Thursday, 16 April 2026

স্পিকার শিরিন শারমিনের 'সততা ও নির্লোভ' জীবন নানা গল্প

কয়েকদিন ধরে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিনের 'সততা ও নির্লোভ' জীবন নানা গল্প শুনছি। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ, তথা স্পিকার হওয়ার 'গল্প' তাহলে আজ বলি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও, শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ এবং রংপুর-৬ আসন থেকে ভোটে 'জেতেন'। তবে শিরিন শারমিন ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না। তিনি ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হয়ে প্রথমে প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে হয়ে যান স্পিকার। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদ শুরু হয়। এর পাঁচদিন আগে ২৪ জানুয়ারি নবম সংসদ বিলুপ্ত করা হয়। শিরিন শারমিন এর মাধ্যমে সাবেক এমপি হয়ে যান। শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেন, শিরিন শারমিনকেই আবার স্পিকার বানাবেন। কিন্তু স্পিকার হতে গেলো তো এমপি হতেই হবে। এটাই সংবিধান। কিন্তু তিনি তো নির্বাচনই করেননি এমপি হবেন কী করে! আর সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হচ্ছে, সংসদের প্রথম দিনেই স্পিকার নির্বাচন হবে। তাই শিরিন শারমিনকে ২৯ জানুয়ারির আগেই এমপি হতেই হবে। যা অসম্ভব ছিল না। আর সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি হতে হলে আরও ৬০-৬৫ দিন অপেক্ষা করতে হতো। তাহলে আর স্পিকার হওয়া সম্ভব না। কিন্তু শেখ হাসিনা 'যথারীতি' একটা নজিরবিহীন পথ বের করলেন। তিনি রংপুর-৬ আসন ছেড়ে দিলেন। আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হতে হবে। এবার যেমন তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হয়েছে গত ৯ তারিখ। গত ২০ ফেব্রুয়ারির তপশিল ঘোষণার ৪৪ দিন পর এই নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত তপশিল ঘোষণা থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪১ দিন সময় দেওয়া হয়। কিন্তু 'ম্যাজিক' হয় শিরিন শারিমনের জন্য। ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি রংপুর-৬ আসনের উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হয়। (কমেন্টে লিঙ্ক) বলা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। ২৭ জানুয়ারির মধ্যে মনোয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মনোয়নপত্র দাখিলের জন্য সাধারণত ১২ থেকে ২১দিন সময় দেওয়ায় হয়। এবার যেমন ১৮ দিন সময় ছিল। কিন্তু শিরিন শারমিনকে এমপি বানাতে সময় দেওয়া হয় ৭ দিন। তারপর রংপুর ডিসি অফিস এবং পীরগঞ্জ ইউএনও অফিসে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে পাহারা বসানো হয়, যাতে আর কেউ মনোনয়নপত্র কিনতে না পারে। নুর আলম নামে জাতীয় পার্টির এক নেতা গিয়েছিলেন মনোনয়নপত্র কিনতে। উনাকে ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত শিরিন শারমিন ছাড়া কেউ মনোনয়নপত্র কিনতে পারেননি। ২৮ জানুয়ারি, মানে মাত্র একদিন সময় ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের জন্য (হা হা হা হা)। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। সাধারণত বাছাইয়ে চার-পাঁচদিন সময় দেওয়া হয়। কাউকে মনোনয়ন ফরম তুলতে দেওয়া না দেওয়ার কারণ হলো; পাগল ছাগল যাই হোক আরেকজন প্রার্থীও যদি থাকে, তাহলে ২০ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। তখন আর শিরিন শারমিন স্পিকার হতে পারবেন না। তিনি একমাত্র প্রার্থী হওয়ায়, ২৮ জানুয়ারি বাছাইয়ের দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেন। নিয়ম হচ্ছে, ফল ঘোষণার তিনদিনের মধ্যে গেজেট হবে। কিন্তু তড়িৎ গতিতে সেইদিন বিকেলেই শিরিন শারমিনকে এমপি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন! ফল ঘোষণার তিনদিনের মধ্যে শপথ হয়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলা এমপি হিসেবে শপথ নিয়ে দুপুরে স্পিকার পদে পুনঃনির্বাচিত হয়ে যান শিরিন শারমিন। আর আজকাল উনারই সততার গল্প শুনতে শুনতে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি। ম‌্যুরাল অব দ‌্যা স্টো‌রি হ‌চ্ছে, অ‌যোগ‌্য কাউকে খা‌তির ক‌রে নিয়মকানুন ভে‌ঙে যে প‌দেই বসান না কে‌নো, প্রয়োজ‌নের সময় কা‌জে আস‌বে না। প্রতিষ্ঠান‌কে শ‌ক্তিশালী করুন, এতে আপাতত ক্ষমতা কম‌লেও এক‌দিন নিজেই এর সুফল পা‌বেনই।

No comments:

Post a Comment