Thursday, 2 July 2026

ড. ইউনূস ৬৬৬ কোটি টাকা কর মাফ করেছেন !! সত্য জানি ।

টকশোতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে। যেমন টকশোতে ডা. আবদুর নুর তুষার বললেন, ড. ইউনূস ক্ষমতায় বসে নিজের ৬৬৬ কোটি টাকা কর মাফ করেছেন। সহআলোচক ও সঞ্চালকও যেহেতু পত্রিকা পড়ে না, তাই এই ডাহা মিথ্যাটা ধরতেও পারেননিও খন্ডনও করতে পারেননি। প্রথম কথা হল আলোচিত ৬৬৬ কোটি টাকা কর গ্রামীণ ব্যাংকের নয়। যেটা তুষার সাহেব দাবি করেছেন। মূল ঘটনা খুবই সিম্পল। ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময়ই আইনে বলা হয়, অন্যান্য ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মত গ্রামীণ ব্যাংককে আয়কর দিতে হবে না। কারণ বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গরিবদের নিয়ে কাজ করে বলে কর দিতে হয়। দাতব্য, অলাভজনক সংস্থাগুলোকেও দিতে হয় না। ২০১৩ সালে শেখ হাসিনা সরকার যখন নতুন করে গ্রামীণ ব্যাংক আইন করে তখনও, প্রতিষ্ঠানটিকে কর অব্যহতি দেওয়া হয়। তবে ২০২১ সালে হুট করে কর বসিয়ে দেয়। কেনো বসিয়েছে, তা সবাই বোঝে। এর আগেও ইউনূস ও হাসিনা ক্যাচাল লাগার পর, ২০১১ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের কর মাফের সুবিধা বন্ধ করে এনবিআর। তখন গ্রামীণ ব্যাংক ১০ কোটি পরিশোধও করে। পরে দেখা যায়, যে আইনে গ্রামীণ ব্যাংক চলছে তাতে কর নেওয়া সম্ভব না। সে কারণেই ২০১৩ সালে নতুন আইন করা হয়। এই আইনে গ্রামীণ ব্যাংককে নির্দিষ্ট সময় পর পর সরকারের কাছে আবেদন করতে হতো, কর অব্যহতির জন্য। যাই হোক আগে নেওয়া ১০ কোটি ফেরত দেয়নি এনবিআর। কারণ হিসেবে তারা বলে, কাজটা আইন মোতাবেক না হলেও কর ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই। যে ৬৬৬ কোটি টাকা কর মাফের কথা বলা হচ্ছে, তা গ্রামীণ ব্যাংকের নয়। ২০২১ সালে কর আরোপের পর, গ্রামীণ ব্যাংক তা তিন বছর পরিশোধ করে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউনূস সরকারে আমলে আবার গ্রামীণ ব্যাংককে পাঁচ বছরের জন্য কর মুক্ত সুবিধা দেওায় হয় অতীতের মত। তাহলে এই ৬৬৬ কোটি টাকা কোথা থেকে এলো? এটা হলো গ্রামীণ কল্যাণ নামে ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত আরেকটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের। এই প্রতিষ্ঠানের কাছে এনবিআর ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবি করলে, ড. ইউনূস ২০১৭ সালে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। তাদের আর্গুমেন্ট ছিল, বাংলাদেশে মাস্তুল, দারুস সুন্নাহ, বিদ্যানন্দসহ কোনো অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে কর দিতে হয় না, তাহলে গ্রামীণ কল্যাণকে কেনো দিতে হবে? কিন্ত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়, গ্রামীণ কল্যাণকে কর দিতে হবে। কিন্তু এর পরেই ফাঁস হয়, আসল প্রতারনার কাহিনী। জুনিয়র বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামান পূর্ণাঙ্গ রায় লিখতে গিয়ে দেখেন, তার সিনিয়র খুরশীদ আলম সরকার বিচারপতি হওয়ার আগে এই মামলাতেই ডেপুটি অ্যাটর্নি হিসেবে ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনজীবী ছিলেন। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো আইনজীবী কোনো মামলায় যদি বাদি বা বিবাদীর পক্ষে একবার কোর্টের দাঁড়ান, তাহলে বিচারপতি হওয়ার পর তিনি ওই মামলা আর বিচার করতে পারবেন না। কিন্তু শুনানির ছয় মাস ধরে খুরশীদ আলম সরকার এই সত্য গোপন করেন। বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের একসময়কার নেতা খুরশীদ আওয়ামী লীগের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বির জামাতা। এই জালিয়াতি এই ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালে খুরশীদকে বিচারপতি পদ থেকে অপসারণ করা হয়। জুনিয়র বিচারপতি মনিরুজ্জামান জালিয়াতিটি ধরার পর, হাইকোর্ট ২০২৪ সালের অক্টোবরে রায় প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ এটাই নিয়ম। তারপর এই মামলা আবার পাঠানো হয়, প্রধান বিচারপতির কাছে। তিনি নতুন বেঞ্চ দেওয়ার পর, এই মামলা এখনও চলছে। কর দিতে হবে কী, হবে না, তা আদালত বুঝুক। (গ্রামীণের আইনজীবী তখনই বলেছিল, ইউনূস এখন ক্ষমতায় থাকায় মনে হবে, রায়টি রিকল হয়েছে। অথচ আকামটা করেছে বিচারপতি)। ফলে ইউনূস তার কর মাফ করিয়েছেন, এই দাবিটি ডাহা মিথ্যা। আমি যা লিখলাম, একটাও গোপন ব্রেকিং কোনো তথ্য না। সবগুলো দেশের পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কিন্তু টকশোতে যে বিজ্ঞ লোকেরা যান, এরা ফেসবুক ছাড়া কিছুই পড়েন না। টকশোতে মন মত মিথ্যা বলেন। কেউ ধরেও না। উন্নত গণতেন্ত্রর দেশ হলে মানহানীর মামলায় পড়ে জাঙ্গিয়া বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হতো।