Tuesday, 12 May 2020

Reza ahmed রেজা আহমেদ ফয়সল

রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী
লন্ডনে বাংলা মিডিয়ার অবস্থা কি? বাংলা মিডিয়া কি একটি ইন্ডাণ্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠেছে? যারা সমাজের বিত্তবান তারা কি মিডিয়া ইন্ড্রাষ্টিতে আছেন? লন্ডনে যে সব প্রতিষ্টিত ব্যবসায়িরা রয়েছেন তারা কি করেছেন এ কমিউনিটির জন্য? বাংলা মিডিয়ার জন্য?
যে সব লেখক সাংবাদিক দেশ থেকে বিয়ে করে লন্ডনে এসেছেন এসে আমাদের বোন ভাগনীদের বদৌলতে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন তারা কি দুটাকা মিডিয়ার জন্য খরচ করেছেন? আমি জানিনা।
আমার আজকের এই লেখা মাহি ফেরদাউস জলিলের পক্ষে উকালতি করার জন্য নয়। আমি বাস্তব একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করবো। সম্প্রতি মাহি জলিল একটি মন্তব্য করেছেন একটি সম্প্রদায়কে তিনি ঠেনে নিয়ে এসেছেন। না আনলেই পারতেন। কিন্তু চলে এসেছে। তিনি পানের ব্যপারে বলতে গিয়ে বলেছেন আমাদের মানুষরা কমজাত। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে সরাসরি গালি দেননি। ব্যপারটি বুঝতে হবে। তিনি গালি দিয়েছেন যারা পাচটা পানের জায়গায় তিনটা দিয়ে দেয়। তাদেরকে তিনি বলেছেন কমজাত ——-। আমি সে বিতর্কে যেতে চাইনা। মাহি জলিল টেলিভিশনে বসে ক্ষমা চেয়েছেন। আমি ভেবেছিলাম সেটার সুরাহা হয়ে যাবে। কিন্তু না কিছু সংখ্যক আতেল সেটিকে পুজি করে লিখেই চলছেন। আমাদের সমাজের অনেকেই আছেন যারা বলে বেড়ান আমি তো টিভি দেখিনা। ও অমুখ নাকি সে তো উপস্থাপনা করতে পারেনা। টাকার বদৌলতে টেলিভিশনের মালিক হয়ে গেছে। সাংবাদিকতার স ও জানেনা ইত্যাদি। মনে হয় তিনি খুবই জানেন। লন্ডনে বাংলা কমিউনিটির যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তার সব টুকু প্রশংসার দাবীদার আমাদের পূর্ব পুরুষরা, আমাদের বাবা চাচারা। সিলেটের বাইরের লোকেরা ক্রীম খেয়েছেন। সিলেটিদের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খেযেছেন। সিলেটেরও কিছু সংখ্যক অশিক্ষিত মানুষরা আছেন যারা সিলেটের বাইরের লোকদেরকে তোষামুদি করে চলে। আমাকে একবার এক নন-সিলেটি মহিলা জিজ্ঞাস করেছিলেন আপনার পরিবারে কি সংগীত চর্চ্চ করেন। আমি বলেছিলাম না আমি গান গাইনা গান গাওয়াই। আমি নাচিনা আমি নাচাই। পরবর্তীতে তিনি হিসেব পেয়ে আমাকে বলেছিলেন আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। মনে মনে বলেছিলাম চিনতে না পারলে কথা বলবেন কেন? চেহারা ছুরতের কোনো বালাই নেই লম্বা লম্বা কথা। নন সিলেটি কিছু মানুষ আছে এই লন্ডনের সমাজে এমন ভাব দেখায় যেন সে অনেক কিছু, আসলে খোজলে তো কিছুই পাওয়া যায়না।
প্রিয় পাঠক মাহি ফেরদাউস জলিল ব্যক্তিগত জীবনে আমার ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন এক সময়। সময়ের বিবর্তনে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা যে জায়গায় দাড়ানোর কথা ছিল সেটি হয়তো হয়নি। তবে বন্ধুত্ব আছে। বেশ কয়েক বছর আগে শফিক আহমদ জুবায়ের এক সময় চ্যানেল আই ইউরোপের ডিরেক্টর ছিলেন। বর্তমানে তিনি পূর্ব লন্ডনের গ্রীন ষ্ট্রীটে ট্রেভলসের ব্যবসা করছেন। দেখা হলে তাকে প্রায়ই বাংলাদেশের মালিক বলি। কারন তিনি ব্যাক্তিগত জীবনে আমাদের মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মান্নান সাহেবের ভাগনা। মামা যেখানে মন্ত্রী সেখানে ভাগনা লন্ডনে থাকবে কেন? আওয়ামীলীগের অনেক নেতাই তো এখন লন্ডনে নেই। কারন দল ক্ষমতায় থাকলে ব্যবসা আছে-না? সে যাক জুবের ভাই আমাকে একদিন জিজ্ঞাস করেছিলেন জলিল ভাই, তাজ ভাই, তাজ চৌধুরী- এমডি চ্যানেল এস -হাফিজ আলম বক্স, এটিএন, সাদেক আলী শিপু ডিরেক্টর চ্যানেল আই ইউরোপ- আপনারা কি ঘুনিষ্ট বন্ধু? বলেছিলাম কেন? জুবের ভাই বলেছিলেন একটি চুক্তি-নামায় দেখলাম আপনার নামের সাথে লিখা বন্ধু। জুবের ভাই সেদিন অনুরোধ করেছিলেন আপনারা যে যাই করুন বন্ধুত্ব সম্পর্কটা যেন নষ্ট না হয়। সম্পর্ক কতটা আছে আমি জানিনা। তবে ব্যক্তিগত জীবনে আমি কারো সাথেই সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইনা। কারন ভালো মানুষের বৈশিষ্ট হচ্ছে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ঠিকিয়ে রাখা। কমজাতরা সম্পর্ক নষ্ট করে। আজে বাজে কথা বলে।
মাহি ফেরদাউস জলিলের একটি উক্তি নিয়ে যেভাবে সোসেল মিডিয়ায় কেম্পেইন চলছে আমি সেটির তীব্র বিরোধিতা করছি। মাহি যদি ভূল করে থাকেন তাহলে তাকে আতœপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। তিনি যদি ক্ষমা না চান তাহলে হার্ড লাইনে যেতে পারেন। চ্যানেল এস বয়কট করতে হবে এসব ফালতু কথা না বলাই ভালো। নিজে তো বাবার জন্মে টিভি ষ্টেশন একটি প্রতিষ্টা করতে পারবেননা। অতবএ টেলিভিশন কাকে বলে বুঝবেন কি করে?
আমি আজ সত্য কিছু কথা বলে যাই। বাচবো কি মরবো জানিনা। করোনা ভাইরাসে আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে একমাত্র আল্লাহই জানেন। প্লিজ নোট করুন। লন্ডনে সিলেটি নন সিলেটি একটি মারামারি অনেকদিন থেকেই লেগে আছে। মারামারির সুত্রপাত কে করেছিল আমি জানিনা। তবে আমার কেন জানি মনে হয় মারামারির সুত্রপাত হয়তো বা শুরু করেছিলেন আমাদের ঢাকা থেকে যে সব বড় বড় কু শিক্ষায় শিক্ষিত ভদ্রলোকেরা লন্ডনে এসেছেন তারা। কয়েক বছর আগে চ্যানেল আই ইউরোপে আমি একুশে গানের রচিয়তা আব্দুল গাফফার চৌধুরীর জন্মদিন পালন করছি, হঠাৎ করেই গাফফার ভাই মাহি জলিলের সমালোচনা করা শুরু করে দিলেন। শুধু মাহি জলিলে সমালোচনা নয় তিনি সিলেটের মানুষদেরকে বলেছিলেন লোকে নাকি বলে, সিলেটিরা “লাঙ্গল টু লন্ডন“ আমি গাফফার ভাইর সেদিনের কথায় খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু গাফফার ভাইকে মুখ ফুঠে কিছুই বলতে পারিনি। এ নিয়ে কমিউনিটিতে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য গাফফার ভাই ক্ষমা চেয়েছিলেন। ক্ষমা চাওয়ার পর আর কিছুই থাকেনা। বড় বড় মানুষরাও ভূল করেন।
মাহি জলিলের মুখের লাগাম নেই। লাগাম আমারও নেই। সম্প্রতি আমি ও একটি অনুষ্টানে ফাউল করতে করতে বেচে গেছি। বাচিয়েছেন লন্ডন বাংলা টিভির শাহ ইউসুফ, এবং বর্তমান এবি পার্টির নেতা আইনজীবি তাজুল ইসলাম। একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক করতে যেয়ে আমার মনে হয়েছে আমি টেম্পার লস্ট করে ফেলছি। সে যাক টক শোতে তাজুল ইসলাম সাহেব যখন বলেছিলেন আমরা এ টপিকস থেকে বেরিয়ে যাই এবং শাহ ইউসুফ যখন আমাকে মেসেজ দিয়ে বলেছিলেন ফয়সল ভাই টেম্পার লস্ট করবেননা তখনই আমি অফ হয়ে যাই। সেদিন নির্ঘাত একটি দুর্ঘটনা থেকে আমি এবং এই কমিউনিটি বেচে যায়। সমস্যা হয় কি- টক শোতে বসে একজন রাজনিতীবীদ যখন বাস্তবতা বিবর্জিত কথা বলেন তখনই রাগ উঠে। প্রেজেন্টার তো আর ফেরেশতা না। সে ও রক্ত মাংসের মানুষ। মাহি ফেরদাউস জলিল পান ব্যবসায়িদের সমালোচনা করতে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদ্য়া চলে এসেছে। বাস্তবতা কি আমরা তো বেশীরভাগ মানুষই হিন্দু ছিলাম। চৌধুরী বংশের লোকেরা বেশী ছিল। আমার এক হিন্দু বন্ধু সিলেটে একবার বলেছিল দাদা আমাকে পারমিশন দিলে দুএকটা মুসলমানকে মার দেই? দাদা বলেছিলেন না আমরা হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই। আমরা মারামারি করতে পারিনা।
আমি অবাক হয়েছি মাহি ফেরদাউস জলিলের সমালোচনা করতে গিয়ে চ্যানেল এস কে বয়কটের আহবান জানিয়েছেন আমাদের বেশ কিছু লোকেরা। এই লন্ডনে যারা এসেছেন তার্ াকিন্তু বেশীরভাগ লোকই উন্নত জীবনের জন্য এসেছেন। এসে টাকা পয়সা কামাই করেছেন। কেউ এক টাকা কমিউনিটির জন্য মিডিয়ার জন্য ব্যয় করেননি। লন্ডনে বাংলা মিডিয়ার যারা কাজ করে তাদের জন্য আমি বা আমরা কেউই কিছুই করতে পারিনি। একজন ক্যামেরাম্যান একজন রিপোর্টার কয়টাকা বেতন পায়? মিডিয়ায় যারা কাজ করে তাদেরকে উল্টো সমসালোচনা করে। ভাই সমালোচনা করার আগে নিজের অবস্থান সম্পর্কে একটু সচেতন হোন। একটি টেলিভিশন মিডিয়া লন্ডনে চালাতে কত খরচ হয় জেনে নিন। হুদাই একজন উপস্থাপক কিছুই জানেনা আপনি ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যা সাগর এ মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আরেকটি বিষয় আমি লক্ষ করেছি। সিলেটি ভাষাকে নিয়ে অনেকেবই ব্যঙ্গ বিদ্রোপ করেন। ২০১২ সালের কথা তখন চ্যানেল আই ইউরোপে সিলেটি একজন রিপোর্টার আমি নাম ভূলে গেছি। ঢাকা চ্যানেল আইতে নিউজ পাঠালেন- নিউজ ঢাকা অথরিটি দেয়নি। শাইখ সিরাজ সাহেব লন্ডনে আসলেন। আমি জিজ্ঞাস করেছিলাম আপনারা লন্ডন থেকে নিউজ পাঠালে নিউজ দেননা কেন? শাইখ সিরাজ সাহেব বলেছিলেন সিলেটি ভাষা চলে আসলে তো সে নিউজ দেয়া যাবেনা। ৯০ র্এ দশকে বিবিসির একজন পরিটিকেল রিপোর্টার ছিলেন স্মৃতি যদি আমার সাথে প্রতারণা না করে তাহলে সম্ভবত নাম ছিল জন সার্জেন্ট। তিনি যখন রিপোর্ট করতেন তখন তার স্কটিশ এক্সেন্ট চলে আসতো। স্কটিশরা টেনে টেনে কথা বলে। তো শাইখ সিরাজ সাহেবকে বলেছিলাম বিবিসিতে সমস্যা হয়না আঞ্চলিক ভাষা চলে আসলে আপনাদের সমস্যা হয় কেন? সিরাজ ভাই আমাকে কোনো সন্তুষ-জনক জবাব দিতে পারেননি।
শেষ কথাঃ যারা মাহি জলিলের বিষয়টি নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছেন তাদেরকে বলবো অযথাই কমিউনিটিতে বিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা করবেননা। আর আতেল যারা তারা শুধু ভর্তা দিয়ে ভাত খাবেন আর লম্বা লম্বা কথা বলবেন, আর ফেইসবুকে লিখবেন। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে নৃত্য করতে পারবেননা। কারন আপানদের লন্ডন জীবনে কোনো কিছুই সৃষ্টি করতে পারেননি, শুধু সিলেটিদের অহেতুক সমালোচনা ছাড়া। অতএব সমসালোচনা না করে সিলেটিদের সাথে মিশে যান। সিলেটিরা মানুষ হিসেবে খারাপ না। তাদের মন অন্তর খুবই ভালো। ভালো মানুষের কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সিলেটি নন সিলেটি হিন্দু মুসলিম হওয়ার আগে মানুষ হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।
বিঃদ্রঃ আমি নিজেও টিভিতে দীর্ঘদিন উপস্থাপনার কাজ করেছি। এখনোও করছি। সত্য কথা বলে যাই। এই লন্ডনে টিভি প্রেজেন্টার হিসেবে যাদের নাম স্বীকার করে নিতে হবে তাদের মধ্যে মাহি ফেরদাউস জলিল, রিয়েলিটি উয়িথ মাহি। শামসুল আলম লিটন বাংলাদেশ প্রতিদিন। উর্মি মাজহার ফ্রাইডে প্লাস। বুলবুল হাসান জনতার মঞ্চ। জেরিন। সৈয়দ গোলাম দস্তগীর নিশাদ। নাশিত রহমান, ফারহান মাসুদ খান অভিমত, সৈয়দ তানভীর আহমেদ একাত্তর টিভি অন্যতম। এরাই মুলত প্রেজেন্টিং করে মোটামুটি নাম করেছেন। সবার প্রতি শুভ কামনা রইলোা।
লেখক সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বাংলা স্টেটমেন্ট ডট কম
সাবেক সভাপতি ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাব
ব্যবস্থাপনা পরিচালক চ্যানেল আই ইউরোপ
লন্ডন ৯ মে ২০২০ ইংরেজী
Rafcbanglastatement@yahoo.com




https://banglastatement.com/2020/05/09/134533/

Sunday, 3 May 2020

মুসলমান 👉বনাম 👈 মুসলমান

###
মুসলমান 👉বনাম 👈 মুসলমান ###
=============================
" তুই শিয়া 👉 👳👈 তুই সুন্নী "
" তুই তাবলীগ পন্থী  👉👳👈 তুই পীর পন্থী "
"তুই সাদ পন্থী  👉👳👈তুই যুবায়ের পন্থী"
"তুই আলিয়া👉👳👈 তুই কওমিয়া"
"তুই তরিকা পন্থী👉👳👈 তুই ওহাবী"
" তুই জামায়াত 👉👳👈 তুই আহলে হাদিস "
" তুই ইলিয়াছী 👉👳👈 তুই মওদুদী "
" তুই চরমোনাই 👉👳👈 তুই শর্ষিনা "
" তুই হেফাজত 👉👳👈 তুই মাইজভান্ডারী "
"তুই ইহুদিদের দালাল 👉👳👈তুই কাফের"
"তুই দেওবন্দী 👉👳👈তুই নকশোবন্দী "
"তুই মাজহাবী 👉👳👈তুই লা মাজহাবী"
"তোর জামা ফাড়া 👉👳👈তোর টুপি ছিদ্র"
"তুই রাসূলের দুশমন 👉👳👈তুই সাহাবিদের দুশমন"
:
বিধর্মীরা যখন আমাদের পিঠের চামড়া তুলে ফেলছে, তখন আমরা নিজেরাই এধরনের কু-তর্কে লিপ্ত।
এই কু-তর্ক, এই বিভক্তি-ই মুসলমান নির্যাতনের মূল কারণ।

সারাবিশ্বের মুসলমান ভাই, ভাই। ইসলামের এ-ই মূল আকিদায় যদি আমরা এক হতে পারতাম তবে আমাদের নির্যাতন তো দূরের কথা আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস তাদের হতোনা।

Friday, 1 May 2020

আংগো হেনীর(ফেনীর) ভাষা।

ফেনীতে আমরা যা যা বলতে শুনি (আঞ্চলিকতা)
সতীনকে - হতীন,
শুটকিকে - হুনি,
রসুনকে - রোন,
পেঁয়াজকে - হেয়াইজ,
সরিষার তেল - বালাতেল,
প্লেটকে - বত্তন,
আখকে - কুঁইউর,
নারিকেলকে - নাইঁঅল,
শশুরকে - হোর,
শ্বাশুড়িকে - হই,
পেপেকে - কইয়্যা,,
চিংড়িকে - ইঁচা মাছ,
টেলিভিশনকে - টিবি,
কাঁঠালকে - কাডল,
ডিমকে - ডিমা,
ইফতারকে - ইসতার,
ঝোলকে - সুরবা,
কলাকে - কেলা,
সুপারিকে - সুয়ারি,
লবনকে - নুন,
চৌকিদারকে - চৈদার,
মেম্বারকে - মেম্বর,
শোল মাছকে - হইল মাছ,
কুকুরকে - কুত্তা,
বিড়ালকে - বিলাই,
সুতাকে - হুতা,
নারিকেল খেজুরের ডালকে - ডোগা,
ফুফু জামাই - হুয়া,
কাঁথাকে - খেতা,
লাল শাক - দুল্লা হাগ,
পুঁইশাক - হলই হাগ,
লাউ - কদু,
কুমড়া - কোম্বা,
পোনা মাছকে - হোনা মাছ,
শরীরের ময়লাকে - ছাতা,
পাকের ঘরকে - হাকঘর
সাপকে - হাপ ,
দেখি - চাই,
টাকাকে - টেয়া ,
পয়সাকে - হইসা ,
হলুদকে - অলইদ ,
বারান্দাকে - বারিন্দা ,
উত্তরদিকে - উতুরমুই,
দক্ষিনদিকে - দইন ,
পশ্চিমকে - হচিমমুই,
পূর্বদিকে - হুগমুই
কাজের লোককে - বদইল্লা,
কাজের মেয়েকে- কামের মাইয়া,
পাতিলকে - হাইল্যা/ডেক্সি
পাখির বাচ্চাকে - হাকিরছা,
ইঁদুরকে - উন্দুর,
পানিকে - হানি,
পাঠা ছাগলকে - হাডা।
ভালো - বালা,
ইত্যাদি ।
চলমান.........
প্রত্যেকটা অঞ্চলেই ভাষার নিজস্ব আঞ্চলিকতার টান থাকে এটা হাসির কিছুনা এটাই ঐতিহ্য । আপনারাও কিছু যোগ করতে পারেন।

Tuesday, 28 April 2020

বর্ণচোরা ফারুক নওয়াজ খানের সাত কাহন-

ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সকল বিভাজন এবং অপকর্মের মূলহোতাঃ গিরিঙ্গিবাজ , বর্ণচোরা ফারুক নওয়াজ খানের সাত কাহন-

নাম তার ফারুক নওয়াজ খান সুমন, ফ্রান্সের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে এক বিষাক্ত নাগরাজ , গুটিবাজ, নানা অপকর্মের জনক, সে এক সময়ে সেলিম ইউসুফ নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ফ্রান্সের সকল সন্মানি লোকদের মানহানি করেছে , ফ্রান্সের মাটিতে জীবন্ত কিংবদ্বন্তি কাজী এনায়েত উল্লাহ ইনু সাহেব কে ছাতা চোর , নন্দিত সমাজ সেবক টি এম রেজা কে ভাত রেজা , ফ্রান্স আওয়ামীলীগের ক্যারিশমাটিক পলিটিশিয়ান মহসিন খান লিটন কে ছাগল ,  মিন্টু চোধুরী কে পকেট মার, কমিউনিটি নেতা সুব্রত  শুভ কে মাইক শুভ, বিশিষ্ট সাংস্কিতিক বেক্তিত্ব   এমদাদুল হক স্বপন কে চোরা স্বপন, সমাজ সেবক  আভেক রাব্বানী খান কে দালাল ছেলে , জনপ্রিয় সাংবাদিক লুৎফুর রহমান বাবুকে তৈল্লা বাবু , সমগ্র ইউরোপের সাংবাদিক নেতা আবু তাহের কে লেঙ্গা তাহের , মেধাবী সাংবাদিক নয়ন মামুন কে কানা মামুন উপাদী দেয়া, নাম বিকৃতকারী,  মানুষকে হেয় করে পৈশাচিক আনন্দ পাওয়া এ  ফাঁকা আওয়াজ খানের কুকৃতির দলীল এখন বার্ডস আইয়ের হাতে

চা বাগানের চা শ্রমিক থেকে  এখন প্যারিসের বুদ্ধিজীবি-
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় ফাঁকা আওয়াজ খান সুমন  হবিগন্জে এক সময় চা বাগানের একজন চা শ্রমিক ছিল,  সে সময়ে সে চা বাগানের গরিব অসহায় নিরীহ শ্রমিকদের যৌন হয়রানি করতেন। এক উপজাতি নারী শ্রমিক মৌহিনী কে কুপ্রস্তাব দেন কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে একদিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে গেলে মেয়েটির আত্মচিৎকারে আশপাশের অন্যলোকজন এগিয়ে আসলে মেয়েটি রক্ষা পায় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের  নজরে আসলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

পরবর্তীতে ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে কিছু দিন টোটকা সাংবাদিক হিসাবে বাংলা চটি বই লেখা শুরু করে , এর পর সিলেটের এক লোকের সহযোগিতায় স্টুডেন্টস ভিসায় লন্ডন যায়, লন্ডনে গিয়ে ও আবার  মানুষকে ওয়ার্ক বানিয়ে দিবে এবং দেশ থেকে লোক আনবে বলে
অনেক অপকর্ম শুরু করে, এরপর দেশ থেকে লোক আনবে বলে বেশ কয়েকজনের প্রায় ৫০ লক্ষ  টাকা মেরে লরিতে করে লন্ডন থেকে প্যারিসে  পালিয়ে আসে।

প্যারিসে এসে নিজেকে অনেক বড় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফ্রান্সে অভিবাসী  সাংবাদিকদের সাহায্যকারী সংস্হা
(মেজু দু জার্নালিস্ট) এ আশ্রয় নেয় এবং সংস্থার কিচেন থেকে খাবার চুরি করে বাইরে ঐ খাবার বিক্রিতে ধরা খায় এবং এ কুলাঙ্গারের এ ঘটনার পর থেকে ঐ সংস্থা সহজে আর কোন বাংলাদেশীকে সহযোগিতা করে না।
এরপর  সে  বাংলাদেশে আওমিলিগ সরকার কর্তৃক অত্যচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে এবং প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের চৌদ্ধগুষ্টি উদ্দার করে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন।

রিফুজি স্টেটাস পাবার সাথে সাথে তিনি নিজেকে আওয়ামীলীগের বিশাল নেতা হিসাবে  জাহির করা শুরু করেন।আওয়ামীলিগের বড় কয়েকজন নেতার সাথে  ফটোশপে নিজের ছবি  এডিট করে ফ্রান্স আওয়ামীলিগের কমিটিতে জায়গা করে নেয়ার জন্য বহুবার চেষ্টা করে ব্যর্থ  হয়ে ফ্রান্স আওয়ামীলীগের লোকদের মধ্যে অন্তর্দহন এবং কোন্দল লাগাতে থাকেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্রান্স আওয়ামীলীগের মধ্যে মহসিন খান লিটন বলেন , এই ফাঁকাওয়াজ খানের গুটি বাজির কারণে ফ্রান্স আওয়ামীলীগের মধ্যে অনেক দ্বন্দ্ব , নিজেকে আওয়ামীলীগ পরিচয় দিলেও আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি  সে মূলত ইউরোপে জামাতের  এজেন্ট,  ছাএজীবনে সে শিবিরের বড় ক্যাডার ছিলো, তাহার স্বভাবচরিত্র ও ভালো নয় এবং সে একজনের কথা আরেকজনকে লাগিয়ে সমাজে অশান্তি তৈরি করে।

একুশ উদযাপন কমিটি কে ভেঙে টুকরা টুকরা করার পিছনের  মূল ইন্দন দাতা-
ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব নামক সংগটন তার কারণে ভেঙেগে যায়,  একজনের কেইস আরেকজনকে দিয়ে টাকা নেয়া ও বাংলা অনুবাদে  ভূয়া  সিল দেয়ার কারণে প্যারিসের  আরিফ এবং মিঠু  নামে দুইজন ভুক্তভোগী গার দূ নর্দে  রেজা ভাইয়ের রেষ্টুরেন্টের সামনে তাকে কুত্তার মতো মারে সেদিন  সুব্রত শুভ  দা যদি তাকে না রক্ষা করতো তাহলে তাহলে গনদোলাইয়ে সে মারা যেতো।
গণদোলাই খেয়ে ফাঁকাওয়াজ খান লোক চক্ষুর অন্তরালে গিয়ে বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্লাব এবং বাংলাদেশ একুশ উদ্যাপন কমিটির পিছনে ষড়যন্ত্র শুরু করে।

টি, এম রেজা এবং সুভ্রত শুভ নেতৃত্বাদিন একুশ উদযাপন কমিটি প্যারিস কে  নিষ্ক্রিয় করে নতুন একটা বিবাজন  তৈরি করে এবং
কতিপয় দান্ধাবাজ সম্বাদিক দিয়ে
রিপাবলিক চত্বরে একুশের আরেকটি অনুষ্ঠান শুরু করতে ইন্দন দেয়।

অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত অবস্হায় ধরা খেয়ে বিয়ে -
এ লম্পট তার বাড়ির পাশ্ববর্তী, তার ছেয়ে ২৫ বছরের ছোট এক কিশোরীর সাথে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত অবস্হায়  এলাকাবাসী হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর এলাকার মুরব্বিরা তাকে ঐ মেয়েকে বিয়ে করতে বাধ্য করে। নিজের সাথে বয়সের অনেক ব্যবধানের কারনে সে তার বৌকে নিয়ে কোথাও যায় না।

গুগল ট্রশ্নসালটোর ভুয়া অনুবাদক ধরা খেয়ে অপি থেকে চাকরিচ্যুত -
গ্যারান্টি দিয়ে মানুষকে কেস লিখে দেয়া, ভূয়া ডকুমেন্টস বানাই দেয়া, সাংবাদিক কেসের জন্য ভূয়া পএিকা বানিয়ে দেয়া,সাংবাদিকতার এটাস্টেশন বিক্রি , গুগল দিয়ে ট্র্যান্সলেট করে জাল আচারমানতে সিল ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেয়া ,কারো  অনুবাদ করতে দিলে একজনের কেইস আরেকজনের নিকট টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার অপরাধে ফ্রান্স সরকারের কাছে ধরা খাবার পর তাকে অফির  অনুবাদক থেকে বহিস্কার করা হয়।
ইতিমধ্যে ফেসবুকে লেখা লেখি করে নিজেকে সবজান্তা শমসের বনে গিয়ে গার দু নর্দ একটা অফিসে নেয়ার চেষ্টা করে খেপে গিয়ে রাব্বানী খানের বিরুদ্ধে লেগে গিয়ে এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাব্বানী খান কে দালাল বানাইতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং দালাল ছেলে নামে ফেসবুক লেখালেখি শুরু করে।

ফ্রান্সে বসে বাংলাদেশ সরকার থেকে ২০লক্ষ টাকা আত্মসাৎ-
পরিচালক না হয়ে ও পার্থপ্রতিম মজুমদারের উপর  ডকুমেন্টরী ছবি  নির্মাণ করবে  বলে ২০১৯ সালে  বাংলাদেশ সরকারের এক আমলাকে ম্যানেজ করে ২০লক্ষ টাকা হাতিয়ে আনেন এবং কোনকিছু না করে পুরোটাকা মেরে দেন।

অর্থলোভী  এ প্রতারক বৌ,বাচ্চা নিয়ে যে মেরির বাসায় থাকে, সে বাসার ড্রয়িং রুম  ও সে দিন হিসাবে ভাড়া দেন।
বাংলাদেশ থেকে আসা এক হিন্ধু নারী সাবলেট হিসাবে তার বাসায় উঠে , বাসা ভাড়া দিতে না পারলে এ চরিত্রহীন তাকে দেহ ভোগের প্রস্তাব দেন, মহিলা রাজি না হলে তাকে ঘর থেকে বের দিয়েছেন  এ লম্পট।

আওয়ামীলীগের মধ্যে কোন্দলের হোতা-
ফ্রান্সের মাটিতে এহেন কোনো কুকর্ম নেই যে  যেটির সাথে ফারুক নওয়াজ খানের নাম জড়িত না , ফ্রান্স আওয়ামীলীগ কমিটি , সর্ব   ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগ এর মধ্যে মধ্যে দ্বন্ধ লাগানোর পিছনে এই  জামাতি এজেন্টের হাত রয়েছে বলে বাবু  অনিল দাশ গুপ্ জানিয়েছেন।
সর্বষেশে ফ্রান্সের বাংলাদেশ দূতাবাসের ট্রেন সমন্ময় কমিটিতে জায়গা না পেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ফ্রান্স আওয়ামীলীগের নেতাদের পিছনে অপপ্রচার শুরু করে কমিটি এবং দূতাবাস কে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও কমিউনিটিতে কারে সাথে কারে ঝগরা হলে সে দু'পক্ষকে ইন্ধন দেয়,একজনের পিছনে আরেক জনকে লেলিয়ে দেয়,
এমন ও ঘটনা আছে প্যারিসে বন্ধুর সাথে বন্ধুর ঝগড়া হয়েছে এবং সে দুইজনকেই পখ দা প্লান(জিডি)এর কাগজ সে লিখে দিয়ে দুইজন থেকে টাকা নিয়েছে, অথচ সে ডায়লগ দেয়- সে নাকি ফ্রান্সে বাংলাদেশীদের একটি সন্মানজনক অবস্হানের স্বপ্ন দেখে,এ যেন ভূতের মুখে রাম রাম।
এ মুখোশধারী  হিংসুক কারো ভালো দেখতে পারে না,সে চায় সব কিছুতে সবার উপরে সে থাকবে, কেউ একটু আগালেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে, তার পিছনে লোক লেলিয়ে দেয়।

শুধুমাএ সাংবাদিক ও আওয়ামীগের নাম ভাঙ্গিয়ে চলার কারণে অনেক ভুক্তভোগী থাকার পরে ও কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না।

উপরে উল্লেখিত সকল তথ্য উপাত্ত ১০০ ভাগ যাচাই-বাছাই ও  নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্টের উপর ভিত্তিতে করা হয়েছে শুধুমাএ কমিউনিটির স্বাথে।
তার সাথে আমার  কোন শত্রুতা নাই।

ফ্রান্সের বাংলাদেশী প্রবাসীদের বৃহৎ স্বার্থ বিবেচনায় উক্ত মুখোশ ধারীর মুখোশ উম্মোচন করা সময়ের দাবি ছিল।
কমিউনিটির স্বার্থে এই মুখোশ দারি ভন্ডের আসল চরিত্র সবার সামনে তুলে ধরা হল,সবাই   তাকে বয়কট করুন নয়তো আমরা একে অপরের সাথে বিবাদ করতে করতে একদিন  শেষ হয়ে যাবো।

Thursday, 23 April 2020

করোনায় মৃত্যু ও ভোগান্তির একটা অন্যতম কারণ হল এর রক্তনালিতে জমাটবদ্ধ করে

ইতোমধ্যে জানা হয়ে গেছে করোনায় মৃত্যু ও ভোগান্তির একটা অন্যতম কারণ হল এর রক্তনালিতে জমাটবদ্ধ করে দেয়ার প্রবণতা। এটি ফুসফুসের রক্তনালী বন্ধ করে হঠাৎ মৃত্যু ঘটায়, হার্টের রক্তনালী বন্ধ করে হার্ট অ্যাটাক করে, কিডনির রক্তনালী বন্ধ করে কিডনি ফেলিউর করে, লিভারের রক্তনালী বন্ধ করে জন্ডিস করে, ব্রেনের রক্তনালী বন্ধ করে স্ট্রোক করে, হাত পায়ের রক্তনালী বন্ধ করে গ্যাংরিন করে ইত্যাদি। তাই রক্ত জমাটবদ্ধ হবার আগেই , রোগী আইসিইউতে যাবার আগেই যদি প্রিভেন্টিভ হেপারিন (LMWH) দেয়া যায় তাহলে অনেক মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব। এ প্রেক্ষিতে The international society on thrombosis and haemostasis সুপারিশ করেছে COVID যেমন তীব্রতারই হোক, সে ICU-তে থাকুক বা ওয়ার্ডে থাকুক, তার D-dimer করা থাকুক আর না থাকুক, প্রত্যেক COVID রোগীকেই রক্ত জমাট বাঁধার আগেই প্রতিরোধমূলক হেপারিন দিতে। হাস্পাতালে ভর্তি যেকোনো রোগীকেই- সে ওয়ার্ডে থাকুক কিংবা আইসিউতে- এটি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সেটা যদি আপাত:দৃষ্টিতে খুব সাধারন মাত্রার COVID হয় তবুও।

শুধুমাত্র দুটি ক্ষেত্রে হেপারিন দিতে নিষেধ করা হয়েছে। তার একটি হলো রক্তক্ষরণ অন্যটি প্লেটিলেট কাউন্ট যদি ২৫ হাজারের নিচে নেমে যায় তবে।

উল্লেখ্য করোনাতে রক্তক্ষরণ সাধারণত দেখা যায় না এবং এটি এরোগে বিরল ব্যাপার।
====
Screen shots and links in the comment box

Aminul Islam
মূল পোস্টের লিংক নীচে দেয়া হল।

Monday, 13 April 2020

আব্দুল মাজেদের নিখোঁজ হওয়া থেকে বাংলাদেশে তাঁকে গ্রেপ্তার—

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: মহল্লা তাঁকে কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখেনি। হিংসা-বিবাদ তো দূর অস্ত! লোকটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন নিয়ম করে। সেই তাদের মাস্টারমশাই নাকি বঙ্গবন্ধুর খুনি! এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না লকডাউনের পার্ক স্ট্রিট। এই পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আব্দুল মাজেদ।
গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মীরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদ গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে রীতিমতো অবাক পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের বাসিন্দারা!
কিন্তু আব্দুল মাজেদ নয়। পার্ক স্ট্রিট তাঁকে চেনে আলি আহমেদ ওরফে ইংরেজির মাস্টারমশাই হিসেবে। এলাকার লোকে জানত, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে থেকে পাশ করেছেন মাস্টারমশাই। টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাতেন তিনি। প্রথমে তালতলার ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন মাজেদ। পরে পার্ক স্ট্রিটে চলে আসেন।
২০১১ সালে তাঁর থেকে ৩২ বছরের ছোট উলুবেড়িয়ার সেলিনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের ছ’বছরের এক মেয়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বছর বাহাত্তরের মাজেদের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পিজি হাসপাতালে একপ্রস্থ পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়।
দিনটা ছিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি। পিজি হাসপাতাল থেকে সেই রিপোর্ট আনতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সেটাই শেষ। আর বাড়ি ফেরা হয়নি মাজেদের। স্বভাবতই উদ্বিগ্ন স্ত্রী রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। তদন্তে শুরু করে পার্ক স্ট্রিট থানা। পিজি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ তন্নতন্ন করে ঘাঁটলেও হদিশ মেলে না মাজেদের।
এরপর পুলিস মাজেদের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ব্যাগ পায়। সেই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ভারতীয় পাসপোর্ট এবং এক মহিলা সহ তিনজন শিশুর ছবি পাওয়া যায়। স্ত্রী সেলিনা পুলিসকে জানায়, ব্যাগের মতো তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসে কাউকে হাত দিতে দিতেন না মাজেদ।
মহল্লায় খুব একটা মেলামেশা করতেন না তিনি। টিউশনির পাশাপাশি বড়জোর এলাকার এক চায়ের দোকান, রেশন দোকান এবং এক বিল্ডার্সের দোকানে আড্ডা দিতেন মাজেদ। বাড়ির সদর দরজায় সব সময় তালা লাগানো থাকত। বাইরের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হতো না। এক আধ বছর নয়, এভাবেই আঠারো-উনিশ বছর ডেরা বেঁধে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন আব্দুল মাজেদ।
২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আব্দুল মাজেদের যাত্রাপথের একাংশের সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে পুলিসের। কী আছে সেই ফুটেজে?
এক ঝলক দেখলে যে কেউ ভুল করে তাঁদের কাবুলিওয়ালা ভাববেন। ষণ্ডামার্কা চেহারা। গালে ঘন কালো চাপ দাড়ি। ব্যাক ব্রাশ করা চুল। একজনের পরনে ডেনিম জিন্স আর নীল ফুল হাতা টি-শার্ট। অন্যজনের গায়ে বড় চেক শার্ট। দু’জনের হাতেই মোবাইল ফোন।
সিসিটিভি’র ফুটেজ ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একটি ওষুধের দোকানে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ। সেখানে মিনিট আটেক কাটানোর পর ঠিক ১০টা ১২ মিনিটে যখন রিপন স্ট্রিটের দিকে মুখ করে ফের পথ চলতে শুরু করেন, তখন থেকেই তাঁকে অনুসরণ করা শুরু করে ওই দুই ব্যক্তি। পরে তাঁদের সঙ্গে আরও দু’জন যোগ দেন। মোট চারজন সেদিন পিছু নিয়েছিলেন মাজেদের। সিসিটিভি’র ফুটেজে সবার ছবিই ধরা আছে। তদন্তে নেমে পুলিস ও এসটিএফ-এর অফিসাররা পিছু নেওয়া ওই ষণ্ডামার্কাদের কাবুলিওয়ালা ভেবে প্রথমে ভুল করেছিল। উল্লেখ্য, মাজেদ ছোটখাট সুদের কারবারও চালাতেন।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ধরে এসে রাস্তা পার হয়ে এজেসি বোস রোডে আসেন মাজেদ। উদ্দেশ্য, বাস ধরা। গন্তব্য পিজি হাসপাতাল। এর পরের ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ওই চারজন মাজেদের সঙ্গে কথা বলছে। তবে ক্যামেরা উন্নত না হওয়ায় কী কথা হয়েছিল, তা শোনার উপায় নেই। ঠিক তখনই মৌলালির দিক থেকে আসা একটি সল্টলেক-সাঁতরাগাছি রুটের বাসে উঠতে দেখা যায় মাজেদকে। যথারীতি সেই বাসে চাপেন ওই চারজনও। এরপর আর কোনও ফুটেজ নেই।
তদন্তে নেমে পুলিস এজেসি বোস রোডের প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছে। না, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাস স্টপ থেকে পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত কোথাও বাস থেকে নামতে দেখা যায়নি আব্দুল মাজেদকে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানিয়েছে, মাজেদের মোবাইলের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন ছিল মালদহ। যা থেকে গোয়েন্দাদের অনুমান, মাজেদকে ঘুরপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হাওড়া স্টেশনে। সেখান থেকে ট্রেনে প্রথমে গুয়াহাটি। পরে শিলং হয়ে ডাওকি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ যান তিনি। তবে তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন, নাকি বাধ্য করা হয়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। মনে করা হচ্ছে, ট্রেন মালদহ স্টেশনের আশপাশে থাকাকালীন তিনি তাঁর মোবাইলটি একবার অন করেছিলেন।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই চারজন কারা? তাঁরা কি বাংলাদেশের কোনও গোয়েন্দা এজেন্সির অফিসার? সত্যিই এনিয়ে তদন্ত হাওয়া দরকার, বলছেন পার্ক স্ট্রিটের বাসিন্দারা।
কলকাতা পুলিসের অজান্তে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেল মাজেদকে? কেননা, আইনত কোনও বিদেশি গোয়েন্দা এজেন্সি বিনা অনুমতিতে অন্য দেশে ঢুকে অভিযান চালাতে পারে না।
বাংলাদেশ সরকারিভাবে ৭ এপ্রিল জানিয়েছে, করোনার ভয়েই মার্চ মাসের শেষদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি। বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজমের গোয়েন্দারা তাঁকে মীরপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন।
এই যুক্তি অবশ্য ধোপে টিকছে না। কারণ ভারতে প্রথম করোনা আক্রান্তের খোঁজ মেলে ৩০ জানুয়ারি। তাও আবার দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরলে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খুনি লুকিয়ে ছিলেন কলকাতায়। এখানে করোনা ধরা পড়ে ১৮ মার্চ। ফলে ২২ ফেব্রুয়ারি মাজেদ কলকাতা থেকে বাংলাদেশে যাবেন কেন?
আব্দুল মাজেদের নিখোঁজ হওয়া থেকে বাংলাদেশে তাঁকে গ্রেপ্তার—গোটা পর্বই রহস্যে ঘেরা।
সেই রহস্যের কি আদৌ কোনওদিন কিনারা হবে? (ক্রমশ)

    এমন চারজনই সেদিন পিছু নিয়েছিল মাজেদের। ছবি স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে পাওয়া।

https://bartamanpatrika.com