Wednesday, 31 December 2025
কেনো বাঙালি জাতি একটা অভিশপ্ত জাতি ?
৫ই আগস্টের পর গত দেড় বছর ধরে আমি ফুলটাইম পলিটিকাল অ্যাক্টিভিজমে যুক্ত।
খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম বাদে প্রায় পুরোটা সময় ই রাজনীতি নিয়ে পড়ে ছিলাম বলা চলে!
আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে এই দেড় বছরে রাজনীতি নিয়ে পড়ে থেকে আমি কী কী জানলাম-বুঝলাম, আমি সবার ঊর্ধ্বে ২ টা জিনিসের কথা বলবো।
১) বাঙালি জাতি একটা অভিশপ্ত জাতি। এরা কোনো ভালো শাসক/নেতা ডিজার্ভ করে না।
এই জাতি পপুলিজমের ভক্ত। নেগেটিভিটির ভক্ত।
এই জাতি শোভন, মার্জিত কিছু পছন্দ করে না।
এরা পছন্দ করে গালি, স্লাটশেমিং।
এরা পছন্দ করে মিথ্যা। সত্য-মিথ্যার ফারাক বুঝার ক্ষমতা এই দেশের প্রায় সব মানুষের মধ্যেই নাই।
এরা ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন, কাদা ছোড়াছুড়ি, গালাগালি, মিথ্যা ও গুজবের ভক্ত।
কোনোকিছু দেখলে এরা সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে এক সেকেন্ডও ব্যয় করে না।
এদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত শুধু আবেগ আর আবেগ। জ্ঞানের ছিটেফোঁটাও নাই।
কারও নামে খারাপ কিছু শুনলে এদের আত্মা তৃপ্ত হয়।
এরা মানুষকে গালি দিতে ভালোবাসে, অন্যের মুখে গালি শুনতে আরও বেশি ভালোবাসে।
মা-বোন উল্লেখ করা গালি হলে তো কথাই নাই, সেটা তারা আরও বেশি করে ইঞ্জয় করে।
এ কারণেই ইলিয়াস পিনাকি এই দেশের মানুষের মাঝে জনপ্রিয় সাংবাদিক। এ কারণেই ফাইয়াজ ইফতির মতো ছেলের ২ লাখ+ ফলোয়ার!
২) এই অভিশপ্ত জাতির মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাতের মানুষ হচ্ছে এই দেশের হুজুররা।
হুজুর মানে হুজুর। কোনো জাশি-টাশি না। ওভার অল হুজুর শ্রেণিই এরকম।
আল্লাহর কসম করে বলছি, গত দেড় বছরে আমি ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে যত মানুষের মুখে গালি দেখেছি তাদের ১০ জনের ৯ জনই ছিলো হুজুর।
এদের চিন্তাচেতনা এত নিকৃষ্ট, এত নিকৃষ্ট, এত নিকৃষ্ট যে আপনি তা পরিমাপও করতে পারবেন না।
এদের কথাবার্তা আর চিন্তাচেতনা দেখলে মনেহয় জীবনে এক অক্ষরও পড়ালেখা করে নাই।
এদের মাঝে বিন্দুমাত্র বিচারবুদ্ধি নাই, কোনোকিছু নিয়ে জানাশোনা নাই।
বিরোধী মতকে এরা সহ্যই করতে পারে না। জাস্ট ধ্বংস করে ফেলতে চায়।
উপরে যে গুজব-মিথ্যা-গালির ভক্ত বাঙালির কথা বললাম, হুজুররা হচ্ছে তাদের মধ্যে টপ।
আমি দেড় বছরে হাজার হাজার বার দেখেছি, বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত লোকেরা কী জঘন্য ভাষায় গালি দেয়।
মুখে দাড়ি, মাথায় টুপি, কিন্তু তর্ক শুরুর আগেই অপর পাশে থাকা মানুষটাকে জঘন্য ভাষায় গালি দিচ্ছে। একদম মা-বোনের উপরে উঠে যাচ্ছে, এমন অবস্থা।
কভার ফোটোতে মক্কা শরীফের ছবি, হজ্বও করে আসছে, কিন্তু শুধুমাত্র মতের অমিল হওয়ার কারণে মানুষকে বিশ্রী ভাষায় গালাগালি করতেসে। হাজারটা ট্যাগ দিচ্ছে।
আপনি যত গুজব দেখবেন, যত নোংরা রাজনীতির খেলা দেখবেন, সব এই হুজুররা সর্বপ্রথম পিক করে। এসবে এরা খুব মজা পায়। এগুলো এদের প্রিয় খাবার।
আর নারীদের নিয়ে এদের মনোভাবের কথা কী বলবো। একটা সময় ভাবতাম এদের সমস্যা নারীদের আস্ফালন নিয়ে। বিভিন্ন বিষয়ে বাড়াবাড়ি নিয়ে।
কিন্তু বিশ্বাস করেন, এদের বেশিরভাগ অংশ নারীদের এক্সিস্টেন্সই সহ্য করতে পারে না।
নারী দেখলেই এরা মনে করে চরিত্রহীন, খারাপ। নারী জিনিসটা যেনো এদের কাছে বিষের মতো।
আমি জানি না কেনো, কিন্তু হাতেগোনা দুই-একজন বাদে এই দেশের সব হুজুর এরকম!
গত দেড় বছরে এটা একদম কাছ থেকে দেখলাম।
এটা বোঝার জন্য আপনার বাম-নাস্তিক-শাহবাগী কিছুই হওয়া লাগবে না, একটু নিবিড় পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝবেন!
@Hasib Badsha Arko
Sunday, 28 December 2025
হাদীকে বাঁচতে দেওয়া হলো না ?
"হাদী সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ্জা-মান" কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিল:—
সাহস থাকলে কু করে দেখান। জনগণ গিয়ে ইট খুলে আনবে ক্যান্টনমেন্ট থেকে।
এটা কোনো হুমকি ছিল না—এটা ছিল জনতার শক্তির ঘোষণা।
"হাদী প্রধান উপদেষ্টার"চোখে চোখ রেখে বলেছিল:—
আমি বিশ্বাস করি, আপনি পালাতে আসেননি। তাই ভয় পাবেন না। নামগুলো বলেন— কারা আপনাকে কাজ করতে দিচ্ছে না। এই কথার ভেতর ছিল না ভদ্রতার মুখোশ, ছিল সত্য বলার সাহস।
"ইন্টেরিমের উপদেষ্টাদের" উদ্দেশে হাদী বলেছিল:—
একজন রিকশাওয়ালাও জানে—আপনাদের কেউ ভালো না। আপনারা জুলাইকে বেচে দিয়েছেন। এক পা বিদেশে, আরেক পা ক্ষমতার টেবিলে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে আপনারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
এই অভিযোগ কোনো গুজব না—এটা রাজপথের রায়।
"হাদী বিএনপি"-কে বলেছিল:—
শহীদ জিয়ার দলকে ভারতের দাস বানাতে দেবো না।
কারণ স্বাধীনতার নামে দাসত্ব মানে শহীদদের অপমান।
"হাদী জামায়াতে ইসলামী"-কে বলেছিল:—
নিজামী, সাঈদীর জামাতকেও ভারতের দাস হতে দেবো না।
কারণ আদর্শের কথা বলে পরাধীনতা মেনে নেওয়া সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি।
"হাদী এনসিপি"-কে সোজাসাপটা বলেছিল:—
তোমরা জুলাইকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়েছ।
মনে রেখো—জুলাই কোনো দলের না, জুলাই পুরো দেশের।
এই কথায় কেঁপে উঠেছিল অনেকের সাজানো বয়ান।
"হাদী এমনকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী-লীগের" ক্ষেত্রেও বলেছিল:— যারা গণহত্যায় জড়িত না, তাদের সাথেও ইনসাফ করতে চাই।
কারণ হাদীর রাজনীতি ছিল প্রতিশোধের না। ন্যায়ের।
ঢাকা–৮ আসনে হাদী নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাস আর হেলাল উদ্দীনকে
"ভাই" বলে দোয়া চেয়েছিল:—
কারণ সে শিখিয়েছিল, রাজনীতি মানেই শত্রুতা না, রাজনীতি মানেই মানবতা।
হাদী “হেভিওয়েট রাজনীতি”র মিথ ভাঙতে চেয়েছিল:—
ক্ষমতা আর টাকার কাছে মাথা নত না করে সবার জন্য সমান মাঠ গড়তে চেয়েছিল।
হাদী প্রমাণ করতে চেয়েছিল—
সততা, ভালোবাসা, ত্যাগ আর জনগণের ভাষা বুঝতে পারলে, কোটি টাকার প্রার্থীকেও হারানো যায়।
"হাদী চেয়েছিল" হিন্দুদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম:—
যাতে কোনো দল আর কোনো সময়
তাদের ভোটব্যাংক বানিয়ে ব্যবহার করতে না পারে।
হাদী স্বপ্ন দেখেছিল:—
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই দেশের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করানোর।
হাদী কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে যোগ্য, দক্ষ সাহসী মানুষ তৈরি করতে চেয়েছিল।
হাদী চেয়েছিল:—
জুলাইয়ের শহীদদের খু/নীদের বিচার।
"৫৭ বিডিআর" হ/ত্যার বিচার।
শাপলা গণহত্যার বিচার।
গুম–খুনে জড়িত ডিজিএফআইয়ের নরপশুদের বিচার।
হাদী দেখাতে চেয়েছিল:—
বিক্রি না হয়েও রাজনীতি করা যায়।
মুড়ি আর বাতাসা দিয়েও জনসংযোগ হয়।
কোটি টাকা ছাড়াও নির্বাচন করা যায়— যদি জনগণ পাশে থাকে।
আমি একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে ইন্টেরিম সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের কাছে জানতে চাই ?
এই চাওয়াগুলো কি এতটাই অপরাধ ছিল?
তাই কি হাদীকে বাঁচতে দেওয়া হলো না?
তাহলে আজ প্রশ্ন একটাই—?
*এই দেশে কি সততা নিয়ে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ?
*ইনসাফের কথা বললেই কি মৃত্যু অনিবার্য?
*জনগণের পক্ষে দাঁড়ালেই কি গুলি বরাদ্দ?
যদি, হাদীর স্বপ্ন অপরাধ হয়:- তাহলে এই রাষ্ট্র নিজেই অপরাধী।
আর যদি হাদীর চাওয়াগুলো সত্য হয়:— তাহলে হাদী মরেনি, হাদী আজও প্রশ্ন হয়ে এই জাতির বুকের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে যাচ্ছে।
জামায়াত'কে এখন আর রাজাকার বলার কোনো সুযোগ আছে কী ??
বর্তমান জামায়াত'কে এখন আর রাজাকার বলার কোনো সুযোগ রইলো কী বা আছে কী ..???
"৭১- এবং "২৪ এর জামায়াত কিন্তু এক নয়-;
জামায়াত'কে নিয়ে কিছু কথা....পড়ুন,
আশা করছি ভালো লাগবে- তবে, তেতো সত্য কথন।
প্রথমত বলতে চাই, জামায়াত তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে (যারা তাদের রাজাকার বলে, তাদের সবার গায়ে কালি লাগানোর কাজ)।
আমরা ১৯৭১ এর কারণ থেকে জেনে আসতেছি জামায়াত খুব খারাপ দল- মনে করেন, জামায়াত খুব খারাপ- মানে বেইশ্যা। এই বেইশ্যার সাথে যারা রাত কাটায়- তাদের কী বলা উচিত- বলেন-!?
ঝড়ের রাতে সেই বেইশ্যার ঘরে আশ্রয় নিয়ে- ঝড় থামার পর বের হয়ে যদি বলেন- ঝড়ের সময় বেইশ্যার ঘরে ছিলাম। একবার ভাবুন তো, এখানে কে সবচেয়ে বেশি খারাপ- বেইশ্যা নাকি- সেই আশ্রয়গ্রহনকারী- বলেন- কে-!?
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের মুরব্বিদের নেওয়া সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো না... ঈমানদার কখনও জালেম হতে পারে না--- উনারা যেটা করতে পারতেন-
১। পশ্চিম পাকিস্তান সরকারকে উনারা বোঝাতে পারতেন যুদ্ধ না জড়িয়ে- আপোষ মীমাংসা করার জন্য।
কারণ, দুই ভাই যখন বিবাদে জড়ায়- তখন দুই ভাইয়ের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীর ঈমানদারী কাজ হলো- দু-পক্ষ'কে বুঝিয়ে আপোষ মীমাংসা করে দেওয়া।
২। দুই ভাইয়ের বিবাদে তৈল ঢেলে- কোনো একপক্ষের জন্য কাজ করে অন্যজনকে ধ্বংস করে দেওয়া। দূর্ভাগ্যক্রমে জামায়াতের তখনকার নেতৃত্ব ২য় কাজটি করে- বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো।
যা-ই হোক, স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তারাও সেই ক্ষমা পাবার শর্তগুলো মেনে করে এইদেশে স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করতেছিলো।
শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর, খন্দকার মোশতাক, সায়েম এবং জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর- জিয়াউর রহমান, শেখ মুজিবের নিষিদ্ধ করা রাজনীতি উন্মোচিত করে- সকল দল ও মত'কে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দেন।
জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী নেতা এবং প্রশাসক।
তিনি চিন্তা করলেন- যত বেশি মত- ততো বেশি পথ, সুতরাং, যারাই ক্ষমতায় থাকবে ভয়ে থাকবে, সতর্ক থাকবে- ভুল করলে- ধরার লোকের অভাব তো নেই।
তার মানে, শাসক দল সবসময় সঠিক কাজটাই করার চেষ্টা করবে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।
জিয়াউর রহমানের এই চিন্তা-চেতনার কারণে, আবার বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে এবং সেই সুযোগে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামি লিগ এবং পাকিস্তান জামায়াতও- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে আবার রাজনীতির ময়দানে ফিরে আসে।
জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর, এরশাদ ক্ষমতায় আসে এবং স্বৈরাচার হয়ে... পতন হয় ১৯৯০ সালে।
সেই স্বৈরাচার এর পক্ষ নিয়ে- প্রথম সুযোগেই বেইমানি করে দেখায়- বহুদলীয় গণতন্ত্রের কারণে রাজনীতি করার সুযোগ পাওয়া আওয়ামি লিগ এবং জামায়াত।
১৯৮৬ সালে এই দুই দল আওয়ামি লিগ এবং জামায়াত আবারও এইদেশের মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এরশাদের সাজানো সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়- তার মানে এরশাদের হাতকে শক্তিশালী করে তোলে।
শুনেছি সেই নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা- কোরান ছুঁয়ে বলেছিলেন- যারা (১৯৮৬) এই নির্বাচনে অংশ নিবে- তারা হবে এদেশের জাতীয় বেঈমান। পরে সে নিজেই জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলো।
তাহলে, কী বোঝা গেলো- জামায়াত এবং আওয়ামি লিগ ১৯৭১ সালে মারামারি করলেও- আসলে তারা আপন মায়ের পেটের দুই ভাই...!! এই দুই দলের জন্মও হয়েছিলো বাংলাদেশ জন্ম হওয়ার আগে- পাকিস্তানে।
১৯৯০ সালে এরশাদের পতন হওয়ার পর, ১৯৯১ সালে ইতিহাসের প্রথম স্বচ্ছ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০ আসন লাভ করে- বাকী ১০ আসনের জন্য এই জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় যায় বিএনপি। জামায়াত পেয়েছিলো ১৮ সিট।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে সেই জামায়াত এবার আওয়ামি লিগের সাথে জোট করে তুমুল আন্দোলন করে আওয়ামি লিগকে ক্ষমতায় বসতে সাহায্য করে। আওয়ামি লিগ ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টিকে সুবিধা দিলেও, জামায়াত ৩টি সিট ছাড়া কিছুই পায় নাই।
আবার ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জামায়াত বিএনপি এর সাথে জোট করে- ২টা মন্ত্রীর পদ সহ ক্ষমতার স্বাদ পায়। এই নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করলেও- আন্দোলনের সঙ্গী হিসেবে জামায়াতকে নিরাশ করে নাই।
সারমর্ম হলো, এরই মধ্যে জামায়াত- জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং আওয়ামি লিগ'কে খাওয়া শেষ-!!!
২০০৬ এর পরের ইতিহাস তো আপনারা সকলেই জানেন। এতো কিছু জানার পর, এখন আমার প্রশ্ন হলো- একে একে সবাই তো জামায়াত'কে নিয়ে রাজনীতি করেছে- একসাথে খেয়েছে, ঘুমিয়েছে এবং ভোগ করেছে- তখন তো কারোর মুখে রাজাকার বলে বমি আসে নাই- এইটা একদম চরম সত্য কথা।
জামায়াত নিজের ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক, সকল দলের কাজে লেগেছে- সবার সাথে গেছে। সকল দল তাদের বিপদের সময় জামায়াতকে পেয়েছে বা ব্যবহার করেছে। বিপদ কেটে গেলে ছিটকে ফেলেও দিয়েছে। জামায়াতের একটা দূর্বলতা, কেউ যখন তাদের কানের কাছে গিয়ে জোর গলায় রাজাকার বলে ডাক দেয়- তখন তারা সঠিক উত্তরটা দিতে পারে না।
জামায়াতের সবচেয়ে বড়ো বোকামি হলো- তারা মনে করে তারা বেশি বুঝে- অথচ, এটা বুঝে না সবাই তাদেরকে ব্যবহার করেই আজ এতো শক্তিশালী হয়েছে। দেশের কঠিন সময়ে জামায়াত সবসময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে- এবং সেটা লোভ করতে গিয়ে।
জামায়াতের মধ্যে এই মুহূর্তে চিহ্নিত কোনো যুদ্ধাপরাধী নেতা নেই। সুতরাং, জামায়াতকে এখন আর রাজাকারের দলও বলা যাচ্ছে না।
এনসিপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিস এবং চরমোনাই (সারাজীবন জামায়াতকে মোনাফেক ফতুয়া দিতো)। সবাই তো জামায়াতের সঙ্গে জোট করতেছে- কতেক মুক্তিযোদ্ধাও জামায়াতে যোগ দিয়েছে এবং দিবেও... তারমানে জামায়াত এখন আর রাজাকারের দল নয়-!?
২০টা বছর এইদেশে সঠিক নির্বাচন হয় নাই।
দীর্ঘ এই সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে কে কতোটুকু শক্তিশালী, সেই হিসেবটা করার জন্য হলেও- উচিত ছিলো সামনের নির্বাচনটা সবাই এককভাবে করা।
তাহলে, সকলেই সকলের শক্তিমত্তা সম্পর্কে বুঝতে পারতো এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা হতো। এভাবে, হুজুগে জোট করার কোনো মূল্য নেই- এতে দেশের জনগণের কোনো উপকার হবে না- উন্নয়ন হবে জোটের- অন্যায় করলেও জোটের বাহিরে কেউ কথা বলবার সুযোগ পাবে না।
পরিশেষে: একটা কথাই শক্ত করে বলে রাখি- জামায়াত সাকসেস- তবে কিভাবে-!? শুনেন তাহলে- জামায়াতকে আপনারা যারা রাজাকার বা পায়খানা মনে করেন- জামায়াত সেই পায়খানা সবার গায়ে লাগিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
এই লেখার পরে আর কখনও জামায়াতকে নিয়ে কিছু বলার আছে কিনা- তা ভবিষ্যৎ বলে দিবে। ভবিষ্যৎ জামায়াতের জন্য শুভকামনা কামনা রইলো।
তবে, করজোড়ে জামায়াতের নিকট অনুরোধ করছি- দেশে আর প্যাচ লাগাইয়েন না- যেখানে সেখানে গিয়ে আগুনে ঘী ঢালিয়েন না। আপনারা সঠিক পথে থাকলে দেখবেন মানুষই ছুটে যাবে- কাউকে ডাকতে হবে না।
কেবল ভারত বিরোধিতায় আমি জামায়াতের সাথে একমত- ভবিষ্যতে এরকম আরও কিছু মিলে যেতে পারে। শুধু দ্বিচারিতার দোকানটা বন্ধ রাখবেন।
পিআর, স্থানীয় নির্বাচন, গণভোট- জামায়াত কতো পাগলামী করলো- কী লাভটা হলো- আপনাদের কর্মীরা কয়দিন লাফালাফি করলো- এখন তাদের জবান বন্ধ হয়ে গেছে লজ্জায়। প্রত্যেকটি মবের সাথে জামাতের ইন্ধন রয়েছে বা করিয়েছে।
এসব করে মাঝখান দিয়ে অন্য দলগুলোর সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দেশের এই বিশেষ সময়ে এসব পাগলামি না করলেও হতো। জামায়াত এসব কাজ করেছে, তার একটাই কারণ, তাদের মধ্যে দূরদর্শী নেতার অভাব।
সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে একসাথে থাকুন। অপশক্তি যেন আর কোনোদিন ভারত থেকে এদেশে আসতে না পারে, সেই কাজটায় সবসময় একমত থাকতে হবে। জামায়াত এখন রাজাকার মুক্ত।
মুক্তিযুদ্ধ এবং রাজাকার- শব্দ ব্যবহার করে রাজনীতি করা- দেশের জনগণকে দুইভাগ করে- রাজনীতি করার কৌশল চিরোদিনের জন্য এদেশ থেকে কবর দিয়ে দিতে হবে। নেতৃত্বের গুণাবলি-ই হলো একতা।
Subscribe to:
Comments (Atom)