Wednesday, 13 June 2018

শয়তান প্রধান শেখ মুজিবের পা কেন টিপতেছে কেন?

মাওলানা ভাসানী হক কথায় লিখেন, একদিন শয়তানের প্রধানকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। শয়তানের সকল শাখায় সংবাদ পৌছে গেল যে, শয়তান প্রধাননের কোন খবর নাই। খবর পাওয়া মাত্রই দুনিয়ার সকল শয়তান জরুরী ভিত্তিতে মিটিংয়ে মিলিত হয় এবং ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। কিন্তু দুদিন পার হওয়ার পরও কোন সন্ধান কেউ দিতে পারেনি। অতপর শয়তানের যে এজেন্ট জাহান্নামের দায়িত্বে আছেন তাকে ফোন করা হল, শয়তান প্রধানকে আল্লাহ কোন গোপনে জাহান্নামে ঢুকিয়ে রেখেছে কিনা? খবর আসল তিনি জাহান্নামে নাই। তাহলে বেহেশতে দেখ আল্লাহ কোন তাকে মাফ করে দিয়ে সেখানে রেখেছে কিনা? সকল সম্ভাব্য সুত্রে খবর নিয়ে দেখা গেল তিনি সেখানেও নেই। শয়তানের সকল এজেন্সীগুলো আবারো সচল হল এবং শয়তান প্রধানকে ভূপৃষ্টে তন্ন তন্ন করে খোঁজা হল। কোথাও থেকে কোন আশাব্যঞ্জক খবর পাওয়া গেলনা।

দুদিন পর অকস্মাত খবর আসল শয়তান প্রধানকে পাওয়া গিয়েছে। সবাই প্রশ্ন করল কোথায়?? উত্তর আসল তিনি বাংলাদেশের বঙ্গভবনে। আবারো প্রশ্ন তিনি ওখানে কি করছেন? মাধ্যম উত্তরে জানালেন তিনি এখন শেখ মুজিবের পা টিপাটিপি করিতেছেন। সব শয়তান তাজ্জব হয়ে গেলেন দুনিয়ার এতকাজ থাকতে শয়তান প্রধান শেখ মুজিবের পা কেন টিপতেছেন কেন? তার সাথে কি কথা বলা যায়? উত্তর আসল এমুহুর্তে কথা বলার সময় ওনার হাতে নাই, কেউ যাতে ওনাকে বিরক্ত না করে। তারপরও সকল শয়তান তাদের প্রধানের নিকট অনুনয় বিনয় করে জানতে চাইলেন শেখ মুজিবের পা টিপার রহস্যটি কি? অবশেষে শয়তান প্রধান জানালেন, শয়তান প্রধান নিজেও একজন মানুষকে গোমরাহ করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। কখনও সফল হন কখনও ব্যর্থ হন। কিন্তু শেখ মুজিব যেভাবে একটি বক্তৃতা দিয়ে তার সকল অনুসারীদের গোমরাহ করেন, সে যোগ্যতা শয়তান প্রধানের নেই। শেখ মুজিব এককথায় যতজন মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে পারেন, শয়তান প্রধান সারা জীবনেও তা করতে পারেন না। আর ৭ই মার্চের ভাষনে শেখ মুজিব এক বক্তৃতায় সাড়ে সাত কোটি মানুষকে গোমরাহ করেছে, যা কিনা সকল শয়তান সদস্য ১০০ বছরে করতে পারেনা। তাই শয়তান প্রধান অন্য সকল কাজ বাদ দিয়ে একজনের পা টিপাতে লেগে গেছেন, যদি শেখ মুজিবের মাধ্যমে আরেকটি বক্তৃতা বের করা যায় এই আশায়।

মাওলানা ভাষানী কর্তৃক প্রকাশিত হক কথা পত্রিকাটি তারপরদিনই নিষিদ্ধ করা হয় চিরতরে। মাওলানা ভাষানী গ্রেফতার হন, নিক্ষিপ্ত হন জেলের প্রকোষ্টে। এখানে উল্লেখ্য মাওলানা ভাষানী শেখ মুজিবর রহমানের রাজনৈতিক গুরু ছিলেন। ৬৭ থেকে ৬৯এর গন আন্দোলন মূলত মাওলানা ভাষানীর সৃষ্টি, সে সময় শেখ মুজিবর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্রে পরিকল্পনারত অবস্থার ব্যস্থ। পরবর্তীতে মাওলানা ভাষানীর সমূদয় ফসল শেখ মুজিবের ঘরে যায়। যাহোক দেশ স্বাধীন হয়, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়না। এ সর্ম্পকে সরকারকে ইতিবাচক বহু লিখা মাওলানা লিখেছেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ফল হল চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনীর মত। অতপর: মাওলানা এই সম্পাদকীয় লিখেন। এমনিতেই মুজিব সমালোচনা বরদাশত করতেন না, তাই গুরু সমালোচনা করেছেন নাকি শত্রু করেছেন এই চিন্তারও দরকার ছিলনা শেখ মুজিবর রহমানের। তদানীন্তন মুজিবের জীবিতকালে মুজিবের পক্ষে লিখবে এমন পত্রিকার সংখ্যাও নগন্য হয়ে গিয়েছিল। কারন পত্রিকাতো মানুষ নিজের পকেটের পয়সা দিয়ে কিনবে, আর পত্রিকা মালীকেরা সরকারের পক্ষে মিথ্যা আর কত লিখবে? চক্ষু লজ্জা বলে কথা আছেনা। ফলে শেখ মুজিবর রহমান বাকশাল কায়েমের পাক্ষালে মাত্র চারখানা পত্রিকা রেখে বাকী সকল পত্রিকার সার্কুলেশন বাতিল করেন। বাংলা ভাষায় প্রচলিত শব্দ তুই, তুমি, আপনি, শব্দত্রয় মানুষ ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবহার করেন। এই তিনটি শব্দ সবাই কম-বেশী ব্যবহার করেন তবে শেখ মুজিবের অভিধানে আপনি শব্দটি ছিলনা। ১৯৭০ সালের আগে তিনি কিছুদিন মাওলানা ভাষানীকে আপনি বলেছেন বলে ইতিহাস আছে। বাকী ৮০ শতাংশ তুই বাকি ২০ শতাংশ তুমি দিয়েই দৈনন্দিন কাজ সারতেন। আর শেখ মুজিবকে একজন মাত্র মানুষ তুই বলার ক্ষমতা রাখতেন তিনি হলেন শেখ মুজিবের বন্ধু চট্টগ্রামের আওয়ামী নেতা জহুর আহাম্মদ চৌধুরী। এদের আচরনে শিষ্টাচারের কোন মাত্রাই ছিলনা। অপরকে বরদাশত না করার প্রবনতা যেমন শেখ মুজিবের আপাদমস্তকে ছিল তেমনি তার বংশধর ও অনুরারীরা এত্থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি, পারেওনা। বিরোধী দলকে উপেক্ষা, দমন, দলনে অভ্যস্থ শেখ মুজিব যদি স্বাধীন দেশে একটি সর্বদলীয় কেবিনেট করতেন তাহলে তার ঐতিহাসিক নির্মম পরিনতি হয়ত হতোনা দেশেরও উন্নতি অগ্রগতি হতো। তার পতনের জন্যে শতভাগ আওয়ামীলীগ দায়ী। কারন শেখ মুজিবকে তৈল মেরে মেরে এমন পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিল সেখান থেকে তার প্রস্থানের পথ আর রাখেনি, তাকে ধারনা দেওয়া হয় আপনি