Friday, 28 February 2020

গান্ধী কেন নোয়াখালী এসেছিলেন???

সেই ছোট্ট কালে ইস্কুলের প্রথম দিন থেকেই বন্ধুদের কাছে আমরা নোয়াখাইল্লারা ' তোরা কত খারাপ, মহাত্মা গান্ধীজির ছাগলটা পর্যন্ত তোদের হাত থেকে রক্ষা পায় নাই, তোরা কত খারাপ।' এই কথাটা শুনে আসছি।
আজ পঞ্চান্ন বছর বয়সে এসে আপনাদের সেই প্রেতাত্মা করমচোদ গান্ধী লেংটা বাবার ছাগল খাবার কৈফিয়ৎ দিচ্ছি।
এখন তবে শুনুন সেই কৈফিয়ৎ:

👉আজ একজন সারোয়ার হোসাইনীর দরকার

👉করমচোদ গান্ধী ও প্যাটেল ভাইরা থেকে আজকের কসাই মোধি ও অমিত সাহারা সবাই একই পথের যাত্রী!
👉গান্ধী কেন নোয়াখালী এসেছিলেন???
👉কেনইবা ছাগল হারিয়েছেন???

নোয়াখালীর মানুষ কত খারাপ সেটা বুঝানোর জন্য উদাহরণ হিসেবে অনেকেই বলে থাকেন ‘নোয়াখালীর মানুষ গান্ধীর ছাগল চুরি করেছিলো’। সেরকমই এক অর্বাচীনের সাথে হঠাৎ দেখা হলো। খুব ভাব নিয়ে গান্ধীর ছাগল চুরির বর্ণনা দিয়ে আসছেন। আমি তাকে বিনীতভাবে জিজ্ঞাসা করলাম, গান্ধী কেন নোয়াখালী গিয়েছিলেন?

তিনি একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন। আমি তাকে বললাম নোয়াখালী মনে হয় সেসময় এখনকার কক্সবাজারের মতো ছিল। আপনার মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালীতে হাওয়া খেতে এসেছিলেন। সেসময় নোয়াখাইল্যারা তার ছাগল চুরি করেছিলো। এমন কিছু? তিনি আর কিছু বললেন না।

যাই হোক মহাত্মা গান্ধী যাকে বলা হয় তার নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তাকে অনেকে মহান আত্মার অধিকারী মনে করেন বিধায় তাকে মহাত্মা বলে থাকেন। আমার কাছে তাকে নিচু আত্মার বলেই মনে হয় বলে আমি কখনোই তাকে মহাত্মা বলি না। সে যাই হোক তার কথা পরে হবে। কেন সে নোয়াখালী গিয়েছিল? কেনইবা তাকে ছাগল হারাতে হয়েছিল? এসব বিষয় প্রাসঙ্গিকভাবে আসবে। তার আগে আমরা অন্য একটা বিষয়ে দৃষ্টিপাত করি।

নোয়াখালীতে ১৯৪৬ সালে একটি দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়। ভয়াবহ দাঙ্গা। এটি ইতিহাসে নোয়াখালী রায়ট/দাঙ্গা নামে পরিচিত। ইংলিশে এই লিখে সার্চ করলে অনেক আর্টিকেল পাবেন। বাংলায়ও পেতে পারেন। উইকিতেও বেশ ভালো আর্টিকেল আছে এই নিয়ে। আপনি যদি সেগুলো পড়েন তবে আপনি এক তরফা একটি ইতিহাস পাবেন যেখানে বলা হয়েছে হিন্দুদের প্রতি ভয়াবহ নির্যাতনের কথা।

অথচ বর্তমানে নোয়াখালীর অনেকেই সেই দাঙ্গার কথা জানেন না। না জানার কারণ এই ইতিহাস নিয়ে কারো লিখার দরকার হয়নি। যেহেতু এখানে হিন্দুদের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে তাই তারাই এটা নিয়ে গবেষণা করেছে। দাঙ্গার কিছুদিন পরেই নোয়াখালী পাকিস্তানের অন্তর্গত হওয়ায় মুসলিমরা এই অঞ্চলে জয়ী হয়ে যান।

নোয়াখালীতে দাঙ্গার সূত্রপাত নোয়াখালীতে নয়। মুসলিম লীগের নেতৃত্বে মুসলিমরা পাকিস্তান দাবী করেছে আর অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে হিন্দুরা একক ভারতের জন্য দাবী জানাচ্ছে। এই নিয়ে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা লেগেছে কলকাতায়। তারই সূত্র ধরে বিহারে শুরু হয়। কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম সমান সমান ছিলো বলে পরিস্থিতি অতটা নাজুক হয়ে পড়ে নি। তবে বিহারে মুসলিমদের অবস্থা হচ্ছিলো অত্যন্ত করুণ।

এখন যেভাবে আরাকান থেকে রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছে। সেসময় বিহার হতে নোয়াখালীতে ঢল নেমেছিলো। নোয়াখালী যদিও একেবারে মুসলিম অধ্যুষিত ছিল না, তবে নানান কারণে নোয়াখালীতে বিহারীরা এসেছিলো। এর অন্যতম কারণ নোয়াখালীর মুসলিমরা অন্য মুসলিমদের মতো অসচেতন ছিল না। তারা ছিলেন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন। এর কারণ এখানে ওহাবী আন্দোলন এবং হাজী শরীয়ত উল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলন অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল।

বিহারীরা নোয়াখালীতে আসার আরেকটি কারণ ছিল গোলাম সরোয়ার হুসেইনী। তাঁর বাড়ি বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার করপাড়া গ্রামের শ্যামপুর। তিনি ছিলেন পীর পরিবারের। তারা বংশানুক্রমিকভাবে মুসলিমদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি নির্যাতিত বিহারীদের নোয়াখালীতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই লক্ষ্যে তাদের নিরাপত্তা ও আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য একটি বাহিনী তৈরি করেন। এটি মিয়ার ফৌজ নামে পরিচিত ছিল।

গোলাম সরোয়ার হুসেইনী রাজনৈতিক লোক ছিলেন। তিনি ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টির নমিনেশন নিয়ে বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হন। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে তিনি মুসলিম লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

যাই হোক গোলাম সরোয়ার সাহেব বিহারীদের আশ্রয় দিচ্ছিলেন পাশাপাশি বিহারে ও কলকাতায় দাঙ্গা বন্ধ করার জন্য রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। কিন্তু তার সেই প্রচেষ্টায় সাড়া দেয়নি কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ। তিনি সবার কাছে চিঠি লিখেন এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যার সমাধান চান। কেউ সমাধানে জোরালো ভূমিকা রাখেন নি। তিনি খুবই হতাশ হয়েছিলেন।

এদিকে রায়পুরের হিন্দু জমিদার চিত্তরঞ্জন রায় চৌধুরী নোয়াখালীতে বিহারীদের এই অনুপ্রবেশ পছন্দ করছিলেন না। তিনি বিহারীসহ মুসলিমদের আগমন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। চিত্তরঞ্জন রায় চৌধুরীর এই আচরণ সরোয়ার সাহেবকে ব্যাথিত করেছিলো। তিনি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু জমিদার তা মানতে নারাজ। জমিদার কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন। সরোয়ার সাহেব তাই গান্ধীকে খবর জানালেন যাতে তিনি জমিদারকে তার নিষ্ঠুর আচরণ থেকে বিরত রাখেন। গান্ধী তার আহ্বানকে পাত্তা দিলেন না। এদিকে জমিদার নোয়াখালী থেকে সকল বহিরাগত মুসলিমকে উচ্ছেদের অভিযানে নেমেছেন।

সরোয়ার হুসেইনী কারো থেকে কোন সাহায্য না পেয়ে অবশেষে তিনি তার আস্তানা সামপুরের দায়রা শরীফে তার ভক্তদের ও মুসলিমদের এক সমাবেশ ডাকলেন। সেখানে তিনি মুসলিমদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছেন এবং চিত্তরঞ্জনের রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আহ্বান জানান।

সকল মুসলিম তার আহবানে সাড়া দেয়। চিত্তরঞ্জনকে অবরোধ করে মুসলিমরা। সে বৃটিশ পুলিশ, আগ্নেয়াস্ত্র, তার পেয়াদা বাহিনী, হিন্দু জঙ্গী, কংগ্রেস কর্মী ও জলকামান দিয়েও সেদিন মুসলিমদের আটকাতে পারেনি। অবশেষে সে তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে এবং নিজে আত্মহত্যা করে। সরোয়ার সাহেবের এই অভিযানে তাঁকে সহায়তা করেন জনৈক মুসলিম লীগ নেতা কাশেম। সরোয়ার সাহেবের বাহিনীর নাম মিয়ার ফৌজ আর কাশেমের বাহিনীর নাম ছিল কাশেম ফৌজ।

জমিদারের পতনের পর তারা পুরো নোয়াখালীতে কয়েকটিভাগে ভাগ হয়ে হিন্দু উচ্ছেদে নেমে পড়েন। এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটনা প্রবাহ পাল্টে যায়। এবার হিন্দু শরনার্থীদের ঢল শুরু হয় নোয়াখালী থেকে। এতক্ষণে টনক নড়ে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর। তিনি মুসলিম নেতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন সরোয়ার হুসেইনীকে থামানোর জন্য। কিন্তু কোন মুসলিম নেতার কথা এমনকি তার দলের প্রধান বরিশালের এ কে ফজলুল হকের কথাও শুনেন নি সরোয়ার সাহেব। কারণ এতদিন কেউ তাকে কোন সহায়তা করেনি।

অবশেষে তাকে থামানোর জন্য গান্ধী নিজেই এসেছিলেন নোয়াখালীতে। নোয়াখালীর চৌমুহনীতে কংগ্রেসের উদ্যোগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। ইতিমধ্যে সরোয়ার হুসেইনী ঘোষণা দিয়েছেন তিনি পুরো বাঙলা থেকে হিন্দুদের উচ্ছেদ করবেন। গান্ধী এসে সরোয়ার সাহেবের সাথে সেখা করতে চাইলে প্রথমে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে রাজি হন।

গান্ধী যেখানেই যান সেখানেই তিনি একটি ছাগল নিয়ে যান। তিনি সেই ছাগলের দুধ পান করেন। সরোয়ার সাহেবের আস্তানায় প্রবেশ করা মাত্রই তার ছাগল হস্তগত করেন মিয়া ফৌজের লোকেরা। যখন সারোয়ার সাহেবের সাথে তার কথা হচ্ছিলো তখনই রান্না করা ছাগল উপস্থাপন করা হয় গান্ধীর সামনে। এটা ছিল সরোয়ার সাহেবের একটি থ্রেট। গান্ধী সরোয়ার সাহেবের এই আচরণেই আন্দাজ করতে সক্ষম হয় নোয়াখাইল্লারা কী জিনিস!

সরোয়ার সাহেব গান্ধীকে বলেন, আপনি ভুল স্থানে এসেছেন। দাঙ্গার সূত্রপাত এখানে নয়। আপনাকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি বিহারে ও কলকাতায়। আপনি এসেছেন নোয়াখালীতে। যেদিন কলকাতায় ও বিহারে সংঘর্ষ বন্ধ হবে সেদিন নোয়াখালী ঠান্ডা হয়ে যাবে। গান্ধী অনুরোধ করেছেন তিনি চেষ্টা চালাবেন এই সময়ের মধ্যে নোয়াখালীতে যাতে হিন্দু উচ্ছেদ বন্ধ থাকে। সরোয়ার সাহেব বলেছেন আপনি কি আমাকে এই নিশ্চয়তা দিবেন আমি বন্ধ করার সাথে সাথে বিহারে ও কলাকাতায় বন্ধ হবে?

গান্ধী নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। সরোয়ার হুসেইনী বললেন তাহলে আমাকে আপনি কোন অনুরোধ করার যোগ্যতা রাখেন না। আমি আপনার নিরাপত্তা দিতেও প্রস্তুত নই। আমি আপনাকে নোয়াখালীতে আহ্বান করিনি। সরোয়ার সাহেবের হুমকিতে গান্ধী কাজ শুরু করলেন। তিনদিনের মধ্যে পুরো ভারতে দাঙ্গা বন্ধ হলো। একথা সরোয়ার সাহেবের কাছে স্পষ্ট ছিলো গান্ধীর হাতেই সকল চাবিকাঠি। সেই সকল দাঙ্গা লাগাচ্ছে এবং মুসলিমদের হত্যা করছে।

দাঙ্গা বন্ধ হলে গান্ধী নোয়াখালীতে তার নিরাপত্তা চাইলেন এবং হিন্দুদের কল্যাণে আশ্রম করার অনুমতি চাইলেন। সরোয়ার সাহেব তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেন এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে হিন্দু আশ্রম করার অনুমতি দেন। সেখানে হিন্দু নেতা হেমন্তের জায়গায় আশ্রম স্থাপিত হয়।

এ বি এম সামসুজ্জামান  ভাইয়ের ওয়াল হতে

Sunday, 23 February 2020

পাপিয়া সর্দারনী

সাদা ড্রেসের ছবিতে নরসিংদী আওয়ামী মহিলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়াকে দেখে সিনেমার বনেদী পতিতা সর্দারনীদের কথা মনে পড়ছে। পতিতাবৃত্তি নিয়ে ভারতে বেশকিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। পাকিজা, উমরাও জান, তাওয়াইফ,মান্ডি, বেগমজান, শরাবী, চাঁদনীবার, চামেলি, লাগা চুনারি মে দাগ ইত্যাদি ছবিতে দেখানো হয়েছে পতিতাদের জীবন সংগ্রামকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সাথে আমরা দেখেছি পতিতালয়ের মাসী বা সর্দারনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও। পতিতালয়ের সর্দারনীর চলন বলনের স্টাইল নজর কাড়া। সোফায় বা খাটে পা উঠিয়ে বিশ্রীভাবে বসা, মুখে গাদাগাদা মেক আপা। চোখের সাজ গালের রঙ লিপস্টিক জরি চুমকির ঝকমকে শাড়ি শরীরভর্তি গয়না মুখে চিবানো পান। পানের পিক ফেলার জন্য পাশে একটা চিলমচি। মোটামুটি এই হল পতিতা সর্দারনীর প্রতিচ্ছবি।






তবে পাপিয়ার মত বাস্তব জীবনের পতিতা সর্দারনীরা আরেকটু আপটুডেট। এরা পান খায়না। এরা মদ হুইস্কি ইয়াবা ভায়াগ্রার সাথে ওঠবস করে। শুনেছি এবার মেয়র ইলেকশনের প্রচারণায় সিনেমা টিভির যেসব অভিনেত্রীরা অংশ নিয়েছে তারাও নাকি পাপিয়ার রঙ মহলের অনুসারী। ফাইভ স্টার হোটেলে গিয়ে পাপিয়ার অনুমোদিত প্রস্টিটিউট হয়ে ধনী ক্লায়েন্টদের মেনটেইন করতো। বিশেষ সূত্রে জানতে পেরেছি পাপিয়া আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী গুটিকয়েক নেতার সাথে হাট্টিমাটিম টিম খেলতে খেলতে আজ এই পর্যায়ে এসেছে। কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছে। তার স্বামী সুমন চৌধুরীও স্ত্রীর  দুই নম্বরী সাম্রাজ্যের সেনাপতি। সরকারের একজন সচিব (উনি আমার বন্ধু) নাম গোপন রাখার শর্তে আমাকে বলেছেন, "এত দুরাচার দুর্নীতি কিভাবে সামাল দেবেন নেত্রী?? তাঁর চারপাশে সব জুয়াখোর নারীখোর নেতা মন্ত্রী আমলা। এরা নেত্রীকে ঘিরে ফেলেছে। এদের চক্র থেকে নেত্রীর নিস্তার নাই। প্রভাবশালী এক মন্ত্রীকে নেত্রী অত্যাধিক স্নেহ করেন। সৎ নীতিবান বলে তার সুনাম চালু আছে। কিন্তু সেই ব্যক্তির মত দুশ্চরিত্র আওয়ামী লীগে দ্বিতীয়টি নেই। তার অফিসে সারাক্ষণ অল্প বয়সী মেয়ে মধ্যবয়সী মহিলাদের আনাগোনা লেগেই থাকে।"

~~~~আমার কথা :-- এসব দুশ্চরিত্রদের নিপাত করার জন্য বিষ্ণু/ কৃষ্ণের সুদর্শন চক্রটির খুব দরকার আজ।

পাপিয়া এবং খদ্দেরলীগ সমাচার

গতকাল থেকে এক পাপিয়া নিয়ে অনলাইন মাতোয়ারা, কিন্তু এত কেনো! সে কি করেছে? কাউকে জোর করে কিছু করেছে কি? সরকারী লীগের যেসব রথি মহারথিরা দেশসেবা(!) করতে করতে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে যেত, তাদের সেবা করতে পাপিয়া প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট ভাড়া করেছিল। যে মানের খদ্দেররা যেখানে যেত, তাদের জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট না থাকলে মানান সই হয় কি? এজন্য তাকে মাসে বিল দিতে হত ৩ কোটি টাকা, ডেইলি মদের বিল দিত আড়াই লক্ষ টাকা!

ড্যাডিবর্ষে সেবার মান তো এমনই হওয়া উচিত! তবে পা্প্পি মাসি ঝামেলা বাধিয়েছে- মধুকরদের স্টিল ও ভিডিও রেকর্ড ধরে রাখত! অনেকের এক্স-রেটেড ভিডিও নাকি অনলাইনে এসে গেছে। এটাই হয়েছে তার কাল, কিন্তু যারা সেখানে গিয়ে মাল গিলত এবং খসাত, তারা এখন সবাই দুধে ধোয়া তুলশিপাতা! তবে হামিদ ছাব, তোফা ছাব, কামাল ছাব, বেনজির ছাব, জয় ছাব, মেয়র ছাব, মোল্লাজি- এদের সাথে পাপিয়া খালার পিকচার দেখেই আবার যেনো মনে করিয়েন না এদের সবার রগরগে ভিডিও পাবেন, কারণ যারা ধরেছে, তাদের গুরু যদি ওখানকার ভিজিটর হয়, তবে তাদের বাঁচানোর মহান দায়িত্ব কার? তাই সবকিছু পাওয়া যাবে না।

নারীদের দিয়ে জোর করে দেহব্যবসা, মাদক, চাঁদাবাজি, চাকরি দেয়া ও কর্মকর্তাদের বদলী বানিজ্য, টেণ্ডারবাজিসহ ভয়ঙ্কর অপরাধ কর্মকাণ্ডের জন্য পাপিয়াকে এখন গালমন্দ করছে অপু উকিল, সাবিনা আক্তার তুহিনরা, কিন্তু এরা কি কেউ কম যায়? অনেকেই আছে এই র‌্যাকেটিয়ারে। সত্যি কি সমাজবিরোধী এসব ক্রিমিনালরা ধরা পড়বে, নাকি দেখতে হবে- লোকদেখানো অপারেশনের নামে ক্যাসিনো সম্রাটকে সরিয়ে দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার পূণরাবৃত্তি?





Thursday, 20 February 2020

Wednesday, 22 January 2020

ভন্ড পীরের তালিকা

২/১ জন বাদে সব পীর ভন্ড তার মধ্যে কয়েকটি পীরের
