Friday, 6 December 2019

জামিনযোগ্য ধারার অপরাধসমূহ

জামিনযোগ্য ধারার অপরাধসমূহ

জামিনযোগ্য ধারা

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী দন্ডবিধিতে উল্লেখিত অপরাধসমূহের মধ্যে যেসব অপরাধ  জামিনযোগ্য তা নিম্নে উল্লেখিত হলঃ-  
ক্রমিক নং
ধারার বর্ননা
দন্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা
১।
মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের চক্রান্ত গোপন করা, যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়
১১৮(২য়
ভাগ)
২।
অপরাধ সংঘটন নিরোধ করিবার কর্তব্যে আবদ্ধ সরকারি কর্মচারী কর্তৃক চক্রান্ত গোপন করা, যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়
১১৯(৩য়
ভাগ)
৩।
কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের চক্রান্ত গোপন করা, যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়
১২০(২য় ভাগ)
৪।
মৃত্যু, যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় বা দুই বছরের অধিক কারাদন্ডে দন্ডনীয় ব্যতীত অন্যান্য অপরাধে ষড়যন্ত্রের শাস্তি
১২০বি (২য় ভাগ)
৫।  
সরকারি কর্মচারীর অবহেলার ফলে রাষ্ট্রীয় বন্দী বা যুদ্ধবন্দীর পলায়ন
১২৯
৬।
সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিকের বাহিনী ত্যাগে প্ররোচনা
১৩৫
৭।
বাহিনী ত্যাগকারীকে আশ্রয়দান বা রক্ষা করা
১৩৬
৮।
সওদাগরী জাহাজের অধ্যক্ষের ফলে সওদাগরী জাহাজের বাহিনীর আত্মগোপন
১৩৭
৯।
সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিকের অবাধ্যতামূলক কাজে প্ররোচনা
১৩৮
১০।
সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিকের পোশাক পরিধান কিংবা  প্রতীক বহন
১৪০
১১।
বেআইনী সমাবেশের সদস্য হওয়া
১৪৩
১২।
মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী সমাবেশের সদস্য হওয়া
১৪৪
১৩।
বেআইনি সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ হবার আদেশ দেয়া সত্ত্বেও শরিক হওয়া
১৪৫
১৪।
দাঙ্গা 
১৪৭
১৫।
মারাত্মক অস্ত্রসহ দাঙ্গা
১৪৮
১৬।
পাচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ হবার আদেশ দেয়া সত্ত্বেও তাতে শরিক হওয়া
১৫১
১৭।
দাঙ্গা ইত্যাদি দমনকালে সরকারী কর্মচারীকে আক্রমন বা বাধাদান
১৫২
১৮।
দাঙ্গা বাধানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক উস্কানি দান করা
১৫৩
১৯।
বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি     
১৫৩ক
২০।
ছাত্র, প্রভৃতিকে রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের প্ররোচনা দান
১৫৩খ
২১।
যে জমির উপর বেআইনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় উহার মালিক বা দখলদার কর্তৃক দাঙ্গার তথ্য না প্রদান না করা  
১৫৪
২২।
যে ব্যক্তির স্বার্থে দাঙ্গা সংঘটিত হয় তার দায়দায়িত্ব
১৫৫
২৩।
যে মালিক বা দখলকারের স্বার্থে দাঙ্গা সংঘটিত হয় তার প্রতিনিধির দায়িত্ব
১৫৬
২৪।
বেআইনী সমাবেশের জন্য ভাড়া করা ব্যক্তিদের আশ্রয়দান
১৫৭
২৫।
বেআইনী সমাবেশের বা দাঙ্গা-হাঙ্গামার জন্য ভাড়াটিয়া হয়ে অংশগ্রহণ
১৫৮
২৬।
প্রকাশ্যে কলহ বা মারামারি করা
১৬০
২৭।
সরকারি কর্মচারী কর্তৃক সরকারি কার্য সম্পর্কে অবৈধভাবে পারিতোষিক গ্রহণ করা
১৬১
২৮।
বেআইনী উপায়ে সরকারি কর্মচারীকে প্রভাবিত করার জন্য পারিতোষিক গ্রহণ করা
১৬২
২৯।
সরকারি কর্মচারীর উপর ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের জন্য পারিতোষিক গ্রহণ
১৬৩
৩০।
১৬২ বা ১৬৩ ধারায় বর্ণিত অপরাধসমূহের সহায়তার শাস্তি
১৬৪
৩১।
সরকারি কর্মচারী কর্তৃক তার কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট হতে দামি বস্তু লাভ
১৬৫
৩২।
১৬১ ও ১৬৫ ধারায় বর্ণিত অপরাধসমূহের সহায়তার শাস্তি
১৬৫ক
৩৩।
সরকারি কর্মচারি কর্তৃক কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আইন অমান্য করা
১৬৬
৩৪।
সরকারি কর্মচারি কর্তৃক কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ভ্রান্ত দলিল প্রণয়ন করা
১৬৭
৩৫।
সরকারি কর্মচারি কর্তৃক বেআইনীভাবে ব্যবসায় লিপ্ত হওয়া
১৬৮
৩৬।
সরকারি কর্মচারি কর্তৃক বেআইনীভাবে সম্পত্তি ক্রয় বা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দরকষাকষি
১৬৯
৩৭।
সরকারি কর্মচারি বলিয়া মিথ্যা পরিচয় দান
১৭০
৩৮।
প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে সরকারী কর্মচারীর পোশাক পরিধান কিংবা ব্যবহার্য প্রতীক ধারণ
১৭১
৩৯।
ঘুষ গ্রহণ  
১৭১ঙ
৪০।
নির্বাচনে অন্যায় প্রভাব বিস্তার বা মিথ্যা পরিচয়দান
১৭১ চ
৪১।
নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা বিবৃতি প্রদান
১৭১ছ
৪২।
নির্বাচন সম্পর্কে বেআইনী অর্থপ্রদান
১৭১জ
৪৩।
নির্বাচনী হিসাব রাখতে অন্যথাকরণ
১৭১ঝ
৪৪।
সমনজারি বা অন্য কোন কার্যক্রম এড়ানোর উদ্দেশ্যে ফেরার হওয়া
১৭২
৪৫।
সমনজারি বা অন্য কোন কার্যক্রম বন্ধ করা কিংবা উহার প্রকাশনা বন্ধকরা
১৭৩
৪৬।
সরকারি কর্মচারীর আদেশানুসারে হাজির না হওয়া
১৭৪
৪৭।
সরকারি কর্মচারী সমীপে দলিল পেশ করতে আইনতঃ বাধ্য হইয়া সত্ত্বেও না করা
১৭৫
৪৮।
সরকারি কর্মচারীর নিকট নোটিশ বা সংবাদ দিতে আইনতঃ বাধ্য ব্যক্তি কর্তৃক তাহা না করা
১৭৬
৪৯।
মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন
১৭৭
৫০।
সরকারি কর্মচারী কর্তৃক নির্দেশিত হওয়া সত্ত্বেও শপথ করতে অস্বীকার করা
১৭৮
৫১।
যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করা
১৭৯
৫২।
সরকারি কর্মচারীর নিকট প্রদত্ত বিবৃতি স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করা
১৮০
৫৩।
শপথ গ্রহণান্তে মিথ্যা বিবৃতি প্রদান
১৮১
৫৪।
সরকারি কর্মচারীকে মিথ্যা সংবাদ দান
১৮২
৫৫।
সরকারি কর্মচারীর আইনসম্মত ক্ষমতাবলে সম্পত্তি দখলে বাধা দান
১৮৩ 
৫৬।
সরকারি কর্মচারীর ক্ষমতাবলে সম্পত্তি বিক্রয়ে বাধা দান
১৮৪
৫৭।
সরকারি কর্মচারীর  ক্ষমতাবলে সম্পত্তি বেআইনিভাবে ক্রয় বা ক্রয়ের জন্য দর করা
১৮৫
৫৮।
সরকারি কর্মচারীর সরকারি কার্য সম্পাদনে বাধা দান
১৮৬
৫৯।
সরকারি কর্মচারীদের সাহায্য না করা
১৮৭
৬০।
সরকারি কর্মচারী কর্তৃক জারীকৃত আদেশ অমান্য করা
১৮৮
৬১।
সরকারি কর্মচারীর প্রতি ক্ষতিসাধনের হুমকি
১৮৯
৬২।
সরকারি কর্মচারীর নিকট আশ্রয়ের আবেদন হতে বিরত রাখতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে হুমকি প্রদর্শন
১৯০
৬৩।
মিথ্যা সাক্ষ্যদান
১৯৩
৬৪।
 মিথ্যা সার্টিফিকেট দেওয়া বা ব্যবহার 
১৯৭
৬৫।  
মিথ্যা সার্টিফিকেট সত্য বলে ব্যবহার করা
১৯৮
৬৬।
আইনগত ঘোষণায় মিথ্যা বিবৃতি দান
১৯৯
৬৭।
আইনগত ঘোষণায় মিথ্যা বলে জানা সত্ত্বেও সত্য হিসাবে ব্যবহার করা
২০০
৬৮।
অপরাধের সাক্ষ্য প্রমানের বিলোপ কিংবা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান
২০১
৬৯।
ইছাকৃতভাবে সংবাদ না দেওয়া
২০২
৭০।
অপরাধ সংঘটন সম্পর্কে মিথ্যা সংবাদ দেওয়া
২০৩
৭১।
অসৎ উদ্দেশ্যে দলিলের বিনাশ সাধন
২০৪
৭২।
মামলার উদ্দেশ্যে মিথ্যা পরিচয় দেয়া  
২০৫
৭৩।
সম্পত্তি আটক রোধ করার জন্য প্রতারণামূলকভাবে উহা অপসারন  
২০৬
৭৪।  
সম্পত্তি আটক রোধ করার জন্য প্রতারনামূলকভাবে স্বত্ব দাবী
২০৭ 
৭৫।
অর্থ পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে প্রতারনামূলকভাবে নিজের বিরুদ্ধে ডিক্রি করানো
২০৮
৭৬।
অসাধুভাবে আদালতে মিথ্যা দাবী উত্থাপন
২০৯
৭৭।
অর্থ পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে প্রতারনামূলকভাবে ডিক্রি লাভ
২১০
৭৮।
অপরাধ সংক্রান্ত মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন
২১১
৭৯।
অপরাধীকে আশ্রয় দান
২১২
৮০।
কোন ব্যাক্তিকে শাস্তি হতে বাঁচানোর জন্য উপহার গ্রহণ
২১৩
৮১।
অপরাধীকে বাচানোর বিনিময়ে পুরষ্কারের প্রস্তাব
২১৪
৮২।
অপহৃত সম্পত্তি উদ্ধারে সাহায্য করার জন্য উপহার গ্রহণ
২১৫
৮৩।
আসামীকে আশ্রয়দান
২১৬
৮৪।
দস্যু বা ডাকাতকে  আশ্রয়দান
২১৬ক
৮৫।
কোন ব্যক্তিকে শাস্তি হতে বাঁচানোর বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সরকারি  কর্মচারী কর্তৃক আইনের নির্দেশ লংঘন
২১৭
৮৬।
কোন ব্যক্তিকে শাস্তি হতে বাঁচানোর বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে  সরকারি কর্মচারী কর্তৃক ভুল নথি লিপি প্রণয়ন
২১৮
৮৭।
বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমে দুর্নীতিমূলকভাবে রিপোর্ট প্রণয়ন  
২১৯
৮৮।
আইনবিরুদ্ধভাবে কাউকে বিচারে বা আটকে সোপর্দ করে বা আটক করে রাখা
২২০
৮৯।
গ্রেফতার করিতে বাধ্য হইয়া সত্ত্বেও সরকারি কর্মচারী কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রেফতার না করা
২২১
৯০।
সরকারি  কর্মচারীর অবহেলার দরুন আটক হতে পলায়ন
২২৩
৯১।
কোন ব্যাক্তি কর্তৃক তার আইনানুগ গ্রেফতারে প্রতিরোধ সৃষ্টি বা বাধাদান
২২৪
৯২।
অপর ব্যক্তির আইনসংগত গ্রেফতারে প্রতিরোধ বা বিঘ্ন সৃষ্টি
২২৫
৯৩।
সরকারি  কর্মচারী কর্তৃক গ্রেফতার না করা কিংবা পলায়ন করতে দেয়া
২২৫ক
৯৪।
আইনসম্মত গ্রেফতার কার্যে প্রতিরোধ বা বাধাদান  
২২৫বি
৯৫।
দন্ড হ্রাসের শর্ত লংঘন  
২২৭
৯৬।
বিচার বিভাগীয় কার্য পরিচালনাকারী সরকারি কর্মচারীর প্রতি অবমাননা
২২৮
৯৭।
জুরির মিথ্যা পরিচয় দান
২২৯
৯৮।
সরকারি স্ট্যাম্প জাল করা
২৫৫
৯৯।
সরকারি স্ট্যাম্প জাল করিবার যন্ত্রপাতি রাখা
২৫৬
১০০।
সরকারি স্ট্যাম্প জাল করিবার যন্ত্রপাতি প্রস্তুত বা বিক্রয় করা
২৫৭
১০১।
জাল সরকারি স্ট্যাম্প বিক্রয় করা
২৫৮
১০২।
জাল সরকারি স্ট্যাম্প রাখা
২৫৯
১০৩।
জাল সরকারি স্ট্যাম্প ব্যবহার করা
২৬০
১০৪।
সরকারি স্ট্যাম্প হতে লেখা মুছে ফেলা বা স্ট্যাম্প অপসারণ
২৬১
১০৫।
পূর্বের ব্যবহৃত স্ট্যাম্প ব্যবহার
২৬২
১০৬।
স্ট্যাম্প ব্যবহৃত হবার প্রমাণস্বরূপ চিহ্ন মুছে ফেলা  
২৬৩
১০৭।
ভুয়া স্ট্যাম্প
২৬৩ক
১০৮।
ওজনের জন্য মিথ্যা যন্ত্রের ব্যবহার 
২৬৪
১০৯।
মিথ্যা ওজন ব্যবহার
২৬৫
১১০।
মিথ্যা ওজন রাখা
২৬৬
১১১।
মিথ্যা ওজন তৈরী বা বিক্রয়
২৬৭
১১২।
মারাত্মক রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন অবহেলামূলক কাজ
২৬৯
১১৩।
মারাত্মক রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন বিদ্বেষপ্রসূত কাজ
২৭০
১১৪।
কোয়ারেন্টাইন নিয়ম অমান্য করা
২৭১
১১৫।
খাদ্যে বা পানিতে ভেজাল মিশ্রণ
২৭২
১১৬।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বা পানীয় বিক্রয়
২৭৩
১১৭।
ঔষধে ভেজাল মিশ্রণ
২৭৪
১১৮।
ভেজাল মিশ্রিত ঔষধ বিক্রয়
২৭৫
১১৯।
কোন ঔষধকে ভিন্ন ঔষধ বলে বিক্রয় করা
২৭৬
১২০।
জলাশয়ের পানি দূষিত করা
২৭৭
১২১।
বায়ূমন্ডলের ক্ষতি সাধন
২৭৮
১২২।
বেপরোয়া গাড়ি চালানো বা আরোহন
২৭৯
১২৩।
বেপরোয়া নৌ চালনা
২৮০
১২৪।
মিথ্যা বাতি, চিহ্ন বা বয়া প্রদর্শন
২৮১
১২৫।
নৌযানে  অতিরিক্ত ভারবিশিষ্ট  লোক পার করা
২৮২
১২৬।
সড়কে বা জলপথে বিপদ বা বাধা
২৮৩
১২৭।
বিষাক্ত বস্তু নিয়ে অবহেলামূলক আচরণ  
২৮৪
১২৮।
আগুন বা দাহ্য বস্তু নিয়ে অবহেলামূলক আচরণ
২৮৫
১২৯।
বিস্ফোরক বস্তু নিয়ে অবহেলামূলক আচরণ
২৮৬
১৩০।
যন্ত্রপাতি  নিয়ে অবহেলামূলক আচরণ
২৮৭
১৩১।
দালান ভাংগার বা মেরামতের কাজে অবহেলামূলক আচরণ
২৮৮
১৩২।
পশু সম্পর্কে অবহেলামূলক আচরণ
২৮৯
১৩৩।
জনসাধারণের বিরক্তি উৎপাদনকারী বস্তু বা কাজের শাস্তি   
২৯০
১৩৪।
নিষাধাজ্ঞার পরে উৎপাত চালিয়ে যাওয়া
২৯১
১৩৫।
অশ্লীল পুস্তকাদি বিক্রয়
২৯২
১৩৬।
নাবালকের নিকট অশ্লীল পুস্তকাদি বিক্রয়
২৯৩
১৩৭।
অশ্লীল গান ও কাজ
২৯৪
১৩৮।
লটারী অফিস রাখা
২৯৪ক
১৩৯।
বাণিজ্য বিষয়ে পুরষ্কার প্রদানের প্রস্তাব
২৯৪খ
১৪০।
উপাসনার স্থান বিনষ্ট বা অপবিত্র করা
২৯৫
১৪১।
ধর্মীয় সমাবেশে গোলযোগ সৃষ্টি
২৯৬
১৪২।
সমাধিস্থান ইত্যাদিতে অনধিকার প্রবেশ
২৯৭
১৪৩।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে শব্দ উচ্চারন করা
২৯৮
১৪৪।
অবহেলার দ্বারা মৃত্যু সংঘটন
৩০৪ক
১৪৫।
বেপরোয়াভাবে যান চালানোর দ্বারা মৃত্যু ঘটানো  
৩০৪খ
১৪৬।
অপরাধজনক নরহত্যা করার চেষ্টা
৩০৮
১৪৭।
আত্মহত্যার চেষ্টা
৩০৯
১৪৮।
গর্ভপাত ঘটানো
৩১২
১৪৯।
অভিভাবক কর্তৃক বার বছরের কম শিশুকে ফেলে যাওয়া  
৩১৭
১৫০।
গোপনে মৃতদেহ অপসারন করে জন্ম গোপন করা
৩১৮
১৫১।
ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা
৩২৩
১৫২।
ইচ্ছাকৃতভাবে  বিপজ্জনক অস্ত্র দ্বারা আঘাত করা
৩২৪
১৫৩।
ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা
৩২৫
১৫৪।
স্বীকারোক্তি আদায় কিংবা বেআইনী কাজে বাধ্য করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা
৩৩০
১৫৫।
সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য হতে বিরত রাখার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা
৩৩২
১৫৬।
প্ররোচনার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা
৩৩৪
১৫৭।
প্ররোচনার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে  গুরুতর আঘাত করা
৩৩৫
১৫৮।
অন্যান্য ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক কাজ
৩৩৬
১৫৯।
অন্যান্য ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক কাজের দ্বারা আঘাত
৩৩৭
১৬০।
অন্যান্য ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক কাজের দ্বারা গুরুতর আঘাত
৩৩৮
১৬১।
জনপথে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আঘাত
৩৩৮ক
১৬২।
অন্যায়ভাবে বাধাপ্রদান
৩৪১
১৬৩।
অন্যায়ভাবে  আটক
৩৪২
১৬৪।
তিন বা ততোধিক দিনের জন্য অন্যায়ভাবে  আটক
৩৪৩
১৬৫।
দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অন্যায়ভাবে  আটক
৩৪৪
১৬৬।
মুক্তির জন্য রীট জারির পরেও কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে আটক
৩৪৫
১৬৭।
গোপন স্থানে অন্যায়ভাবে আটক রাখা
৩৪৬
১৬৮।
সম্পত্তি আদায় কিংবা বেআইনি কাজের জন্য অন্যায়ভাবে  আটক রাখা
৩৪৭
১৬৯।
স্বীকারোক্তি আদায় কিংবা সম্পত্তি প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য করার জন্য অন্যায়ভাবে আটক রাখা
৩৪৮
১৭০।
মারাত্মক প্ররোচনা ব্যতীত আক্রমন কিংবা অপরাধজনক বলপ্রয়োগ
৩৫২
১৭১।
শ্লীলতাহানির জন্য নারীকে আক্রমন কিংবা অপরাধজনক বলপ্রয়োগ
৩৫৪
১৭২।
কোন ব্যক্তিকে অপমান করার জন্য আক্রমন কিংবা অপরাধজনক বলপ্রয়োগ
৩৫৫
১৭৩।
কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে আটক করার জন্য আক্রমন কিংবা অপরাধজনক বলপ্রয়োগ
৩৫৭
১৭৪।
মারাত্মক প্ররোচানার ফলে আক্রমন কিংবা অপরাধজনক বলপ্রয়োগ
৩৫৮
১৭৫।
মনুষ্য অপহরণ  
৩৬৩
১৭৬।
কোন ব্যক্তিকে দাস হিসেবে ক্রয় বা হস্তান্তর করা
৩৭০
১৭৭।
বেআইনি বাধ্যতাজনক শ্রম
৩৭৪
১৭৮।
কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার নিজের স্ত্রীকে ধর্ষণ  
৩৭৬
১৭৯।
জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের শাস্তি
৩৮৪
১৮০।
দন্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত করার ভীতি প্রদর্শনপূর্বক সম্পত্তি আদায়
৩৮৮
১৮১।
দন্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত করার ভীতি প্রদর্শন
৩৮৯
১৮২।
প্রতারণা
৪১৭
১৮৩।
ক্ষতি হবে জানা সত্ত্বেও প্রতারণা করা
৪১৮
১৮৪।
মিথ্যা পরিচয় প্রদান করে প্রতারণা
৪১৯
১৮৫।
প্রতারণা ও অসাধুভাবে সম্পত্তি অর্পণ করতে প্রবৃত্তাকরণ
৪২০
১৮৬।
প্রতারণা ও অসাধুভাবে সম্পত্তি অপসারণ বা গোপনকরণ
৪২১
১৮৭।
প্রতারণা ও অসাধুভাবে পাওনাদারদের অর্থ প্রাপ্তি নিরোধ করা
৪২২
১৮৮।
ক্রয়মূল্য সম্পর্কিত মিথ্যা বিবরণ সম্বলিত প্রতারণা ও অসাধুভাবে হস্তান্ত দলিল সম্পাদন
৪২৩
১৮৯।
প্রতারণা ও অসাধুভাবে সম্পত্তি সম্পত্তি অপসারণ ও গোপন করা
৪২৪
১৯০।
অনিষ্ট সাধন
৪২৬
১৯১।
অনিষ্ট করে পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি সাধন
৪২৭
১৯২।
দশ টাকা মূল্যের পশুকে হত্যা বা বিকলাংগ করে অনিষ্ট সাধন
৪২৮
১৯৩।
যে কোন মূল্যের পশুকে হত্যা বা বিকলাংগ করে অনিষ্ট সাধন
৪২৯
১৯৪।
সেচ কার্যের ক্ষতিসাধন করে বা অবৈধভাবে জলের গতি পরিবর্তন করে অনিষ্ট সাধন
৪৩০
১৯৫।
সরকারি সড়ক, সেতু, নদী বা খালের ক্ষতিসাধন
৪৩১
১৯৬।
সরকারি পয়ঃপ্রণালী প্লাবিত বা বিঘ্নিত করে অনিষ্টসাধন
৪৩২
১৯৭।
লাইটহাউজ বা সামুদ্রিক সংকেত বিনষ্ট করে অনিষ্টসাধন
৪৩৩
১৯৮।
ভূ-সংকেত বিনষ্ট করে অনিষ্টসাধন
৪৩৪
১৯৯।
অগ্নি বা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে কৃষি পণ্যের অনিষ্টসাধন
৪৩৫
২০০।
অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ
৪৪৭
২০১।
গৃহে অনধিকার প্রবেশ
৪৪৮
২০২।
কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ করার উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ
৪৫১( ১ম ভাগ)
২০৩।
অসাধুভাবে সম্পত্তি সম্বলিত আধার ভাঙ্গা
৪৬১
২০৪।
হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
৪৬২
২০৫।
ব্যাংক অফিসার ও কর্মচারীদের অবহেলাজনক আচরনের শাস্তি
৪৬২ক
২০৬।
ব্যাংকিং কোম্পানীর সাথে প্রতারণা
৪৬২খ
২০৭।
সুনামহানির উদ্দেশ্যে জালিয়াতি
৪৬৯
২০৮।
জাল দলিলকে খাটি দলিলরূপে ব্যবহার
৪৭১
২০৯।
মূল্যবান জামানত, উইল ইত্যাদি জালিয়াতির জন্য জাল সীলমোহর তৈরী যা দন্ডবিধির ৪৬৭ ধারা অনুযায়ী শাহতিযোগ্য   
৪৭২
২১০।
জালিয়াতির উদ্দেশ্যে জাল সীলমোহর তৈরী বা রাখা
৪৭৩
২১১।
জাল দলিল নিজের দখলে রাখা
৪৭৪
২১২।
জাল চিহ্ন বিশিষ্ট দ্রব্য নিজের দখলে রাখা
৪৭৫
২১৩।
মিথ্যা হিসাবপত্র প্রণয়ন করা  
৪৭৭ক
২১৪।
মিথ্যা ট্রেডমার্ক বা সম্পত্তি চিহ্ন ব্যবহার করা
৪৮২
২১৫।
ট্রেডমার্ক বা সম্পত্তি চিহ্ন জাল করে অন্যের ক্ষতির জন্য ব্যবহার করা
৪৮৩
২১৬।
সরকারি কর্মচারীর মার্ক বা চিহ্ন জাল করা
৪৮৪
২১৭।
ট্রেডমার্ক বা সম্পত্তি চিহ্ন জাল করার যন্ত্র প্রস্তুত বা দখলে রাখা
৪৮৫
২১৮।
জাল ট্রেড মার্কবিশিষ্ট পণ্য বিক্রয়
৪৮৬
২১৯।
পণ্যের আধারে মিথ্যা চিহ্ন অংকন
৪৮৭
২২০।
মিথ্যা চিহ্ন ব্যবহারের শাস্তি
৪৮৮
২২১।
ক্ষতিসাধনের জন্য সম্পত্তির চিহ্নে হস্তক্ষেপ
৪৮৯
২২২।
নোট জাল করার যন্ত্র বা সামগ্রী প্রস্তুত করা বা রাখা
৪৮৯গ
২২৩।
শুশ্রূষা করার প্রয়োজনীয় দ্রব্য যোগান দেয়ার চুক্তি ভংগ করা
৪৯১
২২৪।
স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করা
৪৯৪
২২৫।
পূর্ববর্তী বিবাহের কথা গোপন রেখে বিবাহ করা
৪৯৫
২২৬।
প্রতারণামূলকভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা
৪৯৬
২২৭।
ব্যভিচার
৪৯৭
২২৮।
বিবাহিত নারীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া বা আটক রাখা
৪৯৮
২২৯।
মানহানি
৫০০
২৩০।
মানহানিকর বলে বিদিত বস্তু মুদ্রণ বা খোদাইকরন
৫০১
২৩১।
মানহানিকর বিষয়  মুদ্রিত  বা খোদাই করা বস্তু বিক্রয়
৫০২
২৩২।
শাস্তিভঙ্গের প্ররোচনা দানের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান 
৫০৪
২৩৩।
অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন
৫০৬
২৩৪।
বেনামী পত্রযোগে ভীতি প্রদর্শন
৫০৭
২৩৫।
কোন ব্যক্তিকে বিধাতার রোষভাজন হবে এরূপ বিশ্বাস করিয়ে কোন কাজের অনুষ্ঠান
৫০৮
২৩৬।
নারীর শ্লীলতাহানির জন্য কথা, কাজ বা অংগভংগি
৫০৯
২৩৭।
মাতাল ব্যক্তি কর্তৃক প্রকাশ্যে অসদাচরণ
৫১০
ফৌজদারী কার্যবিধি ২য় তফসিলে উল্লেখিত রয়েছে যে,  দন্ডবিধি ব্যতীত অপর কোন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে উক্ত আইনে ভিন্ন কোন বিধান না থাকলে অপরাধটি যদি দুই বছরের কম শাস্তিযোগ্য কিংবা কেবল অর্থদন্ড প্রদানযোগ্য হয়  তবে উক্ত অপরাধটি জামিনযোগ্য হবে। 

Monday, 18 November 2019

বাপ হইয়া আমি নিজেরে কেমনে ক্ষমা করি?



ছুটি কাটায়ে দেশ থেকে আসার তিন মাস পরে জানলাম, আমি নাকি বাপ হবো! ফোনে খবরটা দিতে গিয়ে বউডা আমার লজ্জায় মইরা যাইতেছিলো। ছেলে হইবো নাকি মেয়ে- এই নিয়ে রোজ খুনসুটি করতাম দুইজনে। ইচ্ছা করতো, চাকরি বাকরি সব ফালায়ে এক্ষণই দেশের বিমানে উইঠা বসি, চইলা যাই বউয়ের কাছে।

কিন্ত সেটা করলে তো নতুন মেহমানরে না খেয়ে থাকা লাগবে। কোম্পানীতে বলে রাখলাম ছুটির কথা। তাদের আবার নিয়ম, একবার ছুটি কাটানোর এক বছর পার হওয়ার আগে আবার ছুটি নেয়া যায় না। হিসাব করে দেখলাম, বাচ্চার বয়স দুইমাস হইলে পরে আমি দেশে যাইতে পারব।

জুন মাসে আমার মেয়েটা দুনিয়ার আলো দেখলো, ভিডিও কলে আমিও দেখলাম আমার মায়েরে। দুইটা খাসী আকিকা দিয়া নাম রাখা হইলো লামিয়া। আগস্টের শেষ সপ্তায় দেশে আসবো, ছুটি পাইলাম পনেরো দিনের, বিমানের টিকেটও করা শেষ। মেয়ের জন্যে কি কিনবো, মেয়ের মায়েরে কি উপহার দিব সেই চিন্তায় পেরেশান হয়ে আছি, কারো বুদ্ধিই মনে ধরে না।

ঢাকায় তখন ডেঙ্গু ছড়াইতেছে, হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি। আমি তখনও কিছু জানি না, নিজের চিন্তায় ব্যস্ত। একদিন ফোনে বউ বললো, মেয়েটার নাকি জ্বর দুইদিন ধরে। ডেঙ্গুর কথা মাথায়ও আনি নাই, এই সর্বনাশা ঘাতক যে ঢাকা থেকে এতদূরে গিয়া হাজির হবে, কে জানতো? বউরে বললাম, ডাক্তার দেখাইতে। আরও একদিন গেল, শুনলাম জ্বর নামছে, কিন্ত বাচ্চার খাওয়াদাওয়া বন্ধ, শরীর খুব দুর্বল, কান্নাকাটিও করে না।

একদিন পরে শুনি, আমার মেয়েটার নাকি ডেঙ্গু হইছে, তারে ভর্তি করা হইছে হাসপাতালে! আমার মাথার উপরে যেন গোটা আসমান ভাইঙ্গা পড়লো, দুনিয়াটা ছোট হইয়া আসলো এক মূহুর্তে! দেড়মাসের বাচ্চাটা যখন হাসপাতালে যুদ্ধ করতেসে ডেঙ্গুর সাথে, আমি তখন কাতারে যুদ্ধ করতেসি প্লেনের টিকেট আগায়ে আনার জন্যে।

অফিসে জানাইলাম, ছুটি না আগাইলে আমি চাকরি ছাইড়া দিব। মেয়ের চাইতে দামী কিছু আমার কাছে নাই। তারা রাজী হইলো। তিনদিন পরের টিকেটও ম্যানেজ করে ফেললাম। আর তিন-চারটা দিন পরেই আমি আমার মেয়েটারে কোলে নিতে পারবো! ফোনে খবর পাই, মেয়ের অবস্থা নাকি ভালো না, তারে আইসিইউতে রাখা হইছে। আমার কাছে প্রতিটা মিনিটরে তখন একেকটা দিনের সমান লম্বা মনে হয়!

যেদিন প্লেনে উঠবো, তার আগেরদিন ফোনটা আসলো। মেয়েটা আমার মারা গেছে, ডেঙ্গুর সাথে যুদ্ধ করে কুলায়ে উঠতে পারে নাই মা আমার। ফোনে আমি শুধু বললাম, আমার বউটারে একটু দেখে রাইখেন, আমি আসতেছি। দুইদিন পরে আমি বাড়ির উঠানে পা রাখলাম, ঘর থেকে শুধু আগরবাতির গন্ধ নাকে আসে।

এই বাড়িতে একটা ফুটফুটে ফেরেশতা জন্ম নিছিলো, আমার বাচ্চা, আমার সন্তান। সেই সন্তানরে আমি একটাবারের জন্যে কোলে নিতে পারি নাই, একটু আদর করতে পারি নাই। আমার মেয়েটা দেড়মাস পৃথিবীতে থাকলো, হাসলো, কান্না করলো, রোগে ভুগে দুনিয়া ছেড়ে চইলাও গেল, অথচ একটাবার সে তার বাবার স্পর্শ পাইলো না! বাপ হইয়া আমি নিজেরে কেমনে ক্ষমা করি বলেন?

কাতারে থাকি শুনলে অনেকেই ভাবেন টাকার বিছানায় ঘুমাই বুঝি। আমরা প্রবাসীরা আসলে কষ্টের সাগরে ভাসতে থাকি। কাজের কষ্ট, খাওয়ার কষ্ট, এগুলা তো গায়ে লাগে না। কষ্ট লাগে আপনজনের কাছ থেকে দূরে থাকতে, প্রিয় মানুষগুলার কাছ থেকে হাজার মাইল দূরে থাকার যে কি যন্ত্রণা, সেইটা সবাই বুঝবে না। নিজের সন্তানরে একটাবারও না দেখে তার কবর জেয়ারত করার যে কি কষ্ট, সেইটা কাউরে বলে বুঝানো যাবে না.....

- "প্রবাসে বন্ধু" নামক গ্রুপ থেকে নেয়া

Monday, 2 September 2019

মুজিবের ব্যর্থতা থেকে জন্ম নিলো- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি।

মুজিবের ব্যর্থতা থেকে জন্ম হয় বিএনপি’র
******************************
✍️শামসুল আলম

এক বুক আশা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ গিয়েছিল দেশ স্বাধীন করার যুদ্ধে। একটি স্বপ্নের বাংলাদেশে পাওয়ার আশার লাখ লাখ প্রাণ উৎসর্গ করেছিল। কিন্তু সদ্যস্বাধীন দেশে মানুষ পেয়েছিল ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষ, চুরি ডাকাতি খুন, ব্যাংক ডাকাতি, হাজার হাজার লাশ, লুটতরাজ, পারমিটবাজি, আইনের শাসনহীনতা, পাক মালিকানা থেকে আঙ্গুল উচিয়ে এক ব্যক্তির শাসন- ‘কোথায় আজ সিরাজ সিকদার’। সদ্য স্বাধীন দেশে পাকিস্তান ফেরত শেখ মুজিবকে দেশের মানুষ স্থান দিয়েছিল মাথার ওপরে, অথচ তিনি কেমন করে দেশ স্বাধীন হলো মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ খবর না নিয়েই হয়ে গেলেন প্রেসিডেন্ট! যুদ্ধকালীন সফল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদকে অপসারণ করে নিজেই হয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী! পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগতদের মিলিটারী সহ বিভিন্ন সেক্টরে পূণর্বাসন শুরু করলেন! যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন বলে আশ্বাস এবং হুঙ্কার দেয়ার পর বছর না ঘুরতেই তিনি জেলখানা খালি করে দিয়ে সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন! অন্যদিকে, যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশের দুর্গত জনগনের জন্য বন্ধু দেশ হতে ৫০ লক্ষ টন খাদ্য, হাজার কোটি টাকার নানাবিধ সাহায্য উপকরণ আসলেও পারমিটবাজি ও লুটতরাজ করে চাটারদল খেয়ে ফেলল। সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য ৮ কোটি কম্বল আসলেও মুজিব তাঁর নিজের কম্বলটি খুঁজে পাননি। মানুষ প্রতিবাদ করলো, মুজিব নামিয়ে দিলেন লাল বাহিনী নীল বাহিনী, চারিদিকে যুবকের লাশ পড়ে রইল। কত লাশ? ৩০ হাজার, ৪০ হাজার, নাকি তারও বেশি? তাতেও তার খায়েশ মেটে না, জারী করলেন জরুরী অবস্খা, নামিয়ে দিলেন কুখ্যাত রক্ষী বাহিনী। শেষে খায়েশ হলো – আজীবন ক্ষমতা থাকব- সাংবিধানিক ক্যু করে ১১ মিনিটে জারী করলেন- একদলীয় শাসন বাকশাল! আগস্টের ১৫ তারিখে ঘোষণা করবেন আজীবনের ক্ষমতা!

কেমন ছিল মুজিবের শাসন: বিদেশী পত্রপত্রিকা কি বলে?

১৯৭৪ সালের ৩০ শে মার্চ গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখেছিল,__________ “আলীমুদ্দিন ক্ষুধার্ত। সে ছেঁড়া ছাতা মেরামত করে। বলল, যেদিন বেশী কাজ মেলে, সেদিন এক বেলা ভাত খাই। যেদিন তেমন কাজ পাই না সেদিন ভাতের বদলে চাপাতি খাই। আর এমন অনেক দিন যায় যেদিন কিছুই খেতে পাই না।” তার দিকে এক নজর তাকালে বুঝা যায় সে সত্য কথাই বলছে। সবুজ লুঙ্গির নীচে তার পা দু'টিতে মাংস আছে বলে মনে হয় না।
ঢাকার ৪০ মাইল উত্তরে মহকুমা শহর মানিকগঞ্জ। ১৫ হাজার লোকের বসতি। তাদের মধ্যে আলীমুদ্দিনের মত আরো অনেকে আছে। কোথাও একজন মোটা মানুষ চোখে পড়ে না। কালু বিশ্বাস বলল, “আমাদের মেয়েরা লজ্জায় বের হয় না-তারা নগ্ন।” আলীমুদ্দিনের কাহিনী গোটা মানিকগঞ্জের কাহিনী। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাহিনী, শত শত শহর বন্দরের কাহিনী। এ পর্যন্ত বিদেশ থেকে ৫০ লাখ টনেরও বেশী খাদ্যশস্য বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু যাদের জন্য পাঠানো হয়েছে তারা পায়নি।”

১৯৭৪ সালের ২৭ সেপ্টম্বর তারিখে লন্ডনের নিউ স্টেট্সম্যান লিখেছিল__________
“বাংলাদেশ আজ বিপদজনক ভাবে অরাজকতার মুখোমুখি। লাখ লাখ লোক ক্ষুধার্ত। অনেকে না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে। .. ক্ষুধার্ত মানুষের ভীড়ে ঢাকায় দম বন্ধ হয়ে আসে।.. বাংলাদেশ আজ দেউলিয়া। গত আঠার মাসে চালের দাম চারগুণ বেড়েছে। সরকারি কর্মচারিদের মাইনের সবটুকু চলে যায় খাদ্য-সামগ্রী কিনতে। আর গরীবরা থাকে অনাহারে। কিন্তু বিপদ যতই ঘনিয়ে আসছে শেখ মুজিব ততই মনগড়া জগতে আশ্রয় নিচ্ছেন। ভাবছেন, দেশের লোক এখনও তাঁকে ভালবাসে; সমস্ত মুসিবতের জন্য পাকিস্তানই দায়ী। দেশ যখন বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে,তখনও তিনি দিনের অর্ধেক ভাগ আওয়ামী লীগের চাঁইদের সাথে ঘরোয়া আলাপে কাটাচ্ছেন। .. তিনি আজ আত্মম্ভরিতার মধ্যে কয়েদী হয়ে চাটুকার ও পরগাছা পরিবেষ্টিত হয়ে আছেন।.. সদ্য ফুলে-ফেঁপে ওঠা তরুণ বাঙালীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের শরাবখানায় ভীড় জমায়। তারা বেশ ভালই আছে। এরাই ছিল মুক্তিযোদ্ধা- বাংলাদেশের বীর বাহিনী। .. এরাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের বাছাই করা পোষ্য। আওয়ামী লীগের ওপর তলায় যারা আছেন তারা আরো জঘন্য। .. শুনতে রূঢ় হলেও কিসিঞ্জার ঠিকই বলেছেনঃ “বাংলাদেশ একটা আন্তর্জাতিক ভিক্ষার ঝুলি।”

১৯৭৪ সালে ১৮ অক্টোবর বোষ্টনের ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটরে ডানিয়েল সাদারল্যান্ড লিখেছিলেন,__________“গত দুই মাসে যে ক্ষুধার্ত জনতা স্রোতের মত ঢাকায় প্রবেশ করেছে, তাদের মধ্যে সরকারের সমর্থক একজনও নেই! বন্যা আর খাদ্যাভাবের জন্য গ্রামাঞ্চল ছেড়ে এরা ক্রমেই রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তির আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু মনে হচ্ছে সরকার এদেরকে রাজপথের ত্রিসীমানার মধ্যে ঢুকতে না দিতে বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যককে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সারাদিন দুই এক টুকরা রুটি খেতে পাওয়া যায, মাঝে মাঝে দুই-একটা পিঁয়াজ ও একটু-আধটু দুধ মেলে। ক্যাম্পে ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। “যে দেশে মানুষকে এমন খাঁচাবদ্ধ করে রাখা হয় সেটা কি ধরনের স্বাধীন দেশ”- ক্রোধের সাথে বলল ক্যাম্পবাসীদেরই একজন।

১৯৭৪ সালে ৩০ অক্টোবর লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় পিটার প্রেসটন লিখেছিলেন,__________“এই সেদিনের একটি ছবি বাংলাদেশের দৃশ্যপট তুলে ধরেছে। এক যুবতি মা -তার স্তন শুকিয়ে হাঁড়ে গিয়ে লেগেছে, ক্ষুধায় চোখ জ্বলছে - অনড় হয়ে পড়ে আছে ঢাকার কোন একটি শেডের নীচে, কচি মেয়েটি তার দেহের উপর বসে আছে গভীর নৈরাশ্যে। দু’জনাই মৃত্যুর পথযাত্রী। ছবিটি নতুন, কিন্তু চিরন্তন। স্বাধীনতার পর থেকে ঢাকা দুনিয়ার সবচেয়ে বীভৎস শহরে পরিণত হয়েছে-কলিকাতার চেয়েও! সমস্ত বীভৎসতা সত্ত্বেও কোলকাতায় ভীড় করা মানুষের যেন প্রাণ আছে, ঢাকায় তার কিছুই নাই। ঢাকা নগরী যেন একটি বিরাট শরাণার্থী-ক্যাম্প।

১৯৭৪ সালে ২রা অক্টোবর, লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় জেকুইস লেসলী লিখেছিলেন,__________“একজন মা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে, আর অসহায় দৃষ্টিতে তার মরণ-যন্ত্রণাকাতর চর্মসার শিশুটির দিকে তাকিয়ে আছে। বিশ্বাস হতে চায় না, তাই কথাটি বোঝাবার জন্য জোর দিয়ে মাথা নেড়ে একজন ইউরোপীয়ান বললেন, সকালে তিনি অফিসে যাচ্ছিলেন, এমন সময় এক ভিখারি এসে হাজির। কোলে তার মৃত শিশু। ..বহু বিদেশি পর্যবেক্ষক মনে করেন বর্তমান দুর্ভিক্ষের জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী। “দুর্ভিক্ষ বন্যার ফল ততটা নয়, যতটা মজুতদারী চোরাচালানের ফল”- বললেন স্থানীয় একজন অর্থনীতিবিদ।.. প্রতি বছর যে পরিমান চাউল চোরাচালন হয়ে (ভারতে) যায় তার পরিমাণ ১০ লাখ টন।”

১৯৭৪ সালের ২৫ অক্টোবর হংকং থেকে প্রকাশিত ফার ইষ্টার্ণ ইকনমিক রিভিয়্যূ পত্রিকায় লরেন্স লিফথসুলজ লিখেছিলেন,__________সেপ্টেম্বর তৃতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করে চাউলের দাম মণ প্রতি ৪০০ টাকায় উঠে গেল। অর্থাৎ তিন বছরে আগে স্বাধীনতার পূর্বে যে দাম ছিল, এই দাম তার দশ গুণ! এই মূল্যবৃদ্ধিকে এভাবে তুলনা করা যায় যে, এক মার্কিন পরিবার তিন বছর আগে যে রুটি ৪০ সেন্ট দিয়ে কিনেছে, তা আজ কিনছে ৪ পাউন্ড দিয়ে। কালোবাজারী অর্থনীতির কারসাজিতেই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।.. ২৩শে সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে শেখ মুজিব ঘোষণা করলেন, “প্রতি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪,৩০০ লঙ্গরখানা খোলা হবে।" প্রতি ইউনিয়নের জন্য রোজ বরাদ্দ হল মাত্র দু’মন ময়দা, যা এক হাজার লোকের প্রতিদিনের জন্য মাথাপিছু একটি রুটির জন্যও যথেষ্ট নয়!”

নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা ১৯৭৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর তারিখে লিখেছিল,__________
জনৈক কেবিনেট মন্ত্রীর কথা বলতে গিয়ে একজন বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ বললেন, “যুদ্ধের পর তাঁকে (ঐ মন্ত্রীকে) মাত্র দুই বাক্স বিদেশি সিগারেট দিলেই কাজ হাসিল হয়ে যেত, এখন দিতে হয় অন্ততঃ এক লাখ টাকা!” ব্যবসার পারমিট ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য আওয়ামীলীগারদের ঘুষ দিতে হয়। সম্প্রতি জনৈক অবাঙ্গালী শিল্পপতি ভারত থেকে ফিরে আসেন এবং শেখ মুজিবের কাছ থেকে তার পরিত্যক্ত ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানাটি পুণরায় চাল করার অনুমোদন লাভ করেন। শেখ মুজিবের ভাগিনা শেখ মনি -যিনি ঐ কারখানাটি দখল করে আছেন- হুকুম জারি করলেন যে তাকে ৩০ হাজার ডলার দিতে হবে। শেখ মুজিবকে ভাল করে জানেন, এমন একজন বাংলাদেশী আমাকে বললেন, “লোকজন তাকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করুক, এটা তিনি পছন্দ করেন। তাঁর আনুগত্য নিজের পরিবার ও আওয়ামী লীগের প্রতি। তিনি বিশ্বাসই করেন না যে, তারা দুর্নীতিবাজ হতে পারে কিংবা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে!”

প্রখ্যাত তথ্যানুসন্ধানী সাংবাদিক জন পিলজার ১৯৭৪ সালের ১৭ই ডিসেম্বর লন্ডনের ডেইলী মিরর পত্রিকায় লিখেছেন,__________“একটি তিন বছরের শিশুকে এত শুকনো যে মনে হল যেন মায়ের পেটে থাকাকালীন অবস্থায় ফিরে গেছে। আমি তার হাতটা ধরলাম। মনে হল তার চামড়া আমার আঙ্গুলে মোমের মত লেগে গেছে। এই দুর্ভিক্ষের আর একটি ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান এই যে, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫০ লাখ মহিলা আজ নগ্ন দেহ! পরিধেয় বস্ত্র বিক্রি করে তারা চাল কিনে খেয়েছে।”

লন্ডনের “ডেইলী টেলিগ্রাফ” ১৯৭৫ সালের ৬ই জানুয়ারী ছেপেছিল,__________“গ্রাম বাংলায় প্রচুর ফসল হওয়া সত্ত্বেও আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম গত মাসে ঢাকার রাস্তা, রেল স্টেশন ও হাসাপাতালগুলোর মর্গ থেকে মোট ৮৭৯টি মৃতদেহ কুড়িয়ে দাফন করেছে। এরা সবাই অনাহারে মরেছে। সমিতিটি ১৯৭৪ সালের শেষার্ধে ২৫৪৩টি লাশ কুড়িয়েছে- সবগুলি বেওয়ারিশ। এগুলোর মধ্যে দেড় হাজারেরও বেশী রাস্তা থেকে কুড়ানো। ডিসেম্বরের মৃতের সংখ্যা জুলাইয়ের সংখ্যার সাতগুণ।.. শেখ মুজিবকে আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বোঝা বলে আখ্যায়িত হচ্ছে। ছোট-খাটো স্বজনপ্রাতির ব্যাপারে তিনি ভারী আসক্তি দেখান। ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া বাকী পড়ে থাকে।.. অধিকাংশ পর্যবেক্ষকদের বিশ্বাস, আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকট রোধ করার কোন সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম এ সরকারের নেই। রাজনৈতিক মহল মনে করেন, মুজিব খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বুনিয়াদ আরও নষ্ট করে দেবেন। তিনি নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছেন। ডেইলী টেলিগ্রাফের আশংকা সত্য প্রমাণিত হয়েছিল। শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। জরুরী অবস্থা জারি করেছেন, আরো বেশী ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন। অবশেষে তাতেও খুশি হননি, সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে তিনি একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। আওয়ামী লীগ যাকে নিয়ে গর্ব করে, এ হলো তার অবদান”। (বিদেশী পত্রিকাগুলির অনুবাদ সূত্র: দ্য স্টোরি অব বাংলাদেশ)

এভাবেই মুজিব ধীরে ধীরে মানব থেকে দানবে রূপান্তরিত হলেন। জাতির ঘড়ে চেপে বসলেন জগদ্দল পাথরের মতো। দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে যে সৈনিকেরা একদিন যুদ্ধে গিয়েছিল, তাদেরই একটি দল স্বৈরাচার মুজিবকে অপসারণ করে তারই নিজ দলীয় নেতাদের পরিকল্পনায়। দেশে আসে সেনা শাসন। দেশের প্রয়োজনে বিশৃঙ্খল মিলিটারীকে শৃঙ্খলায় ফিরাতে সক্ষম হন জেনারেল জিয়া। সময়ের দাবীতে ধংসপ্রাপ্ত দেশ উদ্ধারে জনগন নিয়ে সামনে এগিয়ে চললেন রাষ্ট্রপতি জিয়া- হাতে ১৯ দফা। গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। বিভিন্ন মত পথের মানুষকে একটি প্লাটফর্মে এনে তলানী থেকে দেশ উদ্ধার করে পূণর্গঠনে নেমে পড়লেন এবং সফল হলেন। মুজিবের ব্যর্থতা থেকে জন্ম নিলো- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি।

Sunday, 11 August 2019

ঈদ-দুরন্ত শৈশব : স্মৃতির ঝাঁপি থেকে কিছু কথা।

ঈদ-দুরন্ত শৈশব : স্মৃতির ঝাঁপি থেকে কিছু কথা।

 ঈদ
বাঙালি জীবনাচরণের অন্যতম একটি অনুসঙ্গ উৎসব এবং ভাতৃত্ববোধের দিন।
হাজার বছরের বাঙালি মুসলমানের এক অবিচ্ছেদ্য সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় প্রথা। কালের বিবর্তনে কিংবা বিশ্বায়নের প্রভাবে হয়তো আগের মতো ভাব গাম্ভীর্যের সাথে পালন করা হয়না। কিন্তু এই উৎসবটির বিশালতা এবং প্রভাব এতটুকু কমেনি।
গ্রামে বেড়ে উঠেছি আমি। ডানপিঠে শৈশবের দিনগুলো ছিল দুরন্ত আনন্দময় এবং নিষ্কণ্ঠক। সারা বছর অপেক্ষায় থাকতাম কখন ঈদ আসবে কখন নতুন জামা কাপড় কিনবো। কুরবানীর ঈদে অপেক্ষায় থাকতাম গরু কেনার জন্য। আমার মা বলতেন রমজানের দুই মাস দশদিন পর কুরবানী আসবে। তারপর থেকে শুধু দিন গূনতাম কখন ঈদ আসবে চাচার সাথে বাজারে গিয়ে গরু কিনবো। কত অপেক্ষা কত প্রস্তুতি।

আমার শৈশব কৈশোরের দুরন্ত দিনগুলোতে মনে হতো ঈদ মানে বিশাল কিছু। ঈদের প্রস্তুতি শুরু হতো অনেক আগে থেকেই। কুরবানীর জন্য আমার বাবা টাকা পাঠাতেন পনেরো বিশ দিন আগেই। ড্রাফট করে টাকা পাঠাতেন সৌদি আরব থেকে। রেজিষ্টারী চিঠি নিয়ে বাড়িতে ডাক পিয়ন আসা মানেই ড্রাফট এসেছে বলে ধারণা করা হতো। পিয়নকে দশ বিশ টাকা দেয়া হতো চা পানি খাওয়ার জন্য। এখন জীবন অনেক সহজ পাঁচ মিনিটে টাকা পাওয়া যায় পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে। কিন্তু আমার বাবার পাঠানো সেই ড্রাফট সাথে পুত্রের প্রতি উপদেশমূলক চিঠির বিষয়বস্তু আজো আমাকে কর্তব্যপরায়ণ এবং নিষ্ঠাবান হওয়ার শিক্ষা দেয়। সততার ছিটেফোঁটাও যদি থাকে তবে সেটি পেয়েছি মা বাবার কাছ থেকে।

কয়েকটি পরিবার মিলে একসাথে কুরবানী করা হতো। আর্থিক সামর্থের কথা বিবেচনা করেই এটা করা হতো। মুরুব্বীরা বলতো "এবারে হাঁচ গিরি মিলি কোরবান দিমু" অর্থাৎ পাঁচ পরিবার মিলে একটি গরু কেনা হবে কুরবানীর জন্য। তারপর পাঁচ পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গরু কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হতো।

গরু কেনার জন্য বাজারে যাওয়া ছিল রীতিমতো এক উৎসব। আমার চাচার সাথে বাজারে যেতাম যাওয়ার সময় আমার মা কিছু টাকা দিতেন বুট কিংবা চানাচুর খাওয়ার জন্য। কোথাও যেতে গেলে মা অতিরিক্ত কিছু টাকা দিতেন এবং বলে দিতেন "খরচ করিসনা এই টাকা যদি বিশেষ দরকার না হয়।"

গরু বাজারে গিয়েই আমার চাচা প্রথমে চা খেতেন। তারপর আস্তে আস্তে গরু দেখতেন। গরুর লেজ ধরে, গরুর গায়ে থাপ্পড় মেরে এবং লেজ মোচড় দিয়ে "ভালো গরু" পরখ করতেন। গরু বাজারের দালাল সম্পর্কে তিনি সবসময় সতর্ক থাকতেন। তিনি যে গরুর সামনে থাকতেন সেই গরু যদি অন্য কেউ দরকষাকষি করতো তাহলে তিনি সেই গরু কিনতেননা। তিনি বলতেন এই লোকটি গরু বিক্রেতার নিয়োগ করা দালাল। আমরা ছোটরা বলতাম চাচা অত্যন্ত বুদ্ধিমান। অতঃপর গরু কেনার বাড়িতে আসতাম। ছোটরা সবাই মিলে গরুর যত্নআত্তি নিতাম। কেউ ঘাস এনে দিচ্ছে,কেউ খড়, কেউবা ভাতের মাড়। চোরের ভয়ে উঠোনে গরু বাঁধা হতো রাতে বেশ কয়েকবার উঠে দেখতাম গরু আছে কিনা। বড়দের কাছে শুনেছিলাম ঈদের আগের রাতে বিশ/ত্রিশ বছর আগে আমাদের এলাকায় একবার গরু চুরি হয়েছিল। তাই এমন সতর্কতা।

ঈদের দুই তিন দিন আগে গরু কেনা হলে জবাই করার আগ পর্যন্ত সারাক্ষন আমরা গরুর সাথেই থাকতাম। বাড়ীর অন্য চাচাতো ভাইদের সাথে "কার গরু বড় কিংবা কার গরু ছোট" তা নিয়ে তর্কে লিপ্ত হতাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে ছাই দিয়ে দাঁত মাজতাম পুকুর পাড়ে, সেখানে অন্য সব চাচাতো ভাইদের সাথে আলাপ হতো কোরবানী নিয়ে। কোরবানী শেষ না হওয়া পর্যন্ত পড়ালেখায় আর মনোযোগ নেই। সারাক্ষন কোরবানী নিয়ে আলাপ আলোচনা, ছুরিতে শান দেয়া,গরুর শিং সংগ্রহ করা কিংবা গরুর কান্না বিষয়ে নিরন্তর আলোচনা।
একবার এক চাচাতো ভাই বলেছিলো গরুর চামড়া দিয়ে নাকি ঢোল বানানো যায়। ঢোল বানানোর লক্ষ্যে একবার গরুর মাথার চামড়া লবণ দিয়ে মাটিতে পুঁতে রেখেছিলাম। ঢোল আর বানানো হয়নি চামড়া পঁচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায়।

ঈদের দিন খুব সকালে উঠতাম। মায়ের বানানো নাস্তা খেয়ে ঈদগাহে ছুটতাম। নামাজে আমাদের মনোযোগ ছিলোনা। কখন গরু জবাই হবে সেই অপেক্ষায় থাকতাম। নামাজ শেষ করেই কবর জেয়ারত তারপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আমরা মাঝে মাঝে রশি টেনে ধরতাম গরুকে শোয়ানোর প্রচেষ্টায়। চিৎকার চেঁচামেচি তে অন্যরকম এক আবহ তৈরী হতো। মাংস কাটাকুটিতে বড়দের সাহায্য করা ছিল আমাদের কাজ। মাংস ভাগ হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ জবাইয়ের পর পরই কলিজা বন্টন করে দেয়া হতো। কে কার আগে গরুর কলিজা খেয়েছে তাই নিয়ে প্রতিযোগিতা হতো।

ঈদের দিনের অন্যতম আকর্ষণ বিটিভির অনুষ্ঠান। বাংলা সিনেমা নাটক এবং ইত্যাদি ছিল আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু।

আমার মায়ের হাতের রান্না অমৃতসম। পৃথিবীর সব সন্তানের কাছে এমন মনে হয়ে। আমার মা মাংস রান্না করে রাখতেন আমি কিছুক্ষন পর পর এসে এক টুকরো নিয়ে দৌঁড়ে আবার খেলতে যেতাম। আমার মা বলতেন "বৈ খা, এতো সুরভা খাছ কিল্লাই গোস্ত খা।" অর্থাৎ বসে খাও, ঝোল খেয়োনা মাংস খাও।

 বিকেলে নানা বাড়ী কিংবা খালার বাড়ী যাওয়া ছিল অন্যতম আনন্দের বিষয়। যাওয়ার সময় আমার মা টিফিন ক্যারিয়ারে চালের পিঠা এবং মাংস দিতেন। এই টিফিন ক্যারিয়ার আবার ফুফু, খালা এবং মামীরা রেখে দিতেন। পরদিন মামাতো ভাই, খালাতো ভাই কিংবা ফুফাতো ভাইয়েরা মাংস্ এবং পিঠা ভর্তি করে নিয়ে আসতেন। এসব রীতিনীতি গুলো প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। কৃত্রিমতা লোক দেখানো লৌকিকতায় ভরে গেছে মানুষের মন। খালা,ফুফুদের অনেকেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে ভালোবাসার মানুষগুলো।

দূর প্রবাসে ঈদের দিন ঈদ বলে মনে হয়না। কোনোকোনো ঈদের দিন কাজ থাকে। সকালে ঈদের নামাজ পরে কর্মের উদ্দেশ্যে আবার ছুটে চলা। ছুটে চলেছে হাজারো মানুষ।তবুও আমার মন পড়ে থাকে নিজের শিকড়ে নিজের অস্তিত্বে।
প্রিয় মানুষদের মুখে হাসি দেখতে এখন ভালো লাগে। নিজের জন্য কিছু কিনতে ইচ্ছে হয়না বরং আমার অর্জিত অর্থে ভালোবাসার মানুষেরা সুখে আছে ভাবতেই অদ্ভুত এক ভালোলাগায় আবিষ্ট হয় মন প্রাণ। এ যেন স্বর্গীয় এক বন্ধন।
আলোর শহর ভালোবাসার শহর কিছুই আমাকে টানেনা। মন পাখি পরে থাকে ছাপান্ন হাজার বর্গ মাইলের কোনো এক গ্রামে।  প্রিয় মানুষদের দেখার আকুলতা আমার ফুরোয়না, মনে হয়না কখনো ফুরাবে।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত্রী দ্বিপ্রহর আরেকটি নতুন সকাল উদিত হওয়ার হাতছানি, ফরাসি দেশ আমাকে দুই হাত ভরে দিয়েছে অর্থ-প্রাচুর্য তবুও বুকের কোথায় জানি শূন্য অনুভূত হয়। তবু কার লাগিয়া মন পোড়ে ?

কায়মনোবাক্যে আমার কামনা পৃথিবীর সব মানুষ ভালো থাকুক।

ঈদ মুবারক

Paris
11 sunday2019

Wednesday, 3 July 2019

এদেশের মধ্যবিত্ত সমাজটা পঁচে গেছে। ——Taifur Rahman

এদেশের মধ্যবিত্ত সমাজটা পঁচে গেছে। একটা সময় এই মধ্যবিত্ত সমাজটাই এদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতির মেরুদন্ড হিসেবে কাজ করতো।  এই মধ্যবিত্ত সমাজই বায়ান্ন এ ভাষার অধিকারের দাবীতে রাস্তায় নেমেছিল, ৬৯ এ স্বৈরাচার আয়ুবের বিরুদ্ধে লড়েছিল, একাত্তুরে এই মধ্যবিত্তরাই যুদ্ধে গিয়েছিল…৯০ তে এই মধ্যবিত্তরাই সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে নেমেছিল। সেই মধ্যবিত্ত শ্রেনিটি এই সময়ে এসে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়েছে, একসময় মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা রাজনীতি চর্চা করতো। তারাশঙ্কর, শরত চন্দ্র, হুমায়ুন আহমেদ কিংবা জীবনানন্দ দাশ পড়তো। আর এখনকার মধ্যবিত্ত নারীদের ভোর হয়  পার্লারে গিয়ে মেডিকিউর, পেডিকিউর আর ভ্রু প্লাগ করা চিন্তায়, সন্ধ্যে কাটে হিন্দি সিরিয়ালে বুঁদ হয়ে…!! আগের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পুরুষরা ভাবতো রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে, প্রযুক্তির আকালেও তারা বিবিসি বাংলা খবর শুনতে জড়ো হতো পাড়ার মাতবরের দেউরী তে। চা এর টেবিলে, অফিসের ক্যান্টিনে চলতো শ্রেণিবাদ, মৌলিক অধিকার, রাজনীতির বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, কনজিউমারিজম আর  গণতন্ত্র ও সমাজ তন্ত্রের মধ্যকার পক্ষে বিপক্ষের কথার লড়াই, মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবকেরা বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ক্যাম্পাসে শুধু পড়তে যেতনা, তারা লড়তেও যেত…তারা লড়তো নিজের ব্যক্তিগত জীবনের চাওয়া পাওয়ার সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় নাগরিক চাহিদার দাবীতেও। তারা প্রেম, কবিতা, প্রকৃতির পাশাপাশি সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, রাজনীতি আর শাসিত ও শোষিতদের নিয়ে ভাবিত হত। বায়ান্ন'এর রফিক জব্বার কিংবা সালামরা কেউ সোনার চামুচ মুখে নিয়ে  জন্মায়নি, কিংবা মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করাদের ৯৮ভাগের  একে আজাদের মত তত্কালে শত ডলারে এলভিস প্রিসলি গানের এ্যালবাম কেনার সামর্থ ছিলনা।কীংবা নব্বই এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নামা যুবকদের কারো তত্কালে টয়োটা, প্রাডো কেনার সামর্থ ছিলনা কিন্তু ছিল গণতন্ত্র লাভের অধীর আগ্রহ। এরা সবাই ছিল সাধারণ মধ্যবিত্ত বা নিন্ম মধ্যবীত্ত ঘরের সন্তান। কিন্তু হায়! সে মধ্যবিত্ত শ্রেণিটি ঢুবে গেছে এই একুশ শতকে। প্রযুক্তির বাহুল্য এখন তাদের রাষ্ট্রচিন্তার দিকে ধাবিত করেনা। এদেশের মধ্যবিত্তরা এখন উত্সব বুঝে, ভোগ বুঝে, শ্রেণি বুঝে, লাভ-ক্ষতি বুঝে…তারা সবই বুঝে, সবই জানে বুঝেনা শুধু  রাষ্ট্রীয় লাভ-ক্ষতি টা, জানেনা ব্যক্তিগত ত্যাগ কী…তাই এক সময়কার স্বাধীণচেতা, রাজনীতি ভাবাপন্ন মধ্যবিত্ত সমাজটি মহান স্বৈরাচারী আমলটাকেও ভীষণ উপভোগ  করছেন। আগামীতেও করতে থাকবেন…

21Feb, 2016