ব্যতীত এ জাতির কান্ডারী আর কেউ নেই। যাদেরকে তার প্রতিপক্ষ ভাবা হত, তাদের হয় জেলে পুরেছেন, গোপনে হত্যা করেছেন বাকিদের বিচার না করে নাগরিকত্ব হরণ করে দেশান্তরী হতে বাধ্য করেছেন। তারপরও সরকার পরিবর্তনের যে ক্ষীন সম্ভাবনা জাতির জীবনে ছিল বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে তারও মৃত্যু ঘটে। শেখ মুজিব নিজেই নির্মম হত্যা ব্যতীত পরিবর্তনের কোন সুযোগ জাতির জন্যে রাখেননি। তার অহমিকা, হঠকারীতা, অবাস্তব সিদ্ধান্ত, তোষামোদ প্রিতী, যোগ্যতার বদলে তৈল মর্দনকে যোগ্যতার মাপকাঠি বিবেচনা, কিছু তরুন ভয়ানক উশৃঙ্খল ব্যক্তির হাতে গুরু দায়িত্ব ন্যস্ত, লোভী, দেশপ্রেমহীন, চাটুকারের হাতে গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয় বন্টন, সর্বোপরি দেশ চালানোর জন্যে যোগ্য সচিব-সচিবালয় না থাকায় প্রতি পদে পদে ভারতীয় পরামর্শ গ্রহন, ভারতের নির্বাচিত ব্যক্তিদের পদে পদে প্রবেশ করানোই ছিল শেখ মুজিবের চরম পতনের অন্যতম প্রধান কারন। যার ফলে শুধু তাকেই মরতে হয়নি নিরাপরাধ পুত্রবধু, ছোট সন্তান, পত্নি সবাইকে মরতে হল। এই মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক, বেদনাদায়ক জাতির জন্যে। শেখ মুজিব এমন একটি দল গঠন করেছিলেন যার নাম আওয়ামীলীগ, এখানে সুবিধাবাদী, স্বার্থবাদী, হিংসুক, দয়া-মায়া দেশপ্রেমহীন, ধ্বংসকারী, লুটেরাদের আশ্রয়স্থলে পরিনত হয়। পরিনতিতে তার লাশ সিড়িতে পড়ে থাকাবস্থায় নেতারা কে অন্যদেশের রাষ্ট্রদূত হবে, কে মন্ত্রী হবে ইত্যাদি নিয়ে দেন দরবার শুরু করেন। খুবই নিদারুন পরিস্থিতিতে তার লাশ দাফন হল। পরিতাপের বিষয় কোনদিন শুনিনি কোন আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীর মুখে কিংবা শেখ হাসিনা-রেহানার মুখে, শেখ মুজিবর রহমান শহীদ হয়েছেন। ইসলামের ইতিহাসে শাহাদাত সবচেয়ে বড় পাওনা, শেখ মুজিব একজন মুসলিম হিসেবে তার তা পাওনা ছিল। তবে আওয়ামীলও ধরে নিয়েছেন শেখ মুজিব যা করেছেন এবং যে কারনে মরেছেন তাকে অন্তত শহীদ বলা যায়না, তাই দাবীও করা হয়না, অথছ মুক্তিযুদ্ধের সবাইকে, ভাষা আন্দোলনের সবাইকে, এমনকি জিয়াউর রহমানকেও শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, কেউ প্রশ্ন তোলেনা। মুসলিম মাত্রই প্রতিটি শহীদকে নামাজে-রোজায়, জিকিরে দোয়া করে। শেখ মুজিব হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী সাজতে গিয়ে সেখান শহীদি সম্মান থেকেও নির্বাসিত হলেন। নিজ জাতি, ধর্ম-গোত্র ছেড়ে অন্য জাতি, ধর্মের প্রিতী বাড়ালে ইতিহাসের শিক্ষা তাই হয়। প্রশ্ন হল বর্তমান আওয়ামীলীগ ও তার নেত্রী উপরোক্ত সকল বিষয় থেকে মুক্তহতে পেরেছিন কি?

Sunday, 13 May 2018

স্যাটেলাইট ফার্মেসিতেও পাওয়া যায়। জ্বর হইলে বাথুরুমে গিয়া লুঙ্গি তুইলা পেছন দিয়া ঢুকাইতে হয়। ডাক্তার আমারে একবার সাজেস্ট করছিল। বিরক্ত হয়ে ডাক্তাররে বলছিলাম- আপনি আমারে অপমান করেন, এইটা আমার কাম্য না। আপনারে টেকা দিবো , আপনি ট্রিটমেন্ট করবেন। ওষুধ দিবেন, খাবো। অসুখ সারলে ভাল, না হইলে মইরা যাব। তাই বলে স্যাটেলাইট পেছনে ঢুকায়া বইসা থাকতে পারবো না। ডাক্তার হো হো কইরা হাইসা দিলেন।

তো , যে স্যাটেলাইট পাশের ফার্মসিতেই পাওয়া যায় আর গোয়ায় ভইরা বইসা থাকতে হয়- সেই স্যাটেলাইট আসমানে উড়াইলে কি ফায়েদা হবে , আমার বুঝে ধরে না। খালি বেহুদা অপচয়!
জাফর-টার্ন

২০১৩ সালে শাহবাগে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন, ব্লগ (সামাজিক মাধ্যমে) ব্যবহার করে “সারাদিন পৃথিবীতে যেটা হয় নাই এটা এখানে ঘটিয়ে দিয়েছে” তরুণরা।

আর ২০১৮ সালে বাংলাট্রিবিউনের কলামে তিনি জানালেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে পৃথিবীতে খুব বড় কোনও কাজ হয়েছে বলেও আমার জানা নেই।”

দুই বক্তব্যের লিংক:

২০১৩ সালের ভিডিওসহ: https://bdfactcheck.com/factcheck/73

২০১৮ সালের কলাম: http://www.banglatribune.com/columns/opinion/323655/

Monday, 2 April 2018

২৭ তারিখ হরতাল ডাকছি, বাড়িতে যাও, নাকে তেল দিয়ে ঘুমাও!’

যাকে ভোট দিয়ে জাতি দায়িত্ব দিয়েছিল, তিনি যখন বুঝতে পারলেন বিপদ ঘনিয়ে আসছে, আক্রমন অত্যাসন্ন, নিজে কন্যাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে গোপনে বাসা ভাড়া করলেন খিলগাঁওয়ে, ২৫ তারিখ রাত ১০টায় গোপনে তাদের পাঠিয়ে দিলেন - সেখানে। কিন্তু গোটা জাতিকে কোনো সতর্ক করলেন না, যদিও তাঁর সেই সুযোগ ছিলো। হোটেল কন্টিনেন্টালে অসংখ্য বিদেশী সাংবাদিক। উনার ফোনও চালু ছিলো। যাস্ট একটা কল করলেই জাতি এবং বিশ্ব জেনে যেতো। কিন্তু তিনি তা করার সাহস করেননি।

তিনি কি করলেন? দলীয় সাধারন সম্পাদক টেপরেকর্ডার নিয়ে যান স্বাধীনতার ঘোষণা রেকর্ড করতে। ফিরিয়ে দিলেন। বললেন, ‘এটা করে আমি রাষ্ট্রদ্রোহিতার প্রমান রাখতে চাই না। ২৭ তারিখ হরতাল ডাকছি, বাড়িতে যাও, নাকে তেল দিয়ে ঘুমাও!’

তার নির্দেশে দলের নেতাকর্মীরা সব পালালো। কিন্তু সতর্ক করলেন না দেশবাসীকে- ক্রাকডাউনে মরলো হাজার হাজার সাধারন মানুষ, একটা নেতাও মরেনি!

তাঁর স্ত্রী আগে থেকেই ঢোলা পাজামায় ফিতা ভরে সুটেকেস গুছাইয়া অপেক্ষায় থাকলেন, কখন নিতে আসবে। এবং যথারীতি আসলো। ফারল্যান্ড তেমনই কথা দিয়েছিলেন। প্রিয় এরিনমোর তামাক টানতে টানতে চলে গেলে। পশ্চিম পাকিস্তানে নেয়ার আগে ঢাকার জিওসির বাসভবনে অতিথিশালায় থাকলেন।

পরে তাঁর পরিবারের জন্য ইয়াহিয়ার কাছে থেকে মাসে ১৫০০ রুপী (যার বর্তমান মূল্য ৬ লাখ টাকা) ভাতা যোগাড় করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র!

যুদ্ধকালে তার জামাতা এম এ ওয়াজেদ সুধামিয়া পাকিস্তান সরকারের এটমিক কমিশনে চাকরি করলেন যুদ্ধের শেষ দিন অবধি, বেতনও নিলেন। তারা থাকতেন পাক বাহিনীর পাহারায় ধানমন্ডির এক বাড়িতে। নিজেদের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে বেগম সাহেব প্রায়ই দেখা করেন ইয়াহিয়ার গভর্নরের সাথে। সেখান থেকে বড় কন্যার গর্ভখালাস করে সন্তান জন্ম দেয় সরকারী হাসপাতালে, পাক বাহিনীর অফিসাররা স্যালুট দিয়ে আনা নেওয়া করতো সেনা গাড়িতে করে।

অন্যদিকে লায়ালপুর কোর্টে বিচার চলাকালে ২৯ বার এফিডেভিট দিয়ে তিনি বলেন- “আমি পাকিস্তান ভাঙ্গার সাথে জড়িত নই, পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে আমি নেই। আমাকে রেডিও টিভিতে নিয়ে চলো, আমি বার্তা দিতে তৈরী!”

পূর্বপাকিস্তান স্বাধীন হয়ে গেছে শুনার পরে তিনি সেজদায় পরে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করলেন- “ইয়া আল্লাহ, এ তো আমি চাইনি!” সিহালা পুলিশ রেস্ট হাউজে ২৬ ডিসেম্বর ভুট্টো বৈঠক করতে এলে তিনি জানতে চান, “তুমি কি করে প্রধানমন্ত্রী হলে? আমি মেজরিটি পার্টির লীডার। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা আমার! ভুট্টো বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের পতন হয়েছে।” তিনি লাফ দিয়ে উঠেলেন- “এটা কি করে সম্ভব? আমাকে টিভি রেডিওতে নিয়ে চলো, আমি ঘোষণা দিব, পূর্ব পাকিস্তানই থাকবে!” বহুবার  বলেছেন ..... “তাজুদ্দিন বদমাশ, গরবর করেগা”। ...আরও বললেন, “ইয়াহিয়া গাদ্দার, ইন্ডিয়ার এজেন্ট। পাকিস্তান বরবাদ করতে চায়!” আমি পাকিস্তানের জন্য কঠিন পরিশ্রম (মুশাকাত) করতেছি!”

স্বাধীন বাংলাদেশ হওয়ার খবর শোনার ৩ সপ্তাহ পরও তিনি ছবি তুলে পাকিস্তানের নতুন পাসপোর্ট বানালেন! পাকিস্তানের নাগরিক হয়েই তিনি দেশে ফিরে সদস্য স্বাধীন বাংলাদেশের গদিতে আরোহন করলেন!

তিন বছর পরে জিগরি দোস্ত ভুট্টোকে দাওয়াত করে আনলেন ঢাকায়! তখন ঢাকায় আবার শোনা গেলো ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ শ্লোগান, বঙ্গভবনে উড়লো পাকিস্তানের পতাকা। বন্ধুকে বাঁচাতে ছেড়ে দিলেন সব যুদ্ধাপরাধীদের!

যার লাইফটাইম এচিভমেন্টের জন্য পাওয়ার কথা নিশান-ই-পাকিস্তান তাকে জোর করে বানানো হচ্ছে ‘জাতির পাপ্পা’! এক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে বরখান্ত করে কি এসব ইতিহাস ধামাচাপ দেয়া যাবে? সব বেরিয়ে আসবে এবং উপযুক্ত মূল্যায়ন হবে।

Friday, 16 March 2018

বাকা ত্যাড়া কথা || কন্যা দানের বেলা...

বাকা ত্যাড়া কথা || কন্যা দানের বেলা...
-------------------------------------------
ইয়েশিম। এটা শীতের সবজি শিম এর নতুন বা হাইব্রিড কোন জাত নয়। আমার পরম আদরের কন্যা ইয়েশিম। দেখতে দেখতে সে বড় হয়ে উঠেছে। যাকে বলে বিবাহযোগ্য। ওর মা ইয়াসমিনের সঙ্গে কথাও বললাম। আমি বোকা সোকা মানুষ। তাই বুদ্ধি পরামর্শের জন্য ওর মা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে।

কন্যা দানের জন্য পাত্র প্রসঙ্গ উঠতেই সামনে চলে এলো আমার বিখ্যাত সেই ফিল্টার প্রসঙ্গ। চেতনার ফিল্টার আবিস্কার করে একবার আমি সারাদেশে হইচই ফেলে দিয়েছিলাম তা তোমাদের সবারই জানা। মেয়ের জন্য পাত্র দেখতে গিয়ে তাই সাম্ভাব্য পাত্রদের এক এক করে সেই চেতনার ফিল্টারে ফেলতে লাগলাম। যতই ফেলতে লাগলাম ততই আমার চোখ বড় হতে লাগলো। যাকে বলে ছানাবড়া!

৫..১০...২০... এভাবে ১০০ সাম্ভাব্য পাত্র ফিল্টারে ফেলে যা দেখলাম তা বলার মত নয়। প্রত্যেকটা পাত্রই আমার সেই বিখ্যাত চেতনার ফিল্টারে কোন না কোনভাবে আটকে গেল! তার মানে কি! আমি বেঁচে থাকতে কন্যা দান করতে পারবো না! বিয়ে হবে না আমার মেয়ের!! তা কি করে হয়!! আমার এত এত ভক্তের মধ্যেও এমন একটা চেতনাধারী পাত্র খুঁজে পেলাম না, যার কাছে আমি ইয়েশিমকে পাত্রস্থ করতে পারি!

এরই মধ্যে আমার স্ত্রী ইয়াসমিন এসে ওই ফিল্টারে “পুরোশিমা” কে ছেড়ে দিল। অমনি সুরসুর করে সে চেতনার ফিল্টারের অন্যপ্রান্ত থেকে বেরিয়ে এল। আমি বিস্ময়ের সাথে তাকাতে লাগলাম। কিন্তু এ কি!! “পুরোশিমা” তো একটা রোবট। এর কাছে কিভাবে আমি কন্যা দান করি। হতাশ হয়ে ভাবতে লাগলাম আমি কি তাহলে কন্যা দায়গ্রস্ত হয়ে গেলাম! কিভাবে সম্ভব?

এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ কলিংবেলের আওয়াজ আমার ভাবনায় ছেদ ফেললো। দরজা খুলতেই দেখি আমার আদরের কন্যা ইয়েশিম এক ফিরিঙ্গি যুবকের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখতেই পরিচয় করিয়ে দিল- ‘বাবা ও স্টিভান, আমার বয়ফ্রেন্ড’। স্টিভান! এ তো আমার সায়েন্স ফিকশনে খাটিয়ে দেয়ার মত নাম! যাইহোক বসতে দিয়ে ভাবতে লাগলাম- যে ভানই হোক, আমার মত এমন খাটের তলার গর্তযোদ্ধার মেয়ে এরকম ফিরিঙ্গি একটা যুবকের হাত ধরে আমার সামনে... কি হচ্ছে এসব!

এসব ভাবতেই তাকিয়ে দেখি আমার মেয়ে ইয়েশিম ওই ফিরিঙ্গি স্টিভানকে আমার চেতনার ফিল্টারের ভেতর ছেড়ে দিয়েছে। দৌড়ে গেলাম ওখানে। তখন আমার হাত-পা থর থর করে কাঁপছে। কিন্তু পরক্ষণে যা দেখলাম তাতে আমি অভিভূত। ফিরিঙ্গি হোক আর যাই হোক, আমার চেতনার ফিল্টার গলিয়ে ওই স্টিভান ঠিক ঠিক বেরিয়ে এসেছে। যেভাবে বেরিয়ে এসেছিল আমার পরম বন্ধু আসাদুজ্জামান নূরের ফিরিঙ্গি জামাই।

এভাবেই ইয়েশিমের বিয়ে ঠিক হলো ওই স্টিভানের সাথে। ফিরিঙ্গির সাথে বিয়ে হলেও ইয়েশিমের বিয়েতে বাঙালি সংস্কৃতির খুটি নাটি সবকিছুর আয়োজনই ছিল! টিয়ে পাখি দিয়ে ভাগ্য গণনা থেকে শুরু করে পালকী, পুতুলে বিয়ে, নাগরদোলা, সাপখেলা এমনকি বাঁদরের নাচ দেখানোর ব্যবস্থাও ছিল। একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আমার মেয়ের বিয়ে নিয়ে কি প্রশ্ন তুলবে ওসব ভাবার সময় আমার নেই। আমি ভাবছি আমি নাহয় চেতনার ফিল্টারে পরিক্ষিত একটি জামাই পেয়েই গেলাম। কিন্তু তোমরা যারা আমাকে ভালোবাসো তারা কোথায় পাবে এত পরিক্ষিত জামাই? আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?

Saturday, 17 February 2018

কারক ও বিভক্তি মনে রাখার কৌশল:

কারক ও বিভক্তি মনে রাখার কৌশল:
কারক ৬ প্রকার:
১. কর্তৃকারক;
২. কর্মকারক;
৩. করণকারক;
৪. সম্প্রদান কারক;
৫. অপাদান কারক; এবং
৬. অধিকরণ কারক।
১।কর্তৃকারক: যে কাজ করে সেই কর্তা বা
কর্তকারক।
যেমন: আমি ভাত খাই।
বালকেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।
এখানে মনে রাখার উপায় হচ্ছে ‘কে’ বা
‘কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর
পাওয়া যায়, সেটিই কর্তা বা কর্তৃকারক।
কে ভাত খায়?
উত্তর হচ্ছে আমি।
কারা ফুটবল খেলছে?
উত্তর হচ্ছে-বালকেরা।
তাহলে আমি এবং বালকেরা হচ্ছে
কর্তৃকারক।২। কর্মকারক: কর্তা যাকে অবলম্বন করে
কার্য সম্পাদন করে সেটাই কর্ম বা
কর্মকারক।
যেমন: আমি ভাত খাই।
হাবিব সোহলকে মেরেছে।
এখানে মনে রাখার উপায় হচ্ছে ‘ কি’ বা
‘কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর
পাওয়া সেটিই কর্ম বা কর্মকারক।
আমি কি খাই?
উত্তর হচ্ছে-ভাত।
হাবিব কাকে মেরেছে?
উত্তর হচ্ছে-সোহেলকে।
৩। করণ কারক: ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র বা
উপকরণ বুঝায়।
যেমন: নীরা কলম দিয়ে লেখে।
সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়।
এখানে মনে রাখার উপায় হচ্ছে ‘ কীসের
দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে
যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই করণ কারক।
নীরা কীসের দ্বারা লেখে?
উত্তর হচ্ছে-কলম ।
কী উপায়ে বা কোন উপায়ে কীর্তিমান
হওয়া যায়?
উত্তর হচ্ছে-সাধনায়।
৪। সম্প্রদান কারক: স্বত্ব ত্যাগ করে দান
বা অর্চনা বুঝালে সম্প্রদান কারক হয়।
স্বত্ব ত্যাগ না করলে কর্মকারক।
যেমন: ভিক্ষারীকে ভিক্ষা দাও।
গুরুজনে কর নতি।
মনে রাখার উপায় হচ্ছে-কর্মকারকের মত
কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে রে উত্তর
পাওয়া যায়।

Sunday, 11 February 2018

অর্থ আত্মসাতের দায়ে শেখ মুজিব কারাদণ্ড

Mujib was Convicted since 1960

শেখ হাসিনা আজ বেগম খালেদা জিয়াকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আখ্যায়িত করলেও অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানে জানা গেছে তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানও ১৯৬০ সালে সমাজকল্যাণ মূলক একটি প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাতের দায়ে একই আইনে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ওই মামলার রায়ের কপি থেকে জানা গেছে, পশ্চিম পাকিস্তান গভর্নরের অধীনে পরিচালিত ‘আরবান কমিনিউটি প্রজেক্ট এন্ড ভিলেজ এইড’ প্রতিষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৬ সালে ৭ সেপ্টেম্বরে নিয়োগ পান। অর্থ আত্মসাতের দায়ে তিনি ১৯৫৭ সালের ৭ আগস্ট পদত্যাগ করেন। অর্থ আত্মসাতে তার সহযোগী ছিলেন কাজী আবু নাসের। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওই সময় দুর্নীতি দমন আইন ১৯৪৭ বিধির ৫ (২) ধারায় শেখ মুজিব ও আবু নাসেরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ১৯৬০ সালে এ মামলার রায়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। কেউ কেউ শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে বলছেন, খালেদা জিয়াকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলার আগে আপনার বাবার সাজার কথাটা একবার স্মরণ করুন। আপনার বাবা প্রকৃত অর্থেই গ্রামের অসহায় মানুষের টাকা আত্মসাত করেছিলেন। আর খালেদা জিয়া কোনো টাকা আত্মসাত করেন নি। রাজনৈতিক কারণে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে।