Monday, 5 January 2026

আমেরিকা যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে নয়, সুযোগ দিয়ে

রাশিয়ার সামরিক শক্তি আছে, কিন্তু রাজনৈতিক দুঃসাহস নেই—এই কারণেই জেলেনস্কিকে মাদুরোর মতো ধরে এনে নাটক শেষ করার ক্ষমতা তাদের হয়নি। চীনের অর্থনীতি বিশাল, কিন্তু ঝুঁকি নেওয়ার সাহস সীমিত—তাইওয়ান ইস্যুতে তারা হুংকার দেয়, যুদ্ধ শুরু করে না। কারণ আধুনিক যুগের যুদ্ধ আর ট্যাংক–বোমার যুদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্র ভাঙার যুদ্ধ, নেতৃত্ব অপসারণের যুদ্ধ, সমাজের ভেতরে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার যুদ্ধ। এই খেলাটা খেলতে পারে হাতে গোনা কয়েকটি রাষ্ট্র—আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকা যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে নয়, সুযোগ দিয়ে। তারা ডলার ছুড়ে দেয়, #নিষেধাজ্ঞা চাপায়, অভ্যন্তরীণ #বিভাজন উসকে দেয়, #বিশ্বাসঘাতকতা কিনে নেয়। সেখানে বীরত্বের দরকার হয় না; দরকার হয় ব্যাংক, ড্রোন, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আর নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া। এ কারণেই আজ পৃথিবীতে প্রকৃত মিলিটারি সুপারপাওয়ার একটাই—যুক্তরাষ্ট্র। বাকিরা বড়জোর আঞ্চলিক শক্তি, নয়তো উচ্চস্বরে চিৎকার করা দর্শক। চীন যদি পূর্ণ সক্ষমতায় এক বছর যুদ্ধ চালায়, তার তথাকথিত ‘অলৌকিক অর্থনীতি’ ভেঙে পড়বে। কারণ যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের হিসাব নয়—এটি জ্বালানি, খাদ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহনশীলতার হিসাব। যাদের পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, তারা দীর্ঘ যুদ্ধের খরচ বইতে পারে না। আর ইরান—পশ্চিমাদের আসল আতঙ্ক এখানেই। তারা জানে, ইরানকে যদি মাত্র এক বছর সব নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়, তাহলে এমন সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার মানচিত্র ছিঁড়ে টুকরো করে দেবে। কারণ ইরানের আছে নিজস্ব ইতিহাস, সভ্যতা, শিক্ষা, গবেষণা অবকাঠামো এবং ব্যবহারযোগ্য বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। ঠিক এই কারণেই ইরানকে দমবন্ধ করেই রাখা হচ্ছে—শক্তি হয়ে ওঠার আগেই শ্বাসরোধ। আজকের পৃথিবীতে আঞ্চলিক সামরিক জোট ছাড়া আমেরিকার সামনে কেউ নিরাপদ নয়। ভেনেজুয়েলার পাশে বাস্তবে কেউ নেই—আছে শুধু ভণ্ড বিবৃতি, ক্যামেরাবান্ধব উদ্বেগ আর ঠুনকো নৈতিকতার অভিনয়। লাতিন আমেরিকা যদি সত্যিকারের এক কণ্ঠে দাঁড়াত, তাহলে ওয়াশিংটনের জন্য এই আগ্রাসন এতটা সহজ হতো না। বিভক্ত জাতি মানেই সহজ শিকার—এটাই সাম্রাজ্যবাদের পরীক্ষিত সূত্র। আর এখানেই সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা লুকিয়ে আছে—বাংলাদেশের ওপর যদি বাস্তব চাপ আসে, ভাইয়ের মতো পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো শক্তি কি আছে? নেই। আছে কেবল কূটনৈতিক হাসি, ভারসাম্যের বুলি আর আত্মসমর্পণের পরামর্শ। এই বিশ্বে দুর্বলরা বন্ধু পায় না—পায় কেবল ব্যবহারকারীদের। শক্তি না থাকলে নৈতিকতা শুধু বক্তৃতা, আর সার্বভৌমত্ব থাকে কাগজে লেখা একটি শব্দ। 'আর বাকীসব #মায়াকান্না'