Thursday, 16 April 2026

১০ বছর ধরে তিলে তিলে অর্থ জমা দিয়ে পদ্মা লাইফ ইন্সুরেন্সে একটা ডিপিএস আর একটা পেনশন স্কিম খুলেছিলাম। সম্ভবত ৯ম বছরে এসে এই ইন্সুরেন্স কোম্পানি এস আলমের কবলে পড়ে। সে বোর্ড অফ ডিরেক্টরস দখল করে পদ্মা লাইফের প্রায় ৪০০-৪৫০ কোটি টাকার ফান্ড লুটপাট করে বলে শুনেছি। আমার স্কিম দুইটা ম্যাচিউরড হওয়ার এক বছর পরে দাবী আদায়ে অফিসে দেখা করলে বলা হয়, এক দেড় বছরের মধ্যে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেন নেই? সরকারী রেজিস্ট্রেশন পাওয়া, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত একটা কোম্পানিতে ১০ বছর ধরে বিনিয়োগ করার পর সেটা রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় কোন এক মাফিয়া ব্যাংক লুটেরা এসে পুরোটা ডাকাতি করে নিয়ে যাবে, এ কেমন সভ্য দেশ? সেই ডাকাতের কোন বিচার হবে না৷ বরং তাকে পুরষ্কৃত করার জন্য নতুন সরকার এসে নতুন কালো আইন তৈরি করবে, এ কেমন রাষ্ট্র!! তখন এস আলমের মালিকানাধীন সব তলা বিহীন কোম্পানিতে তার এলাকার অযোগ্য কিছু লোকজনকে মাসিক বেতনে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল৷ তারা বসে বসে অন্যদের উপরে মোড়লগিরি ফলানোর জন্য মাসিক চুক্তিতে ভাড়া খাটত। আর কোন অফিস কর্মচারী এস আলমের বিরুদ্ধে কিছু বললে তার চাকুরি যেত নইলে তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হত। যেমন ইসলামী ব্যাংকে হাজার হাজার অযোগ্য, কম শিক্ষিত আর কম অভিজ্ঞ লোকজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই চাকুরি দেয়ার বিনিময়ে নেয়া হয়েছিল বিশাল অংকের ঋণ। সেই ঋণ কিন্তু শোধ করার সামর্থ্য এদের নেই। এদের একটা বড় অংশকে যখন জনাব ওমর ফারুক চাকুরিচ্যুত করেন, তখন এই অর্ধশিক্ষিতরা হইচই শুরু করে। ৫টা লুটপাট হয়ে যাওয়া ব্যাংককে একত্রীকরণ করে তৈরি করা হয়েছে "সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক"। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এস আলমের মত লুটেরা আর ব্যাংক মালিকদের ফিরে আসার পথ রুদ্ধ করে তৈরি করেছিলেন ব্যাংক আইন অধ্যাদেশ। সেই আইন পাশ করার পূর্ব মুহূর্তে কোন বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এতে একটা চরম বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা যুক্ত করে, যাতে এস আলমের মত পূর্বের ডাকাত আর লুটেরা ব্যাংক মালিকরা মাত্র ৭.৫% অর্থ পরিশোধ করে, মালিকানায় ফিরে আসতে পারে। কমিটির অধিকাংশ সদস্য আর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। বলা হচ্ছে, আগের সরকারের কোন দায়ের জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করা যাবে না। তারা আগের সরকারের ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য না৷ তারা এস আলমদের লুট করা টাকা ফেরত আনতে পারবে না। তাহলে প্রশ্ন হল, তারা এস আলমদের ফিরে আসার দরজা কেন খুলে দিচ্ছে? একজন চোর বা ডাকাত হঠাৎ ভাল হয়ে যাবে, এরকম মিরাকল দুনিয়ায় ঘটে না৷ উলটা তারা আরো ফন্দিফিকির করবে কিভাবে বাকিটা লুট করা যায়। আমার দুইজন আত্মীয়ের ২৫ লাখ করে এফডিআর আছে এক্সিম ব্যাংক আর ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে। বিনিময়ে তারা দেয় মাসে ১০-১৬ হাজার টাকা। দুই বছর ধরে এফডিআর ভাঙ্গার কোন সুযোগ নেই। এখন বিএনপি যদি সোজা ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষণা করে তাহলে লাখ লাখ আমানতকারী কই যাবে? তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করেছিল, বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশ্বাস করেছিল, নির্দিষ্ট একটা ব্যাংককে বিশ্বাস করেছিল। তারা তো বিনিয়োগ করেনি। তারা মূলত টাকা নিরাপদ রাখার জন্যই ব্যাংকে রাখত। রাষ্ট্র একটা সিস্টেম৷, এই সিস্টেমের দায় এর পরিচালকদের। পূর্ববর্তী পরিচালকদের ভুলত্রুটি মেটানোর দায় পরবর্তীতে যারা সেধে পরিচালক হবে তাদের৷ বিদেশী ঋণ কি তারা শোধ করে না? তাহলে দেশী ঋণ পরিশোধে তাদের গড়িমসি কেন? Atique UA Khan

No comments:

Post a Comment