Tuesday, 20 November 2018

কর্নেল তাহেরকে গ্লোরিফাই করতে আওয়ামি লিগ হিউজ ইনভেস্ট করছে

কর্নেল তাহেরকে গ্লোরিফাই করতে আওয়ামি লিগ হিউজ ইনভেস্ট করছে একটা কারণে, বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানের যে সর্বময়ী ইমেজ তা যেকোনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা। সেজন্য যদি একসময়ের তুমুল শত্রু তার গুও যদি চাটা লাগে তাও করতে রাজী আওয়ামি লিগ। লিগ জাসদ এলায়েন্সের পর "ক্রাচের কর্নেল" ছিল সে প্রজেক্টের প্রথম আউটপুট!

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং পার্ট হচ্ছে আওয়ামি লিগ নিজে একটা ইতিহাস বা বয়ান বানাবে, এরপর সেটাকে এমন একটা ব্র্যান্ডিং করবে যাতে করে এইটা একটা "ঐতিহাসিক সত্য" হিসেবে স্থান পায়।

২০১১ সালের কর্নেল তাহেরের সামরিক বিচার নিয়ে দেয়া রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামি লিগ হিউজ ইফোর্ট দিয়েছে। বিচারের মেরিটে অনেকগুলা অযাচিত পয়েন্ট নিয়ে জিয়াউর রহমানকে এমনভাবে ধুয়ে দেয়া হয়েছে যে নিরপেক্ষ মানুষজন ভাবতে পারে জিয়াউর রহমান অসৎ উদ্দেশ্যে তাহেরকে ফাসি দিয়েছে, ইন ফ্যাক্ট এইটা অনেকেই বিশ্বাস করে ফেলেছে ,বিশেষ করে ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেপেলেরা। এত ঢামাঢোলের মধ্যে কয়েকটা ফ্যাক্টর আড়ালে চলে গেছে! এই বিচারকে নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে কিন্তু জিয়াউর রহমান কেন তাহেরের মতন লোকের বিচার করতে বাধ্য হয়েছেন সেটা নিয়ে বিস্তর আলোচনার দরকার আছে। না করলে তরুণ প্রজন্ম এরকম বিকৃত সত্য জেনেই বড় হবে।

অন্য ফ্যক্টরটা হচ্ছে এই রায় প্রদানকারী বিচারক কে ছিল? নামটা শুনলেই নাক কুঁচকে সব বুঝে ফেলবেন! বিচারকের নাম এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। এই লোক যে শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামি লিগার সেটা গেল ক বছরে এই লোকের নির্লজ্জের মতন রাজনৈতিক বক্তব্যে বোঝা হয়ে গেছে। সুতরাং এই লোক যে জিয়াউর রহমানকে যাচ্ছেতাইভাবে অপমান করার সুযোগ হাতছাড়া করবে না সেটাই খুব স্বাভাবিক। আর সিনহার বইয়ের পর কারো সন্দেহ অবশিষ্ট থাকার কথা না রাজনৈতিক রায়গুলো লিখাই হয় সরকারের অঙ্গুলি হেলনে! টাকা,নির্দেশ আর দলান্ধতা থেকেই এই ধরনের রায় বের হয়! :)

সুতরাং তাহের "হত্যা(!!!)"র বিচারের রায় "ঐতিহাসিক" হওয়া তো দূরে থাক, একটা দলান্ধ শুয়রের লেখা স্ক্রিপ্ট মাত্র! এই জিনিসটা সামনে আনাটাই খুব জরুরি!

Saturday, 10 November 2018

রামসুন্দর বসাক প্রণীত "বাল্যশিক্ষা"

পেয়ে গেছি ! পেয়ে গেছি ! পেয়ে গেছি !
অনেক দিন ধরে খুজে বেড়াচ্ছি এই পবিত্র ধন ! যা কিনা মানুষকে সভ্য হতে সহায়তা করে, ভাষা- শিক্ষা, আদব-কায়দা, জ্ঞ্যান ও সম্মান করতে শিখায়। যিনি এত সুন্দর শিক্ষার আয়োজন করে গেছে, বাংলা ভাষা ভাষী মানুষকে শিক্ষা ও যথার্থ জ্ঞ্যান অর্জনে সহায়তা করে গেছেন তিনি হচ্ছেন "রামসুন্দর বসাক"

শিশুদের জন্য বর্ণপরিচয় রচনার গোড়ায়ই এসে পড়ে বর্ণমালার কথা। আমরা জানি ব্রাহ্মীলিপি থেকেই বিবর্তিত হয়ে বাংলা বর্ণমালার উদ্ভব হয়েছে। এ বিবর্তন প্রক্রিয়া চলেছে তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে। তবে বলা যেতে পারে, বিদ্যাসাগরের হাতেই বাংলা বর্ণমালার যথাযথ উন্নতি হয়েছে, যে মৌলিক উন্নয়নের পর পরবর্তী সার্ধশতবছরে মাত্র কিছু সংস্কারমূলক কাজ হয়েছে। তাঁকে প্রথমত বর্ণমালার প্রকৃতি ও সংখ্যা নির্ধারণ করতে হয়েছে। ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হালেদের বইয়ে স্বরবর্ণের সংখ্যা ছিল ১৬। পরবর্তী প্রায় একশত বছর মদনমোহনের শিশুশিক্ষা প্রথম ভাগ পর্যন্ত স্বরবর্ণের সংখ্যা ১৬টিই ছিল। এগুলো হলো অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, ৠ, ঌ, ৡ, এ, ঐ, ও, ঔ, অ০, অঃ। বিদ্যাসাগর এই সংখ্যা কমিয়ে ১২তে নামালেন। তিনি ভূমিকায় লিখলেন:
"বহূকালাবধি বর্ণমালা ষোল স্বর ও চৌত্রিশ ব্যঞ্জন এই পঞ্চাশ অক্ষরে পরিগণিত ছিল। কিন্তু বাঙ্গালা ভাষায় দীর্ঘ ৠ-কার ও দীর্ঘ ৡ-কারের প্রয়োজন নাই। এই নিমিত্ত ঐ দুই বর্ণ পরিত্যক্ত হইয়াছে। আর সবিশেষ অনুধাবন করিয়া দেখিলে অনুস্বার ও বিসর্গ স্বরবর্ণ মধ্যে পরিগণিত হইতে পারে না। এই নিমিত্ত ঐ দুই বর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ মধ্যে পঠিত হইয়াছে। আর চন্দ্রবিন্দুকে ব্যঞ্জনবর্ণস্থলে এক স্বতন্ত্র বর্ণ বলিয়া গণনা করা গিয়াছে। "ড, ঢ, য এই তিন ব্যঞ্জনবর্ণ পদের মধ্যে অথবা পদের অন্তে থাকিলে, ড়, ঢ়, য় হয়।""
বিদ্যাসাগরের এই মৌলিক সংস্কারের ১২৫ বছর পর স্বরবর্ণে মাত্র আর একটি সংস্কার ঘটেছে, তাহলো ঌ বর্ণটি বাদ দেওয়া। এখন স্বরবর্ণ ১১টি। ব্যঞ্জনবর্ণ ছিল ৩৪টি। বিদ্যাসাগর তাতে নতুনভাবে ছয়টি বর্ণ যুক্ত করেন। অনুস্বার ও বিসর্গকে স্বরবর্ণ থেকে ব্যঞ্জনবর্ণে নিয়ে এসে চন্দ্রবিন্দুকেও যোগ করে দিলেন। ড, ঢ, য-এর দ্বিবিধ উচ্চারণের ক্ষেত্রে নিচে ফুটকি বা শুন্য দিয়ে নতুন তিনটি ব্যঞ্জন অক্ষর আবিষ্কার করলেন। তা ছাড়া বিদ্যাসাগর দেখলেন, "বাঙ্গালা ভাষায় একারের ত, ত্ এই দ্বিবিধ কলেবর প্রচলিত আছে।" তাই এটিকেও ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্ত করেছেন। আর ক্ষ যেহেতু ক ও ষ মিলে হয় "সুতরাং উহা সংযুক্তবর্ণ, এ জন্য অসংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ গণনাস্থলে পরিত্যক্ত হইয়াছে।" এভাবে তাঁর হাতে ব্যঞ্জনবর্ণ হলো ৪০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ঌ-এর মতই শুধু অন্তঃস্থ 'ব' বর্ণটি বাদ যায়। এখন ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।














যারা কখনো দেখেন নি বা যারা এই বই পড়েছেন তাদের স্মরন করিয়ে দেবার জন্য এই পোষ্ট। (সংগ্রীহীত)

Monday, 5 November 2018

Does the Quran in Surah Al-Ahzab 33:37 permit a man to marry his daughter-in-law?

Does the Quran in Surah Al-Ahzab 33:37 permit a man to marry his daughter-in-law?
Ah, the daughter in law thing again. How original.
Anyway, the simple answer is NO. But that obviously was not the answer that the question was intended for. It had other ulterior motives, Let’s embarrass Muslims by bringing up how their Prophet married his daughter-in-law…(Gasp..the horror).
So are Muslims embarrassed? Nope, Muslims are not.
Why? Is there no decency left in this world? (OMG)
Let me explain why:
Zaid ibn Harithah was taken as a captive when he was very young. When Khadija married the Prophet, she gifted Zaid as a slave to the Prophet. The Prophet and Zaid grew very close to each and loved each other a lot. There was so much love between them that when Zaid’s father and uncles finally found Zaid, he refused to go back home with them and preferred to stay with the Prophet. The Prophet then freed him formally and then adopted him as a son. From then on, Zaid was known as Zaid ibn Mohammed (Zaid, son of Mohammed).
Zaynab bint Jahsh was a cousin of the Prophet on his father’s side. She had been married to someone but nothing is known about that. All this happened before the advent of Islam.
Between the time that the Prophet started preaching Islam and until the emigration to Medina, Zaynab’s husband passed away. And she emigrated to Medina with her brother.
After her emigration to Medina, the Prophet proposed that she marry Zaid. But she refused. Simply because she felt that her social status was higher than Zaid, an ex slave. It was precisely because of this, that the Prophet wanted them married because he wanted to stress that standing with God mattered more than societal differences.
Finally, it was when Allah revealed the Ayah of the Quran:
It is not for a believing man or a believing woman, when Allah and His Messenger have decided a matter, that they should [thereafter] have any choice about their affair. And whoever disobeys Allah and His Messenger has certainly strayed into clear error Quran 33:36
that Zaynab agreed to marry Zaid.
However, their marriage was not a happy one. Maybe Zaynab could not get over the fact that she had married “below her”. We may never know for sure. Zayd approached the Prophet many times about this and every time, the Prophet would ask him to make peace with his wife.
By this time, the Prophet had already been informed by God that he was to marry Zaynab. The Prophet was reluctant to do it because according the customs of that time, an adopted son was considered the same as a son by blood. And this act of marriage would cause a major controversy among the Muslims. However, God broke away from that custom when he revealed:
Call them by [the names of] their fathers; it is more just in the sight of Allah . But if you do not know their fathers - then they are [still] your brothers in religion and those entrusted to you. And there is no blame upon you for that in which you have erred but [only for] what your hearts intended. And ever is Allah Forgiving and Merciful. Quran 33:5
After that Zaid became Zaid ibn Harithah (Zaid, Son of Harithah) again. God’s command changed the way how Arabs until then had seen adoption. Under Islam, adoption became a form of guardianship rather than parenthood. The adoptive parents had no rights over their adopted children’s property and vice versa.
Zayd then divorced Zaynab and the Prophet, under God’s direction married her.
Then God revealed the ayah:
And [remember, O Muhammad], when you said to the one on whom Allah bestowed favor and you bestowed favor, "Keep your wife and fear Allah," while you concealed within yourself that which Allah is to disclose. And you feared the people, while Allah has more right that you fear Him. So when Zayd had no longer any need for her, We married her to you in order that there not be upon the believers any discomfort concerning the wives of their adopted sons when they no longer have need of them. And ever is the command of Allah accomplished. Quran 33:37
After that there was nothing more to disagree or comment upon.
Now the orientalists have a narrative which talks about how the Prophet one day was visiting Zaid and saw Zaynab, being immediately smitten by her beauty, etc etc. But there are serious problems with that fantasy:
First, Zaynab was the Prophet’s first cousin. Surely he would have seen her and met her a million times over before she married Zayd. Why would he suddenly be smitten by her beauty?
Second, if he was smitten by her beauty from before then why cajole her into marrying Zayd? Why not marry her himself?
Third, if the Prophet was smitten by her beauty then why the reluctance to marry her? Why did he regularly tell Zayd to go back to his wife and make peace with her.
All these are mere stories and fantasies constructed to create confusion and doubts.

Wednesday, 10 October 2018

গরীবেরা হাগতে যায়, মধ্যবিত্তরা টয়লেটে যায় আর বড়লোকেরা ওয়াশরুমে যায়।

গরীবেরা হাগতে যায়, মধ্যবিত্তরা টয়লেটে যায় আর বড়লোকেরা ওয়াশরুমে যায়। ইদানিং একটু শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা জাতে উঠার জন্য ওয়াশরুমে যায়। আর বড়লোকেরা এটা সহ্য করতে না পেরে এখন রেস্ট রুমে যায়। এই পায়খানা/টয়লেট/ওয়াশরুম/রেস্ট রুম নিয়ে আমার বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে।

আমার লাইফের টাইমলাইন যদি তিনটা ভাগ করি তবে প্রথমভাগ কেটেছে গ্রামে, দ্বিতীয় ভাগ ঢাকায়, তৃতীয় ভাগ দেশের বাইরে। এই তিনভাগে বিভক্ত জীবনে অনেক কিছু দেখার বুঝার অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেই আলোকে আজ আমি লিখব প্রবন্ধ,
টয়লেট- এক প্রেম কথা।

একদম শুরুতে গেলে আমি দেখি গ্রামে আমাদের বাড়ির পশ্চিমদিকে বাঁশঝাড়ের পাশে টিনের বেড়া দেয়া ঢালুর উপরে মাচার মতন করা একটা দুর্বল টয়লেট। যার সামনে চটের বস্তার পর্দা দেয়া। ঢালুতে মাচার উপরে বলতে মাটি থেকে একটা বাঁশের সাঁকো গেছে সেই মাচা পর্যন্ত। মাচাটা আপাত শূন্যে ঝুলে আছে মনে হলেও এটি চারটি বাঁশের খুঁটিতে ভর দিয়ে থাকে। যেটাকে বলে ঝুলন্ত টয়লেট।

যেহেতু টয়লেটে কোন দরজা নেই, সেহেতু কেউ আশেপাশে আসলে বা আসছে মনে হলে টিনের বেড়ায় একটু শব্দ করতে হয় নইলে খুক খুক করে একটু কাশতে হয়।

মাচার দুই কাঠের মাঝে একটা বড় ফাঁকা। সেখান দিয়েই মূলত প্রাকৃতিক কর্ম সাঁই করে নেমে যেয়ে নিচে পড়ত। আপনি টাইম কাউন্ট করলে দেখা যাবে নির্গত হওয়া এবং নিচ থেকে শব্দ রিটার্ন আসার মধ্যে পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধান আছে। এই পদ্ধতিতে সাধারণত শব্দ তরঙ্গ দিয়ে সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়। আমি টয়লেটের গভীরতা মাপছি।

আচ্ছা এই পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধান থেকে আপনারা কি অনুমান করতে পারছেন টয়লেটটির গভীরতা কত ছিল? আচ্ছা সহজ করে দিচ্ছি, নিচে মাটি থেকে প্রায় বিশ ত্রিশ ফুট উঁচুতে ছিল টয়লেট। আসলে নিচে মাটি ছিল না, ছিল হাজার বছরের এক হলদেটে সমুদ্র।

ভুল বললাম, হাজার বছর না। প্রতিবছর বন্যায় হলদেটে সমুদ্রটা ধুয়ে মুছে যায়। বন্যার সময়টা সুন্দর। দুই কাঠের ঐ ফাঁকটা দিয়ে নিচে তাকালে দেখা যায় পানির স্রোত। আগে কর্মটি নিচে পড়লে যে শব্দ হতো, তেমন শব্দ হয় না। পানিতে টুপ করে একটা শব্দ হয়, তারপর স্রোতে ভেসে যায়। নিচে মাছেরা অপেক্ষা করে কখন আসবে দ্বিতীয় লট। লট আসা মাত্রই মাছেদের কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। আপনি উপরে বসে দিব্যি এই খেলাটি অবলোকন করতে পারবেন।

বন্যার সিজনে প্রতিদিন পানি বাড়ে। পানি কাছাকাছি উঠে আসলে স্রোত বাড়ে। লট পড়া মাত্রই স্রোতে ভেসে যায়, মাছেদের খেলা দেখা যায় না। পানি কাছে থাকায় উলটা ভয় লাগে মাছেরা কখন আবার লট আসতে দেরী হলে ফ্যাক্টরিতে হামলা করে বসে।

পরদিন সকাল বেলায় দেখা যায় টয়লেট ডুবে গেছে পানিতে। সেটা এক দুঃসময়। বাড়ির উঠোনের আশেপাশে অস্থায়ী টয়লেট করা হয়। সেটাও ডুবে গেলে ঘরের পেছনদিকে যেয়ে নীরবে কর্ম সারতে হয়। কেউ কেউ গলা পানিতে নেমেও সেরে ফেলে। তখন কর্মটি নিচে যায় না, টুপ করে ভেসে উঠে।

আমি তখন ছোট। ঐটা ছিল বড়দের টয়লেট। আমার সেখানে যাবার অনুমতি ছিল না। দুই কাঠের ফাঁক দিয়ে পড়ে হলদেটে সমুদ্রে ডুবে যাবার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। আমাকে বাড়ির আশেপাশে কোথাও বসিয়ে দেয়া হতো খোলা আকাশের নীচে। কর্ম শেষ হলে দাদা কোদাল দিয়ে চেঁছে কর্মটুক নিয়ে বাড়ির পাশে ঝোপে ফেলে দিতেন।

ঝুলন্ত টয়লেটের আমার তেমন অভিজ্ঞতা নাই। যেটুক অভিজ্ঞতা গ্রামের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যেয়ে। আমাদের বাড়িতে আমি ছোট থাকতেই পাকা টয়লেট তৈরী করা হলো। আমাকে খোলা দুনিয়া থেকে জোর করে বদ্ধ ঘরে পাঠানো শুরু হলো।

গ্রামের মানুষের একটু শুচিবাই ছিল। এরা ঘরের আশেপাশে টয়লেট রাখত না। শহরে যে ঘরের ভিতরে টয়লেট এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিস্তর হাসাহাসি চলত। টয়লেট থাকত বাড়ির শেষ মাথায় ঝোপঝাড়ের দিকে, যেদিকটায় মানুষের আনাগোনা কম। আমাদের পাকা টয়লেটটিও তেমনি বাড়ির পেছনদিকে করা হয়েছিল।

আমরা রাত হবার আগেই চেষ্টা করতাম কর্ম সাধন করিয়া ফেলিতে। গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। যেদিন রাত্রে দুদ্ধজাত খাবার পেটে পড়ত আর অমানুষিক চাপ অনুভব হইত সেদিন যেন মনে হইত আর রক্ষে নেই। হ্যারিকেন বা কুপি নিয়ে টয়লেটে যাওয়া ছিল ভয়ানক এক ব্যাপার।

টয়লেটে সাদা চুনকাম করা। দেয়ালে মাকড়সার বাসা করা। তার উপরে থাকত টিকটিকির উপদ্রব। কর্ম সাধন করিবার মাঝপথে শুনিতাম ঠিকঠিকঠিক। বদমায়েশ এর মধ্যে ঠিক বেঠিক পাইল কোথায়। তারউপরে ছিল সাপের ভয়। মনে হইত এই বুঝি কমোডের পাইপের ভেতর থেকে একটা সাপ এসে ছোবল মেরে দিবে আমার বংশের প্রদীপে।

টয়লেটে যাবার আগেই পড়ত একটা গাবগাছ। গ্রামে কথিত ছিল গাবগাছে ভূত থাকে। শুনশান নীরব সেই গাব গাছ পার হবার সময় তওবা পড়তে পড়তে যাইতাম। একটা পাতা ঝড়ার আওয়াজ শুনে কলিজা কেঁপে উঠত। ভয়ে অমানুষিক চাপ উধাও হয়ে যেত। দেখা গেলো আধাঘন্টা বসে আছি, চাপ আর আসেনা। পরে একপেট কষ্ট নিয়ে উঠে চলে আসলাম। আধাঘন্টা সেই গায়েবী চাপ এসে ঠিকি হাজির।

শহরে আসার পরে ভূতের ভয় ছিল না। তবে তখনো সাপের ভয় ছিল মনে। বংশ প্রদীপটি আগলে রাখতাম। পরে বুঝতে পারলাম সাপের ভয় নেই আর। তবে বিপত্তি ঘটত রাত্রে। টয়লেটের পেছনদিকে ভেন্টিলেশনের জানালা ছিল। মনে হতো কোন একটা কালো পশমী হাত এসে এক্ষুণি ঘাড়ে সুড়সুড়ি দিবে। কর্ম শেষে দৌড়ে বের হলে মনে হইত যেন বহু বছর নির্বাসনে থাকিবার পরে আমি সভ্যতায় এসে পৌঁছেছি।

বড় লোকের এক আজিব টয়লেট ছিল। যেটাকে হাই কমোড বলে। বিশ্বাস করবেন না প্রথমবার হাইকমোড ওয়ালা টয়লেটে যে আমার কি এক অবস্থা হয়েছিল। ঢাকার অভিজাত এলাকায় এক বড়লোক আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে গেছি। বয়স তখন নয় কি দশ। সেখানে যেয়ে টয়লেটে ঢুকে আমি তো অবাক। টয়লেট এত সুন্দর হয় আমার ধারণা ছিল না এর আগে।

আমাদের ঢাকা শহরে মধ্যবিত্তের ঘরে গোসলখানা আর টয়লেট একসাথে। গোসলখানার শেষ মাথায় একটু উঁচুতে কমোড। পাশে একটা কল। নতুন বাড়িতে স্টিলের কল, একটু বয়স্ক বাড়িতে স্টিলেরটা নষ্ট হলে প্লাস্টিকেরটা লাগায়। সেটা বছরের পর বছর বদল হয়ে প্লাস্টিকই লাগানো হয়। তার নিচে থাকে সরু নল ওয়ালা বদনা। আর একদম পেছনের দেয়ালে আরামে হেলান দিয়ে থাকে টয়লেট পরিষ্কার করার একটা ব্রাশ।

বড়লোকের টয়লেটে প্রথমবার যেয়ে দেখি মিষ্টি মিষ্টি ঘ্রাণ। পানি নিতে যেয়ে দেখি কোন বদনা নাই। বড়লোকেরা কি তবে শুটকি ধোয় না? পড়লাম মহাচিন্তায়। টিস্যু আছে যদিও। কি এক মেহেরবানি ঠিক এমনি সময়ে আমার চোখে পড়ল একটা সরু নলের মত পাইপ। তার মাথায় একটা কলের মত বসানো। চাপ দিতেই দেখি পানি বের হয়। খুশিতে আমি গদগদ হয়ে গেলাম।

এবার পড়লাম আরেক মহা মুশকিলে। এই হাই কমোডে আসলে কেমনে কি করে? তার উপরে আবার দুইটা ঢাকনা। একটা উঠাইলে আরেকটা ফ্রেমের মত। আমি চিন্তায় পড়ে গেলান এই ফ্রেমের উপরে বসে? নাকি ফ্রেম উঠায় বসে। নাকি এখানে বসে না? কূল কিনারা না পেয়ে আমি উঠে দেশী স্টাইলে উঠে গেলাম কমোডের উপরে। ভেবে দেখুন তো, একটা লোক হাই কমোডে দেশী স্টাইলে উঠে বসে আছে।

কোন এক পন্ডিত লিখিয়াছিলেন, “ওহে মহাজ্ঞানী,  কর্ম করিয়া ঢালিও পানি।” কর্ম শেষে আমি পানি ঢালিবার উপায় পাই না। এইযে হলদেটে আহাম্মকটি ভাসিতেছে, কেহ যদি আসিয়া তাহাকে দেখিয়া ফেলে এবং হাসিতে হাসিতে সবাইকে বলিয়া দেয় আমার ইজ্জত বলিতে কি কিছু রহিবে?

মাথায় আসল নিশ্চই কোন ব্যবস্থা আছে। ফ্ল্যাশের বাটন দেখি, কিন্তু চাপতে ভয় লাগে। কিছু একটা হইয়া যায় যদি! বড়লোক আত্মীয় কি আমার ক্ষমা করিবে? আমি ভয়ে ভয়ে ফ্ল্যাশের হ্যান্ডের চাপি। আস্তে চাপ দেয়ায় ফোঁসফোঁস করে হাওয়া বের হয়। আমি ভয় পাইয়া যাই। পানির কানেকশনের লাইনটা ঘুরাই, কাজ হয় না। এরপরে চোখ বন্ধ করে ফ্ল্যাশে একটু জোড়ে চাপ দিতেই ভুরভুর করে পানি এসে সব নিয়ে গেল। আমার মুখে সে কী অমলিন হাসি!

এরপরে কত প্রযুক্তির টয়লেট দেখা হলো জীবনে। প্লেনের টয়লেটগুলা যেমন একটা আজব জিনিস। কাজ শেষে সুইচ চাপলে কয়েকসেকেন্ড পরে ভুস করে বাতাস এসে সব নিয়ে যায়। কোন পানির কারবার নাই। এখন আবার নতুন ফ্ল্যাশ আসছে উন্নত দেশগুলায়। সুইচ চাপতে হয় না। সেন্সর করা, কর্ম শেষে সেন্সরে টাচ করলে অটোমেটিক ফ্ল্যাশ হয়ে যায়।

আবার এদেশে (ফ্রান্সে) রাস্থায় বুথের মত পাললিক টয়লেটগুলায় সুইচ চাপলে দরজা খুলে। অটোমেটিক আটকায়। কাজ করবেন। সুচ চেপে দরজা খুলে বেড়িয়ে যাবেন। এরপরে দরজা লাগবে। সমস্ত টয়লেটটা পানি ছেড়ে পরিষ্কার হবে অটোমেটিক। কত মানুষ দেখলাম অপেক্ষা না করে একজন বের হবার সাথে সাথেই ঢুকে যায়। টয়লেট পরিষ্কার হবার টাইম দেয় না। বেকুবেরা গোসল করে বের হয়।

প্রযুক্তি এখন আরো এক কাঠি সরেস। গুগলে  Toilet near me লিখে সার্চ করলে আশেপাশের লোকেশনে পাবলিক টয়লেট শো করে। আমার শো করে টয়লেটে যেতে কতটুক পথ, কত মিনিট সময় লাগবে। যুগে যুগে পালটে যাচ্ছে মানুষের ধ্যান ধারণা। উন্নতির ছোঁয়া লাগছে শহর বন্দর গ্রাম সবখানে।

অথচ এখনো আমার একটা শখ আছে। বর্ষাকালে ঝুলন্ত টয়লেটে যাবার শখ। মাছেদের সাথে খেলার শখ। দুর্ভাগ্য আমাদের গ্রামে এখন আর কোন ঝুলন্ত টয়লেট নাই। আশা করি কোন এক বর্ষায় এমন একটা সুযোগ আসবে, স্বপ্ন পূরণ হবে। নইলে আমি হেলানো কোন গাছের ডালে উঠে যাব। তারপর আমি মাছেদের সাথে খেলব।

Saturday, 1 September 2018

আহমদ ছফা তার বই 'মুজিব হত্যার নীলনকশা'

আহমদ ছফা তার বই 'মুজিব হত্যার নীলনকশা' য় তুলে ধরেনঃ
---------------------------------------------------------------------------

“আমি কোন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলাম না। আমি শুধু লিখতাম এবং কথা বলতাম, সব সময়ে অসংকোচে কথা বলতাম। আমি রাতে থাকব কোথায়, পরের বেলা খাবার জোটাব কি করে তারও কোন নিশ্চয়তা ছিল না। তবু বিপদে পড়ে গেলাম। কি করে যে প্রচার হয়ে গেছে যে আমি শিক্ষক-সাংবাদিকদের বাকশাল যোগ না দেয়ার জন্য প্রচার কার্য চালাচ্ছি।

এই খবরটা শেখ সাহেবের বড় ছেলে শেখ কামালের কানে যথারীতি পৌঁছায়। শুনতে পেলাম তিনি আমাকে শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। আমার অবস্থা হল ফাঁদে ধরা পশুর মত। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন বন্ধু-বান্ধবের বাসায় গিয়ে একটা নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। একজন তো বলেই দিলেন, ভাই আমরা বউ ছেলে নিয়ে বসবাস করি। তোমাকে বাসায় বসতে দিতে পারব না। তোমার নামে নানা গুজব। তোমার সঙ্গে সম্পর্ক আছে জানলে বিপদে পড়তে পারি।

আমি চৌদ্দই আগস্ট সন্ধেবেলার কথা বলছি। একজন ভগ্নিস্থানীয়া হাউজ টিউটরের বাসায় গিয়ে হাজির হই। আমার বিশ্বাস ছিল তাঁর কিছু উপকার করেছি। আমি খাইনি এবং কিনে খাওয়ার পয়সা নেই। লাজশরমের মাথা খেয়ে তাঁকে কিছু খাবার দিতে বলি। মহিলা পলিথিনের ব্যাগে কিছু মোয়া দিয়ে বললেন, ছফা ভাই, এগুলো পথে হাঁটতে হাঁটতে আপনি খেয়ে নেবেন। আপনাকে বসতে দিতে পারব না।

তাঁর বাসার বাইরে এসে কি ধরনের বিপদে পড়েছি পরিস্থিতিটা আঁচ করতে চেষ্টা করলাম। বলতে ভুলে গেছি কার্জন হলে না কোথায় দুটো বোমা ফুটেছে। আমার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। সে সময়ে আমার বন্ধু অরুণ মৈত্র আমার সঙ্গে ছিলেন। অরুণ ‘ইস্টল্যান্ড’ নামে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থাতে কাজ করতেন। অরুণের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বলাকা বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি আসি। অরুণ আমাকে বললেন, সময়টা আপনার জন্য অনুকূল নয়। আপনি কোন নিরাপদ জায়গায় চলে যান। পরামর্শটা দিয়ে অরুণ বাসায় চলে গেলেন।

উদ্দেশ্যহীনভাবে আমি বলাকা বিল্ডিংয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ওমা কিছু দূর যেতেই দেখি একখানা খোলা জিপে সাঙ্গপাঙ্গসহ শেখ কামাল। একজন দীর্ঘদেহী যুবক কামালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল, দেখ কামাল ভাই, আহমদ ছফা যাচ্ছে। কামাল নির্দেশ দিলেন, হারামজাদাকে ধরে নিয়ে আয়। আমি প্রাণভয়ে দৌড়ে নিউ মার্কেটের কাঁচা বাজারের ভেতর ঢুকে পড়ি।"

বি দ্রঃ চৌদ্দই আগস্ট সন্ধ্যায় মুজিব পুত্রের হাতে আহমদ ছফা সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু ঐ রাতেই মুজিব পুত্র স্বপরিবারে নিহত হন।
   
সৌজন্য -- Mezbah Uddin Ahmed

Tuesday, 14 August 2018

এই প্রচারণা টোটালি বের হয়ে আসেন।

বিএনপির অনলাইন এক্টিভিস্টরা অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতন চমৎকার কাজ করছেন,উপহার দিচ্ছেন। তবে এর মাঝে একটা জিনিসের অভাব প্রকট মনে হয়, সেইটা হল লেখা বা কন্টেন্টে জোস কিংবা ঝাজের কমতি। এইটার নানামাত্রিক কারণ আছে, সরকারী দানবীয় আচরণ বাদ দিলে কয়েকটা ফ্যাক্ট একটু হাইলাইট করা দরকারঃ

১। প্রকৃতিগতভাবে বিএনপি করেন দেশের সাধারণ নিরীহ মানুষজন। এরা প্রকৃতিগতভাব্র ঝগড়াইট্টা আর অসৎ লীগারদের সাথে পেরে উঠবেন না এইটাই স্বাভাবিক। এইটার আসলে তেমন কোন সলিউশন নাই।

২। বিএনপির আমলে দেশ খালি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হইছে,এইটা টোটালি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেন। ৫ বারের প্রথম ২ বারের দায় আওয়ামী লীগের, এবং পরের ৩ বার সেইটার কন্টিনিউশন। বিএনপির আমলেই দুর্নীতির সুচক থেকে বাংলাদেশের নাম কাটা যায়।

৩। বিএনপি জংগীবাদের স্রষ্টা। এই প্রচারণা টোটালি বের হয়ে আসেন। প্রান্তিকভাবে সর্বহারা,জংগিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে সব দলই,এইটাই সত্য। কিন্তু বেগম জিয়াই আব্দুর রহমান আর বাংলা ভাই নামক দুইটা শুয়রকে জেলের ভিতর ঢুকায়ে বিচার করেছিলেন।

৪। আওয়ামী লীগের চক্কর-বক্কর উন্নয়নের ধাধা দেখে বিভ্রান্ত হয়ে বিএনপির আমলে উন্নয়ন -টুন্নয়ন হয় নাই" এই ধারণার মুক্তি আবশ্যক। উন্নয়ন একটা কন্টিনিউয়াস আর রানিং প্রসেস, কোন উন্নয়নের দাবিদার কোন সরকারের একার নয়। এইটা নিয়ে সিরিজ আকারে লিখবো। খালি কথাটা মাথায় ঢুকায়ে রাখেন।

৫। বাংলাদশের ইতিহাসে একমাত্র জিয়া বাদে সব সরকারই কমবেশি চোর ছিল। এইটাই সত্য কথা। কিন্তু বিএনপি চোর-দুর্নীতিবাজ এই ধারনা থেকেও বের হয়ে আসা দরকার। বিএনপির আমলে চুরি চামারি হয় নাই এইটা কেউ বলবে না, কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলের মতন দুই দুই বার শেয়ার বাজার কেলেংকারি, ডেস্টিনি-হলমার্ক কেলেংকারি, রিজার্ভ লুট, ব্যাংক লুট,সোনা লুটের ইতিহাস বিএনপির নাই। বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের তুলনা দেয়া মানে পাড়ার ছিচকে চোরের সাথে আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়ার তুলনা করা।

৬। ক্ষমতার লড়াইয়ে কেউ নিষ্পাপ নয়। বিএনপিও কোন দুধে ধোয়া তুলসি পাতা নয়। দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির নানাপ্রকরণে বিএনপি আওয়ামী জামাত জাপা সবাই কমবেশি জড়িত। কিন্তু অগণতন্ত্র,নষ্ট রাজনীতি,ফ্যাসিবাদ,অসুস্থ পরিবেশ তৈরিতে আওয়ামী লীগের সাথে কোনভাবেই বিএনপির তুলনা চলে না, বিএনপির কন্ট্রিবিউশন ১ তলা হইলে আওয়ামী লীগের ১০ তলা।

৭। আরেকটা প্রাইম ইস্যু হইলো জামাত। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার মানে এই না যে নিজের সব স্বকীয়তা বেচে তার কোলে গিয়ে বসতে হবে। অনেককে দেখি বিএনপি-জামাতকে আপন মায়ের পেটের ভাই ভেবে খুব সন্তুষ্ট হোন। আবার বিএনপির ট্যাগ গায়ে লাগায়ে ৭১এ জামাতের ভূমিকা ডিফেন্ড করতেও খুব অগ্রণী। এইসব সোজা বাংলায় ছেড়ে দ্যান। আপনের মুক্তিযোদ্ধা জিয়া এইগুলা শিখায়ে দিয়া যায় নাই, জিয়া আওয়ামী ফ্যাসিজমের বাইরে গিয়ে  সবার জন্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চেয়েছিলেন, কিন্তু রাজাকারকে আব্বা ডাকতে বলে যান নাই। বিএনপি জামাতের মিল শুধু দুই জায়গায়, ভারত ইস্যু আর এন্টি সেক্যুলার ইস্যু, এর বাইরে সব অমিল। শাহবাগকে কেন্দ্র করে জামাত নেতাদের উপর যে অবিচার হইছে তার প্রতিবাদ করেন, কিন্তু "৭১এ জামাত সুফীসাধু ছিল, তাদের কোন বিচারের দরকার নাই, এই আলাপ মারায়েন না।"

এইগুলা সম্ভব হইলে মাথায় ঢুকায়ে নেন। নিজের আত্মশক্তিতে বলীয়ান হোন। আর কথা বলুন জোরসে।

©Tashrik Hasan

Sunday, 12 August 2018

সরকারকে বিব্রত করবেন না।

সরকারকে বিব্রত করবেন না।
Ashik Azim

ধরুন আপনাকে ডিবি পুলিশ কোন কারণ ছাড়াই তুলে নিয়ে হাড্ডি ভাঙ্গা পিটানি দিয়েছে। এমতাবস্থায় ঘুণাক্ষরেও চিৎকার করে কান্না করে সরকারকে বিব্রত করবেন না। কারণ তাতে জামাত বিএনপি ক্ষমতায় চলে আসবে। চুপ করে ভাল ছেলেটির মত হাসিমুখে পেটানি সহ্য করুন। জামাত বিএনপি আসলে কিন্তু আরো মারতো। সেটা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না।

ধরুন আপনাকে ছাত্রলীগ রাস্তায় ফেলে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। আপনি চেঁচিয়ে উঠবেন না। মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের অবদানের কথা ভেবে হাসিমুখে ভাঙ্গা হাতটি নিয়ে দৌঁড়ান। বেঁচে ফিরতে পারলে ছাত্রলীগের সুনাম করে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিতে ভুলবেননা। মনে রাখবেন, বিএনপি জামাত হলে আপনার দুটো হাতই ভেঙ্গে দিতো। ছাত্রলীগ তো অল্পের ওপর একটি হাত ভেঙ্গেছে। ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ দেয়া আপনার চেতনাগত দায়িত্ব।

ধরুন আপনার ভাইকে র‍্যাব ধরে নিয়ে দশ লাখ টাকা চেয়েছে। না দিলে তাকে ক্রসফায়ারে মেরে দেবে বলে হুমকিও দিয়েছে। আপনি সেটা আবার সাংবাদিকদের কেন বলবেন? সরকারকে বিব্রত করতে চান? চুপ থাকুন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকুন। দশ লাখের চেয়ে মুক্তিযুদ্ধ অনেক বড়। ভাইটিকে ফিরে না পেলেও বেশি কথা বলবেন না। মনে রাখবেন, স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায়। বিএনপি জামাত আসলে আরো অনেক কিছু হতে পারতো। সেসব ভেবে আওয়ামী লীগকে পরেরবার ভোট দিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বেইমানি করবে না।

ধরুন আপনার বোনটিকে কোন আওয়ামী নেতা তুলে নিয়ে গেছে। বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। তাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অপেক্ষা করুন। বোনটিকে ফেরত দেয় কিনা। ফেরত দিলে ভাববেন, বিএনপি জামাত ক্ষমতায় থাকলে তো বোনটি ফেরতই আসতো না। ভাগ্য ভাল, বোনটিকে আওয়ামী লীগ নেতা নিয়েছিল। তাই ফেরত পেলেন। মুক্তিযুদ্ধের সরকার, স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি আছে বলেই এমনটি হলো। তাই বেশি ট্যাঁ ফুঁ করবেন না। আর বোনটিকে ফেরত না পান, ভাববেন, অন্য বোনগুলো তো অক্ষত আছে। বিএনপি জামাত থাকলে সবাইকেই তুলে নিতো। এই ভেবে দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিন। উনি আছেন বলেই এক বোনের ওপর দিয়ে গেছে। উনি না থাকলে সবগুলো বোনকেই নিয়ে যেতো। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি বলে কথা।

সরকারকে বিব্রত করবেন না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকুন। স্বাধীনতা বিরোধীরা নইলে চলে আসবে। তাই পরেরবার অবশ্যই আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। অবশ্য কেউ ভোট না দিলেও তারাই জয়ী হবে। সেসব নিয়ে আপনি টেনশন নিয়েন না। মনীষা চক্রবর্তী বরিশালে ইলেকশন করেছিল, ভোট দিতে গিয়ে দেখেছে সব ব্যালটে নৌকায় সিল দেয়া। আপনি ভোট দিতে না গেলেও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি আপনার ভোটটি দিয়ে দেবে। কী লাভ এত কষ্ট করে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার? ভোট দিতে গিয়ে সরকারকে বিব্রত করবেন না। সরকার আপনার কষ্টের কথা ভেবে নিজেরাই ভোটটি দিয়ে নেবেন।

সরকারের প্রশংসা করুন এবং জীবিত থাকুন। বলা তো যায় না......