Thursday, 27 August 2026
মক্কা প্যাক্ট, জিও-পলিটিকস এবং বাংলাদেশ ।
মক্কা প্যাক্টে যোগ দেয়ার জন্য জিও পলিটিক্যাল হিসাব নিকাশ দরকার। এই ব্যাপারে ন্যাশনাল ডায়লড দরকার।
সেনাবাহিনীর অবস্থান জানা দরকার, তাদের এইখানে মেজর স্টেক থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী ডিফেন্স প্যাক্টে যোগ দেয়া হবে এতো সহজ নয় ব্যাপারটা।
এছাড়া ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে ডিফেন্স প্যাক্টে যোগ দিলে, পানি চুক্তি, বর্ডার কিলিং, করিডোর, ট্রেড, জ্বালানী - বিদ্যুৎ এর চুক্তির উপর ইমপ্লিকেশন কি হবে সেগুলোর ব্যাপারে ডিপ রিসার্চ আর এ্যানালিস দরকার। এটা শুধু আজকের জন্য নয় ২০ বছর পর - ৩০ বছর পর কি হবে সেই ব্যাপারে গেম থিওরী মডেল বানানো দরকার।
এইখানে দেখার মতো ব্যাপার হচ্ছে মূল ইস্যুটা হচ্ছে একটা মুসলিম কোয়ালিশন তৈরি করা। ভারত যেমন সবচে বড়ো হিন্দু রাষ্ট্র আর পৃথিবীর ৯০% হিন্দু ভারতে থাকে তাদের পক্ষে হিন্দুদের অধিকার আদায় করা সহজ।
মুসলিমদের রাষ্ট্রের সংখ্যা ৫০+। এবং এই রাষ্ট্র গুলো আফ্রিকা থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৮০ কোটি মুসলিম এক রাষ্ট্রে থাকলে মুসলিমদের উপর অত্যাচার - অনাচার কমে যেতো।
এইখানে দেখার ব্যাপার হচ্ছে -> ইসলামিক ন্যাটো যে বলা হচ্ছে সেখানার সদস্য গুলো মুসলিমদের রক্ষার ব্যাপারে ভুমিকা কি?
প্যালেস্টাইনে মুসলিম নিধনের ব্যাপারে সৌদি আরবের কোন কার্যকর ভুমিকা নাই, পাকিস্তানের নাই, তুরস্কের নাই।
কাশ্মীরে মুসলিম উপর অত্যাচারের ব্যাপারে সৌদি আরবের কোন ভুমিকা নাই, তারা বরং ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রাখে। প্যালেস্টাইনে
ইসরায়েল আর আমেরিকা যৌথ ভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে। সৌদি আরব, আমেরিকার সবচে কাছে এ্যালাই গুলোর একটা।
সুতরাং মুসলিম দেশ হলেই এরা যে মুসলমানদের ব্যাপারে আগ্রহী এটা ভুল চিন্তা। এদের সেই মানসিকতা, শক্তি, সদিচ্ছা কোনটাই কখনো নাই, ছিলো না।
সুতরাং মক্কা প্যাক্ট হলেই মুসলিমদের সুবিধা হবে এটা ভাবা ভুল। বরং জিও পলিটিক্সের এঙ্গেল থেকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনা করা উচিত।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে দেখা হবে সবচে বড়ো ভুল। স্বার্থ বিবেচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আরো দেখার ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তান নিজেই বাংলাদেশের উপর একটা গণহত্যা চালিয়েছে। এদের বাংলাদেশের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চেঞ্জ হয়েছে এটা আশা করা উচিত হবে না।
হ্যা, ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে হয়তো পাকিস্তান হেল্প করবে। সেটা কতোটুকু সেটা এক্সপার্টরাই এস্টিমেট করতে পারবে।
___
ডিফেন্স প্যাক্টের সবচে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হচ্ছে ভারতের বিরুদ্ধে ডিটারেন্স। ভারত ৩-৪টা ইলেকশনে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। নিজেদের এজেন্ট বসিয়ে ভেসেল স্টেট তৈরি করতে চেয়েছে।
যারা এই প্যাক্টের বিরুদ্ধে তাদের এই পয়েন্টের বিরুদ্ধে কোন আলোচনা করতে দেখলাম না।
বাংলাদেশের এই প্যাক্টের যোগ দেয়ার সবচে বড়ো কারন ভারতের বিরুদ্ধে শক্তিমত্তা অর্জন।
___
বাংলাদেশ যদি ডিফেন্স প্যাক্টে না থেকে সৈন্য সাপ্লাই দিতে পারে, অস্ত্র, প্রযুক্তি সাপ্লাই দিতে পারে, প্রযুক্তি-অস্ত্র নিতে পারে।
সৌদির প্রতিরক্ষায়, তাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচারে শুধু শ্রমিক না পাঠিয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠি সাপ্লাই দিতে পারে সেটা হবে বাংলাদেশের জন্য উইন উইন সিচুয়েশন। ভারতকে যদি ডিটারেন্সের জন্য ভয়ে রাখা যায় সেটাও আরেক উইন উইন সিচুয়েশন হবে জয়েন না করেই।
অনেকে র্যান্ডমলি জিজ্ঞেস করছেন ফেসবুক এক্টিভিস্ট/নেটিজেনদের কাছে। যেন তাদের পজিটিভ অপিনিয়ন দিলে মক্কা প্যাক্টে ঢুকে যাওয়া নিশ্চিত।
তারপরো আলোচনা হচ্ছে এটা ভালো একটা দিক।
এই ব্যাপারে জিও পলিটিক্স এক্সপার্ট না, কিন্তু এ আই রচিত অনেক গুলো আর্টিকেল পড়লাম। সেখানে প্রোস এন্ড কনস দেয়া। এক্সপার্টদের অপিনিয়ন এইখানে মিসিং।
মক্কা প্যাক্টের ব্যাপারে অনেককেই বলতে শুনলাম, বাংলাদেশ ৫০ বছর স্বাধীন থেকে, সার্বভৌম ভাবে পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করেছে।
গেলো ১৭ বছর তো ভারতের পররাষ্ট্রনীতিই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ছিলো।
বাংলাদেশ কি আজকে আমেরিকার বিরুদ্ধে কোন পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করতে পারবে?
সেই অর্থে আমার বড়ো ডাউট আছে এই মন্তব্যের ব্যাপারে যে বাংলাদেশের কখনোই কারো অধিনে যাবে না।
ভুল।
বাংলাদেশে আগেও অধীনে ছিলো, যতোদিন অর্থনৈতিক যোগ্যতা অর্জন না করতে পারে বাংলাদেশে বড়ো বড়ো দেশ গুলোরই অধীনে আছে আর থাকবে।
আমাদের পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন নয়, আমরা স্বাধীনতার অভিনয় করতে পারি মাত্র।
বাংলাদেশীদের এতে দুঃখ পাবার কিছু নাই, তথাকথিত শক্তিশালী রাষ্ট্র পাকিস্তান সম্পূর্ন ভাবে আমেরিকার নিয়ন্ত্রনে, বিশেষ করে তাদের সেনাবাহিনী।
সৌদী আরবের পেট্রোডলার বেসিক্যালি আমেরিকার মানি প্রিন্টিং মেশিন। সৌদী আরবের মতো রাষ্ট্রও আমেরিকার অধীনে।
ইভেন মক্কা প্যাক্ট আসলে ব্যাকড বাই আমেরিকা। ট্রাম্প নিজেই এই প্যাক্টকে স্বাগত জানিয়েছে, প্রশংসা করেছে।
আমেরিকা যদি কোন রাষ্ট্রকে এ্যাটাক করে মক্কা প্যাক্টের রাষ্ট্র গুলো কি তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে?
কখনোই না। তাহলে এটা কিসের বিরুদ্ধে কার বিরুদ্ধে ডিফেন্স প্যাক্ট? ইসরায়েল যদি টার্কি আক্রমন করে তাহলে আমেরিকা কি এই প্যাক্টের সদস্যের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গিয়ে সাপোর্ট দিবে?
প্রশ্ন আসে খুব সহজেই।
____________
আমি জিও পলেটীক্স বা ডিফেন্স এক্সপার্ট নই। আমার মতামতও গুরুত্ব সহকারে নেয়া উচিত হবে না। আমি শুধু কিছু পয়েন্ট টুকে রাখলাম।
Subscribe to:
Posts (Atom)