Sunday, 18 January 2026
গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিবেন নাকি না ভোট?
গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিবেন নাকি না ভোট?
হ্যাঁ/না ভোটের ব্যালটে ক,খ,গ,ঘ মোট ৪টি পয়েন্ট দেয়া আছে।আপনি যদি ৪টা পয়েন্টের বাস্তবায়ন চান তাহলে 'হ্যাঁ' ভোট দিন,আর বাস্তবায়ন না চাইলে 'না' ভোট দিন।
প্রশ্ন হল কেউ যদি ২ টি পয়েন্টের বাস্তবায়ন চান বাকি দুটি পয়েন্টের বাস্তবায়ন না চান উনি কি করবেন?
এটা একটা সমস্যা। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে শুধু একটা পয়েন্ট দেয়া যেত- 'আপনি কি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে?'
উত্তরে হ্যাঁ অথবা না।
যাক,এসব রাজ-রাজড়াদের ব্যাপার, আমরা দেখি জুলাই সনদে কি আছে?
জুলাই সনদে মোট ৮৪টা ধারা আছে। ৪৭টা সংবিধান সংশোধন বিষয়ক, বাকি ৩৭টা আইন/অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন বিষয়ক।
হ্যাঁ জিতলে আগামী সংসদ বা সরকারে যারা আসবে তারা এই ৮৪টা ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে, না জিতলে জুলাই সনদ বাদ!
৮৪টা ধারার প্রধান কয়েকটি ধারা দেখি-
১। ৭২ এর সংবিধানের মূলনীতি চারটা: বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
এসব থাকবেনা। তার জায়গায় বসবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি!
২। ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা যোগ করা হবে। বাংলাদেশ যে এখনো অন্তত কাগজেকলমে হলেও সেক্যুলার কান্ট্রি সেটা রদ হয়ে বাংলাদেশ হবে অনেকটা ধর্মিয় রাষ্ট্র।
৩/ সংবিধানে এখন ২২টা মৌলিক অধিকারের কথা বলা আছে। এর সাথে আরও কিছু যোগ হবে। যেমন ধরেন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট চালু রাখা...
৫/সংসদে দুইটা আলাদা কক্ষ থাকবে। উচ্চকক্ষে ১০০ আসন ও নিম্ন কক্ষে ৩০০ আসন থাকবে।
সংসদ নির্বাচনে যে যত ভাগ ভোট পাবে তারা ততভাগ আসন পাবে উচ্চকক্ষে। ধরেন কেউ ৫০ ভাগ ভোট পেলে ৫০ সিট তাদের।
৬/ হ্যাঁ পাশ হলে সংবিধান থেকে বাঙালি পরিচয় এর বদলে নাগরিক হিসেবে ’বাংলাদেশি নাগরিক' লেখা হবে।
৭/ এখন এক ব্যক্তি যতবার ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। হ্যাঁ পাশ হলে সেটা সর্বোচ্চ ১০ বছরে নেমে আসবে।
৭/এখন প্রধানমন্ত্রী একইসাথে তার নিজ দলের প্রধানও থাকতে পারেন। হ্যাঁ জিতলে দুটোর একটা ছেড়ে দিতে হবে।
৮/তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান সংবিধানে যুক্ত হবে। এটা নিয়ে অনেকগুলো ধারা আছে ও বিস্তারিত বলা আছে যে কিভাবে গঠন হবে, কারা সদস্য হবে এসব!
৯/সংসদে নারী সদস্য সংখ্যা ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করা হবে। আগামী ইলেকশনে দলগুলো কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিবে, পরের ইলেকশনে ১০%...এভাবে ৩৩% পর্যন্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে।
১০/রাস্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে অনেকগুলো ধারা আছে।
এখনকার মত রাস্ট্রপতি নিজে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারবেন না, ওটা আপিল বিভাগ থেকে হবে।
দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য রাস্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারবে, এখন প্রকাশ্য ভোটে রাস্ট্রপতি নির্বাচিত হয়, তখন গোপন ভোটে নির্বাচিত হবে।
১১/বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে অসংখ্য ধারা আছে সনদে। এসব ধারায় সরকারের পরিবর্তে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টকে ক্ষমতায়িত করা হয়েছে,
সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন, হাইকোর্টের নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে প্রধান বিচারপতি করবেন।
১২/পিএসসির লোকবল এখন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। হ্যাঁ পাশ হলে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, বিরোধী দলের চিফ হুইপ, এরকম ৭ জনের টিম এই কাজ করবেন।
১৩/এখন দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেয় প্রধানমন্ত্রী। হ্যাঁ পাশ হলে সংসদ সদস্য, আপিল বিভাগের প্রতিনিধি, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধি এরকম লোকবলের সমন্বয়ে এই নিয়োগে হবে।
১৪/এখন সব সরকারি কর্মচারি সরকারের অধীনে থাকে, তখন স্থানীয় সরকারে থাকা সরকারি লোকজনও এমপিদের অধীনে থাকবে!
ওখানকার সব প্রকল্প থাকবে জনপ্রতিনিধির অধীনে! তার মানে যেখানে যে দলের এমপি সেখানে জেলা উপজেলা ইউনিয়ন চলবে তার মত করে।
(আমার কাছে এটা বাস্তবতা বিবর্জিত প্রস্তাব বলে মনে হয়েছে। দুর্নীতি বাড়বে।)
১৫/সরকারি কর্মচারির বিরুদ্ধে মামলা করতে দুদককে সরকারের অনুমতি নিতে হবেনা। আইনজীবিরা রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হতে পারবেনা। (দুটোই ভাল প্রস্তাব!)
১৬/এখন কেউ কোনো অপরাধে সাজা পেলে ৫ বছর পর ইলেকশন করতে পারে, হ্যাঁ জিতলে একবার সাজা হলে সে আর নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেনা!
১৭/হ্যাঁ জিতলে কালো টাকা সাদা করার আইন করা হবে।
১৮/এখন বিভাগ ৮টা আছে, তখন ১০টা হবে। কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ।
পরিশেষে - ভোট আপনার সিদ্ধান্ত আপনার।
আপনার ভোট আপনি দিবেন যাকে খুশি তাকে দিবেন।
[সংগৃহীত/সম্পাদিত]
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment