Friday, 13 February 2026

জামায়াত পরিবর্তন চাওয়া মানুষের পক্ষে দাঁড়াইছে।

এক, জামায়াত জোট ৭৭ আসনে জয় পাইছে। এর বাইরে প্রায় আরও ৫৩ আসনে ভোটের ব্যবধান খুবই কম ছিল। ৭৭+৫৩ = ১৩০। অর্থাৎ, অল্প কিছুটা ভোট পাইলে আর ২০টার মত আসনে সুইং হইলেই জামায়াত এই নির্বাচন জিতে যাইত। জামায়াতের আরেকটা সুবিধা হইল, দেশের তরুণদের মধ্যে তারা ভোট বেশি পাইছে। কম ভোট পাইছে গ্রামীণ জনপদে। ফলে সামনের দিনের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের সাথে কাজ করার এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করার অনেক সুযোগ আছে। দুই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে পাবলিক পরিসরে জামায়াতের তেমন কোন অবস্থান ছিল না। এর আগের নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের বেস্ট পারফরম্যান্স ছিল ১২% ভোট আর ১৮ আসন। সেইখান থেকে জামায়াত এখন প্রায় ৩৫–৪০% ভোট পাওয়া দল, ৮০টার মত আসন পাওয়া দল। এই পজিশন থেকে ৫ বছরের একটা দায়িত্বশীল রাজনীতি জামায়াতকে সফলতার কাছে নিয়ে যাবে। তিন, জামায়াতের সবচেয়ে বড় সফলতা হইল, জামায়াত পরিবর্তন চাওয়া মানুষের পক্ষে দাঁড়াইছে। জুলাই সনদের পক্ষে দাঁড়াইছে। অনেক পলিসির ক্ষেত্রে উদার অবস্থান নিছে। জামায়াত এখন সুযোগ পাইল প্রমাণ করার যে, এইগুলো শুধু নির্বাচনে জেতার জন্য ছিল না। বরং জাতির প্রতি কমিটমেন্ট ছিল। সংখ্যালঘু, নারী, শরীয়া আইন—ইত্যাদি ইস্যুতে জামায়াত তার পজিশন এখন আরও ক্লিয়ার করার সুযোগ পাবে, যাতে সামনের নির্বাচনের আগে কেউ অস্পষ্টতার অভিযোগ আনতে না পারে। চার, দেশের জন্য বিরোধী দলের ভূমিকাও জরুরি। জামায়াতের সুযোগ আছে বিএনপিকে চেক-এ রাখার। বিএনপি ভাল করলে ডিস্টার্ব করা যাবে না, খারাপ করলে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। জামায়াতকে আজকে থেকে, এখন থেকেই আবার রাজনীতি শুরু করতে হবে। দেশের জন্য, মানুষের জন্য, পরিবর্তনের জন্য। জুলাইয়ের তরুনদের জন্য। একদিনও নষ্ট করা যাবে না। এই নির্বাচন পরাজয়ের নির্বাচন না, বরং জয়ের পথে যাওয়ার প্রথম ধাপ অতিক্রম করা। জুলাইয়ের সময় একটা স্লোগান ছিল, “দম ফুরায়ে গেছে?” পরিবর্তনের জন্য বিপ্লবীদের দম ফুরায়ে যায় না। বিপ্লবের শুরু মাত্র। কেউ ফ্যাসিস্ট হইতে চাইলে তার দমই ফুরায়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

No comments:

Post a Comment