Monday, 26 January 2026
রিফিউজি অথবা সাবসিডিয়ারী ষ্ট্যাটাসদারিদের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে যাওয়া প্রসঙ্গ
রিফিউজি অথবা সাবসিডিয়ারী ষ্ট্যাটাসদারিদের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে যাওয়া প্রসঙ্গ :
অনেকে সফ-কঁন্দুই'পদ্ধতিতে অনুমতি নিয়ে দেশে যাওয়ার জানতে চেয়ে মেসেজ দেন। এবার সফ-কঁন্দুই সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। Sauf-conduit এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে 'সরকারি রক্ষাপত্র', যার অর্থ অনেকটা দাড়ায় ফ্রান্স সরকার আপনার নিরাপত্তার প্রদান করবে। আপনি যখন এই দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পান তখন থেকে আপনার সর্বক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব ফ্রান্স সরকারের,
রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় আপনি যখন ন
Sauf-conduit নিয়ে স্বদেশে যাবেন, তখনও আপনার বাংলাদেশে কোন প্রকার ক্ষতি হলে ফ্রান্স সরকার দায়ী থাকবে। কারণ আপনি ফ্রান্সের সুরক্ষার অধীনে আছেন।
বিশেষ প্রয়োজনে অনেকেই Sauf-conduit আবেদন করতে চান। আবেদন করার সময় যে সকল ডকুমেন্টস লাগবে তার একটা ধারণা দিচ্ছি। এক নজরে দেখে নিন:
(১৮বছর উদ্ধ এডাল্টদের ক্ষেত্রে )
1. Lettre de motivation précisant les raisons de la demande et le voyage envisagé avec copie de tous les documents justifiant du motif humanitaire invoqué (acte de décès d’un proche, bulletins d’hospitalisation, ...), de vos billets d’avion (ou réservations durant votre séjour), les précisions sur les pays de transit
2. Votre carte de séjour en cours de validité
3. Votre titre de voyage pour réfugié
4. Justificatif de domicile (quittance EDF ou téléphone)**
5. Attestation sur l’honneur que la préfecture vous a informé(e) qu’il vous appartient d’apprécier les risques
encourus en cas de retour dans votre pays d’origine
6. 3 photographies d’identité (de face et tête nue)
7. Timbresfiscaux:15€+6€
*১৮বছরের নিচে মাইনরদের ক্ষেত্রে:
1. Lettre de motivation précisant les raisons de la demande et le voyage envisagé avec copie de tous les documents justifiant du motif humanitaire invoqué (acte de décès d’un proche, bulletins d’hospitalisation, ...), de vos billets d’avion (ou réservations durant votre séjour), les précisions sur les pays de transit
2. Carte de séjour des deux parents
3. Titre de voyage pour réfugié de l’enfant
4. Titre d’identité républicain (TIR) ou Document de circulation (DCEM) de l’enfant s’il en possède un
5. Justificatif de domicile (quittance EDF ou téléphone)**
6. Attestation sur l’honneur que la préfecture vous a informé(e) qu’il appartient aux tuteurs légaux d’apprécier les
risques encourus en cas de retour de l’enfant dans son pays d’origine
7. Acte de naissance intégral récent
8. Certificat administratif de l’OFPRA
9. 3 photographies d’identité (de face et tête nue)
10. Timbres fiscaux : 15 € + 6 €
LISTE DES PIECES A FOURNIR POUR OBTENIR LE SAUF CONDUIT
Délai minimum d’instruction à réception du dossier complet : 1 mois
Présentez vous personnellement (le mineurs doit être accompagné de ses deux parents) à la préfecture – pré- accueil n° 1 – la semaine avant votre départ, pour y échanger vos carte de séjour, TIR/DCEM et titre de voyage contre le sauf conduit.
* কোথায় আবেদন করবেন : আপনি যে প্রিফেকচুরের অধীনে বসবাস করেন সেখানে। Préfecture অফরার সাথে যোগাযোগ করবে।
* আবেদন করার পরে প্রিফেকচুর সিদ্বান্ত নিবে আপনাকে Sauf-conduit দেয়া হবে নাকি হবে না। দেয়ার সংখ্যা অনেক কম। নিকট আত্মীয়ের সিরিয়াস অসুস্থতা বা মৃত্যুতে অনেক সময় দেয়া হয়ে থাকে।
*এটি নিয়ে সর্বোচ্চ ৩ মাস আপনি অবস্থান করতে পারবেন।
দেশে থাকা অবস্থায় যদি আপনার নিরাপত্তাজনিত ক্ষতি হয় তার দায়দায়িত্ব একান্ত আপনার।
* Sauf-conduit দেয়ার সাথে সাথে অনেক সময় সিজুর এবং রিফুজি পাসপোর্ট তারা জমা রেখে দিবে। আপনি ফিরে আসার পরে আবার দিয়ে দিবে।( A votre retour en France : il vous appartiendra de vous représenter en Préfecture avec une copie de votre sauf conduit pour récupérer vos documents)
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা জমা নাও রাখতে পারেন।
* Sauf-conduit যাবার সময় সাধারণত কোনো প্রব্লেম হয়না কিন্তু আসার সময় কিছু কিছু এয়ারলাইন্স প্রব্লেম সৃষ্টি করে। বোডিং পাস দিতে চায়না। কিছু কিছু অসাধু লোক এই দুর্বলতার সুযোগে বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে অর্থ দাবি করতে পারে।
*Sauf-conduit নিয়ে আসার সময় ফ্রেঞ্চ এয়ারপোর্টে কোনো ঝামেলা করে না কিন্তু আসার সময় বাংলাদেশে করতে পারে আবার নাও করতে পারে।
*উপসংহার : একান্ত বাধ্য না হলে Sauf-uconduit নিয়ে না যাওয়ায় ভালো।
বিশেষ নোট : স্থান কাল ভেদে নিয়মের ভিন্নতা ও থাকতে পারে
Friday, 23 January 2026
দিল্লীর হেজিমনিকে হাল্কা করে দেয়ার জন্য পিন্ডির নাম টেনে আনা শঠতা, চালাকি।
পিন্ডিতে কেউ পালায় নাই বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে। দিল্লীতে তো চোখের সামনেই একটা পুরা দল পালিয়ে আছে। কিন্তু পিন্ডি কোনোভাবেই দিল্লীর সমপর্যায়ের তো নয়, ইভেন সেরকমভাবে প্রাসংগিকও না স্বাধীনতার পর থেকে আর।
যাদেরকে ইংগিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, সেই দলের নেতাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে ঝাঁকে ঝাঁকে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, অষ্ট্রেলিয়াতে আছে। কিন্তু পাকিস্তানে আসলে কেউই নাই।
তার উপর জিওগ্রাফিক্যালি দেখলে পাকিস্তানের আসলে এদেশের উপর প্রাধান্য বিস্তারের কোনো সুযোগও নাই। তারা আমার দেশের অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে মরুভূমি বানাতে পারে না। ট্রানজিটের নামে ট্যাক্সবিহীন চলাচল আর করিডোর নিতে পারে না। আমাদের দেশে গ্রেফতার বা গুমকৃত লোকজন, যেমন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন সাহেব বা সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির মত কাউকে পাকিস্তানে পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে ভারতের কারাগারে। আমাদের দেশটাকে তাদের পণ্যের বাজার একতরফাভাবে বানিয়েছে ভারত, পাকিস্তান না। আমাদের সাথে হিউজ বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের, পাকিস্তানের না। আমাদের টেক্সটবুক চেইঞ্জ করতে চেয়েছে একতরফাভাবে ভারত, পাকিস্তান না। আমাদের দেশের নির্বাচনে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ করে, গুম খুনের উপর একজনকে স্বৈরাচার হওয়ার সাপোর্ট দিয়েছে ভারত, বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটাইছে ভারত। পাকিস্তান এরকম বা কাছাকাছি স্কেইলের কিছু করার সাধ্য রাখে? রাখে না, ইভেন গত ৩০ বছর এমন উদাহরণও নেই। এই কারনে পিন্ডি আমাদের স্বাধীনতার জন্য থ্রেট না।
উদাহরন শত শত দেয়া যাবে।
কিন্তু এরপরও দিল্লীর সাথে পিন্ডির নাম কেন নেয়া হয় জানেন? এইটার উদ্দেশ্য দিল্লীর হেজিমনিকে একটু সফট বাইনারিতে ফেলে ব্যালেন্স করে দেখানো। এতে শুধুমাত্র দিল্লীর পারপাসই সার্ভড হয় আর কিছু নয়। কারন, এদেশে অন্য কারো হেজিমনি প্রব্লেম না এই মূহুর্তে। ১০০% প্রব্লেম হচ্ছে ইন্ডিয়ান হেজিমনি। এদেশের জনগণের সত্যিকার স্বাধীনতার জন্য এই মূহুর্তের বাধা ভারত।
ভারত চায় না এদেশ তুর্কির সাহায্যে ড্রোন ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করুক, ভারত চায় না আমরা তুর্কিয়ের সাথে ৬০০ মিলিয়ন ডলার এর মিলিটারি ডিল করি, ভারত চায় না এদেশ JF17C থান্ডার জেট কিনে এয়ার ডিফেন্স স্ট্রং করুক। ভারত চায় না, আমাদের তিস্তা প্রজেক্ট চীন বাস্তবায়ন করুক, যাতে করে ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের দেশে আর বন্যা না হয়। ভারত চায় না পদ্মা ব্যারেজ হোক, ভারত চায় না, লালমনিরহাটে এয়ার ফিল্ড রেনোভেইটেড হোক। ভারতের চাওয়ার লিস্ট এরকম শত শত এবং সবগুলা এদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে।
সো, দিল্লীর হেজিমনিকে হাল্কা করে দেয়ার জন্য পিন্ডির নাম টেনে আনা শঠতা, চালাকি।
আমাদের শ্লোগান শহীদ হাদির শ্লোগান।
দিল্লী না ঢাকা?
ঢাকা ঢাকা।।
___________________________________________
𝐑𝐢𝐚𝐳 𝐇𝐚𝐬𝐚𝐧
𝐒𝐭𝐚𝐟𝐟 𝐞𝐧𝐠𝐢𝐧𝐞𝐞𝐫,
𝐚𝐬𝐬𝐞𝐦𝐛𝐥𝐲 𝐢𝐧𝐭𝐞𝐠𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐚𝐭 𝐈𝐧𝐭𝐞𝐥 𝐂𝐨𝐫𝐩𝐨𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧
Sunday, 18 January 2026
গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিবেন নাকি না ভোট?
গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিবেন নাকি না ভোট?
হ্যাঁ/না ভোটের ব্যালটে ক,খ,গ,ঘ মোট ৪টি পয়েন্ট দেয়া আছে।আপনি যদি ৪টা পয়েন্টের বাস্তবায়ন চান তাহলে 'হ্যাঁ' ভোট দিন,আর বাস্তবায়ন না চাইলে 'না' ভোট দিন।
প্রশ্ন হল কেউ যদি ২ টি পয়েন্টের বাস্তবায়ন চান বাকি দুটি পয়েন্টের বাস্তবায়ন না চান উনি কি করবেন?
এটা একটা সমস্যা। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে শুধু একটা পয়েন্ট দেয়া যেত- 'আপনি কি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে?'
উত্তরে হ্যাঁ অথবা না।
যাক,এসব রাজ-রাজড়াদের ব্যাপার, আমরা দেখি জুলাই সনদে কি আছে?
জুলাই সনদে মোট ৮৪টা ধারা আছে। ৪৭টা সংবিধান সংশোধন বিষয়ক, বাকি ৩৭টা আইন/অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন বিষয়ক।
হ্যাঁ জিতলে আগামী সংসদ বা সরকারে যারা আসবে তারা এই ৮৪টা ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে, না জিতলে জুলাই সনদ বাদ!
৮৪টা ধারার প্রধান কয়েকটি ধারা দেখি-
১। ৭২ এর সংবিধানের মূলনীতি চারটা: বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
এসব থাকবেনা। তার জায়গায় বসবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি!
২। ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা যোগ করা হবে। বাংলাদেশ যে এখনো অন্তত কাগজেকলমে হলেও সেক্যুলার কান্ট্রি সেটা রদ হয়ে বাংলাদেশ হবে অনেকটা ধর্মিয় রাষ্ট্র।
৩/ সংবিধানে এখন ২২টা মৌলিক অধিকারের কথা বলা আছে। এর সাথে আরও কিছু যোগ হবে। যেমন ধরেন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট চালু রাখা...
৫/সংসদে দুইটা আলাদা কক্ষ থাকবে। উচ্চকক্ষে ১০০ আসন ও নিম্ন কক্ষে ৩০০ আসন থাকবে।
সংসদ নির্বাচনে যে যত ভাগ ভোট পাবে তারা ততভাগ আসন পাবে উচ্চকক্ষে। ধরেন কেউ ৫০ ভাগ ভোট পেলে ৫০ সিট তাদের।
৬/ হ্যাঁ পাশ হলে সংবিধান থেকে বাঙালি পরিচয় এর বদলে নাগরিক হিসেবে ’বাংলাদেশি নাগরিক' লেখা হবে।
৭/ এখন এক ব্যক্তি যতবার ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। হ্যাঁ পাশ হলে সেটা সর্বোচ্চ ১০ বছরে নেমে আসবে।
৭/এখন প্রধানমন্ত্রী একইসাথে তার নিজ দলের প্রধানও থাকতে পারেন। হ্যাঁ জিতলে দুটোর একটা ছেড়ে দিতে হবে।
৮/তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান সংবিধানে যুক্ত হবে। এটা নিয়ে অনেকগুলো ধারা আছে ও বিস্তারিত বলা আছে যে কিভাবে গঠন হবে, কারা সদস্য হবে এসব!
৯/সংসদে নারী সদস্য সংখ্যা ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করা হবে। আগামী ইলেকশনে দলগুলো কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিবে, পরের ইলেকশনে ১০%...এভাবে ৩৩% পর্যন্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে।
১০/রাস্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে অনেকগুলো ধারা আছে।
এখনকার মত রাস্ট্রপতি নিজে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারবেন না, ওটা আপিল বিভাগ থেকে হবে।
দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য রাস্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারবে, এখন প্রকাশ্য ভোটে রাস্ট্রপতি নির্বাচিত হয়, তখন গোপন ভোটে নির্বাচিত হবে।
১১/বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে অসংখ্য ধারা আছে সনদে। এসব ধারায় সরকারের পরিবর্তে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টকে ক্ষমতায়িত করা হয়েছে,
সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন, হাইকোর্টের নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে প্রধান বিচারপতি করবেন।
১২/পিএসসির লোকবল এখন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। হ্যাঁ পাশ হলে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, বিরোধী দলের চিফ হুইপ, এরকম ৭ জনের টিম এই কাজ করবেন।
১৩/এখন দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেয় প্রধানমন্ত্রী। হ্যাঁ পাশ হলে সংসদ সদস্য, আপিল বিভাগের প্রতিনিধি, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধি এরকম লোকবলের সমন্বয়ে এই নিয়োগে হবে।
১৪/এখন সব সরকারি কর্মচারি সরকারের অধীনে থাকে, তখন স্থানীয় সরকারে থাকা সরকারি লোকজনও এমপিদের অধীনে থাকবে!
