Thursday, 13 August 2026
বিএনপি আসলে কোন রাজনৈতিক দল নয়
বিএনপি বিপদে মানে মহা বিপদে! আর দেশ পড়েছে ভয়ংকর বিপদে৷
বিএনপি আসলে কোন রাজনৈতিক দল নয়, এইটা আওয়ামিলীগের ভুলের কারনে বেঁচে থাকা কিছু মানুষের সম্মিলিত ভাবে গড়ে উঠা একটা ক্লাব বলা যেতে পারে৷ আওয়ামিলীগ, জামাত এই দল গুলোর আদর্শ আছে, সে আদর্শের আপনি পক্ষে বা বিপক্ষে থাকতে পারেন, তবে এই দুই দল গুলোর কর্মিরা একটা আদর্শকে ধারন করে দলে আসে, এখান থেকেই নেতা হয়। আর বিএনপি হল শুধুমাত্র আওয়ামী বিরোধীতাই তাদের বাঁচায় রাখছে, জনপ্রিয়তাও পেয়েছে আওয়ামী বিরোধী মানুষদের থেকে।
আদর্শিক নয় তাই এদের রাজনৈতিক কোন থিংক ট্যাংক বলে কিছু নাই, যদি থাকতো তবে তারা নির্বাচনের জন্যে এত উতালা হইতো না। বরং ইন্টারিম সরকারকে সহযোগিতা করতো, দেশকে স্টাবেলিটি দেয়ার জন্যে কাজ করতো। ইন্টারিম সরকারের প্রথম দিন থেকেই এই দলটা অসহযোগিতা করে গেছে এবং সারাদেশে যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি শুরু হয়েছিল এবং এখনো অব্যাহত তার সিংহভাগ দায়িত্ব এই দলটির তৃনমুলের নিয়ন্ত্রণহীনতা।
চট করে এসে আমারে কমেন্টে যা খুশি লিখে ফেলতে পারেন, তবে একটু নিজ নিজ এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখেন - আওয়ামিলীগ সরকার পতনের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলার অবনতি কারা করছে, নিজেরাই উত্তর পেয়ে যাবেন। সারাদেশে আওয়ামিলীগের তৃনমুল নেতা কর্মিদের উপর অমানবিক অত্যাচার, তাদের সব কিছু দখল, খুন এইসবের সাথে জড়িত ৯৯ ভাগ পাবেন বিএনপির স্থানীয় নেতা কর্মিদের। সারাদেশে যত ভুয়া মামলা খোঁজ নিয়ে দেখেন এর ৯৯ শতাংশ মামলা করেছে বিএনপি।
শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদল বলে যে সংগঠন, এইটা কি আদও কোন সংগঠন? একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে আদও যারা ছাত্রদল বলে তাদের ছাত্রত্ব বলে কিছু আছে। প্রতিটি ইউনিটে যারা ছাত্রদল বলে নিজেদের তাদের কারও বয়স ৩৫-৪০ এর কম হবে না। নাই ক্যাম্পাস ভিত্তিক কোন রাজনীতি। এই দল কিভাবে ক্যাম্পাস দখল করবে, কিভাবে ছাত্র সংসদগুলোর ভোটে জিতবে৷ আপনার ভালো লাগুক অথবা নাই লাগুক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছাত্রলীগ আর ছাত্রশিবিরের ধারে কাছেও ছাত্রদল হবে নাকি? ভোটে যদি ছাত্রলীগের ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হয় তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ভোটে কিন্তু ছাত্রদলের কোন পাত্তা পাবার কোন কারন নাই। ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের কাছে ছাত্রদল কোন ভাবেই পাত্তা পাবার মত সংগঠন না। আর এরাই এখন ক্যাম্পাসে শুরু করছে গায়ের জোর৷ যদিও দশ মিনিট টিকতে পারবে না এরা ছাত্রশিবিরের কাছে তবুও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অস্থিরতা শুরু করেছে৷ ছাত্রলীগ চাইলেও এখনও ক্যাম্পাসে যা করতে পারবে ছাত্রদল তাও পারবে না। এদের সেই যোগ্যতাও নাই।
এত বড় গণঅভ্যুত্থান গেলো, বিএনপির যদি নুন্যতম রাজনৈতিক দুরদর্শিতা থাকতো তবে ইন্টারিম সরকারকে সহযোগীতা করতো বিএনপি। অথচ করলো উলটো। আনসার, নার্স, ডাক্তার থেকে আটো রিক্সা মিলিয়ে প্রায় একশোর অধিক আন্দোলন এর সাথে সরাসরি বিএনপি জড়িত ছিল৷ এমনকি বাচ্চাদের হামের ভ্যাক্সিনেশনের যে সমস্যা সেটাতেও বিএনপি জড়িত ছিল। শুধুমাত্র ইন্টারিম সরকারকে বিপদে ফেলে নির্বাচন করার ধান্দায় এইসব করে গেছে৷ লাভের লাভ কি হইছে - ছয় মাস হয় ক্ষমতায় আসছে তাতেই হাটু কাপা শুরু করেছে।
বিএনপি কার সাথে বেইমানি করে নাই ইন্টারিম সরকারের আমলে? ১৮ মাস তারা প্রান্তিক অঞ্চলে আওয়ামিলীগের উপর অত্যাচার চালিয়েছে। আন্দোলনে এনসিপি, জামায়েত তাদের সহযোগী হলেও তাদের সাথে বেইমানি করেছে, ইন্টারিমের সাথেও বেইমানি করেছে৷ আর সাথে রাখছে কাদের ববি হাজ্জাজ, জুনায়েদ শাকি, নুরুল হক নুর, রাশেদ খানদের মত কতগুলো ক্লাউনকে৷
দেখেন বিএনপি যে কতটা অদক্ষতা দেখাচ্ছে তার প্রথম সিগনেচার স্টেপ ছিল - গভর্নর নিয়োগ। আপনাদের মনে আছে কিনা জানি না যেদিন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছিল সেদিনই বলেছিলাম - বিএনপি দেশের বিশাল ক্ষতি করে ফেললো। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভর্নর নিয়োগে এই ফালতু কাজের জন্যে দেশকে কতবছর ভুগতে হবে তা যতদিন গড়াবে তত স্পষ্ট হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু না, বিশ্বের যেকোন দেশের গভর্নর প্রফাইল চেক করুন - বাংলাদেশের বর্তমান গভর্নর প্রফাইল বিশ্বের সব থেকে লোয়ার প্রাফাইল গভর্নর বাংলাদেশের। আপনি নিজেই চেক করে দেখুন আমি সত্য লিখছি কিনা? একে নিয়োগের দিনই বলেছিলাম - বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টর ধসে যাবে।
আপনারা জানেন ইন্টারিম সরকারের আমলেও দেশের অর্থনীতি এত খারাপ অবস্থা ছিল না যা বিএনপি এই ছয় মাসে করে ফেলেছে৷ বাজেট যা দিয়েছে চীন থেকে টাকা না পেলে এই বাজেটের ডেভেলপমেন্ট পার্ট শুধু কাগজেই থেকে যাবে৷ দেখেন দেশের এত অস্থিরতার মধ্যেও ইন্টারিম সরকারের আমলে দ্রব্যমূল্যের অবস্থা কি ছিল আর এখন কোথায় নিয়ে গেছে মাত্র ছয়মাসে৷
যেকোন অভ্যুত্থানের প্রথম এক দুই বছর আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে, এইটা দূর্ভাগ্যজনকভাবে দ্রুব সত্য৷ সেখানে দেশে পুলিশ বলে কিছুই ছিল না, স্থানীয় প্রশাসন বলে কিছু ছিল না, তার উপর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিএনপির আওয়ামিলীগের সব দখল করার যে পাগলা ঘোড়ার রুপ নিয়েছিল, তাতেও আইনশৃঙ্খলা যত খারাপ হবে ভেবেছিলাম তত খারাপ ছিল না ইন্টারিমের সময়। আর এখন এই ছয়মাসে এমন একটা দিন যায় না যেখানে হত্যা থেকে ধর্ষন কিছুই বাদ যাচ্ছে না বরং কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে৷ বিএনপির এই বিষয়ে কোন নিয়ন্ত্রণ নাই৷
আর দুর্নীতি বিএনপি এই ছয়মাসে যা করেছে আওয়ামিলীগ একটার্ম ( পাঁচ বছর) ধরে হিসেব করলে বিএনপি আওয়ামিলীগকে ছাড়ায় গেছে। শুধু বদলি বানিজ্য, মামলা বানিজ্য আর দলীয়করনের নামে দুর্নীতির সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে এই ছয় মাসে। বিএনপির নৈতিকতা কোন নিম্নস্তরের বুঝেন যে, আওয়ামিলীগের আমলে সব খারাপ শুধু এস আলম, নাসা গ্রুপ ও বসুন্ধরা বাদে৷ মানে আওয়ামিলীগের দুর্নীতির যে তিরস্কার আমরা করি, সেই দুর্নীতির প্রধান তিনজনকেই বিএনপি কোলে তুলে নিয়ে বসে আছে৷
বিএনপি যদি আর দুই বছর ক্ষমতায় থাকে তবে দেশের বারোটা বাজায় ফেলবে নিশ্চিত থাকতে পারেন অন্তত এই গভর্নর, এস আলম, বসুন্ধরা, নাসা গ্রুপ মিলিয়ে।
প্রশাসনে কোন নিয়ন্ত্রণ নাই। যে যার ইচ্ছা মত যা ইচ্ছা করে যাচ্ছে কোন একাউন্টেবিলিটি নাই৷ সরকারের একজনের বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে মনে হয় না, আমলারা এদের দুই পয়সা দিয়ে গুনে৷
বিএনপি কোন লেভেলের দল একবার চিন্তা করেন - একজন আমিনুল যে নিজে নির্বাচনে হেরেছে তাকে ক্রিয়া প্রতিমন্ত্রী বানাইছে যে কিনা নিজে একজন সাবেক ফুটবলার। তার সব মনোযোগ ক্রিকেট বোর্ড দখল করা৷ আর কয়দিন আগে যত ফেডারেশন হইলো অন্য খেলা নিয়ে সব গুলোর পদ পদবী বেচাবিক্রি করছে। যে নিজে খেলোয়াড় অথচ খেলার এত বড় ক্ষতি করল মাত্র ছয় মাসে৷ বুঝেন অবস্থা দেশের ফুটবল বিদেশী কোচিং স্টাফ সোসাল মিডিয়াতে এসে অভিযোগ করতেছে - তারা বেতন পাচ্ছে না৷ অথচ এই মন্ত্রী নিজে একজন ফুটবলার। আর ক্রিকেট বোর্ডে এক তামিম ছাচড়াকে প্রধান করে বাকী সব নেতাদের আত্মিয়সজন দিয়ে বানাইছে বোর্ড৷
সরকারের সব থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ক্রিয়া মন্ত্রণালয়ের কথা লিখলাম৷ বাকী সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের লিখলে তো বই লিখা যাবে ব্যার্থতা আর লুটপাটের এই ছয়মাসের৷ জানেন ইন্টারিমের সময়ে যত কলকারখানা বন্ধ হয় নাই তার থেকে বেশী এই ছয়মাসে হয়েছে। শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে, গ্যাস সংকট, জ্বালানি সংকট সব উল্টোপাল্টা হয়েগেছে, একদম নিয়ন্ত্রণের বাহীরে৷ এই গভর্নরের কোন যোগ্যতাই নাই এইসব সামাল দেয়ার জন্যে যে ডলার লাগবে তার সংস্থান করার।
আমাদের যে ডেভলপমেন্ট পার্টনার দেশ গুলো আছে আমেরিকা, চীন, ইউরোপ সব গুলো দেশের সাথে ভেজাল লাগায় ফেলেছে মাত্র ছয়মাসে৷ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে এত সমস্যা হইতো না যদি চীনকে ঠিক রাখতে পারতো। বুঝাই যাচ্ছে চীনের সাথে দুরত্ব বেড়ে গেছে, আর এখন যদি ভারতের কোলে উঠতে চায় চীন ছেড়ে তবে দিন গুনা শুরু করেন - দুর্ভিক্ষ দেশের কড়া নাড়া শুরু করবে। চীন ছাড়া দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে ওভার নাইট আর ভারতের সেই ক্যাপাসিটি নাই বাংলাদেশের অর্থনীতি বাঁচায় রাখার।
আওয়ামিলীগের বিপক্ষে যদি থাকতে চান তবে জামাত এনসিপির সাথে লাগার কি দরকার। আবার আওয়ামিলীগের থেকে ভোট নিয়ে সরকার গড়লেন, তার পরেরদিন থেকে শুরু করলেন আওয়ামিলীগ নিধন। বেইমানির বাকী কি রাখলেন? আগামীতে আপনাদের আওয়ামিলীগ, জামাত, এনসিপি সব গুলো এক সাথে বেড় দিয়ে ধরবে । সেই লোড নেয়ার ক্যাপাসিটি আছে নাকি বিএনপির? মাঝে দেশটা আবার রাজনৈতিক সংকটে পড়বে৷
বিএনপি সরকার এখন কোন মুখে সহযোগিতা আশা করবে? নিজেরা দেশের চরম সংকটে দেশের জন্যে সামান্য সহযোগিতা না করে, বরং দেশকে আরও অস্থির করে একটা নির্বাচন নিয়েছে আর এখন কে যে তাদের চলাচ্ছে, কে যে তাদের নেত্রীত্ব দিচ্ছে তা আল্লাহই জানেন ভালো। আওয়ামিলীগ, জামাত, এনসিপি সকলের সাথে বেইমানি করে চেয়ারে বসেছে, এখন দেশটার সাথেও বেইমানি শুরু করেছে এরা৷ আওয়ামিলীগ থেকে ভোট চাইলেন, ভোট নিলেন। সরকারে এসে গত ছয়মাসে সারাদেশে অন্তত একশোর অধিক আওয়ামিলীগের মানুষদের হত্য হয়েছে যার ৯৯ ভাগই বিএনপি জড়িত এমন সংবাদ সংবাদপত্রেই আছে।
(এই লিখায় চট করে একদল বেকুব আইসা কমেন্ট করবে - আমি ইউনুসের পক্ষে লিখেছি৷ আরে ছাগলের জাত এইটা ইউনুসের পক্ষের লিখা নয়৷ ৫ আগষ্ট দেশের গভর্নর থেকে খতিব সব পালায় গেছিলো। এই মুহুর্তে ইউনুস কেন জুলেখাও যদি ক্ষমতায় বসতো তবুও আমি বলতাম সকল রাজনৈতিক দলের উচিত ছিল দেশকে শান্ত করতে কাজ করা, সকলের উচিত ছিল জুলেখাকে অন্তত একটা বছর সহযোগিতা করতে। অন্তত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহয়াতা করতে৷ নির্বাচন ১৮ মাস পড়েই নিতো, ১৮ মাস পর নির্বাচন না দিলে আন্দোলনে যাইতো। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই কেন? ইউনুস বা জুলেখা বিষয় না, বিষয় ছিল দেশের স্টাবিলিটি। আরেক গান্ডুর দল ট্যাগিং করবে জামাতের পক্ষে লিখেছি৷ এখানে কোথাও লিখি নাই জামাতের পক্ষে একটা শব্দও )
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment