Khan Thoughts
Friday, 9 January 2026
জামায়াত-শিবির ধর্মকে ব্যবহার করছে।
গ্রাম থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত জামায়াত-শিবির ধর্মকে ব্যবহার করছে। কখনো জান্নাতের নামে, কখনো হিজাবের নামে, কখনো নারায়ে তাকবির স্লোগানের নামে ।
তবে গ্রামের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মের প্রভাব বেশি । কারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ আইডেনটিটি ক্রাইসিসে ভোগে । তারা শহর, গ্রাম, মফস্বল যেখান থেকেই এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোক না কেন, তাদের রাজনৈতিক চিন্তা বা অধিকার বোধের তুলনায় ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি জানাশোনা, নিয়মিত চর্চা করাটা বেশি হয়। বিশেষত নারীদের ভেতর। তারা ধর্মকে নিজের বা সমাজের নিরাপত্তার আশ্রয় হিসেবে দেখে।
তার বেড়ে ওঠার ভেতর এই জিনিসটা তৈরি হয়েছে যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান হলেও তার নিরাপত্তা বা ধর্ম পালনের পরিপূর্ণ অধিকার এ দেশে নাই ।
এই ধারণা তার ভেতর তীব্র করেছে শেখ হাসিনার শাসনামল। বিশেষত ২০১৩ সালে তারা চোখের সামনে এসব দেখেছে । আমরাও বলেছি যে ইসলামি ভাবধারা বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যে অনুপস্থিত। এখানে কলকাতার ভাষা-সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণ চলছে । এবং ব্রিটিশ আমলের মতো বাঙালি মুসলমানদের নিজের দেশেই খাটো করে রাখা হচ্ছে । “বাঙালি মুসলমান”, এই টার্মও ইউজ করা যেত না। দাড়ি-টুপি দেখলে হেয় করা হতো, ট্যাগ দেওয়া হতো । শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে অনেক ঘটনা আছে যেখানে আলেমদের হ** করা হয়েছে । গুম, মেরে ফেলা তো আছেই ।
এই সময়ে ইসলামপন্থীরা মব করে হামলার ঘটনা কমই ঘটাইছে বা ঘটায় নাই । বিবাড়িয়ায় ওস্তাদ আলাউদ্দি খাঁর বাড়ি-ঘর ভাঙার ঘটনা আছে। কিন্তু সেটা আসলে কারা করেছে পরিস্কার না। আওয়ামী লীগ মুসল্লিদের মেরে ফেলার পর নিজেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ আছে।
.
এমন পরিস্থিতির ভেতর আমরা আবার দেখেছি যে, প্যারাডক্সিকেল সাজিদ জনপ্রিয় হচ্ছে । কাসেম বিন আবু বাকার নামে এক মৃতপ্রায় লেখককে জীবিত করছে বিদেশি মিডিয়া । তাদের বই পড়া হচ্ছে গণহারে। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত । অনেক ঘটনা পাওয়া যাবে তখনকার এই প্যা. সাজিদ পড়া নিয়ে। শিক্ষার্থীরা এসব পড়েছে কারণ মেনস্ট্রিম মিডিয়ায় তারা অনুপস্থিত, নাটক-সিনেমায় তারা নাই।
ওই সময় থেকে কলকাতার জি-বাংলার সিরিয়ালের বিপরীতে টার্কিশ নাটক পপুলার হতে থাকে। বইমেলায় ইসলাম পন্থী বই বিক্রি বেড়ে যায়। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত অনুবাদ বইয়ের চাহিদা বাড়ে । কোনো প্রকাশনা সংস্থা আলাদা করে ইসলামি কর্নার খোলে।
.
এই ভয়ে প্যারা. সাজিদ বই সেটাও আওয়ামী লীগ বা দিল্লি ইন্টেলিজেন্স পেনিট্রেট করেছে । তা না হলে যে স্ক্রুনিটির ভেতর দিয়ে দেশের প্রকাশক, লেখকদের যেতে হয়েছে, সেখানে এ বই কীভাবে এত প্রচার পেতে পারে। এই ইন্টেলিজেন্স চেয়েছিল যে এখানে ধর্মের নামে একটা গভীর সামাজিক বিভাজন তৈরি হোক। এমন একটা মনস্তত্ত্ব তৈরি হোক যাদের অবদমিত মন বলবে আমিই ইসলাম ।
এই মনস্তত্ত্ব যে বাংলাদেশে ছিল না তা না। তসলিমা নাসরিনের ফাঁসির দাবির সময়েই দেখা গেছে যে এই মানসিকতা এখানকার ইসলামপন্থীদের আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছিল না। আগে হুমায়ূন, সমরেশ, সুনীল পড়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসত, এখন আসছে প্যারা. সাজিদ পড়ে, টার্কিশ সিরিয়াল দেখে বা ইউটিউবে ইসলামি জজবার নাটক দেখে।
এখানে একটা বিষয় হলো যে, এসব স্টুডেন্টরা যার যার লাইফস্টাইলে যেমন হোক রাজনীতির প্রশ্নে ইসলামকে রাখতে চায়। এটা তাদের পলিটিক্যাল ইসলাম। তাদের রাজনৈতিক জ্ঞান এটা যে, তারা এন্টি শাহবাগী। শাহবাগ যেহেতু ইসলামকে বা মুসলমানদের দমন করতে চেয়েছে। তাদের ইসলামপন্থা সে কারণে এন্টি শাহবাগ।
এই গভীর বিভাজন আওয়ামী লীগের তৈরি করা।
.
আরেকটা বিষয় হলো, প্যারা সাজিদের যুক্তি করার ধরন আর শিবিরের যুক্তি করার ধরন সেম। এই যুক্তির ভিত্তি হলো প্রতিপক্ষ তৈরি করা যে কোনো উপায়ে। যে যাই বলুক, খাটুক বা না খাটুক অপরকে কনডেম করে তারা যুক্তির নামে জবরদস্তি চালায় । যুক্তির এ ধরন নিয়ে আরেকদিন কথা বলা যাবে।
.
এখানে মূল কথাটা আসলে বলতে চেয়ে ছিলাম, জুলাই অভ্যুত্থান কিন্তু ইসলামি পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য হয় নাই । তবে জুলাইয়ের পর এ জিনিসটাকে আবার জাগিয়ে তোলা হয়েছে। এই সময়ে মাজার ভাঙা থেকে শুরু করে কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো বা জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে । অথচ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এটা নিয়ে বিক্ষোভ করে নাই । কিন্তু তাদের অনেককে দেখা গেছে ছাত্ররাজনীতি, হিজাব, নারায়ে তাকবির স্লোগান-এসব ইস্যুতে বিক্ষোভ করতে ।
এতক্ষণ যে আলোচনাটা করলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যে সেন্টিমেন্ট সেটা শিবিরের কাজ করার একটা উর্বর ক্ষেত্র । অন্যরা জল ঘোলা করছে আর তারা সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে ।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এই যে সেন্টিমেন্ট সেটা গন্তব্যহীন বা অন্ধ । তারা দেখেছে যে ভারত তাদের দমিয়ে রেখেছে বছরের পর বছর। হাসিনাকে খেলানোর পর সেখান থেকে তারা মুক্ত। কিন্তু এরপর কি তারা জানে না। এই শূন্য অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে শিবির। তারা সবকিছুতে ধর্মকে প্রবিষ্ট করছে। ফলে এখানে ভারত বিরোধিতা মানে নারায়ে তাকবির স্লোগান । হিজাব পরতে আওয়ামী লীগ মানে ইন্ডিয়া বাধা দিত, এখন ছাত্রদল দিচ্ছে । সেই একই বৃত্ত।
শিক্ষার্থীদের অনুভূতি নিয়ে এই খেলায় অবশ্য শিবির একজন খেলোয়াড় মাত্র । বিস্তৃত ইনফ্রাস্টাকচার আছে এর পেছনে।
আওয়ামী লীগের তৈরি করা সামাজিক বিভাজনের যে মনস্তত্ত্ব, সেটাকে তারা কাজে লাগাচ্ছে । সহজে কাউকে ভারতের দালাল বলা, ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হলে মির্জা আব্বাসকে দায়ী করতে পারা-এই যে আওয়ামী সাইকি এখনো রয়ে গেছে মানুষের ভেতর সেটা আরো বাড়িয়ে বড় করতে চাইছে তারা।
বিষয়টা সবার বুঝে উঠতে সময় লাগবে।
.
তবে এটাকে সফ্ট ডানপন্থার উত্থান হিসেবে দেখাটা ভুল হবে। এটা সফট ডানপন্থা না, এটা একটা তৈরি করা পরিস্থিতি । জোর করে দেখানো হচ্ছে ডানপন্থাকে। মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে ।
Monday, 5 January 2026
আমেরিকা যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে নয়, সুযোগ দিয়ে
রাশিয়ার সামরিক শক্তি আছে, কিন্তু রাজনৈতিক দুঃসাহস নেই—এই কারণেই জেলেনস্কিকে মাদুরোর মতো ধরে এনে নাটক শেষ করার ক্ষমতা তাদের হয়নি।
চীনের অর্থনীতি বিশাল, কিন্তু ঝুঁকি নেওয়ার সাহস সীমিত—তাইওয়ান ইস্যুতে তারা হুংকার দেয়, যুদ্ধ শুরু করে না।
কারণ আধুনিক যুগের যুদ্ধ আর ট্যাংক–বোমার যুদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্র ভাঙার যুদ্ধ, নেতৃত্ব অপসারণের যুদ্ধ, সমাজের ভেতরে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার যুদ্ধ।
এই খেলাটা খেলতে পারে হাতে গোনা কয়েকটি রাষ্ট্র—আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকা যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে নয়, সুযোগ দিয়ে। তারা ডলার ছুড়ে দেয়, #নিষেধাজ্ঞা চাপায়, অভ্যন্তরীণ #বিভাজন উসকে দেয়, #বিশ্বাসঘাতকতা কিনে নেয়।
সেখানে বীরত্বের দরকার হয় না; দরকার হয় ব্যাংক, ড্রোন, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আর নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া। এ কারণেই আজ পৃথিবীতে প্রকৃত মিলিটারি সুপারপাওয়ার একটাই—যুক্তরাষ্ট্র।
বাকিরা বড়জোর আঞ্চলিক শক্তি, নয়তো উচ্চস্বরে চিৎকার করা দর্শক।
চীন যদি পূর্ণ সক্ষমতায় এক বছর যুদ্ধ চালায়, তার তথাকথিত ‘অলৌকিক অর্থনীতি’ ভেঙে পড়বে। কারণ যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের হিসাব নয়—এটি জ্বালানি, খাদ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহনশীলতার হিসাব।
যাদের পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, তারা দীর্ঘ যুদ্ধের খরচ বইতে পারে না।
আর ইরান—পশ্চিমাদের আসল আতঙ্ক এখানেই। তারা জানে, ইরানকে যদি মাত্র এক বছর সব নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়, তাহলে এমন সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার মানচিত্র ছিঁড়ে টুকরো করে দেবে।
কারণ ইরানের আছে নিজস্ব ইতিহাস, সভ্যতা, শিক্ষা, গবেষণা অবকাঠামো এবং ব্যবহারযোগ্য বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ।
ঠিক এই কারণেই ইরানকে দমবন্ধ করেই রাখা হচ্ছে—শক্তি হয়ে ওঠার আগেই শ্বাসরোধ।
আজকের পৃথিবীতে আঞ্চলিক সামরিক জোট ছাড়া আমেরিকার সামনে কেউ নিরাপদ নয়। ভেনেজুয়েলার পাশে বাস্তবে কেউ নেই—আছে শুধু ভণ্ড বিবৃতি, ক্যামেরাবান্ধব উদ্বেগ আর ঠুনকো নৈতিকতার অভিনয়। লাতিন আমেরিকা যদি সত্যিকারের এক কণ্ঠে দাঁড়াত, তাহলে ওয়াশিংটনের জন্য এই আগ্রাসন এতটা সহজ হতো না। বিভক্ত জাতি মানেই সহজ শিকার—এটাই সাম্রাজ্যবাদের পরীক্ষিত সূত্র।
আর এখানেই সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা লুকিয়ে আছে—বাংলাদেশের ওপর যদি বাস্তব চাপ আসে, ভাইয়ের মতো পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো শক্তি কি আছে? নেই। আছে কেবল কূটনৈতিক হাসি, ভারসাম্যের বুলি আর আত্মসমর্পণের পরামর্শ। এই বিশ্বে দুর্বলরা বন্ধু পায় না—পায় কেবল ব্যবহারকারীদের। শক্তি না থাকলে নৈতিকতা শুধু বক্তৃতা, আর সার্বভৌমত্ব থাকে কাগজে লেখা একটি শব্দ।
'আর বাকীসব #মায়াকান্না'
Wednesday, 31 December 2025
কেনো বাঙালি জাতি একটা অভিশপ্ত জাতি ?
৫ই আগস্টের পর গত দেড় বছর ধরে আমি ফুলটাইম পলিটিকাল অ্যাক্টিভিজমে যুক্ত।
খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম বাদে প্রায় পুরোটা সময় ই রাজনীতি নিয়ে পড়ে ছিলাম বলা চলে!
আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে এই দেড় বছরে রাজনীতি নিয়ে পড়ে থেকে আমি কী কী জানলাম-বুঝলাম, আমি সবার ঊর্ধ্বে ২ টা জিনিসের কথা বলবো।
১) বাঙালি জাতি একটা অভিশপ্ত জাতি। এরা কোনো ভালো শাসক/নেতা ডিজার্ভ করে না।
এই জাতি পপুলিজমের ভক্ত। নেগেটিভিটির ভক্ত।
এই জাতি শোভন, মার্জিত কিছু পছন্দ করে না।
এরা পছন্দ করে গালি, স্লাটশেমিং।
এরা পছন্দ করে মিথ্যা। সত্য-মিথ্যার ফারাক বুঝার ক্ষমতা এই দেশের প্রায় সব মানুষের মধ্যেই নাই।
এরা ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন, কাদা ছোড়াছুড়ি, গালাগালি, মিথ্যা ও গুজবের ভক্ত।
কোনোকিছু দেখলে এরা সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে এক সেকেন্ডও ব্যয় করে না।
এদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত শুধু আবেগ আর আবেগ। জ্ঞানের ছিটেফোঁটাও নাই।
কারও নামে খারাপ কিছু শুনলে এদের আত্মা তৃপ্ত হয়।
এরা মানুষকে গালি দিতে ভালোবাসে, অন্যের মুখে গালি শুনতে আরও বেশি ভালোবাসে।
মা-বোন উল্লেখ করা গালি হলে তো কথাই নাই, সেটা তারা আরও বেশি করে ইঞ্জয় করে।
এ কারণেই ইলিয়াস পিনাকি এই দেশের মানুষের মাঝে জনপ্রিয় সাংবাদিক। এ কারণেই ফাইয়াজ ইফতির মতো ছেলের ২ লাখ+ ফলোয়ার!
২) এই অভিশপ্ত জাতির মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাতের মানুষ হচ্ছে এই দেশের হুজুররা।
হুজুর মানে হুজুর। কোনো জাশি-টাশি না। ওভার অল হুজুর শ্রেণিই এরকম।
আল্লাহর কসম করে বলছি, গত দেড় বছরে আমি ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে যত মানুষের মুখে গালি দেখেছি তাদের ১০ জনের ৯ জনই ছিলো হুজুর।
এদের চিন্তাচেতনা এত নিকৃষ্ট, এত নিকৃষ্ট, এত নিকৃষ্ট যে আপনি তা পরিমাপও করতে পারবেন না।
এদের কথাবার্তা আর চিন্তাচেতনা দেখলে মনেহয় জীবনে এক অক্ষরও পড়ালেখা করে নাই।
এদের মাঝে বিন্দুমাত্র বিচারবুদ্ধি নাই, কোনোকিছু নিয়ে জানাশোনা নাই।
বিরোধী মতকে এরা সহ্যই করতে পারে না। জাস্ট ধ্বংস করে ফেলতে চায়।
উপরে যে গুজব-মিথ্যা-গালির ভক্ত বাঙালির কথা বললাম, হুজুররা হচ্ছে তাদের মধ্যে টপ।
আমি দেড় বছরে হাজার হাজার বার দেখেছি, বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত লোকেরা কী জঘন্য ভাষায় গালি দেয়।
মুখে দাড়ি, মাথায় টুপি, কিন্তু তর্ক শুরুর আগেই অপর পাশে থাকা মানুষটাকে জঘন্য ভাষায় গালি দিচ্ছে। একদম মা-বোনের উপরে উঠে যাচ্ছে, এমন অবস্থা।
কভার ফোটোতে মক্কা শরীফের ছবি, হজ্বও করে আসছে, কিন্তু শুধুমাত্র মতের অমিল হওয়ার কারণে মানুষকে বিশ্রী ভাষায় গালাগালি করতেসে। হাজারটা ট্যাগ দিচ্ছে।
আপনি যত গুজব দেখবেন, যত নোংরা রাজনীতির খেলা দেখবেন, সব এই হুজুররা সর্বপ্রথম পিক করে। এসবে এরা খুব মজা পায়। এগুলো এদের প্রিয় খাবার।
আর নারীদের নিয়ে এদের মনোভাবের কথা কী বলবো। একটা সময় ভাবতাম এদের সমস্যা নারীদের আস্ফালন নিয়ে। বিভিন্ন বিষয়ে বাড়াবাড়ি নিয়ে।
কিন্তু বিশ্বাস করেন, এদের বেশিরভাগ অংশ নারীদের এক্সিস্টেন্সই সহ্য করতে পারে না।
নারী দেখলেই এরা মনে করে চরিত্রহীন, খারাপ। নারী জিনিসটা যেনো এদের কাছে বিষের মতো।
আমি জানি না কেনো, কিন্তু হাতেগোনা দুই-একজন বাদে এই দেশের সব হুজুর এরকম!
গত দেড় বছরে এটা একদম কাছ থেকে দেখলাম।
এটা বোঝার জন্য আপনার বাম-নাস্তিক-শাহবাগী কিছুই হওয়া লাগবে না, একটু নিবিড় পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝবেন!
@Hasib Badsha Arko
Sunday, 28 December 2025
হাদীকে বাঁচতে দেওয়া হলো না ?
"হাদী সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ্জা-মান" কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিল:—
সাহস থাকলে কু করে দেখান। জনগণ গিয়ে ইট খুলে আনবে ক্যান্টনমেন্ট থেকে।
এটা কোনো হুমকি ছিল না—এটা ছিল জনতার শক্তির ঘোষণা।
"হাদী প্রধান উপদেষ্টার"চোখে চোখ রেখে বলেছিল:—
আমি বিশ্বাস করি, আপনি পালাতে আসেননি। তাই ভয় পাবেন না। নামগুলো বলেন— কারা আপনাকে কাজ করতে দিচ্ছে না। এই কথার ভেতর ছিল না ভদ্রতার মুখোশ, ছিল সত্য বলার সাহস।
"ইন্টেরিমের উপদেষ্টাদের" উদ্দেশে হাদী বলেছিল:—
একজন রিকশাওয়ালাও জানে—আপনাদের কেউ ভালো না। আপনারা জুলাইকে বেচে দিয়েছেন। এক পা বিদেশে, আরেক পা ক্ষমতার টেবিলে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে আপনারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
এই অভিযোগ কোনো গুজব না—এটা রাজপথের রায়।
"হাদী বিএনপি"-কে বলেছিল:—
শহীদ জিয়ার দলকে ভারতের দাস বানাতে দেবো না।
কারণ স্বাধীনতার নামে দাসত্ব মানে শহীদদের অপমান।
"হাদী জামায়াতে ইসলামী"-কে বলেছিল:—
নিজামী, সাঈদীর জামাতকেও ভারতের দাস হতে দেবো না।
কারণ আদর্শের কথা বলে পরাধীনতা মেনে নেওয়া সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি।
"হাদী এনসিপি"-কে সোজাসাপটা বলেছিল:—
তোমরা জুলাইকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়েছ।
মনে রেখো—জুলাই কোনো দলের না, জুলাই পুরো দেশের।
এই কথায় কেঁপে উঠেছিল অনেকের সাজানো বয়ান।
"হাদী এমনকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী-লীগের" ক্ষেত্রেও বলেছিল:— যারা গণহত্যায় জড়িত না, তাদের সাথেও ইনসাফ করতে চাই।
কারণ হাদীর রাজনীতি ছিল প্রতিশোধের না। ন্যায়ের।
ঢাকা–৮ আসনে হাদী নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাস আর হেলাল উদ্দীনকে
"ভাই" বলে দোয়া চেয়েছিল:—
কারণ সে শিখিয়েছিল, রাজনীতি মানেই শত্রুতা না, রাজনীতি মানেই মানবতা।
হাদী “হেভিওয়েট রাজনীতি”র মিথ ভাঙতে চেয়েছিল:—
ক্ষমতা আর টাকার কাছে মাথা নত না করে সবার জন্য সমান মাঠ গড়তে চেয়েছিল।
হাদী প্রমাণ করতে চেয়েছিল—
সততা, ভালোবাসা, ত্যাগ আর জনগণের ভাষা বুঝতে পারলে, কোটি টাকার প্রার্থীকেও হারানো যায়।
"হাদী চেয়েছিল" হিন্দুদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম:—
যাতে কোনো দল আর কোনো সময়
তাদের ভোটব্যাংক বানিয়ে ব্যবহার করতে না পারে।
হাদী স্বপ্ন দেখেছিল:—
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই দেশের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করানোর।
হাদী কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে যোগ্য, দক্ষ সাহসী মানুষ তৈরি করতে চেয়েছিল।
হাদী চেয়েছিল:—
জুলাইয়ের শহীদদের খু/নীদের বিচার।
"৫৭ বিডিআর" হ/ত্যার বিচার।
শাপলা গণহত্যার বিচার।
গুম–খুনে জড়িত ডিজিএফআইয়ের নরপশুদের বিচার।
হাদী দেখাতে চেয়েছিল:—
বিক্রি না হয়েও রাজনীতি করা যায়।
মুড়ি আর বাতাসা দিয়েও জনসংযোগ হয়।
কোটি টাকা ছাড়াও নির্বাচন করা যায়— যদি জনগণ পাশে থাকে।
আমি একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে ইন্টেরিম সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের কাছে জানতে চাই ?
এই চাওয়াগুলো কি এতটাই অপরাধ ছিল?
তাই কি হাদীকে বাঁচতে দেওয়া হলো না?
তাহলে আজ প্রশ্ন একটাই—?
*এই দেশে কি সততা নিয়ে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ?
*ইনসাফের কথা বললেই কি মৃত্যু অনিবার্য?
*জনগণের পক্ষে দাঁড়ালেই কি গুলি বরাদ্দ?
যদি, হাদীর স্বপ্ন অপরাধ হয়:- তাহলে এই রাষ্ট্র নিজেই অপরাধী।
আর যদি হাদীর চাওয়াগুলো সত্য হয়:— তাহলে হাদী মরেনি, হাদী আজও প্রশ্ন হয়ে এই জাতির বুকের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে যাচ্ছে।
জামায়াত'কে এখন আর রাজাকার বলার কোনো সুযোগ আছে কী ??
বর্তমান জামায়াত'কে এখন আর রাজাকার বলার কোনো সুযোগ রইলো কী বা আছে কী ..???
"৭১- এবং "২৪ এর জামায়াত কিন্তু এক নয়-;
জামায়াত'কে নিয়ে কিছু কথা....পড়ুন,
আশা করছি ভালো লাগবে- তবে, তেতো সত্য কথন।
প্রথমত বলতে চাই, জামায়াত তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে (যারা তাদের রাজাকার বলে, তাদের সবার গায়ে কালি লাগানোর কাজ)।
আমরা ১৯৭১ এর কারণ থেকে জেনে আসতেছি জামায়াত খুব খারাপ দল- মনে করেন, জামায়াত খুব খারাপ- মানে বেইশ্যা। এই বেইশ্যার সাথে যারা রাত কাটায়- তাদের কী বলা উচিত- বলেন-!?
ঝড়ের রাতে সেই বেইশ্যার ঘরে আশ্রয় নিয়ে- ঝড় থামার পর বের হয়ে যদি বলেন- ঝড়ের সময় বেইশ্যার ঘরে ছিলাম। একবার ভাবুন তো, এখানে কে সবচেয়ে বেশি খারাপ- বেইশ্যা নাকি- সেই আশ্রয়গ্রহনকারী- বলেন- কে-!?
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের মুরব্বিদের নেওয়া সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো না... ঈমানদার কখনও জালেম হতে পারে না--- উনারা যেটা করতে পারতেন-
১। পশ্চিম পাকিস্তান সরকারকে উনারা বোঝাতে পারতেন যুদ্ধ না জড়িয়ে- আপোষ মীমাংসা করার জন্য।
কারণ, দুই ভাই যখন বিবাদে জড়ায়- তখন দুই ভাইয়ের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীর ঈমানদারী কাজ হলো- দু-পক্ষ'কে বুঝিয়ে আপোষ মীমাংসা করে দেওয়া।
২। দুই ভাইয়ের বিবাদে তৈল ঢেলে- কোনো একপক্ষের জন্য কাজ করে অন্যজনকে ধ্বংস করে দেওয়া। দূর্ভাগ্যক্রমে জামায়াতের তখনকার নেতৃত্ব ২য় কাজটি করে- বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো।
যা-ই হোক, স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তারাও সেই ক্ষমা পাবার শর্তগুলো মেনে করে এইদেশে স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করতেছিলো।
শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর, খন্দকার মোশতাক, সায়েম এবং জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর- জিয়াউর রহমান, শেখ মুজিবের নিষিদ্ধ করা রাজনীতি উন্মোচিত করে- সকল দল ও মত'কে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দেন।
জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী নেতা এবং প্রশাসক।
তিনি চিন্তা করলেন- যত বেশি মত- ততো বেশি পথ, সুতরাং, যারাই ক্ষমতায় থাকবে ভয়ে থাকবে, সতর্ক থাকবে- ভুল করলে- ধরার লোকের অভাব তো নেই।
তার মানে, শাসক দল সবসময় সঠিক কাজটাই করার চেষ্টা করবে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।
জিয়াউর রহমানের এই চিন্তা-চেতনার কারণে, আবার বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে এবং সেই সুযোগে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামি লিগ এবং পাকিস্তান জামায়াতও- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে আবার রাজনীতির ময়দানে ফিরে আসে।
জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর, এরশাদ ক্ষমতায় আসে এবং স্বৈরাচার হয়ে... পতন হয় ১৯৯০ সালে।
সেই স্বৈরাচার এর পক্ষ নিয়ে- প্রথম সুযোগেই বেইমানি করে দেখায়- বহুদলীয় গণতন্ত্রের কারণে রাজনীতি করার সুযোগ পাওয়া আওয়ামি লিগ এবং জামায়াত।
১৯৮৬ সালে এই দুই দল আওয়ামি লিগ এবং জামায়াত আবারও এইদেশের মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এরশাদের সাজানো সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়- তার মানে এরশাদের হাতকে শক্তিশালী করে তোলে।
শুনেছি সেই নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা- কোরান ছুঁয়ে বলেছিলেন- যারা (১৯৮৬) এই নির্বাচনে অংশ নিবে- তারা হবে এদেশের জাতীয় বেঈমান। পরে সে নিজেই জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলো।
তাহলে, কী বোঝা গেলো- জামায়াত এবং আওয়ামি লিগ ১৯৭১ সালে মারামারি করলেও- আসলে তারা আপন মায়ের পেটের দুই ভাই...!! এই দুই দলের জন্মও হয়েছিলো বাংলাদেশ জন্ম হওয়ার আগে- পাকিস্তানে।
১৯৯০ সালে এরশাদের পতন হওয়ার পর, ১৯৯১ সালে ইতিহাসের প্রথম স্বচ্ছ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০ আসন লাভ করে- বাকী ১০ আসনের জন্য এই জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় যায় বিএনপি। জামায়াত পেয়েছিলো ১৮ সিট।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে সেই জামায়াত এবার আওয়ামি লিগের সাথে জোট করে তুমুল আন্দোলন করে আওয়ামি লিগকে ক্ষমতায় বসতে সাহায্য করে। আওয়ামি লিগ ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টিকে সুবিধা দিলেও, জামায়াত ৩টি সিট ছাড়া কিছুই পায় নাই।
আবার ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জামায়াত বিএনপি এর সাথে জোট করে- ২টা মন্ত্রীর পদ সহ ক্ষমতার স্বাদ পায়। এই নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করলেও- আন্দোলনের সঙ্গী হিসেবে জামায়াতকে নিরাশ করে নাই।
সারমর্ম হলো, এরই মধ্যে জামায়াত- জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং আওয়ামি লিগ'কে খাওয়া শেষ-!!!
২০০৬ এর পরের ইতিহাস তো আপনারা সকলেই জানেন। এতো কিছু জানার পর, এখন আমার প্রশ্ন হলো- একে একে সবাই তো জামায়াত'কে নিয়ে রাজনীতি করেছে- একসাথে খেয়েছে, ঘুমিয়েছে এবং ভোগ করেছে- তখন তো কারোর মুখে রাজাকার বলে বমি আসে নাই- এইটা একদম চরম সত্য কথা।
জামায়াত নিজের ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক, সকল দলের কাজে লেগেছে- সবার সাথে গেছে। সকল দল তাদের বিপদের সময় জামায়াতকে পেয়েছে বা ব্যবহার করেছে। বিপদ কেটে গেলে ছিটকে ফেলেও দিয়েছে। জামায়াতের একটা দূর্বলতা, কেউ যখন তাদের কানের কাছে গিয়ে জোর গলায় রাজাকার বলে ডাক দেয়- তখন তারা সঠিক উত্তরটা দিতে পারে না।
জামায়াতের সবচেয়ে বড়ো বোকামি হলো- তারা মনে করে তারা বেশি বুঝে- অথচ, এটা বুঝে না সবাই তাদেরকে ব্যবহার করেই আজ এতো শক্তিশালী হয়েছে। দেশের কঠিন সময়ে জামায়াত সবসময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে- এবং সেটা লোভ করতে গিয়ে।
জামায়াতের মধ্যে এই মুহূর্তে চিহ্নিত কোনো যুদ্ধাপরাধী নেতা নেই। সুতরাং, জামায়াতকে এখন আর রাজাকারের দলও বলা যাচ্ছে না।
এনসিপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিস এবং চরমোনাই (সারাজীবন জামায়াতকে মোনাফেক ফতুয়া দিতো)। সবাই তো জামায়াতের সঙ্গে জোট করতেছে- কতেক মুক্তিযোদ্ধাও জামায়াতে যোগ দিয়েছে এবং দিবেও... তারমানে জামায়াত এখন আর রাজাকারের দল নয়-!?
২০টা বছর এইদেশে সঠিক নির্বাচন হয় নাই।
দীর্ঘ এই সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে কে কতোটুকু শক্তিশালী, সেই হিসেবটা করার জন্য হলেও- উচিত ছিলো সামনের নির্বাচনটা সবাই এককভাবে করা।
তাহলে, সকলেই সকলের শক্তিমত্তা সম্পর্কে বুঝতে পারতো এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা হতো। এভাবে, হুজুগে জোট করার কোনো মূল্য নেই- এতে দেশের জনগণের কোনো উপকার হবে না- উন্নয়ন হবে জোটের- অন্যায় করলেও জোটের বাহিরে কেউ কথা বলবার সুযোগ পাবে না।
পরিশেষে: একটা কথাই শক্ত করে বলে রাখি- জামায়াত সাকসেস- তবে কিভাবে-!? শুনেন তাহলে- জামায়াতকে আপনারা যারা রাজাকার বা পায়খানা মনে করেন- জামায়াত সেই পায়খানা সবার গায়ে লাগিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
এই লেখার পরে আর কখনও জামায়াতকে নিয়ে কিছু বলার আছে কিনা- তা ভবিষ্যৎ বলে দিবে। ভবিষ্যৎ জামায়াতের জন্য শুভকামনা কামনা রইলো।
তবে, করজোড়ে জামায়াতের নিকট অনুরোধ করছি- দেশে আর প্যাচ লাগাইয়েন না- যেখানে সেখানে গিয়ে আগুনে ঘী ঢালিয়েন না। আপনারা সঠিক পথে থাকলে দেখবেন মানুষই ছুটে যাবে- কাউকে ডাকতে হবে না।
কেবল ভারত বিরোধিতায় আমি জামায়াতের সাথে একমত- ভবিষ্যতে এরকম আরও কিছু মিলে যেতে পারে। শুধু দ্বিচারিতার দোকানটা বন্ধ রাখবেন।
পিআর, স্থানীয় নির্বাচন, গণভোট- জামায়াত কতো পাগলামী করলো- কী লাভটা হলো- আপনাদের কর্মীরা কয়দিন লাফালাফি করলো- এখন তাদের জবান বন্ধ হয়ে গেছে লজ্জায়। প্রত্যেকটি মবের সাথে জামাতের ইন্ধন রয়েছে বা করিয়েছে।
এসব করে মাঝখান দিয়ে অন্য দলগুলোর সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দেশের এই বিশেষ সময়ে এসব পাগলামি না করলেও হতো। জামায়াত এসব কাজ করেছে, তার একটাই কারণ, তাদের মধ্যে দূরদর্শী নেতার অভাব।
সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে একসাথে থাকুন। অপশক্তি যেন আর কোনোদিন ভারত থেকে এদেশে আসতে না পারে, সেই কাজটায় সবসময় একমত থাকতে হবে। জামায়াত এখন রাজাকার মুক্ত।
মুক্তিযুদ্ধ এবং রাজাকার- শব্দ ব্যবহার করে রাজনীতি করা- দেশের জনগণকে দুইভাগ করে- রাজনীতি করার কৌশল চিরোদিনের জন্য এদেশ থেকে কবর দিয়ে দিতে হবে। নেতৃত্বের গুণাবলি-ই হলো একতা।
Friday, 26 December 2025
ওসমান হাদিকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়া সব ভিডিও নামিয়ে ফেলতে অনুরোধ করছে ভারত!
ওসমান হাদি ভাইকে জ*ঙ্গি ট্যাগ দিয়া সব ভিডিয়ো নামিয়ে ফেলতে অনুরোধ করছে ভা*রত!
ফেসবুক সেটাই করছে! চিন্তা করেন সা** একজন মৃত হাদির কণ্ঠকে কতোটা ভয় পাচ্ছে।
এবার বাস্তবতায় আসেন, পাকি*স্তানের কিচ্ছু নাই কিন্তু বিদেশী শক্তি থেকে দেশটা সেইফ!
উত্তর কোরিয়ারও কিচ্ছু নাই কিন্তু দেশটা সেইফ!
ই*সরায়েলের কিচ্ছু ছিলো না ,বর্তমানে যেখানে আছে ঐ দেশটাও তাদের নিজের না কিন্তু তাদের দেশটা সেইফ।
ইন্ডি*য়া সামরিক শক্তি দিয়া বিশ্বের চতুর্থ শক্তিশালী দেশ কিন্তু পাকি*স্তানের একটা পশম ছেড়ার ক্ষমতা ইন্ডি*য়ার নাই।
ইস*রায়েল পুরো মধ্যপ্রাচ্যেকে নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছে। ইরান ছাড়া তাদের কেউ কিছু করার ক্ষমতা নাই।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ আমেরি*কা কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়াকে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্র এতো হুমকিধামকির পরেও একটা পশম ছিড়তে পারে নাই।
ট্রাম্প হুমকি দিলে পাল্টা হুমকি দিতো উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিমজংউন!
ট্রম্প উত্তর কোরিয়াতে সামান্য আক্রমণ করার সাহস দেখাইনি।
অথচ কয়দিন আগে ভেনিজুয়েলাতে ঠিকি আক্রমণের হুমকি দিয়া আক্রমণ করছে।
শুনেন, আজকের শক্তিশালী পাকি*স্তান ইন্ডি*য়াকে হুমকি মনে করেই বহু বছরে শক্তিশালী হইছে।
আজকের শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রেকে হুমকি হিসেবে নিয়েই শক্তিশালী হইছে।
আজকের ভুমিহীন ই*রায়েল পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি করছে মধ্যপ্রাচ্যেকে হুমকি হিসেবে মনে করেই!
এবার আসেন,
বাংলাদেশকে কেউ হুমকিধামকি দেয় না?
দেয়!
তাহলে বাংলাদেশের জন্য হুমকি কে?
চীন,পাকিস্তান?
মোটেই না!
চীন ,পাকিস্তান কখনো বাংলাদেশের দখল করতে আসবে না।
ঐ দুইটা দেশের মানুষের বাঙালির প্রতি কোন ক্ষোভ ,অভিযোগ ,শত্রুতা দেখি না।
কিন্তু আমাদের তথাকথিত বন্ধুদেশের মানুষগুলোর বক্তব্য প্রায় শুনি।
রাজনৈতিক নেতা, মিডিয়া, সামরিক কর্তা , এমনকি উগ্রবাদী হিন্দুদের মনে ভয়ংকর লেভেলের ক্ষোভ।
তারা শুধু পারে না বাংলাদেশের মুসলিমদের পানি ছাড়া গিল্লা খেয়ে ফেলতে।(সবাই না মেক্মিমাম)
ইন্ডি*য়ার সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলগুলো ব্যবহার শুনছেন?
আসামের মন্ত্রী বলছিলো, চট্টগ্রাম নাই করে দিবে।
শুভেন্দু বলছিলো ৪ টা ড্রোন দিয়া বাংলাদেশের ঢাকা ধ্বংস করে দিবে।
উগ্র*বাদী হিন্দুরা বলে দেশের এক পাশ থেকে আরেক পাশে হেটে গিয়ে বাংলাদেশকে পিশে দিবে।
কলকাতার শুধু একদিনের ময়লা দিয়া বাংলাদেশকে ঢেকে দিবে।
বাংলাদেশ নামক দেশটাকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলবে।
কেউ কেউ বাংলাদেশে সামরিক অভিযান আর ট্রাইকের কথা বলছে।
বিপ্লবীদের সীমান্তে এনে গুলি করে করে মারবে।
বিপ্লবী কারা? যারা বাংলাদেশপন্থী, সুজা কথা যারা দিল্লির দাসত্ব মানতে রাজি না।
যারা ভার*তের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলে তাদের জ*ঙ্গি তকমা দিচ্ছে।
খুব প্ল্যান করে দেশপ্রেমিক ৫৭ জন অফিসার নাই করে দিছে।
বাংলাদেশের টেরোরিস্টদের তারা লালনপালন করছে।
বন্যার সময় ডুবিয়ে মারে আর পানি না দিয়ে খরায় মারে।
তারপরেও কি এক বেলা না খাইয়া সামরিকভাবে শক্তিশালী হওয়া জরুরি মনে করেন না?
তারপরেও কি দিল্লির দাসত্বের শিকল ভেঙে আজাদী হয়ে চলতে ইচ্ছে করে না?
আপনারা কি দেখেন না, পুরো পৃথিবীতে শক্তির প্রতিযোগিতা চলছে। যুদ্ধ নীতিতে সবাই এগোচ্ছে আমাদের মতো কয়েকটা বো**চো**দা দেশ ছাড়া।
যাদের শক্তি বেশি তারাই দুর্বলদের উপর আক্রমণ করছে।
দুর্বল দেশগুলোকে শক্তিশালী দেশগুলো শোষণ করছে।
তাদের আধিপত্য সহ্য করতে না পারলেই কোন কারণ ছাড়াই আক্রমণ করছে।
হাজার হাজার সিভিলিয়ান মেরে ফেলছে।
দেশে দেশে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে রাখছে।
এখন হয়তো আপনাদের হুশ ফিরবে না, তবে ফিরবে যেদিন সত্যিই সার্জিক্যাল স্টাইক করে কয়েক হাজার মানুষ মেরে ফেলবে!!!
©️Anisur Rahman
Tuesday, 2 December 2025
আপনি মুসলমান, কিন্তু কোন মুসলমান ?
দেশ যদি একশভাগ মুসলমানের দেশও হয়ে যায়, তবু দেশে পারস্পরিক বিশ্বাসের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতার দরকার হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান শুধু বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে না, আন্তঃধর্মেও অনিবার্য বিষয়। তাছাড়া দেশের সবাই মুসলমান হয়ে গেলেও ধর্মীয় শান্তি প্রতিষ্ঠা পাবে না। কারণ তখন আবার যে প্রশ্নগুলো ঘাতক হয়ে উঠবে সেগুলো হলো:
(ধর্মীয় রাজনৈতিক চিন্তা বিবেচনায়)? সুন্নি (শরিয়তপন্থী), নাকি শিয়া (আলীপন্থী)? না খারিজি (আলীপন্থী বিরোধী)? নাকি আসহাব (মুহাজির+আনছার) কিংবা উমাইয়া (ওসমানপন্থী)?
(ধর্মতাত্ত্বিক বিবেচনায়) আপনি কি জাবারিয়া (মানুষের ইচ্ছা ও কর্মের স্বাধীনতা নেই মতাদর্শিক) নাকি কাদারিয়া (মানুষের চিন্তা ও কর্মের স্বাধীনতা মতাদর্শিক), অথবা মুরজিরা নাকি সিফাতিয়া?
(দর্শনগত দিক বিবেচনায়) আপনি কি মুতাজিলা/ ফালাসিফা (প্রজ্ঞা জ্ঞানের উৎস মতাদর্শিক), আশারিয়া (সামাজিক আচার জ্ঞানের উৎস মতাদর্শিক), নাকি সূফি (স্বজ্ঞা জ্ঞানের উৎস মতাদর্শিক)?
আপনি যদি সুন্নি হোন, তাহলে কোন সুন্নী: হানাফি, মালিকি, শাফিঈ নাকি হাম্বলি?
শিয়া হলে কোন শিয়া: ইসনা আশারিয়া (১২ জন ইমামের শিক্ষায় বিশ্বাসী), ইসমাইলি (সম্প্রদায়টি আবার নিজারি ইসমাইলি, ইসমাইলি সপ্তস্থম্ভ, মুসতালি, দাউদি বোহরা, হেবতিয়া বোহরা, সুলেমানি বোহরা ও আলাভি বোহরাতে বিভক্ত)?
আপনি রেজভি/বেরলভি, দেওবন্দি, সালাফি, ওয়াহাবি নাকি আহলে হাদিস? নাকি জামাতুল মুসলিমিন?
আপনি সুফি বা তরিকাপন্থি বা মাজারপন্থি হলে ভারতবর্ষে তিন শতাধিক তরিকা আছে। আপনি কাদেরিয়া, চিশতিয়া বা নকশবন্দিয়া? নাকি মোজাদ্দেদিয়া, ওয়াইসিয়া, মাসুমিয়া, সোহরাওয়ার্দিয়া? নাকি মাদারিয়া, মুহম্মদিয়া, মাইজভাণ্ডারীয়া, উম্মিয়া, বেকতাশিয়া?
আপনি চন্দ্রপুরী, আটরশি, দেওয়ানবাগি, কুতুববাগি, নাকি খিজিরিয়ান বা সুরেশ্বরী?
আপনি হিজবুত তাহরিত (খিলাফত প্রতিষ্ঠাকারী) নাকি হিজবুত হওহিদ (সংস্কারপন্থী)?
সবাই তো মুসলমান, সবাই তো রাসুলুল্লাহ সাঃ-কে অন্তর দিয়ে ভালোবাসে, সবাই তো আল্লাহর একাত্ববাদকে অনিবার্য সত্য বলে মানে কিন্তু ওহাবিরা মাজার ভাঙছে কেন? আহলে হাদিসের অনুসারীরা কেন হানাফি মসজিদে নামাজ পড়তে চান না? তার মানে সবাই মুসলমান হলেও তরিকা এক হবে না। সম্ভব হবে। নবি (সা)-এর চার খলিফার অনুসারীরাই এক হতে পারেনি। তার মানে আলাদা হওয়াটা ইসলামের আদি বাস্তবতা। এটা মেনে নিয়ে সহাবস্থান করাও বাস্তবতার অংশ। দুজনই আল্লাহর কাছে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করে, আল্লাহর গুণকীর্তন করে, কিন্তু তরিকা ভিন্ন হওয়ার কারণে এক পক্ষ আরেক পক্ষের প্রার্থনালয় (ধরুন মাজার) গুড়িয়ে দিতে পারেন না। গুড়িয়ে দিলে আপনি হয়তো একশো দলের একদল, বাকি নিরানব্বই দলকে গুড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিউত্তরে সেই নিরানব্বই দলের কোনো দল আপনাকে গুড়িয়ে দিতে আসবে। আল্লাহ পৃথিবী ধ্বংস করার জন্য আপনাকে পাঠাননি। শান্তি প্রতিষ্ঠা না করতে পারেন, শান্তি নষ্ট কইরেন না। মানুষ হয়ে যখন জন্মেছেন সহাবস্থান করা আপনার অনিবার্য নিয়তি। পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীও সেটা করে। আপনি ব্যতিক্রম না।
Subscribe to:
Comments (Atom)

