Thursday, 30 November 2023
কুমিল্লা বোর্ডের সুইসাইড করা ১১ জন ছাত্রের মধ্যে ১ জনের সুইসাইড নোটঃ
কুমিল্লা বোর্ডের সুইসাইড করা ১১ জন ছাত্রের মধ্যে ১ জনের সুইসাইড নোটঃ
• আগামি বছর আবার পরীক্ষা দিবো। মা, বাবাকে বুঝাইছি।
সবাই স্বাভাবিক ছিলো, আমিও। কিন্তু একের পর এক প্রতিবেশী সহপাঠীরা মিষ্টি আর কথার খোঁচা নিয়ে হাজির হতে লাগলো। আমার মায়ের মাথা খারাপ হয়ে গেলো।
• বাবাও আমাকে গালিগালাজ করলো। যে মা বাবা গতকাল আমার মাথায় হাত রেখে বলছিলো চিন্তা করিস না, বুড়ো হয়ে যাস নাই। সামনের বার আবার পরীক্ষা দিস, বছর যাইতে কয়দিন। অথচ, প্রতিবেশীদের মিষ্টি পেয়ে সেই বাবা মা আমাকে জুতা দিয়ে পিঠলো, শুধু তাই নয়, আমার উপর রাগ করে বাবাপাতের ভাত লাথি মেরে ফেলে দিলো।
• অনেক চেষ্টা করেছি লুকিয়ে থাকার, পারলাম না।
প্রতিবেশীরা এক হাত জিহ্ববা বের করে অনুশোচনা করলো, শুধু অনুশোচনা নয়, আমার জন্য নাকি আমার মা দায়ী। মায়ের আস্কারা পেয়ে আমি নষ্ট হয়ে গেছি।
• তাদের কৈফিয়ত পেয়ে আমার বাবা মাকে উঠানে প্রচুর মেরেছে। মা এখনো বেহুঁশ। মার জ্ঞান ফিরার আগেই পৃথিবীকে বিদায় জানালাম...!
ভালো থাকবেন প্রতিবেশীরা...!
ভালো থেকো সহপার্ঠী বন্ধুরা...!
পিতামাতাদের উপদেশ আমাদের মানায় না...!
তবু ও বলছি সমাজ কি বললো...!
প্রতিবেশী কি বললো সেটা শুনে,
নিজের ছেলে মেয়েকে অপমান করে,
মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিবেন না...!
মনে রাখবেন ছেলেমেয়েটা আপনার তাদের(প্রতিবেশীর নয়)...….....!!!! নয়
সংগৃহীত
Tuesday, 28 November 2023
DALO letter
Honnerable Sir/Madame
i am ......,,, a refugee , an exiled Film maker and blogger, struggling to get a home since 2017.
I have been granted refugee status in May 2017.
I requested for social housing in 2017 but it was cancelled in 2018 due to miscommunication with local council. I waited long time but I did not get any update from local council. I contacted with the local council again and they said they haven't got it. Then local council advised me to apply again over online.
Hereafter i requested for social housing again in 2019 and I got my Reference number which is 11112.......
Now it's been 03 years and 08 months of my file with Logement Social, which is active. I did not get any housing proposition. Every year I renew the application over online.
Despite of the Logement social, I also made application to the several organisations including Action logement, Adoma, Loc announce, OPH villjuif and local housing agencies. But I haven't got any response.
I have no stable house, today I am here tomorrow another place. I always have to depend on other people to stay their house.
This is how last 08 years passed. I had to share the room with 3/4 people which is inhabitable and overcrowded too.
As a law abiding resident, after 08 years of living in this situation, I deserve a house. I am working full time on CDI contract.
Now I believe I have the full rights to have a housing to avoid the disastrous situation. I humbly request you to accept my housing request and provide me a housing as soon as possible.
I really want to write a poem, I want to think about film making. But my desires can't fly.
I had the Domiciliation in 93500 Pantin but I can't use it anymore. Few days ago someone allowed me to use his home domiciliation in Paris 75018.
Because of this, I am using below mentioned address.
...........
I cordially seek your kind attention and consideration on my application as if I can get a home to continue my creative works. I would be grateful if you can consider my application.
Sincerely
Azimul haque khan
Monday, 27 November 2023
ঝরা পাতা,আগাছা এবং দাদা দাদী
একসময় এই উঠনটা পরিস্কার ঝকঝকে ছিলো, ভোরে দাদা ওই বড় ঘরটার দরজার পাশে মোড়া নিয়ে বসে চা খেতেন লাঠি হাতে। আর আমরা ঘুম থেকে না উঠলে লাঠি দিয়ে দরজায় বাড়ি দিতেন আর বলতেন " কত ঘুমাবি, আয় চা মুড়ি খাই"
দাদী বলতেন, " থাক না কয়দিনের জন্য বেড়াতে আসছে, বাসায় তো স্কুলের জন্যে ঘুমাতে পারেনা"
দাদার ভালো লাগতোনা কখন আমরা উঠবো, কখন আমি এসে বকবক করবো আর দাদা বলবে " তুই আমার চেয়েও বেশি কথা বলিস রে"
দাদী আমাদের নামে নামে রাখা মোরগ গুলো এনে মাটির চুলায় রান্না করতো, ওমন মুরগির মাংসর ঘ্রান আর পাইনা।
দাদা গাছ গুনতে দিতো, ওই যে তোদের নামে নামে কাঠ গাছ আছে, গোন তো কয়টা। আমি গুনতাম কিন্তু মনে রাখিনি কেনো জানিনা।
ঢাকায় ফিরলে প্রতিদিন সকাল রাতে দুইবার ফোন দিতেই হতো , না দিলেই অভিমান করতো।
আর এখন এই উঠোনটায় চলে যাবার পর কত বছর যাইনা মনেও পড়ছেনা।শেষ যেবার গেছিলাম,কোনো এক ভাঙা টিনে দাদার নাম দেখে চোখ ভিজে আসছিলো।এখনো কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে আমি দাদার কথাই বলবো।
Friday, 13 October 2023
গণতন্ত্র মানবাধিকারের নামে পশ্চিমা ভন্ডামি
ফিলিস্তিন-ইস্রায়েল সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স সকল ধরণের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাজ্যের পুলিশ ইস্রায়েল বিরোধী সমাবেশকে বাধা দিয়েছে। জার্মান এবং নেদারল্যান্ডস ও প্রতিজ্ঞা করেছে ইস্রায়েল বিরোধী সভা সমাবেশ করতে দেয়া হবেনা।
Saturday, 7 October 2023
ফ্রান্সে শহীদ মিনার স্থাপন এবং পরনে নেংটি না থাকার গল্প !!!
ফ্রান্সে শহীদ মিনার স্থাপন এবং পরনে নেংটি না থাকার গল্প !!!
ফ্রান্সের প্যারিসের উপকণ্ঠে আজ ০৮ অক্টোবর ২০২৩ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে শহীদ মিনার। এই শহীদ মিনার স্থাপন নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে "নির্লজ্জ এবং হাস্যকর ক্যাচাল"
বেশ কয়েকটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে এটি নিয়ে।
একপক্ষ দাবি করছে স্থায়ী শহীদ মিনারের "প্রথম প্রস্তাবক" তারা কিন্তু টাকার অভাবে তারা করতে পারেননি। বর্তমানে যারা বাস্তবায়ন করেছেন তাদের প্রতি "প্রথম প্রস্তাবকরা" মারাত্মক ক্ষেপা কারণ কথিত "প্রথম প্রস্তাবকদের" ডাকা হয়নি শহীদ মিনার তৈরির সময়।
দ্বিতীয় পক্ষ হলো, ফ্রান্স আওয়ামীলীগ এবং ফ্রান্সের বাংলাদেশ দূতাবাস। তাদের গোস্বা হলো স্থায়ী শহীদ মিনারের বাস্তবায়ন কারীদের প্রতি !!! ফ্রান্স আওয়ামীলীগ এবং ফ্রান্সের বাংলাদেশ দূতাবাসের ক্ষোভের কারণ হলো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে এই প্রকল্পে সংযুক্ত করা হয়নি। দূতাবাসের কেউ একজন আবার সংবাদ সম্মেলন করে কথিত "ইতিহাস বিকৃতির" অভিযোগ এনেছে !!!
তৃতীয় পক্ষ হলো, স্থায়ী শহীদ মিনার বাস্তবায়নকারী পক্ষ যারা এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। যতদূর জানা যায়, ব্যবসায়ী কাজী এনায়েতুল্লাহ ইনু এই প্রকল্পে সিংহভাগ অর্থ দান করেছেন। কাজী এনায়েতুল্লাহ ইনু "আয়েবা" নামক একটি সংগঠনের মহাসচিব, উক্ত সংগঠনটি প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করে বলে জানা যায়।
চতুর্থ আরেকটি পক্ষ হলো, আয়েবা বিরোধী এবং কাজী এনায়েতুল্লাহ বিরোধী পক্ষ !!! তাদের অভিযোগ হলো, কেনো কাজী এনায়েতুল্লাহ ইনু এককভাবে এই প্রকল্পে এতো অর্থ দান করেছেন। শহীদ মিনারের উদ্বোধন নিয়ে আয়েবার ব্যানারে কেনো সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন কাজী এনায়েতুল্লাহ ইনু ?
কাজী এনায়েতুল্লাহ ইনু সিংহভাগ অর্থায়ন করাতে চতুর্থ পক্ষ এই প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট হতে পারেনি/হ্যাডম জাহির করতে পারেনি !!! এটা তাদের অন্যতম মনোবেদনার কারণ !!!
শহীদ মিনার নাকি অনেকের কাছে আবেগের জায়গা !!! ২১ ফেব্রুয়ারীতে শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল না দিলে "চেতনা" জাগেনা, মুখ রক্ষা হয়না । ভাষা আন্দোলন মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম স্পিরিট, বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনগুলোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা।
যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে গণতন্ত্র নেই, বাক স্বাধীনতা নেই, ভোটের অধিকার নেই সেই রাষ্ট্রের ভাষা আন্দোলনের প্রতীক নির্মাণ নিয়ে এসব আদিখ্যেতা হাস্যকর। এ যেনো পরনে লুঙ্গী নাই কিন্তু গায়ে জামা পরার তাড়না !!!
আজিমুল হক খান
প্যারিস
০৮ অক্টোবর ২০২৩
Sunday, 24 September 2023
আওয়ামিলীগের ভয় এবং কৈশোর
ছোটবেলায় হাটের বারে বাজার করতে যেতাম। বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে অন্ধকার হয়ে যেতো। গ্রামের মূল রাস্তা থেকে হেঁটে শাখা রাস্তা দিয়ে বাড়ী যেতে হতো। শাখা রাস্তার দুপাশে পুকুর, নারিকেল-সুপারি বাগান এবং কবরস্থান। অন্ধকারে ঝোঁপঝাড়ের পাশে দিয়ে হাটতে ভয় পেতাম, কবরস্থানের পাশে গেলে ভয় আরো বেড়ে যেতো।
এই ভয়কে জয় করার চেষ্টা করেছিলাম কৈশোরে। ঝোপঝাঁড়, কবরস্থান অতিক্রম করার সময় চিৎকার করে বাংলা সিনেমার গান গাইতাম, কখনো সূরা-কেরাত পড়তাম জোরে জোরে। কবরস্থান পার হওয়ার সময় গলা শুকিয়ে আসতো।
তখন মনে হতো এই বুজি অশরীরী আত্মা এসে আমাকে ধরে নিয়ে যাবে, জীন-ভুত এসে আমার ঘাড় মটকাবে !!! তখন আরো জোরে গান গাইতাম, সূরা-কেরাত পড়তাম।
আমি যে ভয় পাচ্ছি সেটা বুজতে দিতামনা।
শেখ হাসিনা এবং তার সমর্থকদের অবস্থা আমার কৈশোরের মতো !!! তারা ভয় পায় কিন্তু প্রকাশ করেনা। দৃশ্যমান ভয়কে তারা "চাপাবাজি" "মিথ্যা" "কথিত চেতনা" দিয়ে জয় করতে চায়।
আমার ভয় ছিলো অদৃশ্য, কাল্পনিক। কিন্তু আওয়ামীলীগের ভয় বাস্তব, দৃশ্যমান এবং অপ্রতিরোধ্য।
আজিমুল হক খাঁন
প্যারিস
২৪/০৯/২০২৩
Friday, 15 September 2023
শাপলা অভিযান ও অধিকারের সাজা
শাপলা অভিযান ও অধিকারের সাজা
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
🌗 ২০১৩ সালের ৫ই মে রাজধানী ঢাকার মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত কওমি মাদরাসাকেন্দ্রিক 'হেফাজতে ইসলাম' নামের সংগঠনের বিশাল জমায়েতে গভীর রাতে চারপাশের সব আলো নিভিয়ে দিয়ে নিরাপত্তাবাহিনীগুলো "অপারেশন ফ্ল্যাশআউট" ও "সিকিউর শাপলা" নামে যে মিলিত অভিযান চালায় তাতে কতো লোক নিহত হয়েছিল?
🌗 এ বিতর্ক ঘটনার দশ বছর পর ফের উঠছে ঢাকার এক সাইবার আদালত জাতিসংঘের অ্যাফিলিয়েটেড এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশী মানবাধিকার সংস্থা 'অধিকার' এর দু'জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে জেল-জরিমানা করার কারণে। এই দণ্ড দেয়া হয়েছে সরকারের আনীত একটা অভিযোগের ভিত্তিতে। সেই অভিযোগটি হচ্ছে, হেফাজতের সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করে তাড়িয়ে দেয়ার দেয়ার অভিযানে ৬১ জন নিহত হয় বলে 'অধিকার' যে পরিসংখ্যান প্রচার করে তা' অতিরঞ্জিত এবং এতে দেশে আরো সহিংসতার উস্কানি দেয়া হয়েছে, আর বিদেশে ক্ষুন্ন করা হয়েছে সরকারের ভাবমূর্তি।
🌗 অর্থাৎ আপত্তি ও বিচার্য বিষয় ছিল ওই অভিযানে নিহতের সংখ্যা এবং এই সংখ্যার বিকৃতিই সাজার কারণ। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এই সরকারের আমলে ন্যায়বিচারের বদলে সরকারি দলের লোকদের মামলা-মোকদ্দমা থেকে অব্যাহতি দেয়া এবং সরকারের অপছন্দের লোকদের সাজা দেয়াকেই তাদের কর্তব্য বলে বেছে নিয়েছে। না হলে প্রশ্ন করা যেতো, মামলার রায় দেয়ার তারিখ পিছিয়ে পার্লামেন্টে পুরনো সাইবার অপরাধ আইনকে নতুন আইন দিয়ে প্রতিস্থাপিত করার পরদিন কেন পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছিল? প্রশ্ন করা যেতো, নিহতের সংখ্যা 'অধিকার'-এর প্রচারিত ৬১ অতিরঞ্জিত হয়ে থাকলে প্রকৃত সংখ্যা কতো? এই নিহতের প্রকৃত হিসেব কি আদালত নিয়েছে বা চেয়েছে সরকারের কাছে? নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও পরিচয় নির্ভুল ও নিখুঁতভাবে নিরূপন না করে কিভাবে আদালত 'অধিকার'-এর প্রচারিত সংখ্যাকে অতিরঞ্জিত বলে নিশ্চিত হয়ে সাজার রায় দেয়?
🌗 বাংলাদেশে ন্যায়বিচার থাকলে আরও অনেক গুরুতর প্রশ্ন তোলা যেতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাপলা চত্বেরের ওই অভিযানের পর পার্লামেন্টে দাবি করেছিলেন, সেদিন একটি গুলিও ছোঁড়া হয়নি এবং একজনও নিহত হয়নি। সকৌতুকে ও সহাস্যে তিনি বলেছিলেন, হেফাজতের লোকেরা রাতের বেলা শাপলা চত্বরে গায়ে লাল রঙ মেখে মৃতের ভান করে শুয়ে ছিল। পুলিস গিয়ে যখন তাদের ধরে তোলার চেষ্টা করে তখন সব লাশ উঠে দৌড় মারে।
🌗 আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অভিযান শুরুর আগে অনতিবিলম্বে শাপলা চত্বর ছেড়ে না গেলে হেফাজতকে 'গর্তে ঢুকিয়ে দেয়ার' হুমকি দেন। ওদিকে হেফাজতের সমাবেশ থেকে বলা হয় যে, তাদের আমির মৌলানা শাহ্ আহমদ শফিকে সমাবেশে আসতে দিলে তারা তাঁর নেতৃত্বে মোনাজাত করে চলে যাবেন। কিন্তু তাদেরকে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। মৌলানা শফিকেও আসতে দেওয়া হয়নি সমাবেশস্থলে। মধ্যরাতে সেখানে পুলিস, র্যাব সহ বিভিন্ন নিরাপত্তাবাহিনী সশস্ত্র হামলা চালায়। সেই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করতে থাকায় দুটি টিভি চ্যানেল - দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির প্রথমে সম্প্রচার বন্ধ এবং পরে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়।
🌗 শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশ ছিল মূলতঃ শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের পালটা প্রতিক্রিয়া। হেফাজতের অভিযোগ ছিল যে, নাস্তিক ব্লগারদের উদ্যোগে শাহবাগে যে গণজাগরণ মঞ্চ বসানো হয়েছে তারা আল্লাহ্, রাসুল ও ইসলামের বিরুদ্ধে অশ্লীল প্রচারণায় লিপ্ত। এদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ধর্মদ্রোহ বা ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন সহ ১৩ দফা দাবিতে তারা শাপলায় এ সমাবেশ করে। গণজাগরণ মঞ্চ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও সড়ক অবরোধ করে শাহবাগে টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে রাতদিন তাদের অবস্থান চালিয়ে গেলেও পুলিস তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ ও শাসক দলের নেতারা তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে জমায়েত শুরু হবার কয়েক ঘন্টার মধ্যে হেফাজতকে শাপলা চত্বর থেকে উৎখাত করে দেয়ার জন্য সরকার বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে।
🌗 ঘটনার কয়েকদিন পর ১৩ মে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা লাল ব্যানার হেডলাইনে প্রকাশিত এক সংবাদে জানায়, শাপলা চত্বরের ওই অপারেশনে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ খরচ হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের হিসাবে ৮০ হাজার টিয়ার শেল, ৬০ হাজার রাবার বুলেট, ১৫ হাজার শটগানের গুলি এবং ১২ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। এর বাইরে পিস্তল এবং রিভলবার জাতীয় ক্ষুদ্র অস্ত্রের গুলি খরচ হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩০০ রাউন্ড। সরকারের ৫ মের অপারেশনে র্যাবের ১ হাজার ৩০০ সদস্য, পুলিশের ৫ হাজার ৭১২ এবং বিজিবির ৫৭৬ জন সদস্য সরাসরি অংশ নেয়। এর বাইরে বিজিবির ১০ প্লাটুন ছাড়াও র্যাব এবং পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য ‘স্টাইকিং ফোর্স’ হিসেবে তৈরি ছিল। রাত ২টা ৩১ মিনিটে মূল অপারেশন শুরু হলেও রাত ১২টার পর থেকেই মূলত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তিন দিক থেকে ধীরে-ধীরে শাপলা চত্বরের দিকে এগুতে থাকে।
🌗 হেফাজত শাপলা চত্বরে তাদের অনুমোদিত সমাবেশে আসার পথে বিভিন্ন পয়েন্টে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা তাদের বাধা দেয় এবং এতে বেশ কিছু জায়গায় সংঘর্ষ হয়। ১০ মে সরকারি তথ্যবিবরণীতে বলা হয় যে, পাঁচ মে সারাদিন ধরে হেফাজত সন্ত্রাস চালিয়েছে এবং শাপলা চত্বরে হেফাজতের মঞ্চের পাশে কাফনে মোড়া চারটি লাশ পাওয়া যায়। পুলিসের হিসেবে সেদিন নিহতের সংখ্যা পথচারী ও পুলিস সহ ১১ জন বলে উক্ত তথ্যবিবরীতে উল্লেখ করা হয়।
🌗 স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে জারি করা ওই একই তথ্যবিবরণীতে বলা হয় : "শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের লোকজনকে সরিয়ে দিলে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে আবারও জমায়েত হতে থাকে। পরদিন ৬ মে ভোর থেকেই তারা রাস্তায় ব্যারিকেড বসায়। সেই সাথে নির্বিচারে রাস্তার পাশে রাখা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে থাকে। এরই মধ্যে পূর্বনির্দেশ মতো বিএনপি-জামায়াত কর্মীরাও ধ্বংসযজ্ঞে যোগ দেয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঁচপুর, সাইনবোর্ড, শিমরাইল, সানারপাড়, কুয়েত মার্কেট ও মাদানীনগর এলাকায় উন্মত্ত ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ভয়াবহরূপ ধারণ করে। তারা মাদানীনগর মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে আশপাশের মসজিদের মাইক ব্যবহার করে চরম উত্তেজনাকর গুজব ছড়িয়ে লোক জড়ো করে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ আক্রমণ প্রতিরোধ করতে গিয়ে ২ জন পুলিশ, যথাক্রমে নায়েক ফিরোজ ও কনস্টেবল জাকারিয়া এবং ২ জন বিজিবি সদস্য যথাক্রমে শাহআলম ও লাভলু গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়ে এবং হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে উন্মত্ত সহিংসতার ফলশ্রুতিতে ১৩ জন মৃত্যুবরণ করেছে মর্মে জানা যায়। ঘটনা আরও চরম আকার ধারণ করতে থাকলে অধিকসংখ্যক ফোর্স সমাবেশ ঘটিয়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।"
🌗 সরকারের জারি করা তথ্যবিবরণী অনুযায়ী হেফাজত সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় দু'দিনে নিহতের সংখ্যা পুলিশ, বিজিবি, পথচারী সহ ২৪ জন নাকি সব মিলিয়ে ১৩ জন তা বুঝা মুশকিল। দ্বিতীয় দিনে সংঘর্ষে আহত দু'জন পুলিস ও দু'জন বিজিবি সদস্যের চার জনই মারা গেছেন, নাকি দু'জন তাও পরিস্কার নয়। এই চার জনের সংক্ষিপ্ত নামোল্লেখ ছাড়া সরকারি প্রেসনোটে নিহতদের আর কারও নামধাম বা পরিচয় দেয়া হয়নি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদ-মাধ্যম তাদের নিজস্ব সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নিহতের বিভিন্ন সংখ্যার কথা উল্লেখ করে। তবুও প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীরা, সরকারী বিভিন্ন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতা "কোনও গুলি হয়নি, কেউ নিহত হয়নি" বলে একটানা প্রচারণা চালিয়ে গেছেন। তথ্যের এই বিকৃতির জন্য আদালত তাদের কাউকে কোনও ভাবে দায়ী করেছেন বা সাজা দিয়েছেন কিনা - এই প্রশ্নও তোলা যেতো দেশের বিচারব্যবস্থা আইন অনুযায়ী চললে।
🌗 শাপলার ঘটনার পর ঢাকা সহ সারা দেশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘোষিত-অঘোষিত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সংবাদ-মাধ্যমের জন্যও এক ভীতিপ্রদ অবস্থা তৈরি করা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যারা সমাবেশে যোগ দিতে এসেছিলেন তাদের ছত্রভঙ্গ করে তাড়িয়ে দেয়ার পর তারা নানা দিকে ছিটকে পড়েন। অনেকে নিজ নিজ মাদরাসা বা বাড়িতে ফেরার বদলে আতঙ্কে নানা জায়গায় আত্মগোপন করে থাকেন। ঢাকার সমাবেশে হামলা ও হতাহতের সংবাদ পেয়ে অনেকের স্বজনেরা ছিলেন উৎকণ্ঠিত। যারা কয়েকদিনেও ফেরেননি সেই নিখোঁজদের স্বজনেরা ধরেই নিয়েছিলেন তারা হয়তো নিহত হয়েছেন।
🌗 এমন পরিস্থিতিতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপন করে একটি তালিকা তৈরি করা খুবই দুষ্কর ছিল। 'অধিকার' তাদের প্রাথমিক তদন্তের আলোকে নিহতের সংখ্যা ৬১ বলে উল্লেখ করে। এতে ত্রুটি থাকা অসম্ভব নয়। আরো যাচাই বাছাই এবং চেক ও ক্রসচেকের মাধ্যমে এ ব্যাপারে একটা নির্ভুল তালিকায় অবশ্যই পৌঁছা যেতো। কিন্তু সরকারের উদ্দেশ্য তা ছিল না। ৬১ জন নিহতের সংখ্যাকে অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যমূলক আখ্যায়িত করে সরকার হামলে পড়ে 'অধিকার' এর উপর।
🌗 শাপলা সমাবেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীসমূহের উৎখাত অভিযানের পর হেফাজত হাজার হাজার আলেম ও মাদরাসা ছাত্র নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিপুল সংখ্যক লোক নিহত হয়েছে বলে দাবি করে। বিদেশী একাধিক সংবাদ-মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন গোরস্তানে পুলিসের তদারকিতে গোপনে অনেক লাশ দাফনের খবর প্রচারিত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় বীভৎস সব চিত্র ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। সর্বত্র নারকীয় এক হত্যাযজ্ঞের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে 'অধিকার'-এর মতন একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ৬১ নিহতের কথা উল্লেখ করাটা ছিল সরকারের জন্য পরম স্বস্তিদায়ক। এতে গুজবের বাড়াবাড়ি স্তিমিত হয়ে আসে। এই পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে পারতো। কিন্তু তা না করে তারা উলটো পথে হাঁটা দেয়।
🌗 ১০ জুলাই তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে অধিকার’র কাছে শাপলা চত্বরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের পরিচয়সহ প্রকাশিত তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন চাওয়া হয়। এর জবাবে অধিকার এক চিঠিতে বলে, অবশ্যই তারা এসব তথ্য দিতে সম্মত আছে। তবে ভিকটিম ও সাক্ষীর নিরাপত্তার আইন বাংলাদেশে না থাকায় সরকারকে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। আর এগুলো নিশ্চিত করলে অধিকার সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
🌗 অধিকার’র শর্ত তিনটি ছিল- ১. নিহতদের তালিকা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে যেসব মানবাধিকার সংগঠন কাজ করছে তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা। ২. তথ্য প্রদানকারী, ভিকটিম, তাদের পরিবার এবং সাক্ষীদের জন্য সুরক্ষার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়া ও সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৩. এই তথ্য প্রদানকারী, ভিকটিম, তাদের পরিবার এবং সাক্ষীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে না সেই ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয়া।
🌗 অধিকার চিঠিতে বলে, সরকার এসব বিষয়ে নিশ্চিত করলে তারা অবশ্যই সেই কাঙ্ক্ষিত কমিশনের কাছে প্রাসঙ্গিক সকল তথ্য সরবরাহ ও সহযোগিতা করবে। উল্লেখিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে নিশ্চয়তা বিধান ছাড়া নিহতদের নাম, ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা সরবরাহ করা দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনে সহায়তা বলে বিবেচিত হবে। মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে অধিকার’র পক্ষে এই দায় নেয়া সম্ভব নয়।
🌗 অধিকার আরো বলে যে, যদি সরকার কোনো তালিকা করে থাকে তাহলে আমরা পরস্পরের সঙ্গে তালিকা মিলিয়ে দেখতে পারি। সরকার আন্তরিক হলে অধিকার সব রকম সহযোগিতা প্রদানে আগ্রহী।
🌗 অধিকারের চিঠিতে বলা হয়, সরকার বলে আসছে যে, ৫ মে দিবাগত রাতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ, জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় নেতৃস্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য তুলে ধরে 'অধিকার' বলে যে, যেখানে সরকার নিজেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত এবং কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে বক্তব্য দিচ্ছে সেই পরিস্থিতিতে এই ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জনগণকে জানানোর বিষয়ে সরকার আন্তরিক নয় বলেই প্রতীয়মান হয়।
🌗 অধিকার তাদের চিঠিতে আরো বলে, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। গত ৫ মের ঘটনায় অন্তত: ১,৩৩,৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে ২৩টি মামলা দায়ের করেছে সরকার। ভিকটিম পরিবারগুলোর আশঙ্কা তাদের পরিবারের সদস্যদের সরকার হয়রানি করতে পারে এবং এই কারণে তারা জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে ভিকটিমদের নিরাপত্তা বিধান আমাদের কর্তব্য। সুতরাং ভিকটিমদের পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্বশীল মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে অধিকার উপরোক্ত শর্তগুলোর নিশ্চয়তা পেলে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে রাজি আছে।
🌗 অধিকার তাদের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান রিপোর্টের কপি তথ্যমন্ত্রীকে সরবরাহ করে।
🌗 এরপর অধিকারের বিরুদ্ধে মামলা এবং আদিলুর রহমান খান ও নাসিরউদ্দিন এলানের গ্রেফতার ও কারাবাসের ঘটনা ঘটে। অধিকারের বিরুদ্ধে সরকারী প্রোপাগান্ডা অভিযান, নিবন্ধন বাতিলসহ নিবর্তনমূলক নানান ব্যবস্থা চলতে থাকে। অবশেষে দশ বছর পর সরকারি দলের এক্টিভিস্ট হিসেবে তৎপর ব্যক্তির কোর্টে এক চরম বিতর্কিত আইনে আদিল ও এলানের জেল ও জরিমানার রায় দেয়া হয়েছে।
🌗 এই রায়ের বিরুদ্ধে দুনিয়ার সকল মানবাধিকারবাদীরা সোচ্চার হয়েছেন। রাশিয়া, বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া, চীন, ইরান সহ বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার আন্দোলনকারীদের জেল-জরিমানা ও সাজার ঘটনা বিরল না হলেও বাংলাদেশে এমন ঘটনা ইতিহাসে প্রথম। দেখা যাক, শেষ অব্দি কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায়।◾
Subscribe to:
Posts (Atom)
