Tuesday, 24 February 2026
ফিউচ্চারিস্টিক অনুমান
একটা ফিউচ্চারিস্টিক অনুমান শেয়ার করি -
১।
সারাদেশে ২৬ টি স্থানে লীগের অফিস খোলার খবর পেলাম বিভিন্ন মিডিয়ায়। 'জয়বাংলা' স্লোগানে হয়েছে ঝটিকা মিছিল (গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে)। দলীয় পতাকা উত্তোলন, মুজিব ও খু/নী হাসিনার ছবি টাঙানো এবং তা ক্রমবর্ধমান।
এইটা বিএনপির জন্যে অশনি সংকেত এবং জাশি /এনসিপির জন্যে লাইফ থ্রেট হিসেবে দেখছি।
কারণ এ নরমালাইজেশনের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচণে নানা ব্যানারে প্রার্থী হবে লীগের সি টিম, ডি টিম। কেউ কেউ জিতেও যাবে। প্রশাসনে একসেস নিবে। নেটওয়ার্ক রিঅ্যাকটিভ করবে। দুর্নীতি, চুরি চামারি, ফাঁসানো- ইত্যাদি চলবে আগের মতো। তুমুল গন্ডগোল বাঁধাবে।
সবগুলোর দায় বিএনপির কাঁধে চাপবে।
দলে মিশে যাওয়া লীগ গু/ন্ডাদের চাঁদাবাজি, খু/ন - খারাবির দায় তো থাকবেই।
নিজেদের ইস্যু প্লাস এই লীগ পুনঃপ্রবেশজনিত বিশৃঙ্খলা ডাবল ক্রাইসিস তৈরি করতে যাচ্ছে বিএনপির জন্যে।
এই ইনফিলট্রেশন ও ক্রিমিনাল লেবেল নতুন দলে ট্রান্সফারের ফলে, লীগের প্রাক্তন সফ্ট সাপোর্টারের মনে নয়া বয়ান হাজির হবে - "সবই তো এক, লীগ তাড়ায়ে কি লাভ হইলো"- মেইনলি যারা এবার ধানে ভোট দিয়েছে।
২।
দ্বিতীয় অশনি সংকেত চিফ প্রসিকিউটর দূর্দান্ত পেশাদার ও চরম সৎ তাজুল ইসলামকে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অপসারণ করাটা। তাজুল না থাকলে, যে বারো জন আর্মি অফিসার গ্রেফতার হইছিলো - তাও হইতো না - এতে আমি নিশ্চিত।
অর্থাৎ তাজুল থাকলে ডগিফাই পার পাবে না। তাকে অপসারণ করা লাগবেই। ফ্যাক্ট ইজ -তারেক চাইলেও এটা ফেরাতে পারবে না।
বিডিআর, ডগিফাই, আর্মিলীগের বিচার ঠেকানোর চুক্তিতে আপস করে, তারেক দেশে ফিরেছে আগেও লিখেছি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেই আপসের আরেকটা অংশ - এটা ক্লিয়ার হইলো।
বিচারের নামে আইওয়াশ দেখবেন সামনে। "বিচার কতদূর"- এ প্রশ্ন এখন আর তোলা যাবে না।
নতুন নিয়োগে, "নতুন করে কাজ শুরুর কারণে সময় লাগছে" অজুহাত দেখাবে। আমরা ভুলে যাব। একদিন তারাও লাপাত্তা। বিচারও লাপাত্তা।
অর্থাৎ 'আপস তত্ত্ব' আর কোনো কনস্পিরেসি হিশেবে থাকবে না। পলিটিক্যাল ফ্যাক্ট হিশেবে প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে।
৩।
মন্ত্রীসভায় কিছু লোকের মন্ত্রীত্ব পাওয়াকে তারেকের ম্যান্ডেট মনে হয় না। হিসাব মেলাতে পারিনি। বিভিন্ন আলাপে বিএনপির অনেকেকই কনফিউজড দেখলাম মন্ত্রীসভা নিয়ে।
'তারেক অরা' রেশের একটা চাপ আছে। সেই মনস্তাত্তিক চাপের ফলে আলাপ করতে কমফোর্ট ফিল করছে না। তবে সময়ের সাথে সাথে এই কনফিউজন প্রকাশ্যে দেখতে পাবেন।
আমার অনুমান - কয়েকজন আছে ডিপস্টেট্ সেটাপ।