ওখানকার সব প্রকল্প থাকবে জনপ্রতিনিধির অধীনে! তার মানে যেখানে যে দলের এমপি সেখানে জেলা উপজেলা ইউনিয়ন চলবে তার মত করে।
(আমার কাছে এটা বাস্তবতা বিবর্জিত প্রস্তাব বলে মনে হয়েছে। দুর্নীতি বাড়বে।)
১৫/সরকারি কর্মচারির বিরুদ্ধে মামলা করতে দুদককে সরকারের অনুমতি নিতে হবেনা। আইনজীবিরা রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হতে পারবেনা। (দুটোই ভাল প্রস্তাব!)
১৬/এখন কেউ কোনো অপরাধে সাজা পেলে ৫ বছর পর ইলেকশন করতে পারে, হ্যাঁ জিতলে একবার সাজা হলে সে আর নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেনা!
১৭/হ্যাঁ জিতলে কালো টাকা সাদা করার আইন করা হবে।
১৮/এখন বিভাগ ৮টা আছে, তখন ১০টা হবে। কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ।
পরিশেষে - ভোট আপনার সিদ্ধান্ত আপনার।
আপনার ভোট আপনি দিবেন যাকে খুশি তাকে দিবেন।
[সংগৃহীত/সম্পাদিত]
ভারত আমাদের সাহায্য না করলে আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করতে পারতাম না।
মুক্তিযুদ্ধ: বিজয় ছিনতাই
অনেক কাল যাবত জেনে এসেছি, মুক্তিযুদ্ধ: বিজয় ছিনতাই
অনেক কাল যাবত জেনে এসেছি, ভারত আমাদের সাহায্য না করলে আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করতে পারতাম না। কথাটি সত্যি। তবে এখন মনে হয় কথাটির উত্তর সরাসরি ‘সত্য-মিথ্যায়’ সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭১ সালে ভারতীয় সাহায্যকে আমরা মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করতে পারি:
মানবিক সাহায্য ও সামরিক সহযোগিতা। মানবিক সাহয্যের বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তবে সামরিক সহযোগিতাকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি।
প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক বিষয়গুলি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্যে সাংগঠনিক সহযোগিতা।
অস্ত্র ও রসদ দিয়ে লজিস্টিক সহযোগিতা।
সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ।
এখন মনে হয় সামরিক সাহায্যের শেষ ধাপটি অর্থাৎ ভারতীয় সেনাবাহিনী সরাসরি অংশ না নিলেও আমরা জয়লাভ করতাম। তার জন্যে সময় বেশি লাগতো।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্যে আমাদের কারো সহযোগিতার দরকার হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করার জন্যে আমাদের উজ্জীবন মন্ত্র ছিল দুটি:
১। আত্মরক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা
২। যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার সাহস।
প্রাথমিক সাফল্য সংহত করা, সম্প্রসারিত করা এবং জনতার জানমাল বাঁচানোর জন্যে আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। ভারত সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই সে দেশের জনগণ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ত্রিপুরার মানুষ তাদের জনসংখ্যার সমান সংখ্যক আর্ত বাঙালিকে আশ্রয় দেওয়া শুরু করেছিল সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা, বাসস্থান সংকট উপেক্ষা করে আমাদের ঠাঁই দিয়েছিল। কিন্তু সে সময় যুদ্ধ টিকিয়ে রাখার মতো সামরিক সাহায্য আমরা পাইনি।
আমাদের রাজনীতিবিদদের অনেকে যখন ভাবছেন ভারত আমাদের যুদ্ধ করে জিতিয়ে দেবে, আমাদের জনতা তখন দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্যে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিদ্রোহী সেনা অধিনায়করা সেই মুহূর্তে বৃহত্তর সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় যুদ্ধ এগিয়ে নিয়ে যাবার উপায় খুঁজতে সম্মেলন করছেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্যে সারাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আকুতি নিয়ে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধবিদ্যা রপ্ত করেছেন, তবে এরকম প্রাণ উৎসর্গ করার জন্যে উদ্বেল মানুষ দেখেননি। জনতার এই নিঃশঙ্ক মনোভাবকে পাথেয় করে তারা যুদ্ধ জয়ে দৃঢ় সংকল্প হয়েছেন। তাদের সাথে জনতার সম্মিলনে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়েছে। এই মুক্তিবাহিনীর কোনো কোনো দলকে শুধু গ্রেনেড নিয়ে অপারেশনে যেতে হয়েছে। কোথাও ভরসা ছিল তিনজনের একটি অস্ত্র। আগস্ট মাস পর্যন্ত এর চেয়ে বেশি সমরাস্ত্র সাহায্য করার সামর্থ তাদের ছিল না।
এই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধনীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তা হলো-
১। গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে ব্যতিব্যস্ত করে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থানের সম্প্রসারণ করা। যেন পাকিস্তানি বাহিনীর জনবলসহ সমরসজ্জা বিভাজিত হতে হতে অবস্থানগুলি দুর্বলতর হয়ে পড়ে।
২। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথাগত যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।
৩। ভারতীয় বাহিনী এই যুদ্ধে সহায়ক বাহিনী হিসাবে থাকবে; প্রয়োজনে তাদের সাহায্য নেওয়া।
মুক্তিবাহিনীর এই পরিকল্পনা যুদ্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে ফলপ্রসূ হতে শুরু করে। ৭ জুলাই প্রথাগত যুদ্ধের প্রথম ব্রিগেড জেড ফোর্স গঠিত হয়। সেপ্টেম্বরে কে ফোর্স এবং অক্টোবরের ১ তারিখে এস ফোর্স গঠিত হয়।
এদিকে মুক্তিবাহিনীর ছোট ছোট হামলায় নাজেহাল পাকিস্তানি বাহিনী আরও বেশি অঞ্চল তাদের আওতায় আনার জন্যে সেনাবাহিনী সম্প্রসারণের নামে তিনটি ডিভিশনকে ভেঙে সেই একই জনবল ও সরঞ্জাম থেকে আরও দুটি অ্যাডহক ব্রিগেড গঠন করে। এতে তাদের এলাকা সম্প্রসারিত হলেও প্রতিটি অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩১ জুলাই ভোররাতে মুক্তিবাহিনীর প্রথম প্রথাগত আক্রমণ শুরু হয়। সহায়ক বাহিনীর অপ্রতুল ফায়ার সাপোর্ট এবং সমরসজ্জার সীমাবদ্ধতার কারণে মুক্তিবাহিনী সে যুদ্ধে জয়ী না হলেও পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক সক্ষমতায় বিস্মিত হয়। সেই থেকে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে।
৯ আগস্ট রুশ-ভারত সহযোগিতা চুক্তি সম্পন্ন হবার পর ভারতীয় সামরিক সহযোগিতা যেমন বৃদ্ধি পায়, মুক্তিবাহিনীর সাফল্যও সেভাবে বাড়ে। আগস্ট মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে রৌমারিতে জেড ফোর্সের উদ্যোগে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে থানা, পোস্ট অফিস এমনকি শুল্ক বিভাগ পর্যন্ত প্রবাসী সরকারের অধীনে কাজ করা শুরু করে।
১৫ নভেম্বর কে ফোর্সের সাথে লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে বৃহত্তর কুমিল্লার সালদা নদী থেকে পাকিস্তানি বাহিনী বিদায় নেয়। এরপর বেলুনিয়া থেকে পাকিস্তান বাহিনী বিতাড়িত হয়।
এরকম সাফল্যের মধ্যেই সহায়ক বাহিনীর স্থলে ভারতীয় বাহিনীকে নিয়ে যৌথবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এবং ২২ নভেম্বর চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশি ফর্মেশনের (ব্রিগেড) অধীনস্থ সেক্টরগুলিকে ভারতীয় বাহিনীর অধীনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩ ডিসেম্বর যৌথবাহিনী যখন যুদ্ধ ঘোষণা করে তার আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থা ঘুণে খাওয়া আসবাবের মতো হয়ে যায়। ভারতীয় বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে।
যদি তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াই আমাদের যুদ্ধনীতিতে অটুট থাকতাম, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান বাহিনীকে আমরা যেমন দুর্বলতর করে তুলতে পারতাম, একইভাবে আমাদের নিয়মিত ব্রিগেডের সংখ্যাও বাড়াতে পারতাম। যুদ্ধ হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তান থেকে শত্রু আসা বন্ধ হয়েছিল। পশ্চিম ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তানের দিকে নজর দেওয়ার সময়, সুযোগ আরও কমে যেত। এদেশে মুক্তিবীহিনীর হামলায় তাদের সাপ্লাই লাইন পর্যুদস্ত হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ আমরা তাদের ভাতে মারা শুরু করেছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা আমরা তখন রক্ত দেওয়া শিখে গেছি। মুক্তি আমাদের ঠেকিয়ে রাখা যেত না। আরও কিছুদিন যুদ্ধ করলে পাকিস্তানি বাহিনীকে আমাদের কাছেই আত্মসমর্পণ করতে হতো।
ভারতীয় বাহিনী শেষ মুহূর্তে যোগ দেওয়ায় আমাদের বিজয়টা ছিনতাই হয়ে গেছে। পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের দলিলে সই করার সুযোগ হয়নি। কথাটি সত্যি। তবে এখন মনে হয় কথাটির উত্তর সরাসরি ‘সত্য-মিথ্যায়’ সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭১ সালে ভারতীয় সাহায্যকে আমরা মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করতে পারি:
মানবিক সাহায্য ও সামরিক সহযোগিতা। মানবিক সাহয্যের বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তবে সামরিক সহযোগিতাকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি।
প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক বিষয়গুলি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্যে সাংগঠনিক সহযোগিতা।
অস্ত্র ও রসদ দিয়ে লজিস্টিক সহযোগিতা।
সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ।
এখন মনে হয় সামরিক সাহায্যের শেষ ধাপটি অর্থাৎ ভারতীয় সেনাবাহিনী সরাসরি অংশ না নিলেও আমরা জয়লাভ করতাম। তার জন্যে সময় বেশি লাগতো।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্যে আমাদের কারো সহযোগিতার দরকার হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করার জন্যে আমাদের উজ্জীবন মন্ত্র ছিল দুটি:
১। আত্মরক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা
২। যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার সাহস।
প্রাথমিক সাফল্য সংহত করা, সম্প্রসারিত করা এবং জনতার জানমাল বাঁচানোর জন্যে আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। ভারত সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই সে দেশের জনগণ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ত্রিপুরার মানুষ তাদের জনসংখ্যার সমান সংখ্যক আর্ত বাঙালিকে আশ্রয় দেওয়া শুরু করেছিল সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা, বাসস্থান সংকট উপেক্ষা করে আমাদের ঠাঁই দিয়েছিল। কিন্তু সে সময় যুদ্ধ টিকিয়ে রাখার মতো সামরিক সাহায্য আমরা পাইনি।
আমাদের রাজনীতিবিদদের অনেকে যখন ভাবছেন ভারত আমাদের যুদ্ধ করে জিতিয়ে দেবে, আমাদের জনতা তখন দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্যে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিদ্রোহী সেনা অধিনায়করা সেই মুহূর্তে বৃহত্তর সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় যুদ্ধ এগিয়ে নিয়ে যাবার উপায় খুঁজতে সম্মেলন করছেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্যে সারাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আকুতি নিয়ে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধবিদ্যা রপ্ত করেছেন, তবে এরকম প্রাণ উৎসর্গ করার জন্যে উদ্বেল মানুষ দেখেননি। জনতার এই নিঃশঙ্ক মনোভাবকে পাথেয় করে তারা যুদ্ধ জয়ে দৃঢ় সংকল্প হয়েছেন। তাদের সাথে জনতার সম্মিলনে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়েছে। এই মুক্তিবাহিনীর কোনো কোনো দলকে শুধু গ্রেনেড নিয়ে অপারেশনে যেতে হয়েছে। কোথাও ভরসা ছিল তিনজনের একটি অস্ত্র। আগস্ট মাস পর্যন্ত এর চেয়ে বেশি সমরাস্ত্র সাহায্য করার সামর্থ তাদের ছিল না।
এই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধনীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তা হলো-
১। গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে ব্যতিব্যস্ত করে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থানের সম্প্রসারণ করা। যেন পাকিস্তানি বাহিনীর জনবলসহ সমরসজ্জা বিভাজিত হতে হতে অবস্থানগুলি দুর্বলতর হয়ে পড়ে।
২। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথাগত যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।
৩। ভারতীয় বাহিনী এই যুদ্ধে সহায়ক বাহিনী হিসাবে থাকবে; প্রয়োজনে তাদের সাহায্য নেওয়া।
মুক্তিবাহিনীর এই পরিকল্পনা যুদ্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে ফলপ্রসূ হতে শুরু করে। ৭ জুলাই প্রথাগত যুদ্ধের প্রথম ব্রিগেড জেড ফোর্স গঠিত হয়। সেপ্টেম্বরে কে ফোর্স এবং অক্টোবরের ১ তারিখে এস ফোর্স গঠিত হয়।
এদিকে মুক্তিবাহিনীর ছোট ছোট হামলায় নাজেহাল পাকিস্তানি বাহিনী আরও বেশি অঞ্চল তাদের আওতায় আনার জন্যে সেনাবাহিনী সম্প্রসারণের নামে তিনটি ডিভিশনকে ভেঙে সেই একই জনবল ও সরঞ্জাম থেকে আরও দুটি অ্যাডহক ব্রিগেড গঠন করে। এতে তাদের এলাকা সম্প্রসারিত হলেও প্রতিটি অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩১ জুলাই ভোররাতে মুক্তিবাহিনীর প্রথম প্রথাগত আক্রমণ শুরু হয়। সহায়ক বাহিনীর অপ্রতুল ফায়ার সাপোর্ট এবং সমরসজ্জার সীমাবদ্ধতার কারণে মুক্তিবাহিনী সে যুদ্ধে জয়ী না হলেও পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক সক্ষমতায় বিস্মিত হয়। সেই থেকে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে।
৯ আগস্ট রুশ-ভারত সহযোগিতা চুক্তি সম্পন্ন হবার পর ভারতীয় সামরিক সহযোগিতা যেমন বৃদ্ধি পায়, মুক্তিবাহিনীর সাফল্যও সেভাবে বাড়ে। আগস্ট মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে রৌমারিতে জেড ফোর্সের উদ্যোগে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে থানা, পোস্ট অফিস এমনকি শুল্ক বিভাগ পর্যন্ত প্রবাসী সরকারের অধীনে কাজ করা শুরু করে।
১৫ নভেম্বর কে ফোর্সের সাথে লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে বৃহত্তর কুমিল্লার সালদা নদী থেকে পাকিস্তানি বাহিনী বিদায় নেয়। এরপর বেলুনিয়া থেকে পাকিস্তান বাহিনী বিতাড়িত হয়।
এরকম সাফল্যের মধ্যেই সহায়ক বাহিনীর স্থলে ভারতীয় বাহিনীকে নিয়ে যৌথবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এবং ২২ নভেম্বর চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশি ফর্মেশনের (ব্রিগেড) অধীনস্থ সেক্টরগুলিকে ভারতীয় বাহিনীর অধীনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩ ডিসেম্বর যৌথবাহিনী যখন যুদ্ধ ঘোষণা করে তার আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থা ঘুণে খাওয়া আসবাবের মতো হয়ে যায়। ভারতীয় বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে।
যদি তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াই আমাদের যুদ্ধনীতিতে অটুট থাকতাম, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান বাহিনীকে আমরা যেমন দুর্বলতর করে তুলতে পারতাম, একইভাবে আমাদের নিয়মিত ব্রিগেডের সংখ্যাও বাড়াতে পারতাম। যুদ্ধ হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তান থেকে শত্রু আসা বন্ধ হয়েছিল। পশ্চিম ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তানের দিকে নজর দেওয়ার সময়, সুযোগ আরও কমে যেত। এদেশে মুক্তিবীহিনীর হামলায় তাদের সাপ্লাই লাইন পর্যুদস্ত হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ আমরা তাদের ভাতে মারা শুরু করেছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা আমরা তখন রক্ত দেওয়া শিখে গেছি। মুক্তি আমাদের ঠেকিয়ে রাখা যেত না। আরও কিছুদিন যুদ্ধ করলে পাকিস্তানি বাহিনীকে আমাদের কাছেই আত্মসমর্পণ করতে হতো।
ভারতীয় বাহিনী শেষ মুহূর্তে যোগ দেওয়ায় আমাদের বিজয়টা ছিনতাই হয়ে গেছে। পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের দলিলে সই করার সুযোগ হয়নি।
শাহবাগে চিৎকার করে বলেছিলেন একটা মারলে ১০ টা দাঁড়াবো,
২৪ এর গণআন্দোলনে যে ভদ্র মহিলা শাহবাগে চিৎকার করে বলেছিলেন আমি আমার সন্তান দের ছেড়ে শাহবাগ ত্যাগ করবো না, আবু সাঈদ আমার সন্তান,
মুগ্ধ আমার সন্তান, ওয়াসিম আমার সন্তান,
উনিই ড. সায়মা ফেরদৌস।
যে ভদ্র মহিলা শাহবাগে চিৎকার করে বলেছিলেন একটা মারলে ১০ টা দাঁড়াবো, ১০ টা মরলে হাজারটা দাঁড়াবো - তিনি ছিলেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.সায়মা ফেরদৌস।
যে মা তার ছেলেকে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় ছেলের পিঠে হাত চাপড়িয়ে বলেছিল ভয় পাসনে বাবা, জালিমের পতন হবে। সেই ভদ্র মহিলা ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারময়ান বরকতুল্যাহ বুলুর স্ত্রী।
সুতরাং এই সমস্ত মানুষদের এখন হেয়ো করে মিস্টার সারজিস, হাসনাত তোমরা যা করছো, তা চরম বেয়াদবি এবং ধৃষ্টতা।
ডিবি অফিসে তোমরা পুলিশের একদিনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে বিবৃতি দিয়েছিলে। সেদিন ডিবি অফিসের গেটে যে ভদ্র মহিলা চিৎকার করে বলেছিল আমার সন্তানদেরকে ফেরত দিন, তাদের উপর অত্যাচার বন্ধ করেন, আমার সন্তানদের না নিয়ে আমি বাড়িতে যাব না। এই অত্যাচার দেখে আল্লাহর আরশ কাঁপে শেখ হাসিনার কাঁপে না, তার কাঁপে না? তিনিই ড. সায়মা ফেরদৌস বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর মেয়ে।।
সংগ্রহীত পোস্ট......
#viral
#everyoneactivefollowersシfypシ゚viralシalシ
@highlight
Saturday, 17 January 2026
জুলাই বিপ্লব থেকে উৎসারিত প্রশ্নসমূহ কি ?
রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা আনতে জুলাই বিপ্লব থেকে উৎসারিত প্রশ্নসমূহের মীমাংসা প্রয়োজন
(To ensure stability, the issues arising from the July Revolution must be resolved)
আসন্ন নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। বিএনপি ও জামায়াত— দুই দলই জয়ের জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে। নির্বাচনী প্রচারণায় রাজনীতির মাঠ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হচ্ছে। যেমন, একাত্তরে জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার কথা বিএনপি তুলে ধরছে; এর বিপরীতে বিএনপির শাসনামলে অসাফল্যতা ও বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কথা প্রচার করছে জামায়াত। দেখে মনে হচ্ছে, জুলাই বিপ্লব কোনো কিছুই বদলাতে পারেনি। আবারও ফিরে এসেছে পুরোনো দোষারোপের রাজনীতি। এত আত্মত্যাগ ও রক্তপাতের পর দেশের মানুষ এটা আশা করেনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা এখনো সেই পুরোনো অচলায়তন থেকে বেরোতে পারিনি। পারিনি গত ৫৪ বছরের ভঙ্গুর, বিশৃঙ্খল ও বুড়োদের গণতন্ত্রের বাইরে আলাদা, নতুন ও সতেজ তারুণ্যময় কিছু গড়ে তুলতে। বারবারই আমরা ব্যর্থ হচ্ছি!
দেশবাসীর সম্মিলিত প্রত্যাশার বিপরীতে, রাজনীতিকদের কাছে পুরোনো বন্দোবস্তই বেশি স্বস্তিকর বলে দৃশ্যমান হচ্ছে। তাই এখন জাতির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাদের কাছে তোলা আমাদের জন্য ফরজ হয়ে উঠেছে। দুঃখজনকভাবে, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যম এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব এবং নতুন ক্ষমতা বিন্যাসের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতেই বেশি তৎপর। সাধারণ মানুষের জন্য গৌণ বিষয়গুলোই রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে মুখ্য হয়ে উঠছে, আর দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি চরম পর্যায়ের দিকে ছুটছে।
মানুষকে পুরোনো রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর বা মিঠে কথার বাহুল্য-স্রোতে ভেসে যাওয়া থেকে বিরত রাখা চাই। সকলকে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো তুলতে হবে:
১. জুলাই বিপ্লব সম্পর্কে তাদের ধারণা কী, এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মহান ঘটনার স্থান তারা কোথায় দিতে চাইবেন? শহিদদের সম্মান জানাতে, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে, পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষদের পুনর্বাসন করতে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে তাদের কী কী পরিকল্পনা আছে?
২. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) নিয়ে তারা কী ধরনের অবস্থান নেবে? বর্তমান কার্যক্রম ও প্রক্রিয়াগুলো আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নেবে, নাকি গতি কমিয়ে দেবে, যাতে অপরাধীরা বিচার এড়িয়ে যেতে পারে?
৩. অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত বিভিন্ন কমিশন একাধিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। সেগুলো তারা কীভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন করবে?
৪. জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিচারব্যবস্থা এখন পুরোনো অসৎ ধারা, বিপুল সংখ্যক ঝুলে থাকা মামলা, অপর্যাপ্ত ডিজিটাল ব্যবস্থা, রাজনৈতিক নিপীড়ন, সম্পদের ঘাটতি, দীর্ঘসূত্রিতা ও গড়িমসি, দক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার দেওয়ার সীমিত সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক অশুভ প্রভাবের সমস্যায় আক্রান্ত। এসব সংকট সমাধানে দলগুলো কী কী পদক্ষেপ নেবে?
৫. বিচারব্যবস্থার মতোই, জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশ বাহিনীও ভেঙে পড়েছে। এর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি (ঘুষ, আঁতাত), রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়া, মানবাধিকার লঙ্ঘন (নৃশংসতা, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড), গুরুতর সম্পদ ও সরঞ্জামের ঘাটতি (দুর্বল অবকাঠামো, পুরোনো প্রযুক্তি, কম বেতন) এবং জনআস্থার অভাব। যার ফলে সুরক্ষার পরিবর্তে বাড়ছে হয়রানি। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও খারাপ কর্মপরিবেশে কর্মকর্তাদের মানসিক অবসাদও পরিস্থিতিকে আরও অধঃপতিত করছে। এসব সমস্যা সমাধানে দলগুলোর কী পরিকল্পনা আছে?
৬. জুলাই বিপ্লবের পর বেসামরিক প্রশাসনও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখানে প্রধান সমস্যাগুলো হলো সর্বব্যাপী দুর্নীতি, রাজনৈতিক ও দলীয় হস্তক্ষেপ, অদক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার অভাব, আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা (শাসকসুলভ আচরণ, পরিবর্তনে অনীহা), সেবা প্রদানে অনাগ্রহ্য, পদোন্নতি-সংকটসহ ভারী কাঠামো, প্রযুক্তি গ্রহণে অনাগ্রহ এবং কেন্দ্র-নির্ভর নীতিনির্ধারণ। এরূপ কারণে মানুষের আস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে এবং সুশাসন ও সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কী পরিকল্পনা আছে?
৭. ডিজিএফআই-এর বিরুদ্ধে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার, গুম ও নির্যাতনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এবং সামরিক ও বেসামরিক ভূমিকার সীমারেখা ঝাপসা হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থাকে পুনর্গঠন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর কী পরিকল্পনা আছে?
৮. র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। যেমন বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, গুম এবং সাজানো ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা, নিষেধাজ্ঞার আহ্বান (যেমন ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা) এবং ‘ডেথ স্কোয়াড’ হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। র্যাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কী পরিকল্পনা আছে?
৯. বাংলাদেশে সম্পদ বণ্টন অত্যন্ত অসম। দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে মোট সম্পদের অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৫৮ শতাংশ)। আর নিচের ৫০ শতাংশের হাতে রয়েছে ৫ শতাংশেরও কম। এতে সমাজে চরম বৈষম্য স্পষ্ট রূপ পরিগ্রহ করেছে। যদিও আয় বৈষম্যের মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থেকেছে, তবু প্রবৃদ্ধির সুফল মূলত ধনীদেরই উপকারে এসেছে। যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ উপেক্ষিত থেকেছে, ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট ২০২৬-এ যার উল্লেখ পাওয়া যায়। ধনী-গরিবের এই বিশাল ব্যবধান বা ধন বৈষম্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে রাজনৈতিক দলগুলোর কী পরিকল্পনা ও কর্মসূচি আছে?
১০. পার্বত্য চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতের আগুনে জ্বলছে। রোহিঙ্গা সংকট, কুকি-চিন সমস্যা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কী পরিকল্পনা আছে?
১১. আমাদের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য কী হবে এবং সেগুলো অর্জনের কৌশল কী? যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তারা কীভাবে মোকাবিলা করবে? ভারতের প্রতি অবস্থান কী হবে? ফ্যাসিস্ট শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ কী? করিডোর ইস্যু এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নিয়ে তাদের নীতি কী হবে?
১২. নানান বিরোধে বিভক্ত ও ভাঙা একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা কি রাজনৈতিক দলগুলোর আছে? থাকলে, তারা কীভাবে তা বাস্তবায়ন করবে? আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বাইরে রাখার ক্ষেত্রে ঐক্যের ভিত্তি কি হবে? ফ্যাসিবাদী এই রাজনৈতিক শক্তির বিষয়ে দলগুলোর অবস্থান কী?
১৩. বাংলাদেশের একটি সর্বসম্মত ইতিহাস গড়ে তোলার কোনো পরিকল্পনা কি তাদের আছে? জাতির পিতা ও স্বাধীনতার ঘোষক এমন সকল বিতর্কের অবসান ঘটবে কি করে এবং কোন পদ্ধতিতে?
১৪. লুটেরা ব্যবসায়ী ও অলিগার্কদের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি কী হবে? বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার জন্য তারা কী পদক্ষেপ নেবে? ব্যাপক লুটপাটে ভেঙে পড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা হবে?
১৫. ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতিতে বিভক্ত দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বিপদের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। তারা এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি উন্নতির ধারায় স্থাপন করবে?
দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদি কর্মসূচির চেয়ে উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চলমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত কয়েক মাস ধরে তাদের ‘সংস্কার সার্কাস’ প্রদর্শন করে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে জনতার দৃষ্টি সফলভাবে সরিয়ে রাখতে পেরেছে। দেশ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যখন আমাদের সামনে এসব নিয়ে আলোচনা করার সময় এখন আর হাতে নেই। তবুও, জরুরি কিছু প্রশ্নের জবাব চাওয়ার দাবী দেরিতে হলেও তুলে ধরা ভালো। আসুন, হাতে থাকা সীমিত সময়টুকুর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করি॥
To ensure stability, the issues arising from the July Revolution must be resolved.
The upcoming election is now only a matter of days away. In a frantic bid to secure power, both the BNP and Jamaat have intensified their efforts. The electoral atmosphere is steadily reaching a boiling point, dominated by a familiar cycle of accusations: the BNP attacks Jamaat for its anti-liberation history, while Jamaat retorts by criticizing the BNP’s governance during the 2001–2006 period. It appears as though the July Revolution has failed to spark any real change, as the nation is once again witness to the same old politics of mutual recrimination. Such a regression was unthinkable following the immense bloodshed the country has endured. Unfortunately, we seem unable to break free from this cycle and develop a fresh political path that departs from the fragile, chaotic, and gerontological democracy of the past 54 years.
Contrary to what the public expected, our politicians appear most at home when using the old playbook. Consequently, it has become a necessity for us to confront them with fundamental and vital questions regarding the nation's current state. It is disheartening to see that the intelligentsia and the media have remained completely silent on these matters, seemingly more focused on adapting to a "new normal." In the meantime, trivial issues have moved to the forefront, and the vitriol between the two primary contenders has reached extreme levels.
Citizens must be encouraged to resist the tide of old political rhetoric and instead challenge these parties with the following specific inquiries:
1. What is their genuine perception of the July Revolution, and how do they intend to memorialize this pivotal event in Bangladesh’s history? What specific programs do they have to honor the heroes, provide compensation to the families of the deceased, rehabilitate those who were maimed, and ensure that the perpetrators are brought to justice?
2. What is their intended approach toward the International Crimes Tribunal (ICT)? Do they plan to pursue the current proceedings more aggressively, or will they decelerate the process, effectively allowing the guilty to evade justice?
3. Various commissions established by the interim government have proposed a series of reforms. How do the parties plan to implement these suggestions, and within what specific timeframe?
4. The Bangladeshi judiciary has effectively collapsed in the wake of the July Revolution, and ad hoc attempts at restoration have only worsened the situation. The system is currently plagued by antiquated procedures, a staggering backlog of cases, a lack of digitization, and political victimization. Furthermore, it suffers from resource scarcity, procrastination, a limited capacity for transparent justice, and political interference. What concrete steps will the parties take to rectify these systemic failures?
5. Much like the judiciary, the Police Force has also broken down following the revolution. Its primary challenges include systemic corruption such as bribery and collusion, political interference that erodes independence, and human rights violations including brutality and extrajudicial actions. The force is also hampered by severe logistical deficits—such as poor infrastructure, outdated technology, and low wages—and a lack of public trust. This results in harassment instead of protection, worsened by officer burnout from heavy workloads and poor conditions. What are the parties' plans to solve these deep-seated problems?
6. The civil administration has similarly sustained extraordinary damage. The critical issues here include pervasive corruption, political meddling, inefficiency, and a lack of transparency and accountability. There is a persistent bureaucratic attitude characterized by ruler-like behavior and resistance to change, alongside poor service delivery and top-heavy structures plagued by promotion issues. Weak technology adoption and centralized policymaking continue to hinder effective governance and fuel public mistrust. What strategies have the parties devised to meet these administrative challenges?
7. The DGFI currently faces serious allegations regarding political misuse, human rights abuses—including enforced disappearances and torture—and a lack of accountability. There are also concerns regarding its involvement in economic sectors and the blurring of lines between military and civil roles. How do the political parties plan to reform and fix this organization?
8. The primary issues surrounding Bangladesh's Rapid Action Battalion (RAB) involve grave human rights violations, such as extrajudicial killings, torture, enforced disappearances, and the framing of incidents. These actions have led to international condemnation and calls for sanctions (such as those from the U.S. in 2021), with many accusing the unit of being a "death squad." This has undermined its legitimacy. What are the parties' specific plans for the future of RAB?
9. Wealth distribution in Bangladesh is severely unequal; according to the World Inequality Report 2026, the wealthiest 10% hold approximately 58% of the nation's wealth, while the bottom 50% possess less than 5%. While income inequality has remained somewhat stable, economic growth continues to benefit the elite while bypassing the majority. What plans and programs do the parties have to reduce this massive gap between the rich and the poor to a tolerable level?
10. For decades, the Chittagong Hill Tracts (CHT) has remained a flashpoint of conflict. What are the political parties’ plans to resolve the Rohingya crisis and the Kuki-Chin problem, and how will they ensure the full implementation of the CHT Peace Accord?
11. What will be the nation’s foreign policy objectives, and what strategies will be used to achieve them? How will the parties navigate the dyadic rivalry between the US and China? What will be the approach toward India, particularly regarding agreements signed during the previous fascist regime? What is their policy on the corridor issue and the ongoing separatist movements in Northeast India?
12. Do the political parties have a strategy to unify a fractured and deeply divided nation? If so, how will they execute it? Is such unity possible while keeping the Awami League excluded from Bangladeshi politics, and what is the parties' definitive stand on the Awami League issue?
13. Do they have a plan to establish a commonly agreed-upon history of Bangladesh? The public is exhausted by the endless debates regarding the "Father of the Nation" and the "Declarer of Independence."
14. What will be their policies toward business oligarchs? What specific steps will be taken to recover laundered money? How will the financial institutions that collapsed under the weight of massive theft be repaired, and how will economic activity be regenerated?
15. How will the parties guarantee the safety and religious freedom of all sects and minorities, ensuring that communal harmony is not just a slogan but a reality?
Securing answers to these questions is far more relevant than the superficial programs, such as "family cards" or "farmer’s cards," that are currently being promoted. The present government has successfully diverted public attention from these critical matters by orchestrating a "Reform Circus" over the past few months, leaving us with almost no time for debate. Nevertheless, it is better late than never. We must make the most of the limited time remaining to us.
ইন্ডিয়া যদি বাংলাদেশকে আক্রমণ করে
ইন্ডিয়া যদি বাংলাদেশকে আক্রমণ করে তবে তা অবশ্যই তাদের ইস্টার্ন কমান্ড দিয়ে করবে। বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্ত হলো গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ। সমতল আবাদি জমি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় সেনাবাহিনীকে জুন-জুলাইয়ে আক্রমণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেনা প্রধান আক্রমণে অস্বীকৃতি জানায় বর্ষার কারণে। বর্ষায় প্লেন ভূমির বিলও নদী হয়ে যায়। এজন্য ইন্ডিয়া নভেম্বর প্রর্যন্ত অপেক্ষা করে। পানি নেমে যাবার পরে শীতের শুরুতে আক্রমণ করে।
ইন্ডিয়ার এয়ার সুপিওরিটি থাকার কারণে কনভেনশনাল যুদ্ধ সম্ভব হবে না।
আগামী ১০ বছরের মধ্যে ডিটারেন্স সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একইসাথে বাঁধ ধ্বংসকারী ট্রাইকিং সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
Friday, 9 January 2026
জামায়াত-শিবির ধর্মকে ব্যবহার করছে।
গ্রাম থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত জামায়াত-শিবির ধর্মকে ব্যবহার করছে। কখনো জান্নাতের নামে, কখনো হিজাবের নামে, কখনো নারায়ে তাকবির স্লোগানের নামে ।
তবে গ্রামের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মের প্রভাব বেশি । কারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ আইডেনটিটি ক্রাইসিসে ভোগে । তারা শহর, গ্রাম, মফস্বল যেখান থেকেই এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোক না কেন, তাদের রাজনৈতিক চিন্তা বা অধিকার বোধের তুলনায় ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি জানাশোনা, নিয়মিত চর্চা করাটা বেশি হয়। বিশেষত নারীদের ভেতর। তারা ধর্মকে নিজের বা সমাজের নিরাপত্তার আশ্রয় হিসেবে দেখে।
তার বেড়ে ওঠার ভেতর এই জিনিসটা তৈরি হয়েছে যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান হলেও তার নিরাপত্তা বা ধর্ম পালনের পরিপূর্ণ অধিকার এ দেশে নাই ।
এই ধারণা তার ভেতর তীব্র করেছে শেখ হাসিনার শাসনামল। বিশেষত ২০১৩ সালে তারা চোখের সামনে এসব দেখেছে । আমরাও বলেছি যে ইসলামি ভাবধারা বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যে অনুপস্থিত। এখানে কলকাতার ভাষা-সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণ চলছে । এবং ব্রিটিশ আমলের মতো বাঙালি মুসলমানদের নিজের দেশেই খাটো করে রাখা হচ্ছে । “বাঙালি মুসলমান”, এই টার্মও ইউজ করা যেত না। দাড়ি-টুপি দেখলে হেয় করা হতো, ট্যাগ দেওয়া হতো । শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে অনেক ঘটনা আছে যেখানে আলেমদের হ** করা হয়েছে । গুম, মেরে ফেলা তো আছেই ।
এই সময়ে ইসলামপন্থীরা মব করে হামলার ঘটনা কমই ঘটাইছে বা ঘটায় নাই । বিবাড়িয়ায় ওস্তাদ আলাউদ্দি খাঁর বাড়ি-ঘর ভাঙার ঘটনা আছে। কিন্তু সেটা আসলে কারা করেছে পরিস্কার না। আওয়ামী লীগ মুসল্লিদের মেরে ফেলার পর নিজেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ আছে।
.
এমন পরিস্থিতির ভেতর আমরা আবার দেখেছি যে, প্যারাডক্সিকেল সাজিদ জনপ্রিয় হচ্ছে । কাসেম বিন আবু বাকার নামে এক মৃতপ্রায় লেখককে জীবিত করছে বিদেশি মিডিয়া । তাদের বই পড়া হচ্ছে গণহারে। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত । অনেক ঘটনা পাওয়া যাবে তখনকার এই প্যা. সাজিদ পড়া নিয়ে। শিক্ষার্থীরা এসব পড়েছে কারণ মেনস্ট্রিম মিডিয়ায় তারা অনুপস্থিত, নাটক-সিনেমায় তারা নাই।
ওই সময় থেকে কলকাতার জি-বাংলার সিরিয়ালের বিপরীতে টার্কিশ নাটক পপুলার হতে থাকে। বইমেলায় ইসলাম পন্থী বই বিক্রি বেড়ে যায়। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত অনুবাদ বইয়ের চাহিদা বাড়ে । কোনো প্রকাশনা সংস্থা আলাদা করে ইসলামি কর্নার খোলে।
.
এই ভয়ে প্যারা. সাজিদ বই সেটাও আওয়ামী লীগ বা দিল্লি ইন্টেলিজেন্স পেনিট্রেট করেছে । তা না হলে যে স্ক্রুনিটির ভেতর দিয়ে দেশের প্রকাশক, লেখকদের যেতে হয়েছে, সেখানে এ বই কীভাবে এত প্রচার পেতে পারে। এই ইন্টেলিজেন্স চেয়েছিল যে এখানে ধর্মের নামে একটা গভীর সামাজিক বিভাজন তৈরি হোক। এমন একটা মনস্তত্ত্ব তৈরি হোক যাদের অবদমিত মন বলবে আমিই ইসলাম ।
এই মনস্তত্ত্ব যে বাংলাদেশে ছিল না তা না। তসলিমা নাসরিনের ফাঁসির দাবির সময়েই দেখা গেছে যে এই মানসিকতা এখানকার ইসলামপন্থীদের আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছিল না। আগে হুমায়ূন, সমরেশ, সুনীল পড়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসত, এখন আসছে প্যারা. সাজিদ পড়ে, টার্কিশ সিরিয়াল দেখে বা ইউটিউবে ইসলামি জজবার নাটক দেখে।
এখানে একটা বিষয় হলো যে, এসব স্টুডেন্টরা যার যার লাইফস্টাইলে যেমন হোক রাজনীতির প্রশ্নে ইসলামকে রাখতে চায়। এটা তাদের পলিটিক্যাল ইসলাম। তাদের রাজনৈতিক জ্ঞান এটা যে, তারা এন্টি শাহবাগী। শাহবাগ যেহেতু ইসলামকে বা মুসলমানদের দমন করতে চেয়েছে। তাদের ইসলামপন্থা সে কারণে এন্টি শাহবাগ।
এই গভীর বিভাজন আওয়ামী লীগের তৈরি করা।
.
আরেকটা বিষয় হলো, প্যারা সাজিদের যুক্তি করার ধরন আর শিবিরের যুক্তি করার ধরন সেম। এই যুক্তির ভিত্তি হলো প্রতিপক্ষ তৈরি করা যে কোনো উপায়ে। যে যাই বলুক, খাটুক বা না খাটুক অপরকে কনডেম করে তারা যুক্তির নামে জবরদস্তি চালায় । যুক্তির এ ধরন নিয়ে আরেকদিন কথা বলা যাবে।
.
এখানে মূল কথাটা আসলে বলতে চেয়ে ছিলাম, জুলাই অভ্যুত্থান কিন্তু ইসলামি পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য হয় নাই । তবে জুলাইয়ের পর এ জিনিসটাকে আবার জাগিয়ে তোলা হয়েছে। এই সময়ে মাজার ভাঙা থেকে শুরু করে কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো বা জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে । অথচ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এটা নিয়ে বিক্ষোভ করে নাই । কিন্তু তাদের অনেককে দেখা গেছে ছাত্ররাজনীতি, হিজাব, নারায়ে তাকবির স্লোগান-এসব ইস্যুতে বিক্ষোভ করতে ।
এতক্ষণ যে আলোচনাটা করলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যে সেন্টিমেন্ট সেটা শিবিরের কাজ করার একটা উর্বর ক্ষেত্র । অন্যরা জল ঘোলা করছে আর তারা সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে ।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এই যে সেন্টিমেন্ট সেটা গন্তব্যহীন বা অন্ধ । তারা দেখেছে যে ভারত তাদের দমিয়ে রেখেছে বছরের পর বছর। হাসিনাকে খেলানোর পর সেখান থেকে তারা মুক্ত। কিন্তু এরপর কি তারা জানে না। এই শূন্য অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে শিবির। তারা সবকিছুতে ধর্মকে প্রবিষ্ট করছে। ফলে এখানে ভারত বিরোধিতা মানে নারায়ে তাকবির স্লোগান । হিজাব পরতে আওয়ামী লীগ মানে ইন্ডিয়া বাধা দিত, এখন ছাত্রদল দিচ্ছে । সেই একই বৃত্ত।
শিক্ষার্থীদের অনুভূতি নিয়ে এই খেলায় অবশ্য শিবির একজন খেলোয়াড় মাত্র । বিস্তৃত ইনফ্রাস্টাকচার আছে এর পেছনে।
আওয়ামী লীগের তৈরি করা সামাজিক বিভাজনের যে মনস্তত্ত্ব, সেটাকে তারা কাজে লাগাচ্ছে । সহজে কাউকে ভারতের দালাল বলা, ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হলে মির্জা আব্বাসকে দায়ী করতে পারা-এই যে আওয়ামী সাইকি এখনো রয়ে গেছে মানুষের ভেতর সেটা আরো বাড়িয়ে বড় করতে চাইছে তারা।
বিষয়টা সবার বুঝে উঠতে সময় লাগবে।
.
তবে এটাকে সফ্ট ডানপন্থার উত্থান হিসেবে দেখাটা ভুল হবে। এটা সফট ডানপন্থা না, এটা একটা তৈরি করা পরিস্থিতি । জোর করে দেখানো হচ্ছে ডানপন্থাকে। মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে ।
Monday, 5 January 2026
আমেরিকা যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে নয়, সুযোগ দিয়ে
রাশিয়ার সামরিক শক্তি আছে, কিন্তু রাজনৈতিক দুঃসাহস নেই—এই কারণেই জেলেনস্কিকে মাদুরোর মতো ধরে এনে নাটক শেষ করার ক্ষমতা তাদের হয়নি।
চীনের অর্থনীতি বিশাল, কিন্তু ঝুঁকি নেওয়ার সাহস সীমিত—তাইওয়ান ইস্যুতে তারা হুংকার দেয়, যুদ্ধ শুরু করে না।
কারণ আধুনিক যুগের যুদ্ধ আর ট্যাংক–বোমার যুদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্র ভাঙার যুদ্ধ, নেতৃত্ব অপসারণের যুদ্ধ, সমাজের ভেতরে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার যুদ্ধ।
এই খেলাটা খেলতে পারে হাতে গোনা কয়েকটি রাষ্ট্র—আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকা যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে নয়, সুযোগ দিয়ে। তারা ডলার ছুড়ে দেয়, #নিষেধাজ্ঞা চাপায়, অভ্যন্তরীণ #বিভাজন উসকে দেয়, #বিশ্বাসঘাতকতা কিনে নেয়।
সেখানে বীরত্বের দরকার হয় না; দরকার হয় ব্যাংক, ড্রোন, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আর নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া। এ কারণেই আজ পৃথিবীতে প্রকৃত মিলিটারি সুপারপাওয়ার একটাই—যুক্তরাষ্ট্র।
বাকিরা বড়জোর আঞ্চলিক শক্তি, নয়তো উচ্চস্বরে চিৎকার করা দর্শক।
চীন যদি পূর্ণ সক্ষমতায় এক বছর যুদ্ধ চালায়, তার তথাকথিত ‘অলৌকিক অর্থনীতি’ ভেঙে পড়বে। কারণ যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের হিসাব নয়—এটি জ্বালানি, খাদ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহনশীলতার হিসাব।
যাদের পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, তারা দীর্ঘ যুদ্ধের খরচ বইতে পারে না।
আর ইরান—পশ্চিমাদের আসল আতঙ্ক এখানেই। তারা জানে, ইরানকে যদি মাত্র এক বছর সব নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়, তাহলে এমন সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার মানচিত্র ছিঁড়ে টুকরো করে দেবে।
কারণ ইরানের আছে নিজস্ব ইতিহাস, সভ্যতা, শিক্ষা, গবেষণা অবকাঠামো এবং ব্যবহারযোগ্য বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ।
ঠিক এই কারণেই ইরানকে দমবন্ধ করেই রাখা হচ্ছে—শক্তি হয়ে ওঠার আগেই শ্বাসরোধ।
আজকের পৃথিবীতে আঞ্চলিক সামরিক জোট ছাড়া আমেরিকার সামনে কেউ নিরাপদ নয়। ভেনেজুয়েলার পাশে বাস্তবে কেউ নেই—আছে শুধু ভণ্ড বিবৃতি, ক্যামেরাবান্ধব উদ্বেগ আর ঠুনকো নৈতিকতার অভিনয়। লাতিন আমেরিকা যদি সত্যিকারের এক কণ্ঠে দাঁড়াত, তাহলে ওয়াশিংটনের জন্য এই আগ্রাসন এতটা সহজ হতো না। বিভক্ত জাতি মানেই সহজ শিকার—এটাই সাম্রাজ্যবাদের পরীক্ষিত সূত্র।
আর এখানেই সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা লুকিয়ে আছে—বাংলাদেশের ওপর যদি বাস্তব চাপ আসে, ভাইয়ের মতো পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো শক্তি কি আছে? নেই। আছে কেবল কূটনৈতিক হাসি, ভারসাম্যের বুলি আর আত্মসমর্পণের পরামর্শ। এই বিশ্বে দুর্বলরা বন্ধু পায় না—পায় কেবল ব্যবহারকারীদের। শক্তি না থাকলে নৈতিকতা শুধু বক্তৃতা, আর সার্বভৌমত্ব থাকে কাগজে লেখা একটি শব্দ।
'আর বাকীসব #মায়াকান্না'
Subscribe to:
Comments (Atom)
