Khan Thoughts
Thursday, 29 October 2026
দিল্লির ন্যারেটিভ হইলো, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ! পাকিস্তানিরা শত্রু
বাংলাদেশ যতোদিন পর্যন্ত পাকিস্তানকে আকড়ে ধরে রাখতে পারবে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশকে কেউ নিশানা বানানোর সাহস পাবে না!
তারচেয়ে বড় বাস্তব সত্য বাংলাদেশের মিলিটারি খাত এতোটাই শক্তিশালী হবে! তারা চাইলেও বাংলাদেশকে গা*জা বানাতে পারবে না।
দিল্লির ন্যারেটিভ হইলো, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ!
পাকিস্তানিরা শত্রু ,তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না অথচ বর্তমানে উন্নত দেশগুলো কেউ অতীত নিয়া ভাবে না।
যে জাপানে আমেরিকা ১৯৪৫ সালে দুটো
পারমাণবিক মেরে লাখ লাখ মানুষ খুন করলো তারা আজকে আমেরিকার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
যে ব্রিটেন ২০০ বছর ভারতবর্ষ শোষণ করলো তারাও আজকে ভারতের ভালো বন্ধু দেশ।
চীন ভারতের শত্রু দেশ ছিলো গতকাল থেকে ভারত চীন ফ্লাইট চালু হইছে।
বিশ্বটাই চলছে পূর্বের শত্রু বর্তমানের বন্ধু সমীকরণে।
মানে যার থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পাবে তার সাথে নতুন বন্ধুত্ব করছে।
আজকে ইউরোপের দেশগুলো সেইফ কারণ তারা পারমাণবিক মেনেজ করে রাখছে।
সিস্টেমে নিজেদের সুরক্ষিত রাখছে।
যেমন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটের সদস্য কয়েকটি দেশে (বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও তুরস্ক) তাদের পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করে রাখছে।
অথচ তারা পারমাণবিক শক্তিধর দেশ না!
যদিও দাদারা আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র দিবে না তবে কৌশলে পাকিস্তান থেকে চুক্তি করে ২/৪ টা মোতায়েন করা যেতে পারে।জাস্ট হুমকিধামকি ঠেকানোর জন্য।
এই কারণেই দাদারা তো চাইছে!
পাকিস্তানের সাথে বন্ধুত্ব না হোক,ব্যবসাবাণিজ্য না হোক।
অর্থাৎ বাংলাদেশ শক্তিশালী হোক সেটা তারা চায় না!
তবে এই ব- দ্বীপে আমাদের টিকে থাকতে হলে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক লাগবে চীন- পাকিস্তানের সাথে।
শক্তিশালী হওয়া ছাড়া কোন বিকল্পও দেখছি না!
আর শক্তিশালী হইতে হলে,আপনি মানেন আর না মানেন, চেতনা বাদ দিয়া বাস্তবতায় ফিরতে হবে
বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক!!!
- আনিসুর রহমান
Wednesday, 28 October 2026
হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ছবি ধারণ করে ফ্লাইট লে. রিফাত আশরাফী।
হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ছবি ধারণ করে ফ্লাইট লে. রিফাত আশরাফী। কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের জানালা থেকে ছবিটি তুলেছিলেন। আর ছবিটি নেটে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরি। তাদের দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
আমার দেশের প্রতিবেদনে বিমানবাহিনীর ভারতের Raw এজেন্ট হিসাবে কারা জড়িত প্রকাশ হয়েছে।
বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরের ‘র’ নেটওয়ার্ক ফাঁস। ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ দুপুরে কুর্মিটোলা বিমানবন্দর দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তার পালিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিও দৃশ্যের সঙ্গে সবাই পরিচিত। হাসিনার পালানোর এই একটিমাত্র ছবি। কে তুলেছেন এই ছবি এবং কে ধারণ করেছেন এই ভিডিও? সঙ্গে সঙ্গে নেট দুনিয়ায় ভিডিওটি আবার ছড়িয়ে দিলোই বা কে?
এয়ার ইন্টেলিজেন্স এই ঘটনার অনুসন্ধান এবং ছবি ধারণকারী ব্যক্তিকে ধরতে গিয়ে উদঘাটন করল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরের ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এক নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফকে ইতোমধ্যে কোর্ট মার্শাল করে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন কাশিমপুর কারাগারের হাই সিকিউরিটি সেলে বন্দি আছেন। ‘র’ সংশ্লিষ্টতায় বিমান বাহিনীর উচ্চপদস্থ ৬ কর্মকর্তা- এয়ার ভাইস মার্শাল এম এ আউয়াল হোসেন, এয়ার ভাইস মার্শাল জাহিদুল সাঈদ, এয়ার কমডোর মোহাম্মদ আমিনুল হক, গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ আল ফারুক, গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামীম ও উইং কমান্ডার সাইয়েদ মোহাম্মদকে শনাক্ত করে তাদেরকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর পরিচালক লে. কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী আমার দেশকে জানান, বিমান বাহিনীর এই ছয় অফিসার স্বাভাবিক অবসরে গেছেন। ক্যারিয়ারজানুন
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সের ভেতরে ‘র’-এর শ্যাডো রিক্রুটার হিসেবে কাজ করতেন স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ। এয়ার ইন্টেলিজেন্স তাকে আইডেন্টিফাই করার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট ডিজিএফআইর হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। তার ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ভারতীয় প্যারা কমান্ডোর ব্যবহার করা দুটি এফএন-৯০ এবং সিগপি-২২৯ রাইফেল ও এক কোটি নগদ টাকাসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস। ভারতীয় ‘র’-এর সক্রিয় এই এজেন্টকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ছবি ধারণ করা বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাকে ধরতে গিয়ে। বিমান বাহিনীর কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের জানালা থেকে ছবিটি তুলেছিলেন ফ্লাইট লে. রিফাত আশরাফী। আর ছবিটি নেটে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরি। তাদের দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। ফ্লাইট লে. রিফাত আশরাফী প্রশাসন শাখার একজন কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
শেখ হাসিনার পলায়ন দৃশ্য কেবল এক অ্যাঙ্গেলের ভিডিও থেকেই দেখা যায়। এই ছবির সূত্র ধরে শুরু হয় এয়ার ইন্টেলিজেন্সের গোপন তদন্ত। এতে পরিষ্কার হয়ে যায়, এই ভিডিও করেছেন মাত্র একজন এবং সেটা বেশ দূর থেকে। ভিডিও করার অ্যাঙ্গেল, অবস্থান ও ক্যামেরা প্যান করার পর্যবেক্ষণ করে এয়ার ইন্টেলিজেন্স কোন কক্ষ থেকে এবং কে এই ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেন তা আইডেন্টিফাই করতে সক্ষম হয়। ফ্লাইট লে. রিফাত আশরাফীকে ধরা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তার অফিসের রুমের জানালা থেকে তিনি ছবিটি তুলেছেন। শেখ হাসিনা বিমান বাহিনীর সি-১৩০-জে বিমানে করে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে কলকাতা হয়ে দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তার পলায়নের এই রুট এবং বিমানে করে যাচ্ছেন সে কথা যাতে জানাজানি না হয়ে যায় সেজন্য ছবিটি তোলা ও ভাইরাল করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরা পালিয়ে যাচ্ছেন-আগেই এই ন্যারেটিভকে এস্টাবলিশড করা।
ছবি ধারণকারী রিফাতের মোবাইল ফরেনসিক করার সময় তদন্তকারী এয়ার ইন্টেলিজেন্স আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফের যোগসূত্রতা আবিষ্কার করা হয়। জানা যায়, তিনি ‘র’-এর সক্রিয় এজেন্ট।
এয়ার ইন্টেলিজেন্স প্রথমে আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ে। বড় ঘটনা বুঝতে পেরে এয়ার ইন্টেলিজেন্স বিষয়টি ডিজিএফআইর নজরে আনে। ডিজিএফআই ১৪ আগস্ট ২০২৪ তাকে আটক করে বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ‘র’-এর সঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফের জড়িত থাকা প্রমাণিত হয়। কোর্ট মার্শালে তার ১০ বছরের জেল হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। এ ব্যাপারে ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি সেলে আছেন। বিমান বাহিনী অ্যাক্টের অধীনে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কোর্ট মার্শালে ১০ বছরের সাজা হয়েছে তার। ৭/৮ মাস আগে তাকে এই কারাগারে পাঠানো হয়। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘র’-এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বিমান বাহিনীর এমন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের শনাক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে ৬ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
আমার দেশ অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এ ঘটনার তদন্তে শুধু এয়ার ফোর্সের ৬ জন অফিসারই নন, আরো ‘পারমানেন্টলি সাসপেন্ড’ দেখানো হয়েছে ৪ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে। এরা হলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর ডিভিশনের তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার জসিম উদ্দিন মোল্লাহ, গুলশান ডিভিশনের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার রফিকুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী জোনের ট্রাফিক অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার তানজিল আহমেদ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অ্যাসিসট্যান্ট সুপারিন্টেডেন্ট মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এরা সবাই ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। এদের স্টেশন মাস্টার ছিলেন গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখার মাহমুদ (ডিবি)। এই পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন বিমান বাহিনীতে ‘র’-এর সক্রিয় এজেন্ট স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর এদের মূল কমান্ডার ছিলেন বাংলাদেশে ‘র’ নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল মুজিবুর রহমান, যিনি জেনারেল মুজিব নামে পরিচিত।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, উচ্চ পর্যায়ের তদন্তে উদঘাটিত হয়েছে- ভারতীয় ইন্টেলিজেন্সের পক্ষে শ্যাডো এজেন্ট হিসেবে কাজ করায় ‘র’ স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফকে একটি ব্র্যান্ড নিউ হুন্দাই গাড়ি উপহার দিয়েছে। তাছাড়া ‘র’-এর পক্ষ থেকে তার কাছে নিয়মিত সুন্দরী নারী পাঠানো হতো।
ফ্লাইট লে. রিফাত ও ফ্লাইট লে. তাহসিফ ; তদন্তে প্রমাণ মেলে যে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফীর মোবাইলে ধারণ করা শেখ হাসিনার পালানোর সেই ভিডিও ফেসবুকে নিজের টাইমলাইন থেকে পোস্ট করেছিলেন বিমান বাহিনীর আরেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরি। আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে রোববার সন্ধ্যায় তাহসিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘কোন ভিডিও? আপনি কোন প্রসঙ্গে বলছেন আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।’ তাকে যখন বিস্তারিত জানানো হয় এই তদন্তের সব তথ্য এবং প্রমাণ আমার দেশ-এর কাছে রয়েছে, তখন তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘আরে ভাই, ওই ভিডিও পোস্ট করে তো অনেকেই অনেক টাকা উপার্জনও করেছেন। আর্থিক পুরস্কারও পেয়েছেন!’
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন তাহসিফ। বলেন, ‘আপনি আসেন, সাক্ষাৎ করেন আমরা মুখোমুখি বসে কথা বলব। জানেনই তো এখন সবারই টেলিফোন কল রেকর্ড হয়।’ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা রিফাত ভিডিওটি করেছেন বললে তিনি বলেন, কোন রিফাত? ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী?
তাহসিফ সুরির সঙ্গে টেলিফোনে কথাবার্তার শুরুটা হয় ক্রিকেট নিয়ে। ক্রিকেট বোর্ডের অ্যান্টি করাপশন ইউনিট (আকসু)-এর সহযোগী হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। সর্বশেষ বিপিএলেও এই দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখার মাহমুদের ‘র’ সংশ্লিষ্টতা ও গ্রেপ্তার
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর স্টেশন মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার (ডিবি) ইফতেখার মাহমুদ। তিনি ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
৫ আগস্ট ২০২৪ অস্ত্রসহ ইফতেখার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফের সহায়তায় এয়ার ফোর্সের বাসভবন ফ্যালকন টাওয়ারে আশ্রয় নিয়ে লুকিয়ে ছিলেন। এদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফের ‘র’ কানেকশন ফাঁস হয়ে যায় এবং তিনি গ্রেপ্তার হন। একই কানেকশনে গ্রেপ্তার হন পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখার। তার এই গ্রেপ্তার গোপন ছিল। তার স্ত্রী সাবা তাহসিন স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর ইফতেখারের নিখোঁজ বিষয়ে একটি আবেদন জানান। তিনি আবেদনে লেখেন : ইফতেখার মাহমুদের সঙ্গে ইস্যুকৃত অস্ত্র ছিল। গত বছরের ৬ থেকে ১০ আগস্ট ইফতেখার এয়ার ফোর্স অফিসার বন্ধুর কাছে ফ্যালকন টাওয়ারে অস্ত্রসহ আশ্রয়ে ছিলেন। এরপর ১১ আগস্ট বাসায় ফেরেন। তার অস্ত্রটি ইফতেখারের হেফাজতে রেখে আসেন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অস্ত্রটির জন্য তাকে ফোন করা হয়। পরে জানা যায়, তিনি হাউস অ্যারেস্ট। ১৭ আগস্ট ইস্যুকৃত অস্ত্রের বিষয়ে তেজগাঁও থানায় জিডি করা হয়। ২২ আগস্ট একটি ফোন আসায় ইফতেখার সকাল সাড়ে ১০টায় বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ড্রাইভার তাকে এয়ার ফোর্স হেডকোয়ার্টারে নামিয়ে দেন এবং তাকে রিসিভ করে ভেতরে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। রাজনৈতিকখবর পড়ুন
এ বিষয়ে জানার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, ইফতেখারকে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ তালিবুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারের পর তিনি কাশিমপুর কারাগারের হাই সিকিউরিটি সেলে বন্দি আছেন। তাকে পুলিশ বাহিনী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
হাসিনার পালানোর সেই ভিডিও রহস্য
‘৩৬ জুলাই ২০২৪’। সকালের সূর্যের কিরণেই ছড়িয়ে পড়েছিল গণঅভ্যুত্থান সফল হওয়ার বার্তা। সব মিছিলের স্লোগান তখন একটাই- হটাও স্বৈরাচার। ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করো। স্বৈরাচার শাসক শেখ হাসিনাকে হটানোর একদফার দাবিতে তখন পুরো দেশ আন্দোলিত। রাজধানী ঢাকা শহর জনতার স্বতঃস্ফূর্ত মিছিলে প্রকম্পিত। ঘর ছেড়ে শহরের চারদিক থেকে বেরিয়ে আসছে প্রতিবাদী লাখ লাখ মানুষ। কপালে বাঁধা লাল-সবুজের পতাকা। মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে তারা দৃঢ় গলায় জানিয়ে দিল, ‘শোনো মহাজন, আমরা অনেকজন!’ পেছনের ১৫ বছরের কুশাসনে নিষ্পেষিত জনতা জেগেছে ভোটাধিকার আদায় ও ফ্যাসিস্ট সরকারকে গদিচ্যুত করার দৃঢ়তা নিয়ে। এই আন্দোলনে যে জনতার জয় হচ্ছে সেই আলো ছড়িয়েই ‘৩৬ জুলাই’-এর সূর্যের তেজে তপ্ত হলো প্রিয় মাতৃভূমি।
দুপুর গড়াতেই এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হলো পুরো জাতি। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন বাণিজ্যমেলার মাঠ থেকে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে উড়ে এলো শেখ হাসিনাকে বহনকারী হেলিকপ্টার। এরপর তিনি দিল্লি পালিয়ে গেলেন। যে বিমানবন্দর একসময় তার নিরাপত্তার ঘাঁটি ছিল, ৫ আগস্টের দুপুর সেটাই হলো তার গোপন পালানোর পথ। এই নীরব, তবে কাঁপন তোলা ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে খানিকক্ষণের মধ্যেই। পুরো বিশ্বের শীর্ষ সংবাদ মাধ্যমজুড়ে তখন একটাই খবর-শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন!
হাসিনার এই পালানোর দৃশ্য কেবল এক অ্যাঙ্গেলের ভিডিও থেকেই দেখা যায়। এতেই পরিষ্কার এই ভিডিও করেছেন মাত্র একজন এবং সেটা বেশ খানিক দূর থেকে, নিজেকে আড়ালে রেখে, লুকিয়ে। আমার দেশ-এর দীর্ঘদিনের এক অনুসন্ধান জানাচ্ছে, খানিকটা দূর থেকে এই ভিডিও যিনি তার নিজস্ব মোবাইলে ধারণ করেছিলেন তিনি ছিলেন স্বয়ং বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী। কুর্মিটোলা বিমানবন্দরের সেই নির্জন স্থান ছিল নিরাপত্তায় ঘেরা। বাইরের কেউ বা কারো সেখানে প্রবেশের কোনো উপায় ছিল না। অনুসন্ধানে নিশ্চিত প্রমাণ মেলে যে কাছের কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার মেস থেকে মোবাইল ফোনে শেখ হাসিনার এই পালানোর দৃশ্য রেকর্ড করা হয়। ছবির অ্যাঙ্গেল, অবস্থান ও ক্যামেরা প্যান করার পর্যবেক্ষণ করে তদন্ত দল নিশ্চিত হয় কোন কক্ষ থেকে এবং কে এই পুরো ভিডিওর দৃশ্য ধারণ করেছেন। তাকে আটক করা হয়।
তদন্ত যত গড়িয়েছে, বেরিয়ে এসেছে আরো ভয়ংকর তথ্য। আটক বিমান বাহিনীর সেই কর্মকর্তার মোবাইল ফরেনসিক করে আরেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফের বিমান বাহিনীতে ‘র’-এর শ্যাডো এজেন্ট হিসেবে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাজ করছিলেন।
এই তদন্তে বেরিয়ে আসে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বিমান বাহিনীর একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ‘র’ নেটওয়ার্কে জড়িত।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বাংলাদেশের সামরিক কাঠামোতেও ঢুকে পড়েছে বিদেশি গোয়েন্দা শক্তির কালো হাত। এটি শুধু একটি বাহিনীর নয়, বরং পুরো দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা।
Sunday, 25 October 2026
মানিক পসারীর দাফন
পিরোজপুরে দাফনে দুটি কথা
প্রথম কথা হচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রেও নিয়ম আছে। অনার কোড আছে। তা হচ্ছে, মৃত শত্রুর অবমাননা করা যাবে না। মৃত্যুর সঙ্গের হিসাব শেষ।
দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদি মানিক পসারীর দাফনে বাঁধা সেই অনার কোডের চরম লঙ্ঘন, অমানবিক। সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদীর উচিত ছিল, বাপের শত্রুর দাফনে নিজে থেকে এগিয়ে যাওয়া। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দাফন করা। স্থানীয়দের বা জামায়াতের কর্মীদের ক্ষোভ থাকলেও। তাহলে বোঝা যেতো, স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে মাসুদ সাঈদী সবার জনপ্রতিনিধি। তার পরিবারের সঙ্গে যাই ঘটেছে, এর বদলা তিনি নেননি। কিন্তু এই মানবিকতা তিনি দেখাননি।
সাঈদীর রায়ের পর একটা বিদেশি মিডিয়ার নিউজের জন্য কাজ করেছিলাম। তখন থেকেই জানতাম, সাঈদীর মামলার বাদি মানিক পসারি মুক্তিযোদ্ধা না। তাঁর ভাই চান পসারি তখনই জানিয়েছিলেন, ভাতা দেওয়া হবে প্রলোভনে তৎকালীন এমপি আউয়াল সাহেব, মানিক পসারি মুক্তিযোদ্ধা বানাতে ডিও দেন। মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর তাঁকে মুক্তিযোদ্ধার গেজেটে ঢোকানো হয়। এ নিয়ে স্থানীয় আসল মুক্তিযোদ্ধাদের তখন থেকেই ক্ষোভ ছিল।
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে ভাতা, চাকরির কোটা এবং সুবিধার জন্য মুক্তিযোদ্ধা হওয়া নিয়ে যা হয়েছে তা লজ্জানক। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরের তালিকা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার ৯৫ জন। যদিও সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, ইপিআর মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন ১৯ হাজার অফিসার সৈনিক। ভারতের ট্রেনিং নিয়েছেন আরও ৫০ হাজার।
ভারত সরকারের ১৯৭৩ সালে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, সব মিলিয়ে সংখ্যাটি ৬৯ হাজার ৫০৯ জন। এর বাইরে ভারতে র প্রশিক্ষণ দিয়েছিল মুজিব বাহিনীর আরও ৪ থেকে ৬ হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। যদিও সংখ্যাটি ১০ হাজার পর্যন্ত দাবি করা হয়।
দেশে কাদেরিয়া বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, আফসর বাহিনী, লতিফ বাহিনী, বাতেন বাহিনী, হালিম বাহিনী, আকবর বাহিনীসহ নানা বাহিনীতে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ আরও ৩০ হাজার সদস্য ছিলেন (সৈনিক নয়, সদস্য)। সব যোগ করলেও মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কোনোভাবেই ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি হবে না। ১ লাখেরও কম হতে পারে। কিন্তু গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা ১ লাখ ৯৮ হাজার প্লাস! এবং তা নিয়মিত বাড়ে কমে!
১৯৮৬ সালে প্রথম গেজেটে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৮ জন। ১৯৮৮ সালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ভারত সরকার থেকে তালিকা সংগ্রহ করে। এতে ইবিআরসি বা মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৮৩৩ জন। এর সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধ করাদের তালিকা করলে সংখ্যাটি ৮০ থেকে ৯০ হাজার হতে পারে। ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকার যে তালিকা করেছিল, তাতে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার।
ছিয়ানব্বইয়ে শেখ হাসিনা ভাতা চালু করেন। এবং শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বৃদ্ধি। ওই পাঁচ বছরে ১ লাখ নতুন মুক্তিযোদ্ধা যোগ করা হয় তালিকায়! মানে যত মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেননি, এর বেশি মুক্তিযোদ্ধা যোগ হয় সেই পাঁচ বছরে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যাচাই বাছাইয়ে ১ লাখ ৮৬ থেকে কমে ২০০১ সালের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৮ হাজার। ২৮ হাজার ভুয়া ধরে পরে ওই পাঁচ বছরেই।
২০০১ থেকে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আবার তালিকা শুরু করে। আরও ৫২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যোগ করে। মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা হয়ে যায় ২ লাখ ১১ হাজার। সেখানে আবার ১২ হাজার ভুয়া ধরে পড়ে। এতে সংখ্যা কমে হয় ১ লাখ ৯৯ হাজার।
স্বাধীনতার আটবার তালিকা এবং ১০ বার সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়েছে মুক্তিযোদ্ধার। শেষ নিয়ম হচ্ছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কারো বয়স সাড়ে ১২ বছর হলে মুক্তিযোদ্ধা হতে পারবে। অথচ মুক্তিযুদ্ধে শিশু সৈনিক ছিলই না বলতে গেলে।
আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে আবেদনের সুযোগ দিলে, ১ লাখ ৪৩ হাজার লোক আবেদন করেছিল নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে! আগেই থেকেই তালিকায় ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার প্লাস। নতুন করে ১ লাখ ৪৩ হাজার মানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছেন!! দেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে ২০১৪ সালে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি ছিল। স্বাধীনতার ৪৩ বছর তাদের মনে পড়েছে, ওহ আমি তো মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম!
২০১৬ সালে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা হয় ২ লাখ ১৫ হাজার। তখন শুরু হয় বিএনপি আমলে মুক্তিযোদ্ধা হওয়াদের বাদ দেওয়া। এতে ২০২০ সালে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা কমে হয় ১ লাখ ৯২ হাজার। ডিজিটাইশেন করার পর ওই বছর এ সংখ্যা কমে ১ লাখ ৭১ হাজার হয়ে যায়। ২১ হাজার মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে যায়! এর কারণ ছিল অনেকে দুই জায়গা থেকে ভাতা তুলছিলেন, ফলে ডাবল কাউন্ট হচ্ছিল। অনেকে ছিল প্রমাণ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মামলা করে, কোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ এনে নাম রেখেছেন। এই হল তালিকার হাল।
এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার কারণে গার্ড অব অনারে বাঁধাসহ নানা সমস্যা আগামী দিনে আরও দেখবেন। মাস খানেক আগেই জামালপুরে একজন 'মুক্তিযোদ্ধার' গার্ড অব অনার হতে দেননি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা। তাদের বক্তব্য, ওই লোক ভুয়া কাগজ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন।
কিন্তু উদ্বেগের হল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। এবার আরও ২০ হাজার আবেদন করেছেন নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে। ভাতা চালুর পর বিএনপি পূর্ণ মেয়াদে ৫ বছর ক্ষমতায় ছিল? এটা কী কোনোভাবে সম্ভব যে, এই আবেদনকারীরা মুক্তিযোদ্ধা হলে ওই সময় তাদের আবেদন করার কথা মনে ছিল না?
ভুয়া ভুক্তিযোদ্ধা শুধু সামাজিক সমস্যা বা ইতিহাস বিকৃতি নয়। আর্থিক ক্ষতিও। প্রতি বছর ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতায়। এর বাইরে ব্যাংক ঋণ, চিকিৎসা, আবাসনসহ নানা সুবিধা রয়েছে। নিশ্চিতভাবে তালিকার অর্ধেক হচ্ছে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। সরল হিসাব করলেও, বছরে ট্যাক্স পেয়ারের ৩-৪ হাজার কোটি টাকা যাচ্ছে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পেছনে।
স্থানীয়রা কিন্তু ঠিকই জানেন, কে আসল আর কে ভুয়া। বিশেষ সুবিধা সমাজে ক্ষোভ তৈরি করে। ফলে ভুয়া কাউকে গার্ড অব অনার দিতে দিলে নানান জায়গা প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এটা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আবার সেই পুরান বিতর্ক করে শুরু করে। তাই সরকারের উচিত নয়, ৫৫ বছর পর এসে নতুন করে আবার মুক্তিযোদ্ধা উৎপাদন করা। বরং যারা ভুয়া আছে তাদের ডিটেক্ট এবং ডিলিট করুন।
Saturday, 24 October 2026
24 prénoms pour un seul magasin. Le 22 octobre 2026, CNews a lu à l'antenne la liste des personnes mises en cause dans le pillage du Darty de la place de la République, à Paris (75).
🚨 UN DOCUMENT DE POLICE SUR LA PLACE PUBLIQUE :
La chaîne dit avoir consulté un document de police confidentiel. Il concerne 24 personnes mises en cause dans le pillage du magasin, dans la nuit du 17 au 18 octobre. Seuls les prénoms ont été cités.
La liste lue à l'antenne compte 24 prénoms : Marc Junior, Ibrahima, Matisse, Boubacar, Sidy, Djibril, Sekhou, Diokira, Ken Itchi, Mahmoud, Francisco, Zachary, Johan, Adama, Doumacy, Ali, Mohamed, Yassine, Fousseyni, Vincent, Mesaoud, Meftah, Ryan et Saïd Brahim. Le compte Frontières en a repris une dizaine sur X le soir même.
Le lendemain des violences, l'AFP décrivait la vitrine éventrée du Darty, gardée par deux agents de sécurité et un chien muselé.
🔍 UNE NUIT RECORD À PARIS :
Selon la préfecture de police, 855 personnes ont été interpellées dans la capitale le 17 octobre, un chiffre record. Le parquet de Paris comptait 557 gardes à vue le lendemain matin, en grande majorité des majeurs.
Les pillages ont visé la gare Saint-Lazare, Châtelet-les-Halles, la place de la République et les Champs-Élysées, selon le parquet. Il recensait 33 magasins pillés dans la capitale.
Le 20 octobre, le ministère de la Justice décrivait des pilleurs presque tous masculins, majeurs à 70%, et souvent déjà connus de la police. Ils sont allés voler « à la Fnac ou chez Darty », a résumé sa porte-parole. Pas de révolutionnaires, des clients sans caisse.
📉 LA COLÈRE SOCIALE A BON DOS :
La journée du 17 octobre était annoncée comme une mobilisation « contre la vie chère ». Dans les salles de comparution immédiate, on juge des vols chez Louis Vuitton, chez JD Sports ou de 7 paires de lunettes, pas des revendications.
Un téléviseur volé ne remplit pas un frigo. Ceux qui paient la facture, ce sont les salariés du magasin, les assureurs et, au bout de la chaîne, tous les clients honnêtes.
Ces 24 personnes restent présumées innocentes tant qu'elles n'ont pas été jugées, et leur sort judiciaire n'a pas été rendu public. Mais le débat est lancé : ceux qui pillent doivent-ils rester des anonymes ?
Et la suite est déjà annoncée. Le samedi 24 octobre, la CGT manifeste de nouveau, et Solidaires appelle aussi à descendre dans la rue.
Faut-il publier l'identité de ceux qui pillent nos commerces ? La justice sera-t-elle enfin à la hauteur ?
💬
⚠️ Note aux commentateurs : On reste polis et on garde son calme pour échanger sur le fond de ces sujets. 🙏
Source : X (@Frontieresmedia), CNews, AFP, préfecture de police de Paris, parquet de Paris, ministère de la Justice
*Image d'illustration générée ou modifiée par IA.
Wednesday, 21 October 2026
লক্ষ লক্ষ মূর্তি উন্মুক্ত জলাশায়ে ফেলা হলো।
আজকে বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মূর্তি উন্মুক্ত জলাশায়ে ফেলা হলো।
মূর্তির রং, কেমিকেল মিশলো খাল, বিল, নদী, সমুদ্রের পানিতে।
কয়েকদিনের মধ্যে মূর্তি ভেতরের অংশ পানিতে পচে পানিতে বিষাক্ত গ্যাস তৈরী করবে,
আর সেই গ্যাসে মারা পড়বে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী।
বাংলাদেশের পরিবেশবাদীরা অনেক কিছু নিয়ে সোচ্চার।
পরিবেশের কথা বলে তারা মানুষের রুটি রুজি পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে।
কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয়, প্রতি বছর পূজার সময় লক্ষ লক্ষ মূর্তি
উন্মুক্ত জলাশয়ে ফেলা হলে যে ভয়ঙ্কর নদী দূষণ হয়,
সেটা নিয়ে তারা কখনো কথা বলে না।
আপনাদের মনে থাকার কথা,
কয়েক বছর আগে কোরবানীর ঈদে পশুর রক্ত বৃষ্টির পানিতে মিশে
লাল বর্ণ ধারণ করায় মিডিয়াতে বেশ লেখালেখি হয়েছিলো।
“গেলো গেলো পরিবেশ গেলো” বলে রব উঠেছিলো।
কিন্তু বাস্তবতা হলো- রক্ত পানিতে মিশলে পানি দূষিত হয় না, বরং মাছের খাবার হয়।
অপরদিকে মূর্তির রং কেমিকেল ও অভ্যন্তরীণ বস্তু পানিতে মিশে
সুস্পষ্ট পানি দূষণ করলেও সেটা নিয়ে কাউকে কথা বলতে দেখা যায় না।
হয়ত বলতে পারেন, হিন্দুরা সংখ্যালঘু বলে কী পানিতে ডুবানোর অধিকার পাবে না ?
আরে ভাই, ইউরোপ আমেরিকা কিংবা মিডলইস্টেও তো হিন্দুরা সংখ্যালঘু।
খবর নিয়ে দেখুন তো, সেখানে হিন্দুরা পূজার মূর্তি পানিতে ডুবাতে পারে কী না ?
কখনই পারে না।
বরং ইউটিউব ঘাটলে অনেক ভিডিও পাবেন, যেখানে ঐসব এলাকার হিন্দুদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়,
কিভাবে বালতির মধ্যে পানি নিয়ে সেই পানিতে মূর্তি ডুবানোর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।
শুধু তাই না, খোদ হিন্দুর দেশ ভারতের গঙ্গায় মূর্তি ডুবানোর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রায় হয়েছিলো।
এছাড়া সম্প্রতি তামিল নাড়ুতে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে উন্মুক্ত জলাশয়ে মূর্তি না ডুবাতে বলা হয়েছে।
তাহলে একই কাজ বাংলাদেশে করলে সমস্যা কোথায় ?
পরিবেশ রক্ষায় অবশ্যই বাংলাদেশে উন্মুক্ত জলাশায়ে পূজার মূর্তি ডুবানো নিষিদ্ধ করা উচিত।
Friday, 9 October 2026
নোয়াখালী/ফেনী শব্দ শেখা ।
সমস্যা -সময়ইস্যা
বেগুন -বাইয়ূন
খাবি/খাইবি ? -খাইবিনি ?
ছোট ছেলে -লেদা হোলা
কচি -ডেগা
আমাদের -আংগো
তোমাদের -তোগো
টাকা -টেয়া
পাচঁ টাকা -হাঁচ টেয়া
মসজিদ -মোসোঔদ
চেয়ার-চেঁর
ঝাডু-হিছা
সবাই -বেকগুন
এনেছে-আইনছে
টাওয়েল-টইলা
বদনা-বনদা
পায়খানা-পাইকানা
আসবো -আমু
যাবো-যামু
করবো -করুম
দেখবো-ছামু
পারবো-হারুম
বাতাস-হাবা
পানি-হানি
গোবর-গোপর
Wednesday, 23 September 2026
টাকা ব্যবসা শুরু করে না, টাকা ব্যবসার গতি বাড়ায়।
টাকা নাই বলে ব্যবসা করতে পারতেছি না এই কথাটা প্লিজ বাইরে আর কাউকে বলতে যাইয়েন না।
মানুষ মুখে সান্ত্বনা দিলেও পেছনে কিন্তু হাসে।
কারণ সবাই জানে সমস্যাটা আপনার পকেটে না, সমস্যা আপনার মাথায়।
একটু তিতা সত্য বলি?
কাল সকালে যদি আপনার একাউন্টে ৫ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়, আপনি কী করবেন জানেন?
সোজা গিয়ে একটা দোকান বা অফিস ভাড়া নেবেন।
দেড় লাখ টাকা ডেকোরেশনে উড়াবেন।
এসি লাগাবেন।
ভিজিটিং কার্ড ছাপাবেন।
আর বন্ধুদের বিরিয়ানি খাইয়ে উদ্বোধন করবেন।
এরপর?
তিন মাস কাস্টমারের অপেক্ষায় মাছি মারবেন।
আর চার মাসের মাথায় শাটার নামিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেবেন,
"মার্কেট বড় খারাপ ভাই, দেশে ব্যবসার পরিবেশ নাই!"
টাকা ব্যবসা শুরু করে না ভাই।
টাকা ব্যবসার গতি বাড়ায়।
যার কাছে সাইকেল চালানোর ব্যালেন্স নাই, তার হাতে সাড়ে তিন লাখ টাকার ইয়ামাহা R15 তুলে দিলে সে এক্সিডেন্টই করবে।
ব্যবসা কী জানেন?
একদম সোজা হিসাব কারো একটা জ্বলন্ত সমস্যা খুঁজে বের করে সেটার সমাধান দেওয়া।
ভোর ৪টায় কাওরান বাজারে দাঁড়িয়েছেন কখনো?
বহু পোলাপান আছে, পকেটে ৫০০ টাকাও নাই।
তারা শুধু আড়তদার আর পাইকারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক ট্রাক সবজি এদিক থেকে ওদিক হ্যান্ডওভার করিয়ে দিয়ে সকাল ৮টার মধ্যে ৩-৪ হাজার টাকা প্রফিট নিয়ে নাস্তা করতে বসে।
তাদের তো দোকান নাই।
গোডাউন নাই।
বাপের কোটি টাকাও নাই।
তাহলে তাদের কী আছে?
১. ভোর ৪টায় বিছানা ছাড়ার ডিসিপ্লিন।
২. পণ্যের কোয়ালিটি চেনার চোখ।
৩. আর মানুষের সাথে কথা বলে ডিল ফাইনাল করার সাহস।
আসলে আমাদের সমস্যা কী জানেন?
আমরা শুরুতেই 'মালিক' সাজতে চাই।
শুরুতেই টেবিলে পা তুলে এসি রুমে বসতে চাই।
আমরা লজ্জা পাই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কথা বলতে।
আমরা ভয় পাই কেউ 'না' করে দিলে সেই অপমান সহ্য করতে।
আর এই নিজের অলসতা আর অহংকার ঢাকার জন্য আমরা সবচেয়ে মিষ্টি একটা অজুহাত খুঁজে নিই
"আমার তো ভাই পুঁজিপাটা নাই!"
টাকা কোনো সমস্যা না।
বাজারে কোটি কোটি টাকা অলস পড়ে আছে।
সমস্যা হলো আপনার এমন কোনো স্কিল বা নেটওয়ার্ক নাই, যা দেখে কেউ আপনার ওপর আস্থা রাখবে।
বুকে হাত দিয়ে বলেন তো,
আপনার আসলেই টাকার অভাব?
নাকি মাঠে নেমে জুতা ক্ষয় করার সৎ সাহসের অভাব?
ভালো লাগলে আইডিটা ফলো দিয়ে পাশে থাকবেন,
আপনাদের সাথে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।
(লেখা ও ছবি: মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন হাসান। আইডি লিংক কমেন্টে। ভালো লেগেছে বলে আমি শেয়ার দিলাম। )
Subscribe to:
Posts (Atom)