কিছু করার নাই আশলে। আপসের বিনিময়ে ক্ষমতায় বসলে, সিদ্ধান্ত স্বাধীন রাখা যায় না।
তো ওইসব মন্ত্রী জুলাইয়ের বিপক্ষে বিতর্কিত আলাপ দিয়ে যাবে ক্রমাগত- যেটা সরকারের জন্যে পপুলারিটি ক্রাইসিস তৈরি করবে।
৪।
কারণ, এই জুলাই সফ্টলীগেরসহ সর্বস্তরের জনগণের ছিলো। কিছু ছাপড়ি আর দালাল ছাড়া, এটা বিএনপির অনেকেই ধারণ করে।
ক্ষমতাসীন হবার পর জুলাইয়ের বিরুদ্ধে বিএনপির স্ট্যান্স লাউড এন্ড ক্লিয়ার। এই বোল্ড স্ট্যান্স লীগকে যোগাবে সাহস। বিএনপির হাতের তলে থেকে লীগ জুলাই সক্রিয়দের অ্যাসাসিনেশন করবে। বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে সঙ্গে থাকবে বিএনপি নেতারা।
ডগিফাই পরে সেই সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ করে বিএনপিকে ফেলবে বেকায়দায়।
লীগ, ডগিফাই, আর্মিলীগ বিচার থেকে নিস্তার পাইলে- এখন যে মিডিয়া বিএনপির তলা চাটছে - সবাই পল্টি মারবে। এইসব খু/ন - খারাবি নিয়ে বিএনপির ইমেইজ সংকট তৈরি করবে তুমুল প্রচারণায়। বিএনপি হয়ে পড়বে দূর্বল।
বিএনপিতে যে পরিমান গাদ্দার আছে- যারা লীগ সুবিধা নিয়ে টিকে ছিলো গত দশক এবং র নিয়ন্ত্রিত ডগিফইয়ের হাতে ব্ল্যাকমেইল -তাদের প্ররোচনায় জাশিকে ঠেকাতে লীগকে ফুল একসেস দেওয়ার আলাপ উঠলে বিএনপির মধ্যে বিভাজন দেখা দিবে। ওটাই হবে লিটমাস টেস্ট।
শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওই বিভাজনের ওপর নির্ভর করবে, দেশে আরেকটা জুলাই হবে কি হবে না।
তারেককে আমি এখনো বিশ্বাস করি। আপস করলেও, সেটা নেসেসিটি অব টাইম ছিলো। যদি দু বছরের মধ্যে গুপ্তচর আইডেন্টিফাই করে, ব্ল্যাকমেইল হওয়া নেতাদের সাইড করে, প্রশাসন ও দলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে - তবে সকলের জন্যে মঙ্গল।
অন্যথায়, সেকেন্ড জুলাই অনিবার্য।
৫।
শুধু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকলে এই অনিবার্য ধ্বংস ঠেকানো যাবে না- পপুলারিটি লাগবেই। পপুলার লেজিটিমেসি ছাড়া কন্ট্রোল টেকসই হয় না। সো, জনমত পাশে না থাকলে বিপদ।
শুধু ছাপড়ির সাপোর্ট ইনাফ না- এই আলাপ যত দ্রুত বুঝবে, ততই ভালো।
যদি বিচার থেমে যায়, ন্যারেটিভ হাতছাড়া হয়, আর অভ্যন্তরীণ বিভাজন বিস্ফোরিত হয়- তাইলে "সেকেন্ড জুলাই" ঠেকানো যাবে না।
ভারত ও ডগিফইয়ের নগ্ন সমর্থন, ট্রিকস , ফুল ব্যাকাপ, প্রশাসনিক সেটাপ থাকা সত্ত্বেও হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে - এইটা যেনো আমরা ভুলে না যাই।
-----==
তো, প্রেডিকশন হইলো -
২৪-৩০ মাসের কৌশলগত পলিটিক্যাল প্রাকটিস ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের সামনে আমরা দাড়ায়ে আছি।
যেটা নির্ধারণ করবে - 'পুনর্গঠন' নাকি 'পুনর্বিস্ফোরণ।'
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment