলাইনে তাদের বুদ্ধিজীবী দ্বারা, ন্যারেটিভ তৈরি করে গেছে - বিএনপি মানে স্টেবিলাইজেশন!! মোনাফেকির ক্লাসিক উদাহরণ তৈরি করেছে দলটা। ৬। নির্বাচনের আগে বিএনসিসিকে নির্বাচনী ভলেন্টিয়ার হিশেবে বাতিল করেছে অনভিজ্ঞতার অজুহাতে। আশলে অনভিজ্ঞতা ইস্যু না। ওরা থাকলে, লীগের ভোটচুরির অভিজ্ঞ প্রিসাইডিং অফিসার দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করতে না পারার ভয় থেকেই বাতিল করা। উপরে এক অজুহাত দিয়ে তলে তলে আরেক উদ্দেশ্য সাধনের নামই তো মোনাফেকি! অথচ অন্যদের দেয় সেই তকমা! মানে -জাজর বলে সূচকে - তোর পাছায় ফুটা। ৭। গণভোটের মোনাফেকি তো সুস্পষ্ট। প্রথমে টালবাহানা, পরে চাপে পড়ে, প্রবাসী ভোট শেষ হবার পরে মিনিমিনে সমর্থন। কিন্তু তলে তলে 'না' ক্যাম্পেইন। আর ক্ষমতায় গিয়েই পল্টি! কিরে ভাই! চক্ষু লজ্জাটুকুও বুঝি থাকবে না? দেখতাম -লীগের তুলনায়, বিএনপির রাজনীতি করে ভদ্রলোকেরা। আজ - মোনাফেকির অসভ্য রাজনীতিতে ভদ্রলোকের জন্যে বিএনপি করাটা কঠিন হয়ে গেছে। সামনে যদি দেখেন, বিএনপি কোনো ইস্যু নিয়ে ব্যাপক সরব। মিডিয়া উত্তপ্ত। মাঠে উশৃঙ্খল। ওদেরকে সন্দেহ করুন। বুঝতেই পারছেন এতদিনে - ঘটনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ গল্পটা কে লিখছে, কেনো লিখেছে - তা জানা। সুতরাং দৃশ্যমান ঘটনা এড়িয়ে, বিহাইন্ড দ্যা সিন দেখার চেষ্টা করুন। মোনাফেকদের বিশ্বাস করাও মোনাফেকি। Writer- আহমেদ সাহাব