তালিকা তৈরি করে দেওয়া হল
ভন্ড পীরের তালিকা
_________________________
0☆চরমোনাই পীর
1★মাইজ ভান্ডার দরবার ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
2★ঝিনজি শাহ্, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
3★হেইত হইত ও হেঁহু ফকির শাহ্, আনোয়ারা,
চট্টগ্রাম।
4★গোলাফ শাহ, ঢাকা।
5★আদু মামা শাহ, ফেনী।
6★আমীর ভান্ডার, পটিয়া চট্টগ্রাম
7★লেংড়া শাহ, চট্টগ্রাম।
8★আগুনপানি শাহ চট্টগ্রাম।
9★ধনভান্ডার শাহ, ফটিকছড়ি,
10★মুকিম শাহ, চট্টগ্রাম।
11★গুই বাবা শাহ্, পটিয়া, চট্টগ্রাম।
12★লতা শাহ্, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
13★কাতাল শাহ্, পটিয়া, চট্টগ্রাম।
14★গুনাগার আলী শাহ্, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
15★পেটান শাহ্-১, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
16★পেটান শাহ্,-২, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
17★জঙ্গি শাহ্, বাদুরতলা, চট্টগ্রাম।
18★গাট্টি ফকির, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
19★মা'জুর অলি শাহ্, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
20★বাঘ শাহ্ ফকির, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
21★ডলম পীর, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
22★কল্লা শাহ্, খরমপুর, বি. বাড়িয়া।
23★লুদত শাহ্ কুটান্দর, সায়েস্তাগনজ।
24★টংটং শাহ্, লাখাই, হবিগনজ।
25★উলু শাহ্, কালাপুর, চুনারুঘাট।
26★পতুশাহ্, কালাপুর, চুনারুঘাট।
27★বেজি শাহ্, পটিয়া,চট্টগ্রাম।
28★কালু শাহ্, হাটহাজারি, চট্টগ্রাম।
29★মিসকিন শাহ্, চট্টগ্রাম।
30★গরিব শাহ্, চট্টগ্রাম।
31★পানি শাহ্, চট্টগ্রাম।
32★বদনা শাহ্-১, হাটহাজারি, চট্টগ্রাম।
33★বদনা শাহ্-২, প্রবর্তক, চট্টগ্রাম।
34★বালু শাহ্, চট্টগ্রাম ।
35★পাগলা শাহ্, ফেনী।
36★ভেনভেনিয়া শাহ্, চট্টগ্রাম।
37★ফাইল্লা পাগলা শাহ্, সখিপুর, টাঙ্গাইল।
38★পাঙ্খা বাবা,মহনগঞ্জ।
39★লেংটা বাবা, ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ।
40★মাস্তান শাহ্, দূর্গাপুর, নেত্রকোনা।
41★ছাওয়াল (বাচ্চা) পীর, শেরপুর।
42★লেডির কান্দা,পূর্বাধলা, নেত্রকোনা।
43★শাখা মাজার, চট্টগ্রাম।
44★নিদর্শন দরবার, চট্টগ্রাম।
45★গাঁধা শাহ্।
46★ননুশাহ, সন্দীপ, চট্টগ্রাম
47★জহির শাহ, বাউফল,পটুয়াখালী।
48★কোকোনাট বাবার মাজার মোহছেন আউলিয়ার
মা..
পাশে।
49★রাজার বাগ দরবার শরীফ
50★কুতুববাগ দরবার শরীফ
51★চিল্লা শাহ, পটিয়া।
52★নারী খুর শাহ, কলকাতা।
53★ডলম পির
54★গুনাগরি বদনা শাহ্ চকবাজার
55★বিরি বাবা শাহ
56★গোলাপ শাহ, গুলিস্থান, ঢাকা ।
57★শাহজী,চান্দগাও,চট্টগ্রাম।
58★ডাইল,চাইল,সিলেট।
59★মৌরাজা হবিগঞ্জ।
60★ডেকাশাহ সোনাপুর নবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ।
61★ঢাকাইয়্যাশাহ সোনাপুর,
62★কালাশাহ ধাইপুর সুনামগঞ্জ।
63★চেগেনশাহ ধাইপুর সুনামগঞ্জ।
64★মারফতশাহ ধাইপুর সুনামগঞ্জ।
65★সুরশ্বরি ধাইপুর সুনামগঞ্জ।
66★হবিগনজে ডাইলা শাহ
67★টেক্সি ফকির-চট্টগ্রাম।
68★বালতি শাহ, সিলেট।
69★লেংলেং শাহ, সুনামগঞ্জ।
70★কালু শাহ মিরসরাই চট্টগ্রাম!।
71★গরম বিবি শাহ, দামপাড়া পুলিশ লেইন চট্টগ্রাম।
72★জ্বিনের বাদশা জ্বীন বাবা পীর সাহেব বালিয়া
73★বোতল শাহ্, পটিকছড়ি, চট্রগ্রাম।
74★পাতা শাহ, বড়লেখা, মৌলভীবাজার।
75★কাবেরি শাহ, বড়লেখা, মৌলভী বাজার।
76★কেতলি শাহ, কোলাউড়া, মৌলভীবাজার।
77★পাঁচ পীরের মাজার, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
78★চাচা পাগলা, বগুড়া।
79★চরম শাহ্, বরিশাল।
80★জিনের বাদশা লিটন দেওয়ানের জিন্দা
পীরের দরবার
81★পানি বাবা
82★বিড়ি বাবা
83★শিকল বাবা
84★ভুখা ফকির, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।
85★টাকশাহ্ মিয়া, চকবাজার, চট্টগ্রাম।
86★জিনজির পীর মৌলভী বাজার
87★ভন্ড পীর আমজাদ বেপারী সিরাজগঞ্জ
88★সোলেমান লেংটার মাজারে, মতলব।
89★ইমাম মাহদীর সেনাপতি লুৎফর রহঃ গোপীবাগ।
90★কুত্তা শাহ আজমিরীগঞ্জ।
91★ল্যাংটা বাবার বাইজিখানা মাজার
92★সোলায়মন শাহর মাজার কওরান বাজার।
93★তালা বাবা
94★দেওয়ান বাগি রাজারবাগ, ঢাকা।
95★কুতুববাগ আটরশি।

এদের ভিতর সব থেকে বড় শায়ত্বান হলো:
"দেওয়ানবাগী" "আটরশী" "মাইজভাণ্ডারি"••••!)))।

Saturday, 11 January 2020

French Lesson in Bangla

আসুন আজে বাজে সময় না কাটিয়ে কয়েকটি ফরাসি বাক্য শিখি।
তো চলুন শুরু করা যাক

১। Bonjour (বু জু খ) শুভ সকাল /

শুধু সকাল নয় দিনের যেকোনো সময় ও বলা যায়। পরবর্তীতে এটা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হবে আপাতত বুজুখ শব্দটা শিখে নিন। যাকে দেখবেন তাকে বুজুখ বললে তারা আপনাকে অত্যন্ত ভদ্রলোক মনে করবে।

২। Ça va (ছা বা) কেমন আছেন?

৩। Je vais bien.
( জ-বে বিয়া)  =আমি ভাল আছি

৪। comment va votre famille
( ক-ম বা- ভত-খ- ফামি)
=আপনার পরিবার কেমন আছে?

৫। ma famille aussi bien
মা-ফামি উছি বিয়া
আমার পরিবার ভাল আছে।

৬। comment se passe votre travail
(ক-ম-ছ পাছ ভত-খ ত্রাখাবাই)
আপনার কাম কাজ কেমন যাচ্ছে?

৭। Tout est bien Alhamdulillah
(তুত এ বিয়া  আলহামদু লিল্লাহ )

সবকিছু ঠিকঠাক আছে, আলহামদুলিল্লাহ

৮। Merci ( মেখছি) ধন্যবাদ

৯। de rien ( দ-গিয়া)  স্বাগতম

যেখানে আলাদা আলাদা করে অক্ষর দিয়েছি সেগুলোকে পুরুপুরি উচ্চারণ করবেন যেমন " ক ম বা ভত খ ফামি
একসাথে কম্বা ভতখ ফামি বলবেননা।

১০।  je t'aime (জু তেম)
আই লাভ ইউ



Day 3
=====


১। প্রতিদিন =Tous les jours (তু-লে জুখ)
উদাহরণ: je vais travailler tous les jours ( জবে ত্রাখাবাইয়ে তুলে জুখ)

অর্থ: আমি প্রতিদিন কাজে যাই

২। মাঝে মধ্যে=  Parfois (পাখফোয়া)
j'écoute la radio parfois

জে'কুত লা রাডিও পাখফোয়া
আমি মাঝে মধ্যে রেডিও শুনি।

৩। এখন= Maintenant (মেথনো)
Appelle-moi maintenant
(আপেলe মোয়া মেথনো)
আমাকে এখন কল করো।

৪। একটু পরে = Plus tard (প্লু তাখ)
Appelle moi plus tard
আপেলe মুয়া প্লু তাখ
একটু পরে কল করুন।


৫। যথেষ্ট = Assez
je n'ai pas assez d'argent
(জ'নেপা আসে দাখজো)
আমার কাছে যথেষ্ট টাকা নেই

৫। চিন্তার কারন নেই /টেনশন করনা
-ne t'inquiète pas
(ন তানকেত পা)

৬। অসম্ভব - Impossible( আমপছিব'ল)
উদাহরণ:  c'est impossible
ছেত আমপছিব'ল
এটা অসম্ভব!

৭। দেখ/লক্ষ্য করো  Regardez (রিগার্দ.)
উদাহরন: regarde la télé
( রিগার্দে লা তেলে)
(টিভির দিকে তাকাও)

৮ এটা খুব ভাল  C’est bien ! (ছে-বিয়া)

৯। চমৎকার - Excellent (একছিলন্ট)
Excellente idée (এক্সিলন্ট ইদে)
চমৎকার আইডিয়া।

১০। আপনার সন্ধাটি শুভ হোক

bonne soirée
( বন ছুয়া-খে)

Day 4
-------------------------
সহজ পদ্ধতিতে ফরাসি ভাষা শিখুন।

 j'aime bien parler avec toi
(জেম বিয়া পাগলে আবেক তুয়া)
আমি তোমার সাথে কথা বলতে খুব পছন্দ করি)

Je dois y alle.
(জ দুয়া ইয়ালে)
আমাকে যেতেই হবে।

Restez en contact !
খেস্তে অ কনটাকট
(কাছে থাকুন)

Au revoir
উ খিবওয়াখ
শুভ বিদায়।

কারও কাছ থেকে বিদায় নিলে উ গিবওয়াখ অথবা আখবওয়াখ বলতে ভুলবেননা। কারণ এগুলো বলা ভদ্রতার লক্ষণ।

Je reviens tout de suit
জ গুবিয়া টুত দু ছুইট

মনে করুন কারও কাছ থেকে অল্প কিছুক্ষণের জন্য বিদায় নিতে চান এবং দ্রুত ফিরে আসবেন তার কাছে তখন বলবেন "জ গুবিয়া টুত দু ছুইত "
আমি দ্রুত ফিরে আসছি।

j'adore votre leçon
জাদগ ভত খ লুছুন
আমি আপনার লেসন খুব পছন্দ করি।


..............................................
Day-5  এসো ফরাসী ভাষা শিখি।
========================
Qu’est-ce que tu veux faire aujourd’hui?

(কেস ক চু ভু ফেখ উ-জুখদি?)
আজ তুমি কি করতে চাও?

Tu veux aller au tour eiffel ou au Gare du Nord ?
চু-বু আলে উ টুখ ইফেল ও উ গার্দে নর্খদ

তুমি আইফেল টাওয়ার যাবে নাকি গার্দে নর্দে যাবে?

je voudrais aller à la tour eiffel
(জ-ভুদখে আলে আ লা টুখ ইফেল)
আমি আইফেল টাওয়ারে যাব।

À quelle heure?
আ কেল অখ /অগ
কয়টার দিকে (যাবে)?

À treize heures. ( আ ত্রেখে জখ)
১৩টার দিকে ( মানে দুপুর ১টা)

est-ce que je peux aller avec toi
এস-ক, জ পু আলে আভেক তোয়া?
আমি কি তোমার সাথে যেতে পারি?

Oui, bien sûr, avec plaisir
(উই, বিয়া সুখ, আভেক প্লেজিখ)
হ্যাঁ, অবশ্যই, এটা আমার জন্য খুবই আনন্দের ব্যাপার।
tu es trop gentille (তু এ ত্রুখু জনতি)
তুমি খুব দয়ালু /খুব ভাল মানুষ।

Merci beaucoup, ( মেখছি বকু)
অনেক অনেক ধন্যবাদ।



Day 6
=====
আসুন ফরাসি কিছু শব্দ শিখি।
বুঝার সুবিধার্থে ফরাসি, ইংলিশ, বাংলা তিন ভাষায় লেসন দেওয়া হল।

je-জ I, আমি ,
avec-আভেক with-আমি
tout-থো  All, very সব
faire-ফেখ - to do, make কিছু করা, বা বানানো।
nous-নো we, আমাদের
mettre-মেথখ - to put, রাখা
autre -উত,খ other অন্যান্য।
on ঊন (নাক দিয়ে উচ্চারণ করতে হবে।  one,- we এক, বা আমরা।
mais-মে  but কিন্তু
leur-লখ - them, তাদের
comme-কম, like, as যেমন।
ou -উ or অথবা
si- সি if, whether যদি, কি না
avant-আ ব-ন (ন এর উচ্চারণ নাকে হালকা থাকবে) - before আগে

dire-দিখ -to say বলা।
elle-এল she, সে
devoir-দুবওয়াখ  to have to, দায়িত্ব, কর্তব্য।
donner-দনে to give দেওয়া।



                            

Friday, 10 January 2020

কোথায় হারিয়ে গেল শৈশব ? আহা......... ঝলমলানি শৈশব।

কোথায় হারিয়ে গেল সেই দিনগুলি??"

#শুক্রবারে সিনেমা দেখতাম। দিন ঘুরে নতুন
নিয়ম বৃহস্পতি, শনিও হত। পুরো বাড়িতে একটা
সাদাকালো টিভি, ঘরভর্তি মানুষ। সাড়ে তিনটায়
সিনেমা শুরু, তিনটা থেকেই জায়গা দখলের চেষ্টা। সেই সুবাদে সিনেমা শুরু হবার আগে আবহাওয়ার খবর
দেখা,
#বৌদ্ধদের ত্রিপিটক পাঠ শোনা। তারপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ "সিনেমা শুরু"।

#মনেমনে প্রার্থনা,  এড (বিজ্ঞাপন) যেন না আসে। কিন্তু
বিজ্ঞাপন ঠিকই আসে। বড়রা বিজ্ঞাপনের ফাঁকেফাঁকে অনেক কাজ সেরে নিত।
আমরা ছোটরা, আঙুল দিয়ে বিজ্ঞাপণ গুনতাম।
ত্রিশটা বিজ্ঞাপণ দেখানোর পরই সিনেমা শুরু হবে
ততোদিনে আমাদের মুখস্ত ছিল।

#রুবেল, দিতি, জসীম, সাবানা, ববিতা, রাজ্জাক ছিল
সেসময়ের কাঙখিত নায়ক নায়িকা। এদের কেউ নেই
মানে সিনেমা পানসে।

#রাজীব, রানি, শরীফ, জাম্বু ভিলেন থাকার কারণে কতো গালিই যে খেত তার হিসেব নেই। নায়ক মার খেলে আমাদের আফসোস হত, ভিলেনকে মারার সময় বলতাম, "মার..মার..

#কোকাকোলার সাথে পাওয়া "ইও ইও" খেলনা ছিল
বেশ জনপ্রিয়। হাতের মধ্যে সুতা দিয়ে পেচিয়ে
চ্যাপটা আকৃতির রাউন্ড গোলকটা কে করবার হাতে
আপ ডাউন করাতে পারে তা নিয়ে হত প্রতিযোগিতা।

# বিভিন্ন খেলা হত। মেয়েরা কাপড়ের তৈরি পুতুল বানাত, সেই পুতুলের জামা বানাতো, বিয়েও দিত
অনুষ্ঠান করে। টাকাওয়ালা বাবার মেয়েরা খেলত
একটা ব্যাটারিচালিত পুতুল দিয়ে। সেই পুতুলের সুইচ
অন করলেই বাজত ‘চল ছাইয়া ছাইয়া’ গান। ছেলেদের সব থেকে দামী খেলনা ছিলো রবোকোপ আর পিস্তল।

#বিকেলটা ছিল ছুটোছুটির। তখন খেলতাম
ইচিং বিচিং, কুতকুত, বৌ ছি, ফুলের টোকা, বরফ পানি, ছোঁয়াছুঁয়ি, সাতচারা, ডাংগুলি, মাংস চোর। খুব
ছোটরা খেলার বায়না ধরলে তাদেরকে "দুধভাত" হিসেবে খেলায় নিতাম, তবুও ছোট বলে তাকে বঞ্চিত করতাম না।

#খেলার মাঝে যদি কারো সাথে ঝগড়া হত তাহলে
কাইন আঙুলে আড়ি নিতাম, দু দিন কথা বলতাম
না। তারপর আবার আনুষ্ঠানিক ভাবে দুই আঙুলে ‘ ভাব’ নিতাম; এখন থেকে আবার কথা বলা যাবে।

#তখন আবার রক্তেরবান্ধবীর প্রচলন ছিল। কারও হাত কাটলে ছুটে যেতাম রক্তের সই পাতাতে। আমার কাটা আঙুলের সাথে ভাল আঙুল মিলিয়ে হতাম "রক্তের বান্ধবী, কোনদিন এই বন্ধুত্ব যাবেনা"। কই গেল
আমার সেই বান্ধবী গুলা???

#সন্ধ্যা হলেই শুরু হত যন্ত্রণা। বই খাতা খুলে
পড়তে বসো। সবার আগে পড়তাম সমাজ। বেশি
বিরক্ত লাগত অংক। কি যে নল চৌবাচ্চা, ১ম পাইপ,
২য় পাইপ। তখন গ্রামে বিদ্যুৎ গেলে মোম, হারিকেনি ভরসা। অংক করতে বিরক্তি হয়ে যেতাম আর ভাবতাম, কখন হারিকেনের তেল ফুরাবে।
হিসেবি মায়েরা কেরোসিন, মোমও বেশি জ্বলাত না।
কারেন্ট গেলেই পড়া থেকে মুক্তি।

#চোখ পলান্তিস" (অন্ধকার থেকে লুকিয়ে
থাকা একেক জনকে খুঁজে বের করা) খেলা হত প্রতিদিন।

#তবে আলিফ লায়লা দেখা কোনো দিন বাদ দেওয়া যেতনা।

#ঈদ আসলে আমরা ঈদ কার্ড কিনতাম। "মিষ্টি মিষ্টি
হাসিতে, দাওয়াত দিলাম আসিতে"- এমন ছন্দ লিখে
বন্ধু বান্ধবদের দাওয়াত দিতাম। সেই সময়
সব চাইতে দামী জরি ওয়ালা ঈদ কার্ড যেটা ছিল
সেটা খুললে ভেতর থেকে অবিশ্বাস্য ভাবে মিউজিক
বাজত।

#ঈদের জামা ঈদের দিন ছাড়া কাউকে দেখাতাম না,
পুরানো হয়ে যাবে ভেবে। জামা লুকিয়ে রাখা ছিল
সেসময় আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

#পড়ার সময় কলমের নিপ মুখে নিয়ে কামড়াতে
কামড়াতে ডুবে যেতাম গভীর ভাবনায়। ভাবনা শেষে দেখতাম কলমের নিপটা আর কলমে লাগানো যাচ্ছেনা, কামড়ে চ্যাপটা হয়ে গেছে।

#পেন্সিলের মাথার রাবার খেয়ে ফেলেছি
কত হিসেব নেই। পেন্সিল কাটার হারিয়ে মরা
কান্না কাঁদতাম।

#খেলার সময় নিয়ম ছিল, যার ব্যাট সে আগে
ব্যাটিং করবে।

#প্রতিদিন কটকটি ওয়ালা আসত,
সমপাপড়ি বেচত। সেই কটকটি বা সমপাপড়ি কিনতে কোন টাকা লাগত না। পুরনো কাগজ, প্লাস্টিকের কিছু একটা দিলেই কটকটি পাওয়া যেত। তারা ডাকতোই এই বলে, "লাগবো পুরানা ভাংগাচুড়া, লোহা লক্কড়,
ছিঁড়াফাঁরা জুতা দিয়া কটকটি"।

#আমরা এক টাকা দিয়ে বোম্বে আইসক্রিম
খেতাম, সেকারিন মিশানো। খেলেই জিভ ঠোট
লাল হয়ে যেত। সেই লাল ঠোট নিয়ে আমাদের কি
গর্ব,

#আজো চোখে ভাসে। কী সব সোনালী দিন ছিল আমার। আজকের অলস দুপুর এইসব ভেবেই কেটে গেল।

#সেই সময়গুলো...কোথা য় হারিয়ে গেল। প্রযুক্তি আমাদের কোথায় এনে দাড় করালো।
আহা......... শৈশব, ঝলমলানি শৈশব।