Monday, 13 April 2020

আব্দুল মাজেদের নিখোঁজ হওয়া থেকে বাংলাদেশে তাঁকে গ্রেপ্তার—

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: মহল্লা তাঁকে কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখেনি। হিংসা-বিবাদ তো দূর অস্ত! লোকটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন নিয়ম করে। সেই তাদের মাস্টারমশাই নাকি বঙ্গবন্ধুর খুনি! এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না লকডাউনের পার্ক স্ট্রিট। এই পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আব্দুল মাজেদ।
গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মীরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদ গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে রীতিমতো অবাক পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের বাসিন্দারা!
কিন্তু আব্দুল মাজেদ নয়। পার্ক স্ট্রিট তাঁকে চেনে আলি আহমেদ ওরফে ইংরেজির মাস্টারমশাই হিসেবে। এলাকার লোকে জানত, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে থেকে পাশ করেছেন মাস্টারমশাই। টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাতেন তিনি। প্রথমে তালতলার ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন মাজেদ। পরে পার্ক স্ট্রিটে চলে আসেন।
২০১১ সালে তাঁর থেকে ৩২ বছরের ছোট উলুবেড়িয়ার সেলিনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের ছ’বছরের এক মেয়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বছর বাহাত্তরের মাজেদের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পিজি হাসপাতালে একপ্রস্থ পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়।
দিনটা ছিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি। পিজি হাসপাতাল থেকে সেই রিপোর্ট আনতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সেটাই শেষ। আর বাড়ি ফেরা হয়নি মাজেদের। স্বভাবতই উদ্বিগ্ন স্ত্রী রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। তদন্তে শুরু করে পার্ক স্ট্রিট থানা। পিজি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ তন্নতন্ন করে ঘাঁটলেও হদিশ মেলে না মাজেদের।
এরপর পুলিস মাজেদের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ব্যাগ পায়। সেই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ভারতীয় পাসপোর্ট এবং এক মহিলা সহ তিনজন শিশুর ছবি পাওয়া যায়। স্ত্রী সেলিনা পুলিসকে জানায়, ব্যাগের মতো তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসে কাউকে হাত দিতে দিতেন না মাজেদ।
মহল্লায় খুব একটা মেলামেশা করতেন না তিনি। টিউশনির পাশাপাশি বড়জোর এলাকার এক চায়ের দোকান, রেশন দোকান এবং এক বিল্ডার্সের দোকানে আড্ডা দিতেন মাজেদ। বাড়ির সদর দরজায় সব সময় তালা লাগানো থাকত। বাইরের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হতো না। এক আধ বছর নয়, এভাবেই আঠারো-উনিশ বছর ডেরা বেঁধে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন আব্দুল মাজেদ।
২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আব্দুল মাজেদের যাত্রাপথের একাংশের সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে পুলিসের। কী আছে সেই ফুটেজে?
এক ঝলক দেখলে যে কেউ ভুল করে তাঁদের কাবুলিওয়ালা ভাববেন। ষণ্ডামার্কা চেহারা। গালে ঘন কালো চাপ দাড়ি। ব্যাক ব্রাশ করা চুল। একজনের পরনে ডেনিম জিন্স আর নীল ফুল হাতা টি-শার্ট। অন্যজনের গায়ে বড় চেক শার্ট। দু’জনের হাতেই মোবাইল ফোন।
সিসিটিভি’র ফুটেজ ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একটি ওষুধের দোকানে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ। সেখানে মিনিট আটেক কাটানোর পর ঠিক ১০টা ১২ মিনিটে যখন রিপন স্ট্রিটের দিকে মুখ করে ফের পথ চলতে শুরু করেন, তখন থেকেই তাঁকে অনুসরণ করা শুরু করে ওই দুই ব্যক্তি। পরে তাঁদের সঙ্গে আরও দু’জন যোগ দেন। মোট চারজন সেদিন পিছু নিয়েছিলেন মাজেদের। সিসিটিভি’র ফুটেজে সবার ছবিই ধরা আছে। তদন্তে নেমে পুলিস ও এসটিএফ-এর অফিসাররা পিছু নেওয়া ওই ষণ্ডামার্কাদের কাবুলিওয়ালা ভেবে প্রথমে ভুল করেছিল। উল্লেখ্য, মাজেদ ছোটখাট সুদের কারবারও চালাতেন।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ধরে এসে রাস্তা পার হয়ে এজেসি বোস রোডে আসেন মাজেদ। উদ্দেশ্য, বাস ধরা। গন্তব্য পিজি হাসপাতাল। এর পরের ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ওই চারজন মাজেদের সঙ্গে কথা বলছে। তবে ক্যামেরা উন্নত না হওয়ায় কী কথা হয়েছিল, তা শোনার উপায় নেই। ঠিক তখনই মৌলালির দিক থেকে আসা একটি সল্টলেক-সাঁতরাগাছি রুটের বাসে উঠতে দেখা যায় মাজেদকে। যথারীতি সেই বাসে চাপেন ওই চারজনও। এরপর আর কোনও ফুটেজ নেই।
তদন্তে নেমে পুলিস এজেসি বোস রোডের প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছে। না, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাস স্টপ থেকে পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত কোথাও বাস থেকে নামতে দেখা যায়নি আব্দুল মাজেদকে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানিয়েছে, মাজেদের মোবাইলের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন ছিল মালদহ। যা থেকে গোয়েন্দাদের অনুমান, মাজেদকে ঘুরপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হাওড়া স্টেশনে। সেখান থেকে ট্রেনে প্রথমে গুয়াহাটি। পরে শিলং হয়ে ডাওকি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ যান তিনি। তবে তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন, নাকি বাধ্য করা হয়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। মনে করা হচ্ছে, ট্রেন মালদহ স্টেশনের আশপাশে থাকাকালীন তিনি তাঁর মোবাইলটি একবার অন করেছিলেন।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই চারজন কারা? তাঁরা কি বাংলাদেশের কোনও গোয়েন্দা এজেন্সির অফিসার? সত্যিই এনিয়ে তদন্ত হাওয়া দরকার, বলছেন পার্ক স্ট্রিটের বাসিন্দারা।
কলকাতা পুলিসের অজান্তে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেল মাজেদকে? কেননা, আইনত কোনও বিদেশি গোয়েন্দা এজেন্সি বিনা অনুমতিতে অন্য দেশে ঢুকে অভিযান চালাতে পারে না।
বাংলাদেশ সরকারিভাবে ৭ এপ্রিল জানিয়েছে, করোনার ভয়েই মার্চ মাসের শেষদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি। বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজমের গোয়েন্দারা তাঁকে মীরপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন।
এই যুক্তি অবশ্য ধোপে টিকছে না। কারণ ভারতে প্রথম করোনা আক্রান্তের খোঁজ মেলে ৩০ জানুয়ারি। তাও আবার দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরলে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খুনি লুকিয়ে ছিলেন কলকাতায়। এখানে করোনা ধরা পড়ে ১৮ মার্চ। ফলে ২২ ফেব্রুয়ারি মাজেদ কলকাতা থেকে বাংলাদেশে যাবেন কেন?
আব্দুল মাজেদের নিখোঁজ হওয়া থেকে বাংলাদেশে তাঁকে গ্রেপ্তার—গোটা পর্বই রহস্যে ঘেরা।
সেই রহস্যের কি আদৌ কোনওদিন কিনারা হবে? (ক্রমশ)

    এমন চারজনই সেদিন পিছু নিয়েছিল মাজেদের। ছবি স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে পাওয়া।

https://bartamanpatrika.com

Friday, 3 April 2020

ত্রাণ না পেয়ে নষ্ট ভাত শুকাচ্ছেন, চাল হলে রান্না করবেন ভিক্ষুক

৭০ বছরের বৃদ্ধা সাবিয়া বেগম। থাকেন নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া বিহারি কলোনি মহল্লার ছোট যমুনা নদীর গাইড ওয়াল-সংলগ্ন সরকারি জমিতে। সেখানে ঝুপড়ি ঘরে গত কয়েক বছর ধরে বসবাস করছেন তিনি। স্বামী নুরু মিয়া মারা গেছেন ২৫ বছর আগে। মেয়ের বয়স যখন আট মাস তখন স্বামী মারা যান। বিভিন্ন জনের বাড়িতে কাজ করে জীবন চলত তার। মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর এখন একা থাকেন। বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন আর কাজ করতে পারেন না। ভিক্ষা করে দিন চলে তার।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) দুপুরে উত্তপ্ত রোদে বিহারি কলোনি মাঠে একটি টিনের ওপর নষ্ট ভাত শুকাচ্ছেন তিনি। এমন দৃশ্য দেখে নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াজ খান মোবাইলে ছবি তুলে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন। বিষয়টি দেখে অনেকেই মর্মাহত হন।


শুধু সাবিয়া বেগম নন, ওই কলোনির প্রায় ২০-২৫টি পরিবারের একই অবস্থায় দিন কাটছে। করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের জীবন ধারণ। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের।
সারা দেশের মতো নওগাঁয়ও চলছে অঘোষিত লকডাউন। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী দিলেও তা পর্যাপ্ত না হওয়ায় অনেকেই পাচ্ছেন না।
সাবিয়া বেগমের ভাত শুকানোর দৃশ্য মোবাইলে ধারণের পর ফেসবুকে পোস্ট করে নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াজ খান লিখেছেন, ‘ফেসবুকে ঢুকলেই দেখি ওখানে-সেখানে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে। তবুও আজ এমন দৃশ্য দেখতে হলো। বৃদ্ধাকে ভাত শুকাতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম কি করবেন এগুলো দিয়ে? উত্তরে বৃদ্ধা বললেন কাজ নেই, তাই বাজার করতে পারিনি। ঘরে তরকারি নেই, চালও শেষ। তাই নষ্ট হয়ে যাওয়া ভাত শুকাচ্ছি। ভাত শুকিয়ে চাল হলে আবার রান্না করে খাব। এগুলো নষ্ট ভাত। তবুও এই মুহূর্তে জীবন ধারণের জন্য বিকল্প পথ নেই। বাঁচতে হলে এগুলোতেই খেতে হবে। কারণ কেউ আমাদের ত্রাণ দেয় না।
বৃদ্ধা সাবিয়া বেগম বলেন, গতকাল রাতে এক প্রতিবেশী ভাত দিয়েছেন। রাতে কিছু খেয়ে রেখে দিয়েছি। সকালে দেখি ভাত নষ্ট হয়ে গেছে। ওই নষ্ট ভাত পানিতে পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে দিয়েছি। ভাত শুকিয়ে চাল হলে পরে রান্না করে খাব। গতে কয়েকদিন থেকে ঘরে বাইরে যেতে পারিনি। ঘরে কোনো খাবার নেই আমার। খুব কষ্ট করে চলছি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।
একই কলোনির বিলকিস, চেলি ও নাইচ বেমগ বলেন, কলোনিতে যারা বসবাস করে এদের কেউ স্বামীহারা, কারও স্বামী অসুস্থ, কেউ রিকশা ও ভ্যানচালক। করোনা আসার পর থেকে আমাদের গজব শুরু হয়েছে। মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবন চলত। এক সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ। শুনতেছি বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ দেয়। কিন্তু আমাদের মহল্লার কেউ তো পেল না। খুব কষ্ট করে চলছি আমরা।
https://www.jagonews24.com/country/news/570715

Thursday, 2 April 2020

"কবর" কবিতার আপডেট ভার্সন"

এই বাঙালীর মাথায় এতো বুদ্ধি!!! ভাবা যায়না!!!🤣

'কবর' কবিতার আপডেট ভার্সন"🤣🤣🤣

এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম- গাছের তলে,
তিরিশটা দিন হাত ধোঁয়নি সাবান মেশানো জলে।
এতোটুকু তারে ঘরে এনেছিনু গোবর ভর্তি মাথা,
ভোর রাতে উঠে চুপচাপ খেতো তিন থানকুনি পাতা।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিয়া ভেবে হইতাম সারা;
সারা বাড়ি ভরি এতো ভাইরাস ছড়াইয়া দিল কারা!
এমনি করিয়া জানি না কখন হাত থেকে মুখে মিশে
করোনা তাহার বাসা বেধেছিলো সরাসরি ফুসফুসে।
আইসোলেশনে যাইবার কালে কহিল ধরিয়া পা
এই ভাইরাসে দেখে নিও মোর কিচ্ছুই হবে না।
হেসো না হেসো না, শোনো দাদু সেই থানকুনি পাতা খেয়ে,
ভরসা তাহার কতো হয়েছিলো দেখতিস যদি চেয়ে।
নথ নেড়ে নেড়ে কহিল হাসিয়া, এতো ভয় পেলে চলে
মুসলমানের করোনা হয় না, অমুক হুজুর বলে।
গুজবে যাহার এতো বিশ্বাস কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝুম নিরালায়।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা দয়াময়
থানকুনি পাতা না খেয়ে লোকে, হাতখানা যেন ধোয়!
.
তারপর এই শূন্য জীবনে যতো দেখিয়াছি পাশে,
সচেতন হওয়া বাদ দিয়ে লোকে রোগব্যাধি নিয়ে হাসে।
শতো করোনায় শত মৃত্যুর অঙ্ক হৃদয়ে আঁকি,
লোক সমাগম বাদ দিয়ে তাই সারাদিন ঘরে থাকি।
সাবানরে আমি বড় ভালোবাসি, সাবানের সাথে বাস
আয় আয় দাদু হাত দুটো ধুই, যদি মরে ভাইরাস!
.
এইখানে তোর বন্ধু ঘুমায়, এইখানে তার ভাই,
কি করবি দাদু, আইইসিডিআরের নিয়ম যে মানে নাই।
সেই ফাল্গুনে ফ্রেন্ড তোর আসি কহিল ডাকিয়া মোরে,
দাদু, আমাদের স্কুল ছুটি যাচ্ছি সাজেক ট্যুরে।
হতাশ হইয়া কি আর বলিব, কহিলাম বাছা যাও,
সেই ট্যুর তার শেষ ট্যুর হবে, তাহা কি জানিত কেউ।
সাজেক থেকে ফিরিয়া তাহার সেই যে ধরিল জ্বরে,
সাথে হাচি কাশি, পুরো পরিবার একসাথে গেল মরে।
তোর বন্ধুর জামা জুতো ব্যাগ দুহাতে জড়ায়ে ধরি,
তার প্রেমিকা যে কতই কাঁদিত সারা দিনমান ভরি।
কান্নার পরে জামা-ধরা সেই হাত দিয়েছিলো মুখে,
দুইদিন বাদে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলো তারও বুকে।
গলাটি তাহার জড়ায়ে ধরিয়া কাঁদিলো তাহার মা,
পরদিন রাতে করোনা অসুখ, তারেও ছাড়িলো না।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, রহমান খোদা আয়,
আইসোলেশনে সুস্থ হউক, মেয়েটা ও তার মায়!
.
এইখানে তোর বুজির কবর, পরীর মতন মেয়ে,
বিয়ে দিয়েছিনু কাজীদের বাড়ি ইতালির ছেলে পেয়ে
করোনা ছড়ালে ইতালি হইতে ফিরিল বুজির বর,
সেই ছেলে মোটে নয় সচেতন, থাকেনাই একা ঘর।
খবরের পর খবর পাঠাতো, দাদু যেন কাল এসে,
আমরা সবাই ঘুরতে যাচ্ছি, রায় আমাদের সাথে!
শ্বশুর তাহার বেশি বোঝা লোক, ধারে কি এসব ধার?
করোনার ভয়ে ঘরে থাকা ভুল, বলছিলো বারবার।
যাইনি আমি তাই বেঁচে গেছি, বাঁচেনাই ওরা কেহো,
ইতালির থেকে আসা ভাইরাস ছুয়েছে সবার দেহো।
তোর বুজিও জ্বরেতে পড়িলো আর উঠিলো না ফিরে
এইখানে তারে কবর দিয়েছি দেখে যাও দাদু ধীরে!
আয় আয় দাদু মোনাজাত ধরি, মহান খোদাকে ডেকে
বিদেশ ফেরত সকলেই যেন কোয়ারেন্টাইনে থাকে।
.
হেথায় ঘুমায় তোর বড় খালা, ষাট বছরের বুড়ি,
হার্টের অসুখে চিনি খেতনা, গুড় দিয়ে খেত মুড়ি।
সারাবছরই ডায়াবেটিস আর হাই প্রেশারে ভোগে,
ঘরে থেকেও কী করে শেষে ধরলো করোনা রোগে!
তার ছোটছেলে একদিন গেল ঘুরতে শপিং মলে,
ফেরার সময় বন্ধুরা মিলে আড্ডাও দিলো দলে।
বাসায় ফিরে মায়ের সাথে একসাথে খেলো ভাত,
অসুস্থ তোর বড় খালার সেইদিনই শেষ রাত।
জ্বর কাশি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি নিলো না তারে কেউ,
সবার ঘরেই মৃত্যুর ছায়া, চোখে কান্নার ঢেউ।
সেই চোখমুখ গোলগাল হাত, সকলি তেমনি আছে,
কি জানি মরন ভাইরাসে ধরে খালা তোর চলে গেছে।
.
ঐ রাজপথে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে,
মৃত্যু মিছিলে বেঁচে থাকিবার স্বাদ নাহি আজ জাগে।
খবর পাঠিকা খবর পড়িছে বড় সুকরুণ সুর,
সোনার বাংলা করোনাতে আজ ভয়াল মৃত্যুপুর!
জোড়হাত তুলে দোয়া মাঙ দাদু আয় খোদা রহমান,
করোনা হইতে রক্ষা করিও দেশের সকল প্রাণ!

🤣🤣🤣🤣🤣

#Collected

Monday, 23 March 2020

বিপদে আছে করোনা ভাইরাস নিজেই !!! 😂😂😂

বিপদে আছে করোনা ভাইরাস নিজেই!! 😷🐸

#আমরাইএকমাত্রজাতি,#যারষোলকোটিমানুষেরতেরকোটিইকরোনাবিশেষজ্ঞ।।

১৮৩ দেশে লাখ লাখ লোকের মাঝে ছড়িয়ে বাংলাদেশে এসে বিপদে পড়েছে। সে তার স্টান্ডার্ড বাংলাদেশে ধরেই রাখতে পারছেনা।

প্রথমতঃ সে আওয়ামীলীগ না বিএনপি এটা নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে।

দ্বিতীয়তঃ সে কয়জনকে ধরেছে সেটা নিয়ে মানুষের নানা অভিমত। সরকারি হিসাব ২৪ ,পাবলিকারী হিসাব ২৪০০০🙆

পৃথিবীর সব ঠান্ডা দেশ কাঁপিয়ে বাংলাদেশে এসে গরমে তার ঘাম ছুটে যাচ্ছে...😪

যখন পৃথিবীর সেরা সেরা দেশ তাকে নির্মুলের ভ্যাকসিন আবিস্কার করতে পারেনি, অথচ বাংলাদেশে এসে সে দেখছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে হোমিও ডাক্তার'রা বোতলে করে ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে তার ঔষধ বিক্রি করছে, আবার মাইকিং হচ্ছে বিফলে "মূল্য ফেরত" সেটা নিয়ে সে চরম লজ্জায় বিপর্যস্ত!😂😅

এর মধ্যে আবার কিছু চপ বিক্রেতা করোনা চপ বানিয়ে তাদেরকে খেয়েও ফেলছে। এতে করে করোনার ইজ্জত নিয়ে টানাটানি পড়েছে।😊😊😊

যাও কয়েকজনকে আক্রান্ত করেছিলো, পরে শুনতে পারে তারাও নাকি সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছে...😟

ইতালী/চায়না/জার্মানি/সৌদি আরব/বাহরাইন/কুয়েত থেকে আগত কিছু বাঙালির শরীরে ভর করে এদেশে ঢুকেছিলো, কিন্তু তারা বাড়ি গিয়ে কেউ পিকনিকে, কেউ শালীর বিয়েতে, কেউ গরুর খামার করেছে, কেউ নিজেই বিয়ে করেছে... এতেও চরম ইমেজ সংকটে পড়েছে করোনা ভাইরাস!😣

তাছাড়া বাংলাদেশের ফেসবুকে তাকে নিয়ে জনগন আর মন্ত্রী'রা যেই হারে ট্রল করছে তাতে পৃথিবীর হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেও বাংলাদেশ থেকে পলাইতে চাচ্ছে "করোনা ভাইরাস"!

আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।ভাল খারাপ বুঝার তৌফিক দান করুন।এই গরীব জাতীকে রক্ষা করুন।

#কার্টেসী Saima Sultana Munni

Tuesday, 17 March 2020

মুজিব বর্ষ ‘ নামে নতুন পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার চালু

বাংলা, ইংরেজি ও হিজরি'র মতো ‘ মুজিব বর্ষ ‘ নামে নতুন পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার চালু হচ্ছে আগামী কাল ১৭ই মার্চ থেকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষের দিন থেকে এই ক্যালেন্ডারের যাত্রা।

আজ ( সোমবার) বিকেলে সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নতুন এই ক্যালেন্ডার উদ্বোধন করেছেন শ্রম সচিব কে এম আলী আজম।

'মুজিববর্ষ' ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা অনুযায়ী বছরের প্রথমদিন হবে ১৭ মার্চ। আর ১৭ মার্চ থেকে এপ্রিলের ১৬ তারিখ পর্যন্ত প্রথম মাসের নাম হবে 'স্বাধীনতা'। এভাবে ক্রমানুযায়ী দ্বিতীয় মাসের নাম শপথ, তৃতীয় মাসের নাম বেতারযুদ্ধ, চতুর্থ মাসের নাম যুদ্ধ, পঞ্চম মাসের নাম শোক, ষষ্ঠ মাসের নাম কৌশলযুদ্ধ, সপ্তম মাসের আকাশ যুদ্ধ,  অষ্টম মাসের নাম জেলহত্যা, নবম মাসের নাম বিজয়, দশম মাসের নাম ফিরে আসা, ১১ তম মাসের নাম নবযাত্রা ও ১২তম মাসের নাম রাখা হয়েছে ভাষা।

এই ক্যালেন্ডারের বিশেষ বৈশিষ্ট হলো ‘মুজিব বর্ষ’র তারিখের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও হিজরির তারিখও এতে থাকছে। থাকছে বিশেষ মাস ও তারিখের ঐতিহাসিক তথ্য।

শ্রম সচিব বলেছেন, লিপ ইয়ারের কারনে ৪ বছর পর এই ক্যালেন্ডারের তারিখে গরমিল হতে পারে। তবে এই ত্রুটি সংশোধন হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেন। এর মাধ্যমে ইতিহাস রচিত হলো বলে মনে করে শ্রম মন্ত্রনালয়।












Friday, 28 February 2020

গান্ধী কেন নোয়াখালী এসেছিলেন???

সেই ছোট্ট কালে ইস্কুলের প্রথম দিন থেকেই বন্ধুদের কাছে আমরা নোয়াখাইল্লারা ' তোরা কত খারাপ, মহাত্মা গান্ধীজির ছাগলটা পর্যন্ত তোদের হাত থেকে রক্ষা পায় নাই, তোরা কত খারাপ।' এই কথাটা শুনে আসছি।
আজ পঞ্চান্ন বছর বয়সে এসে আপনাদের সেই প্রেতাত্মা করমচোদ গান্ধী লেংটা বাবার ছাগল খাবার কৈফিয়ৎ দিচ্ছি।
এখন তবে শুনুন সেই কৈফিয়ৎ:

👉আজ একজন সারোয়ার হোসাইনীর দরকার

👉করমচোদ গান্ধী ও প্যাটেল ভাইরা থেকে আজকের কসাই মোধি ও অমিত সাহারা সবাই একই পথের যাত্রী!
👉গান্ধী কেন নোয়াখালী এসেছিলেন???
👉কেনইবা ছাগল হারিয়েছেন???

নোয়াখালীর মানুষ কত খারাপ সেটা বুঝানোর জন্য উদাহরণ হিসেবে অনেকেই বলে থাকেন ‘নোয়াখালীর মানুষ গান্ধীর ছাগল চুরি করেছিলো’। সেরকমই এক অর্বাচীনের সাথে হঠাৎ দেখা হলো। খুব ভাব নিয়ে গান্ধীর ছাগল চুরির বর্ণনা দিয়ে আসছেন। আমি তাকে বিনীতভাবে জিজ্ঞাসা করলাম, গান্ধী কেন নোয়াখালী গিয়েছিলেন?

তিনি একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন। আমি তাকে বললাম নোয়াখালী মনে হয় সেসময় এখনকার কক্সবাজারের মতো ছিল। আপনার মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালীতে হাওয়া খেতে এসেছিলেন। সেসময় নোয়াখাইল্যারা তার ছাগল চুরি করেছিলো। এমন কিছু? তিনি আর কিছু বললেন না।

যাই হোক মহাত্মা গান্ধী যাকে বলা হয় তার নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তাকে অনেকে মহান আত্মার অধিকারী মনে করেন বিধায় তাকে মহাত্মা বলে থাকেন। আমার কাছে তাকে নিচু আত্মার বলেই মনে হয় বলে আমি কখনোই তাকে মহাত্মা বলি না। সে যাই হোক তার কথা পরে হবে। কেন সে নোয়াখালী গিয়েছিল? কেনইবা তাকে ছাগল হারাতে হয়েছিল? এসব বিষয় প্রাসঙ্গিকভাবে আসবে। তার আগে আমরা অন্য একটা বিষয়ে দৃষ্টিপাত করি।

নোয়াখালীতে ১৯৪৬ সালে একটি দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়। ভয়াবহ দাঙ্গা। এটি ইতিহাসে নোয়াখালী রায়ট/দাঙ্গা নামে পরিচিত। ইংলিশে এই লিখে সার্চ করলে অনেক আর্টিকেল পাবেন। বাংলায়ও পেতে পারেন। উইকিতেও বেশ ভালো আর্টিকেল আছে এই নিয়ে। আপনি যদি সেগুলো পড়েন তবে আপনি এক তরফা একটি ইতিহাস পাবেন যেখানে বলা হয়েছে হিন্দুদের প্রতি ভয়াবহ নির্যাতনের কথা।

অথচ বর্তমানে নোয়াখালীর অনেকেই সেই দাঙ্গার কথা জানেন না। না জানার কারণ এই ইতিহাস নিয়ে কারো লিখার দরকার হয়নি। যেহেতু এখানে হিন্দুদের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে তাই তারাই এটা নিয়ে গবেষণা করেছে। দাঙ্গার কিছুদিন পরেই নোয়াখালী পাকিস্তানের অন্তর্গত হওয়ায় মুসলিমরা এই অঞ্চলে জয়ী হয়ে যান।

নোয়াখালীতে দাঙ্গার সূত্রপাত নোয়াখালীতে নয়। মুসলিম লীগের নেতৃত্বে মুসলিমরা পাকিস্তান দাবী করেছে আর অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে হিন্দুরা একক ভারতের জন্য দাবী জানাচ্ছে। এই নিয়ে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা লেগেছে কলকাতায়। তারই সূত্র ধরে বিহারে শুরু হয়। কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম সমান সমান ছিলো বলে পরিস্থিতি অতটা নাজুক হয়ে পড়ে নি। তবে বিহারে মুসলিমদের অবস্থা হচ্ছিলো অত্যন্ত করুণ।

এখন যেভাবে আরাকান থেকে রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছে। সেসময় বিহার হতে নোয়াখালীতে ঢল নেমেছিলো। নোয়াখালী যদিও একেবারে মুসলিম অধ্যুষিত ছিল না, তবে নানান কারণে নোয়াখালীতে বিহারীরা এসেছিলো। এর অন্যতম কারণ নোয়াখালীর মুসলিমরা অন্য মুসলিমদের মতো অসচেতন ছিল না। তারা ছিলেন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন। এর কারণ এখানে ওহাবী আন্দোলন এবং হাজী শরীয়ত উল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলন অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল।

বিহারীরা নোয়াখালীতে আসার আরেকটি কারণ ছিল গোলাম সরোয়ার হুসেইনী। তাঁর বাড়ি বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার করপাড়া গ্রামের শ্যামপুর। তিনি ছিলেন পীর পরিবারের। তারা বংশানুক্রমিকভাবে মুসলিমদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি নির্যাতিত বিহারীদের নোয়াখালীতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই লক্ষ্যে তাদের নিরাপত্তা ও আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য একটি বাহিনী তৈরি করেন। এটি মিয়ার ফৌজ নামে পরিচিত ছিল।

গোলাম সরোয়ার হুসেইনী রাজনৈতিক লোক ছিলেন। তিনি ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টির নমিনেশন নিয়ে বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হন। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে তিনি মুসলিম লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

যাই হোক গোলাম সরোয়ার সাহেব বিহারীদের আশ্রয় দিচ্ছিলেন পাশাপাশি বিহারে ও কলকাতায় দাঙ্গা বন্ধ করার জন্য রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। কিন্তু তার সেই প্রচেষ্টায় সাড়া দেয়নি কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ। তিনি সবার কাছে চিঠি লিখেন এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যার সমাধান চান। কেউ সমাধানে জোরালো ভূমিকা রাখেন নি। তিনি খুবই হতাশ হয়েছিলেন।

এদিকে রায়পুরের হিন্দু জমিদার চিত্তরঞ্জন রায় চৌধুরী নোয়াখালীতে বিহারীদের এই অনুপ্রবেশ পছন্দ করছিলেন না। তিনি বিহারীসহ মুসলিমদের আগমন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। চিত্তরঞ্জন রায় চৌধুরীর এই আচরণ সরোয়ার সাহেবকে ব্যাথিত করেছিলো। তিনি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু জমিদার তা মানতে নারাজ। জমিদার কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন। সরোয়ার সাহেব তাই গান্ধীকে খবর জানালেন যাতে তিনি জমিদারকে তার নিষ্ঠুর আচরণ থেকে বিরত রাখেন। গান্ধী তার আহ্বানকে পাত্তা দিলেন না। এদিকে জমিদার নোয়াখালী থেকে সকল বহিরাগত মুসলিমকে উচ্ছেদের অভিযানে নেমেছেন।

সরোয়ার হুসেইনী কারো থেকে কোন সাহায্য না পেয়ে অবশেষে তিনি তার আস্তানা সামপুরের দায়রা শরীফে তার ভক্তদের ও মুসলিমদের এক সমাবেশ ডাকলেন। সেখানে তিনি মুসলিমদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছেন এবং চিত্তরঞ্জনের রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আহ্বান জানান।

সকল মুসলিম তার আহবানে সাড়া দেয়। চিত্তরঞ্জনকে অবরোধ করে মুসলিমরা। সে বৃটিশ পুলিশ, আগ্নেয়াস্ত্র, তার পেয়াদা বাহিনী, হিন্দু জঙ্গী, কংগ্রেস কর্মী ও জলকামান দিয়েও সেদিন মুসলিমদের আটকাতে পারেনি। অবশেষে সে তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে এবং নিজে আত্মহত্যা করে। সরোয়ার সাহেবের এই অভিযানে তাঁকে সহায়তা করেন জনৈক মুসলিম লীগ নেতা কাশেম। সরোয়ার সাহেবের বাহিনীর নাম মিয়ার ফৌজ আর কাশেমের বাহিনীর নাম ছিল কাশেম ফৌজ।

জমিদারের পতনের পর তারা পুরো নোয়াখালীতে কয়েকটিভাগে ভাগ হয়ে হিন্দু উচ্ছেদে নেমে পড়েন। এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটনা প্রবাহ পাল্টে যায়। এবার হিন্দু শরনার্থীদের ঢল শুরু হয় নোয়াখালী থেকে। এতক্ষণে টনক নড়ে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর। তিনি মুসলিম নেতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন সরোয়ার হুসেইনীকে থামানোর জন্য। কিন্তু কোন মুসলিম নেতার কথা এমনকি তার দলের প্রধান বরিশালের এ কে ফজলুল হকের কথাও শুনেন নি সরোয়ার সাহেব। কারণ এতদিন কেউ তাকে কোন সহায়তা করেনি।

অবশেষে তাকে থামানোর জন্য গান্ধী নিজেই এসেছিলেন নোয়াখালীতে। নোয়াখালীর চৌমুহনীতে কংগ্রেসের উদ্যোগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। ইতিমধ্যে সরোয়ার হুসেইনী ঘোষণা দিয়েছেন তিনি পুরো বাঙলা থেকে হিন্দুদের উচ্ছেদ করবেন। গান্ধী এসে সরোয়ার সাহেবের সাথে সেখা করতে চাইলে প্রথমে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে রাজি হন।

গান্ধী যেখানেই যান সেখানেই তিনি একটি ছাগল নিয়ে যান। তিনি সেই ছাগলের দুধ পান করেন। সরোয়ার সাহেবের আস্তানায় প্রবেশ করা মাত্রই তার ছাগল হস্তগত করেন মিয়া ফৌজের লোকেরা। যখন সারোয়ার সাহেবের সাথে তার কথা হচ্ছিলো তখনই রান্না করা ছাগল উপস্থাপন করা হয় গান্ধীর সামনে। এটা ছিল সরোয়ার সাহেবের একটি থ্রেট। গান্ধী সরোয়ার সাহেবের এই আচরণেই আন্দাজ করতে সক্ষম হয় নোয়াখাইল্লারা কী জিনিস!

সরোয়ার সাহেব গান্ধীকে বলেন, আপনি ভুল স্থানে এসেছেন। দাঙ্গার সূত্রপাত এখানে নয়। আপনাকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি বিহারে ও কলকাতায়। আপনি এসেছেন নোয়াখালীতে। যেদিন কলকাতায় ও বিহারে সংঘর্ষ বন্ধ হবে সেদিন নোয়াখালী ঠান্ডা হয়ে যাবে। গান্ধী অনুরোধ করেছেন তিনি চেষ্টা চালাবেন এই সময়ের মধ্যে নোয়াখালীতে যাতে হিন্দু উচ্ছেদ বন্ধ থাকে। সরোয়ার সাহেব বলেছেন আপনি কি আমাকে এই নিশ্চয়তা দিবেন আমি বন্ধ করার সাথে সাথে বিহারে ও কলাকাতায় বন্ধ হবে?

গান্ধী নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। সরোয়ার হুসেইনী বললেন তাহলে আমাকে আপনি কোন অনুরোধ করার যোগ্যতা রাখেন না। আমি আপনার নিরাপত্তা দিতেও প্রস্তুত নই। আমি আপনাকে নোয়াখালীতে আহ্বান করিনি। সরোয়ার সাহেবের হুমকিতে গান্ধী কাজ শুরু করলেন। তিনদিনের মধ্যে পুরো ভারতে দাঙ্গা বন্ধ হলো। একথা সরোয়ার সাহেবের কাছে স্পষ্ট ছিলো গান্ধীর হাতেই সকল চাবিকাঠি। সেই সকল দাঙ্গা লাগাচ্ছে এবং মুসলিমদের হত্যা করছে।

দাঙ্গা বন্ধ হলে গান্ধী নোয়াখালীতে তার নিরাপত্তা চাইলেন এবং হিন্দুদের কল্যাণে আশ্রম করার অনুমতি চাইলেন। সরোয়ার সাহেব তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেন এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে হিন্দু আশ্রম করার অনুমতি দেন। সেখানে হিন্দু নেতা হেমন্তের জায়গায় আশ্রম স্থাপিত হয়।

এ বি এম সামসুজ্জামান  ভাইয়ের ওয়াল হতে