Friday, 18 April 2025

৫০টি ফ্রি AI টুলের তালিকা

নিচে ৫০টি ফ্রি AI টুলের তালিকা বাংলা সিরিয়াল নাম্বারসহ দেওয়া হলো, যেগুলো আপনার কাজকে ১০ গুণ দ্রুত করতে সাহায্য করবে — ১. ChatGPT – যেকোনো লেখা বা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। ২. Canva AI – ডিজাইন তৈরি ও কনটেন্ট সাজাতে AI সহায়তা। ৩. Pictory – লেখা থেকে অটো ভিডিও তৈরি করে। ৪. Copy.ai – মার্কেটিং কপিরাইটিং বা ব্লগ লেখে। ৫. Jasper AI – ব্লগ, বিজ্ঞাপন, ইমেইল লেখায় সাহায্য করে। ৬. Grammarly – ইংরেজি লেখার ভুল ধরিয়ে সংশোধন করে। ৭. Quillbot – লেখাকে রি-রাইট বা প্যারাফ্রেজ করে। ৮. Synthesia – AI এভাটার দিয়ে ভিডিও বানায়। ৯. Looka – লোগো ও ব্র্যান্ড ডিজাইন করে। ১০. Remove.bg – ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করে এক ক্লিকে। ১১. Leonardo AI – কল্পনাশক্তির ইমেজ ডিজাইন করে। ১২. Durable – কয়েক সেকেন্ডে ওয়েবসাইট তৈরি করে। ১৩. SlidesAI – লেখা থেকে অটো স্লাইড প্রেজেন্টেশন বানায়। ১৪. Runway ML – ভিডিও এডিটিং ও AI ভিজ্যুয়াল এফেক্টে সাহায্য করে। ১৫. Tome – স্টোরি-বেইজড প্রেজেন্টেশন তৈরি করে। ১৬. Notion AI – নোট নেয়া, টাস্ক ম্যানেজমেন্ট ও লেখায় সাহায্য করে। ১৭. Krisp – কলের ব্যাকগ্রাউন্ড নোইজ রিমুভ করে। ১৮. Cleanup.pictures – ছবির অবাঞ্চিত জিনিস মুছে ফেলে। ১৯. Replika – AI ভার্চুয়াল বন্ধু বা চ্যাট সঙ্গী। ২০. Soundraw – AI দিয়ে অরিজিনাল মিউজিক তৈরি করে। ২১. Beatoven – ভিডিও/পডকাস্টের জন্য মিউজিক তৈরি করে। ২২. Voicemod – ভয়েস চেঞ্জ বা ভয়েস ইফেক্টে ইউজ হয়। ২৩. Lumen5 – ব্লগ থেকে ভিডিও কনভার্ট করে। ২৪. Descript – ভিডিও এডিট করে টেক্সট দিয়ে। ২৫. Kaiber – AI দিয়ে ভিডিও অ্যানিমেশন বানায়। ২৬. AutoDraw – হ্যান্ড-ড্রয়িংকে পারফেক্ট ডিজাইনে রূপ দেয়। ২৭. ElevenLabs – রিয়েলিস্টিক ভয়েস জেনারেশন করে। ২৮. Heygen – AI স্পোকেন ভিডিও বানায় ফেস ও ভয়েস দিয়ে। ২৯. Writesonic – কনটেন্ট রাইটিং ও কপি তৈরি করে। ৩০. Play.ht – ব্লগ বা লেখাকে ভয়েসে পরিণত করে। ৩১. Papercup – ভিডিওর ভয়েস অন্য ভাষায় ডাব করে। ৩২. AI Dungeon – ইন্টার‍্যাকটিভ গল্প বানায়। ৩৩. TTSMaker – লেখা থেকে স্পিচ জেনারেট করে। ৩৪. Magic Eraser – ছবির অবজেক্ট সরিয়ে ক্লিন ব্যাকগ্রাউন্ড দেয়। ৩৫. Designs.ai – লোগো, ভিডিও, অডিও সব তৈরি করতে পারে। ৩৬. Midjourney – কমান্ড থেকে ইমেজ তৈরি করে। ৩৭. TinyWow – ডকুমেন্ট, ভিডিও, পিডিএফ টুলস ফ্রি অফার করে। ৩৮. ChatPDF – যেকোনো PDF পড়ে আপনাকে সারাংশ দেয়। ৩৯. Scalenut – SEO কনটেন্ট ও ব্লগ প্ল্যান করে। ৪০. INK – SEO, রাইটিং, মার্কেটিং একসাথে করে। ৪১. DeepL – প্রোফেশনাল লেভেলের ট্রান্সলেশন দেয়। ৪২. OpenArt – AI আর্ট ও ইমেজ তৈরি করে। ৪৩. NameSnack – AI দিয়ে বিজনেস নাম সাজেস্ট করে। ৪৪. Tidio – AI চ্যাটবট তৈরি করে ওয়েবসাইটের জন্য। ৪৫. FormX.ai – স্ক্যান করা ডকুমেন্ট থেকে ডেটা এক্সট্রাক্ট করে। ৪৬. Murf.ai – প্রফেশনাল ভয়েসওভার তৈরি করে। ৪৭. Zyro AI Writer – ওয়েবসাইট বা কনটেন্ট লেখায় ব্যবহার হয়। ৪৮. Hugging Face – বিভিন্ন ধরনের NLP ও AI টুলস হোস্ট করে। ৪৯. Adobe Firefly – AI দিয়ে ইমেজ ও ডিজাইন তৈরি করে। ৫০. Illustroke – লেখা থেকে SVG ইলাস্ট্রেশন তৈরি করে। এই টুলগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার কাজের গতি যেমন বাড়াতে পারবেন, তেমনি সময় এবং খরচও বাঁচাতে পারবেন। এই রকম আরো ভাল ভাল পোষ্ট পেতে আমাদের পেজে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করতে ভুলবেন নাহ। #collected #BMW #Fact #AITools2025

Monday, 10 March 2025

নব্বই দশকের বিয়ে ‘তেলাই থেকে ঘুরানি

নব্বই দশক আমার কৈশোরের সোনালি আলো মাখা স্মৃতিতে ভেসে আছে। ওই সময়ের গ্রাম-গঞ্জের বিয়েতে যে রীতি ছিল তা আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানকে বলা হতো ‘তেলাই’। তখন বর-কনে উভয়কেই ‘তেলাই’ দেওয়া হতো। কিন্তু এখনকার দিনে বর কনে উভয়কে যেমন সমান গুরুত্ব দিয়ে গায়ে হলুদ দেওয়া হয়, এই আনুষ্ঠানিকতা তখনকার দিনে কম হতো। বরের ক্ষেত্রে বিয়ের দিন গোসলের সময় মা হয়তো একটু হলুদ বেটে ছেলের কপালে লাগিয়ে দিতেন। তারপর গোসল করিয়ে নতুন লুঙ্গি, পাঞ্জাবী পরিয়ে বরকে প্রস্তুত করা হতো। কনের গায়ে হলুদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। গায়ে হলুদে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হতো, সেগুলোর বেশিরভাগই ব্যবহার করা হতো কনের গায়ের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য। কনের গায়ে ও মুখে দেওয়া হতো হলুদ ও গিলা বাটা (এক ধরনের গাছে বীজ)। কনেকে গোসল করিয়ে নতুন শাড়ি পরানো হতো। তবে সেটা হলুদ শাড়ি হতেই হবে তেমন চল ছিল না। সাধারণত তাঁতের শাড়ি পরানো হতো। এই শাড়ি স্থানীয় তাঁতিদের তৈরি শাড়িই হতো। বিয়ের আগের দিন কনেকে এক ধরনের খাবার খাওয়ানো হতো। যাকে আইবুড়ো ভাত বলা হতো। বিয়েতে গীত গাওয়ার রীতি ছিল। গ্রামের যেসব নারী গীত গাইতে পারতেন তারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে বিয়ে বাড়িতে আসতেন, গীত গাইতেন এরপর পান, সুপারি খেয়ে বিদায় নিতেন। হেঁটে, পালকি নিয়ে অথবা গরুর গাড়িতে বা ঘোড়ার গাড়িতে বরযাত্রী যেত কনের বাড়িতে। বর্ষা ঋতুতে নৌকায় বরযাত্রী যাওয়ার দৃশ্য দেখা যেত। দেখা যেত যে বউকে নেওয়ার জন্য পালকি বা ডুলি আনা হতো। ডুলিতে শুধুমাত্র বউ বসতে পারতো। কারণ ডুলি আকারে ছোট। কিন্তু পালকি বড়-ছোট হতো। এমনও পালকি ছিল যে, চারজন বসতে পারতেন। সাধারণত ওই সময় কলা গাছ এবং দেবদারুর পাতা, রঙিন কাগজের ঝালর দিয়ে গেইট তৈরি করা হতো। এ ছাড়া রঙিন কাগজের ঝালর দিয়ে বর বসার জায়গা সাজানো হতো। যথারীতি বর আসার পরে ‘গেইট ধরা’ হতো। সেখানে দরদাম হতো। ইংরেজিতে বাকোয়াজ হতো। অনেক সময় পরবর্তীতে দেখা যেতো যে দুই পক্ষের মুরুব্বিরা কথা বলে টাকার মাধ্যমে সমঝোতায় আসতেন।। এরপর বর তার জন্য নির্ধারিত জায়গায় বসতো। আরেকটি বিষয় ছিল বরের জুতা চুরি করা। শালা, শালি এমন স্থানীয় লোকেরা বরের জুতা চুরি করার ধান্ধায় থাকতো আর বরপক্ষের এমন এক্সপার্ট লোক থাকতো যার কাজই ছিল বরের জুতা চোখে চোখে রাখা। কিন্তু যেকোন ভাবেই বরের জুতা চুরি হয়েই যেত। এরপরে আবার ধ্যান-দরবার হতো যে, বর এখন কি পরবে? তখন আবার বরের বোন জামাই যে থাকতো দেখা যেত যে টাকা পয়সা দিয়ে বরের জুতা উদ্ধার করতো। কনের ‘আয়ো সিঙ্গারীরা’ কনেকে বিয়ের আগের দিন থেকে সম্পূর্ন দেখভাল করে রাখতো এবং বিয়ের কনে হিসেবে সাজিয়ে দিত। আর কনেকে সাজানোর জন্য বরের বাড়ি থেকে যেসব জিনিসপত্র পাঠাতো তার নাম ছিল খঞ্চা। খঞ্চায় আয়ো সিঙ্গারীদের জন্য আলাদা উপহার থাকতো। আরও থাকতো দাদী, নানীর শাড়ি। দেখা যেত যে যদি আপন দাদী, নানী নাও থাকতো তাহলে পাড়া প্রতিবেশি দাদি, নানিকে ওই শাড়ি দেওয়া হতো। মুসলিম বিয়েতে বরযাত্রীদের জন্য গরুর মাংস, ভাত, সবজি, ডাল, দই, মিষ্টি দেওয়া হতো। তখন পোলাও তেমন দেওয়া হতো না। বর কনের বিয়ে পড়ানো হতো মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে। এরপর একটি গামলা পানিভর্তি করে তার মধ্যে কড়ি, আংটি কিংবা পয়সা দিয়ে দেওয়া হতো। একটা ওড়নায় বর-কনের মাথা ঢেকে তাদেরকে গামলা থেকে কড়ি খুঁজে বের করতে বলা হতো। দেখা যেত কড়ি বা পয়সা এক সময় বর পাচ্ছে, আরেকবার কনে পাচ্ছে। এই পর্ব শেষে মিষ্টি মুখের পালা—বর কনেকে মিষ্টি খাইয়ে দিত এবং কনে বরকে মিষ্টি খাইয়ে দিত। তারপর হতো মালা বদলের আনুষ্ঠানিকতা হতো। বিয়ে শেষে কনে বিদায়ের সময় কনে কান্নাকাটি করতে করতে অনেক সময় বেহুশ হয়ে যেতো। কনের সঙ্গে ছোট, ভাই বোন বা দাদি, নানি যেতেন। এই যাওয়াকে বলা হতো ‘কোল ধরা’। কনে শ্বশুরবাড়িতে চলে যেতো। এক বা দুইদিন পরে বউ ভাত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো। ওই অনুষ্ঠানে কনেপক্ষের লোকজন মাছ, মিষ্টি, পান, সুপারি নিয়ে দাওয়াত খেতে যেতো। ফেরার সময় বর কনেকে নিয়ে আসা হতো মেয়ের বাবার বাড়িতে। যেটা ‘ফিরানি’ নামে পরিচিত। পরদিন নতুন জামাইকে বাজার করতে যেতো হতো। জামাই বাজারে গিয়ে ঝাঁকায় করে মাছ, মাংস, দুধ থেকে শুরু করে মসলা পর্যন্ত কিনে আনতো। অর্থাৎ যার যেমন সামর্থ্য। এই নিয়ে লোকজনেরা উৎসুক থাকতো। কার জামাই কত ভালো বাজার করলো এই দেখার জন্য পাড়াপরশিরা আসতো। তারা কিন্তু খেতে আসতেন না নতুন বর কি বাজার এনেছে তাই দেখতে আসতেন এবং এই নিয়ে চর্চা চলতো। নতুন বর শ্বশুরবাড়িতে দুই বা তিনদিন থেকে বউ নিয়ে নিজের বাড়ি ফিরতো। যাকে বলা হয় ‘ঘুরানি’। এই ঘুরানির মাধ্যমে শেষ হতো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। Copied #viralpost2025シ2025 #viralpost2025シ #viralreelsシ #videoviralシ #viralreelsfb #viralvideoシ #viralreelsfacebook #viralreelschallenge #trendingreels #trendingreelsvideo

Tuesday, 25 February 2025

Obtaining French residency under new circular

List of 👉Il-do-france. ✅If you work in any profession, you can deposit 1️⃣2️⃣ fees do pay under 3️⃣ years. There is also a Cuisiner position which is a good news. Pretty much confirmed. But have to wait for the decree. The list of: E2Z80 Mastering and assimilating agents of process industries A0Z40 Salaried farmers T2A60 Home helpers and house helpers V0Z60 Caregivers H0Z91 Maintenance and Environmental Technical Framework G0B40 Automotive Bodyshop D2Z40 Boilermakers, sheet metal, trackers, locksmiths, blacksmiths B6Z73 Construction managers, work drivers (non-crew) B2Z44 Couvreurs S1Z40 Cookers C2Z71 Drawers in electrical and electronic D6Z71 Drawers in mechanics and metalworking A0Z41 Paid breeders S2Z60 hotel staff T1Z60 Housekeepers and cleaning staff V1Z80 Nurses H0Z92 Production Methods Quality Control Engineers B7Z91 Building and Public Works Engineers, Site Supervisors and Drivers work (frames) M2Z91 Engineers and administrative executives, computer maintenance N0Z90 Engineers and Research, Research and Development (Industry) M2Z90 Engineers and frameworks in computer science, research and development, computer project managers A1Z40 Marchers, paid horticulturists C0Z20 Unskilled electrical and electronic workers E0Z21 Unskilled workers in the agri-food industries B3Z20 Unskilled workers of the second building D0Z20 Unskilled workers working by removing or forming metal G0A40 Mechanical qualified maintenance workers B4Z44 Skilled painting and finishing building workers C1Z40 Electrical and electronic skilled workers F3Z41 Skilled Woodworking And Furniture Workers D1Z41 Skilled workers working by removing metal D1Z40 Regulators J4Z80 Logistics managers (non-executive) L4Z81 Accounting and Financial Services Technicians J5Z80 Transport and Tourism Technicians C2Z70 Electrical and Electronics Technicians G1Z70 Maintenance and Environmental Control Technicians and Officers B6Z71 Construction and public works technicians and officials G1Z71 Expert technicians D2Z41 Pipeutters A1Z42 Wine growers, salaried arborists

Wednesday, 29 January 2025

বাংলাদেশের সাথে পাংগা নিয়ে ভাড়তের মোট অর্থনৈতিক লাভ হইল প্রায় ১২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ থেকে ভাড়তে পর্যটক যাওয়া বন্ধ হওয়াতে শুধু পর্যটন খাতেই ভাড়তের ক্ষতি প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভিসা ফি থেকে আয় হতো বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চিকিতসা খাতে ভাড়তের মোট আন্তর্জাতিক রোগীর ৮৫ ভাগ আসে বাংলাদেশ থেকে যা থেকে তারা ৮ বিলিয়ন ডলার ইনকাম করতো বাংলাদেশে কর্মরত ২৬ লক্ষ ভাড়তিয় প্রতিবছর ভাড়তে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স পাঠায় প্রতিবছর ভাড়ত হইতে আমদানি বাবদ বাংলাদেশ খরচ করতো ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিবছর মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে ভাড়তের আয় ছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের সাথে পাংগা নিয়ে ভাড়তের মোট অর্থনৈতিক লাভ হইল প্রায় ১২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভাড়ত তাদের বিশ্বস্ত কৃতদাসি হাসিনাকে হারাইয়া কি পরিমানে ক্ষতির সম্মুখিন তা তাদের চলমান পাগলামি-ছাগলামি-যুদ্ধাংদেহি শত্রুতামিই প্রমাণ করছে। মোরালঃ বাংলাদেশ ব্যতিত ভাড়ত কখনোই অর্থনৈতিক পরাশক্তি হইতে পারে নাই (১৯৭১ পর্যন্ত), এবং দালাল সরকারের আমল (১৯৮২-১৯৯০, ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত) ব্যতিত তাদের অর্থনৈতিক চাকা ছিল অবিশ্বাস্যরকম উর্ধগতির। দেশকে ভালবাসুন, ভাড়তকে নয়। ভাড়তের দালালদের লিস্ট করে তাদের দমন ও নির্মূল করা সময়ের দাবী।

Sunday, 12 January 2025

বাড়ি বা ডিভাইসের চেয়ে সন্তান বড়

বাড়ি বা ডিভাইসের চেয়ে সন্তান বড় জসিম মল্লিক ১ বিদেশে যারা থাকেন বিশেষকরে উত্তর আমেরিকায় তাদের প্রায় সবারই ধ্যানজ্ঞান একটা বাড়ির মালিক হওয়া। মনে হয় তারা বিদেশে আসেন একটা বাড়ি কেনার জন্য। ভাবখানা এমন যেনো তারা কোনোদনি বাড়িতে থাকেন নি। তাদের স্বপ্নে, কল্পনায়, ধ্যানে, জ্ঞানে, বৰ্তমানে, ভবিষ্যতে বাড়ি ছাড়া আর কিছু নাই। রাস্তায় হাঁটতে বাড়ি, গাড়ি ড্রাইভ করতে বাড়ি, বাসে ট্রেনে বাড়ি, শপিং মলে বাড়ি, কফি শপে বাড়ি, ওয়াশরুমে বাড়ি, আড্ডায় বাড়ি, দাওয়াতে বাড়ি। দেখেছি কোথাও দাওয়াতে গেলে যাদের বাড়ি আছে তারা আলাদা বসে এবং বাড়ি নিয়ে সুদীৰ্ঘ আলোচনায় লিপ্ত হয়। যার যত সমস্যা আছে বাড়িতে সেই সব নিয়ে কথা চলতে থাকে। তারা খেতে বসেও একই আলোচনা করে। আলোচনার অন্যতম দিক হচ্ছে বেজমেন্ট ভাড়া নিয়ে, ভাড়াটিয়ারা কেমন, ৱিয়েলটাৱ কেমন সেসব নিয়ে। অনেকে আছে বাড়ি কিনে বিরাট দায় দেনায় পড়ে যায়। মৰ্টগেজ শোধ করতে গিয়ে জীবন দিয়ে দেয়। তখন না পারে কোথাও যেতে না পারে জীবনকে উপভোগ করতে। একবার টরন্টোতে এক বাসায় গিয়েছিলাম পাত্র দেখতে, পাত্রের বাবা মায়ের সাথে আলোচনা করতে। ওমা সেই বাড়িতে যতক্ষন ছিলাম শুধু বাড়ির গল্পই করলেন। এমনকি জোর করে প্রতিটা বাথরুম পৰ্যন্ত দেখতে বাধ্য করলেন। শেষ পৰ্যন্ত পাত্র নিয়ে আর কোনো কথাই হলো না। এমন অনেক গল্প আছে। পরে কখনো বলা যাবে। ২ বাড়ি যে কেনা যাবে না তা না। অবশ্যই যাবে। একশবার যাবে, হাজারবার যাবে। একটা না দশটা বাড়ি কিনলেও কোনো সমস্যা নাই। বাড়ি নিয়ে গল্প হোক, আড্ডা হোক, শয়নে স্বপনে বাড়ি থাক তাতেও সমস্যা নাই। বাড়ির স্বপ্ন কে না দেখে। সবাই দেখে। আমিও দেখি। নিজস্ব একটা আশ্রয় থাকা কত দরকার। বাড়ি একটি ভাল ইনভেস্টমেন্টও বটে। নিরাপদ ইনভেস্টেমেন্ট। ভবিষ্যতের আশ্রয়। এজন্যতো বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশের টাকা পাচারকারীরা বাড়ি কেনে। কালো টাকা সাদা করার অন্যতম উপায়। এটা দেশেও আছে। পঁচিশ কোটি, তিরিশ কোটি টাকা দামের ফ্লাটও আছে। এগুলো নগদে কেনা। কারো কারো পনোরো বিশটা ফ্লাটও আছে ঢাকায়। বিদেশে টাকা পাচারকারীরা ব্যাংকেৱ দ্বারস্থ হয় না। সোজা ক্যাশ টাকা দিয়ে কিনে ফেলে। পাঁচ, দশ, পনেরো, বিশ, পঁচিশ মিলিয়ন ডলার দামের বাড়ি ডাল ভাত ওদেৱ কাছে। মধ্যবিত্ত যেখানে একটা বাড়ির জন্য এক/দেড় মিলিয়ন জোগাড় করতেই হিমসিম খায় সেখানে তাদের কাছে বাড়ি একটা ছেলে খেলা মাত্র। এজন্যই ট্রুডোর এই পরিণতি। ইমিগ্রেশন আর আবাসন নিয়ে যে সংকট তৈরী হয়েছে সেটার জন্য একজন নায়কের পতন। নারীদের ক্রাশের পতন! ৩ বাড়ি কিনুন, গাড়ি কিনুন, সম্পত্তি বাড়ান, গল্প আড্ডা কৱেন, বেড়ান যত পারেন, অনুষ্ঠান করেন, গান করেন, কবিতা পড়েন, গল্প উপন্যাস লেখেন, সমিতি করেন, সেমিনাৱ কৱেন, রাজনীতি করেন, দলাদলি করেন, গ্রুপিং করেন, পকিনিক করেন, পিঠা পাৰ্টি করেন, ফ্যাশন শো করেন, ব্যবসা বাণিজ্য করেন, সেলফি করেন, যতখুশী ছবি পোষ্ট করেন, লাইভ করেন, রীলস করেন, ইউটিউব করেন। কোথাও কোনো সমস্যা নাই। শুধু একটাই অনুরোধ সন্তানদের সময় দিন। তাদের পাশে থাকেন, তাদের মন বোঝার চেষ্টা করেন, তাদের বন্ধু হন। সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে নিয়ে যান। কেমন বন্ধুৱ সাথে মেশে জানার চেষ্টা করেন। জোর করে কিছু চাপিয়ে দিয়েন না। একটা ঘটনা বলে শেষ করছি। বেশ অনেক বছর আগে আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে একজন বাঙালি ফ্যামিলির ছোট্ট মেয়েটিকে একদিন পুলিশ নিয়ে যায়। মেয়েটি সম্ভবত কোনো অভিযোগ করেছিল বাবা মায়ের বিরুদ্ধে। বহুবছর সে তাদের জিম্মায় ছিল। আঠারো বছর হলে মেয়েটি মুক্ত হয়। কিন্তু বাবা মায়ের কাছে আর ফেরেনি। একদিন শুনলাম মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। এই প্রবনতা বাড়ছে। যার যায় সেই জানে কি হারিয়েছে! অতএব সাধু সাবধান! মনে রাইখেন ডিভাইস আৱ বাড়িৱ চেয়েও আপনাৱ সন্তান বড়! ঢাকা ১২ জানুয়ারী ২০২৫ canada

Friday, 1 November 2024

ভারতীয় হাইক‌মিশ‌নের জাতীয় পার্টি

ভারতীয় হাইক‌মিশ‌নের জাতীয় পার্টি ১ ডিসেম্বর ২০১৩। দুপুরে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস সচিব সুনীল শুভরায় ফোনে জানালেন, এরশাদ সাহেব ডেকেছেন। বিকেলে বারিধারায় গিয়ে দেখি শুধু আমাকে নয় প্রথম আলোর সেলিম জাহিদ ভাই, ইত্তেফাকের শামসুদ্দিন ভাই, বাংলাদেশ প্রতিদিনের শফিকুল ইসলাম সোহাগকে ডেকেছেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে 'অফ দ্য রেকর্ড' আলাপে এরশাদ সাহেব বললেন, বিএনপি জামায়াতের অবরোধে চারদিকে আগুন। নির্বাচনের পরিবেশ নেই। সব সাংবাদিক সব নেমে আসার পর আমি আবার যাই এরশাদ সাহেবের কাছে। জিজ্ঞাসা করলাম, নির্বাচনে যাবেন? তিনি জোরের সঙ্গে বললেন, নির্বাচনই হবে না। ফিরে লিখেছিলাম, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবার পথ খুঁজছেন এরশাদ। দু'দিন পর এরশাদ সাহেব সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিলেন, নির্বাচনে যাচ্ছেন না। এরপর গায়েব হয়ে গেলেন। প্রয়াত সম্পাদক সারওয়ার ভাই আমাকে অস্যাইনমেন্ট দিলেন যেভাবেই হোক এরশাদ সাহেবকে খুঁজে বের করতে হবে। শীতের সন্ধ্যায় গুলশানে গেলাম জাপার এক জ্যেষ্ঠ নেতারা বাসায়। পুলিশ ঢুকতে দেয় না। সেই নেতাকে দুলাভাই পরিচয় দিয়ে ঢুকে গেলাম। দোতলায় গিয়ে দেখি নেতা বসে আছেন। আমাকে দেখে চমকে বললেন, 'কেনো এসেছিস?' এর মধ্যেই এলেন, আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, মাহবুব-উল আলম হানিফ এবং আরও দুই অপরিচিত ভদ্রলোক। পরে জানালাম তাঁদের একজন ডিজি ডিজিএফআই জেনারেল আকবর এবং অপরজন ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তা (যতদূর মনে পড়ে নাম তাঁর সুব্রত কুমার রায়)। তিনি আঙ্গুল উঁচিয়ে পরিস্কার বাংলায় জাতীয় পার্টির নেতাকে বললেন, 'উনাকে (এরশাদ) নাটক বন্ধ করতে বলুন। সামনে আসতে বলুন। নয়ত রাজনীতিতে মাটিতে মিশিয়ে দেবো।' আমি দরজায় দাঁড়িয়ে চুপচাপ শুনছিলাম। এ সময় জাপার নেতা জিয়াউদ্দিন বাবলু প্রবেশ করলেন। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন, 'কেমন আছ?' হুট করে তোফায়েল সাহেবকে বললেন, 'এটা আমার ছোট ভাই রাজীব। ভালো সাংবাদিক।' শুনেই তোফায়েল সাহেবে হুঙ্কার , ' সাংবাদিক হয়ে থাকতে পারো রাজনৈতিক বৈঠকে?' শুনে আমার কলিজায় পানি না। বাঁচালেন সেই জাপা নেতা। বললেন, 'লিডার ও আমার আত্মীয়। এমনি এসেছে।' আমি পড়িমড়ি করে বের হয়ে, মোটরসাইকেলে একটানে চলে এলাম অফিসে। পরের ঘটনা সবার জানা। ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংহ ৪ ডিসেম্বর ঢাকায় এলেন। এরশাদ সাহেবও অজ্ঞাত স্থান থেকে ২৭ ঘন্টা পর ফিরলেন। সুজাতা সিংহের সঙ্গে বৈঠক করলেন। জানালেন, নিবার্চনে অংশ নিতে ভারতীয় চাপ রয়েছে। তারপর রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাপার সবাই নির্বাচনে অংশ নিলেন। শুধুমাত্র এরশাদ, জি এম কাদের, লালমনিরহাটারের মুজিবুল হক, মানিকগঞ্জের সৈয়দ মান্নান, রংপুরের আনিসুল ইসলাম মন্ডল নির্বাচন বর্জন করেন। ১৩ কিংবা ১৪ ডিসেম্বর রাতে সোনারগাঁও হোটেলের পাঁচতলায় বসে কীভাবে টিক দিয়ে এমপি বানানো হয়েছে, আমি এর সাক্ষী। সেখানে ছিলেন জাপার সোলায়মান আলম শেঠ। তিনি সে সময়ে সোনারগাঁও হোটেলের পরিচালক ছিলেন। আরও দুইজন ছিলেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তাঁদের তিনজনের কেউ এমপি হতে পারেননি। ৫ জানুয়ারির এক তরফা নির্বাচনে জাপার জন ২২ বিনা ভোটে এমপি হয়েছিলেন। যা‌দের অ‌নে‌কে মেম্বার হবার উপযুক্ত ছি‌লেন না। পরবর্তী‌তে এরশাদও উ‌ল্টে গি‌য়ে ৫ জানুয়া‌রির নির্বাচন মেনে নেন। দলটির আজকের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু প্রতিমন্ত্রী হন। এ‌কেই স‌ঙ্গে বি‌রোধীদল আবার সরকা‌রে! নজির‌বিহীন এ কা‌ন্ডের অথচ তারা এখন প্রশ্ন করছেন, আমাদের কী অপরাধ? ২০১৮ সালের নির্বাচন আরেক ইতিহাস। জাপাকে ২৬ আসন ছেড়েছিল আওয়ামী লীগ। বগুড়া-৬ ও ৭, সিলেট-২ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ বাদে বাকি সব আসনে 'জয়ী হয়'। বিএনপির ঘাটিঁ ফেনী-৩ আসনে জাপার জেনারেল মাসুদ ৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন! সেবার জাপার ২২ এমপির ১৮ জন ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পান! যার অধিকাংশ আগের রাতে পাওয়া। গত ১১ বছরে জাপা শুধুমাত্র ২০১৮ সালে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার উপনির্বাচনে এবং ২০২৩ সালে ঠাঁকুরগাওয়ের উপনির্বাচনে মোটামুটি স্বচ্ছ ভোটে জয়ী হয়েছে। বাকি সব জালজালিয়াতি কিংবা আওয়ামী লীগের দয়ায় পাওয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর আসলেই সরকারের নানা কাজের সমালোচনায় মুখর ছিলেন জি এম কাদের। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে জাপা প্রকাশ্যে বলছিল, অংশগ্রহণমূলক না হলে ভোটে যাবে না। ত‌বে তা মু‌খের কথা ছিল, ম‌নের নয়। ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর রাতে ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন জি এম কাদের। দলটির এক নেতা হালকা নেশার ঘোরে আমাকে বলে দেন, বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে। তিনিই জানান, জি এম কাদের সাহেব হাইকমিশনারকে নিশ্চিয়তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে তাঁর দল। এ ছাড়া পথ নেই। যাই হোক, আমি নিউজ করে দিলাম। পরেরদিন শুরু হলো, জাপার প্রতিবাদ, আইনী ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি। তবে সমকাল অনড় রইল। ১৬ নভেম্বর সূত্র এবং সবপক্ষের বরাতে সমকালে আবার লিখলাম, যতই হম্মিতম্বি করুক নির্বাচনে যাবে জাপা। আর এসব হম্বিতম্বির কারণ, বিএনপিবিহীন নির্বাচনে বাড়তি কিছু আসন আদায় করা এবং বিরোধীদল হওয়া। ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টি ছিল আওয়ামী লীগ প্ল্যান বি। প্রথমে চেষ্টা হয়েছিল, বিএনপিকে ভাঙ্গার। বিএনপি থেকে শ দুইয়েক এমপি হওয়ার মতো নেতাকে ভাগিয়ে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএমে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আওয়ামী লীগের টার্গেট ছিল, এই দুই দলের জোটকে পরবর্তী সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসানো। শমসের মবিন চৌধুরীকে বিরোধীদলীয় নেতা বানানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। ডিজিএফআই, এনএসআই বিএনপি নেতাদের তৃণমূল বা বিএনএমে নিতে চাপ লোভ ভয় সবই দেখিয়েছিল, কাজ হয়নি। শাহজাহান ওমরসহ সাত আটজন নির্বাচ‌নে নানা ব‌্যানা‌রে। বিএনপির সব‌চে‌য়ে বড় সফলতা, দল কো‌নো‌দিন ক্ষমতায় আস‌বে কী না এ অ‌নিশ্চয়তার ম‌ধ্যেও নেতারা আনুগত‌্য এবং আদ‌র্শের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বিএনপিকে ভাঙা যাবে আশায়, সেই সময়ে জাপা, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেপি, তরিকতের মতো দলগুলোকে পাত্তা দেওয়া বন্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ। সমকালে সে সময়ে এসব ঘটনার খবর বিস্তারিত লিখেছি। চেষ্টা হয়েছিল, নিবন্ধনহীন জামায়াতের নেতাদের অন্য দলের ব্যানারে নির্বাচনে নিতে। এ জন্যই ২৮ অক্টোবর বিনাবাধায় সমাবেশ করতে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই চেষ্টার মূল ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু বিএনপির মতো জামায়াতকেও ভাঙতে ব্যর্থ হয় আওয়ামী লীগ। উপায়অন্ত না পেয়ে শেষ পর্যন্ত জাপার দিকে হাত বাড়ায় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে এর আগেই জাপা ভারতীয় হাইকমিশনকে দিয়ে চেষ্টা করছিল, আওয়ামী লীগের কাছ থে‌কে বে‌শি সংখ‌্যক আসন আদায়ের। নভেম্বরের ২২ অথবা ২৩ তারিখ রা‌তে রওশনের বাসায় জি এম কাদেরের বৈঠকে দূতাবাসের কর্মকর্তা রাজেশ অগ্নিহোত্রিও ছিলেন। ছিলেন সেই সময়কার ডিজি এনএসআই। ভারতের মাধ্যমে জি এম কাদের আওয়ামী লীগকে রাজি করান, রওশন নয়, তাঁর সঙ্গে ডিল করতে হবে। তাঁকে বিরোধীদলীয় নেতা বানাতে হবে। নিশ্চয়তার পাওয়ার পর জাপা প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম দেওয়া শুরু করে। ৩০ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সেদিনই নিশ্চিত হয়ে যায়, রওশন এবং তাঁর অনুসারীরা নির্বাচন থেকে ছিটকে গেছেন। কারণ, তাঁরা কেউ দলীয় মনোনয়ন পাননি। তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও রওশনের খেলা শেষ। সে কারণেই ২২ নভেম্বর থেকে বারবার চেষ্টা করেও শেখ হাসিনার দেখা পাননি রওশন। তাঁ‌কে ২০১৪ সা‌লে ব‌্যবহার কর‌লেও, ভার‌তের মাধ‌্যমে সম‌ঝোতার কার‌ণে ২০২৪ সা‌লে টিস‌্যুর ম‌তো ছু‌ড়ে ফে‌লেন হা‌সিনা। রওশন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দেখা পান ২ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্রের জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার পর। জি এম কাদের বারবার দাবি করছেন, ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনে জাপাকে জোর করে নেওয়া হয়েছে। তিনি অংশ না নিলে, ২০১৪ সালের মতো রওশনের নেতৃত্বে জাপাকে নির্বাচনে নেওয়া হতো। এ দাবি মিথ্যা। কারণ, ৩০ নভেম্বরেই কনফার্ম হয়ে গিয়েছিল রওশনরা নির্বাচনে নেই। তা জি এম কাদেরের সঙ্গে সমঝোতায় আওয়ামী লীগ করেছিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৭ ডিসেম্বর। জি এম কাদের চাইলে, সেদিন এক স্বাক্ষরে আর এক চিঠিতে সব প্রার্থী প্রত্যাহার করতে পারতেন। তা করেননি। সুতরাং জোর করে নির্বাচনে নেওয়ার দাবি সত্য নয়। প্রায় এক সপ্তাহ দফায় দফায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন বাটোয়ার বৈঠকের পর, ১৬ ডিসেম্বর রাতে গুলশানে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বাসায় জাপার জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে আমি এবং ইত্তেফাকের শামসুদ্দিন ভাই ছিলাম। রাত ১০টার দিকে খবর আসে, আওয়ামী লীগ ২৬টির বেশি আসন ছাড়বে না। ঢাকায় আসন দেবে না। অর্থাৎ জি এম কাদেরের স্ত্রী ঢাকায় আসন পাচ্ছেন না। সেই রাতে গুলশান থেকে বারিধারায় ভারতীয় দূতাবাসে গিয়েছিলেন জি এম কাদের। পরের দিনও জাপার বনানী কার্যালয়ে ছিলাম আমি। জি এম কাদেরের এ দাবি সত্য, সেদিন তাঁকে ঘিরে ছিলেন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। তবে তাদের দেনদরবার হচ্ছিল শেরিফা কাদেরের আসনের জন্য। বিকেল তিনটার দিকে হঠাৎ জাপা কার্যালয়ের সামনে স্লোগান উঠে, 'শেরিফা কাদের, ঢাকা-১৮'। এর দুই তিন মিনিট পর ভেতর থেকে ঘোষণা আসে, জাপা নির্বাচনে থাকছে। বাদ পড়ে যান সিলেটের আতিক। সুতরাং জাপাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে, এ দাবি সত্য নয়। জাপা ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনে ২৬ আসনে ছাড় পেয়েও ১১ আসন পেয়েছিল। ১৮ ডিসেম্বর থেকে সমকালে লিখেছিলাম জাপাকে ১২ আসন দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো নিজ যোগ্যতায় জিততে হবে। জাপা তা পারেনি। অবশ্য, পারার কারণও নেই। আসলে জাতীয় পার্টির কোনো আসনেই এককভাবে জেতার ক্ষমতা নেই। সংগঠন ভোট কিছুই নেই। রংপু‌রেও দল এখন পঞ্চম শ‌ক্তি। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সময়ে জি এম কাদেরের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে স্নেহ করেন সন্দেহ নেই। তেমনি সন্দেহ নেই, অভ্যুত্থানের সফলতার জন্য উদগ্রিব ছিলেন তিনি। কথাবার্তায় আমি নিশ্চিত ছিলাম, কাদের ভাই আওয়ামী লীগের পতন চান। ব্যক্তিগত পর্যায়ের অপমানের কারণে তিনি শেখ হাসিনার উপর তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিলেন। ২০১৪ সাল থে‌কে জাপা রাজ‌নৈ‌তিক দ‌লের প‌রিব‌র্তে এম‌পি বানা‌নোর মে‌শি‌নে প‌রিণত হ‌য়ে‌ছিল। আওয়ামী লী‌গে প্রতি‌যো‌গিতা বে‌শি, আবার টাকাও লা‌গে বে‌শি, তাই সু‌যোগসন্ধানীরা ভর করত জাপা‌তে। কম টাকায় জাপার কোটায় এম‌পি হওয়া ছিল মূল ধান্ধা। এ কায়দায় রওশন আরা, সেলিম ওসমান, জেনা‌রেল মাসুদ, ফজলুসহ আওয়ামী লী‌গের ক‌য়েকজন এম‌পি ব‌নে যান। ২০২৪ সা‌লে আওয়ামী লী‌গের ময়মন‌সিং‌হের এক নেতা নৌকা না পে‌য়ে জাপার কোটায় ভারতীয় দূতবা‌সের মাধ‌্যমের এম‌পি হওয়ার চেষ্টা ক‌রেন। ৩০ কো‌টি টাকা লাগ‌বে শু‌নে কে‌টে প‌ড়েন। জাপা নেতারা নি‌শ্চিত ছি‌লেন, আওয়ামী লীগ সরকার আজীবন থাক‌বে। তাই জাপার এম‌পি হয়েও দালা‌লি করত শেখ হা‌সিনার। তারা ভাব‌তেও পারত না, কখ‌নো অভ‌্যুত্থান হ‌তে পা‌রে। তাই জি এম কা‌দে‌রের চে‌য়ে হা‌সিনার প্রতি বে‌শি অনুগত ছিল। সংস‌দে যে‌তে হ‌লে, আওয়ামী লীগ ছাড়া পথ নেই, এ সমীকরণ থে‌কে জাপা যখন যেভা‌বে পে‌রে‌ছেন দূতাবাস‌কে ব‌্যবহার ক‌রে আওয়ামী লী‌গের উচ্ছি‌ষ্টে ভাগ ব‌সি‌য়ে‌ছে।একজন তো গত বছ‌রের নভেম্ব‌রে ব‌লে‌ছি‌লেন, ভোট সংগঠন না থাকার পরও জাপা টি‌কে আ‌ছে ক‌য়েকজন এম‌পি থাকায়। সংস‌দে না থাক‌লে জাপা ম‌রে যা‌বে। জাপাই বাংলা‌দে‌শে সব‌চে‌য়ে বিশুদ্ধ ভারতপ‌ন্থি দল।যা ছিল শেখ হা‌সিনার অস্বস্তির কারণ । তাই যতভা‌বে সম্ভব জি এম কা‌দের‌কে অপদস্ত না‌জেহাল ক‌রে‌ছেন। হয়ত এই এক‌টি মাত্র কার‌ণেই জি এম কাদের মনে প্রাণে শেখ হাসিনার পতন চেয়েছিলেন এটা যেমন সত্য, আবার জাপা আওয়ামী লীগের দোসর ছিল এটাও সত্য। তবে এর জন্য দলটির কার্যালয়ে হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।