Sunday, 11 February 2018

অর্থ আত্মসাতের দায়ে শেখ মুজিব কারাদণ্ড

Mujib was Convicted since 1960

শেখ হাসিনা আজ বেগম খালেদা জিয়াকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে আখ্যায়িত করলেও অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানে জানা গেছে তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানও ১৯৬০ সালে সমাজকল্যাণ মূলক একটি প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাতের দায়ে একই আইনে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ওই মামলার রায়ের কপি থেকে জানা গেছে, পশ্চিম পাকিস্তান গভর্নরের অধীনে পরিচালিত ‘আরবান কমিনিউটি প্রজেক্ট এন্ড ভিলেজ এইড’ প্রতিষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৬ সালে ৭ সেপ্টেম্বরে নিয়োগ পান। অর্থ আত্মসাতের দায়ে তিনি ১৯৫৭ সালের ৭ আগস্ট পদত্যাগ করেন। অর্থ আত্মসাতে তার সহযোগী ছিলেন কাজী আবু নাসের। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওই সময় দুর্নীতি দমন আইন ১৯৪৭ বিধির ৫ (২) ধারায় শেখ মুজিব ও আবু নাসেরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ১৯৬০ সালে এ মামলার রায়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। কেউ কেউ শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে বলছেন, খালেদা জিয়াকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলার আগে আপনার বাবার সাজার কথাটা একবার স্মরণ করুন। আপনার বাবা প্রকৃত অর্থেই গ্রামের অসহায় মানুষের টাকা আত্মসাত করেছিলেন। আর খালেদা জিয়া কোনো টাকা আত্মসাত করেন নি। রাজনৈতিক কারণে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে।


Monday, 29 January 2018

খালেদা জিয়া কি ১ টাকাও মেরে খেয়েছেন?

৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ে গোটা দেশ অস্থির: কি করবেন? আবেগ নয় মেধা দিয়ে বুঝুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিসের রায় এবং কেনো?

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারন করেছেন জজ ড. আখতারুজ্জামানের বিশেষ আদালত। এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রায় দেবার আগেই বর্তমান অবৈধ সরকারের মন্ত্রীরা জোরেসোরে চিৎকার করে যাচ্ছেন- রায়ে নাকি কঠিন দন্ড হবে খালেদা জিয়ার! রায় মেনে নিতে হুমকি ধামকিও দিচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির নেতারা পরিস্কারভাবেই বলেছেন, কোনো উল্টাপাল্টা রায় দেয়া হলে ছাড় দেয়া হবে না, চরম প্রতিবাদ করা হবে। দরকার হলে স্বেচ্ছায় করাবরণ করা হবে। সরকার যখন হুমকি দিচ্ছে, বিশৃঙ্খলা করা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে, তখন বিএনপিও একের পর এক মিটিং করে প্রস্তুতি নিচ্ছে বড় আন্দোলনের। সরকার পতন আন্দোলনের কথাও বলা হয়েছে। মিডিয়া, টকশো, অনলাইন জুড়ে এখন কেবল এই একটিই আলোচনা।

দেশবাসী লক্ষ করেছেন, গত চার মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে ৩দিন করে টানা শুনানিতে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ৭২ বছর বয়স্ক বেগম জিয়াকে বিশেষ কোর্টে টেনে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোথাও কখনও একটি মামলাকে এভাবে চালনা করা হয়নি- দেখে মনে হচ্ছে কাউকে ফাঁসাতেই এত আয়োজন! রেকর্ড হয়ে রইল!!! আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বেগম খালেদা জিয়া কোর্টে গেছেন নিয়মিতভাবে,  এমনকি নিজের মায়ের ও ছেলের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনেও! বিনা ভোটের  সরকারের এমনই হম্বিতম্বি ও বাগাড়ম্বর যে, খালেদা জিয়া বুঝি কি বড় বড় দুর্নীতি করেছেন? অথচ শেখ হাসিনার নামে ১৫টি ভয়াবহ দুর্নীতির মামলা ও চেকে ঘুস নেয়ার মামলা তুলে নেয়া হয়েছে বা ধংস করা হয়েছে সম্পূর্ন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে। তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে, খালেদা জিয়ার দু’টো মামলাই বানোয়াট কাগজ দিয়ে কেবল রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা। এ অবস্খায়, আপনার করণীয় ঠিক করার আগে মামলাটি সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া প্রয়োজন।

এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলার অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান, কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলা প্রমানের জন্য সরকারী পক্ষ থেকে দাবী করা হয় বিদেশ থেকে আসা রাষ্ট্রীয় এতিম তহবিলের টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে দিয়ে টাকা আত্মসাত করেছিলেন বেগম জিয়া। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের দাবী, “এতিমদের দুই কোটি ১০ লাখ টাকারও বেশি অর্থের সম্পূর্ণটাই আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা। এ কারণে দুর্নীতি দমন আইন ও দণ্ডবিধির অভিযোগগুলো প্রমাণ হয়েছে। আর এই ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।”

এবারে ধীরে ধীরে মামলার ভেতরে ঢোকা যাক:
১) সরকার দাবী করেছে, কথিত আত্মস্যাৎ করা টাকা সরকারী এতিম ফান্ডের। এবং সেটা প্রমানের জন্য কোর্টে কিছু বানোয়াট কাগজ দাখিল করেছে সরকারি পক্ষ। আসলে এই টাকা আসে কুয়েত আমির থেকে। বাংলাদেশে কুয়েত দূতাবাস থেকে যে পত্র দেওয়া হয়েছে, তাতে কুয়েতের আমির জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে টাকাটা দিয়েছে বলা আছে। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে এতিমখানা তৈরীর জন্য কুয়েতের আমির ১২,৫৫,০০০ ইউ এস ডলার অনুদান প্রেরণ করেন, যা তৎকালীন রেটে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা। উল্লেখ্য কুয়েত সহ মধ্যপ্রাচ্যের শাসকরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার খুব ভক্ত ছিলেন, বেশিরভাগ রাষ্ট্রপ্রধানের সাথেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। ১৯৯১ সালে সৌদি আরবের একটি ব্যাংক থেকে টাকাগুলো ডিডির মাধ্যমে পাঠানো হয়। ঐ ডিডি সোনালী ব্যাংক রমনা শাখায় ভাঙ্গিয়ে অর্ধেক টাকায় বাগেরহাটে এতিমখানা বানানো হয়। এখনও সেই এতিমখানা যথারীতি চালু আছে। এ বিষয়ে দুদক কোনো মামলা করেনি। বাকী অর্ধেক ২,৩৩,৩৩,৫০০/- টাকা জিয়াউর রহমান অরফানেজ ট্রাস্টের একাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এরমধ্যে অল্প কিছু টাকায় এতিমখানার জন্য বগুড়ায় জমি কেনা হয়, আর বাকী টাকা এফডিআর করে জমা রাখা হয়েছে, এখন যা সুদেমুলে ৬ কোটি টাকার উপরে ব্যাংকে জমা আছে। এখান থেকে কোনো টাকা কেউ আত্মসাৎ করেনি।

২) মামলা প্রমানের জন্য সরকারী পক্ষ প্রথম থেকেই জাল জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। প্রথমেই টাকার উৎস নিয়ে গন্ডগোল পাকায়। সরকার বলে, এটা সৌদি সরকার থেকে পাওয়া অনুদান, যা আদালতে মিথ্যা প্রমানিত হয়। আসলে টাকার উৎস কুয়েত। এই টাকা সরকারী এতিম ফান্ডের- এমন প্রমানের উদ্দেশ্যে  আইও হারুন অর রশিদ ভুয়া ফাইল তৈরী করে কোর্টে দাখিল করেন। তিনি দাবী করেন- ওটা “প্রধানমন্ত্রীর এতিমখানা তহবিলের” টাকা ছিল। আদালতে জেরায় স্বীকার করতে বাধ্য হয় এটার জন্য কোনো ফাইলপত্র না পাওয়ায় নিজেরা কপিপেস্ট ও ফটোকপিতে কাটাছেড়া করে একটি ছায়ানথি বানিয়ে কোর্টে দাখিল করেছিলেন। আসামী পক্ষের কৌসুলিরা যুক্তিতর্ক দিয়ে প্রমান করে দিয়েছেন যে, নথিটি পরে বানানো, এবং কাটা ছেড়া ও ঘষামাজা। আমি শামসুল আলম প্রধানমন্ত্রীর অফিসে দীর্ঘদিন (সেই ৯১ সাল থেকে) কাজ করা লোক। আমি আমার স্মৃতিশক্তি ও সরকারী নিয়ম কানুনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি- ১৯৯১ সালে বা এখনও “প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল” নামে কোনো তহবিল কখনই ছিল না। এ সংক্রান্তে ব্যাংক কাগজ বা যেসব ছায়ানাথির কথা বলা হয়েছে, তা বানোয়াট ও অসৎউদ্দেশ্যে তৈরী করা। আরও উল্লেখ করা যায়, ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের অধীনে। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ, তখন রিলিফ ফান্ড রাষ্ট্রপতির নামে ছিল। সে অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নামে কোনো ফান্ড ছিল না। ঐ বছর আগস্ট মাসে সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন হওয়ার পরে ১৯ সেপ্টেম্বর বেগম জিয়া ২য় বার শপথ গ্রহন করে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। অথচ দুদক তাদের ভুয়া কাগজপত্রে তার আগেই জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর নামে এতিম ফান্ডের কাগজ ও অসম্পূর্ন ব্যাংক কাগজ প্রস্তুত করে জমা দেয়।

৩) সরকার পক্ষ সাক্ষী হিসাবে মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকীর পিএস সৈয়দ জগলুল পাশার নাম নেয়। দাবী করা হয়, সৈয়দ পাশা নাকি ঐ কথিত এতিম ফান্ডের ফাইল দেখভাল করতেন। আসলে এগুলো সত্য নয়। আমি বলছি- ঘটনার সময় অর্থাৎ ১৯৯১ সালে সৈয়দ পাশা প্রধানমন্ত্রীর অফিসেই চাকরিই করতেন না, ফাইল দেখার তো প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া ঐ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের পদটিও ছিল না। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে প্রধানমন্ত্রীর সচিবের একটি পদ ছিল বটে, সেটা যুগ্মসচিব/অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার (কামাল সিদ্দিকী অতিরিক্ত সচিব থাকতে ওখানে পদায়িত হন)। আর জগলুল পাশা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আসেন ১২/০৯/১৯৯২ তারিখে। তার মানে দাড়ায়- বানোয়াটভাবে দাবী করা ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের’ কথিত নথি জগলুল পাশা দেখতেন--তা পরিপূর্নভাবে মিথ্যা।

৪) এই কথিত দুর্নীতি মামলার অনুসন্ধানকারী, বাদী, আইও, এবং সাক্ষী একই ব্যক্তি- হারুন অর রশিদ। তার চাকরি শুরু হয় ‍দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে ১৯৭৯ সালে এসিস্টেন্ট পদে, যখন সেটি অনুমোদিত পদ ছিল না। পরে বিভিন্ন কৌশলে ১৯৮৫ সালে অ্যাসিসটেন্ট ইন্সপেক্টর এবং ১৯৯২ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি নেন হারুন। হারুনের চাকরি চলে যায় বিএনপির আমলে ২০০৫ সালে। মামলা করে হারুন হেরে যায়, পরে আপিলে থাকা অবস্থায় ফখরুদ্দীনের আমলে রহস্যজনক কারনে আপিল তুলে নিয়ে দুদক চেয়ারম্যান হাসান মসহুদকে ধরে উপসহকারী পরিচালক পদে চাকরি জোটান হারুন। নিয়োগের মাত্র দুইদিন পর এই মামলার অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় হারুনকে। তার আগে দুদকের আরেক অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নূর আহমেদ একই বিষয়ে ২০০৮ সালের ১১ জুন ‘অনুসন্ধানে কিছু পাওয়া যায়নি’ মর্মে রিপোর্ট জমা দেন। অথচ শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে হারুনকে দু’টি প্রমোশন দিয়ে সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালক বানায়- কেবলমাত্র খালেদা জিয়ার নামে বানোয়াট মামলার কাগজপত্র বানানোর শর্তে। মোটকথা, ২০০৫ সালে খালেদা জিয়ার শাসনামলে চাকরিচ্যুত হওয়ার কারনে হারুন বিএনপির ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন, আর সেটা ব্যবহার করেই এই বানোয়াট মামলার যত কারুকাজ করেছে শেখ হাসিনার সরকার।

৫) হারুন অর রশিদ আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে দাবী করেন, ১৯৯১-১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেগম জিয়া নাকি ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’ নামে চলতি হিসাব খুলেন! আসলে এই বক্তব্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, রমনা করপোরেট শাখার হিসাব নম্বর ৫৪১৬ খোলার ফরমে খালেদা জিয়ার কোনো স্বাক্ষর নাই। অথবা অনুদানের অর্ধেক টাকা বাগেরহাটে জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কিংবা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে টাকা বিলি বণ্টনের ক্ষেত্রে বা কোনো চেকে কোনো ফাইলেও খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর নাই। ঐ ট্রাস্ট ফান্ডের ট্রাস্টি ছিলেন মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান। ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’- এই নামে কোনো তহবিলের অস্তিত্বও নাই।

৬) জিয়া এতিমখানার জন্য কুয়েতের আমীর থেকে পাওয়া ঐ টাকার অর্ধেক গেছে বাগেরহাটে জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টের এতিমখানা নির্মানে। এই অংশ নিয়ে কোনো মামলা নাই, অভিযোগ নাই। তার মানে এটা পরিস্কার যে, পুরো অনুদানের টাকা কোনো সরকারী অর্থ ছিল না। যদি সেটা থাকতো, তাহলে বাগেরহাট নিয়েও মামলা হতো। তা হয়নি। আর বগুড়ার অংশের টাকা এখনও ব্যাংকে পড়ে আছে। কাজেই মামলার কোনো উপাদান নাই। নিশ্চিতভাবেই এই মামলায় বেগম খালেদা জিয়া বেকসুর খালাস পাওয়ার কথা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সাথে খালেদা জিয়ার কোনো ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নাই। কোথাও কোনো সই সাক্ষর কিছু নাই। তারপরও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে শত শত বার বলে যাচ্ছেন- এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন খালেদা জিয়া! তাঁর মন্ত্রীরা রায়ের আগেই বলে যাচ্ছে- খালেদা জিয়ার জেল হবে। দুদকের কৌসুলি মোশারফ কাজল দাবী করেছে - খালেদা জিয়ার যাবজ্জীবন কারাদন্ড! এই হলো বিচারের নমুনা!!

কিন্তু কেনো সাজা দিবেন? কোন অপরাধে? খালেদা জিয়া কি ১ টাকাও মেরে খেয়েছেন? নাকি তিনি তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের চতুর্থাংশ জনগনের সমর্থনপুষ্ট সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী হওয়া তাঁর অপরাধ? যেকোনো সময় নির্বাচন হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তাঁকে কোনো ভাবে ঠেকানো যাবে না-- তাই বানোয়াট মামলায় ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে জজ ড. আখতারুজ্জামানকে প্রমোশনের লোভ এবং ভয়ভীতি দিয়ে খালেদা জিয়ার নামে বানোয়ট শাস্তি ঘোষণার কথা আগাম ঘোষণা দিচ্ছেন অবৈধ সরকারের মন্ত্রীরা। ভুয়া মামলায় সাজা দিয়ে তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চান শেখ হাসিনা- এটাই গল্পের মুল পয়েন্ট।

বাংলাদেশের মানুষ কি বসে বসে দেখবে এসব? একটা জিনিস মনে রাখবেন সবাই- খালেদা জিয়ার উপর এই আক্রমন কিন্তু দেশ ধংসের শেষ আলামত। যদি দুবৃত্ত সরকার এটা করে পেয়ে যায়, তবে এই দেশে আর গণতন্ত্র ফেরাতে পারবেন না, একদলীয় ফেরাউনের শাসনে থাকবে না কোনো মানবাধিকার, ফলে এই দেশে আর কেউ বাস করতে পারবেন না। এতদিন ধরে রাজনৈতিক হত্যা, রাষ্ট্রীয় গুম ও অপহরন, মিথ্যা মামলা, বানানো জঙ্গিবাদ- এসব দেখে আসছে জনগন। সবাই ভেবেছে, সামনে যেকোনো একটা নির্বাচন হলে অবস্থার পরিবর্তন হবে। কিন্তু সেটা পেতে হলে ৮ তারিখের গণতন্ত্রের এই শেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে হবে। কেননা বিনাভোটের অবৈধ সরকার টের পেয়ে গেছে, সামনে নির্বাচন হলে তাদের আর রক্ষা নাই। অন্য সব জরিপের কথা বাদ, কেবল ছাত্রলীগের জরিপেই উঠে এসেছে আ’লীগ ৪০ এর উপরে সীট পাবে না। এখন তাই মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে ৫ জানুয়ারির মত আরেকটা ভুয়া ইলেকশন করে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার মতলব এটেছেন আ’লীগ নেত্রী হাসিনা।

বিএনপি, ২০ দলীয় জোট এবং দেশের মানুষকে এটা বুঝতে হবে- এটা ব্যক্তি খালেদা জিয়ার ওপরে আক্রমন নয়, দেশের গণতন্ত্রের উপর হামলা। এটাই গণতন্ত্রের শেষ যুদ্ধ। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে এই ভুয়া মামলা বাতাসে উড়ে যাবে। অনলাইন. অফলাইনে একসাথে ঝড় তুলুন। দলীয় কর্মীরা দলের নির্দেশ মেনে কর্মসূচি পালন করুন। জনতা সামিল হউন গণতন্ত্রের সংগ্রামে। বিজয়ী হয়ে আবার দেশ গড়ুন। আগ্রাসন ও দখলদারমুক্ত জনগনের সরকারকে দেশের দায়িত্ব দিন।

কপিঃ Samsun Alam ভাইয়ের ওয়াল থেকে।

Wednesday, 24 January 2018

হাসিনার শিক্ষাগত যোগ্যতার এত ঘাপলা কেনো?

হাসিনা খালেদা জিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আজ জিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন । আর তার প্রতি উত্তরে আমাদের বিএনপির নেতারা মুখে কুলুপ দিয়ে বসে থাকলেও তো আমরা বসে থাকতে পারি না ।
.
১) হাসিনা ১৯৬৫ সনে মেট্রিক পাশ দাবী করে। সে অনুযায়ী তার ৬৭ সালে তার ইন্টারমিডিয়েট ও ৬৯ সালে বিএ পাশ করার কথা। কিন্ত সে সার্টিফিকেট হাজির করেছে ১৯৭৩ সনে বিএ পাশ। এই চার বছর উনি কি করেছেন, কোথায় ছিলেন? দেখা যায়, উনি সুধা মিয়াকে বিয়ে করেন ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর, আর ‘তথ্য বাবা’র জন্ম হয় ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই পাক সেনাদের পাহারায় সরকারী হাসপাতালে। এরপরে ২ বছর ছেলে বড় করলেন। তখন হঠাৎ সামনে এলো ৭৩ সালের টেবিল চেয়ার পাশের বছর। অমনি বিএ পাশ দিলেন! এই তো? বাঙ্গালি মেয়েদের ক্ষেত্রে সচরাচর যা হয়, বিয়ে হলে পড়া লেখা বন্ধ, সংসার নিয়ে ব্যস্ত, পরে সুযোগ পেলে অনিয়মিত বা প্রাইভেট পরীক্ষা দেয়া। অর্থাৎ বিয়ের কারনে হাসিনা খালেদা দু’জনেরই লেখাপড়া বন্ধ ছিল! নাকি?
২) হাসিনার বিএ পাশ সার্টিফিকেটে কোনো ডিভিশন বা ক্লাশ নাই! কেনো? হয় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল থেকে অনার্স পরীক্ষা দিয়ে ফেল করে “ডিভিশন ছাড়া বিএ পাশ” অর্জন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পাশ কোর্স ছিলনা, ওটা বিভিন্ন কলেজ থেকে দিতে হতো। নয়তো, বাপ প্রধানমন্ত্রী, কাজেই আদেশকোনটা?
৩) হাসিনা তার বায়োগ্রাফিতে দাবী করে, '৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী থাকাকালে ইডেন কলেজের ভিপি ছিল। কিন্তু বাস্তবে ঐ সময় ইডেন কলেজে ইন্টারমিডিয়েট সেকশনই ছিলো না। হাসিনা স্টুডেন্ট ছিল “সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ” যেটা ১৯৭৩ সালে নাম পাল্টায় “বদরুন্নেসা কলেজ।” [সুত্র: কাজী সিরাজ, দু:শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, গ্রন্থকানন - সেপ্টেম্বর, ২০০১, পৃ: ৩৯৭-৩৯৮] তাহলে “ইডেন কলেজের ভিপি” -- এই মিথ্যা পরিচয়টা হাসিনা ব্যবহার করেন কেনো?
হাসিনাকে এখন জাতির কাছে পরিস্কার করতে হবে-
১. উনার বিএ পাশ সার্টিফিকেটে ক্লাশ বা ডিভিশন নাই কেনো? তাহলে উনি কি আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ফেল ছাত্রী?
২. উনি কি আদৌ ইডেন কলেজে পড়েছিলেন? পড়ে থাকলে কোন ক্লাশে? “ইডেনের ভিপি ছিলাম” এই পরিচয়টা বানোয়াট কি না?
৩. তাহলে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ”কে পড়লো কোন হাসিনা?
৪. ১৯৬৯ সালে তিনি বিএ পাশ করতে পারলেন না কেনো? নাকি ৪ বার ফেল করেছিলেন?
৫. ৭৩ সালের পাশ, ৭৫ সালের তারিখ, আর এমাজউদ্দিন সাহেবের সই (যিনি ভিসি ছিলেন ১৯৯২-৯৬) কেমন যেনো বেখাপ্পা। এত ঘাপলা কেনো?
সিম্পল বিএ পাশ, তাও ৭৩ সালের, যখন চেয়ার টেবিলও পাশ করেছিল। সেখানে ডিভিশন/ক্লাশের উল্লেখ নাই। সার্টিফিকেটটি ভুয়া না কি জাল, সন্দেহ রয়ে গেছে। কারন ডঃ এমাজউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। অথচ ৮ মার্চ ১৯৭৫ তারিখে ইস্যু করা হাসিনার সার্টিফিকেটে সই করেছেন ডঃ এমাজউদ্দিন! সন্দেহ তো থাকছেই।
.
ইতোমধ্যেই হাসিনা ডজন খানেক ’অনাহারী ডক্টরেট’ জোগাড় করে ফেলেছে। নিজের ওজন বাড়ানোর জন্য নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেনের সাথে এক কাতারে বাংলা একাডেমীর ‘অনারারি ফেলোশিপ’ নিয়ে নিয়েছেন । কিন্তু রং হেডেড এর জন্যও যে উনার ফেলোশীপের একটা ব্যবস্থা হয়েছিল সেই সার্টিফিকেটর কি হবে?

Friday, 19 January 2018

পৃথিবীতে ঢাকা এয়ারপোর্টই একমাত্র এয়ারপোর্ট যার সাথে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের কোন কানেকশন নাই !

পৃথিবীতে ঢাকা এয়ারপোর্টই একমাত্র এয়ারপোর্ট যার সাথে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের কোন কানেকশন নাই !

কতটুকু কান্ডজ্ঞানহীন এবং মূর্খ জাতি হলে একটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টকে ডাইরেক্টলি ট্রেন এবং বাসের সাথে সাথে কোন কানেকশন ছাড়াই ফেলে রাখা হয়েছে !

বাংলাদেশের মানুষ এতো ধনী যে সবার প্রাইভেট কার আর সাথে ড্রাইভার আছে , তাই কেউ কোন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ইউজ করে না , দরকারও নাই !

এজন্যই কোন ট্রেন স্টেশন এবং শাটল বাস সার্ভিসের কথা চিন্তা করতে হয় না !

অপ্ৰয়োজনীয় ফ্লাই-ওভার দিয়ে ঢাকা ছেঁয়ে ফেলা হচ্ছে কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারপোর্টে যাওয়ার জন্য একটি ট্রেন কানেকশন , সিটি বাস সার্ভিস, এবং কমলাপুর রেলস্টেশন /গাবতলী /সায়েদাবাদ / মহাখালী যাওয়ার জন্য শাটল সার্ভিস যে ভয়ানক দরকার তা আমাদের বাঘা সব সিটি প্লানার , গোল্ড মেডেল পাওয়া ইঞ্জিনিয়ার এবং জাদরেল রাজনৈতিক নেতাদের মাথায় খেলে না !

যদিও এরা সবাই মজা পুকুরের কচুরিপানা সাফ করণের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বৌ শ্বাশুড়িসহ কদিন পর পরই বিদেশ ভ্রমণে বের হয় !

বিমান বন্দর নামে একটি রেল স্টেশন আছে , কিন্তু প্লেন থেকে নেমে মিনিমাম ৩০ কেজি ওজনের সুটকেস , ব্যাগ , বস্তা এবং সাথে ছোট বাচ্চা নিয়ে হেটে সেই এক মাইল দূরের স্টেশনে যাওয়া কারো পক্ষে সম্ভব কিনা তা এতো এতো বিসিএস দেয়া জ্ঞানী লোকগুলি কি বুঝতে পারে না , নাকি সেই জ্ঞান অর্জনের জন্য আজও তারা বিদেশে যাইতে পারে নাই !

আর ওই স্টেশনে নেমে সুটকেস , গাট্টি বস্তা নিয়ে সামনের গোলচক্কর পার হয়ে পরিবার নিয়ে যদি কেউ হেঁটে ওই পুলসিরাত পার হতে চায় , তবে পরিবারের অর্ধেকের ডেডবডি ওই গোলচক্করেই পরে থাকবে উইদাউট ডাউট !

দুদিন পর পর কোন না কোন ভিআইপি আসা যাওয়ার কারণে দেশের একমাত্র লাইফ লাইন এয়ারপোর্টের রাস্তা ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধ রাখা হয় !
সাধারণ মানুষ বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এবং আভ্যন্তরীন ফ্লাইট মিস করে !
কত মানুষের চাকুরী , ব্যবসা, স্কুল কলেজ এবং ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট মিস করে তার কোন হিসাব এই মহান জাতি জানতে চাইবে না !

আর আজকের মতো বছরের দুইতিন দিন নিয়ম করে ইজতেমার জন্য ওই রোডে যাওয়া হারাম !

আমি যখন প্রথম বিদেশে আসি তখনই মাথায় ঢুকে ছিল দেশে ফেরত যেয়ে আমি এয়ারপোর্ট বাস সার্ভিস চালু করবো স্মার্ট বিমানবালাদের ( তখন বাসবালা হতো ) দিয়ে !
ধুমায়া ব্যবসা করবো !

কিন্তু বিড়ালের গলায় আমার ঘন্টা কোনদিন বাধা হইলো না !

লিখেছেন- সাফি হক
সৌদিআরব প্রবাসী গ্রুপ থেকে সংগ্রহীত পোস্ট)

Wednesday, 10 January 2018

পাকিস্তানের কারাগারের ঘটনা নিয়ে শেখ মুজিবের মিথ্যাচার

"... শেখ মুজিব ঢাকায় এসে তার প্রথম জনসভায় মর্মস্পর্শী ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি এই সভায় বলেছিলেন যে, লায়ালপুর জেলে তাকে হত্যা করে দাফন করার জন্য তার সেলের পাশে কবর খোঁড়া হয়েছিল। একজন জেলার ঘাতকের কবল থেকে তাকে বাঁচিয়েছিল।
জেলের ভিতর দাফন করার কথাটায় আমার বেশ খটকা লেগেছিল। অনেকদিন পরে, যখন বাংলাদেশ-পাকিস্তান ডাক চলাচল শুরু হয়, তখন লায়ালপুরে আমার এক পুরাতন বন্ধুকে কড়া ভাষায় পত্র লিখলাম যে, তোমাদের দেশে আমার দেশের সর্বজনমান্য নেতাকে নিয়ে যে ব্যবহার করেছ তা সভ্য জনোচিত হয়নি। জেলের মধ্যে কবর দেওয়ার কাহিনীও তাকে জানালাম। আমার আশা ছিল যে, তিনি প্রকৃত সংবাদ জানাতে পারবেন। কারণ তার প্রথম পুত্র সামরিক বাহিনীর কর্নেল এবং লায়ালপুর জেলে সামরিক ট্রাইব্যুনালের সদস্য ছিলেন। বন্ধুটি ছিলেন আবার শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অন্ধ ভক্ত। সেজন্য শেখ মুজিব সম্পর্কে তার একটু দূর্বলতা ছিল।
প্রায় দেড়মাস পরে আমার পত্রের জওয়াব পেলাম। তিনি লিখেছেন যে, ট্রাইব্যুনালের সামনে শেখ সাহেব বলেছেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা তিনি চান নি। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায্য অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন। শেখ সাহেবের এই বিবৃতি ট্রাইব্যুনালে রেকর্ড করা আছে। আর সেলের পাশে কবর খোঁড়ার ব্যাপার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা সত্য নয়। ভারতীয় বিমান হামলার আশঙ্কায় জেলখানার মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় অনেক ট্রেন্স খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে শেখ সাহেবকে জেলে এক বিরাট ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। সেখানে তিনি নিজে ফুলগাছ লাগাতেন, গাছে পানি দিতেন। তিনি যে ওয়ার্ডে ছিলেন তা আসবাবপত্রে সজ্জিত ছিল॥"

- মোহাম্মদ মোদাব্বের / সাংবাদিকের রোজনামচা ॥ [ বর্ণ মিছিল; সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭ । পৃ: ৩৪৭ ]

Friday, 5 January 2018

দল বা আমরা কেউ স্মরণ করেছি কি তাদের..?


২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী এইদিনে খুনি হাসিনার পাতানো নির্বাচন প্রতিরোধ আন্দোলনে সারা দেশে শুধুমাত্র আমরা হারিয়েছে ১১ জন বীর সৈনিকে ।
** ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পাতানো নির্বাচন প্রতিরোধ আন্দোলনে আওয়ামী পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন ৩ জন । বিএনিপি নেতা জয়নাল আবেদীন,আবু হানিফ ও যুবদল নেতা হারুন অর রশিদ ।
** ফেনীর সোনাগাজীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শহীদ হয়েছেন ২ জন । যুবদল নেতা জামশেদ আলম ও ছাত্রদল নেতা শহীদ উল্লাহ্ ।
** দিনাজপুরের পার্বতীপুরের উত্তর সালন্দা ও গোবিন্দপুর ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষে শহীদ হয়েছেন ২ জন। যুবদল কর্মী রায়হান মাসুদ ও যুবদল কর্মী চুন্নু মিয়া।
** চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন ছাত্রদল কর্মী রুবেল হোসেন।
** মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন কাঠাদিয়া শিমুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক "শহীদ ছাত্রনেতা এহসানুল হক কঙ্কন" ।
** লালমনিরহাটে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে শহীদ হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ফারুক হোসেন।
** নওগাঁর মান্দায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন বিএনপি কর্মী আবুল বাশার ।
২০১৪ সালের পর থেকে আমরা ৫ই জানুয়ারী এইদিনকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করি ।
এর পাশাপাশি যদি স্ব-স্ব জেলা গুলোতে এই দিনে গণতন্ত্র রক্ষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া বীর গুলোর আত্বার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও স্বজন হারানো পরিবার গুলোকে সান্তনা দেওয়া কর্মসূচি নেওয়া হতো দল থেকে তাহলে তাদের আত্বা শান্তি পেতো বৈকি!
দুঃখ জনক আমরা কেউ তাদের খবর রাখি না।
আজকের গণতন্ত্র হত্যা দিবসের এই দিনে সকল বীর শহীদের আত্বার মাগফেরাত ও জান্নাত কামনা করি। আমিন।
ছবিঃ.. এই দিনে ফেনীর সোনাগাজীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শহীদ হওয়া ২ জন । যুবদল নেতা জামশেদ আলম ও ছাত্রদল নেতা শহীদ উল্লাহ্ ।
(সৌজন্যে সুমন আহসান)

Sunday, 17 December 2017

মুজিব বাহিনী মুক্তি যুদ্ধ করেনি।‘Mujib Bahini didn’t fight liberation war’

মুজিব বাহিনী মুক্তি যুদ্ধ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর সাথে প্রতারণা করেছিলেন তাজউদ্দীন সরকার
   
‘Mujib Bahini didn’t fight liberation war’

December 16, 2014

On December 16, 1971, MAG Osmani was eagerly waiting in Comilla to join the surrender ceremony at the Ramna Race Course and was communicating with the Bangladesh government-in-exile in Kolkata to get the clearance. But he did not get the clearance and later a visibly upset Osmani decided to go to his ancestral land, Sylhet, Dr Zafrullah Chowdhury — an organiser of the war of independence in 1971 and founder of Gonoshasthaya Kendra, who was accompanying Osmani that day — tells Khadimul Islam and Taib Ahmed in an interview with New Age

http://newagebd.net/77152/mujib-bahini-didnt-fight-liberation-war/#sthash.ZMNsQNLM.dpbs

তাজউদ্দীন সহ তৎকালীন আওয়ামী নেতারা মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর সাথে প্রতারণা করেছিলেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী পাক বাহিনীর আত্বসমর্পন চুক্তিতে উপস্থিত থাকতে পারেন নাই।

Osmani said ‘I am waiting for the reply from Kolkata. I wrote to the Bangladesh government in Kolkata and they have asked me to wait. I insisted on his going to Dhaka [even without any clearance from the Bangladesh government-in-exile]. I told him, ‘You are the joint commander of the joint forces. Pakistani forces will have to surrender to you.’ He replied, ‘Look, there is a democratic system.’ I told him again, ‘You are the commander-in-chief.’ He replied, ‘So what? I am under the government. I cannot make any move on my own unless the Tajuddin government gives the clearance. They [the Bangladesh government] asked me not to go there alone saying, “We will go there together.”’ Many claimed that they could not locate Osmani that time. It is a total lie. He was visibly upset. Osmani contacted them [Bangladesh government officials in Kolkata] even on December 16. Towards the afternoon of December 16, Osmani said, ‘Let us go to my ancestral land — Sylhet.’ Then Brigadier Gupta, who was in charge of the Indian helicopter, readily replied, ‘That is a good idea and the sky of Sylhet is clear as the Pakistani force has already surrendered in Dhaka.’

মুজিব বাহিনীর নেতারা এখন মুক্তিযোদ্ধা সেজে জাতিকে চেতনার কথা বলে। কিন্তু ১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনী যুদ্ধে ছিল না। প্রমান দেখুন

New Age: Is the allegation true that the Mujib Bahini did not properly cooperate with the government of Tajuddin Ahmad during the liberation war?

Zafrullah Chowdhury:
The Mujib Bahini did not fight the liberation war.
It did not cooperate with Tajuddin Ahmad. The force, including people like Sheikh Moni, always tried to disown Tajuddin Ahmad. Sheikh Moni and others used to think that they could enjoy the right to rule the country in the absence of Sheikh Mujib and Tajuddin does not have that right. But Tajuddin has made great contributions to the liberation war. It is a matter of great misfortune that our constitution included the name of Sheikh Mujibur Rahman whereas it has not included names of Tajuddin Ahmad and MAG Osmani. It is really disrespectful to the whole war of independence.

New Age: Allegations also have it that in order to take control of the war, the Mujib Bahini often engaged in the clashes with the Mukti Bahini. Did such clashes upset the morale of freedom fighters on the ground?

Zafrullah Chowdhury: Clashes between freedom fighters and the Mujib Bahini took place at many places. The Mujib Bahini people used to say that their war would be waged after the independence. The morale of the freedom fighters was not harmed but they came to realise that India had a different design.