Thursday, 2 March 2023

তুমি বলেছিলে

তুমি বলেছিলে রাতে তোমার ঘুম হয় না; আমি বুঝেছিলাম সময় চাইছো; তুমি বলেছিলে আকাশে কী মেঘ করেছে দেখো! আমি বুঝেছিলাম তোমার মন খারাপ। তুমি বলেছিলে চুলে জট বেধেছে; আমি বুঝেছিলাম তুমি স্পর্শ চাইছো। তুমি বলেছিলে আজ বিকেলে তুমি বারান্দায় থাকবে; আমি বুঝেছিলাম সাক্ষাত চাও। তুমি বলেছিলে অন্ধকারে আমার বড্ড ভয়; আমি বুঝেছিলাম তোমার আমাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে; তুমি বলেছিলে সমুদ্রে যাবে; আমি বুঝেছিলাম পাশাপাশি হাত ধরে হাঁটতে চাইছো। তুমি বলেছিলে নীল প্রিয় রঙ, আমি বুঝেছিলাম তোমার কষ্ট হচ্ছে; তুমি বলেছিলে ঠোঁট ফেটেছে, আমি বুঝেছিলাম চু মু খেতে চাইছো; তুমি বলেছিলে অংক ভালো লাগেনা, আমি বুঝেছিলাম তুমি কবিতা ভালোবাসো; তুমি বলেছিলে আজ তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরতে হবে; তুমি বলেছিলে এই হুটহাট দেখা করা,অসময়ে ফোন করা আর তোমার ভালোলাগছেনা; আমি বুঝে গিয়েছিলাম,বিচ্ছেদ চাইছো। তারপর অলিখিত স্বাক্ষরে তুমি যখন ইনভিজিবল কোর্টে আমার বিরুদ্ধে বিচ্ছেদের মা ম লা ঠুকে দিলে; আমি বুঝেছিলাম তুমি মুক্তি চাও। এরপর সব বুঝে যখন আমি দার্শনিক, সব মিটিয়ে তুমি যখন অন্য ঘরের শো-পিস, একদিন আমাদের দেখা হলো তখন; তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে, কেমন আছো? আমি বুঝে গিয়েছিলাম তুমি ভালো নেই। শেষ পর্যন্ত তাই হলো! একজন হুমায়ুন ফরিদী!

Tuesday, 28 February 2023

ফুলপরী এবং বেজন্মাদের গল্প !!!

ফুলপরী, বাবা-আদর করে নাম রেখেছে মেয়েটির। স্কুল-কলেজ শেষ করে মেয়েটি পড়তে যায় বিষবিদ্যালয়ে। সেখানে গিয়ে ছাত্রলীগ নামের বেজন্মা-নষ্টদের নির্যাতনের শিকার হয় ফুলপরী। বিবস্র করে নির্যাতন করা হয় সেইসাথে ভিডিও করে রাখা হয়। ছাত্রলীগের বেজন্মারাই তদন্ত করে জানায় এই ধরণের ঘটনা ঘটেনি !!! রাষ্ট্র-আদালত-বুদ্ধিজীবী-নারী নেত্রী সবাই নিশ্চুপ। ফুলপরীর দুর্ভাগ্য, সে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কিংবা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য নয়। সংখ্যালঘু হলে বিচারের দাবিতে সরগরম হতো রাজপথ,বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। নারী নেত্রীরা ছুটে আসতেন, মানবাধিকার কর্মীরা আসতেন হয়তো উচ্চ আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে রুল জারি করতো। চারিদিকে এক অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছে। ব্যাক্তিগত লাভ, চাটুকারিতা এবং ভয়ের সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে মানুষের মনোজাগতিক বিষয়ে। জাতি হিসেবে নির্লজ্জ এবং বিবেকহীনতার সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করছি। চোখের সামনে দানব-বেজন্মাদের এই আস্ফালন দেখা কষ্টের !

Friday, 2 December 2022

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতি

বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই এক যুগে ব্যবসায়ীরা ৭০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। অলস বিদ্যুৎ এর বোঝা— ১। গত ১১ বছরে কমপক্ষে ১০ দফায় বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১১৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ। ২। বিদ্যুতের দাম শুধুমাত্র বিদ্যুৎ খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। খাদ্যশস্য ও পরিবহন ভাড়াসহ বেড়ে যায় জীবনযাত্রার সকল ব্যয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপরিকল্পিত দুর্নীতি, অপচয় এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই বিদ্যুতের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও চাহিদা  দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতার পরিমাণ ২৫ হাজার ৭৮৭ মেগাওয়াট।  সরকারি তথ্য অনুসারে গত ৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখ দিনে সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১১ হাজার ৬শ ৪২ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ৩শ ৯০ মেগাওয়াট ।  বিদ্যমান কেন্দ্রের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরের বেশিরভাগ সময় অলস পড়ে থাকে।  সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবুও ২০২০-২১ অর্থবছরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই বেশি বিদ্যুৎ কিনেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড- বিপিডিবি।  ফলে সরকারি এই সংস্থাটির পরিচালন ক্ষতি গত অর্থবছরে দ্বিগুণ বেড়েছে। বড় এ ক্ষতি পোষাতে গত অর্থবছরে শুধু বিপিডিবির পেছনেই সরকারের দেয়া ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা! অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা  বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিদিন ১ হাজার ৩শ ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।  ২০২০ সালের ১৫ মে প্রথম কেন্দ্রটি পুরোপুরি উৎপাদনে আসে। দ্বিতীয় ইউনিট বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করে একই বছরের ডিসেম্বরে।  সঞ্চালন লাইন নির্মাণ পুরোপুরি শেষ না হওয়ার কারণে সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়নি। বিদ্যুৎ বেসরকারীকরণ  বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ শতাংশ বসিয়ে রেখে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দেয়া হচ্ছে।  বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বেসরকারি কোম্পানিগুলো গত এক যুগে তুলে নিয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।  বিদ্যুৎ খাতের মাস্টারপ্লানে মোট স্থাপিত সক্ষমতার ২০ থেকে ২৫ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে অলস বসিয়ে না রাখার নির্দেশনা দেওয়া আছে। কিন্তু বাংলাদেশে ৪৫ শতাংশের অধিক বিদ্যুৎ বসিয়ে রাখা হয়েছে।  বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র (আইপিপি) থেকে বিদ্যুৎ কেনার কারণে গতবছর বিপিডিবি’র ব্যয় বেড়েছে ৫৮ শতাংশ।  চাহিদার চেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি ধরা হয়েছে এবং দরকারের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।  মার্কিন বিজনেস সাময়িকী ফোর্বস এর তথ্যানুসারে বাংলাদেশে বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকি পাওয়া ব্যবসায়ী সিঙ্গাপুরের ৩৪তম শীর্ষ ধনী। তিনি দেশের প্রথম ‘ডলার বিলিওনিয়ার’।  ভর্তুকির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা এভাবে তুলে দেওয়া হচ্ছে কিছু কোম্পানির হাতে। সক্ষমতার পরেও বিদ্যুৎ আমদানি অলস বিদ্যুতের বোঝা।  এক তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ অব্যবহৃত থাকার পরেও ভারত থেকে প্রায় প্রতিদিন ১ হাজার ১শ ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।  ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় ৮১২ কোটি ৮৯ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। এক্ষেত্রে ব্যয় হয় চার হাজার ৭১২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।  বর্তমানে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনটিপিসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ ভ্যাপার নিগম লিমিটেড- এনভিভিএন থেকে দুই ধাপে যথাক্রমে ২৫০ ও ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনে বাংলাদেশ।  এছাড়া সেম্বকপ ইন্ডিয়া নামের আরেকটি কোম্পানি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, পিটিসি থেকে ২০০ মেগাওয়াট ও ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। বিদ্যুৎ খাতে দায়মুক্তি ১. বিদ্যুৎখাতের এই সব অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের তদন্ত এবং শাস্তি এড়ানোর লক্ষ্যে দায়মুক্তি দিয়ে ২০১০ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘বিদ্যুৎ-জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) নামের একটি আইন। ২. বিশেষ আইনটি দুই বছরের জন্য প্রথম পাস করা হয়। এরপর চার দফায় ১৪ বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎখাতে এই সব তৎপরতার ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে রাষ্ট্র। আর জনগণকে টানতে হচ্ছে অলস বিদ্যুৎ এর বোঝা।

Wednesday, 26 October 2022

ঢাকার বিখ্যাত খাবার তালিকা

ঢাকার বিখ্যাত খাবার তালিকা➤ ১. বংশাল এর হোটেল আল-রাজ্জাক এর কাচ্চি, গ্লাসি, মোরগ পোলাও। ২.লালবাগ রয়্যাল এর কাচ্চি, জাফরান বাদামের শরবত, চিকেন টিক্কা, সেরা লাবান, কাশ্মীরী নান। ৩.নবাবপুর রোডে স্টার হোটেল এর খাসির লেগ রোস্ট, চিংড়ি, ফালুদা। ৪.নবাবপুর আরজু হোটেল এর মোরগ পোলাও, নাস্তা আর কাচ্চি। ৫.নবাবপুরের মরণচাঁদ মিষ্টির দোকানের ভাজি, পরোটা, মিষ্টি ও টক দই। ৬.নাজিরা বাজারের হাজীর বিরিয়ানি। ৭.নাজিরা বাজারের হাজীর বিরিয়ানির বিপরীতে হানিফের বিরিয়ানি। ৮.নাজিরা বাজার মোড়ে বিসমিল্লাহর বটি কাবাব আর গুরদার। ৯.নাজিরা বাজারের ডালরুটি। ১০.বংশালের শমসের আলীর ভুনা খিচুড়ি, কাটারী পোলাও। ১১.বেচারাম দেউরীতে অবস্থিত নান্না বিরিয়ানি এর মোরগ পোলাও। ১২.বেচারাম দেউরীতে হাজী ইমাম এর বিরিয়ানি। ১৩.ঠাঁটারী বাজারের গ্রীন সুইটস এর আমিত্তি, জিলাপি। ১৪.ঠাঁটারীবাজার স্টার হোটেল এর কাচ্চি বিরিয়ানি, লেগ রোস্ট আর ফালুদা। ১৫.ঠাঁটারী বাজারের বটতলার কাবাব। ১৬.সূত্রাপুর বাজারের রহিম মিঞার খাসির বিরিয়ানি। ১৭.সূত্রাপুর ডালপট্টির বুদ্ধুর পুরি। ১৮.দয়াগঞ্জের সিটি বিরিয়ানি ও কাচ্চি। ১৯.দয়াগঞ্জের ঢাকা কাবাব। ২০.আরমানিটোলার তারা মসজিদের পাশে জুম্মন মামার চটপটি। ২১.সিদ্দিক বাজারের মাজাহার সুইটস। ২২.পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার রহমানিয়া এর কাবাব। ২৩.পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার সোনা মিঞার দই। ২৪.গেন্ডারিয়ার আল্লাহর দান বিরিয়ানি এবং রহমান এর কাবাব। ২৫.গেন্ডারিয়া ভাটিখানার হাসেম বাঙ্গালির ডালপুরি। ২৬.গেন্ডারিয়ার 'কিছুক্ষণ' রেঁস্তোরার মোগলাই পরোটা, কাটলেট, কর্ন স্যুপ। ২৭.গেন্ডারিয়ার বুদ্ধুর বিরিয়ানি। ২৮.আবুল হাসনাত রোডের কোলকাতা কাচ্চি ঘর। ২৯.আবুল হাসনাত রোডের দয়াল সুইটস এর মিষ্টি। ৩০.রায় সাহেব বাজারের বিউটি লাচ্ছি। ৩১.রায়সাহেব বাজারের আল ইসলামের মোরগ পোলাও, চিকেন টিক্কা। ৩২.রায়সাহেব বাজারের ক্যাফে ইউসুফের নান ও চিকেন টিক্কা। ৩৩.রায় সাহেব বাজারের গলিতে মাখন মিঞার বিরিয়ানি। ৩৪.চকবাজারের নূরানী শরবত বা লাচ্ছি, শাহ্ সাহেবের বিরিয়ানি, Bombay এর আফ্লাতুন, আমানিয়ার খাসির গ্লাসি, বিসমিল্লাহ হোটেলের মোগলাই পরোটা এবং আলাউদ্দীন এর ভাজি পুরি। ৩৫.লালবাগ মোড়ের মীরা মিঞার চিকেন ফ্রাই আর গরুর শিক। ৩৬.লালবাগ চৌরাস্তার খেতাপুরি ও মদিনা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মিষ্টি। ৩৭.লালবাগের পাক-পাঞ্জাতন এর মজার তেহারি। ৩৮.লালবাগের ভাটের মসজিদের কাবাব বন। ৩৯.নাজিমুদ্দিন রোডের নীরব হোটেলের অনেক ধরণের ভর্তা। ৪০.বাংলাবাজারের ক্যাফে কর্ণার এর কাটলেট ও চপ। ৪১.বাংলাবাজারের নর্থব্রুক হলে রোডের চৌরঙ্গী হোটেলের লুচি, ডাল, পরোটা। ৪২.তাঁতীবাজারের কাশ্মীরের কাচ্চি। ৪৩.লক্ষীবাজারের মাসহুর সুইটমিট এর লুচি, ভাজি আর ডাল। ৪৪.লক্ষীবাজার পাতলা খান লেন এর লুচি-ভাজি। ৪৫.পুরান ঢাকার নারিন্দার সফর বিরিয়ানি। ৪৬.নারিন্দার শাহ্ সাহেবের ঝুনু বিরিয়ানি। ৪৭.নারিন্দার সৌরভ এর মাঠা আর ছানা। ৪৮.নারিন্দায় অবস্থিত রাসেল হোটেল এর নাস্তা। ৪৯.নারিন্দার মহান চাঁদের লুচি, হালুয়া, সবজির লাবরা, কাঁচা ছানা। ৫০.পুরান ঢাকার ওয়াইজ ঘাটের নানা রেঁস্তোরা। ৫১.শাঁখারীবাজারের অমূল্য সুইটস এর পরোটা ভাজি, হালুয়া আর সন্দেশ। ৫২.কলতাবাজারের নাসির হোটেলের বিখ্যাত গরুর মাংস আর পরোটা। ৫৩.টিপু সুলতান রোডের খান হোটেল এর টাকি মাছের পুরি। ৫৪.টিপু সুলতান রোডের 'দিল্লী সুইটমিট' এর সন্দেশ, পরোটা ও টকভাজি। ৫৫.হোসনী দালান রোডে রাতের বেলার পরোটা আর কলিজা ভুনা। ৫৬.চানখাঁরপুলের মামুন হোটেল এর স্পেশাল কাচ্চি। (প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার) ৫৭.হাজারিবাগ বাজারের মারুফ বিরিয়ানি। ৫৮.মিটফোর্ড এর দিগু বাবু লেন এর মানিক চানের পোলাও। ৫৯.খিঁলগাও তালতলা- ফাস্টফুডে একের ভেতর সব। বিশেষত, খিঁলগাওয়ের ভোলা ভাই বিরিয়ানির গরুর চপ এবং মুক্তা বিরিয়ানির গরুর চপ, খাসির চপ ও ফুল কবুতর। খিলগাঁও বাজারের উল্টো পাশে আল রহমানিয়ার গ্রিল চিকেন আর তেহারি। ৬০. পুরান ঢাকার আগুন পান এবং রোজার দিনের ইফতার আইটেম। ৬১.মতিঝিলের ঘরোয়া হোটেল এবং হীরাঝিলের ভুনা খিচুড়ি। মতিঝিল সিটি সেন্টারের পেছনের বালুর মাঠের পেছনের মামার খিচুড়ি। ৬২.লালমাটিয়ার 'স্বাদ' এর তেহারি। ৬৩.নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টোরিতে ৭০টি আইটেমের বুফে। ৬৪.হাতিরপুল মোড়ে হেরিটেজের শর্মা। ৬৫.ধানমন্ডির কড়াই গোশতের ইলিশ সস। ৬৬.মোহাম্মদপুর জেনেভা/বিহারী ক্যাম্পের গরু ও খাশির চপ, গরুর মগজ ফ্রাই এবং মুস্তাকিমের চপ। ৬৭.মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সামনের বিহারী ক্যাম্পের “মাঞ্জারের পুরি”। ৬৮.মিরপুর-১০ এর শওকতের কাবাব। ৬৯.গুলশানের কস্তুরির শর্মা। ৭০.পুরান ঢাকার মদিনা হোটেলের লুচি-ডাল। ৭১.জেলখানা গেইটের পাশে হোটেল নীরব এর ব্রেন ফ্রাই। ৭২.নয়া বাজারের করিমের বিরিয়ানি। ৭৩.চানখারপুলের নীরব হোটেলের ভুনা গরু আর ভর্তার সাথে ভাত। ৭৪.ধানমন্ডি লায়লাতির খাসির ভুনা খিচুড়ি। ৭৫.পুরানা পল্টনে খানা-বাসমতির চাইনিজ প্যাকেজ। ৭৬.গুলশান ২-এর খাজানার মাটন দম বিরিয়ানি এবং হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি। ৭৭.মৌচাকের 'স্বাদ' রেঁস্তোরার ভাতের সাথে ৩৬ রকমের ভর্তা। ৭৮.সায়েন্স ল্যাবে 'মালঞ্চ' রেঁস্তোরার কাচ্চি বিরিয়ানি। ৭৯.বেইলি রোডে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সামনের গরু, খাশির চপ+স্যুপ। ৮০.পুরানা পল্টনের ভাই ভাই রেস্টুরেন্টের কাচ্চি। ৮১.গ্যান্ড নওয়াবের কাচ্চি বিরিয়ানি। ৮২.নবাবী ঝালমুড়ি (রামপুরা) ৮৩.নীলক্ষেতের ইয়াসিন আর ঢাকা বিরিয়ানির গরুর কাচ্চি। ৮৪.নীলক্ষেতের সুলতানী ভোজের তেহারি, মোরগ পোলাও, ভুনা খিচুড়ি। ৮৫.কাঁটাবন ঢালে অষ্টব্যঞ্জনের চিকেন খিচুড়ি। ৮৬.গুলশানের পিংক সিটিতে 'Baton Rouge' এর বুফে। ৮৭.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের পেছনের ফুসকা মামার ফুসকা। ৮৮.সুলতান ডাইন মেন্যু সেট। ৮৯.মিরপুর ঝুট পট্টির রাব্বানির চা। ৯০.বিউটি বোর্ডিং এর আলুর দম, লুচি আর চা। ৯১.গোপীবাগের খাজা হালিম ও টিটির কাচ্চি। ৯২.বায়তুল মোকাররমে অলিম্পিয়া কনফেকশনারীর “চকলেট পেস্টি”। ৯৩.মধ্য বাড্ডায় (গুদারাঘাট) নয়ন বিরিয়ানি হাউজের কাচ্চি, মোরগ পোলাও ও তেহারি (স্পেশাল)। ১৪.ডিসেন্ট (মতিঝিল, হাতিরপুল, বনশ্রী, ধানমন্ডি, চকবাজার, নওয়াব- এর ডেজার্ট আইটেম।) ৯৫.আগামাসিহ লেনের মাকসুদের খাসির পায়ার নেহারি। ৯৬.ফকরুদ্দিনের কাচ্চি বিরিয়ানি, বোরহানি। ৯৭.আরমানিটোলা তারা মসজিদের পাশে জুম্মন মামার চটপটি। ৯৮.পলাশীর মোড়ের ফ্রেশ ফলের জুস ৷ ৯৯.উর্দু রোডের খেতাপুরি, বাখরখানি ৷ ১০০.প্লাটিনাম ক্লাবের জুসি নুডুলস।

Sunday, 9 October 2022

শেখ হাসিনা প্রতিদিন এবং বিটিভি

বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতার উপর জেকে বসা শেখ হাসিনার গণমাধ্যমের উপর কতৃত্ববাদীতা কতটা প্রকট, তা বুঝতে বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভির অনুষ্ঠান সূচীর প্রতি একটু লক্ষ্য করুন। প্রতিদিন ১৭ ঘন্টা ৩৫ মিনিট সম্প্রচারিত এই টেলিভিশন চ্যানেলে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে মোট ৯ বার কোন না কোন অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। রুটিন করে দিনে ৬ বার দেখানো হয় “শেখ হাসিনা প্রতিদিন” ও ৩ বার “বঙ্গবন্ধু” বিষয়ক কোন না কোন প্রোগ্রাম। বিভিন্ন সুত্রমতে রাষ্ট্রীয় এই টেলিভিশন চ্যানেলটির পেছনে প্রতিবছর ব্যায় হয় ১৮০-২২০ কোটি টাকা, কিন্তু আয় হয় ৮০-১০০ কোটিরও কম। বছরে চ্যানেলটির লোকসান কোনভাবেই ১০০ কোটি টাকার কম নয়! এই টাকার যোগান দিচ্ছে কারা? নিশ্চই বাংলাদেশের সাধারন জনগন। বিটিভিকে সরকারী প্রচারযন্ত্রে পরিণত করে একসময়ের বেশ জনপ্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে এক প্রকারের ধ্বংসই করে দেয়া হয়েছে। সকল ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ সংকট আরো প্রকট করেছে। শিক্ষামূলক ও বিনোদন প্রদানে সক্ষম এধরনের অনুষ্ঠান নির্মানে গুরুত্ব না দেয়ায় বিটিভির ভিউয়ারশিপ এখন তলানিতে।

Tuesday, 4 October 2022

নৌকাই ভরসা !!!

পল্টু বাথরুম থেইকা চিকন গলায় আওয়াজ দিলো- "বউ, ও বউ!" বউ সম্ভবত আশেপাশেই কোথাও ছিলো, পল্টুর আওয়াজ শুইনা ক্যাট ক্যাট কইরা জবাব দিলো, "আফনের মাতা মুতা খারাপ হইসেনি? বাথরুম থেইকা কতা কন!" পল্টু গলারস্বর আরো নামিয়ে প্রায় ফিসফিস করে বললো- "মাথা ঠিকই আছে বউ, বাথরুমে পানি নাই! মোটর চালু দাও৷ " "মোটর চালু দিমু ক্যাম্বায়? দেখেননাই আইজকা দুপুর থেইকা কারেন্ট নাই! টিস্যু দিয়া কাম চালান!" "টিস্যুও নাই!" "সকালেই তো কইলাম ঘরে টয়লেট পেপার নাই, আফনে আনেননাই" "এইটা ঝগড়া করার টাইম না বউ, ঘরে পুরানা পত্রিকা আছে কিনা দেখ" একটু পরে বাথরুমের দরজার নীচের ফাঁক দিয়া বউ পুরানো একটা পত্রিকা দিয়া গেল। পত্রিকার একদম প্রথম পাতায় প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশের ছবি। হেডিং- "নৌকায় ভরসা রাখুন" পল্টু পত্রিকাখানা দিয়ে কাম সারতে সারতে আপন মনে বিড়বিড় করে উঠলো, হুম নৌকাই ভরসা!

Tuesday, 30 August 2022

জিয়াউর রহমান কাউকে গুম খুন করেন নাই।

জিয়াউর রহমান কাউকে গুম খুন করেন নাই। মিলিটারি ট্রাইবুনাল মিলিটারি ক্যু এর শাস্তি হিসেবে, অভিযুক্তদের কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছে। এবং মিলিটারি ল অনুসারে মিউটিনি এবং ইন্সাবোরডিনেশানের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। জিয়াউর রহমান নিজে একটি মিলিটারি ক্যু তে নিহত হওয়াতে প্রমান হয়েছে, তার শাসন আমলের ক্যু গুলো কোন পুতুল খেলা ছিল না। আর্মিকে ডিসসিপ্লিন করতে মিলিটারি ক্যু এর শাস্তি হিসেবে এই মৃত্যুদণ্ড গুলো অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়ও ছিল। কোন কোন শাস্তির ক্ষেত্রে জিয়ার আমলের ট্রাইবুনাল ফেয়ার ট্রায়াল নিশ্চিত করে নাই সেইটা গবেষকেরা নিশ্চয়ই বলতে পারবেন। আমি নিশ্চিত অনেক অভিযুক্ত ফেয়ার ট্রায়াল পায় নাই। কর্নেল তাহেরও আমার মতে ফেয়ার ট্রায়াল পায় নাই। কিন্তু , আমি যেইটা হাইলাইট করতে চাই তা হল, বাংলাদেশ যে আজকে মিলিটারি শাসনের বশীভূত পাকিস্তান বা মিয়ানমার হয় নাই তার অন্যতম কারন জিয়াউর রহমান তার শাসনামলের পাঁচ বছরে অত্যন্ত এম্বিশাস একটা আর্মিকে খুব শক্ত ভাবে ক্যারট ও স্টিকের মাধ্যমে ডিসিপ্লিন্ড করেছেন। বাংলাদেশ আর্মি মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে জন্ম হয়েছে। এই মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের মধ্যেই অনেক অফিসারই মনে করতো, তারা দেশ স্বাধীন করেছে তাই তাদের দেশ শাসনের একটা ন্যাচারাল রাইট আছে। একেক একটা ইউনিটের সিইও কর্নেলর সাহেবরা মনে করতো , তারা দেশের প্রেসিডেন্টকে হত্যা করে, নিজেরাই দেশের পেসিডেন্ট হওয়ার অধিকার রাখে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যা তাদের সেই চিন্তা পদ্ধতির একটা উদাহরন এবং মুজিবহত্যার পরে তাদের সেই চিন্তা মোটেও মিইয়ে যায় নাই বরং আরো ভ্যালিডেটেড হয়েছে যে, তারা প্রেসিডেন্টকে হত্যা করে দেশ শাসনের অধিকার রাখে।শুধু মাত্র ইউনিটের সিইও না, সাধারণ সৈনিক ও ওয়ারেন্ট অফিসাররাও এই ধারনা রাখতো। জিয়াউর রহমানের আমলে (১৯৭৫-৮১) দেশে ২৬টি ক্যু হয়। এই ক্যু গুলোতে এবং তাদের দমনে শত শত সৈনিক, জনতা অফিসার মারা গ্যাছে। এই ক্যু গুলো কোন পুতুল খেলা ছিলনা। প্রতিটা কু প্রনেতার এম্বিশান ছিল, তারা প্রেসিডেন্টকে হত্যা করে, নিজে প্রসিডেন্ট হবে।ক্যু গুলোর শাস্তি সব সময়ে ফেয়ার হয় নাই, জিয়াউর রহমান রুথলেসলি ক্যু গুলো দমন করে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রে মিলিটারির মধ্যে এই বিভিন্ন প্রচন্ড এম্বিশাস ইউনিটদেরকে ডিসিপ্লিন করাতে জিয়ার চারটা এপ্রোচ ছিল। ১। বিভিন্ন ধরনের ট্রেইনিং , সুযোগ সুবিধা ও মোটিভেশান দিয়ে প্রফেশনালিজম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামরিক বাহিনীতে চেইন অফ কমান্ড ফিরিয়ে আনা। ২। পুলিশ, আনসার ও বিডিআর সহ বিভিন্ন বাহিনীকে শক্তিশালী করা। ৩। শক্ত হাতে ক্যু গুলো দমন করা। জিয়া বেশ কিছু ইউনিট কে ডিসব্যান্ড ও করেছিলেন। ৪। সাধারণ মানুষকে ক্ষমতার পারটিসিপেশানে এম্পাওয়ার করা। আর্মির অধিকাংশ সিনিয়ার অফিসার এই প্রক্রিয়াতে খুশি ছিলনা। তারা দেখতে পাচ্ছিলো যে, মিলিটারি তার ক্ষমতা হারাচ্ছে। জিয়ার মৃত্যুর কয়েক দিন আগে, সেনা সদরে একটা মিটিং এ জিয়ার বিরুদ্ধে জেনারেল মঞ্জুর সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে যে, জিয়া পলিটিক্সে অতিরিক্ত পিপলস পারটিসিপেশান ঘটাচ্ছে। সেই মিটিং এ মঞ্জুরের খুব স্পেসিফিক কিছু উক্তি আছে, যেইটা আমার এই মুহূর্তে মনে নাই। (কেউ সোর্সটা পেলে কমেন্টে দিয়েন) সেই সময়ে অন্য সকল অফিসার চুপ করেছিল, যার কারণে জেনারেল মঞ্জুর ধরে নেয় যে, অন্য অফিসাররাও তার মতের সাথে এক মত। জিয়া হত্যার এইটা ছিল অন্যতম মুল কারন। কিন্তু জেনারেল মঞ্জুর বুঝে নাই, যে জিয়া মানুষকে এমন ভাবে এম্পাওয়ার করে গ্যাছে , মিলিটারি আর সেই সক্ষমতা নাই যে, প্রেসিডেন্টকে যে হত্যা করেছে সেই প্রেসিডেনট হয়ে যাবে। এই কারণে জনতা মঞ্জুরকে ধাওয়া দিয়ে গ্রেপ্তার করে, পুলিশের হাতে দেয়। বাংলাদেশের এলিট বুদ্ধিজীবীরা কখনোই বুঝতে পারে নাই, বাংলাদেশের মিলিটারির হাত থেকে জনতার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় জনতার ধাওয়া খেয়ে গ্রেপ্তার হয়ে জেনারেল মঞ্জুরের পুলিশের হাতে হস্তান্তরের তাৎপর্য। অর্থাৎ এর মধ্যে পুলিশ দাড়িয়ে গ্যাছে, মানুষেরো শিরদাঁরা দাড়িয়ে গ্যাছে। তারা আর মিলিটারি দ্বারা শাসিত হতে প্রস্তুত নয়। চিন্তা করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যার পরে পুলিশের কি অবস্থা ছিল ? এই পরিবর্তন গুলোই বাংলাদেশকে ডিমিলিটারাইজ করেছে, পাকিস্তান ও বার্মার মত বাংলাদেশের আর্মি আর শাসন ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে নাই। এমন কি জিয়ার মৃত্যুর পরে, জেনারেল এরশাদ সাত্তারের সাথে মুল নেগোসিয়েশেনে গ্যাছে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্যে। সাত্তার রাজি হয় নাই বলে, এরশাদ ক্যু করে ক্ষমতা দখল করে। কিন্তু, এরশাদ যেটা বুঝে নাই তা হচ্ছে, জিয়াঊর রহমান মানুষকে এমন ভাবে এম্পাওয়ার করে গ্যাছে মিলিটারির ক্ষমতা দখল করে রাখার আর কোন লেজেটিমিসি নাই। এই কারণে, এরশাদ যখন ক্যু করে তার কোন লেজেটিমিসি ছিলনা। কারন বাংলাদেশে বিবিধ ইন্সটিটিউশান , পিপল পাওয়ার ও সামাজিক শক্তিকে জিয়া বিল্ড করে গ্যাছে। ফলে এরশাদ টিকতে পারে নাই, এরশাদকে ক্ষমতা দখলের পর পরই গন আন্দোলনের মুখোমুখী হতে হয়। এই পুরো প্রসেস টা, জিয়া সত্তরের দশকে কমপ্লিট করেছে, যে প্রসেস মিয়ানমার ও পাকিস্তান এখনো পারে নাই। উই ক্যান জাজ জিয়া যে, জিয়া ব্রুটালি এই ক্যু গুলো দমন করেছে। এবং আমি সিউর আপনি এই প্রসেসে অনেক ইন্টটিউশানাল এনামলি পাবেন। কিন্তু জিয়ার এই কঠোরতার এডভান্টেজ বাংলাদেশ রাষ্ট্র পেয়েছে। নইলে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র এই মুহূর্তে মিলিটারির অধীনে পাকিস্তান বা মিয়ানমার মডেলের একটা রাষ্ট্র থাকতো। বেস্ট কেস সিনারিও হচ্ছে। মিলিটারির সাথে পাওয়ার শেয়ারিং করে একটা হাইব্রিড ডেমোক্রেসি হইতো হয়তো কোন গন আন্দোলনের পরে। বাংলাদেশের সকল এলিমেন্ট ছিল এই পরিণতি হওয়ার। এইটা যে হয় নাই, তার মুল কারন জিয়া এই ক্যু গুলোকে রুথলেসলি দমন করেছিল। আরো একটা বিষয় বলে শেষ করি, ডেভেলপমেন্ট ইকন্মিক্সের ফাউন্ডশানাল একটা থিয়োরি হচ্ছে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ডগলাস নর্থের লিমিটেড এক্সেস অর্ডার। এই থিয়োরির মুল ইস্যু হচ্ছে, একটা নবগঠিত রাষ্ট্রের ইন্সটিটুশাল বিল্ডিং একটা লিনিয়ার প্রসেসে আগায়। যার প্রথমে থাকে ফ্রেজাইল যে সময়ে রাজাকে যে হত্যা করে সে রাজা হয় যায়। এই সময়টাকে বলে ফ্রেজাইল। ফ্রেজাইলের পরে আসে উইক, যে সময়ে কিছু ইন্সটিটিউশান বিল্ডিং হয়েছে, কিছু ডেমোক্রাটাইজেশান হয়েছে কিন্তু তবুও এলিটদের ইচ্ছাতেই ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হয়, এরপরে স্টেট একটু ম্যাচিউর হয়েছে ইন্সটিটিউশান গুলো আরো শক্ত হয়েছে। ইলেকশান প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার পালাবদল হয়। এইটাকে বলে ম্যাচুর। একটা স্টেট ফ্রেজাইল থেকে বেসিক বেসিক থেকে ম্যাচুওর এবং ম্যাচুর থেকে ওপেন এক্সেস অর্ডার হয়। এই প্রগেশনটা লিনিয়ার। কোন রাষ্ট্র সামনে আগায় কোন রাষ্ট্র পেছায়। ডগলাস নর্থ তার মুল গবেষণায় বাংলাদেশের উদাহরন দিয়েছেন এবং প্রফেসর মুস্তাক খান বাংলাদেশের লিমিটেড এক্সেস অর্ডার ফ্রেম ওয়ার্ক নিয়ে অথরেটিভ গবেষণা করেছেন যার একটা পাতা আমি এটাচ করলাম। প্রফেসর মুস্তাক খান দেখিয়েছেন যে, ১৯৭৫ সাল থেকে জিয়ার আমলে বাংলাদেশ ফ্রেজাইল থেকে বেসিকে প্রবেশ করে এবং ম্যাচুরিটির দিকে পা বাড়ায়। প্রফেসর মুস্তাক খানের বিশ্লেষণ অনুসারে শেখ হাসিনা ২০০৮ এ যখন ক্ষমতা দখল করে তখন বাংলাদেশ ইন্সটিটিশান বিল্ডিং প্রসেসে ম্যাচুরিটিতে পৌঁছেছে কিন্তু তার মধ্যে ফ্রাজিলিটির লক্ষন রয়েছে যে সে যে কোন মুহূর্তে পেছাতে পারে। সো ২০১৪ এর পর শেখ হাসিনার শাসন আমলে এলএও ফ্রেম ওয়ার্কে মোটামুটি কিছু ইন্সটিটিশান দাড়িয়ে গ্যাছে এই অবস্থায় , গুম খুনের মাধ্যমে স্টেটকে পুনরায় ফ্রেজাইল অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে গুন খুন আর তার ৩০ বছর পূর্বের নব্য গঠিত রাষ্ট্রে রাজাকে খুন করলে রাজা হওয়া যায় এই সময় কালে ক্ষমতা দখলের যে খুনাখুনি তার পার্থক্য রয়েছে। ফলে এলএও ফ্রেম ওয়ার্কে ফ্রেজাইল জিয়ার আমলের মিলিটারি ক্যু এর শাস্তিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের সাথে চল্লিশ বছরের পথ পরিক্রমায় ম্যাচিউর হয়ে আসার পর ক্ষমতা ধরে রাখতে হাসিনার আমলের গুম খুন একই নয়। এই দুইটাকে মিলিয়ে ফেলা- ইমেচিউর টু সে দা লিস্ট। আমি এই পোস্টের কোন জবাব দিবো না, কোন ডিবেটে পারটিসিপেট করবো না, এক জন বন্ধু মতামত চাইলেন, তার হনারে এইটা লিখলাম, কিন্তু আমি কোন ডিবেটে ঢুকবো না । আমি অন্য একটা কাজে ব্যস্ত, কালকের থেকে আবার দোকান বন্ধ থাকবে। ধন্যবাদ।